Home আঞ্চলিক সারা খুলনা অঞ্চলের সব খবরা খবর

সারা খুলনা অঞ্চলের সব খবরা খবর

150
নিজেই ঘানি চালিয়ে আগে ঠিক করে নিচ্ছেন খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার নরনিয়া এলাকার আবদুল গফুর বিশ্বাস।

অভয়নগরে ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের জনসচেতনতামূলক সভা

তামিম আহমেদ মনির।।

যশোরের অভয়নগর উপজেলায় বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি) জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের আয়োজনে রোববার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা পরিষদের সহযোগীতায় উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম আবু নওশাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি শাহ্ ফরিদ জাহাঙ্গীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের (রসায়ন বিভাগ) এর পরিচালক মো. রিয়াজুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) থান্দার কামরুজ্জামান, নওয়াপাড়া সরকারি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ রবিউল হাসান, নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম মল্লিক, সাধারন সম্পাদক মোজাফ্ফার আহমেদ, নওয়াপাড়া সার সিমেন্ট কয়লা ও খাদ্যশস্য সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহ্ জালাল হোসেন, ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক এসএম আশরাফুল আবেদীন আশা, দৈনিক নওয়াপাড়ার নির্বাহী সম্পাদক মফিজুর রহমান দপ্তরী প্রমুখ।

 

 

অভয়নগরে সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্নভাবে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা

তামিম আহমেদ মনির।।

 অভয়নগরে সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্নভাবে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার বিকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে  উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার কেএম আবু নওশাদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ ফরিদ জাহাঙ্গীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নওয়াপাড়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুশান্ত কুমার দাস, নওয়াপাড়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ রবিউল হাসান, অভয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ এবিএম মেহেদী মাসুদ,পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রসেনজিৎ দাস সঞ্জিত,  উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সিনিয়র সহ সভাপতি অধির কুমার পাড়ে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি থান্দার কামরুজ্জামান, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান আক্তারজ্জামান তারু,নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম মল্লিক, দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুনীল কুমার দাস, অভয়নগর থানার ওসি তদন্ত শুভ্র দাস, ইউপি চেয়ারম্যান বিকাশ  রায় কপিল, মফিজ উদ্দিন,  হাফিজুর রহমান, তৈয়বুর রহমান, আবুল কাসেম,  নাসির উদ্দীন। অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নওয়াপাড়া ফায়ার সার্ভিসের সিভিল ডিফেন্স স্টেশন অফিসার মো: আলাউদ্দিন, যশোর পল্লী বিদ্যু সমিতি ২ এর নওয়াপাড়া শাখার  ডিজিএম প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ,  ইউপি চেয়ারম্যান সানা আব্দুল মান্নান।

সুন্দলী  পূজা উদযাবন পরিষদের সভাপতি পুরাঞ্জন বিশ্বাস, প্রেমবাগ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ দাস নান্ট, চলিশিয়া পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ধনঞ্জয় কুমার বিশ্বাস, পায়রা পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে  প্রদীপ কুমার ঘোষ, শ্রীধরপুর পূজা উদযাপন পরিষদের  সহসভাপতি রামকৃষ্ণ মন্ডল, বাঘুটিয়া পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে তাপস কুমার, শুভরাঢ়া পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জগদীশ মন্ডল, সিদ্ধিপাশা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অলোক দত্ত। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি  বিষ্ণু দত্ত।

 

 

 

এদেশের মাটি ও মানুষের অনেক গভীরে প্রথিত আওয়ামীলীগের শেকড়: সুজিত অধিকারী

 

রূপসা প্রতিনিধি

খুলনা জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডঃ সুজিত অধিকারী বলেছেন আওয়ামীলীগ জলের স্রোতে ভেসে আসা কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এদেশের মাটি ও মানুষের অনেক গভীরে প্রথিত আওয়ামীলীগের শেকড়। কয়েকটি সমাবেশ করে সরকারের পতন ঘটানো যাবে না। তিনি বলেন বিএনপি স্বৈরচারী আদর্শ ও সন্ত্রাসের ধারক-বাহক উগ্র-সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক। তারা সবসময় গনতন্ত্রের পথকে ভয় পায়। তাদের রাজনীতি হলো যেকোনো উপায়ে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল। একদিকে তারা লাগাতার মিছিল-মিটিং সমাবেশ করে এবং সরকারের বিরুদ্ধে নির্লজ্জ মিথ্যাচার-অপপ্রচার চালাচ্ছে ও বিষোদগারে লিপ্ত রয়েছে। বিএনপি নেতারা মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও তাদের অন্তর চরম স্বেচ্ছাচারিতা ও মিথ্যাচারে পরিপূর্ণ। তিনি আরও বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই বাংলাদেশ আজ বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সরকার উন্নয়নের সরকার। তাই আওয়ামীলীগ সরকারের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সকলকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনতে হবে।

 

তিনি গতকার ১৫ অক্টোবর বিকালে রূপসা উপজেলার পূর্ব রূপসা ঘাট এবং ব্যাংক চত্বর এলাকায় ২ নং ওয়ার্ডবাসী আয়োজিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন তুলে ধরে গনসংযোগ ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য এ কথা বলেন।

 

বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনা জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ্যাডঃ ফরিদ আহমেদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম লাবু, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মোল্যা মোজাফফর হোসেন, রূপসা উপজেলা আওয়ামীলীগে সাধারন সম্পাদক সরদার আবুল কাশেম ডাবলু।

 

রূপসা উপজেলা শ্রমিকলীগের যুগ্ম আহবায়ক শেখ মোঃ আবু তাহেরের সভাপতিত্বে ও জেলা শ্রমিকলীগ নেতা হায়দার আলীর পরিচালনায় বক্তৃতা করেন

জেলা আওয়ামীলীগ সদস্য অমিয় অধিকারী, রূপসা উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি খান শাহাজাহান কবীর প্যারিস, সাংগঠনিক সম্পাদক এমডি রকিব উদ্দীন, রূপসা উপজেলা আওয়ামীলীগের উপ-প্রচার সম্পাদক সোহেল জুনায়েদ, জেলা যুবলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আজিজুল হল কাজল, আওয়ামী লীগ নেতা ইশারাত হোসেন ইশা, আব্দুর গফফার শেখ, রূপসা উপজেলা শ্রমিকলীগের সদস্য সচিব আশরাফ আলী রাজ, বীর মুক্তিযোদ্ধা জগলুল শিকদার, রূপসা উপজেলা যুবলীগের সদস্য আবু আহাদ হাফিজ বাবু, হানিফ শেখ, রেশমা বেগম, আজগার আলী, ইলিয়াস শেখ, তাপস বিশ্বাস, রূপসা উপজেলা মটর শ্রমিকলীগের আহবায়ক মোঃ ইউসুফ, বাকি বিল্লাহ, নাজির হোসেন মোল্যা, সাইফুল ইসলাম পলু, কামরুজ্জামান পাপলু, লিটন শীল, আঃ সালাম শেখ, সোহেল রানা, রনজিত হালদার, রোমেছা বেগম, জেসমিন বেগম, রোজিনা বেগম, আম্বিয়া বেগম, মাহমুদা বেগম, পিকে দাস, এম এম ইখতিয়ার হোসেন, কামরুল শেখ, মেহেদী হাসান, মঈনুল হাসান মঈন, শহিদুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর হোসেন বাবুল, মিহির শিকদার, হুমায়ূন শেখ, আলামিন শেখ, হাফিজুর রহমান, ডালিম শিকদার, রবিউল শিকদার,  প্রমূখ।

 

রূপসায় মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা আওয়ামীলীগ নেতা বাচ্চুর উদ্যোগে প্রচারণা ও শান্তি মিছিল

রূপসা প্রতিনিধি

খুলনা-৪ আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী খুলনা জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান  আলহাজ্ব মোঃ সরফুদ্দিন বিশ্বাস বাচ্চুর উদ্যোগে সারাদেশে বিএনপি জামায়াতের দেশব্যাপী নৈরাজ্য ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে শান্তি মিছিল ও শেখ হাসিনার উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে রূপসা উপজেলার বিভিন্ন বাজারে প্রচার প্রচারনা করেন। গতকাল  ১৫ অক্টোবর  দিনব্যাপী প্রগ্রাম চলাকালে তার সাথে উপস্থিত ছিলেন খুলনা প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক মল্লিক সুধাংশু, তেরখাদা উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক, ইউপি  চেয়ারম্যান  কেএম আলমগীর হোসেন, মধূপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ মোঃ মহসিন, আজগড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কৃষ্ণ মেনন রায়, সাছিয়াদাহ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ বুলবুল আহম্মেদ, জেলা শ্রমিকলীগ নেতা আলম হাওলাদার, রূপসা উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক এবিএম কামরুজ্জামান, রূপসা উপজেলা শ্রমিকলীগের যুগ্ম আহবায়ক শেখ মো: আবু তাহের, আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ আরিফ হোসেন, ইকবাল মাসুদ, খুলনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পারভেজ হাওলাদার, আওয়ামীলীগ নেতা শহিদ বিশ্বাস, শিকদার আকতার হোসেন, শিকদার মিলন, নজরুল, যুবলীগ নেতা কামরুল গাতীদার, জিয়ার মোল্যা, গিয়াস শেখ, আজিজুর শেখ, নাইমুল ইসলাম কল্লোল, ক্ষিতিস বিশ্বাস, বিএম ছবির উদ্দীন, রিংকু বালা, রবিউল শেখ, মনির শেখ, বাবুল মিনা, মোস্তাফিজুর রহমান আব্বাস,লুৎফর ফকির,রাকিব উদ্দীন বিশ্বাস, অপূর্ব বিশ্বাস, অপূর্ব ঘরামী, রূপসা উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক আশিকুজ্জামান তানভির, জেলা ছাত্রলীগ নেতা ফরহাদ হোসেন, রূপসা উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক আবির হোসেন হৃদয়, রূপম দাস, ছাত্রলীগ নেতা আজমাইন ইনকিয়াদ, রকিবুল হাসান রকি, নাঈম শেখ, মিঠুন মন্ডল, তারেক হাসান, মৃদুল সরদার, লিমন শেখ, হোসেন শেখ প্রমূখ।

 

 

পাইকগাছায় লতা ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্বভার গ্রহণ

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:

 খুলনার পাইকগাছার লতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল কান্তি বিশ্বাসের সাময়িক বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার হয়েছে। গত ১১ অক্টবর সিনিয়র সচিব জেসমীন প্রধানের স্বাক্ষরে কাজল কান্তি বিশ্বাসকে সাময়িক বহিস্কার আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। রোববার সকালে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পুলুকেশ রায়ের নিকট থেকে দ্বায়ীত্ব ভার গ্রহন করেন চেয়ারম্যান কাজল কান্তি বিশ্বাস। 

২০ জুন সিনিয়র সচিব জেসমীন প্রধানের স্বাক্ষরে কাজল কান্তি বিশ্বাসকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল।

২৩ সেপ্টেম্বর খুলনা জেলা প্রশাসক পাইকগাছার লতা ইউপি চেয়ারম্যান কাজল কান্তি বিশ্বাসের ব্যক্তিগত আপত্তিকর ভিডিও কলের ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অজ্ঞাত কোন ব্যক্তি বা যন্ত্র হতে ছড়িয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে কোথাও কোন অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তাই তিনি প্রচলিত আইন অনুসারে ইচ্ছাকৃত কোন ফৌজদারী অপরাধ করেননি বলে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মতামত দিয়েছেন। তার মতামত অনুযায়ী স্থানীয় সরকার বিভাগ হতে ১১ অক্টবর জারিকৃত সাময়িক বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার করে নেয়।

