Home আঞ্চলিক সুলতান কমপ্লেক্স পূর্ণতা পেল না দুই দশকেও

সুলতান কমপ্লেক্স পূর্ণতা পেল না দুই দশকেও

21

নড়াইল প্রতিনিধি।।

খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের স্মৃতি রক্ষায় ২০০৩ সালে একটি বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়। তৈরি করা হয় এস এম সুলতান কমপ্লেক্স। সেই যে নির্মাণ কাজ শুরু হলো, দুই দশক পেরিয়ে গেলেও তা শেষ করা যায়নি। প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়নি, নির্মাণ করা হয়নি ‘সুলতান ঘাট’। এরই মধ্যে নষ্ট হতে শুরু করেছে শিশুদের জন্য তৈরি ৬০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৫ ফুট প্রস্থের শিল্পীর দ্বিতল ভ্রমণ তরীসহ কয়েকটি স্থাপনা। বিভিন্ন স্থানে কাঠে ঘুন ধরেছে। মাঝে মধ্যে সংস্কার করা হলেও নৌকার মূল কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কমপ্লেক্স-সংলগ্ন চিত্রা নদীর তীরে যে স্থানে নৌকাটি রাখা হয়েছে সে জায়গাটিও ভাঙনের ঝুঁকিতে আছে। ছবিগুলো সংরক্ষণের জন্য সুলতান গ্যালারি তৈরি করা হলেও তা অনুপযুক্ত।

জানা গেছে, কমপ্লেক্স দেখতে আসা পর্যটকদের বসার ব্যবস্থা, নৌপথে আসা নৌকা ভেড়ানো এবং বাড়তি আনন্দ উপভোগের বিষয়টি মাথায় রেখে চিত্রা নদীর তীরে ২০১৮ সালে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে সুলতান ঘাট নির্মাণ কাজ শুরুর দু’মাস পর বন্ধ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে বিতর্ক ও নতুন নকশার জটিলতায় শুরু হয়নি নির্মাণ কাজ।

সুলতান কমপ্লেক্সের কিউরেটর তন্দ্রা মুখার্জী বলেন, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসনের অনুদানের দেড় লাখ টাকায় শিল্পীর নৌকার সংস্কার ও পার্কিংয়ের জায়গাটি টাইলস, নৌকা রং করা, সুলতানঘাট এলাকা পরিষ্কার এবং দর্শনার্থী ও নৌ ভ্রমণের জন্য বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী ঘাট নির্মাণ করা হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ বেশি হলে ভাঙন এলাকা আরও মজবুত করা যেত।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশফাকুল হক চেীধুরী বলেন, শিল্পী এস এম সুলতানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে আমরা দৃষ্টিনন্দন সুলতান ঘাট নির্মাণের চেষ্টা করব। নদীর কিনারার ওই জায়গাটির মালিকানা যারা দাবি করছে তাদের বিরুদ্ধে নোটিশ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া সুলতান কমপ্লেক্সে উপযুক্ত পরিবেশে শিল্পীর ছবি রাখতে নতুন চিত্র গ্যালারি, নৌকা সংরক্ষণ ও সংস্কারসহ কমপ্লেক্সকে পরিপূর্ণ করতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মাধ্যমে ২০ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, বরাদ্দ পাওয়া যাবে।