Home আঞ্চলিক খুলনায় এক হাজার আসনের মিলনায়তন: পিলার আর ছাদ তুলেই থমকে আছে নির্মাণ

খুলনায় এক হাজার আসনের মিলনায়তন: পিলার আর ছাদ তুলেই থমকে আছে নির্মাণ

89

স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনায় ১ হাজার আসনের মিলনায়তন কাম মাল্টিপারপাস হল নির্মাণ শুরু হয়েছিল ২০২০ সালের ১০ মার্চ। ২০ কোটি টাকার প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল দুই বছরের মধ্যে। তবে দেড় বছর মেয়াদ বাড়ালেও নির্মাণ শেষ হয়নি। কাজ করেও টাকা না পাওয়ায় তিনতলা ভবনের দোতলা পর্যন্ত পিলার ও ছাদ তুলেই কাজ থামিয়ে দিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

খুলনা জেলা পরিষদ থেকে জানা যায়, নগরীর রূপসা স্ট্যান্ড রোডে মিলনায়তনটিতে মাঝারি আকারের আরও তিনটি মিলনায়তন হবে। ফলে একসঙ্গে চারটি অনুষ্ঠান করা যাবে। মিলনায়তনগুলো হবে সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও শব্দপ্রতিরোধী। বর্ধিত মেয়াদ অনুযায়ী এই কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০২৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। ২০ কোটি ২৩ লাখ টাকার কাজটি করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সহীদ ব্রাদার্স-স্মার্ট প্রপার্টিজ জেভি। তারা প্রায় ১৩ কোটি টাকার কাজ করেছে। জেলা পরিষদ এর মধ্যে ছয় দফায় পরিশোধ করেছে সাড়ে ৬ কোটি টাকা। তবে এখনও সমপরিমাণ টাকা পাওনা রয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় টাকা ছাড় করতে দেরি করায় কাজের গতি কমিয়ে দিয়েছেন ঠিকাদার।

সরেজমিন দেখা যায়, তিনতলা মিলনায়তনটির দ্বিতীয় তলার ছাদ পর্যন্ত করা হয়েছে। তিনতলার কাজ এখনও শুরুই হয়নি। দেয়াল নির্মাণও হয়নি। প্রকল্প এলাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের একজন প্রকৌশলী ও তত্ত্বাবধায়ক রয়েছেন। চার-পাঁচজন শ্রমিক ছোটখাটো কাজ করছেন। তবে মূল অবকাঠামো নির্মাণ পুরোপুরি বন্ধ।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহিরুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ কাজ শেষ করেছি, সেই বিল পাইনি। অনেক টাকা পাওনা রয়েছে। মূলত সময়মতো অর্থ ছাড় না হওয়ায় কাজের গতি কমিয়ে দিয়েছি। এখন স্বল্প পরিসরে কাজ চলছে। টাকা পেলে কাজের গতি বাড়ানো হবে।

এ নিয়ে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম সেলিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নগরীতে শিল্পকলা একাডেমি ছাড়া কোথাও অডিটোরিয়াম নেই। তবে শিল্পকলায় নিয়মিত বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। একই দিন একাধিক অনুষ্ঠান করার বিকল্প জায়গা নগরীতে নেই। এ অবস্থায় জেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম নির্মাণ শুরু করায় নগরবাসী খুশি হয়েছিল। তবে সেই কাজ কবে শেষ হবে কেউ বলতে পারছেন না।

এ নিয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, এলজিইডির আগের রেট শিডিউল অনুযায়ী ২০২০ সালে ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। ইতোমধ্যে নতুন রেট শিডিউল কার্যকর হয়েছে। ক্রমান্বয়ে নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়েছে। এ অবস্থায় দ্রুত অর্থ ছাড় হলে আগের রেটে ঠিকাদারকে দিয়ে কাজটি শেষ করা যেত। না হলে ব্যয় আরও প্রায় ৫ কোটি টাকা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এখন আর প্রথম বর্ধিত মেয়াদের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব না। মেয়াদ বাড়াতেই হবে।