তথ্য বিবরনী
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, সমাবেশ, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, সেমিনার, কুইজ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ, ধ্বনি বিস্তার বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সোমবার বাংলাদেশ বেতার খুলনা কেন্দ্রের ৫৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়।
এ উপলক্ষ্যে সকালে বাংলাদেশ বেতার খুলনা কেন্দ্রের সম্মেলনকক্ষে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে বাংলাদেশ বেতার’ বিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মেয়র বলেন, বাংলাদেশ বেতার একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। বাংলাদেশ বেতার খুলনা কেন্দ্র এর প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে শ্রোতাদের চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রেখে শিক্ষা, তথ্য ও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশের দক্ষিণ জনপদের মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্র দেশ ও জাতির ক্রান্তিকালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলো। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ বেতারের অনুষ্ঠানসমূহ তরঙ্গ সম্প্রচারের পাশাপাশি অনলাইন প্রচারেও সর্বোচ্চ পেশাগত মান বজায় রাখা হচ্ছে। বাংলাদেশ বেতারের আধুনিকায়ন ও যুগোপযোগী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ বর্তমান সরকার ইতোমধ্যেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
বাংলাদেশ বেতার খুলনা কেন্দ্রের আঞ্চলিক পরিচালক নিতাই কুমার ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) সরোজ কুমার নাথ, মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার সরদার রকিবুল ইসলাম ও খুলনা বেতারের আঞ্চলিক বার্তা নিয়ন্ত্রক মোঃ নূরুল ইসলাম। সেমিনারে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা বেতারের সহকারী পরিচালক মোঃ আতিকুর রহমান। এতে আলোচক ছিলেন খুলনা বিশ^বিদ্যালয়ের কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. কাজি মাসুদুল আলম, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ মেহেদী হাসান ও খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম নজরুল ইসলাম। মুক্ত আলোচনায় বক্তৃতা করেন খুলনা বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক ট্রেজারার অধ্যাপক সাধন রঞ্জন ঘোষ, অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, রূপান্তরের নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার গুহ, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির, অধ্যাপক মো: সিরাজুল ইসলাম, টিটিসির সহযোগী অধ্যাপক মোঃ মহিবুল্লাহ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন মিন্টু, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এসএম জাহিদ হোসেন প্রমুখ।
মুক্ত সেমিনারে অতিথিরা বলেন, বাংলাদেশ বেতার দেশের সর্বপ্রাচীন ও সর্ববৃহৎ গণমাধ্যম। এ্যাপের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সীমানা পেরিয়ে সারা পৃথিবী থেকে এখন বাংলাদেশ বেতার কেন্দ্র থেকে তাদের অনুষ্ঠান শোনা যাচ্ছে। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের সমস্যা সমাধানে এবং সম্ভাবনার পথ খুলে দেওয়ার জন্য অন্যতম একটি কেন্দ্র হলো বাংলাদেশ বেতার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের আগেই উন্নত দেশে পরিণত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। সেই লক্ষ্যেই সারাদেশের মতো বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে। সরকারের নানাবিধ কর্মসূচির সঠিক তথ্য তুলে ধরে উন্নত দেশের রূপরেখা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ বেতার অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।
সেমিনারে খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার এ এস এম কবীর বেতারের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ শিল্পী-কলাকুশলীরা অংশগ্রহণ করেন। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে সন্ধ্যায় বেতারের শিল্পীরা মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করবে।
এর আগে মেয়রের নেতৃত্বে খুলনা বেতার প্রাঙ্গণ থেকে এক বর্ণাঢ্য র্যালি শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। র্যালিতে বেতারের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিল্পী, কলাকুশলীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ বেতার খুলনা কেন্দ্র ১৯৭০ সালের ৪ ডিসেম্বর নগরীর গল্লামারী এলাকায় যাত্রা শুরু করে।
খুলনা সরকারি মজিদ মোমোরিয়াল সিটি কলেজ আয়োজিত সংবর্ধনা ও নবীন বরণ : খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, নতুন প্রজন্মকে সুশিায় শিতি হয়ে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ এবং তাদেরকে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশে শিা বিস্তাার ও উন্নয়নেরেে ত্র অভূতপূর্ব অগ্রযাত্রার সূচনা করেছেন। তাঁর কর্মপ্রচেষ্টায় বাংলাদেশ আজ সারাবিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রাখতে দেশ প্রেমিক জনগণকে যে কোন ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বেলা ১১টায় সরকারি মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজ প্রাঙ্গণে তাঁকে দেয়া সংবর্ধনা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্য প্রফেসর শেখ মোঃ বদিউজ্জামান। অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক-কে ফুলের তোড়া উপহার ও উত্তরীয় পরিয়ে দেয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সিটি মেয়র তাঁর কলেজ জীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ছাত্র সংগঠনে নেতৃত্বদানের পাশাপাশি শিার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার খুলনাঞ্চলের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ডেন্টাল কলেজ, বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল, খুলনা ক্যান্সার হাসপাতাল-এর মধ্যে অন্যতম। এছাড়া মোংলা বন্দর কেন্দ্রিক অব্যাহত উন্নয়নের ফলে এ অঞ্চলের মানুষের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এ সকল সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। খুলনা মহানগরীর উন্নয়ন কার্যক্রমের বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতায় খুলনার উন্নয়নে সম্ভব সব ধরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। খুলনাবাসীকে দেয়া প্রতিশ্রুতি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে কলেজের সাবেক অধ্য প্রফেসর তন্ময় কুমার সাহা, উপাধ্য সরদার মনিরুল ইসলাম, কলেজের সাবেক ভিপি ফয়েজুল ইসলাম টিটো, ছাত্রনেতা মোঃ হাফিজুর রহমান হাফিজ, মোঃ সজল হোসেন তালুকদার, মোঃ মাহবুব হাসান ইমন, তাহসীন আহমেদ অনু, আয়শা আকতার রাইসা প্রমুখ বক্তৃতা করেন। স্বাগত বক্তৃতা করেন অনুষ্ঠান পরিচালনা কমিটির আহবায়ক এ.বি.এম অহিদুল ইসলাম।
পরে সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক কলেজ ক্যাম্পাসে নিজ নামে নির্মিত একাডেমিক ভবনের নামফলক উম্মোচন করেন।
কলেজের শিক, শিক্ষার্থী ও নগরীর গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।








