 

 

লস্কর আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত

পাইকগাছা প্রতিনিধি।।

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের কেন্দ্র কমিটি নির্দেশনায় লস্কর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার বিকালে লস্কর ইউনিয়ন বিনাপানি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে লস্কর উইনিয়ন আওয়ামী লীগেরআহবায়ক বিভূতিভূষণ সানার সভাপতি বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথী ছিলেন পাইকগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ সভাপতি আনোয়ার ইকবাল মন্টু,  বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ কামরুল হাসান টিপু, কৃষক লীগের সদস্য সচিব অধ্যাপক ময়নুল ইসলাম,  লস্কর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান কে এম আরিফুজ্জামান তুহিন, শিক্ষক মুরারী মোহন সরকার, বক্তব্য রাখেন,  নিতাই পদ মিস্ত্রি, লেওকত আলী সরদার, আবু তাহের গাজী, শিবু প্রসাদ মিস্ত্রি, আজিজুর গাজী, এস এম বাকিবিল্লাহ, এস আহসান হাবিব, মোঃহাসানুজ্জাম, জুনায়েদ গাজী, কালিপদ সরকার, গৌবিন্দ ঢালী, পরামন্দ সানা, রফিকুল ইসলাম,  আমির হোসেন, শরিফা কালিপদ মন্ডল, তাপস কুমার সানা।

 

 

মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জমিতে গায়ের জোরে ঘর তুলেছে স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি

নওয়াব আলী মাগুরাঃ

মাগুরাতে ১৪৪ ধারা উপেক্ষাকরে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জমিতে গায়ের জোরে ঘর তুলেছে স্থানীয় কতিপয় ব্যাক্তি। নিরসনে কতৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

মামলা সুত্রে জানা যায় মাগুরা সদরের বড়খড়ী গ্রামের আদিল উদ্দিন মোল্লার পুত্র মোঃ মজিদ মোল্লা বাদী হয়ে বড়খড়ী মৌজার আরএস ১১৯ নং খতিয়ানের ১২৯২ দাগে ৬৪ শতাংশ জমির উপর

বিবাদী পাশের গ্রাম ছয়চার এর আছালত মোল্লা,আনোয়ার মোল্লা,উজ্জ্বল মোল্লা,হারুন মোল্লা,খোকন মোল্লা,মোহাম্মাদ মোল্লা ও নুর ইসলাম মোল্লা এর নামে ১৪৪/১৪৫ ধারায় মাগুরা বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেন। মামলা নং মাগুরা সদর পি/১৯৩/২০২৩।এ মামলায় বিবাদী পক্ষ হেরে যায়।রায় প্রদান করেন অতিঃ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস।তারিখ ২০৫/২০২৩ ইং।

পরে বিবাদী পক্ষ আদালতের রায় অমান্য করে নালিশী জমিতে একটি পাটকাঠি-পলেথিনের ছাপড়া ঘর তৈরী করে।

এ ব্যপারে ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের আব্দুল মজিদ মোল্লা বলেন আমি ২১-২৩ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলাম এ সুযোগে মামলায় হেরে বিবাদীগণ নালিশী জমিতে ঐ ছাপড়া ঘরটি তুলেছে।আমি কতৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছি অপরাধীদের বিচার ও আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে আমার ভূমি পুনরুদ্ধার করে দিতে।

 

 

খুলনায় ইউ রির্পোটিং মোবাইল অ্যাপলিকেশন বিষয়ে কর্মশালা

খবর বিজ্ঞপ্তি

‘ইউ রির্পোটিং ওরিয়েন্টেশন এ্যান্ড ফিল্ড টেস্টিং অফ বাংলা অফলাইন মোবাইল অ্যাপলিকেশন’ বিষয়ে কর্মশালা রবিবার সকালে খুলনা সিএসএস আভা সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোঃ ফিরোজ শাহ।

 

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ১৮ বছর থেকে নিজেকে যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলার সময়। এসময়ে শিক্ষার্থীরা যাতে খারাপ পথে না যায় সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। সকলেই ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে তা নয়, যার যার যোগ্যতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা যায়। শিক্ষার্থীদের ওপর জোর করে কোন কিছু চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা যায়। তিনি বলেন, মোবাইল ব্যবহারে ভালো-মন্দো দুটোই রয়েছে। ভালো দিকগুলো গ্রহণ করতে হবে শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থীর শরীর গঠনের জন্য অন্যতম মাধ্যম হলো খেলাধুলা। বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তথ্যপ্রযুক্তিই একমাত্র হাতিয়ার হতে পারে। বাংলাদেশে কিশোর-কিশোরীদের সংখ্যা প্রায় চার কোটি। কিন্তু তাদের সঠিকভাবে বেড়ে ওঠা ও বিকাশের জন্য অপরিহার্য স্বাস্থ্যসেবা ও তথ্যপ্রাপ্তি।

খুলনা জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক গাজী জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে ওরিয়েন্টেশন কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন খুলনা ইউনিসেফের চীফ মো: কাওছার হোসেন এবং খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের সিনিয়র তথ্য অফিসার মোঃ মেহেদী হাসান। মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউনিসেফের প্রতিনিধি শিহাব উদ্দিন সানি। ইউনিসেফের সহযোগিতায় খুলনা জেলা তথ্য অফিস এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

 

অনুষ্ঠানে সাতক্ষীরা, বাগেরহাট জেলা, খুলনা সিটি কর্পোরেশন এলাকা ও জেলার বিভিন্ন উপজেলার স্কুলের ১১৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন।

 

খুলনা মহানগর আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের পক্ষ থেকে মেয়র মহোদয়কে ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদান

খবর বিজ্ঞপ্তি

বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র হিসাবে তৃতীয় বারের মতো দায়িত্ব গ্রহণ করায় সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জি: শেখ আব্দুল জব্বার ও সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. ইব্রাহিম খলিল ইমনের নেতৃত্বে আজ দুপুরে খুলনা মহানগর আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের  পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।     এ সময় সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দ মিজানুর ইসলাম আল জামিল, আবুল কালাম মোল্লা, উপাধ্যক্ষ জনাব নজরুল ইসলাম, ইঞ্জি: শাকিল আহসান, ইঞ্জি: লিংকন পাল, কারী মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম,  মোঃ রবিউল ইসলাম, মোহাম্মদ অহিদুর রহমান ওহিদ, আব্দুল অহিদ চৌধুরী, সকিব খান জিম  সহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

 

পোল্টি ফিস ফিড শিল্প মালিক সমিতির সভাপতির মায়ের মৃত্যুতে বৃহত্তর আমরা খুলনাবাসীর শোক

খবর বিজ্ঞপ্তি

খুলনা পোল্টি ফিস ফিড শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি, ওলামায়ে কেরাম খুলনার আহব্বায়ক এবং রূপসা বায়তুশ শরফ জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা ইব্রাহিম ফয়জুল্লার আম্মা খাদিজা বেগম এর মৃত্যুতে গভীর শোক, শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা এবং মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা জানিয়েছেন বৃহত্তর আমরা খুলনাবাসীর নেতৃবৃন্দ।  

নেতৃবৃন্দরা হলেন ডা. মো. নাসির উদ্দিন, মাজেদা খাতুন, ডা. সৈয়দ মোসাদ্দেক হোসেন বাবলু, ডা. আ. সালাম, জি এম মহিউদ্দিন, এড. কাজি আমিনুল ইসলাম মিঠু, মো. কামরুল ইসলাম কামু, নিয়াজ আহমেদ তুহিন, মুন্সি আহমেদ হোসেন, সাধারন সম্পাদক এস এম মাহাবুবুর রহমান খোকন, শেখ মোহাম্মাদ আলি, এম এ জলিল,  মো. কামরুল ইসলাম ভুট্রো, নাজমুল তারেক তুষার, কাওসারি জাহান মঞ্জু, সাংগাঠনিক সম্পাদক মো. শাকিল আহমেদ রাজা, আ. রাজ্জাক, কারি শরীফ মিজানুর রহমান, কবিতা আহমেদ, শেখ শহিদুল ইসলাম, মো. আরিফ আহমেদ, মো. জিসান রহমান, তাহেরুল আলম, মো. শফিকুল ইসলাম অভি, রেজাউল ইসলাম রাজা, আশরাফুল ইসলাম, শেখ রফিকুল ইসলাম রফিক, শিক্ষক আ. মান্নান, রোকনুজ্জামান বাবলু, আ. মান্নান,  মো. জয়নাল আবেদিন, মো. আ. হালিম মোড়ল, মো. জাভেদ আক্তার, মো. আলাউদ্দিন, মো. মিকাইল হোসেন, তৈয়বুর রহমান, মো. আবু বক্কার, মো. আজমল হোসেন প্রমুখ।

 

খানজাহান আলী থানা ইমাম পরিষদের উদ্যোগে ফুলবাড়ীগেটে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা

ফুলবাড়ীগেট প্রতিনিধি

ফিলিস্তিনে অবৈধ ইসরাইলের আগ্রাসন ও নির্বিচারে হামলা চালিয়ে গণহত্যা চালানোর প্রতিবাদে ফুলবাড়ীগেটে বিক্ষোভ মিছিল ও বিশাল প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত  হয়েছে। গতকাল রবিবার আছরবাদ খানজাহান আলী থানা ইমাম পরিষদের উদ্যোগে এ বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। থানা এলাকার বিভিন্ন পাড়া মহল্লা থেকে খন্ডখন্ড মিছিল সহকারে তৌহিদী জনতা ফুলবাড়ীগেট বাসস্টান্ডে এসে একত্রিত  হয়। পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। বিক্ষোভ মিছিলটি খুলনা যশোর মহাসড়কের ফুলবাড়ীগেট, মাইলপোস্ট, মানিকতলা হয়ে ফুলবাড়ীগেট বাসস্টান্ডে এসে দোয়া মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়। দোয়া পরিচালনা করেন সাইফূল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি মানছুরর রহমান।  বিক্ষোভ মিছিল পূর্ববর্তি প্রতিবাদ সভা ফুলবাড়ীগেট বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি হাফিজুর রহমান হাফিজীর সভাপতিত্বে এবং জামিয়া কারিমিয়া ফুলবাড়ীগেট মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সভায় বক্তৃতা করেন মুফতি হুমাউন কবির বাচ্চু, মাও. আব্দুল আজিজ, আ. জব্বার আজিমী, মাওলানা মাসুম বিল্লাহ, মাও. ফরিদ আহমেদ, মুফতি আব্দুল্লাহ, কেসিসি ২নং ওয়ার্ডের সদ্য বিদায়ী কাউন্সিলর মো. সাইফূল ইসলাম, খানজাহান আলী থানা আ’লীগ নেতা সুরুজ্জামান হানিফ, মো. শাকিল আহমেদ, এফ এম জাহিদ হাসান জাকির, বিএনপি নেতা এনামুল হাসান ডায়মন্ড, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন ইমন, মাও. ওয়ালিউল্লাহ, মাও. মনিরুল ইসলাম, মাও. জাহিদুল ইসলাম, মাও আকবার আলীসহ বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, মুসল্লি, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন শ্রেনী পেশার হাজার হাজার তৌহিদি জনতা কালেমা খচিত পতাকা এবং প্লাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে অংশগ্রহণ করে। বিক্ষোভ মিছিলের আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নেতৃবৃন্দ  বিশ^জুড়ে ইসরাইলি হামলার বিরুদ্ধে এবং ফিলিস্তিনিদের পক্ষে বিক্ষোভ এবং প্রতিবাদ জানালেও ইসরাইল তাদের বরবরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এই অবস্তায় ইসলামী দেশসহ বিশ^ নেতাদেরকে ফিলিস্তিনির পাশে দাড়ানোর আহবান জানান । প্রতিবাদ সভায় নেতৃবৃন্দ ইসরাইলের সকল পণ্য বর্জনের মধ্যে দিয়ে তাদেরকে অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল করার জন্য সকলকে আহবান জানান।  ইসরাইলের অবৈধ আগ্রাসন এবং গণহত্যা বন্ধে দলমত শ্রেনী পেশা নিবিশেষে সর্বস্থরের হাজার হাজার তৌহিদী জনতার উপস্থিতিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা সমাবেশে রুপ নেয়।

