এস এম জাহিদ আহ্বায়ক: খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নে এডহক কমিটি গঠন
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়ন (কেইউজে) তে ৫ সদস্যেও এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংগঠনের সাবেক সভাপতি এস এম জাহিদ হোসেনকে আহ্বায়ক করে এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন সাবেক সভাপতি এস এম হাবিব, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক হাওলাদার ও এনামুল হক। কমিটি গঠনের বিষয়টি খুলনা বিভাগীয় শ্রম দপ্তরে অবগত করা হয়েছে।
সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ১০ অনুচ্ছেদ ধারা-৫ মোতাবেক নির্বাহী পরিষদ নির্ধারিত মেয়াদান্তে নির্বাচন আয়োজনে ব্যর্থ হওয়ায় পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ায় সংগঠনের সাধারণ সদস্যদের এক-দশমাংশ সদস্যদের আহ্বানে বিশেষ সাধারণ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ২৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে সাধারণ সভাটি আহ্বান করে সংগঠনের ৩৬জন সদস্য।
সভার শুরুতে বাংলাদেশের স্থপতি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানসহ ১৫ আগস্টে শাহাদাৎবরণকারী সকল সদস্য, মহান মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মদানকারী বীর সেনানী এবং ইউনিয়নের প্রয়াত সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদকদ্বয় যথাক্রমে মোজাম্মেল হক হাওলাদার ও সাঈয়েদুজ্জামান সম্রাটের সঞ্চালনায় সাধারণ সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন মো. শাহ আলম, এনামুল হক, বিএফইউজের যুগ্ম মহাসচিব মো. হেদায়েৎ হোসেন, নির্বাহী সদস্য কৌশিক দে বাপী, আবু হেনা মোস্তফা জামাল পপলু, মহেন্দ্র নাথ সেন, কাজী শামীম আহমেদ, লিয়াকত হোসেন, অভিজিৎ পাল, আমিরুল ইসলাম, হাসান আল মামুন প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২০ মার্চ ইউনিয়নের সর্বশেষ দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। #
যারা নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য নির্বাচন করতে চায় তাদের প্রত্যাখ্যান করবেন: মোংলায় কেসিসি মেয়র
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
খুলনা সিটি করপোরেশন মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, মোংলা এলাকায় অশান্তি, বাজারে অস্থিরতা ও জোর করে কেউকে ঘের করতে দেয়া হবেনা। কারণ উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড শুরু হয়েছে। যারা বিগত সময়ের নির্বাচনে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করেছেন তাদেরকে কেউ ভোট দিবেন না। যাদেরকে ভোট দিলে পরিবার নিয়ে শান্তিতে থাকতে পারবেন তাদেরই ভোট দিবেন। আপনাদের ভোটে যারা জিতবে আমি তাদেরকে সাথে নিয়েই এ এলাকার উন্নয়নে কাজ করবো। বিগত ৩৫বছর ধরে আমি আপনাদের পাশে ছিলাম, আগামীতেও থাকবো। আমি সব সময় মোংলা-রামপালের মানুষকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করে আসছি। আমি আবারো বলি- যারা অপশক্তি, যারা নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য নির্বাচন করতে চায় তাদের প্রত্যাখ্যান করবেন। সোমবার সন্ধ্যায় মোংলা বন্দর শ্রমিক-কর্মচারী সংঘ চত্বরে পৌর আওয়ামী লীগ আয়োজিত কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আঃ রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কামরুন নাহার হাই ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামরুজ্জামান জসিম। সমাবেশে পৌর আওয়ামী লীগসহ সকল সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন। #
সেখ জুয়েল এমপি’র সুস্থতা কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত
খবর বিজ্ঞপ্তি
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভ্রাতুষ্পুত্র ও খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল অসুস্থ্য হয়ে ঢাকায় নিজ বাসভবনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর সুস্থতা ও দীর্ঘায়ূ কামনায় নগরীর সদর ও সোনাডাঙ্গা থানার প্রতিটি মসজিদে বাদ জোহর বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
এসময়ে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা শেখ আবিদ উল্লাহ, মো. নুর ইসলাম, শেখ জাহিদুল ইসলাম, চ ম মুজিবর রহমান, জামিরুল হুদা জহর, মাহবুবুল আলম বাবলু মোল্লা, চৌধুরী মিনহাজ উজ জামান সজল, মঈনুল ইসলাম নাসির, মুক্তিযোদ্ধা মুুন্সি আইয়ুব আলী, শেখ আব্দুল আজিজ, ফেরদৌস হোসেন লাবু, বাবুল সরদার বাদল, আব্দুল হাই পলাশ, এ্যাড. ফারুক হোসেন, জিয়াউল ইসলাম মন্টু, মো. আব্দুর রশীদ (ভারপ্রাপ্ত), কাউন্সিলর শেখ হাসান ইফতেখার চালু, মো. ইউসুফ আলী, মুন্সি মোত্তালিব মিয়া, মীর মো. লিটন, মুন্সি সেলিম হোসেন, ওহিদুল ইসলাম পলাশ, মো. ফায়েজুল ইসলাম টিটো, আতাউর রহমান শিকদার রাজু, সরদার আব্দুল হালিম, শেখ রুহুল আমিন, শেখ এশারুল হক, মো. আজম খান, এ্যাড. শামীম মোশাররফ, মো. শিহাব উদ্দিন, নজরুল ইসলাম তালুকদার, তকদীরে এলাহী (ভারপ্রাপ্ত)।
প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষনা দিলেন দিঘলিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোল্লা আকরাম হোসেন
দিঘলিয়া প্রতিনিধি:
আসন্ন উপজেলা পরিষদের নির্বাচন হতে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষনা দিলেন দিঘলিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, দিঘলিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোল্লা আকরাম হোসেন।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় দিঘলিয়া উপজেলার নগরঘাটস্ত আওয়ামীলীগের অফিসে জেলা ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দদের সাথে মতবিনিময় শেষে মোল্লা আকরাম হোসেন নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
এসময় তিনি বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. সুজিত কুমার অধিকারী ও সহ-সভাপতি এ্যাড. এম এম মুজিবুর রহমান সহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে আমি আমার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করছি। যেহেতু এই নির্বাচনে দলীয় কোন মনোনয়ন দেওয়া হয়নি, তাই সিনিয়র নেতৃবৃন্দের অনুরোধে, তাদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এই নির্বাচন থেকে আমার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলাম। আগামীকাল মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাচন অফিসে প্রার্থিতা প্রত্যাহারে আবেদন পত্র পাঠাবো। এসময় তিনি তার সমর্থক নেতা কর্মিদের ধন্যবাদ জানান, ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু আভাস দেন।
এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, দিঘলিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খান নজরুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক এম এ রিয়াজ কচি, সদস্য ফারহানা হালিম, উপজেলা মুক্তিযুদ্ধা কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা গাজী আজগর আলী সহ উপজেলা আওয়ামীলীগ, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ এর নেতৃবৃন্দ সহ প্রমূখ।
সাংবাদিক রিংটন মন্ডলের মাতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য ও দৈনিক দেশ সংযোগ পত্রিকার সহ-বার্তা সম্পাদক রিংটন মন্ডলের মাতা ও বটিয়াঘাটা থানা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক ইংরেজী শিক্ষক রমেন্দ্রনাথ মন্ডলের স্ত্রী মঞ্জুরানী মন্ডল (৭০) মৃত্যুবরণ করেছেন (দিব্যান লোকাং স্বগচ্ছুতু)।
তিনি সোমবার বিকাল ৬টায় ভারতের বারাসাত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি ১ ছেলে, ২ মেয়ে, নাতী-নাতনী, আত্মীয়-স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার শেষকৃত্য আজ মঙ্গলবার ভারতের নিমতলায় গঙ্গার তীরে অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে সাংবাদিক রিংটন মন্ডলের মায়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ, শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম নজরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মামুন রেজাসহ নির্বাহী পরিষদের সদস্যবৃন্দ।
পাইকগাছায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে বাড়ি ঘর ভাংচুর : দুই লক্ষটাকার ক্ষয়ক্ষতি
পাইকগাছা(খুলনা) প্রতিনিধি:
পাইকগাছায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে বাড়ি ঘর ভাংচুর করে প্রায় দুই লক্ষটাকার ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ। ঘটনাটি রোববার ভোর রাতে পৌরসদরে পল্লিবিদ্যুৎ পাওয়ার গ্রিড এলাকায়। এ ঘটনায় থানায় এজার দখিল হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
