Home খেলাধুলা অস্ট্রেলিয়া-ফ্রান্স লড়াইয়ে নজর পেরিরও

অস্ট্রেলিয়া-ফ্রান্স লড়াইয়ে নজর পেরিরও

77

স্পোর্টস ডেস্ক।।
ফিফা নারী বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিপক্ষ ফ্রান্স। আর এই ম্যাচে আলাদা নজর থাকবে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট তারকা এলিস পেরির। আজ সানকর্প স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দু’দল। অস্ট্রেলিয়া ম্যাচটি জিতলে হয়তো একটা আক্ষেপ ঘুচবে এলিস পেরিরও।
ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার পেরি ফুটবলও খেলেছেন, এটি নতুন তথ্য নয় মোটেও। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলেছেন ফিফা বিশ্বকাপও। আইসিসি বিশ্বকাপ ও ফিফা বিশ্বকাপ- দুই আসরেই খেলা প্রথম খেলোয়াড়ও তিনি। ২০০৭ সালে ১৬ বছর বয়সে হংকংয়ের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল তার। ২০১১ সালে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচটি খেলেন জার্মানির বিপক্ষে। এমনিতে ডিফেন্ডার হলেও ২০০৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলা ১৮ ম্যাচে ৩টি গোল আছে পেরির। এর একটি ছিল ২০১১ বিশ্বকাপে সুইডেনে।

কোয়ার্টার ফাইনালে গোল করেন পেরি, যদিও ৩-১ গোলে ম্যাচটি হারে অস্ট্রেলিয়া। এরপর ২০১৫ সালেও কোয়ার্টার ফাইনাল খেললেও শেষ চারে যাওয়া হয়নি। গতবার তারা বাদ পড়েছিল শেষ ১৬ থেকে।
আরেকবার সেই কোয়ার্টার ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া। এবার নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপ। আসরে ‘মাটিলডা’ খ্যাত অস্ট্রেলিয়া নারী ফুটবল দলের পারফরম্যান্সও দুর্দান্ত। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্বে ওঠার পর ডেনমার্ককে ২-০ গোলে হারিয়ে স্বাগতিকেরা এসেছে কোয়ার্টার ফাইনালে। ফুটবল ছেড়ে ক্রিকেট বেছে না নিলে হয়তো এ ম্যাচে খেলতে পারতেন পেরিও। তবে মাটিলডাদের সাফল্য পেরিকে ছুঁয়ে গেছে ঠিকই। অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার বলেন, ‘আমার মনে হয় না এমন কিছু এর আগে দেখেছি। তারা যে মানের খেলা খেলছে, যেভাবে খেলছে, যে দুর্দান্ত বিনোদন তারা দিচ্ছে!’ ৩২ বছর বয়সী পেরি বলেন, ‘শুধু নিজেদের দলের জন্য নয়, এ খেলার জন্য, নারীদের খেলার জন্য এই মেয়েরা যা করেছে, এটি যুগান্তরী এক টুর্নামেন্ট।’

এর আগেও নারীদের খেলায় যাদের অবদান, সেসব ভুলতে চান না পেরি। তিনি বলেন, ‘এর আগে অনেক ঘটনা আছে। মেয়েদের বিগ ব্যাশ এ দেশে দেখা প্রতিযোগিতাগুলোর মধ্যে চতুর্থ সেরা। আর যেটিকে এখন মনে হয় অনেক দিনের ঘটনা, তবে ২০২০ সালে (টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে) এমসিজিতে ৮৬ হাজার দর্শক হয়েছিল।’

মেয়েদের খেলার বিপ্লবটাও টের পাচ্ছেন পেরি। তিনি বলেন ‘বেশ লম্বা সময় ধরে নারীদের খেলার উত্থান হচ্ছে। সমাজ সাম্যের দিকে এগোচ্ছে, আমরাও নারী অ্যাথলেটদের দুর্দান্ত স্কিল ও তাদের অর্জনের মূল্যায়ন করছি।’

২০১৩ সালে সিডনি এফসির হয়ে ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপে খেলা পেরি বলেন, ‘আরও সফল হওয়ার জন্য অসাধারণ এক মঞ্চ পেয়েছি আমরা, অস্ট্রেলিয়ার খেলার চিত্রে আরেকটি ছাপ রাখতে পারে এটি। পণ্যটা প্রস্তুত। এখন শুধু দর্শকদের এসে অসাধারণ একটি সময় উপভোগ করার ব্যবস্থাটা করে দিতে হবে। আমাদের পরের ধাপ হবে স্টেডিয়াম, যাতে কানায় কানায় পূর্ণ করতে পারি।’

আপাতত চোটের কারণে ক্রিকেটেরও বাইরে আছেন এলিস পেরি। গত মাসে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে পাওয়া হাঁটুর চোট থেকে সেরে উঠছেন তিনি। ইংল্যান্ডের দ্য হানড্রেড টুর্নামেন্ট থেকেও তাই সরিয়ে নিয়েছেন নিজেকে। আগামী সেপ্টেম্বরে ক্রিকেটে ফেরার আশা তার। অস্ট্রেলিয়ার জার্সি গায়ে তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটে ৬১৬৫ রান সংগ্রহ এলিস পেরির। বল হাতে এই পেস তারকার শিকার তিন ফরম্যাটে ৩২৩ উইকেট।