আগামী ২০ অক্টোবর শুক্রবার আছরবাদ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের উদ্যোগে ফিলিস্তিনে অবৈধ ইসরাইলের আগ্রাসন ও নির্বিচারে হামলা চালিয়ে গণহত্যা চালানোর প্রতিবাদে ফুলবাড়ীগেটে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

 

মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর স্মরণসভা

খবর বিজ্ঞপ্তি

ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিÑন্যাপ ভাসানী খুলনা মহানগর কমিটির উদ্যোগে ১৫ অক্টোবর ’২৩ রবিবার সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাসুম মৃধা’র নিজ বাসভবনে বিকেল ৪টায় মওলানা আব্দুল খান ভাসানীর এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। মহানগর ন্যাপ নেতা শেখ রিজওয়ান রিজু’র সভাপতিত্বে স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিÑন্যাপ ভাসানী’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও খুলনা মহানগর সভাপতি শেখ ইকবাল আহমেদ, উপদেষ্টা শেখ ফজলুল রহমান, ১৪নং ওয়ার্ড সভাপতি মোঃ শেখ মকবুল হোসেন, সহ-সভাপতি ডাঃ মোঃ নূর ইসলাম তালুকদার, প্রচার সম্পাদক আব্দুল আজিজ হাওলাদার, ১৬নং ওয়ার্ড সভাপতি শেখ মোঃ মনিরুল ইসলাম মনি, সহ-সভাপতি শেখ মোঃ তৌহিদ হোসেন, মোঃ আব্দুল হালিম খাঁ, ২০নং ওয়ার্ড সভাপতি মোঃ ফরিদ খান, সহ-সভাপতি সাজিদ হোসেন মাল্লান, সাধারণ সম্পাদক মোঃ জুম্মান, ২৪নং ওয়ার্ড সভাপতি মোঃ আজিম হাওলাদার, ২৫নং ওয়ার্ড সভাপতি মোঃ শফি মল্লিক প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। সভায় বক্তারা বলেন, মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল খান ভাসানী অবিসংবাদ প্রবাদ পুরুষ ছিলেন। তিনি ১৯২৯ সালে আসামের ভাষাণচড়ে কৃষক সম্মেলনের মাধ্যমে ভাসানী উপাধিতে ভূষিত হন। ১৯৩০ সালে আসাম প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সভাপতি হন এবং ১৯৪০ সালে এ কে ফজলুল হকের সাথে লাহোর সম্মেলনে যোগদান করেন। পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ও ১৯৫৭ সালে কাগমারি সম্মেলনের মাধ্যমে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার বার্তা দিয়েছিলেন। ঐ বছরই ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন। ৫২’র ভাষা আন্দোলনে তিনি সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের কর্মপরিষদের সভাপতি এবং ৬৯-এর আন্দোলনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। ১৯৭৬ সালে ভারতের ফরাক্কা বাঁধ নির্মাণের বিরুদ্ধে লংমার্চ করেন। দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে সৃষ্ট পাকিস্তানে অসাম্প্রদায়িকতার পতাকা ওড়ান। দরিদ্র মানুষের মুক্তির জন্য তিনি আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি ছিলেন দূরদর্শী নেতা তাই বুঝেছিলেন পাকিস্তানের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ একটি অচল রাষ্ট্র কাঠামো। সর্বপ্রথম তিনিই ’৫২ সালে পূর্ব পাকিস্তানের বিচ্ছিন্নতার ঐতিহাসিক ঘণ্টা বাজান। তিনি এমন একজন নেতা যাঁকে নিয়ে বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করা হয়। মূলত কৃষক-শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে এবং জাতির দুঃসময়ের উত্তোরণে তিনি ছিলেন এক প্রদীপ্ত আলোকবর্তিকা। তিনি চিরস্মরণীয় অমর হয়ে থাকবেন।          

 

 

জনউদ্যোগের সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা

সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে

খবর বিজ্ঞপ্তি

সরকারের নানামুখী উদ্যোগ সত্ত্বেও ডাক্তার-নার্স অপর্যাপ্ততা, দক্ষ টেকনিশিয়ান ও পরীক্ষাগারের সংখ্যার অভাব, উপকরণের অপ্রাপ্যতা, চিকিৎসাসেবায় মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবে স্বাস্থ্যসেবায় মানুষের আস্থাহীনতা বাড়ছে। ফলে দেশে ধনী-দরিদ্র ও লিঙ্গবৈষম্য বাড়ছে। করোনা মহামারি ও ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবে এই বৈষম্য আরো প্রকট হয়ে উঠেছে। সমগ্র চিকিৎসাব্যবস্থায় কর্মীবাহিনীর দক্ষতা, আচরণগত সমস্যা, রোগীর প্রতি মমত্ববোধের অভাব, কমিশন বাণিজ্য, ওষুধের মান ও মূল্য, রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষার মান ও খরচ এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা (সরকারি ও বেসরকারি) নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের বাস্তবসম্মত সমাধানের উদ্যোগ নেই। খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ক্যানসার চিকিৎসার জন্য ‘লিনিয়ার এক্সিলেটর’ নামের মেশিনটি চালুসহ ক্যানসার চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল চালু করতে হবে। নগরীতে শতাধিক ক্লিনিক ও ডায়গনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স নবায়ন হয়নি। এই অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়গনস্টিক সেন্টার বন্ধ করতে হবে। এভাবে বললেন জনউদ্যোগ,খুলনার সংবাদ সম্মেলন ও মতবিনিময় সভায় বক্তারা।

রোববার বিকাল ৪টায় কনসেন্স মিলনায়তনে জনউদ্যোগ,খুলনার উদ্যোগে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আফম মহসিন। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জনউদ্যোগের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব তরিক হোসাইন। সভা পরিচালনা করেন জনউদ্যোগ,খুলনার সদস্য সচিব সাংবাদিক মহেন্দ্রনাথ সেন। সভায় বক্তৃতা করেন বীরমুক্তিযোদ্ধা মোড়ল নূর মোহামদ, ওয়ার্কার্স পার্টির মহানগর কমিটির সভাপতি শেখ মফিদুল ইসলাম, জনউদ্যোগ নারী সেলের আহবায়ক এ্যাড: শামীমা সুলতানা শীলু, বাংলাদেশ মানবাধিকার সংস্থার সমন্বয়কারী এ্যাড: মোমিনুল ইসলাম, শাহনাওয়াজ আলী, সিপিবির মহানগর কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান বাবু,বাসদের জনার্দন দত্ত নান্টু, সমাজসেবক মাছুদ মাহামুদ,পোল্ট্রি ফিস ফিড শিল্প মালিক সমিতির মহাসচিব এস এম সোহরাব হোসেন, নারীনেত্রী সিলভী হারুণ, কনসেন্সের নির্বাহী পরিচালক সেলিম বুলবুল, পরিবর্তনের নির্বাহী পরিচালক নাজমুল আজম ডেভিড,ডা: সৈয়দ মোসাদ্দেক হোসেন বাবলু,বৃহত্তর আমরা খুলনাবাসীর সভাপতি ডা: নাসির উদ্দীন, নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব এ্যাড: বাবুল হাওরাদার,কবি রুহুল আমীন সিদ্দিকি, আমরা বৃহত্তর খুলনাবাসীর সাধারণ সম্পাদক সরদার আবু তাহের, শিক্ষক মানস রায়, সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা সৈয়দ লুৎফুল হক মিঠু, সৈয়দ আলী হাকিম, আইনুল হক, জয় বৈদ্য,দীপ কুমার বৈদ্য,প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, উপজেলা, জেলা, এমনকি মেডিক্যাল কলেজ পর্যায়ে প্রচুর চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর পদ শূন্য থাকায় স্বল্প জনবল নিয়েই অনেক প্রতিষ্ঠানকে সেবা ও শিক্ষা দিতে হচ্ছে। অনেক সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে। আবার কোনো কোনো জায়গায় জনবল না থাকায় দামি যন্ত্রপাতি অবহেলায় পড়ে আছে। এমনকি প্রয়োজনীয় অর্থসংকটের এবং অনেক ক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনার কারণে ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্রপাতি সময়মতো মেরামত না হওয়ায় রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষকে বেসরকারি হাসপাতালের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে।

লিখিত বক্তব্যে বলেন, অন্যদিকে, ঔষধ শিল্পে মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য বেড়ে চলেছে। সবার জন্য স্বল্পমূল্যে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারায় অনেকে রোগে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে চলে যাচ্ছে। দেশে দক্ষ টেকনিশিয়ানের অভাব, পরীক্ষাগারের সংখ্যা বৃদ্ধি ও উপকরণের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয় এবং স্বাস্থ্য খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা শক্তিশালী করতে হবে। সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে মনোসামাজিক স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা গবেষণা ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ এবং সবার জন্য চিকিৎসাপণ্য নিশ্চিত করতে হবে।

 

 

ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়ে আঞ্জুমান-এ-পাঞ্জাতানীর উদ্যোগে মানববন্ধন

খবর বিজ্ঞপ্তি

ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান আগ্রাসনের বিরুদ্ধে হামাসের প্রতিরোধ যুদ্ধের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে মানববন্ধন করেছে নগরীর আলতাপোল লেনন্থ আঞ্জুমান-এ-পাঞ্জাতানী। গতকাল রবিবার খুলনা মহানগরীর পিকচারপ্যালেস মোড়ে ‘ ডঊ ঊঢচজঊঝঝ টঞগঙঝঞ ঝঙখওউঅজওঞণ ডওঞঐ ঞঐঊ চঅখঊঝঞওঘওঅঘঝ ঋঙজ ঞঐঊওজ গঙঠঊগঊঘঞ ঋঙজ ঋজঊঊউঙগ’ লেখা ব্যানার নিয়ে এ মানববন্ধন করা হয়।

এ সময় বক্তারা বলেন ‘ফিলিস্তিনি ভাইদের বলতে চাই, আমরা দূর থেকে হয়তো কিছু করতে পারব না। তবে মানববন্ধনের মাধ্যমে জানাতে চাই, আমরা বাংলাদেশের জনগণ সব সময় আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি ও থাকব।’

বক্তারা ওআইসিভুক্ত দেশসহ পৃথিবীর শান্তিকামী মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা নিরীহ ফিলিস্তিনদের পাশে দাঁড়ান।’

মানববন্ধনে বক্তব্য এ্যাড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, মোঃ আবু জাফর মন্ডল, সৈয়দ মইনুদ্দিন কিসলু, হুজ্জাতুল ইসলাম ড. আব্দুল কাইয়ুম, হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ ইব্রাহীম খলিল রাজাভী ও এ্যাড. ড. জাকির হোসেন প্রমুখ।

এ সময় বক্তারা মুসলমানদের প্রথম কেবলা আল আকসা মসজিদ রক্ষার দাবি জানান এবং ফিলিস্তিনের মানুষের প্রতি ইসরায়েলের অবৈধ দখলদারিত্ব, নির্মম নির্যাতন এবং গণহত্যার প্রতিবাদ জানায়। পাশাপাশি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে বিশ্ব মুসলিমকে এক হওয়ার আহবান জানান।

ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ্য সৈয়দ ইব্রাহিম খলিল রাজাভী বলেন, সারা বিশ্বের মুসলিমরা ইসরায়েলের এই নির্যাতন অবশ্যই প্রতিহত করবে। প্রতিটি শান্তিকামী মানুষ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এবং ফিলিস্তিনের পক্ষে আছে এবং থাকবে। পৃথিবীর সবচেয়ে তথাকথিক পরাশক্তি আমেরিকা অবশ্যই তাদের লেজ গুটিয়ে নিবে এবং তা তারা পৃথিবীর দেশে দেশে তাদের খবরদারি বন্ধ করবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত ফিলিস্তিনের জনগণের পক্ষে ছিল, আছে এবং থাকবে।

এ সময় তারা ইসরায়েল বিরোধী ও ফিলিস্তিনের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পাশাপাশি তারা ফিলিস্তিনের পতাকা  উড়ান। এ সময় তাদের ‘বিশ্ব মুসলিম ঐক্য গড়, ফিলিস্তিন মুক্ত করো’, ‘বয়কট ইসরায়ের’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

মানববন্ধন কর্মসূচি পরিচালনা করেন আঞ্জুমান-এ-পাঞ্জাতানীর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইকবাল।

 

হাটে-বাজারে শেখ হাসিনার উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন — এমপি চঞ্চল

মহেশপুর(ঝিনাইদহ)প্রতিনিধি:

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতিকে ভোট দিয়ে আওয়ামীলীগ সরকারকে আবারও ক্ষমতায় আনতে হাটে-বাজারে শেখ হাসিনার উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দিয়ে গনসংযোগ করছেন ঝিনাইদহ-৩ (মহেশপুর-কোটচাঁদপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও মনোয়নয় প্রত্যাশী আলহাজ¦ শফিকুল আজম খান চঞ্চল।

তিনি বলেন আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসলে দেশের উন্নয়ন হয়। আপনারা অতীতের মতো আগামী নির্বাচনেও নৌকায় ভোট দিয়ে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০৪১ সালে একটি উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ দেখতে পাবেন।

গতকাল রোববার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত মহেশপুরের পান্তপাড়া বাজারে ও কোটচাঁদপুরের সাবদালপুর বাজারে গনসংযোগকালে তিনি প্রতিটা দোকানে দোকানে গিয়ে শেখ হাসিনার উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দিয়ে নৌকা প্রতিকে ভোট চেয়ে গনসংযোগ করেন।

এ সময় তার সাথে ছিলেন কোটচাঁদপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাজান আলী,পান্তাপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল জলিল, সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর মিয়া,উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি আব্বাস উদ্দীনসহ পান্তাপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতৃ বৃন্দ।

 

 

অভয়নগরে মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত  হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার-

যশোরের অভয়নগর নওয়াপাড়া শংকরপাশা সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাথমিক বিভাগে মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত  হয়েছে। গতকাল রবিবার (১৫অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ের ক্লাস রুমে এই সমাবেশ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পীরজাদা শাহ্ ফরিদ জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখেন, উপজেলা নির্বাহী কমকর্তা  কে. এম. আবু নওশাদ। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রসান্ত কুমার বিশ্বাস। এসময় অন্যান্যেদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হামিদ, অভিভাবক সৈয়দ রিপন, নাজমুল নাহার মুক্তা, সুরাইয়া আক্তার শিমুু, মাহাফুুজা আক্তার প্রিয়া। অনুষ্ঠানের আরো উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী ও অভিভাবকগণ। মা সমাবেশ শেষে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মিসেস আরঞ্জুমন্দ বানু রুবীকে বিদায়ী সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। তিনি ৩৭ বছর সুনামের সাথে এই বিদ্যাপীঠে শিক্ষকতা করেছেন।

 

 

ফকিরহাটে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উপলক্ষে র‌্যালী ও আলোচনা

ফকিরহাট প্রতিনিধি।

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলা প্রশাসন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও বেতাগা ইউনিয়ন পরিষদের যৌথ আয়োজনে বিশ^ হাত ধোয়া দিবস-২০২৩ উপলক্ষে বর্নাঢ্য র‌্যালী, হাত ধোয়া প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা রবিবার (১৫ অক্টোবর)  সকাল সাড়ে ১০টায় বেতাগা ইউনিয়ন পরিষদ চত্তরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি স্বপন দাশ। বেতাগা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ইউনুস আলী শেখ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো: হাসিবুর রহমান ও শেখ হেলাল উদ্দীন সরকারী কলেজ অধ্যক্ষ বটু গোপাল দাস। সহকারী শিক্ষক মোঃ নাজমুল হুদা’র সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তৃতা করেন, প্রধান শিক্ষক বিধান কুমার দাশ, শিক্ষিকা নীলুফার ইয়াসমিন, শিক্ষার্থী বর্নালী বিশ্বাস ও শেখ শাহেদ আহসান প্রমুখ। এর আগে শিক্ষাক/শিক্ষার্থী জনপ্রতিনিধি ও সুশিল সমাজের নেতৃবৃন্দদের সমন্বয়ে একটি বিশাল বর্নাঢ্য র‌্যালী এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদিক্ষন ও হাত ধোয়া প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

 

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের কর্মবিরতিতে বন্ধ ক্লাস-পরীক্ষা, নতুন পদেক্ষপ গ্রহণ

খবর বিজ্ঞপ্তি

গত ০৮ অক্টোবর ২০২৩ তারিখ থেকে কর্মবিরতিতে আছেন খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ। গত সোমবার (০৯ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৩জন শিক্ষকের নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতার দ্রুত সমাধানের দাবীতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষক সমিতি। অবিলম্বে ৭৩ জন শিক্ষকের নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৯ জন শিক্ষকের প্রমোশন নিশ্চিত করা ও তাদের অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার জন্য শিক্ষকবৃন্দরা গত ০৭ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে শিক্ষকদের মানববন্ধন থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ঘোষনা দেন। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত স্থগিত আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস ও পরীক্ষা। এছাড়া ১৫ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভায় ১৬ অক্টোবর ২০২৩ তারিখ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাসের ডিন ও বিভাগীয় অফিসের কাজ বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন। গত ৩ আগষ্ট ২০২২ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৩ জন শিক্ষকের নিয়োগ বাতিলের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় যা পরে একটি বিশেষ কমিটির মাধ্যমে পূণর্মূল্যায়ন করা হয়। শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. মো. আশিকুল আলম বলেন, ‘পূণর্মূল্যায়ন কমিটি ৭৩ জনের ফাইল ও নিয়োগের বৈধতা যাচাই করেছে। দুই মাস ধরে প্রতিবেদনটি মন্ত্রণালয়ে পড়ে আছে। যার ফলে আমরা প্রতিনিয়ত সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছি এবং হতাশায় ভুগতেছি। অবিলম্বে শিক্ষকদের এই সমস্যা নিরসনের জন্য আকুল আবেদন জানাচ্ছি।’

এদিকে এই সমস্যার প্রেক্ষিতে দীর্ঘ ১১ মাস স্থগিত আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৯ জন প্রভাষকের পর্যায়োন্নয়ন। খুকৃবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান জানান, ‘আসলে কয়েকজন ব্যক্তি এই জটিলতা সৃষ্টির জন্য দায়ী। আমাদের ৩৯ জন শিক্ষকের পদোন্নয়ন হচ্ছে না এই জটিলতার জন্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন থেকে শুরু করে মন্ত্রণালয়ের কর্তাব্যক্তিরা আমাদের এই সমস্যাটাকে খুব একটা আমলে নিচ্ছেন না’।  শিক্ষকগণ জানান, তারা শিক্ষা কার্যক্রমে বিঘ্ন করতে চান না এবং এই জন্যই তারা নানা সমস্যার মধ্যেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস বা পরীক্ষা চলমান রেখে চলেছেন। কিন্তু তারা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সমস্যা নিরসনের জন্য কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ লক্ষ্য করছে না, যা শিক্ষকদের মধ্যে চরম হতাশা সৃষ্টি করেছে। তাই অবিলম্বে এর সমাধান ও শিক্ষকদের পর্যায়োন্নয়ন না দিলে তারা ক্লাসে ফিরবেন না। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক একযোগে কর্মবিরতিতে যাওয়ায় স্থবির হয়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। এই পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে সেশনজট হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

 

 

ইন্দুরকানীতে ইব্রাহীম হত্যা মামলায় গ্রেফতার-৫

ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) সংবদদাতা ঃ

পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে ইব্রাহীম সরদার হত্যা মামলায় ০৫ জনকে গ্রেফতার করছে থানা পুলিশ। শনিবার রাতে ইব্রাহীম সরদারের ছেলে আল-আমিন সরদার বাদি হয়ে ইন্দুরকানী থানায় দুলাল, বাবুলসহ ৫ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। উপজেলা ঢেপসাবুনিয়া গ্রামের ইসমাইল সরদারের ছেলে ইব্রাহীম সরদার (৬০) বিরোধীয় জমিতে শনিবার সুপারী পাড়তে বাধা দিলে তার চাচা আজাহার আলী সরদারের ছেলে দুলাল সরদার ও বাবুল সরদার বল্লম দিয়ে আঘাত করলে গুরুতর জখম অবস্থায় গতকাল সন্ধ্যায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু বরণ করেন। রাতেই অভিযান চালিয়ে পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলা থেকে রাত ৪টার সময় দুলাল ও বাবুলসহ এজাহার নামীয় ৫জন আসামীকে গ্রেফতার করছে ইন্দুরকানী থানা পুলিশ। এ ব্যাপারে ইন্দুরকানী থানার এসআই আঃ জলিল জানান মামলা দায়েরের পর থেকে জেলা পুলিশ সুপার ও ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দিক নির্দেশনায় দুলাল ও বাবুলের স্ত্রীসহ তার বোনকে রাতভর অভিযান চালিয়ে কাউখালী ও ইন্দুরকানী উপজেলা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলাটি ডিবির কাছে হস্তান্তার করা হয়েছে ।

 

 

কয়রায় সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন সহযোগিদের নিয়ে কর্মশালা

কয়রা(খুলনা)প্রতিনিধি

কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়ন পরিষদের সভাকক্ষে পানিই জীবন প্রকল্প ফেইজ-০৩ এর সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন সহযোগিদের নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। রবিবার (১৫ অক্টোবর) ১ নং আমাদী  ইউনিয়ন পরিষদ সভাকক্ষে  ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জুয়েলের সভাপতিত্বে হেলভেটাস অর্থায়নে সুশীলন ও ডরপ কর্তৃক বাস্তবায়িত পানিই জীবন ফেইজ-০৩ প্রকল্পের আওতায় সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে উন্নয়ন সহযোগীদের নিয়ে দিনব্যাপী এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উক্ত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মহোদয়,ইউপি সদস্যবৃন্দ, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, কৃষি,মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ে অভিজ্ঞ সেবাদানকারীদের সাথে আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে এক সেতুবন্ধনের সৃষ্টি হয়। কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন সুশীলন এর উপজেলা সমন্বয়কারী তাপস কুমার দাশ ও কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার পূর্ণিমা বৈরাগী।