জানাগেছে উপজেলার গদাইপুর গ্রামের কাজী হেদায়েত ও পৌরসভার সরল গ্রামের আব্দুল মজিদ বয়াতি ও নাসির গোল্দারের সাথে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। রোববার রাত সাড়ে চারটার দিকে কাজী হেদায়েত সহ তার লোকজন জমি দখলে ব্যার্থ হয়ে মজিদের দখলে থাকা বাসাবাড়ি ভাংচুর চালায়। এ সময় মজিদ গংরা হেদায়েতকে আটক রাখে। সংবাদ পেয়ে পাইকগাছা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রিত করে হেদায়েতকে উদ্ধার করে। আব্দুল মজিদ জানান, এই জমি নিয়ে খুলনা জজ ৪র্থ আদালতে মামলা রয়েছে। কাজী হেদায়েত জানান, আমি ক্রায় সুত্রে মালিক আমরা আমাদের জমিতে দখল নিতে গিয়েছিলাম। পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ওবায়দুর রহমান জানান, ঘটনা শুনেছি তাৎক্ষনিক পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
খুলনায় ডিডিএলজিকে ইউপি সচিব সমিতির ফুলেল শুভেচছা
স্টাফ রিপোর্টার
খুলনা জেলার স্থানীয় সরকার ডিডিএলজি (উপসচিব) মোঃ ইউসুপ আলীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জেলার ইউপি সচিব সমিতির নব-নির্বাচিত কমিটির নেতৃবৃন্দরা।
সোমবার (২৯ এপ্রিল) বিকেল ৪ টায় এ ফুলের শুভেচ্ছা জানানো হয়।
এ-সময় উপস্থিত ছিলেন জেলার ইউপি সচিব সমিতি (বাপসার) নবনির্বাচিত সভাপতি সিদ্ধার্থ শংকর ব্যানার্জী, সাধারণ সম্পাদক শেখ আলমগীর হোসেন, কোষাধক্ষ ও অর্থ সম্পাদক শেখ আমিনুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ রজিবুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক ধীমান রায়। এ-সময় উপ-পরিচালক নতুন কমিটিকে অভিনন্দন এবং দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
রূপসায় নারী শ্রমিক লীগের উঠান বৈঠক
স্টাফ রিপোর্টার
আসন্ন রূপসা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম হাবিবের নির্বাচনী প্রচারণা উপলক্ষে নৈহাটী ইউনিয়ন মহিলা শ্রমিক লীগের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৯ এপ্রিল) বিকেল ৫ টায় পূর্ব রূপসার বাগমারা দক্ষিণ পাড়াস্থ আলহাজ্ব শাহাজাহানের বাগান বাড়িতে এ উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন রূপসা উপজেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের আহবায়ক মো. মফিজুল ইসলাম।
নারী শ্রমিক লীগ নেত্রী চম্পা বেগমের সভাপতিত্বে ও শ্রমিক লীগ নেতা মো. ফজলু মাতুব্বরের পরিচালনায় বক্তৃতা করেন শ্রমিক লীগ নেতা মো. কবির শেখ, মো. জাহিদ হাসান, মো. লিটু বিশ্বাস, মো. ইসহাক শেখ, আবুল হাসান বেপারি, নারী শ্রমিক নেত্রী শাহিনা আক্তার টুনটুনি, মুর্শিদা বেগম, শিল্পী বেগম, হাসি বেগম, রজিনা, পাখি, ছুটু, আরিফা বেগম, রুনু বেগম, বৈশাখী, ছনিয়া, নাসরিন, মুর্শিদা, লিলি আক্তার নিশি, রাবেয়া বেগম, সপ্না, ফাতেমা, চম্পা, মো. নজরুল মিনা, জামাল হোসেন, বাবুল আহমদ, মো. আবু তালেব, রবিউল ইসলাম বাবু প্রমুখ।
একাডেমিক উন্নয়নসহ বিএইউএসটির বিকাশে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস খুবির
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন এর সাথে ২৯ এপ্রিল (সোমবার) বেলা ১১.৪৫ মিনিটে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি (বিএইউএসটি), খুলনার উপাচার্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়া, পিএসসি। এসময় উপাচার্য তাঁকে ফুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোগ্রাম খচিত ক্রেস্ট উপহার দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেন। বিএইউএসটি, খুলনার উপাচার্য নবীন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে তাদের উন্নয়নে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সবার আগে সুশাসন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এজন্য প্রতি তিন মাস পর পর সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিল হওয়া বাঞ্ছনীয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মূল লক্ষ্য আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ও সময়ের চাহিদা পূরণে স্মার্ট নাগরিক গড়তে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়কে রিসার্চ ফোকাসড ইউনিভার্সিটি হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এখানে বিশ্বমানের ওবিই কারিকুলা অনুসরণ করে পাঠদান করা হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অনুপাতও বিশ্বমানের। সার্বিকভাবে আমরা একটি পরিবর্তনের ধারার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।
উপাচার্য বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনোভেশন হাব এবং রিসার্চ এন্ড ইনোভেশন সেন্টার রয়েছে। যেটি এ অঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ব্যবহার করতে পারবেন। তিনি একাডেমিক উন্নয়নসহ বিএইউএসটি, খুলনার বিকাশে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে এতদাঞ্চলসহ দেশের উন্নয়নে সবিশেষ ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিএইউএসটি, খুলনার উপাচার্য খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে তাঁর সৌহার্দ্য এবং সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাবের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
এসময় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুস, বিএইউএসটি, খুলনার রেজিস্ট্রার লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. আব্দুল গফ্ফার, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সচিব সঞ্জয় সাহা এবং বিএইউএসটি, খুলনার কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান, ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. শরিফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অভয়নগরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই মাদকসেবীকে ৫ দিেেনর কারাদন্ড
স্টাফ রিপোর্টার:
যশোরের অভয়নগর উপজেলায় দুইজন মাদকসেবীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫ দিনের কারাদন্ড প্রদান ও ৫০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার সকালে নির্বাহী ম্যজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারি কমিশনার(ভূমি) মো: শামীম হোসাইন এ দন্ডদেশ প্রদান করেন।
এলাকাবাসী ও থানা সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিক্তিতে সোমবার সকালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এর যশোর ‘ক’ সার্কেল পরিদর্শ মো: লায়েক উজ্জামান এর নের্তত্বে চেঙ্গুটিয়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় মাদক সেবনরত অবস্থায় স্থানীয় চাঁপাড়াতলা গ্রামের আখির বিশ^াসের ছেলে সিরাজুল ইসলাম(২২) ও একই গ্রামের কৃষ্ণভূষণ দাস এর ছেলে দূর্গা দাস(৬৭)কে আটক করা হয়। পরে তাদের দেহ তল্লাসী করে একশ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে নির্বাহী ম্যজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এ দন্ডাদেশ প্রদান করেন। নির্বাহী ম্যজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারি কমিশনার(ভূমি) মো: শামীম হোসাইন বলেন,‘ মাদক সেবনরত অবস্থায় দুই জনকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে মাদক আইনের ৩৬ এর ৫ ধারায় ৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও প্রত্যেকে ৫০ টাকা করে জরিমানা করে তা আদায় করা হয়। পরবর্তীতে তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।
নারী মাদক নির্ভরশীলদের চিকিৎসায় আহ্ছানিয়া মিশনের সাফল্যের ১০ বছর
খবর বিজ্ঞপ্তি
মাদক গ্রহণকারী নারীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়লেও মাদকের চিকিৎসায় পিছিয়ে আছে নারীরা। মাদকের প্রভাব পুরুষের চেয়ে ভিন্ন ভাবে নারীদের ক্ষতি করে, এক্ষেত্রে বলা যায় শারীরিক, মনসিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি প্রজনন স্বাস্থ্যে উপরে প্রভাব পড়ে। যা একজন নারীর সন্তান ধারণ, জন্ম ও লালন পালন মারাত্বক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তাই সময়ের চাহিদার সাথে সমন্বয় রেখে আহ্ছানিয়া মিশন নারী মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র ২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে প্রতিষ্ঠিত হয়। যা দেশের একমাত্র নারীদের পূর্নাঙ্গ চিকিৎসা কেন্দ্র। শুরু থেকে এই চিকিৎসা কেন্দ্র নারীদের মাদকনির্ভরশীলতা, মানসিক ও আচরনগত সমস্যার চিকিৎসা প্রদান করে আসছে। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটি মাদকনির্ভরশীলতা ও মানসিক সমস্যাগ্রস্থ নারীদের জন্য ১০ বছর যাবৎ সাফল্যের সাথে বিজ্ঞান ও প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা প্রদান করছে।
