স্টাফ রিপোর্টার
খুলনা বিভাগে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে ১০ জেলার ৪৩ উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন ১৭৩ জন। এর মধ্যে ১৫২ জনই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের। অন্য তিন দলের প্রার্থী ৯ জন এবং স্বতন্ত্র ১২ জন। প্রতিটি উপজেলায় আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী হওয়ায় বিভক্ত হয়ে পড়েছেন দলটির নেতাকর্মী। অভ্যন্তরীণ কোন্দল ছড়িয়ে পড়ছে তৃণমূল পর্যায়ে। অন্যদিকে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর তেমন প্রার্থী না থাকায় নির্বাচনে নেই উৎসবমুখর পরিবেশ। আগ্রহ কমে গেছে সাধারণ ভোটারদের।
খুলনা আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপে আগামী ৮ মে নির্বাচন হবে ১৮ উপজেলায়। এগুলো হলো– মেহেরপুর সদর ও মুজিবনগর, কুষ্টিয়া সদর ও খোকসা, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর ও দামুড়হুদা, ঝিনাইদহ সদর ও কালীগঞ্জ, যশোরের মনিরামপুর ও কেশবপুর, মাগুরা সদর ও শ্রীপুর, নড়াইলের কালিয়া, বাগেরহাট সদর, রামপাল ও কচুয়া, সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলা। উপজেলাগুলোতে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন ৬৪ জন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগেরই ৬০ জন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র ৩ জন ও এবি পার্টির প্রার্থী ১ জন। দলীয় নির্দেশনার কারণে জামায়াতের কোনো নেতা প্রার্থী হননি।
প্রথম ধাপের নির্বাচনে গত ২৩ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে মাঠে নেমে পড়েন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। তারা কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। প্রচারণায় পরস্পরকে ইঙ্গিত করে বক্তব্য দেওয়ায় উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে।
দ্বিতীয় ধাপে আগামী ২১ মে নির্বাচন হবে ২৫ উপজেলায়। এগুলো হলো– খুলনার দিঘলিয়া, তেরখাদা ও ফুলতলা, মেহেরপুরের গাংনী, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর, মিরপুর, ভেড়ামারা ও কুমারখালী, চুয়াডাঙ্গা সদর ও আলমডাঙ্গা, ঝিনাইদহের শৈলকুপা ও হরিণাকুণ্ডু, যশোরের শার্শা, চৌগাছা ও ঝিকরগাছা, মাগুরার মহম্মদপুর ও শালিখা, নড়াইল সদর ও লোহাগড়া, বাগেরহাটের ফকিরহাট, মোল্লাহাট ও চিতলমারী, সাতক্ষীরার তালা, দেবহাটা ও আশাশুনি। উপজেলাগুলোতে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী ১০৯ জন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগেরই ৯২ জন। এ ছাড়া বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী আছেন ৪ জন করে এবং স্বতন্ত্র ৯ জন।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানান, উপজেলাগুলোতে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা প্রায় সবাই দলের হওয়ায় তারা বিপাকে পড়েছেন। তারা বিভক্ত হয়ে নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন। ফলে ওয়ার্ড-গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত বিভক্তি ছড়িয়ে পড়েছে। এক গ্রুপ আরেক গ্রুপকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে। তারা জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং জেলার শীর্ষ নেতারা একেক প্রার্থীর প্রতি মৌন সমর্থন দিয়েছেন। এতে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে উঠেছে, যা দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ নিয়ে দলের কর্মীদের অনেকে অস্বস্তিতে পড়েছেন।
তবে এ ব্যাপারে খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুজিত কুমার অধিকারী বলেন, উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থিতা উন্মুক্ত থাকায় কিছুটা গ্রুপিং হবে এটাই স্বাভাবিক। তবে বড় ধরনের কিছু হবে না। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছি।
যশোর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন বলেন, এখন পর্যন্ত সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশেই যশোরের সব উপজেলায় প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। নির্বাচন ঘিরে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি, শঙ্কাও নেই। কারণ স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রেখে সবার অংশগ্রহণের
সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে। দলও এ ব্যাপারে সজাগ রয়েছে।
মেহেরপুর সদর ও মুজিবনগর উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা ও পোস্টার বিগত নির্বাচনগুলোর তুলনায় কম। এখনও নির্বাচনী ক্যাম্প বা কার্যালয় করেননি প্রার্থীরা। অন্য উপজেলাগুলোর চিত্রও প্রায় একই রকম।
এ ব্যাপারে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) খুলনার সভাপতি অ্যাডভোকেট কুদরত ই খুদা বলেন, নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থাহীনতা ও অনাগ্রহ তৈরি হয়েছে অনেক আগেই। এ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ না থাকায় কোথাও উৎসবমুখর পরিবেশ নেই। এবারের নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণাও কম। সার্বিক পরিস্থিতিতে ভোটার উপস্থিতি কম হবে বলে তাঁর ধারণা।










































