যশোর অফিস।।
যশোরের চৌগাছা উপজেলা রিসোর্স সেন্টার ও নারায়াণপুর ব্রিজ ও সংযোগ সড়ক উন্নয়ন কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। টেন্ডারের নির্দেশনা অনুযায়ী দেয়া হয়নি মালামাল। এমনকি রাস্তার কাজের ইট নিয়ে গেছেন ঠিকাদার। অভিযোগ রয়েছে উপজেলা প্রকৌশল অধিদফতরের কর্মকর্তারাই ঠিকাদার হওয়ায় এ দুরবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য নির্মিত যশোরের চৌগাছা উপজেলা রিসোর্স সেন্টার আধুনিকায়নে চলতি বছর দরপত্র আহ্বান করে উপজেলা প্রকৌশল অধিদফতর। এ প্রকল্পে ভবনের মেঝেতে টাইলস স্থাপন, এসি লাগানো ও প্রধান ফটকের কাজ করার কথা, কিন্তু নির্ধারিত ঠিকাদার এ কাজে ব্যাপক অনিয়ম করেছেন। নিম্নমানের সামগ্রী দেয়ার পাশাপাশি চাহিদামত এসিও লাগাননি। অপরদিকে উপজেলার নারায়াণপুর ব্রিজ ও সংযোগ সড়ক উন্নয়নে কাজেও অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা প্রকৌশল অধিদফতরের কর্মকর্তারাই ঠিকাদার হওয়ায় এ দুরবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া নিম্নমানের সামগ্রী দিয়েই ক্ষান্ত হননি রাস্তার কাজের ইটও নিয়ে চলে গেছেন ঠিকাদার। দুই প্রকল্পের অনিয়ম রোধে প্রয়োজনীয় নেয়ার দাবি তাদের।
এদিকে ঠিকাদার প্রকৌশল অধিদফতরের কর্মকর্তা নাজমুলের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অফিসে গেলে দরজায় তালা লাগিয়ে সটকে পড়েন।
উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘রিসোর্স সেন্টারে তিন প্রকারে কাজ করার কথা। এর মধ্যে টাইলস লাগানো ও প্রধান ফটকের কাজ করার কথা, তার কিছুই করেনি। ৮ টন এসি স্থাপনের কথা, দেয়া হয়েছে ৭ টন এসি। এসি ব্যবহারের জন্য রুমগুলো এয়ার প্রটেক্টও করা হয়নি। ঠিকাদার বিল তুলে নেয়ার জন্য আবেদন করেছে। আমরা চাই আমাদের সব কাজ সঠিকভাবে করা হোক।
এদিকে নারায়াণপুর গ্রামের বাসিন্দা আজমল হোসেন বলেন, ‘কপোতাক্ষের ওপর যে ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে, তাতে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া সংযোগ সড়কটিও নিম্নমানের ইট দিয়ে ম্যাকাডম করা হচ্ছে। এতে করে রাস্তা বেশিদিন টিকবে না।
জাহাঙ্গীর আলম নামে অপর এক বাসিন্দা বলেন, পাথরের ব্লক ব্যবহারের কথা থাকলেও তাতেও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। রাস্তার ইট ঠিকাদার নিয়ে গেছেন। জিজ্ঞেস করলেও কোন কিছু বলতে চান না ঠিকাদারের লোকজন। রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় দেখার কেউ নেই।
আসলাম হোসেন নামে অপর একজন বলেন, ‘বাজারে আমার ডেকোরেটরের দোকান আছে। সব সময় আমি বাজারে থাকি। ফলে এদের ফাঁকির বিষয়টি আমি জানি। রাস্তার দুই ধারে যে ইট রাখা ছিল তা ঠিকাদার ট্রাক ভরে নিয়ে গেছে। খোয়ার নিচে বালু দিতে হবে ৫ ইঞ্চি। মাটি মিশ্রিত বালু দেয়া হয়েছে। খোয়াগুলোর ভ্যানের চাকায় পৃষ্ট হয়ে গুড়ো হয়ে যাচ্ছে।‘
সেলিম মোল্লা নামে অপর একজন বলেন, ‘রাস্তার পাশে ৭০ গাড়ি মতো ইট ছিল। রাস্তার দুইধার বাধার জন্য। রাস্তাটা টেকসই ও বড় হলে আমাদের চলাচলে সুবিধা হতো। কিন্তু ওরা সবকিছু গিলে খেয়ে ফেলেছে।‘
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন বলছে, চাহিদামত কাজ না করে বিল জমা দেয়ায় তা আটকে দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইরুফা সুলতানা বলেন, ‘উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের বিল আমার কাছে আনা হয়েছিল। এরপর কাজ পরিদর্শনে গেলে দেখি শিডিউল অনুযায়ী কাজ করা হয়নি। অথচ শতভাগ বিল দাখিল করা হয়। যে কারণে আমি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে ডেকে পাঠাই। তখন জানতে পারি উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের হিসাবরক্ষক তার স্ত্রীর নামে লাইসেন্স নিয়ে এ কাজটি করেন। তখন আমি বিলটি আটকে দেই। সরকারি কোন কর্মকর্তা এভাবে ঠিকাদারি কাজ করতে পারে না। এজন্য সিডিউল অনুযায়ী কাজ করতে ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রকৌশলীকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নারায়ণপুরে কপোতাক্ষ ব্রিজের ওপর নির্মিত ব্রিজ ও সংযোগ সড়ক নিয়ে অনেক অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা প্রকৌশল অধিদফতরের তথ্য মতে, এ দুটি প্রকল্পে সরকারের ১ কোটি ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে।











