আহ্ছানিয়া মিশন নারী মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের সাফল্যের ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সোমবার (২৯ এপ্রিল) বেলা ১১ টায় রাজধানীর শ্যামলীস্থ ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টর কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনের সভাপতির বক্তব্যে ইকবাল মাসুদ বলেন, নারী মাদকনির্ভরশীলদের চিকিৎসা প্রক্রিয়াটি পুরুষের তুলনায় বেশ জটিল ও সময় সাপেক্ষ। ক্রমবর্ধমান নারী মাদকনির্ভরশীলদের চিকিৎসা ও প্রতিরোধের দিকে বিশেষ নজর দেয়া উচিত। এক্ষেত্রে অবিভাবক ও নীতিনির্ধারকদের বিশেষ ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি আরোও বলেন, এটি দেশের একমাত্র সম্পূর্ণ নারী কর্মীদ্বারা পরচিালিত চিকিৎসা কেন্দ্র যা রোগীদের নিরাপত্তাসহ চিকিৎসা নিশ্চিতে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই কেন্দ্রে রোগীদের জীবন দক্ষতা বৃদ্ধি ও পুনর্বাসনের জন্য ভোকেশনাল কোর্স ও উদ্যেক্তা কোর্স প্রদান করে থাকে।
ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য ও ওয়াশ সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদের সভাপতিত্বে উক্ত সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসা কেন্দ্রটির মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন কাউন্সিলর জান্নাতুল ফেরদৌস মজুমদার। এসময় প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত মোট ৭৬২ জন নারী চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছে। চিকিৎসা সেবা গ্রহণকারী নারীদের মধ্যে একই সাথে একাধিক মাদক গ্রহণকারীসহ ৩৯% ইয়াবা গ্রহণকারী, ৩৯% গাঁজা এছাড়াও ঘুমের ওষুধ, মদ, শিরায় মাদক গ্রহণকারী ও অন্যন্য মাদক গ্রহনকারী রয়েছে। আহ্ছানিয়া মিশন নারী মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের গত বছরের (৩৩% ইয়াবা গ্রহণকারী, ২৮% গাঁজা, ১৬% ঘুমের ওষুধ) তথ্যের তুলনায় যেটা বৃদ্ধি পেয়েছে । মানসিক রোগের মধ্যে সিজোফ্রিনিয়া ৩৫%, মুড ডিজ্অর্ডার ২৬%, বাইপোলার ১২%, ডিপ্রেশন ১০%, ওসিডি ৬% বাকিরা অন্যান্য মানসিক রোগে আক্রান্ত ছিল।
৭৬২ জন নারীর মধ্যে মাদকনির্ভরশীলতা জনিত সমস্যার জন্য ৪৬৩ জনের ও মানসিক সমস্যার জন্য ২৯৯ জনের চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত যাচাই করে দেখা গেছে, ৭৬২ জন রোগীর মধ্যে ৭০% চিকিৎসার মেয়াদ পূর্ন করেছে। মেয়াদ পূর্ণ না করে চলে গেছে ২২% এবং বিভিন্ন কারনে ৪% রোগীকে রেফার করা হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসা কেন্দ্রটিতে ৪% রোগী চিকিৎসারত আছেন।
২০১৪ সালের ১২ এপ্রিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী) আসাদুজ্জামান খান এমপি আহ্ছানিয়া মিশন নারী মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেছিলেন। বাংলাদেশের প্রথম একমাত্র লাইসেন্সপ্রাপ্ত নারী মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র যা সর্ম্পূণ নারী কর্মী দ্বারা পরিচালিত। চিকিৎসা কেন্দ্রটি সকল আধুনিক সুযোগসুবিধার পাশাপাশি শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত। এটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে ২০২৩ সালে দেশের সেরা চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে পুরষ্কার অর্জন করে।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর মনোহরপুরে মেলার নামে চলছে জুয়া,মোটা অংকের টাকার মিনিময়ে অবৈধ সব বৈধ
মাহমুদ হাসান রনি, দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর আমতলা ফসলী মাঠে চলছে বৈশাখী মেলা। আর এ মেলার সাথে চলছে জুয়ার আসর। প্রশাসনের কাছ থেকে বৈশাখী মেলার অনুমতি নিলেও সাথে চালনা হচ্ছে আলোচিত জুয়ার আসর। মেলার নামে প্রতি বছর এলাকার একটি সিন্ডিকেট যাত্রা, সার্কাসের আড়ালে অশীলীন নৃত্য, গভীর রাত পর্যন্ত জুয়ার বোর্ড ও র্যাফেল ড্র’র নামে চালায় জুয়ার আসর।
গত ২৫ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে এ মেলার আনুষ্ঠানিকতা।এর পর থেকেই মাইকের উচ্চস্বরে গ্রামে গ্রামে প্রকাশ্যে র্যাফেল ড্র নামে জুয়ার টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে।দিনরাত সাধারণ মানুষের কানে মাইকের এ আওয়াজ শোনা গেলেও স্থানীয় প্রশাসন নিম্চুপ।কেন এ নিশ্চুপ প্রশাসন তা এলাকাবাসির কাছ৷ প্রশ্ন। প্রতিদিন ভোর থেকে রাত ১০ টা অবদি প্রায় ৩০/৪০ টি ভ্যান,ও ইজিবাইকে করে উচ্চ স্বরে মাইক বাজিয়ে বড়ো অংকের পুরস্কারের লোভ দেখিয়ে রেফাল ড্রর নামে জুয়ার টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে উপজেলা প্রশাসনের নাকের ডোগায়। মনোহরপুর মাঝের পাড়া আবাসন জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান খাঁন বলেন, এলাকার সিরু, মোস্ত, সেন্টু সহ একটি সিন্ডিকেট প্রতি বছর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে আবার কোন সময় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, কোন সময় নাম সর্বস্ব ক্লাবের নামে বৈশাখী মেলার নামে এ জুয়ার আসরের আয়োজন থাকেন।এই জুয়ার আসর বসার কারণে এলাকায় চুরি, ডাকাতি বেড়ে যাচ্ছে। মনোহরপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আনিছুর রহমান শিমুল মল্লিক বলেন, মেলার নামে এ জুয়া ও উলঙ্গ নৃত্য শুরু হওয়ার দিনই মনোহরপুর বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদের দান বাক্স সহ বেশ কয়েকটি টিওবয়েল চুরি হয়েছে। এলাকার মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে গেছে। যে কোন সময় ঘটতে পারে অপ্রীতিকর ঘটনা।
মেলা মাঠের পশ্চিম পাশে প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের স্টল ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলেও দক্ষিণ পাশের অংশে মাঠের মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় বসানো হয়েছে জুয়ার আসর। রাত সাড়ে ১০টার মধ্যে এ মেলার সব আয়োজন বন্ধ করার কথা থাকলেও শুধু জমজমাট জুয়ার আসর টিকিয়ে রাখতে গভীর রাত পর্যন্ত চলে জুয়ার রমরমা বাণিজ্য। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আসছে এ জুয়ার আসরে। প্রতিটি জুয়ার বোর্ডে প্রতি রাতে লাখ লাখ টাকার জুয়াখেলা হচ্ছে। অনেকের ধারণা স্থানীয় উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই প্রতিদিন উপজেলা শহরের ব্যস্ততম এলাকা মনোহরপুর আমতলা মাঠে প্রকাশ্যে এ জুয়ার বোর্ড চালানো হচ্ছে।তা না হলে কেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা?এলাকাবাসির ধারণা প্রতিদিন একটি মহলকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে রফাদফা করে এ জুয়ার আসর চালানো হচ্ছে। অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসিনা মমতাজ।তিনি বলেন, বৈশাখী মেলার অনুমোদন আছে তবে জুয়া বা র্যাফেল ড্র অনুমোদন দেওয়া হয়নি।ঘটনাটি সঠিক হলে ব্যবস্হা নেয়া হবে। জেলা প্রশাসক ড. কিসিঞ্জার চাকমা বলেন, মেলার নামে কোন প্রকার জুয়া বা অশ্লীলতা মেনে নেয়া হবে না। আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিচ্ছি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। মেলা চত্বরে ১৫টি স্পটে কাপড় টানিয়ে বসানো হয়েছে এ জুয়ার আসর। আর এসব জুয়ার বোর্ড থেকে নির্দিষ্ট অংকের টাকা তুলছেন আয়োজক কমিটির লোকজন। এ কথা গুলে বলেন,মেলা আয়োজক কমিটির অন্যতম সদস্য সিরু মিয়া।তিনি আরও বলেন,জেলার কিছু সাংবাদিকের আশ্বাসে আমরা বৈশাখের মেলা করছি। তিনি দম্ভের সাথে বলেন এ জুয়া, জুয়া না, এটাও বৈশাখী মেলারই একটা অংশ।
ডাঃ দীপংকর নাগের উপর হামলার নিন্দা জানিয়েছে খুলনা মহানগর বঙ্গবন্ধু পরিষদ
খবর বিজ্ঞপ্তি
আসন্ন নাজিরপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী খুলনা মহানগর বঙ্গবন্ধু পরিষদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডাঃ দীপংকর নাগের উপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে খুলনা মহানগর বঙ্গবন্ধু পরিষদ।