বক্তারা বলেন,  জলবায়ু পরিবর্তন এর সাথে খাপ-খাইয়ে টিকে থাকতে হলে জলবায়ু সহনশীল কৃষি,মৎস্য ও প্রানিসম্পদ এর সঠিক জাত নির্বাচন ও তার কার্যকারিতা সম্পর্কে স্থানীয় সেবাদানকারীদের প্রথমে সঠিক ধারনা থাকতে হবে এবং তাদের যদি সঠিক ধারনা থাকে, তবেই তারা তাদের অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে সুবিধাবঞ্চিত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন করতে সক্ষম হবে। স্থানীয়ভাবে সরকারী পর্যায়ে যে সকল উন্নয়ন সহযোগী উপস্থিত ছিলেন তারা বলেন, সরকারীভাবে দপ্তরভিত্তিক যেসব প্রশিক্ষন ও পরিসেবার সুযোগ আছে সে পরিসেবাগুলো তারা স্থানীয় সেবাদানকারীদের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় দেওয়ার জন্য তাদের দরজা সার্বক্ষনিক খোলা থাকবে। সকলের আলোচনা শেষ হলে ইউপি চেয়ারম্যান মহোদয় সকলের সু-স্বাস্থ্য কামনা করে কর্মশালার সমাপ্তি ঘোষনা করেন।

 

শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষ্যে প্রতিযোগিতা

তথ্য বিবরণী

১৮ অক্টোবর শেখ রাসেল দিবস। এ উপলক্ষ্যে খুলনা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমি জেলা কার্যালয়ের সহযোগিতায় শিশুদের জন্য চিত্রাংকন, বক্তৃতা ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

 

১৭ অক্টোবর বিকাল তিনটায় খুলনা শিশু একাডেমিতে অনুষ্ঠেয় চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার ক-বিভাগ: শিশু থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত, বিষয় ও মাধ্যম: উন্মুক্ত। খ-বিভাগ: চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত, বিষয়: আমার তুলিতে শেখ রাসেল, মাধ্যম: জল রং/প্যাস্টেল রং/পোস্টার রং। গ-বিভাগ: সপ্তম থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত, বিষয়: আমার তুলিতে শেখ রাসেল, মাধ্যম: জল রং/প্যাস্টেল রং/পোস্টার রং। বিকাল চারটায় বক্তৃতা প্রতিযোগিতা ষষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য, বিষয়: শিশুদের প্রতীক শেখ রাসেল।

 

এছাড়া রচনা প্রতিযোগিতার খ-বিভাগ: চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত, বিষয়: প্রিয় শেখ রাসেল, শব্দ সংখ্যা: অনধিক ছয়শত। গ-বিভাগ: সপ্তম থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত, বিষয়: প্রিয় শেখ রাসেল, শব্দ সংখ্যা: অনধিক আটশত। উল্লেখ্য, স্বহস্তে লেখা রচনা আগামী ১৭ অক্টোবর বেলা দুইটার মধ্যে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি খুলনা জেলা কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। রচনা এ-ফোর সাইজের কাগজের এক পাতায় লিখতে হবে। উভয় পাতায় লেখা যাবে না। প্রথম পৃষ্ঠায় প্রতিযোগীর নাম, পিতার নাম, মাতার নাম, মোবাইল নম্বর, শ্রেণি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম লিখতে হবে। চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় শুধু কাগজ শিশু একাডেমি সরবরাহ করবে অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রতিযোগীদের সাথে আনতে হবে।

 

১৮ অক্টোবর সকাল ১০টায় খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হবে।

 

 

 ‘জেসমিনের মৃত্যু নিয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির প্রতিবেদন অস্পষ্ট, সন্তোষজনক নয়’

ঢাকা অফিস

র‌্যাব হেফাজতে নওগাঁর ভূমি অফিসের কর্মচারী সুলতানা জেসমিনের (৪০) মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে গঠিত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির দাখিল করা প্রতিবেদন সন্তোষজনক নয় বলে অভিমত দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আদালত বলেছেন, প্রতিবেদনটি অস্পষ্ট। প্রতিবেদনে সুলতানা জেসমিনকে গ্রেফতারের প্রক্রিয়া সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। তাকে গ্রেফতারের পর আত্মীয়স্বজনকে জানানো হয়েছিল কিনা, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। যে কারণে আদালত এ প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট নয়।

 

রোববার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মুহম্মদ মাহবুব-উল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ অভিমতসহ আদেশ দিয়েছেন।

 

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ছয়টি দিক তুলে ধরে আদালত বলেন, প্রতিবেদনটি অস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট ফাইন্ডিংস উল্লেখ করা হয়নি। ভুক্তভোগীকে গ্রেফতার করার সময় নিয়েও তথ্যগত ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। রুল শুনানির জন্য প্রস্তুত, তাই ২৯ নভেম্বর বেলা ২টায় রুল শুনানির জন্য সময় নির্ধারণ করা হলো।

 

আদেশের পর আইনজীবী মনোজ কুমার ভৌমিক গণমাধ্যমকে বলেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব কর্তৃক যে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে সেই প্রতিবেদনে সুলতানা জেসমিনকে গ্রেফতারের প্রক্রিয়া সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। তাকে গ্রেফতারের পর আত্মীয়স্বজনকে জানানো হয়েছিল কিনা, সেই বিষয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। দাখিল করা প্রতিবেদনে আদালত সন্তোষজনক নয়, তাই রুল শুনানির জন্য ২৯ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন।

 

জেসমিনের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন গত ২০ আগস্ট আদালতে দাখিল করা হয়। সেদিন আদালত আদেশের জন্য ১৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেন। এর ধারাবাহিকতায় রোববার বিষয়টি কার্যতালিকায় ওঠে। আদালতে রিট আবেদনকারী আইনজীবী মনোজ কুমার ভৌমিক শুনানিতে ছিলেন।

 

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আবুল কালাম খান ও তৌফিক সাজাওয়ার।

 

সুলতানা জেসমিন নওগাঁ সদর উপজেলার চণ্ডীপুর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ে অফিস সহকারী পদে চাকরি করতেন। গত ২২ মার্চ নওগাঁ শহরের মুক্তির মোড় থেকে তাকে আটক করে র‌্যাব। ২৪ মার্চ সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

 

র‌্যাবের ভাষ্য, প্রতারণার অভিযোগে সুলতানা জেসমিনকে আটক করা হয়েছিল। আটকের পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

 

এ ঘটনায় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিচারিক তদন্ত চেয়ে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মনোজ কুমার ভৌমিক গত ২৮ মার্চ রিটটি করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ৫ এপ্রিল হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন।

 

আদেশে জেসমিনের মৃত্যুর পুরো ঘটনা তদন্তে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

 

কমিটিতে নওগাঁর জেলা ও দায়রা জজ এবং চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে অন্তর্ভুক্ত করে ওই কমিটি গঠন করতে বলা হয়। একই সঙ্গে আদালতে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

 

 

 

 

 

হরিণের মাংসসহ আটক ২

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি

পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের বনপ্রহরীরা হরিণের মাংসসহ শামিম হোসেন ও ইসমাইল হোসেন নামে দুজনকে আটক করেছেন। শনিবার রাত ৯টার দিকে তাদের আটক করা হয়।

 

তারা শ্যামনগর উপজেলার দাতিনাখালী গ্রামের বাসিন্দা।

 

 

সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক এ কে এম ইকবাল হোসাইন চৌধুরী জানান, গত শনিবার রাত ৯টার দিকে বুড়িগোয়ালীনির হুলো এলাকার পার্শ্ববর্তী নদী থেকে শামিমকে আটক করা হয়। এ সময় কয়েক সহযোগী পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থলে থাকা নৌকা থেকে ২০ কেজি মাংস উদ্ধার করা হয়। রাত ১০টার দিকে ইসমাইলকে ১০ কেজি হরিণের মাংসসহ আটক করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে কয়েক সহযোগীর নাম পাওয়া গেছে। বন্যপ্রাণী নিধন আইনে মামলা দিয়ে তাদের আদালতে পাঠানো হবে। উদ্ধার মাংস কেরোসিন দিয়ে মাটিতে পুঁতে ফেলা হবে।

 

কুষ্টিয়ার কুমারখালী: আওয়ামী লীগ নেতা সুমনের ভয়ে তটস্থ ২০ গ্রাম

 কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

সামিউর রহমান সুমন। পেশা স্কুলশিক্ষক, নেশা রাজনীতি। পাঁচ বছর আগে বাগিয়ে নেন কুষ্টিয়ার কুমারখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ। এরপর প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় গড়েছেন নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী। হাঁকান দামি গাড়ি। যেখানে যান, আগে-পিছে রাখেন মোটরসাইকেল বহর। এ বাহিনীর কথার বাইরে গেলেই রেহাই নেই। হোক তিনি দলের কর্মী

 

 

কিংবা সাধারণ মানুষ। হামলা তো আছেই, মামলা দিয়েও করা হয় হয়রানি। ইউনিয়নে সালিশ বৈঠক, জমি দখল, নিয়োগ বাণিজ্য, মাদক কারবার– সবই চলে সুমনের কথাতে। তাঁর ভয়ে ইউনিয়নের ২০টি গ্রামের মানুষ তটস্থ। অনেকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। সরেজমিন পান্টি ইউনিয়ন ঘুরে সুমনের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি একটি সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনেও সুমন ও তাঁর বাহিনীর বিরুদ্ধে জমি দখল, হত্যা, মারধর, নিয়োগ বাণিজ্যের ফিরিস্তি এসেছে। এতে সুমনের সহযোগী বলা হয়েছে পান্টির আব্দুল আলীম, ডিপজল হোসেন, ওয়াশী গ্রামের মিজানুর রহমান, বাগবাড়িয়া এলাকার শুভ ইমরানসহ অনেককে।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে সুমন বলেছেন, ‘গেল ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন চেয়েছিলাম। না পেলেও নৌকার বিরুদ্ধে যাইনি। কিন্তু নৌকার প্রার্থী হেরে যান। এরপর ক্ষতি করার জন্য প্রতিপক্ষ নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে।’ এলাকা ঘুরে জানা গেছে, বিচার-সালিশ থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়োগ হয় সুমনের কথায়। নিজ বাড়িতে আলিশান রাজনৈতিক কার্যালয় বানিয়ে করেন বিচার-সালিশ। ২০১৫ সালে তিনি পান্টি হাইস্কুলে সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি নেন। দেড় বছর আগে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক একই সঙ্গে অবসরে যান। এ সময় স্কুল পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি তাঁর বড় ভাই মামুন উর রহমান মিয়া জ্যেষ্ঠদের ডিঙ্গিয়ে সুমনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক করেন। নিয়ম অনুযায়ী কোনো প্রতিষ্ঠানে ছয় মাসের বেশি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক থাকার সুযোগ নেই। তবে সুমনের ভয়ে পরিচালনা পর্ষদ এ পদে কাউকে নিয়োগ দিচ্ছে না। সুমন চৌরঙ্গী মাদ্রাসা ও ডাসা স্কুলের সভাপতির পদও আঁকড়ে নিয়োগ বাণিজ্য করছেন। এ বিষয়ে সুমন বলেন, ‘নিয়মিত পরিচালনা কমিটি না থাকায় শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যায়নি। নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ বানোয়াট।’

 

জানতে চাইলে পান্টি হাইস্কুলের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আব্দুর রশিদ বলেন, ‘সুমনকে সবাই পছন্দ করেন বলে অন্য কাউকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না।’ আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, ২০২১ সালের ২৩ মে পান্টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা আলতাফ হোসেনের ছেলে শিপন হোসেনকে (৩৫) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সুমনকে প্রধান আসামি ও তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন শিপনের বাবা। নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী কামরুজ্জামান বলেন, ‘সুমন সরাসরি বিরোধিতা করে হাফিজের পক্ষে মাঠে নামেন। তাঁর ক্যাডাররা আমার কর্মীদের মাঠে দাঁড়াতেই দেয়নি। নৌকায় ভোট দেওয়ায় অনেককে তিনি বাড়িছাড়া করেছেন। হাফিজের কাছ থেকে টাকা খেয়ে সুমন নৌকা ডুবিয়েছেন।’

 

