খুলনায় করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৩৪৪ : একদিনে শনাক্ত ৪০
স্টাফ রিপোর্টার
গত ২৪ ঘন্টায় খুলনায় আরো ৪০জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে খুলনায় মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪৪ জন। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় খুলনা মেডিকেল কলেজের (খুমেক) পিসিআর ল্যাব ও খুলনা সিভিল সার্জনের দপ্তর থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
খুমেকের উপাধ্যা ডা. মেহেদী নেওয়াজ বলেন, গতকাল খুমেকের পিসিআর ল্যাবে ৩৭৮টি নমুনা পরীা করা হয়। এর মধ্যে খুলনার নমুনা ছিল ১৫৪টি। মোট পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে ৫৮টি। পজিটিভ রিপোর্টগুলোর মধ্যে রয়েছে খুলনার ৪০টি ও বাগেরহাটের ১০টি, সাতীরার ১টি, বিনাইদহের ১টি, যশোর ১টি ও গোপালগঞ্জের ১টি।
খুলনা সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ বলেন, গতকাল দুপুর পর্যন্ত খুলনায় করোনা রোগীর সংখ্যা ছিল ৩০৪ টি। সন্ধ্যায় খুমেকের ল্যাবে আরো ৪০ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এই নিয়ে মোট রোগীর সংখ্যা দাড়ালো ৩৪৪ জন।
খুমেকে করোনা উপসর্গ নিয়ে একজনের মৃত্যু
স্টাফ রিপোর্টার
খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে করোনা উপসর্গ নিয়ে শারাফাত হোসেন (৫০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে তার মৃত্যু হয়। শারাফাত নগরীর দৌলতপুরের কবির বটতলা এলাকার বাসিন্দা এবং মহানগর মহিলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জেসমিন সুলতানা শম্পার স্বামী।
খুমেক হাসপাতালের ফু কর্নারের ফোকাল পার্সন (আরএমও) ডা. মিজানুর রহমান বলেন, দু’দিন ধরে জ্বর, কাশি, শাসকষ্ট নিয়ে ১০ জুন হাসপাতালে ভর্তি হন শারাফাত। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে
চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। করোনা পরীার জন্য তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
রূপসায় সড়ক দুর্ঘটনায় যুবক নিহত
স্টাফ রিপোর্টার
খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কুদির বটতলা এলাকায় দুর্ঘটনায় প্রসেনজিৎ আচার্য (২৫) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার দুপুর ১টায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত প্রসেনজিৎ নগরীর দোলখোলা শীতলা বাড়ি মন্দিরের পুরোহিত বিকাশ আচার্যের ছেলে।
রূপসার থানার এসআই শ্যামা প্রসাদ মন্ডল জানান, দুুপুরে প্রসেনজিৎ নিজেই প্রাইভেটকার চালিয়ে খুলনা থেকে বাগেরহাট যাচ্ছিলেন। কুদির বটতলা তার প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো ব-২০ ৪৭৭৭) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে গাড়িটি মারাত্মকভাবে তিগ্রস্থ হয়। গুরুতর আহত প্রসেনজিৎকে প্রথমে রূপসা সিএসএস হাসপাতাল, পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিছু সময় পর তিনি মারা যান।
ফুলতলায় জেলা ডিবি’র অভিযানে বিয়ারসহ গ্রেফতার ১
স্টাফ রিপোর্টার
খুলনা জেলার ফুলতলা থানাধীন আলকা গ্রামে অভিযান চালিয়ে ১৯ ক্যান এ্যালকোহল যুক্ত বিয়ারসহ একজনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ১১জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার ব্যাক্তি হলেন নগরীর দৌলতপুর ১৪৩, কেডিএ বাউন্ডারী রোডের মৃত. ফজলুল রহমানের ছেলে মো. আলমগীর পারভেজ (৪২)।
জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ সেখ কনি মিয়া জানান, ১১জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে খুলনা জেলার ফুলতলা থানাধীন আলকা গ্রামে অভিযান পরিচালনা করেন তার নেতৃত্বে এসআই রাজিউল আমিন। এসময় চৌদ্দমাইল সুপার জুট মিলের সামনে থেকে ১৯ ক্যান বিয়ারসহ আলমগীর পারভেজকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ফুলতলা থানায় মাদকদ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সাতীরায় র্যাবের অভিযানে ২কেজি গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসাযী গ্রেফতার
স্টাফ রিপোর্টার
সাতীরা জেলা সদরের কাঠন্ডা গ্রামে অভিযান চালিয়ে এককেজি ৯০০গ্রাম গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার করেছে র্যাব-৬। গতকাল শুক্রবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে গোপন সংবাদের মাধ্যমে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার করা হয়। মাদক ব্যবসায়ী হলেন সাতীরা জেলা সদরের বৈকারী এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে মো. আনারুল ইসলাম (৫০)।