বিবৃতিদাতারা হলেনঃ খুলনা মহানগর বঙ্গবন্ধু পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন মিন্টু ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ তৌহিদুর রহমান (তৌহিদ), অধ্যাপিকা রুনু রেজা এমপি, বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্যামল সিংহ রায়, প্রফেসর ডা: বঙ্গমকল বসু, প্রফেসর ড. সোবহান মিয়া, প্রফেসর ড. রাফিজুল ইসলাম, প্রফেসর সাধনরঞ্জন ঘোষ, প্রফেসর এম আবুল বাশার মোল্লা, অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান, ডাঃ সামছুল আহসান মাসুম প্রমুখ।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় একজন সংসদ সদস্যের ভাইয়ের অনুসারীরা ডাঃ দীপংকর নাগের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে এই হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
দরজা ভেঙে গৃহবধূর ঘরে ঢোকার চেষ্টা, কুপিয়ে পালিয়ে যাওয়া মেম্বার গ্রেফতার
নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইলের কালিয়ায় দরজা ভেঙে গৃহবধূর ঘরে ঢোকার চেষ্টার সময় বাধা দিলে কুপিয়ে পালিয়ে যাওয়া ইউপি সদস্য রাশেল শেখ পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার নড়াগাতী থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এ ঘটনায় ওই দিনই রাশেল শেখকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন ওই গৃহবধূ।
রাশেল শেখ থানার বাঐসোনা ইউনিয়নের উত্তর ডুমুরিয়া গ্রামের ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য ও ওই গ্রামের হেমায়েত শেখের ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, চাকরির সুবাদে স্বামী বাহিরে থাকায় ওই গৃহবধূকে মেম্বার দীর্ঘদিন যাবত উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে এক গৃহবধূর বসত ঘরে দরজা ভেঙে ঢোকার চেষ্টাকালে ভাসুর নাজির মোল্যা (৬১) ও তার স্ত্রী ধরে ফেললে কুপিয়ে, পিটিয়ে ও কিলঘুসি মেরে পালিয়ে যান রাশেল শেখ।
এ বিষয়ে উপজেলার নড়াগাতী থানার ওসি মোহাম্মাদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
যশোরের গণডাকাতি: একজনের ৪৬ বছর ও অপর দুজনের ৩৯ বছর কারাদণ্ড
যশোর অফিস
যশোরের অভয়নগরের আন্দাগ্রামের হিন্দুপাড়ায় গণডাকাতি মামলায় একজনের ৪৬ বছর ও অপর দুজনের ৩৯ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন যশোরের একটি আদালত। ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এ মামলার অপর দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
রোববার স্পেশাল জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ সামছুল হক এক রায়ে এ আদেশ দিয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট সাজ্জাদ মোস্তফা রাজা।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলো ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের সাকো গ্রামের সোহরাব হোসেন, যশোরের মণিরামপুরের কাশিপুর গ্রামের বাচ্চু ও খুলনা তেরখাদার ইন্দুহাটা গ্রামের শহিদুল ইসলাম শামীম।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ২০০৯ সালের ২৩ জুলাই রাতে অভয়নগরের আন্দাগ্রামের হিন্দু পাড়ায় একদল ডাকাত হানা দেয়। ডাকাতরা সুধির কুমার মল্লিক ও তার ছেলে সুরঞ্জিত মল্লিক, ছোট ভাই দিপ্ত কুমার, মেঝ ভাই মৃণাল কান্তি, সমর কান্তিসহ প্রতিবেশী কয়েক বাড়িতে গিয়ে বাড়ির লোকজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা, সোনার গহনা, মোবাইল ফোনসহ পাঁচ লাখ ৬৪ হাজার টাকার মালামাল ডাকাতি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় পরদিন সুধির কুমার মল্লিক বাদী হয়ে অভয়নগর থানায় অজ্ঞাত আসামি করে ডাকাতি মামলা করেন।
মাগুরায় কৃষকদের মাঝে গামছা, কাস্তে ও মাথাল বিতরণ
মাগুরা প্রতিনিধি
মাগুরায় তীব্র দাবদাহে মাঠে কৃষকদের কাজকে কিছুটা আরামদায়ক করতে শতাধিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে কাস্তে, গামছা ও মাথাল বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে মাগুরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এগুলো বিতরণ করা হয়। সদর উপজেলার নালীয়ারডাঙ্গী গ্রামে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব কৃষি উপকরণ বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক মো. আবু নাসের বেগ।
বোরো মৌসুমে তীব্র গরমে যেখানে জন জীবন ওষ্ঠাগত; সেখানে ফসলের মাঠে কাজ করতে গিয়ে হাফিয়ে উঠছেন চাষীরা। তাদের কৃষিকাজকে সহজ করে তুলতে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে গামছা, কাস্তে ও মাথাল।
এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আবু নাসের বেগ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইয়াসিন আলী, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর ও আঠারোখাদা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সঞ্জীবন বিশ্বাস।
এসব কৃষি উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আবু নাসের বেগ বলেন, বাংলাদেশ একটি কৃষি প্রধান দেশ। মাগুরা জেলা একটি কৃষি সমৃদ্ধ জেলা। এই জেলায় ধান, পাট ও সকল প্রকার খাদ্যশস্য পর্যাপ্ত উৎপাদন হয়। তাছাড়া বতমান সময়ে বৈশ্বিক আবহাওয়ায় কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। কৃষকরা রোদে অনেক কষ্ট করেন। মাঠে গিয়ে সবাই ছায়া খোঁজেন। যে পরিমাণ আবহাওয়া খারাপ হয়েছে এবং যে পরিমাণ উষ্ণতা বেড়েছে মাথাল কিছুটা হলেও আপনাদের স্বস্তি দিবে।
সুপেয় পানির তীব্র সংকটে দুর্বিষহ কুষ্টিয়ার জনজীবন
নিজস্ব প্রতিনিধি
শুষ্ক মৌসুমে পানিশূন্য প্রমত্তা পদ্মানদী। আবার কুষ্টিয়া শহরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত পদ্মার প্রধান শাখা গড়াই নদ পরিণত হয়েছে মরা খালে। অপরদিকে, শুষ্ক মৌসুমের কারণে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় কুষ্টিয়া জেলা ও এর আশপাশের এলাকার নলকূপগুলো হয়ে পড়েছে বিকল। পানি উঠছে না অনেক গভীর নলকূপেও। এমনকি শহরাঞ্চলের কোনো পানির মোটরেও উঠছে না পানি। পানি না ওঠায় অকেজো হয়ে পড়ে আছে কয়েক হাজার নলকূপ। তীব্র গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা জনজীবনে।
এতে সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে কুষ্টিয়ার জনজীবন। কিছু নলকূপে পানি উঠলেও তা খুবই কম, এক কলস পানি ভরতে সময় লাগছে ১৫/২০ মিনিট। শত চাপে এক ঘড়া পানিও মিলছে না। তাই সুপেয় পানির জন্য শহরজুড়ে চলছে হাহাকার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূগর্ভস্থ পানির যত্রতত্র ব্যবহারের কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
কুষ্টিয়ার মাঝে প্রবাহিত অপরূপ প্রমত্ত পদ্মা কিংবা গড়াই নদী এখন প্রায় মৃত অবস্থা। প্রমত্তা গড়াই এখন পরিণত হয়েছে ছোট খালে। এর প্রভাবে কুষ্টিয়া পৌর এলাকাসহ এর আশেপাশের প্রায় লাখের অধিক নলকূপে উঠছে না পানি। এমনকি পানির স্তর নেমে যাওয়ায় নদীর এমন করুণ পরিণতির কারণে এখানকার মানুষের পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য পড়েছে হুমকির মুখে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রাকৃতিক এই সমস্যা সমাধানে তাদের কিছুই করার নেই। তবে বৃষ্টি হলে অবস্থার পরিবর্তন হবে।
শুধু নদী তীরবর্তী এলাকাই নয়, পুকুর কিংবা খাল বিল কোথাও পানি নেই। টিউবওয়েলেও পানি উঠছে না। শত চাপে এক ঘড়া পানিও মিলছে না। তবে বিকল্প হিসেবে যাদের সামর্থ্য রয়েছে তারা সাব মার্সেবল পাম্প বসিয়ে সুপেয় পানির চাহিদা মেটাচ্ছেন।
কুষ্টিয়া পৌরসভার দেওয়া তথ্যমতে, পৌর এলাকার ২১টি ওয়ার্ডে হোল্ডিং সংখ্যা ৩৭ হাজার, যার প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই নিজস্ব নলকূপ আছে। এছাড়া পৌরসভার পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকায় দেওয়া হয়েছে প্রায় ৫ হাজারের উপরে নলকূপ। পানির স্তর নেমে যাওয়ার কারণে এসব এলাকার যেগুলো নলকূপ কাজ করছে সেগুলোতে পানি উঠছে অতি সামান্য। শুধু পৌর এলাকায় নয়, শহর সংলগ্ন হরিপুর ইউনিয়ন, কয়া, শিলাইদহ ইউনিয়নসহ আরো অনেক এলাকায় চলছে পানির জন্য হাহাকার। তবে গড়াই নদীর তীরবর্তী বসবাস করা মানুষের অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ। পানির সংকট এতটাই প্রকট যে খাবার পানির পাশাপাশি গোসল এবং গবাদি পশুর জন্য পানির ব্যবস্থা করতে হিমশিম খাওয়া লাগছে। পানির জন্য নদীর চরের প্রায় দেড় দুই কিলোমিটার হেঁটে যেতে হচ্ছে তাদের। এমন সংকটে এর আগে কখনো পড়েননি তারা।
আছিয়া খাতুন নামের হরিপুর এলাকার এক গৃহবধূ বলেন, পানির খুবই সমস্যা, বড় সমস্যা হলো টিউবওয়েলে পানি থাকে না। খাওয়ার পানির জন্য বেশি সমস্যা। অনেক দূর থেকে পানি নিয়ে আসা লাগে। আর অন্যান্য কাজের পানি এই নদী থেকে নেয়া লাগে। নদী থেকে নিয়ে আমরা অন্যান্য চাহিদা মেটাই। এটাই আমাদের সমস্যা, আর কিছুদিন হলো এই সমস্যা অনেক ভোগান্তি দিচ্ছে।