পান্টির বিড়িকয়া গ্রামের বাসিন্দা লিটন শেখ বলেন, ‘মান্নান মোল্লার ভোট করাই এখন আমি গ্রামছাড়া। পরিবার নিয়ে পাশের যদুবয়রা ইউনিয়নে বসবাস করছি। সুমন সড়কসংলগ্ন আমার ৩ শতক দামি জমি জোর করে লিখে নেন।’ রাজনৈতিক বিরোধের কারণে সুমন আপন চাচা ওলি মিয়াকেও ছাড়েননি। প্রায় ৫ বিঘা জমির ওপর বিশাল বাড়ি দখল করে তাঁকে তাড়িয়ে দিয়েছেন। সুমনের চলাফেরা রাজকীয়। হাঁকান অর্ধকোটি টাকার প্রাইভেটকার। অভিযোগ রয়েছে, গেল ৫ বছরে নিয়োগের বাণিজ্যে সুমন কোটি টাকা কামিয়েছেন।

 

 

মদ খেয়ে নাচানাচির পর দুই তরুণীর মৃত্যু, হাসপাতালে ৩

মাদারীপুর প্রতিনিধি

মাদারীপুরে অতিরিক্ত মদ্যপানে পারুল (২৫) ও সাগরিকা (২০) নামের দুই তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে আরও তিনজনকে। মারা যাওয়া দুইজন সম্পর্কে বান্ধবী।

শনিবার (১৪ অক্টোবর) দিবাগত রাতে মাদারীপুর পৌরসভার কলেজ রোড এলাকায় লুৎফর রহমান মোল্লার বাসায় এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থরা হলেন- সাগরিকার মা সাবিনা ইয়াসমিন পান্না (৪৫), মামা বাবু (৪৫) ও সাগরিকার মায়ের বান্ধবী ডালিয়া (৪২)।

 

নিহত পারুল ডাসার উপজেলার বালিগ্রাম এলাকার ইয়াদ আলী মাতুব্বরের স্ত্রী ও সাগরিকা মাদারীপুর শহরের বটতলা এলাকার মজিবুর রহমানের স্ত্রী। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার হোসেন চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাতে সাগরিকা, তার বান্ধবী পারুল আক্তার, মা সাবিনা ইয়াসমিন পান্না ও মামা বাবু মিলে অতিরিক্ত মদপান করার পরে নাচগান করে ঘুমিয়ে পড়েন। গভীর রাতে হঠাৎ তাদের চিৎকার চেঁচামেচি শুনে ছুটে যান বাসার তত্ত্বাবধায়ক হেলাল সরদার।

 

এ সময় তিনি সাগরিকাকে ফ্লোরে পড়ে থাকতে দেখেন। এছাড়া, অসুস্থ অবস্থায় সাগরিকার বান্ধবী পারুল আক্তার রুপা, সাগরিকার মা সাবিনা ইয়াসমিন পান্না ও মামা বাবুকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পারুল আক্তার ও সাগরিকাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

 

স্থানীয়রা জানান, চলতি মাসেই সাবিনা ইয়াসমিন পান্না, তার মেয়ে ও ভাই এই বাসায় ভাড়া ওঠেন। শনিবার রাতে বাসায় অপরিচিত আরও ৩-৪ নারী আসেন। এরপরই এই ঘটনা ঘটে। তবে, ঘটনার পর থেকে অপরিচিতদের হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।

 

স্থানীয় আবেদুর রহমান বলেন, ঘরের ভেতরে যা কিছু পাওয়া গেছে, তাতে ধারণা করা হচ্ছে অতিরিক্ত মদ্যপান করার কারণেই তাদের এই অবস্থা হয়েছে।

 

সাবিনা ইয়াসমিন পান্না বলেন, আমরা ভুল করে মদ খেয়েছিলাম। পরে আর কিছু মনে নেই। চোখ মেলে দেখি হাসপাতালে। ওরা দুজন মারা গেছে।

 

সাগরিকার মামা বাবু বলেন, আমরা ভাগ্নি কোথা থেকে মদ নিয়ে এসে আমাকে খাওয়ার জন্য জোরাজুরি করে। পরে বাধ্য হয়ে ভাগ্নির মন রক্ষায় আমিও মদপান করি। পরে আমার আর কিছু মনে নেই। চোখ মেলে দেখি হাসপাতালে। আমি কিছু খেয়েছি। তারা অনেক মদ্যপান করেছে। পরে জানতে পারি অতিরিক্ত মদ খাওয়ার কারণে আমার ভাগ্নি আর ওর বান্ধবী মারা গেছে।

 

মাদারীপুর সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক রিয়াজ মাহমুদ বলেন, গভীর রাতে আমাদের এখানে ৪-৫ নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে, দুইজন আগেই মারা গেছেন আর দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ময়নাতদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।

 

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার হোসেন চৌধুরী খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

 

ওসি বলেন, বাসায় রাতে মদের আসর বসিয়েছিল বলে জানতে পেরেছি। এদের মধ্যে, অসুস্থ তিনজনকে পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসা দেওয় হচ্ছে।

 

চিনিগুঁড়া ধানের শৈল্পিক কারুকাজে প্রতিমা
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

শারদীয় দুর্গোৎসব সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। এ দুর্গোৎসবের প্রধান অনুষঙ্গ দেবী দুর্গার প্রতিমা। দিনরাত পরিশ্রম করে রঙ-তুলির আর হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় তৈরি করছে প্রতিমা।
সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌর সদরের মুরারীকাটি উত্তর পালপাড়ায় এবার ১০০ কেজি চিনিগুঁড়া ধানের শৈল্পিক কারুকাজে নির্মাণ করা হয়েছে ১৮টি প্রতিমা। পুঁতির মতো একটা একটা করে চিনিগুঁড়া ধান দিয়ে গেঁথে তৈরি করা হয়েছে প্রতিমার অবয়ব।

আয়োজকেরা জানান, পুরো জেলায় এই প্রতিমার কথা ছড়িয়ে পড়েছে। শত শত মানুষ এবার এখানে প্রতিমা দেখতে আসবেন। পূজা শুরুর এখনও কয়েক দিন বাকি থাকলেও এই প্রতিমা দেখতে মানুষের ভিড় বেড়েই চলেছে। যেন উৎসবের আগেই উৎসবের আমেজ।

বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) সকালে সরেজমিন দেখা যায়, প্রতিমাগুলো মনে হচ্ছে সোনা দিয়ে মোড়ানো হয়েছে। পুঁথির মতো একটা একটা করে ধান দিয়ে গেঁথে তৈরি করা হয়েছে এ প্রতিমা, যা অপরূপ সৌন্দর্য বর্ধন করেছে।

প্রতিমা তৈরির কারিগর শিল্পী প্রহ্লাদ বিশ্বাস জানান, ১৮টি প্রতিমা পূর্ণাঙ্গভাবে তৈরি করতে একমাস সময় লেগেছে। এই মণ্ডপে দুর্গা, কার্তিক, গণেশ, সরস্বতী, লক্ষ্মী, অসুরসহ আনুষঙ্গিক ১৮টি প্রতিমা তৈরির জন্য কাঠ, বাঁশ, পাট, নকশী কাপড়ের পাড়, বিচুলির ফ্রেম বা কাঠামো, মাটি ও বিশেষ শৈল্পিক কারুকাজ হিসেবে ব্যয়বহুল চিনিগুঁড়া ধান ব্যবহার করা হয়েছে। কিছু কিছু অংশে রঙ স্প্রে করা হয়েছে। যার কারণে প্রতিমাগুলোর সৌন্দর্য বর্ধিত হয়েছে।

মুরারীকাটি পালপাড়া পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি জীবন কুমার ঘোষ ও কমিটির সদস্য, শিক্ষক প্রদীপ পাল জানান, প্রতি বছর ভিন্ন আঙিকে তৈরি করা হয় এ পূজা মণ্ডপের প্রতিমাগুলো। এ বছর প্রায় ১০০ কেজি চিনিগুঁড়া ধান ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিমা তৈরি শেষ হয়েছে কয়েক দিন আগে। এরইমধ্যে ধানের প্রতিমা দেখতে ভিড় করছেন অনেকে।

তারা আরও বলেন, ‘এবার যুব কমিটির আয়োজনে ১ লাখ টাকার মতো খরচ করে ধানের প্রতিমা নির্মাণ হয়েছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে অচেনা মানুষের ভিড়ে মুখর হচ্ছে পূজামণ্ডপ। পূজা শুরু হলে যে সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবকরা আছে, তা দিয়ে শৃঙ্খলা কতটুকু রক্ষা করা যাবে তাতে সন্দেহ আছে। তাই প্রশাসনের সর্বোচ্চ সহযোগিতা চাই।’

মুরারীকাটি পালপাড়া পূজামণ্ডপে আসা অঞ্জলি পাল জানান, পালপাড়ায় ৪০টি সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবার বসবাস করে। এবার এ দুর্গাপূজা উদযাপনে এত সুন্দর প্রতিমা তৈরি করেছে যুব কমিটি, এটা সত্যিই প্রশংসার।

সাতক্ষীরা জেলা পূজা উদ্যাপন কমিটি সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ ঘোষ জানান, কলারোয়ার মুরারীকাটির পালপাড়ার চিনিগুঁড়া ধানের তৈরি প্রতিমার ভিন্নতা রয়েছে। উৎসব শান্তিপূর্ণ করতে পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে। জেলার সাত উপজেলায় ৬০৬টি মণ্ডপে পূজা আয়োজনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ হয়েছে।

সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার (এসপি) কাজী মনিরুজ্জামান জানান, শারদীয় দুর্গাপূজা যাতে সুষ্ঠুভাবে উদ্যাপন করা হয়, এ জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মণ্ডপে আনসার, গ্রাম পুলিশ ও পুলিশের একাধিক দল টহলে থাকবে।

 

 

খুলনায় সবজির বাজারে স্বস্তি, দাম কমেনি মাছের

স্টাফ রিপোর্টার

খুলনার বাজারগুলোতে শীতের আগাম সবজির আমদানিতে কিছুটা কমেছে বর্ষাকালীন সবজির দাম। এতে ক্রেতারা নিজেদের চাহিদা অনুযায়ী কিনতে পারছেন সবজি। তবে ইলিশ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ায় বেড়েছে বিভিন্ন প্রকার মাছের দাম। আমদানি বাড়লেও দাম কমাতে চাইছেন না কোনো বিক্রেতা। মাছ উৎপাদনকারীরা দাম না কমানোয় পাইকারি আর খুচরা বিক্রেতারাও পারছেন না ক্রেতার চাহিদা পূরণ করতে।

 

খুলনার নিউ মার্কেট কাঁচা বাজার, বয়রা পূজাখোলা বাজার, ময়লাপোতা সন্ধ্যা বাজার, নিরালা বাজার, টুটপাড়া জোড়াকল বাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

 

টুটপাড়া জোড়াকল বাজারের সবজি বিক্রেতা রবিউল, রানা, মিরাজ মেম্বররা বলেন, বর্ষার প্রায় শেষ। এখনও বাজারে বর্ষাকালের সবজির আমদানি বেশ। একই সঙ্গে শীতকালের সবজির আগাম চালানও বাজারে আসতে শুরু করেছে। ফলে বাজারে সবজিতে স্বস্তি ফিরেছে। ক্রেতারা এখন আর আগের মত এক কেজির জায়গায় ৭৫০ গ্রাম সবজি কিনে দিন পার করছেন না। যার যা চাহিদা সেই অনুপাতেই তারা কিনতে পারছেন।

 

নিউ মার্কেট সবজি বাজারে সবজি বিক্রেতা মোজাম বেপারী বলেন, বাজারে এখনও বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে বেগুন। এখন বাজারে যে বেগুন আছে তা গাছের শেষ বেগুন। তবুও এই সবজিটির দাম খুব একটা কমেনি। বর্তমানে বাজারে বেগুনের কেজি ৫০ টাকার বেশি।