র্যাব-৬ জানায়, গতকাল শুক্রবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে সাতীরা জেলা সদরের কাঠন্ডা গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে র্যাবের একটি আভিযানিক দল। এসময় টেকনিক্যাল কলেজের সামনে থেকে এককেজি ৯০০গ্রাম গাঁজাসহ আনারুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে সাতীরা সদর থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
বিপিআইএ-এর বাজেট প্রতিক্রিয়া: ঘোষিত বাজেটকে স্বাড়ত জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক খামারীদের প্রণোদনা-ভর্তুকির সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনার দাবী
খবর বিজ্ঞপ্তি
২০২০-২১ অর্থ বছরের ঘোষিত জাতীয় বাজেটকে সুস্বাগত ও শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশন-এর পক্ষে সভাপতি শাহ হাবিবুল হক ও সেক্রেটারী জেনারেল ডাঃ মনজুর মোরশেদ খান। প্রতিক্রিয়ায় তারা বলেন, প্রোল্ট্রি, ডেইরী ও মৎস্য শিল্পের আমদানীকৃত খাদ্যে ৫% কর কমিয়ে ২% করায় প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও স্বাগত জানান। তবে বারংবার ক্ষতিগ্রস্ত ও করোনার প্রভাবে মহা সমস্যা থাকা দেশের প্রান্তিক ক্ষুদ্র-মাঝারী খামারীদের প্রণোদনা-ভর্তুকির সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাবনা না থাকায় উদ্বেগ জানিয়ে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত পোল্ট্রি শিল্প সার্ভিস সেক্টরের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঘোষিত প্রণোদনা টাকা শুধুমাত্র ক্ষুদ্র-মাঝারী খামারীদের মাঝে সুষ্ঠু ও সততার সাথে বণ্টনের দাবী করেন। বিপিআইএ-এর প্রেরিত দাবীসমূহÑচাহিদার আলোকে উৎপাদন ও অতিরিক্ত উৎপাদিত মুরগীর ডিম, মাংস, দুধ রপ্তানির ব্যবস্থা, বীম প্রথা চালু, বিদেশী বিনিয়োগের নামে বহুজাতিক কোম্পানিকে মুরগী চাষের অনুমতি বাতিল, প্রাণিকূলের শুমারি করে চাহিদা ও উৎপাদন নিরূপণ, কৃষিজ-ভিলেজ ও লাইভ-স্টক এলাকা প্রকল্প তৈরির ও বাস্তবায়ন, মৎস্য সপ্তাহের মত প্রতি বছর প্রাণিসম্পদ পোল্ট্রি সেবা দিবস পালনের দাবী করা হয়। করোনাকালীন বাজেটে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে ৩ হাজার ১৯৩ কোটি টাকার বরাদ্দ রাখার জন্য সরকারকে অভিনন্দন জানান।
অনুরূপ বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ পোল্ট্রি খামার রক্ষা জাতীয় পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাজী বারেক সরকার ও সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মোঃ মহসীন ও খুলনা পোল্ট্রি ফিশ ফিড ফিড শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মওলানা ইব্রহিম ফয়জুল্লাহ ও মহাসচিব কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক প্রাণিপ্রেমী এস এম সোহরাব হোসেন।
মোংলা-রামপালের ৩ হাজার বিএনপি নেতা-কর্মীর মাঝে মাস্ক বিতরণ
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস সংক্রমণ হতে সুরক্ষার জন্য মোংলা-রামপালের ৩ হাজার বিএনপি নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মাঝে উন্নতমানের মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে। বাগেরহাট জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলামের পক্ষ থেকে শুক্রবার মোংলা ও রামপালের দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে এ মাস্ক বিতরণ করা হয়। ড. ফরিদের পক্ষে মোংলা-রামপালের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় বিএনপিসহ সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতা ফকির শাহাদাৎ হোসেন, আঃ হালিম পাটোয়ারী, আলতাফ হোসেন বাবু, দপ্তর সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম, শেখ আব্দুল্লাহ আজমী, ফকির আবু জাফর, মোঃ আলমগীর হোসেন, আব্বাস হোসেন, লিয়াকত হোসেন, সিরাজুল ইসলাম, কাজী ওজিয়ার রহমান, আলমগীর কবির বাচ্চু, মহাসিন হোসেন, মাছুদুর রহমান পিয়াল, ওহিদুজ্জাম সাবু, সরদার বাকি বিল্লাহ, নোয়াব হোসেন, মারুফ হোসেন, শেখ হাবিবুর রহমান, তরিকুল ইসলাম শোভন, মোফাজ্জল হোসেন বাদল, তুহিন এ মাস্ক বিতরণ করেছেন। বাগেরহাট জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, গত তিন মাস