আনোয়ারা বেগম নামের শহরের থানাপাড়া এলাকার আরেক গৃহবধূ বলেন, আমাদের নলকূপে পানি উঠছে না। গোসলের জন্য আমাদের নদীর মধ্যে বালুর উপর দিয়ে প্রায় এক মাইল হেঁটে যেতে হয়। যে গরম খুবই সমস্যা হচ্ছে। আর খাবার পানি আনতে হয় পাশের একবাড়ি থেকে। সেখানে সাবমার্সেবল কল বসানো। কিন্তু সব সময় গেলে পানি দেয় না। তাদের ইচ্ছে মতো সময়ে দেয়, কি আর করার। আমরা গরিব মানুষ, কোনো রকম তাদের অনুরোধ করে এক কলস পানি নিয়ে এসে সারাদিন খাই।
এদিকে, পানির অভাবে বোরো আবাদও ব্যাহত হচ্ছে। কোনো আবাদেই সুফল মিলছে না। তাই কৃষকদেরও দূরাবস্থা। খাল বিল কিংবা নদী নালায় পানি না থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। এরই মধ্যে বোরো আবাদ ব্যাহত হচ্ছে। অন্যান্য ফসলও আবাদ করতে পারছেন না পানি ছাড়া। পানির অভাবে কোনো ফসলই উৎপাদন করতে পারছেন না। বিশেষ করে বোরো ধান রোপণ করেও পানির অভাবে তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। জিকে ক্যানেলে পানি নেই। বাড়তি খরচ করে শ্যালোইঞ্জিন দিয়ে ধানক্ষেতে পানি দিব তাতেও পানি উঠছে না। ধানের আবাদ না হলে আগামী দিনগুলো খুব কষ্টে কাটবে বলেও জানান তিনি।
মিরপুর উপজেলার চিথলিয়া গ্রামের সাইদার আলী নামের এক কৃষক বলেন, ভাই কী বলবো, খুব দুর্যোগ চলছে। গ্রামের ৯৫ ভাগ কলে পানি উঠছে না। মাঠে মাটির ১০ ফিট নিচে বোরিং পুঁতলেও পানি উঠছে না। মাঠের কোনো ক্যানালে খাল বিলে পানি নেই। ধান ফসল সব শুকিয়ে একাকার হয়ে যাচ্ছে। এতে করে যেখানে ৩০ মণ ভুট্টা পাওয়ার কথা সেখানে ১০ মণ হবে না। যেখানে ধান ১০ মণ হওয়ার কথা সেখানে ধান ৫ মণ হবে। আমরা কৃষক কিভাবে বাঁচবো। কোনো ক্যানালে পানি থাকলেও কৃষক একটু তা দিয়ে আবাদ করতে পারতো।
মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, তীব্র তাপপ্রবাহের ফলে বোরো ধানের ফুল বিবর্ণ রং ধারণ করছে। এভাবে চললে ধানের চিটা দেখা দেবে। এ থেকে রক্ষা পেতে হলে ধানের ক্ষেতে পানি ধরে রাখতে হবে। কিন্তু জিকের খালসহ কোনো জলাধারেই পানি না থাকায় ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেতে পানি দিতে পারছে না কৃষক। যারা বিকল্প কোনো পন্থায় পানি দিতে পারছে, তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে তাদের পানিও একদিনের বেশি মাঠে থাকছে না। শুকিয়ে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। এতে চলতি মৌসুমে বোরো আবাদে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন এই কৃষি কর্মকর্তা।
গড়াই নদীর উপর অবস্থিত সৈয়দ মাছ উদ রুমী সেতু এবং গড়াই ব্রিজের নিচে ড্রেজিং করার ফলে কিছুটা পানি প্রবাহ থাকলেও অধিকাংশ পিলার ধূ-ধূ বালির উপর রয়েছে। সাধারণ মানুষ এই গড়াই নদীর অনেক স্থান দিয়ে হেঁটে পার হচ্ছে। পানি শূন্য এই গড়াই নদী শুধুই এখন স্মৃতি। ফারাক্কার বিরূপ প্রভাবেই এই গড়াই নদীর করুণ দশা বলে অনেকেই মন্তব্য করছেন।
কুষ্টিয়া পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, নদীগুলোর নাব্যতা না থাকার পাশাপাশি পানির স্তর বিগত বছরগুলোর তুলনায় ২৫ থেকে ৩০ ফিট নেমে যাওয়ায় হস্তচালিত নলকূপে পানি উঠছে না। পানি সরবরাহের বিকল্প ব্যবস্থা সক্রিয় না থাকায় বিপাকে পড়েছে জনজীবন। এমনকি পৌরসভার পক্ষ থেকে যে সাপ্লাই পানির ব্যাবস্থা করা আছে তার উৎপাদনও অনেক কম। এটি একটি প্রাকৃতিক সমস্যা। বৃষ্টি শুরু হলেই এই সমস্যা অনেকটাই কেটে যাবে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের অধ্যাপক ড. রেজওয়ানুজ্জামান বলেন, তীব্র পানি সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ খাল-বিল নদী নালায় পানি না থাকায় ভূগর্ভস্থ পানির যত্রতত্র ব্যবহার। শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর নিচে নামার সঙ্গে সঙ্গে নদীর পানি শুকিয়ে যায়, সেক্ষেত্রে যেসব নলকূপের লেয়ার কম দেওয়া সেসব নলকূপে পানি না ওঠারই কথা বলে জানান তিনি।
ঝিনাইদহে উপ-নির্বাচনে লড়বেন হিরো আলম
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহ-১ আসনের উপ-নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন হিরো আলম। সোমবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তিনি।
সোমবার দুপুরে হিরো আলম বলেন, নির্বাচন করার ইচ্ছা আমার ছিলো না। কিন্তু এলাকার মানুষ ছাড়ছে না। তারা বলছে, এখানে আপনার মতো মানুষ দরকার।
তিনি বলেন, স্থানীয় লোকজন সবাই আমাকে চেনেন। আমি তাদের প্রিয় এবং পরিচিত মুখ। সেখানকার জনসাধারণ বলেছে, নির্বাচনে তারা সাহায্য সহযোগিতা করবে। তাদের ভালোবাসা দেখেই আমি সেখানে উপ-নির্বাচনে অংশ নিতে রাজি হয়েছি।
ঝিনাইদহ-১ আসনের ভোটাররা সোমবার তার পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করবেন বলেও জানান তিনি।
বর্তমানে এক বন্ধুর নির্বাচনী প্রচারণায় কুমিল্লায় আছে হিরো আলম। লাঙ্গলকোট উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচন করছেন তিনি।
ঝিনাইদহ-১ আসনের এমপি আব্দুল হাইয়ের মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হয়। গত মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৫ জুন ভোটগ্রহণ হবে।
রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ৭ মে। মনোনয়নপত্র বাছাই ৯ মে ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৬ মে। ১৭ মে প্রতীক বরাদ্দ। ব্যালট পেপারে হবে এ নির্বাচন।
এর আগে জাতীয় নির্বাচনে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) ও বগুড়া-৬ (সদর) আসনে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন হিরো আলম। চিত্রনায়ক আকবর হোসেন পাঠান (ফারুক) মারা যাওয়ার পর শূন্য হওয়া ঢাকা-১৭ আসনের উপ-নির্বাচনেও অংশ নেন তিনি। এই আসনটি রাজধানীর গুলশান, বনানী, ভাষানটেক থানা ও সেনানিবাস এলাকা নিয়ে গঠিত। তবে কোনো নির্বাচনেই তিনি জিততে পারেননি।
তাপপ্রবাহে মরে যাচ্ছে ঘেরের চিংড়ি, দিশেহারা চাষিরা
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরায় প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে চিংড়ি ঘেরে মড়ক দেখা দিয়েছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাষিরা। প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ, পর্যাপ্ত পানির অভাব, অতিরিক্ত লবণাক্ততা ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা কারণে ঘেরে বাগদা চিংড়ি মরে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে জেলা মৎস্য বিভাগ।
মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলার প্রায় ৬০ হাজার হেক্টর পরিমাণ জমির ৫৪ হাজার ৯৬০টি লবণ পানির ঘেরে বাগদা চিংড়ি চাষ করা হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ বাগদা চাষ হয়েছে শ্যামনগর, আশাশুনি ও দেবহাটা উপজেলায়।
শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া এলাকার ঘের ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলাম বলেন, ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ঘের শুকিয়ে পোনা মাছ ছাড়া হয়। কিছুদিন আগেও ঘেরে ২০ হাজার পোনা ছেড়েছিলাম। তবে কয়েকদিনে তাপপ্রবাহে ঘেরের মাছ মরে ভেসে উঠছে। জীবিত যেসব মাছ পাওয়া যাচ্ছে সেগুলোর শরীরও দুর্বল। মাছ লালচে হয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ঘেরে সাধারণত ২-৩ ফুট পানি রাখতে হয়। এখন ঘেরের পানি কমে গেছে। নতুন করে পানি দিতে পারছি না।
বুড়িগোয়ালিনী এলাকার চিংড়ি ঘের ব্যবসায়ী সন্তোষ মণ্ডল জানান, ৫০ বিঘা জমি ইজারা নিয়ে বাগদা চিংড়ি চাষের জন্য প্রায় ১০ লাখ টাকা ঋণ করেছেন। চলতি মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে যে পরিমাণ মাছ পাওয়ার আশা ছিল, তাতে ঋণ পরিশোধ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ মাছ মরার কারণে এখন পর্যন্ত লাখ টাকারও মাছ বিক্রি হয়নি।
ঈশ্বরীপুর গ্রামের এলাকার চিংড়ি চাষি ইব্রাহিম খলিল জানান, ২০১২ সাল থেকে তিনি ঘের করছেন। এবারও ১০ বিঘা জমিতে বাগদা চিংড়ি চাষ করেছেন। ঘেরে ৪৫ হাজার বাগদার পোনা ছেড়েছিলেন। এখন প্রতিটি ৪০ গ্রাম করে ওজন হয়েছে। কিন্তু তীব্র এ গরমে পানি বিষিয়ে ওঠায় মাছ মারা যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ঘেরে পর্যাপ্ত পানি রয়েছে। নিয়মিত পরিচর্যাও করা হয়। তবে রোদের কারণে কোনো হিসাব-নিকাশ মিলছে না।
একই এলাকার চিংড়ি চাষি রেজাউল ইসলাম বলেন, তিনি এবার নিজের এবং অন্যের জমি ইজারা মিলিয়ে ২০০ বিঘা জমিতে চিংড়ি চাষ করেছেন। প্রথম কোটায় অবমুক্ত করা বাগদা মাছ মরে গেছে। এতে তার তিন লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। তার এলাকার ঘেরগুলোতে পর্যাপ্ত পানি নেই বলে জানান তিনি। তার ওপর প্রচণ্ড রৌদ্রের জন্য পানি লালচে হয়ে উঠছে।
