Home আঞ্চলিক ভালো দাম পাওয়ায় বেড়েছে সরিষা আবাদ

ভালো দাম পাওয়ায় বেড়েছে সরিষা আবাদ

29

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহে এবার সরিষার আবাদ বাড়ছে। লাভজনক হওয়ায় জেলার কৃষকরা সরিষা আবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। জেলার সব এলাকার মাঠ এখন সরিষা ফুলে ভরে আছে, এ যেন হলুদের সমারোহ। চোখজুড়ানো সরিষা ক্ষেত দেখতে অনেকে বেড়াতে আসছেন, আবার ছবিও তুলছেন।
কৃষকরা জানিয়েছেন, গত বছর সরিষার ভালো দাম পাওয়ায় এবার তারা বেশি চাষ করেছেন। আর কৃষি বিভাগ বলছে, এবার সরিষায় এক প্রকার বিপ্লব হতে চলেছে। প্রাকৃতিক কোনো বিপর্যয় না ঘটলে কৃষকরা প্রত্যাশার চেয়ে অতিরিক্ত ফসল ঘরে তুলতে পারবেন।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, ঝিনাইদহ জেলায় এবার ১২ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু সরিষার আবাদ হয়েছে ১৮ হাজার ৫৭২ হেক্টর জমিতে, এরমধ্যে সদর উপজেলায় ৩ হাজার ৫১০ হেক্টর, কালীগঞ্জে ১ হাজার ৭৭৮, কোটচাঁদপুরে ৪৭৮, মহেশপুরে ৯৬০, শৈলকুপায় ৩ হাজার ৭৩৫ ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় ৩ হাজার ৪৫ হেক্টর। এছাড়া আরো ৩৮ হাজার কৃষককে সরকারের প্রণোদনা দিয়ে ৩৮ হাজার বিঘা, অর্থাৎ ৫ হাজার ৬৬ হেক্টরে সরিষা চাষ করা হয়েছে। এসব জমিতে ২৬ হাজার ৩৭৪ মেট্রিক টন সরিষার ফলন হবে বলে কৃষি বিভাগ আশা করছে। গত মৌসুমে জেলার ১১ হাজার ১১২ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ করা হয়েছিল। এবার গত বছরের চেয়ে ৭ হাজার ৪৬০ হেক্টর বেশি জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে।

সম্প্রতি ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ সরিষা ফুলের হলুদে ছেঁয়ে আছে। একাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, গত বছর সরিষার ভালো দাম পেয়েছিলেন, যে কারণে এবার বেশি চাষ করেছেন। তাছাড়া কৃষি বিভাগ থেকেও এ বছর সরিষা চাষে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।

সদর উপজেলার মুনুড়িয়া গ্রামের কৃষক রেজাউল ইসলাম জানান, অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত সরিষার চাষ করা যায়। এই চাষে সার, কীটনাশক ও সেচ কম লাগায় স্বল্প খরচে অধিক ফসল পাওয়া যায়। আমাদের দেশে সাধারণত বারি-৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৭; বিনা-৪, ৭, ৮, ৯, ১০; টরি-৭; রায়- ৫; দৌলত; কল্যাণীয় ও সোনালী জাতের সরিষার চাষ হয়ে থাকে। এরমধ্যে বারি-৯, বিনা-৪ ও টরি-৭ জাতের চাষ বেশি হয়।

তিনি আরো জানান, ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় মাটির ভিন্ন ভিন্ন গুণাগুণ রয়েছে। সেই মাটির গুণাগুণ বিচার করে কৃষকরা একেক এলাকায় একেক জাত চাষ করে থাকেন।

কালীগঞ্জ উপজেলার ভাটপাড়া মাঠে কথা হয় কৃষক আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে। তিনি জানান, সরিষার বড় শত্রু কাটুই পোকা ও জাব পোকা। এছাড়া আরোবাংকি, কাণ্ড পচা ও পাতা ঝলসানো রোগে সরিষার ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু এ বছর তাদের ক্ষেতে এসবের কোনোটাই দেখা যায়নি। এছাড়া কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা তাদের সব সময় সহযোগিতা করায় ক্ষেত সঠিকভাবে পরিচর্যা করতে পেরেছেন। তারা রোগবালাইমুক্ত সরিষা ঘরে তুলতে পারবেন বলে আশা করছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ঝিনাইদহ কার্যালয়ের উপপরিচালক আজগর আলী জানান, ৩ বছরের মধ্যে জেলার চাহিদার ৪০ শতাংশ তেল জেলাতেই উৎপাদিত হবে, সেই লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজ করে যাচ্ছেন। এরমধ্যে দুই বছর পার করছেন, এতেই চাষ প্রায় দেড় গুণের অধিক করতে সক্ষম হয়েছেন। কৃষি বিভাগের পরামর্শে সময়মতো চাষ করায় এবার কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত ফলন ও ন্যায্যমূল্য পাবেন বলে তিনি আশা করছেন।