ধরে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় তার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে মোংলা-রামপালের ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মানুষকে করোনা সম্পর্কে সচেতন করতে লিফলেট বিতরণ ও মাস্ক বিতরণের পাশাপাশি প্রায় সাড়ে ৩ হাজার পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা, নগদ অর্থ প্রদাণ এবং পরিচ্ছন্নতা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তার এ কার্যক্রম চলমান থাকবে বলেও জানান তিনি। এছাড়াও স্থানীয় দলীয় নেতা-কর্মীদের দিয়েও বিভিন্নস্থানের অসহায় কৃষকদের ধান কেঁটে দেওয়া হয়েছে। সকল পর্যায়ের অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা যাতে করোনাকালে কর্মহীন দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে পারেন সেজন্য তিনি সকলের সহযোগীতা কামনা করেন।
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় বজ্রপাতে এক ছাত্রের মৃত্যু
খান নাজমুল হুসাইন,সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় বজ্রপাতে সজিব হোসেন (১৫) নামে এক স্কুল ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকালে এ বজ্রপাতের ঘটনাটি ঘটে। নিহত সজিব হোসেন উপজেলার খোরদো গ্রামের মোজাম্মেল হোসেনের ছেলে ও পানি কাউরিয়া হাইস্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র। কুশোডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসলামুল আলম আসলাম জানান, স্কুল ছাত্র সজিব কলারোয়ার পানি কাউরিয়া গ্রামে তার নানা ছলেমান গাজীর বাড়িতে থেকে লেখা পড়া করতো। শুক্রবার সকালে সে তার তিন মামার সাথে নিয়ে পানি কাউরিয়ার একটি মাঠে তিল আনতে যায়। সেখান থেকে বাড়িতে ফেরার পথে হঠাৎ বজ্রপাত ঘটে। এতে গুরুতর আহত হয় সজিব। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে কলারোয়া উপজেলা স্বস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে, এ সময় তার সাথে থাকা মামাদের কোন ক্ষতি হয়নি। এদিকে সজিবের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সাতক্ষীরায় গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র্যাব
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার সীমান্ত এলাকা থেকে প্রায় দুই কেজি গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের (র্যাব) সদস্যরা। শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার কাথন্ডা গ্রামের সীমান্ত টেকনিক্যাল কলেজ মোড়ের পাঁকা রাস্তার উপর থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক মাদক ব্যবসায়ীর নাম আনারুল ইসলাম (৫০)। তিনি সদর উপজেলার সীমান্ত গ্রাম বৈকারী এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে। র্যাব জানায়, সদর উপজেলার কাথন্ডা সীমান্ত এলাকায় কতিপয় ব্যক্তি মাদক দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় করার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তির্যাব-৬ এর সাতক্ষীরা ক্যাম্পের অধিনায়ক সিনিয়র এ.এস.পি বজলুর রশিদের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় সেখানকার সীমান্ত টেকনিক্যাল কলেজ মোড়ের পাঁকা রাস্তার উপর থেকে ১ কেজি ৯০০ গ্রাম গাঁজাসহ উক্ত মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন ও দুটি সিম কার্ড জব্দ করা হয়। র্যাব সাতক্ষীরা ক্যাম্পের অধিনায়ক সিনিয়র এ.এস.পি বজলুর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অপহরণের ১৮ দিন পর উদ্ধার, থানায় মামলা দায়ের: শরণখোলায় মাদ্রাসা ছাত্রীকে আটকে রেখে পালাক্রমে ধর্ষন
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ঃ
বাগেরহাটের শরণখোলায় এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে অপহরনের পর ১৮ দিন আটকে রেখে পালাক্রমে ধর্ষনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বুধবার দুপুরে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে শরণখোলা থানা পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। এ ঘটনায় শুক্রবার শরণখোলা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