চিংড়ি চাষিরা বলছেন, এ পর্যন্ত কোনো ক্ষতিগ্রস্ত চিংড়ি ঘেরে গিয়ে কী কারণে মাছ মারা যাচ্ছে বা তাদের কী করা উচিত সে বিষয়ে মৎস্য বিভাগ থেকে কেউ পরামর্শ দেননি। তাই একমাত্র জীবিকা চিংড়ি চাষ নিয়ে সমস্যায় রয়েছেন তারা।
চিংড়ির আড়তদাররা জানান, এবার মাছ মরে যাওয়ার কারণে উৎপাদন কম। এজন্য বেচাকেনা অর্ধেকে নেমে এসেছে।
জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, গত মৌসুমে জেলায় ২৪ হাজার ৫৪৭ টন বাগদা চিংড়ি উৎপাদন হয়েছে। তবে, চলতি মৌসুমে চিংড়ি উৎপাদন গতবারের তুলনায় অনেক কম হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঔধমড়হবংি২৪ এড়ড়মষব ঘবংি ঈযধহহবষজাগোনিউজের খবর পেতে ফলো করুন আমাদের গুগল নিউজ চ্যানেল।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আনিছুর রহমান বলেন, সারাদেশে মোট যে পরিমাণ রপ্তানিজাত চিংড়ি উৎপাদন হয় তার ৬৫-৭০ শতাংশ জোগান দেয় সাতক্ষীরা জেলা। তবে অতিরিক্ত তাপপ্রবাহে ঘেরে পানি কমে গেলে বাগদা চিংড়ি মারা যেতে পারে। এবার প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ, পর্যাপ্ত পানি না থাকা ও অতিরিক্ত লবণের কারণে বেশি মাছ মারা যাচ্ছে। মৎস্য বিভাগ থেকে এ বিষয়ে চাষিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
যশোর অঞ্চলের উষ্ণায়নে বৃক্ষনিধনসহ ৬ কারণ
যশোর অফিস
যশোরে তীব্র গরমে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। এ তাপপ্রবাহে মোটাদাগে বৃক্ষ নিধনকে বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করলেও বনবিভাগ বলছে, ‘যশোরে পর্যাপ্ত গাছ রয়েছে। আর গাছ কাটা হলেও সেই তুলনায় অনেক বেশি গাছ লাগানো হয়েছে।’ আর পরিবেশবিদরা এ উষ্ণায়নের জন্য ছয়টি কারণকে চিহ্নিত করছেন। এর মধ্যে কয়েকটি কারণ যশোরঞ্চলে তাপপ্রবাহে বাড়তি ভূমিকা রাখছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
যশোরে তীব্র ও অতি তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ায় নাগরিকরা বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করছেন। পাশপাশি এ অঞ্চলে বৃক্ষ নিধনের বিষয়টি নিয়েও জোর আলোচনা চলছে। তবে বনবিভাগ বলছে, যশোরে পর্যাপ্ত গাছ রয়েছে।
যশোর বনবিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের জরিপে সারাদেশে বৃক্ষের পরিমাণ ২২ দশমিক ৩৭ শতাংশ। সেখানে যশোরে এ হার ছিল ২২ দশমিক ৯২ শতাংশ। এর দশ বছর পর চলতি বছর আবার জরিপ হচ্ছে। তবে বনবিভাগের মতে, যশোরে গাছের পরিমাণ আরও বেড়েছে।
বন বিভাগের তথ্য মতে, চলতি অর্থ বছরে যশোর জেলায় গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে দেড় লাখ। এরমধ্যে ৪০ হাজার গাছ সরকারি স্থানে লাগানো হবে। পাঁচ হাজার গাছ বিনামূল্যে বিতরণ করবে বন বিভাগ। ৩০ হাজার গাছ মাত্র ৯ টাকা দরে বিক্রি হবে। যশোরের শার্শা, চৌগাছা এবং ঝিকরগাছা উপজেলায় ৭৫ হাজার গাছ লাগানো হবে। বিগত পাঁচ বছরে যশোর জেলায় তিন লাখ ৪৫ হাজারটি গাছ লাগানো হয়েছে।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম বলেন, ২০১৪ সালের জরিপে সারাদেশে বৃক্ষের পরিমাণ ২২ দশমিক ৩৭ শতাংশ। সেখানে যশোরের হার ২২ দশমিক ৯২ শতাংশ। নতুন জরিপ চলছে। জরিপ শেষ হলে যশোর জেলায় গাছের সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে। তবে যশোরে অনেক গাছ লাগানো হয়েছে। এ কারণে এ হার আরও বেড়েছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে যশোরাঞ্চলে এ উষ্ণায়নের পেছনে ছয়টি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। পরিবেশের প্রতি অতীত ও বর্তমানের দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক আচরণের পাশাপাশি এ কারণগুলো এ তাপপ্রবাহে সহায়ক ভূমিকা রাখছে বলে দাবি পরিবেশবিদদের।
যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগে শিক্ষকতা করা প্রফেসর মো. ছোলজার রহমান এখন চট্টগ্রাম কলেজে ভূগোল ও পরিবেশের অধ্যাপক। যশোরাঞ্চলের পরিবেশ নিয়ে তার দীর্ঘদিনের গবেষণা রয়েছে।
প্রফেসর মো. ছোলজার রহমান বলেন, পরিবেশের প্রতি অতীত ও বর্তমানের দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক আচরণের পাশাপাশি আরও কয়েকটি কারণ এ অঞ্চলের উষ্ণায়নের জন্য দায়ী। প্রথমত, গত ৬-৭ বছরের মধ্যে এ অঞ্চলের অনেকগুলো সড়ক-মহাসড়কের দুই পাশের বৃক্ষ উজাড় করা হয়েছে। এর মধ্যে যশোর-খুলনা, যশোর-কুষ্টিয়া, যশোর-বেনাপোল, যশোর-নড়াইল, যশোর-চৌগাছা-মহেশপুর সড়ক অন্যতম। জমির হিসেবে সড়কের পাশ থেকে প্রায় আটশ’ হেক্টর গাছ উজাড় করা হয়েছে। অল্প সময়ে একযোগে এই পরিমাণ গাছ কেটে ফেলা একটি বড় কারণ।
দ্বিতীয়ত, করোনাকালে ঘরে অবস্থানের সময় এবং তারপর থেকে ঘরে-অফিসে এসি স্থাপনের হার বেড়েছে। এ শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রও উষ্ণায়নের আরেকটি কারণ।
তৃতীয়ত, সামগ্রিকভাবে দেশের উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ অনেক বেড়েছে। নানা ধরণের নির্মাণকাজের ইট-বালি-সিমেন্ট-পাথরসহ নির্মাণ সামগ্রীর কণা ও আঁশ বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ছে এবং তা তাপ শোষণ ও বিকিরণ করছে। যা তাপমাত্রাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে।
চতুর্থত, দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য প্রচুর খাদ্যশস্য উৎপাদন করতে হচ্ছে। এজন্য শস্য আবাদের পরিমাণ-মাত্রা বাড়াতে হচ্ছে। ফলে বাড়ছে রাসায়নিক সার, কীটনাশকের ব্যবহার; মাটিতে কমছে জৈব উপস্থিতি। ফলে মৃত্রিকাও তাপ ধরে রাখছে। এই তাপ বিকিরণও বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
যশোর-খুলনা অঞ্চলের পরিবেশে বিরূপ প্রভাবের আরেকটি কারণ জলাশয় ভরাট করে ফেলা এবং জলাভূমি শুকিয়ে যাওয়া। এ অঞ্চলে প্রচুর জলাশয় ছিল। জলাশয়গুলো ভরাট হয়ে গেছে। নদী খাল বিল শুকিয়ে গেছে। ফলে জলাশয় যে তাপ শোষণ করতো, তা আর শোষিত হচ্ছে না। এটি এ অঞ্চলের উষ্ণায়নের একটি বড় কারণ।
এছাড়া ভূগর্ভস্থ পানির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারে শুষ্ক মৌসুমে পানির লেয়ার অনেক নিচে নেমে যাচ্ছে। মৃত্রিকা যে তাপ ধারণ করতো, এ পানি তার একটি অংশ শোষণ করে নিতো। কিন্তু লেয়ার নিচে নেমে যাওয়ায় এ তাপ বিকিরিত হয়ে পরিবেশে ফিরে যাচ্ছে। একইসঙ্গে প্রচুর কংক্রিটের ভবন ও স্থাপনে ভূ-পৃষ্ঠকে গ্রাস করছে; ঘনঘন বাড়িঘরও প্রচুর তাপ শোষণ করে তা ধরে রাখছে। এসব কারণের সম্মিলন পরিবেশকে উত্তপ্ত করছে; যা এ তীব্র তাপপ্রবাহের জন্য দায়ী বলে মনে করেন প্রফেসর মো. ছোলজার রহমান।
যশোরের পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিন ওয়ার্ল্ড এনভাইরনমেন্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আশিক মাহমুদ সবুজের মতে, অপরিকল্পিত নগরায়নে শহর থেকে গ্রামে বাড়ছে কংক্রিটের জঞ্জাল। পুকুর জলাশয় ভরাট হয়ে যাচ্ছে। কাটা পড়ছে গাছ। বাড়ছে ভূ-গর্ভস্থ পানির ব্যবহার। এসব কারণে বাড়ছে তাপমাত্রা-বইছে তীব্র তাপপ্রবাহ। এজন্য তিনি পরিকল্পিত নগরায়নের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।
বাগেরহাটে শুকিয়ে গেছে খাল-বিল, বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার
বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটের উপকূলীয় উপজেলা মোরেলগঞ্জ, মোংলা, রামপাল ও শরণখোলায় বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার চলছে। খাল-বিল, পুকুর-নালা প্রায় শুকিয়ে গেছে। গৃহস্থালির কাজ, অজু-গোসল করতে এখন কাদা ও লবণ পানি ব্যবহারে বাধ্য হচ্ছে মানুষ। দেখা দিয়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ।
শরণখোলার বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন লিটন জানান, উপজেলা সদর রায়েন্দা বাজারে অবস্থিত জেলা পরিষদের একমাত্র পুকুরের পানি শত শত মানুষ ব্যবহার করে আসছেন। কিন্তু এক মাস ধরে পানি শুকিয়ে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এখন পানি তুললে কাদা উঠে আসে। অজু-গোসলসহ ঘর-গৃহস্থালির কাজ প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
রায়েন্দা ইউনিয়নের উত্তর রাজাপুর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি মেম্বার জাকির হোসেন খান জানান, তাদের এলাকার চিনির খালপাড়, মাছের খালপাড়, সাবারপাড়, বটতলার সব পুকুর-খাল ও জলাশয় শুকিয়ে গেছে। কোথাও পানি নেই। এলাকাবাসী এখন চার-পাঁচ কিলোমিটার দূরে পার্শ্ববর্তী ধানসাগর ইউনিয়নের আমড়াগাছিয়া থেকে পানি এনে কোনো রকমে চলছেন। এলাকায় শিশুদের বেশিরভাগই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে।
উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের খুড়িয়াখালী গ্রামের স্বেচ্ছাসেবক রাসেল বয়াতি। তিনি জানান, তাদের পার্শ্ববর্তী গ্রাম চালিতাবুনিয়ায় এখন একটিমাত্র পুকুরে পানি আছে। ৭-৮ কিলোমিটার দূর থেকে মানুষ এসে ওই পুকুর থেকে পানি নিচ্ছে। তাফালবাড়ি, সোনাতলা, বকুলতলা, খুড়িয়াখালী ও শরণখোলা গ্রামের মানুষের এখন ওই একটি পুকুরই ভরসা।
তিনি বলেন, ‘ভ্যান-রিকশা করে একবার পানি নিতে ৫০০ টাকা খরচ পড়ছে। সবার পক্ষে ওই টাকা খরচ করে পানি নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে বকুলতলা গ্রামে পুলিশের দেওয়া একটি পানির প্ল্যান্ট দিয়ে কিছু মানুষ খাবার পানি নিতে পারছেন।’
ধানসাগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাইনুল ইসলাম টিপু জানান, তার ইউনিয়নের বেশিরভাগ খাল, বিল ও জলাশয় শুকিয়ে গেছে। আমড়াছিয়া এলাকায় দুটি পানির প্ল্যান্ট বসানোর কারণে ওই এলাকায় খাবার পানির কিছুটা লাঘব হচ্ছে। তবে গৃহস্থালি কাজে ব্যবহার করার মতো কোনো পানি নেই। পাশাপাশি গবাদিপশুর খাওয়ার পানিরও সংকট দেখা দিয়েছে।
রায়েন্দা ইউপি চেয়ারম্যান আজমল হোসেন মুক্তা জানান, তার ইউনিয়নে তীব্র পানি সংকট চলছে। কোথাও কোনো পানি নেই। পানির জন্য মানুষ হাহাকার করছে।
পানি সংকট ও অতিরিক্ত তাপপ্রবাহের কারণে ১৫ দিন ধরে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে বলে জানান শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. প্রিয় গোপাল বিশ্বাস।
তিনি জানান, প্রতিদিন গড়ে অর্ধশত মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ফিরোজা আক্তার নামের এক স্কুলশিক্ষিকার মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে তাদের খাবার স্যালাইনের কোনো সংকট না থাকলেও আইভি স্যালাইনের সংকট রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপসহকারী প্রকৌশলী মেহেদি হাসান বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় জরুরি ভিত্তিতে ২৭ এপ্রিল থেকে একটি ভ্রাম্যমাণ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট দিয়ে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এ সংখ্যা বাড়ানো হবে। এছাড়া যেসব ন্যানো ফিল্টার ও সোলার ফিল্টারে ত্রুটি রয়েছে, তা দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, ভ্রাম্যমাণ প্ল্যান্ট থেকে উত্তর রাজাপুরসহ আশপাশের কয়েক গ্রামের শত শত মানুষ পানি সংগ্রহ করছেন। এ প্ল্যান্ট থেকে ঘণ্টায় ৬০০ লিটার করে প্রতিদিন পাঁচ হাজার লিটার বিশুদ্ধ পানি দেওয়া যাবে। এ প্ল্যান্ট থেকে দূষিত পানিও বিশুদ্ধ করা সম্ভব। এতে প্রতিদিন খরচ হবে চার হাজার টাকা।
মেহেরপুরে তীব্র তাপদাহে ঝরছে আম-লিচুর গুটি
মেহেরপুর প্রতিনিধি
অতিমাত্রার খরতাপে মেহেরপুরের আম-লিচুর গুটি ঝরে পড়ছে। এভাবে গুটি ঝরে পড়তে থাকলে বাগান মালিকেরা মোটা অঙ্কের লোকসানে পড়বেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বৈরী আবহাওয়ায় রাতে ঠান্ডা ভাব, দিনে তাপদাহ। এ কারণে ঝরে যাচ্ছে গুটি। ফলে চলতি মৌসুমে মেহেরপুরের আম-লিচুর ফলনে বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাগান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বাগান মালিক ও ইজারাদাররা।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর জেলায় লক্ষ্য করা গেছে। ৪০ ডিগ্রি থেকে ৪২ ডিগ্রির উপরে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। প্রাকৃতিকভাবেই চলতি মৌসুমে আম-লিচুর মুকুল বেরিয়েছে ৬৫ শতাংশ। বাকিটায় নতুন পাতা বের হয়েছে। অন্যদিকে বর্তমানে আম-লিচুর জন্য প্রতিকূল আবহাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে এবার আম-লিচুর ফলন কিছুটা কমার সম্ভাবনা আছে।
মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় লিচুর বাগান আছে ৮০০ হেক্টর জমিতে। এসব বাগানে আটি লিচু, বোম্বাই, চিলি বোম্বাই, আতা বোম্বাই ও চায়না-থ্রি জাতের লিচু হয়ে থাকে। চলতি বছরে জেলায় সাড়ে ৮ হাজার টন লিচুর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। আমের বাগান আছে ৩ হাজার ৩৩৬ হেক্টর। ল্যাংড়া, বোম্বাই, হিমসাগর, ফজলি, আম্রপালি, গোপাল ভোগ, হাড়িভাঙাসহ বেশ কয়েকটি জাতের আম বাগান আছে।
চলতি সপ্তাহে মেহেরপুরের আম-লিচুর বাগান ঘুরে দেখা গেছে, সদর উপজেলার কোলা গ্রামে ল্যাংড়া, হিমসাগর, বোম্বাই আমের গাছ আছে সবচেয়ে বেশি। গাছের নিচে ঝরে পড়া আমের স্তূপ হয়েছে। সদর উপজেলার আমঝুপি, বাড়াদি, হরিরামপুর, কালিগাংনী, শ্যামপুর, উজলপুর, কুলবাড়িয়া, গাংনী উপজেলার নওয়াপাড়া, সাহারবাটি, তেতুলবাড়িয়া, বামুন্দি গ্রামে দেখা যায়, সবুজ লিচু গাছ এখন হলুদ রঙের মুকুলে ছেয়ে আছে। কিছু গাছে মুকুল থেকে বেরিয়েছে গুটি। বাগানে ঢুকলেই চোখে পড়ছে গুটি ঝরার দৃশ্য। চাষিরা গুটি ঝরা রোধে নানা চেষ্টা করছেন। কেউ ওষুধ ছিটাচ্ছেন, কেউ স্প্রের যন্ত্র দিয়ে পানি দিচ্ছেন।
আম ও লিচু চাষি সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘মেহেরপুরের হিমসাগর ও বোম্বাই জাতের আমের কদর আছে সারাদেশে। বোম্বাই, মোজাফ্ফর ও দেশি জাতের লিচুর চাষ হয়। ফলে প্রতি বছর মৌসুম শুরুর আগেই পাইকারি ব্যবসায়ীরা বাগানের আম-লিচু কিনে নেন। এরপর আম-লিচু তোলা ও বাজারজাতের কাজটা তারাই করেন। চলতি মৌসুমে আম-লিচুর ফলন কম। গত বছরের তুলনায় অর্ধেক মুকুল এসেছে। বর্তমানে লিচুর জন্য বিরূপ আবহাওয়া। রাতে শীত ও কুয়াশা ভাব। দিনে তাপদাহ। এ কারণে প্রতিদিন প্রচুর আম-লিচুর গুটি ঝরে যাচ্ছে। তাই পাইকাররা লোকসানের ভয়ে বাগান কিনছেন না। এতে চাষিরা চরম বিপাকে পড়েছেন।’
মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি এলাকার কোলা গ্রামের বাগান মালিক রোকনুজ্জামান বলেন, ‘মাঠে ৬ বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের আম বাগান আছে। গত বছরের তুলনায় হিমসাগর আম গাছে আশানুরূপ মুকুল আসেনি। অতিমাত্রার গরমে আমের গুটি ঝরে পড়ছে। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী সেচ দেওয়া হচ্ছে। নানা প্রকার ছত্রাকনাশক ছিটিয়েও তেমন উপকার পাওয়া যাচ্ছে না।’
একই গ্রামের বাগান মালিক আরশেদ আলী বলেন, ‘সাড়ে পাঁচ বিঘা জমিতে লিচুর বাগান আছে। বাগানে আগাম জাতের আটি লিচু আছে দেড় বিঘা। আটি লিচু গাছের ডগায় ডগায় মুকুলে ছেয়ে গেছে। বাকি জমিতে আছে আতা বোম্বাই লিচুর গাছ। সেগুলোতেও মুকুল দেখা দিয়েছে। কিন্তু গুটিগুলোর ডগা শুকিয়ে যাচ্ছে। একটু বাতাস হলেই ঝরে পড়ছে। এ বছর লিচুর ফলন বিপর্যয় ঘটবে।’
আম-লিচুর ফরিদপুর জেলার মৌসুমি ব্যবসায়ী মোকলেছুর রহমান বলেন, ‘গাছে মুকুল আসার সঙ্গে সঙ্গে জেলার কয়েকটি এলাকায় ৩০ বিঘা আম বাগান ও ১৫ বিঘা লিচু বাগানের ইজারা নিয়েছি। তবে আম-লিচুর গুটি ঝরে পড়ছে। কোনোভাবেই রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। আর কয়েকদিন গরম পড়লে বড় আকারের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হবে ব্যবসায়ীদের।’
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষণ কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান জানান, মেহেরপুর জেলায় এবছর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দীর্ঘদিন থেকেই অনাবৃষ্টি। এর প্রভাব ফসলের ওপরে পড়ছে। তবে এমন পরিস্থিতি কবে নাগাদ শিথিল হবে, তা বলা যাচ্ছে না।
মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিজয় কৃষ্ণ হালদার বলেন, ‘তীব্র তাপের কারণেই আমের গুটি ঝরে যাচ্ছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যেসব বাগানের আম ও লিচুর গুটি ঝরে যাচ্ছে, বিকেলের দিকে পরিমিত মাত্রায় বোরন স্প্রে ও গাছের গোড়ায় পানি দিতে হবে। তাহলে গুটি ঝরা রোধ করা যাবে। এছাড়া নিয়মিত সেচ দিতে হবে।’
ঝিনাইদহে বয়স্কদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক ক্যাম্পেইন
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি-
ঝিনাইদহে বয়স্কদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঝিনাইদহ সিভিল সার্জনের সম্মেলন কক্ষে এ ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়। স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরো’র সহযোগিতায় প্লে ডক্টরের বাস্তবায়নে এ ক্যাম্পেইনে আয়োজন করে ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন অফিস। এতে ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকার ১৫০ জন প্রবীণ ব্যক্তিরা অংশ নেয়।
ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা: শুভ্রা রানী দেবনাথ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে রিসোর্স পার্সন ছিলেন সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা: মেহেদি হাসান, সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা অফিসার আব্দুর রহমান।