তিনি আরও বলেন, এখন বাজারে পেঁপে বিক্রি হয়েছে ২০ টাকায়, যা গত সপ্তাহেও ২৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া মিষ্টি কুমড়া ১০ টাকা কমে ৩০ টাকায়, বরবটি ৪০ টাকা, পটল ১০ টাকা কমে ৩০ টাকা, কুচ ৫০ টাকা, কুশি ১০ টাকা কমে ৩০ টাকা, ঝিঙে ৪০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, উচ্ছে ৬০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, লাউ ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কাগজি লেবু হালি ৩০ টাকা এবং যে কোনো প্রকার শাকের আঁটি ১০ থেকে ১৫ টাকা কমে ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

ময়লাপোতা সন্ধ্যা বাজারের সবজি বিক্রেতা পলাশ বলেন, বাজারে বর্ষা আর শীতের সবজি এক সঙ্গেই আসছে। বর্ষার সবজির আমদানি কম হলেও ক্রেতারা কম দামেই তা কিনতে পারছেন।

 

এই বাজারে সবজি কিনতে আসা সরকারী চাকরিজীবী মোশাররফ হোসেন বলেন, অফিস শেষে প্রতিদিন এখান থেকেই সবজিসহ অন্যান্য সামগ্রী কিনে একবারে বাসায় যাই। তবে গত ৩/৪ দিন ধরে দেখছি বর্ষার সবজির দাম অনেক কমে গেছে। বাজারে শীতের সবজি আসছে। দাম বেশি হলেও অনেকেই কিনছেন। আমার পক্ষে এখনও তা কেনা সম্ভব হয়নি।

এই বাজারের মাছ বিক্রেতা গোলাম রব্বানী বলেন, ইলিশ মাছ বাজারে আসার পর থেকে অন্যান্য মাছের দাম কিছু কমেছিল। মা ইলিশ রক্ষায় আবারও ২২ দিনের জন্য সাগর, নদ নদীতে জাল ফেলার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় বাজারে মাছের দাম কিছুটা বেড়েছে। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর এই অঞ্চলের মাছ আগের তুলনায় অনেক বেশি চলে যাচ্ছে রাজধানীতে। এতে খুলনার মানুষের মাছ খাওয়া আরও কমে যাবে।

তিনি আরও বলেন, বাজারে তেলাপিয়া ১৫০ টাকা, রুই ১৮০ থেকে ২২০ টাকা, কাতলা, মৃগেল ২২০ টাকা, ভেটকি মাছ ৫০০-৭০০ টাকা, রূপচাঁদা ৬০০-৯০০ টাকা, টেংরা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, পাবদা মাছ ৩০০ টাকা, পাঙাশ মাছ ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া যে কোনো ধরনের চিংড়ি ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

 

 

জলাবদ্ধ জমিতে পানিফল চাষে লাভবান কৃষক

নিজস্ব প্রতিনিধি

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে অপেক্ষাকৃত নিচু ও জলাবদ্ধ জমিতে পানিফল চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষক। স্থানীয়ভাবে ‘সিংড়া’ নামে পরিচিত সুস্বাদু পানিফল অন্যান্য ফলের তুলনায় দামেও কম। রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ। এজন্য দিনদিন সর্বস্তরের মানুষের কাছে প্রিয় হয়ে উঠছে পানিফল।

 

কালিগঞ্জ উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শেখ আবু লতিফ জানান, এ বছর উপজেলায় ১১৫ একর জমিতে পানিফল চাষ হয়েছে। এর অর্ধেকেরও বেশি চাষাবাদ হয়েছে উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের সোনাতলা, উত্তরশ্রীপুর, বেড়াখালী এলাকায়। এছাড়াও উপজেলার বিষ্ণুপুর, ভাড়াশিমলা, নলতা এলাকায় পানিফল চাষ হয়েছে।

 

 

তিনি আরো জানান, অন্য ফলের পাশাপাশি পানিফল বাজার দখল করতে শুরু করায় দিনে দিনে চাহিদা বাড়ছে। সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ফলটি ছোট বড় সব মানুষের পছন্দের। পানিফলের আদিনিবাস ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকা হলেও এর প্রথম দেখা পাওয়া যায় উত্তর আমেরিকায়।

 

 

সাতক্ষীরা জেলায় পানিফলের বাণিজ্যিকভাবে চাষ অনেক আগেই শুরু হয়েছে। স্থানীয়ভাবে পানিফলের আরেক নাম ‘সিংড়া’। পানিফল একটি বর্ষজীবী জলজ উদ্ভিদ। বর্ষা মৌসুমে এফলের চাষ হয়। জলাশয় ও বিল-ঝিলে এ ফলটি জন্মে। মূলত: যেখানে জলাবদ্ধতার কারণে আমন ধানের চাষ সম্ভব হয় না সেখানেই পানিফল চাষ করা হচ্ছে। পানিফলের একটি গাছ প্রায় পাঁচ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।

 

 

আশ্বিন থেকে পৌষ মাস পর্যন্ত পানিফল উৎপাদন হয়। এ ফলের নরম খোসা ছাড়ালেই পাওয়া যায় হৃৎপিন্ডাকার বা ত্রিভুজাকৃতির নরম সাদা শাঁস। কাঁচা ফলের নরম শাঁস খেতে বেশ সুস্বাদু। পানিফল সাধারণত কাঁচা খাওয়া যায়। তবে সিদ্ধ করেও খাওয়া যায়। কাঁচা পানিফল বলবর্দ্ধক, এটি দুর্বল ও অসুস্থ মানুষের জন্য সহজপাচ্য খাবার। ফলের শুকনো শাঁস রুটি করে খেলে এলার্জি ও হাত-পা ফোলা রোগ উপশম হয়।

 

 

পিওপ্রদাহ, উদরাময় ও তলপেটের ব্যথা উপশমে পানিফল খাওয়ায় প্রচলন রয়েছে। বিছাপোকা কামড়ের যন্ত্রণায় থেঁতলানো কাঁচা ফলের প্রলেপ দিলে উপকার পাওয়া যায়। বিশেষ করে এ ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম, সে কারণে অনেকের কাছে এটি ডায়াবেটিস ফল নামে পরিচিতি পেয়েছে।

 

 

পানিফল এর উৎপাদন খরচ খুব কম। লাভজনক হওয়ায় সাতক্ষীরা জেলার সব উপজেলায় জলাবদ্ধ জমিতে পানিফল চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এ ফলের চাষ। সেই সঙ্গে বাড়ছে ফলটির জনপ্রিয়তা। এরইমধ্যে কালিগঞ্জের হাট-বাজারে পানিফল উঠতে শুরু করেছে। বর্তমানে প্রতিকেজি পানিফল ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পরবর্তীতে স্থানভেদে প্রতিকেজি পানিফল ২০ থেকে ২৫ টাকায় মিলবে।

 

 

উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের এলাহীবক্স ঢালীর ছেলে ইসমাইল ঢালী জানান, এ বছর তিনি ৬ বিঘা (দুই একর) জমিতে পানিফল চাষ করেছেন। উপজেলা কৃষি অফিসের সঠিক পরামর্শ ও দিকনির্দেশনায় পানিফল চাষ করে লাভবান হবেন বলে আশা করছেন তিনি।

 

 

পানিফল চাষি সোনাতলা গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে মেহেদী হাসান, মোবারক হোসেনের ছেলে মনিরুল ইসলাম, উত্তরশ্রীপুর গ্রামের মাজেদ গাজীর ছেলে আবু তালেব গাজী, বেড়াখালী গ্রামের ইয়াদ আলীর ছেলে আজগর আলীসহ আরো কয়েকজন জানান, হারিসহ প্রতিবিঘা জমিতে পানিফল চাষ করতে খরচ হয় প্রায় ৪০ হাজার টাকা। উৎপাদন ভালো হলে এবং আগেভাগে বাজারজাত করতে পারলে প্রতিবিঘা জমি থেকে ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার পানিফল বিক্রি করা যায়। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারণে আমন ধানের চাষ করতে না পারলেও সিংড়া (পানিফল) চাষ করে তারা বেশ লাভবান হচ্ছেন। এজন্য অনেকেই পানিফল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

 

 

এ বিষয়ে কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ওয়াসিম উদ্দীন জানান, লবণের প্রভাব কাটিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিকে এগিয়ে নিতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। এটি এঅঞ্চলের অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। মৌসুমী এ ফল চাষ করে কৃষক যাতে লাভবান হয় সে ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অধিদফতরের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

পাইকগাছায় দিনমজুর রনজিৎ’কে; হুমকির জেরে থানায় অভিযোগ

গাজী মোঃ আব্দুল আলীম

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের ফেদুরআবাদ গ্রামের প্রভাবশালী হিমাংশু সরকারের ছেলে হিরোনময় সরকার, সূর্যকান্ত সরকারের ছেলে হিমাংশু সরকার ও নরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস এর ছেলে ধীরাজ বিশ্বাস গং কতৃক বিভিন্ন ধরনের হুমকির জেরে গরীব অসহায় রনজিৎ মন্ডল এর থানায় অভিযোগ।

 

 

থানায় অভিযোগ ও প্রাপ্ত সূত্রে জানা গেছে, চাঁদখালী ইউনিয়নের ফেদুরআবাদ গ্রামের বিবাদী হিরোনময় গংদের সাথে বাদী রনজিৎ মন্ডল এর পূর্ব হইতে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলমান থাকায়, কারনে অকারণে বাদী রনজিৎ মন্ডল ও তার স্ত্রী ঝর্ণা মন্ডল সহ তাদের স্কুল পড়ুয়া সন্তানদেরকে প্রতিনিয়ত গালিগালাজ ও খুন জখমের হুমকি দিয়ে আসছে। সেজন্য উপরোক্ত বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ দের জানালে তাহারাও উভয়ের মধ্যেকার বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে চাইলেও বিবাদী হিরোনময় গং সেটি না করে উল্টো তাদের ও বাদী রনজিৎ মন্ডল এর উপর খুন জখমের হুমকি প্রদর্শন করে।

 

 

এমতাবস্থায় গত ইং- ১৩/১০/২০২৩ তারিখ দুপুর দেড় টার দিকে বিবাদী হিরোনময় গং রা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বে-আইনী জনতাবদ্ধে হাতে দা, লাঠি,শাবল সহ লোহার রড নিয়ে বাদী রনজিৎ মন্ডল এর বসত বাড়ির সামনে এসে রনজিৎ মন্ডল ও তার স্ত্রী ঝর্ণা মন্ডল সহ পরিবারের লোকদেরকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকলে, রনজিৎ মন্ডল ও তার স্ত্রী ঝর্ণা মন্ডল বিবাদী হিরোনময় গং দের কথার প্রতিবাদ করলে হিরোনময় গং রা রনজিৎ মন্ডল এর স্ত্রী ঝর্ণা মন্ডল কে কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা বলে সামাজিক মান ইজ্জত ক্ষুন্ন করে ও মারপিট করতে উদ্যৎ হয়। এবং বাদী রনজিৎ মন্ডল এর পরিবারের সদস্যদের খুন করিয়া লাশ নদীতে ভাসায় দিবে বলে স্থান ত্যাগ করে। এছাড়াও বিবাদী হিরোনময় গং রা বাদী রনজিৎ মন্ডল এর মোবাইলে ফোনে বিভিন্ন সময় নানান ধরনের হমকি দেওয়ার কল রেকর্ড রয়েছে মর্মে থানায় করা অভিযোগে উল্লেখ করেন।

 

এবিষয়ে উক্ত অভিযোগ এর তদন্তকারি কর্মকর্তা এসআই শাহীনুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি ঘটনাটি তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