উপজেলার দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের অপহৃত ছাত্রীর পিতা জানান, তার মেয়ে উপজেলার একটি দাখিল মাদ্রাসায় ১০ শ্রেনীতে পড়াশুনা করে। পার্শ্ববর্তী মালিয়া-রাজাপুর গ্রামের হানিফ হাওলাদারের ছেলে রাকিব (২৮) ও মোজাম্মেল ভুইয়ার ছেলে মুন্না (২৮) বিভিন্ন সময় তার মেয়েকে উত্যাক্ত করতো। এ অবস্থায় গত ২২ মে বেলা ১১টায় তার মেয়ে ব্যক্তিগত কাজে বাড়ির সামনের রাস্তায় যায়। এ সময় মোটরসাইকেলসহ বন্ধুদের নিয়ে ওৎ পেতে থাকা রাকিব ও মুন্না তার মেয়েকে জোর পুর্বক অপহরন করে নিয়ে যায়। সেই থেকে শরণখোলা থানায় মৌখিভাবে জানিয়ে মেয়েকে খুঁজতে থাকেন। গত বুধবার (১০ জুন) অপহরনকারীরা তার মেয়েকে ঢাকা নিয়ে যাওয়ার পথে খবর পেয়ে পুলিশ উপজেলার পাঁচ রাস্তা এলাকা থেকে উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়ার পর ওই ছাত্রী সাংবাদিকদের জানান, অহরনের পর মুন্নার বাড়ির দোতালায় নিয়ে তাকে আটকে রেখে মুন্নার মা খাদিজা বেগম ও তার ভাই খোকনের সহযোগীতা পালাক্রমে ধর্ষণ করে রাকিব। এ ব্যাপারে শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ এস.কে আব্দুল্লাহ আল সাইদ জানান, উদ্ধার করে মেয়েটিকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। তার পিতা বাদী হয়ে রাকিব ও মুন্নাসহ পাঁচজনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। আসামী গ্রেফতারে অভিযান চালছে। শনিবার মেয়েটিকে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ২২ ধারায় জবানবন্ধি গ্রহন ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য বাগেরহাট পাঠানো হবে।
উপকূলীয় অঞ্চলে নৌবাহিনীর টহল ও ত্রাণ সহায়তা প্রদান
খবর বিজ্ঞপ্তি
দেশের ভয়াবহ করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি রোধকল্পে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লকডাউন মান্য করতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কার্যক্রম করছে নৌবাহিনী। সংক্রমিত এলাকাসমূহ পর্যায়ক্রমে রেড জোন, ইয়োলা জেন এবং গ্রীন জোনে বিভক্ত করণসহ নানাবিধ সচেতনতামূলক কার্য পরিচালনা করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। সকল এলাকায় প্রচার করে লকডাউন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সাধারণ জনগণকে কাঁচা বাজার, ঔষধের দোকান ও মসজিদ ব্যবহারে সরকারী নীতিমালা অনুসরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে আসছে নৌ সদস্যরা। সাধারণ জনগণকে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চতকরণ, একান্ত প্রয়োজনে বাড়ির বাহিরে অবস্থানের ক্ষেত্রে মুখে মাস্ক পরিধানের জন্য নির্দেশনা প্রদানসহ বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। বর্তমান পরিস্থিতিতে অসহায় ও দুস্থ পরিবারের দরজায় দরজায় গিয়ে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণসহ বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে নৌবাহিনী। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে ও বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানের অংশ হিসেবে মোতায়েনকৃত নৌবাহিনী কন্টিনজেন্ট বরগুনা জেলা সদর, বামনা, বেতাগী ও পাথরঘাটা এলাকায় নিয়মিত টহলের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমসহ উপজেলাসমূহের বিভিন্ন স্থানে ২০০টি সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। এ সময় সাধারণ জনগণকে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চতকরণ, একান্ত প্রয়োজনে বাড়ির বাহিরে অবস্থানের ক্ষেত্রে মুখে মাস্ক পরিধানের জন্য নির্দেশনা প্রদান করে। এছাড়া যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে ইজিবাইক, মাহেন্দ্রের যাত্রীবহনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দু’জন যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে পারবে এবং মোটরসাইকেল হেলমেটসহ একজন চলাচলের নির্দেশ প্রদান করেন। প্রত্যেকের মাক্স ব্যবহার বাধ্যতামূলক কোন অবস্থাতেই মাক্স মুখের নিচে ঝুলিয়ে রাখলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের হুশিয়ারি করেন। নৌ কন্টিনজেন্ট মংলা সামাজিক জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দিগরাজ বাজার, বুড়িরডাঙ্গা, বৈদ্যমারী, চটেরহাট, চরকানাই, চাদপাই, আপাবাড়ি, মংলা বাজার, হাসপাতাল চত্ত্বর ও ফেরিঘাট এলাকায় টহল অব্যাহত রেখেছে। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ সর্ম্পকিত বিভিন্ন লিফলেট বিতরণ, এছাড়া রাস্তা ও যানবাহনে ১০% কোরিনযুক্ত জীবাণুনাশক পানি ছিটিয়ে জীবাণুমুক্ত করা হয়। নৌ কন্টিনজেন্ট জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে সহায়তা প্রদানসহ নিয়মিত টহল ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে ।