সেসময় বক্তারা, প্রবীণ ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা সুবিধা সৃষ্টি ও সম্প্রসারণের পাশাপাশি তাদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা ও তা নিরাময়ের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ দাবী জানান। সেই সাথে দীর্ঘ মেয়াদী, জীবন সংশয়ী বা নিরাময় সম্ভাবনাবিহীন অসুখে আক্রান্ত যে কোন বয়সের মানুষের জন্য প্রশমনমূলক কেয়ার ব্যবস্থা চালু করার পরামর্শ দেন।
বিপুল ভোটে জামায়াত প্রার্থী সাত্তার খান চেয়ারম্যান নির্বাচিত
মহেশপুর(ঝিনাইদহ)প্রতিনিধিঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুরে ব্যপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে আইনশৃঙলা বাহীনির করা নিরাপত্তার শান্তিপুর্ন ভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে আজমপুর ইউনিয়ন পুরিষদের উপ-নির্বাচন। রোববার(২৮এপ্রিল) সকাল ৮ থেকে বিরতি হীন ভাবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলে ভোট গ্রহন। এ নির্বাচনে জামায়াত ই্সলামী বাংলাদেশের প্রার্থী আব্দুস সাত্তার খান মটর সাইকেল প্রতিক নিয়ে ৬১৮২ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী শরীফুল ইসলাম চশমা প্রতিকে ২১৪২ ভোট, আওয়ামীলীগ সমর্থীত প্রার্থী আবুল হাসেম আনারস প্রতিকে ১৫৩৪ ভোট ও সাইফুল ইসলাম ঘোড়া প্রতিকে ১২৩ ভোট পেয়েছেন।
মহেশপুর উপজেলার আজমপুর ইউনিয়নে ২০ হাজার ৮৯ জন ভোটারের মধ্যে ১০ হাজার ৮৫২ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রদান করেছেন।
উল্লেখ্যঃ মহেশপুরের আজমপুর ইউনিয়ন পরিষদের আওয়ামীলীগ সমর্থীত চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি শাহাজান আলী ২১ জানুয়ারী মারা যাওয়ার পর চেয়ারম্যান পদ শুণ্য ঘোষণা করা হয়।
কপিলমুনিতে তীব্র তাপ প্রবাহে অতিষ্ঠ প্রাণীকূল, স্বাভাবিক জীবন যাপন ব্যহত
কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি ঃ
তীব্র তাপ প্রবাহের ফলে কপিলমুনি এলাকার জনজীবনে যেন নাভীশ্বাস উঠে গেছে। স্থবির হয়ে পড়ছে তাদের স¦াভাবিক জীবন যাপন। প্রতিদিন ৪০ থেকে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে হাফিয়ে তুলেছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এপ্রিল মাস জুড়ে এরকম তাপ প্রবাহ চলমান থাকতে পারে। যেটা প্রাণী কুলের জন্য ভীষণ আতংকের খবর বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এমন তাপ প্রবাহ চলমান থাকলে বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও শ্রমজীবি মানুষের টিকে থাকা কঠিন হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এমনিতেই বাড়ছে গরমজণিত রোগ বালাই। শিশু ও বয়স্করা জ্বর, ঠান্ডা-কাশিতে আক্রান্ত হচ্ছে। আখের রস শরবত, ডাবসহ বিভিন্ন ধরণের ফল ও ঠান্ডা পানি খেয়ে অনেকে গরম থেকে পরিত্রাণের চেষ্টা করছেন। কৃষকেরা মাঠে ধান গোছাত যেয়ে চরম কষ্ট ভোগ করছেন, রোদ্রে কাজ করতে পারেছন তারা। হাফিয়ে উঠছেন চাষী ও শ্রমিকরা। ধান কাটতে গিয়ে প্রচন্ড তাপে যখন জীবন ওষ্ঠাগত ঠিক তখন কাজ ছেড়ে গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিচ্ছেন, ফলে কাজের দিক থেকে পিছিয়ে পড়ছেন তারা। তাপদাহের কারণে খাদ্যপন্য আমদানী রফতানি ব্যহত হচ্ছে। পচনশীল পন্য নষ্ট হচ্ছে। দিনের বেলায় বাজার এলাকায় লোক সমাগমও তুলনামূলক কম বলে পরিলক্ষিত হচ্ছে।
রামনগর গ্রামের কৃষক আনার আলী বলেন, ভীষণ গরম পড়ছে, ‘আমার বয়সে এত গরম কোন বছর পড়তে দেখিনি। এই গরমে আমরা কৃষি কাজ ঠিকভাবে করতে পারছি না। রোদে আগুনের মত তাপ, তাই আমাদের শরীর পুড়ে যাচ্ছে। প্রচন্ড এই গরমে কিভাবে ফসল ঘরে তুলবো সেটাই এখন চিন্তার বিষয়। আমাদের কৃষক শ্রমিক যথা সময়য়ে কাজে আসছে না, ফলে ফসল তোলার জন্য শ্রমিক সংকটে ভুগছি। ’
শ্রীরামপুর গ্রামের নির্মাণ শ্রমিক মিন্টু গাজী বলেন, আমরা বিল্ডিয়ের কাজ করি। রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে আমাদের কাজ করতে হয়। গত কিছুদিন ধরে যে রোদ গরম পড়ছে তাতে প্রচন্ড রোদ-তাপের সাথে যুদ্ধ করে আর কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। মাথা ঘুরছে, শরীর ঘেমে দূর্বল হয়ে যাচ্ছে। অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। আগামী কয়েকদিন কাজ থেকে বিরতী নিতে হবে এমটাই ভাবছি।
স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মান্নানের পিতা অসুস্থ; সুস্থতা কামনা
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুল মান্নান শেখের পিতা মোঃ রুস্তম আলী শেখ কোলন টিউমার রোগে আক্রান্ত হয়ে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তার আশু-সুস্থতা ও দ্রুত রোগ মুক্তি কামনা করে বিবৃতি দিয়েছেন খুলনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শেখ মোঃ আবু হানিফ ও সাধারণ সম্পাদক এম এম আজিজুর রহমান রাসেল।#
গাজায় নিরীহ মানুষকে গণহত্যার প্রতিবাদ বৃহত্তর আমরা খুলনাবাসীর
খবর বিজ্ঞপ্তি
গাজার নিরীহ মুসলমান শিশু, নারী-পুরুষদের দখলদার ইসরায়েল বাহিনী নির্বিচারে গণহত্যার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে বৃহত্তর আমরা খুলনাবাসীন নেতৃবৃন্দ। সোমবার (২৯ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টায় সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এ প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো হয়।
সংগঠনের সভাপতি ডা. মো. নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারন সম্পাদক এস এম মাহাবুবুর রহমান খোকনের পরিচালনায় প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, নব্য হিটলার ইসরায়েল প্রধানমšী¿ বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এক তরফা ভাবে আন্তজার্তিক আইন কানুন তোয়াক্কা না করে ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধের নামে নিরীহ বেসামরিক শিশু, নারী-পুরুষকে হত্যা করে চলেছে। সে যুদ্ধের সকল নিয়ম নীতি ভঙ্গ করেই আগ্রাসন চালিয়ে এক দিকে গাজা অঞ্চলের মামুষের বাড়ী ঘর বিল্ডিং মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়ে একটি ধংস স্তুপের নগরীতে পরিনত করেছে। যা অপসারন করতে গাজাবাসীর সময় লাগবে ১৪ বছর। ২০/৩০ লাখ মানুষ বাস্তচ্যুত। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরু হয়ে প্রায় ৭ মাসে দখলদার ইসরায়েল বাহিনীর হামলায় সরকারি তথ্য মতে গাজায় প্রায় ৪০ হাজার বেসামরিক মানুষকে তারা হত্যা করেছে। প্রতিদিন বিভিন্ন অঞ্চলে শত শত মানুষের গণকবর পাওয়ায় মৃত্যের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। শুধু তাই নয় জীবিত মানুষকে হাত পা বেধে মাটি চাপা দিয়ে মারছে। পৈষাশিক এ ঘটনার প্রতিবাদে ইসরায়েলের মদদ দাতা খোদ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় গুলিতে ইসরায়েল বিরোধী এ যাবত কালের সবচেয়ে ভয়াবহ ছাত্র আন্দোলন, যা মার্কিন প্রশাসন কঠিন ভাবে নির্যাতন করেও থামাতে না পারলেও, দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়ছে। ইটালি কামাডা, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে দখলদার ইসরায়েল বিরোধী আন্দোলন বিস্তৃত হচ্ছে। বক্তারা আরো বলেন, যুদ্ধ চাই না শান্তি চাই। বিশ্ব মানবতাকে রক্ষার জন্য এখনই সময় এই যুদ্ধ বাজ ইসরায়েল প্রধানমšী¿ নব্য হিটলার বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন, তাকে গ্রেপ্তার, অনতি বিলম্বে যুদ্ধ বন্দের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন, গাজায় ত্রান সামগ্রী ও জরুরি ঔষধ সরবারহ থাকতে হবে।
জাতিসংঘসহ আন্তজার্তিক সকল রাস্ট্রের প্রতি যুদ্ধ বন্ধের আহব্বান জানিয়ে বক্তৃতা করেন এবং উপস্থিত ছিলেন মাজেদা খাতুন, ডা. সৈয়দ মোসাদ্দেক হোসেন বাবলু, ডা. আ. সালাম, জি এম মহিউদ্দিন, এড. কাজি আমিমুল ইসলাম মিঠু, মো. কামরুল ইসলাম কামু, নিয়াজ আহমেদ তুহিন, মুন্সি আহমেদ হোসেন, শেখ মোহাম্মাদ আলি, এম এ জলিল, কাওসারি জাহান মঞ্জু, মো. কামরুল ইসলাম ভুট্রো, সাংগাঠনিক সম্পাদক মো. শাকিল আহমেদ রাজা, মো. আ. রাজ্জাক, কারি শরীফ মিজানুর রহমান, কবিতা আহমেদ, শেখ. শহিদুল ইসলাম, মো. আরিফ আহমেদ, মো. জিসান রহমান, মো. তাহেরুল আলম, মো. শফিকুল ইসলাম অভি, শেখ রফিকুল ইসলাম, আ. মান্নান মুন্নাফ, ইকবাল হোসেন তোকা, মো. জয়নাল আবেদিন, ডা. মোস্তাফিজুর রহমান, শিক্ষক আ. মান্নান, মো. জাভেদ আক্তার, মো. আলাউদ্দিন, মো. মিকাইল হোসেন, তৈয়বুর রহমান, মো. আবু বক্কার, মো. আজমল হোসেন প্রমুখ।










































