Home Uncategorized অপরাধ নিয়ন্ত্রণে খুলনায় স্থাপন করা সিসি ক্যামেরার বেশিরভাগই বিকল

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে খুলনায় স্থাপন করা সিসি ক্যামেরার বেশিরভাগই বিকল

53

স্টাফ রিপোর্টার
অপরাধ নিয়ন্ত্রণে খুলনায় দুই দফায় স্থাপন করা ১৮৪টি ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার অধিকাংশই এখন বিকল। ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এসব ক্যামেরা নষ্ট হয়ে গেছে বলে নগরবাসীর অভিযোগ। তবে আবারও ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নিচ্ছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশকে (কেএমপি) ৮৮টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা, ১১টি কম্পিউটার মনিটর ও ফুটেজ সংরক্ষণের জন্য ১১টি ডিভিআর কিনে দেয়। এতে ব্যয় হয় প্রায় ১৮ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে একটি বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতায় নগরীর ১৯টি পয়েন্টে ক্যামেরাগুলো স্থাপন করে কেএমপি। পরে ২০২০ ও ২০২১ সালে আরও ৯৬টি ক্যামেরা নিজেরা কিনে ১২টি পয়েন্টে স্থাপন করে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ। কিন্তু ঠিকমতো তদারকির অভাবে প্রথম ধাপের সবগুলো ও দ্বিতীয় ধাপের অর্ধেকের বেশি ক্যামেরা বিকল হয়ে পড়ে আছে। ফলে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে কোনো অপরাধ ঘটলে অপরাধী শনাক্ত করতে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ। এছাড়া কোথাও যানজটের সৃষ্টি হলে ফুটেজ দেখে সে বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দিতে পারছে না কেএমপির কর্মকর্তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেএমপির একজন কর্মকর্তা জানান, মনিটর ও ডিভিআর মেশিনগুলোর বেশিরভাগই সচল আছে। ক্যামেরাগুলো আগে নিয়মিত রেকর্ডিং ও ফুটেজ সংরক্ষণ করা হতো। কেএমপির নিজস্ব জনবলই এই কাজগুলো করতো।

তিনি জানান, কেসিসির দেয়া ক্যামেরাগুলো বসাতে একটি বেসরকারি সংস্থা ক্যাবল (তার) দিয়ে সহযোগিতা করে। ওই তার ছিল নিম্নমানের। তারের গোড়া দিয়ে ক্যামেরার মধ্যে পানি ঢুকেছে। খুলনার আবহাওয়া লবণাক্ত হওয়ায় এবং বৃষ্টির পানি প্রতিরোধের ব্যবস্থা না থাকায় প্রথম ধাপের ক্যামেরাগুলো সবই এখন বিকল।
এ ব্যাপারে খুলনা নাগরিক সমাজ এর সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. বাবুল হাওলাদার বলেন, অপরাধী শনাক্ত ও যানজট নিরসনে নতুন করে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন করা প্রয়োজন। তবে শুধু ক্যামেরা বসালেই হবে না, সেগুলো নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণও করতে হবে।

এদিকে নগরীর আরও আটটি থানা এলাকায় নতুন করে ক্যামেরা স্থাপনের চিন্তাভাবনা করছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। কেএমপি কমিশনার মো. মোজাম্মেল হক জানান, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে শিগগিরই তারা ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন করবেন।

খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ সালাহ উদ্দিন জুয়েল জানান, তিনি প্রথম ধাপে খুলনা সদর ও সোনাডাঙ্গা থানার ৫টি ওয়ার্ডের (১৭, ২০, ২১, ২৪ ও ৩০ নং ওয়ার্ড) প্রতিটিতে ৩২টি করে ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন। দ্বিতীয় ধাপে আরও ১১টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে ৩২টি করে ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। তৃতীয় ধাপে এই ১৬টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার সংখ্যা দ্বিগুণ করা হবে।