শরীফা খাতুন শিউলী
মাস্ক, হ্যান্ড গ্লভস, হেড কভার, সু কভার, গগলসসহ সুরক্ষা সামগ্রী উন্মুক্ত জায়গায় ফেলে দেওয়া হচ্ছে। এসব বর্জ্য থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
খুলনা করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের (খুলনা ডায়বেটিকস হাসপাতাল) প্রবেশ পথ ও ভবনের সামনে এভাবে যত্রতত্র মেডিকেল বর্জ্যে ভরা। শুধু হাসপাতালের বাইরে নয় ভিতরে করোনা রোগীদের ব্যবহারের জন্য যেসব বাথরুম, টয়লেট রয়েছে তাও চরম অপরিচ্ছন্ন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া রোগীরা।

শুক্রবার (১৯ জুন) মহানগরীর নূরনগরস্থ করোনা হাসপাতালে সামনের প্রবেশ পথ ও ভবনের সামনে যত্রতত্র ক্লিনিক্যাল বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ডাস্টবিন থাকলেও সেটার মুখ খোলা রয়েছে। মেডিকেল বর্জ্য পলিথিন ভরে বেশি ফেলা হয়েছে ডাস্টবিনের বাইরে। এতে আশপাশের বাসিন্দারা উদ্বেগ উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন।

নূরনগরের স্থানীয় বাসিন্দা এম হোসেন বলেন, মেডিকেল বর্জ্য বায়োসেফটিক্যাল ব্যাগে ভরে ডাস্টবিনে না রেখে বাইরের যত্রতত্র ফেলে রাখা হয়েছে। কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর জন্য ব্যবহৃত সবকিছু একটি নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে আগুনে পুড়িয়ে ফেলার কথা থাকলেও তা না করে হাসপাতালের প্রবেশ পথ ও ভবনের সামনে যত্রতত্র ক্লিনিক্যাল বর্জ্য ফেলায় আশপাশের বাসিন্দারা রয়েছেন চরম আতঙ্কে।
করোনা হাসপাতাল থেকে সেবা নিয়ে সুস্থ্য হয়ে আসা এক ব্যক্তি বলেন, তিন তলা হাসপাতাল ভবনের নিচ তলায় আমি থাকতাম। হাসপাতালে ৭ দিন ছিলাম। ৭ দিনে একদিনেও টয়লেট পরিষ্কার করতে দেখি নি। বাধ্য হয়ে নিজে পরিষ্কার করে থেকেছি। পিপিই পড়া থাকার কারণে কে ডাক্তার কে পরিচ্ছন্ন কর্মী বা সুইপার তা বোঝারও উপায় নেই। নিচতলা ও তৃতীয় তলায় করোনা রোগী থাকে সব জায়গাই একই অবস্থা।
তিনি বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থা, চিকিৎসক, নার্সদের ব্যবহার ও সেবা সবই ভালো শুধু পরিছন্নের বিষয়টি চরম খারাপ।

করোনা হাসপাতাল ছাড়াও খুলনায় বাসায় সার্জিকাল মাস্ক, হ্যান্ডগ্লাভসসহ নানা ধরনের মেডিকেল সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। এগুলো সাধারণ বর্জ্যের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। বাসাবাড়িতে ব্যবহার করা মাস্কসহ অন্যান্য বর্জ্য করোনার সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি করছে। এগুলো জীবাণুমুক্ত না করে সাধারণ বর্জ্যরে সঙ্গে ফেলে দেওয়ায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ অনেকের করোনায় সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলেও নগরীর সচেতন মহল মনে করছেন।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক মোঃ সামিউল হক বলেন, মেডিকেল বর্জ্যগুলো হাসপাতালের সামনে ফেলে রেখে দেয় সেটি চরম অন্যায়। আর যদি তা হয় করোনা হাসপাতালে তাহলে সেখান থেকে করোনার সংক্রমণের ঝূঁকি তৈরি হবে।
তিনি আরও বলেন, করোনার এই সময়ে যেভাবে মাস্ক, হ্যান্ডগ্লাভস যেভাবে যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে, তাতে করোনার সংক্রমণ মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। যত্রতত্র ফেলা এসব বর্জ্য থেকে সংক্রমণ মানুষ থেকে মানুষে ছড়াবে। কাক, কুকুর মুখে নিয়ে আরেক জায়গায় ফেলবে, সেখান থেকে ছড়াবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উচিত মেডিকেল বর্জ্যগুলো অটোক্লেভস মেশিনের মাধ্যমে জীবাণুমক্ত করে তা বায়োসেফটিক্যাল ব্যাগে ভরে রাখা। পরে এগুলো পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
খুলনার সিভিল সার্জন সুজাত আহমেদ বলেন, করোনা হাসপাতালের বর্জ্য খুলনা সিটি করপোরেশনের অপসারণের দায়িত্ব। মেয়র সেখানে পরিচ্ছন্ন কর্মীও দিয়েছেন।
তিনি বলেন, করোনা হাসপাতালে সামনের প্রবেশ পথ ও ভবনের সামনে যত্রতত্র ক্লিনিক্যাল বর্জ্য ফেলা হচ্ছে এ বিষয়ে আমার জানা নেই। বিষয়টি আমি সিটি মেয়রকে জানাবো।










