 

চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী পরিচয় দেন উপসচিব, প্রতারণার টাকায় বাড়ি-গাড়ি

খুলনাঞ্চল রিপোর্ট

ছয় বছর আগে ঢাকার ধানমন্ডিতে তিন কোটি টাকা দামের একটি ফ্ল্যাট কেনেন মজিবুর রহমান নামের এক ব্যক্তি। তখন তিনি নিজের পরিচয় দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব। এই পরিচয়ে ফ্ল্যাট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকও হন তিনি। কিছুদিন পর মজিবুর জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তিনি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অথরাইজড অফিসার হিসেবে বদলি হয়েছেন। তখন মজিবুরের কাছে একটি প্লট কেনার বিষয়ে সহায়তা চান মোস্তাফিজুর রহমান নামের এক প্রতিবেশী।

 

একপর্যায়ে প্লট বিক্রির নাম করে মোস্তাফিজুরের কাছ থেকে তিন কোটি সাত লাখ টাকা নেন মজিবুর। কিন্তু সেই প্লট নিবন্ধন করে দেননি। বিষয়টি নিয়ে চাপ দেওয়ায় উল্টো মোস্তাফিজুরের বিরুদ্ধে তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে মামলা করেন তিনি।

 

নিজেকে উপসচিব ও রাজউকের কর্মকর্তা পরিচয় দিলেও মজিবুর রহমানের প্রকৃত পরিচয় তিনি খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী (চেইনম্যান)। এই পদে থেকেই একসময় চাকরিচ্যুত হন। তিনি কখনো দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক, আবার কখনো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দিতেন। এসব পরিচয়ে প্রতারণা করে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

 

ঢাকার ধানমন্ডি থানার একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এসব তথ্য পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ওই মামলায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর মজিবুরের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পিবিআই। প্রতারণার অভিযোগে গত বছর ৩ মার্চ মজিবুরের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় মামলাটি করেন মোস্তাফিজুর রহমান।

 

পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে, ১৯৯৮ সালে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেইনম্যান হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন মজিবুর রহমান। সেখানে তিনি ১০ বছর কর্মরত ছিলেন। ২০০৮ সালে তাঁকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অফিস সহায়ক হিসেবে বদলি করা হয়। কিছুদিন পর সেখান থেকে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে বদলি করা হয়। ২০১৯ সালে তাঁকে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে বদলি করা হয়। তবে সেখানে তিনি যোগদান না করে বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। পরে তাঁকে বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে বদলি করা হয়। সেখানে যোগদানের এক মাস পর থেকে তিনি কর্মস্থলে আর যাননি। পরে ২০২০ সালে কর্মস্থলে অনুপস্থিত, অসদাচরণ, অবহেলার কারণে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়। তখন তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও হয়।

 

পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান বলেন, প্লট বিক্রির নাম করে অর্থ আত্মসাৎ করার যে অভিযোগ মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে করা হয়েছে, সেটির সত্যতা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তিনি প্রতারণা করছেন। এসব বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার পরই তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।

বিপুল সম্পদের মালিক।।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালেও মজিবুর রহমান ঢাকার হাতিরপুলের পুকুরপাড়ের একটি ভবনের পাঁচতলার দুই কক্ষের ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন। অথচ এখন তিনি বসবাস করেন ধানমন্ডিতে তিন কোটি টাকার নিজের ফ্ল্যাটে। মোহাম্মদপুরের বাবর রোডে তাঁর মালিকানাধীন ১২০০ বর্গফুটের আরও একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। তাঁর নিজের নামে দুটি বিলাসবহুল গাড়িও রয়েছে। খুলনার সোনাডাঙ্গায় অর্ধকোটি টাকা দামের একটি প্লট রয়েছে। ওই প্লটে তৈরি করা বাড়িতে তাঁর শাশুড়ি ও শ্যালিকা থাকেন। ওই বাড়িটি স্থানীয়ভাবে উপসচিবের বাড়ি হিসেবে চেনেন সবাই। এ ছাড়া খুলনার ময়ূরী আবাসিক প্রকল্পে তাঁর নিজের ৫ কাঠার একটি প্লট রয়েছে।

যাঁর টাকা আত্মসাৎ, তাঁর বিরুদ্ধেই মামলা।।

পিবিআইয়ের তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ২০১৬ সালে ধানমন্ডির ১১/এ নম্বর সড়কের ৭৭ নম্বর প্লটে ৮ তলা ভবন নির্মাণ করে কনকর্ড গ্রুপ। ভবনের নামকরণ করা হয় কনকর্ড নুসরাত। সেখানে ২৩০০ বর্গফুটের ১৬টি ফ্ল্যাট রয়েছে। ওই ভবনের দোতলায় মজিবুর একটি ফ্ল্যাট কেনেন। আর ৬ তলার একটি ফ্ল্যাট কেনেন মোস্তাফিজুর রহমান। একই ভবনের বাসিন্দা হওয়ার সুবাদে তাঁদের পরিচয় হয়। তা ছাড়া ওই ভবনের ফ্ল্যাট মালিকদের সংগঠনের প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন মজিবুর রহমান। ওই ভবনের সব বাসিন্দা জানতেন, মজিবুর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব। পরে ২০২০ সালে মজিবুর সবাইকে রাজউকের অথরাইজড অফিসার হিসেবে বদলি হওয়ার কথা বলেন। তখন মোস্তাফিজুর রহমান পূর্বাচলে একটি প্লট কেনার আগ্রহ প্রকাশ করলে এ বিষয়ে সহায়তার কথা বলেন মজিবুর।

মোস্তাফিজুরকে একটি প্লটের সন্ধানও দেন মজিবুর। মোস্তাফিজুরকে তিনি জানান, তাঁর (মজিবুর) এক সহকর্মী পূর্বাচলে সাড়ে ৭ কাঠার একটি প্লট বিক্রি করে আমেরিকায় চলে যেতে চান। ওই প্লটের দাম তিন কোটি টাকা। প্লটের আমমোক্তারনামা নিয়ে রেখেছেন মজিবুর নিজে। প্লটটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে সেটি কেনার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন মোস্তাফিজুর। সবকিছু চূড়ান্ত হওয়ার পর ২০২১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবরের মধ্যে জমির দাম হিসেবে তিন কোটি এবং অন্যান্য খরচ হিসেবে সাড়ে সাত লাখ টাকা পরিশোধ করেন মোস্তাফিজুর।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, টাকা পরিশোধ করার পর প্লট নিবন্ধন করে দিচ্ছিলেন না মজিবুর রহমান। পরে বিষয়টি সন্দেহ হলে তাঁর বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি একজন প্রতারক। পরে টাকা ফেরত চাইলে গড়িমসি শুরু করেন।

 

একপর্যায়ে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকেন তিনি। এমনকি অস্ত্রধারী কয়েকজন বাসায় এসে হুমকিও দেয়। রাস্তায় তাঁর ওপর হামলারও চেষ্টা করে মজিবুর। কয়েক দিন পর তিনি জানতে পারেন, তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে উল্টো তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেন মজিবুর রহমান।

 

মামলার নথি থেকে জানা যায়, মোস্তাফিজুরের বিরুদ্ধে তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ধানমন্ডি থানায় মামলা হয় ২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি। এই মামলা শুরুতে ধানমন্ডি থানা-পুলিশ তদন্ত করলেও পরে মামলার তদন্তভার পিবিআইতে হস্তান্তর করা হয়। পিবিআই ২০২২ সালের মে মাসে ওই মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার পাশাপাশি বাদী মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এরপর মজিবুরের বিরুদ্ধে মোস্তাফিজুরের দায়ের করা মামলার তদন্ত করে পিবিআই।

 

তাদের তদন্তের বিষয়ে মজিবুর রহমান রোববার বলেন, পিবিআই প্রতিবেদনে যেসব তথ্য উল্লেখ করেছে, এগুলোর সবই মিথ্যা। তিনি কখনোই কোনো ধরনের প্রতারণা করেননি। মোস্তাফিজুর রহমানের কাছ থেকে তিনি কোনো টাকা নেননি। মোস্তাফিজুরই তাঁর কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। তা ছাড়া তিনি কখনোই উপসচিব বা সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দেননি বলেও দাবি করেন। তাঁর বিপুল সম্পদের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

ভুক্তভোগীর পক্ষে নয়, প্রতারকের পক্ষে ছিল পুলিশ।।

পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে, ভুয়া অঙ্গীকারনামা তৈরি করে মোস্তাফিজুরের বিরুদ্ধে মামলা করেন মজিবুর রহমান। অথচ ধানমন্ডি থানা-পুলিশ যাচাই-বাছাই ছাড়াই মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ভুয়া মামলা নিয়েছে।

এ ঘটনায় শুরু থেকেই ধানমন্ডি থানা-পুলিশ মজিবুরের পক্ষে অবস্থান নেয় বলে অভিযোগ করেন মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, যিনি প্রতারণা করলেন, তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাও নেওয়া হয়। কিন্তু ভুক্তভোগী হিসেবে তিনি (মোস্তাফিজুর) মামলা করতে গেলে থানা-পুলিশ ফিরিয়ে দেয়। ১০ দিন বিভিন্ন দপ্তরে ঘোরাঘুরির পর থানা-পুলিশ মামলা নেয়। মোস্তাফিজুরের অভিযোগ, ধানমন্ডি থানার ওসি (তৎকালীন) ইকরাম আলী মিয়া এবং পুলিশের ধানমন্ডি অঞ্চলের সহকারী কমিশনার (তৎকালীন সহকারী কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মাসুম) মজিবুরের পক্ষে কাজ করেন। তাঁকে নানাভাবে হয়রানি করেন এই পুলিশ কর্মকর্তারা। মজিবুরের পক্ষে পুলিশের একজন ডিআইজিও (উপমহাপরিদর্শক) নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করেছেন বলে তিনি জানতে পারেন। 

 

এ বিষয়ে পুলিশের ধানমন্ডি অঞ্চলের তৎকালীন সহকারী কমিশনার (বর্তমানে গুলশান অঞ্চলে কর্মরত) আব্দুল্লাহ আল মাসুম বলেন, ওই ঘটনা সম্পর্কে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও জানতেন। ওই সময় মজিবুর ও মোস্তাফিজ দুজন পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছিলেন। এ কারণে দুজনের মামলাই নেওয়া হয়। ঘটনার গভীরে যাওয়ার আগেই মামলা পিবিআইতে চলে যায়। এ কারণে তখন থানা-পুলিশ বিস্তারিত তদন্ত করেনি। আর মোম্তাফিজুর রহমান যেসব অভিযোগ করছেন, এগুলো সঠিক নয়। তাঁকে সহযোগিতা করা হয়েছে।

 

আর ধানমন্ডির তৎকালীন ওসি ইকরাম আলী বলেন, তিনি যা করেছেন আইন মেনেই করেছেন। দুই পক্ষের মামলাই নিয়েছেন। 

 

তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান বলেন, মজিবুর যে মামলাটি করেছিলেন সেটি থানা-পুলিশের রেকর্ড করা উচিত হয়নি। ওই মামলাটি থানা-পুলিশ কেন নিয়েছিল, সেটি জানার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু তিনি আসেননি।

 

এ ঘটনায় ধানমন্ডি থানা-পুলিশ ভুক্তোভোগীর বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে যেটা করেছে, তাতে স্পষ্ট তারা প্রতারকের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে এমনটা করেছে বলে মনে করছেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান ও পুলিশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ উমর ফারুক। তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যায় এবং প্রতারকেরা এ ধরনের অপরাধ করতে সাহস পায়। এ ধরনের ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।-প্রথম আলো