Home আঞ্চলিক উপজেলা নির্বাচন// খুলনায় মাঠে নেমে পড়েছেন আ.লীগের অর্ধশত নেতা

উপজেলা নির্বাচন// খুলনায় মাঠে নেমে পড়েছেন আ.লীগের অর্ধশত নেতা

86

স্টাফ রিপোর্টার
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খুলনার ৯টি উপজেলায় আগেভাগেই মাঠে নেমে পড়েছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। বিশেষ করে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী আওয়ামী লীগ নেতারা তৎপরতা শুরু করে দিয়েছেন। মনোনয়ন পাওয়ার এই দৌড়ে রয়েছেন প্রায় অর্ধশত আওয়ামী লীগ নেতা। তারা স্থানীয় মানুষ ও দলের নেতাকর্মীদেরকে পক্ষে টানার চেষ্টার পাশাপাশি কেন্দ্রেও লবিং করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিগত নির্বাচনে খুলনার বটিয়াঘাটা, রূপসা, ফুলতলা ও পাইকগাছা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এবং ডুমুরিয়া, কয়রা, দাকোপ, তেরখাদা ও দিঘলিয়া উপজেলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচিত হন। গত ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে খুলনার ৬টি আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন।
আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা জানান, এবারও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত প্রার্থী দেবে না। এ অবস্থায় দলীয় মনোনয়ন পাওয়া গেলে বিজয়ী হওয়া সহজ হবে। সেজন্য এবার মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা অনেক।
আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে বৈঠক করছেন। কেন্দ্রীয় কমিটি ও জেলা কমিটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও চালিয়ে যাচ্ছেন লবিং। তৎপরতা চালাচ্ছে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কর্মী-সমর্থকরাও।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সুজিত কুমার অধিকারী জানান, ৯টি উপজেলাতেই আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রস্তুতি ও দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনমুখী বড় দল, সে কারণে প্রার্থীও অনেক। তবে দলের কেন্দ্রীয় কমিটি সব উপজেলায় একক প্রার্থী দেয়ার নির্দেশনা দিতে পারে। নির্দেশনা পেলে সে অনুযায়ী কাজ করা হবে। তিনি বলেন, সদ্য সমাপ্ত সংসদ নির্বাচনে যারা মনোনয়ন চেয়ে পাননি তাদের মধ্যেও কয়েকজন উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চাইছেন।
দাকোপ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ৫ জন। তারা হলেন- বর্তমান চেয়ারম্যান মুনসুর আলী খান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আবুল হোসেন, সহ-সভাপতি ও লাউডোব ইউপি চেয়ারম্যান শেখ যুবরাজ, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান গৌরপদ বাছাড়, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জি এম কামরুজ্জামান।
দিঘলিয়ায় মনোনয়ন প্রত্যাশী ৪ জন। তারা হলেন- বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক শ্রম সম্পাদক শেখ মারুফুল ইসলাম, সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খান নজরুল ইসলাম, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মল্লিক মহিউদ্দিন ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোল্লা আকরাম হোসেন।
ফুলতলায় মনোনয়ন প্রত্যাশী ৪ জন। তারা হলেন- বিদায়ী চেয়ারম্যান ও ফুলতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আকরাম হোসেন, খানজাহান আলী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আবিদ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান ফারজানা ফেরদাউস নিশা, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বিলকিস আক্তার ধারা।
ডুমুরিয়ায় মনোনয়ন প্রত্যাশী ৮ জন। তারা হলেন- বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য গাজী এজাজ আহমেদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহনেওয়াজ হোসেন জোয়ারদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল খোকন, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সরদার আবু সালেহ, আওয়ামী লীগ নেতা ও গুটুদিয়া ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা সরোয়ার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আলমগীর হোসেন, আটলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান প্রতাপ কুমার রায়, সাবেক উপ-সচিব ইলিয়াস সরদার।
বটিয়াঘাটায় মনোনয়ন প্রত্যাশী ৩ জন। তারা হলেন- বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আশরাফুল আলম খান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ হালদার ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাদীউজ্জামান হাদী।
কয়রায় মনোনয়ন প্রত্যাশী ২ জন। তারা হলেন- বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি এস এম শফিকুল ইসলাম, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জি এম মোহসীন রেজা।
রূপসায় মনোনয়ন প্রত্যাশী ৪ জন। তারা হলেন- বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. কামাল উদ্দিন বাদশা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সরদার আবুল কাসেম ডাবলু, আওয়ামী লীগ নেতা সরদার ফেরদৌস আহম্মেদ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ফারহানা আফরোজ মনা।
তেরখাদায় মনোনয়ন প্রত্যাশী ৯ জন। তারা হলেন- জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বর্তমান চেয়ারম্যান শেখ শহীদুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শরফুদ্দিন বিশ্বাস বাচ্চু, তেরখাদা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও তেরখাদা ইউপি চেয়ারম্যান এফ এম ওয়াহিদুজ্জামান, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হোসনে আরা চম্পা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বাদশা মল্লিক, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান শরাফাত হোসেন মুক্তি, জেলা মৎস্যজীবী লীগের সহ-সভাপতি আবুল হাসান, উপজেলা যুবলীগের সদস্য মো. আলমগীর ফকির, আওয়ামী লীগের আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ সাবু।
পাইকগাছায় মনোনয়ন প্রত্যাশী ৬ জন। তারা হলেন- বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার ইকবাল মন্টু, সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন টিপু, যুগ্ম সম্পাদক আনন্দ মোহন বিশ্বাস, লস্কর ইউপি চেয়ারম্যান কে এম আরিফুজ্জামান তুহিন, সহ-সভাপতি সমীরণ সাধু, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শেখ আবুল কালাম আজাদ।
ফুলতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আকরাম হোসেন বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করে আমি খুলনা-৫ আসনে গত ৭ জানুয়ারির সংসদ সদস্য নির্বাচন করি। নির্বাচনে আমি অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছি। এলাকার লোকজন ও দলীয় নেতাকর্মীরা চাইছে আমি আবার উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করি। নির্বাচনের প্রস্তুতি আমার সবসময়ই আছে।
তেরখাদা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান শরফুদ্দিন বিশ্বাস বাচ্চু বলেন, আমি খুলনা-৪ আসনে সংসদ সদস্য পদে দলীয় মনোনয়ন চেয়ে পাইনি। দলের কাছে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন চাইবো। দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করবো।