প্রস্তাবিত বাজেট বর্তমান সংকটকে সম্ভাবনায় রূপ দেওয়ার বাস্তবসম্মত দলিল : ওবায়দুল কাদের
ঢাকা অফিস
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ২০২০-২০২১ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট করোনার বিদ্যমান সংকটকে সম্ভাবনায় রূপ দেওয়ার বাস্তবসম্মত দলিল। তিনি বলেন, ‘এবারের বাজেট প্রস্তাব ভিন্ন বাস্তবতায়, ভিন্ন প্রেক্ষাপটে প্রণীত হয়েছে। বাজেট করোনার বর্তমান সংকটকে সম্ভাবনায় রূপ দেওয়ার বাস্তবসম্মত দলিল। জীবন-জীবিকার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে দেশকে এগিয়ে নিতে শেখ হাসিনা সরকারের সময়োচিত সাহসী চিন্তার ফসল।’
ওবায়দুল কাদের আজ শুক্রবার সকালে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মলনে এ কথা বলেন। ২০২০-২০২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ্য থেকে প্রতিক্রিয়া জানানো উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংসদ ভবনের নিজ বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মণি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, প্রচার সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়া, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সব দিক বিবেচনায় নিয়ে করোনার কবল থেকে ‘অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের’ এক ভারসাম্যপূর্ণ বাজেট হচ্ছে এবারের বাজেট। এটি একটি জনবান্ধব ও জীবন ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক পরিকল্পনা। যার মাধ্যমে দেশের উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য উৎসাহ পাবে। তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। এডিবি’র সাময়িকীর হিসাবে আশঙ্কা করা হয়েছে- করোনা পরিস্থিতির কারণে ১৪ লাখ মানুষ কর্মসংস্থান হারাতে পারে। ফলে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সরকার বাজেটে বিনিয়োগ বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। করোনার কারণে কয়েক মাস ধরে বিপর্যয়ের পরও বাজেটের আকার কমেনি, বরং বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রীসহ বাজেট প্রণয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনা মোকাবিলার পাশাপাশি মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করা, মানুষ যেন কষ্ট না পায়, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই সব প্রতিকূলতাকে জয় করে বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দুর্যোগে-দুর্বিপাকে এ দেশের মাটি ও মানুষের পাশে থেকে কাজ করে আসছে আওয়ামী লীগ।এই দলটির নেতৃত্বেই দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এদেশের জনগণের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তি অর্জিত হয়েছে। স্বাধীনতা ও মুক্তির প্রতীক আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই বাংলাদেশের অগ্রগতি হয়।
ওবায়দুল কাদের বলেন, সোমবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ ৫ লক্ষ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছেন। করোনা ভাইরাসের কারণে কয়েক মাস ধরে বিপর্যয়ের পরও আমাদের বাজেটের আকার কমেনি বরং বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গত ১১ বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির ধারাবাহিক অগ্রগতির সুফল এই বাজেট।
ওবায়দুল কাদের বলেন, অনেকে এটাকে উচ্ছাভিলাষী মনে করতে পারেন। তবে, আওয়ামী লীগের কাছে মানুষের প্রত্যাশা বেশি। এই প্রত্যাশা পূরণে যত ঝুঁকি নিতে হয় শেখ হাসিনা তা নিবেন।
সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে আগের উন্নয়নের ধারাবাহিকতার কাক্সিক্ষত ভিত রচনাই এবারের বাজেটের লক্ষ্য। করোনার কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাজস্ব আয় হ্রাস পেয়েছে। ফলে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে গত অর্থবছরে ধার্যকৃত লক্ষ্যমাত্রা ৩ লক্ষ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা থেকে ২৯ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা হ্রাস করে ৩ লক্ষ ৪৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী অর্থবছর অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার প্রথম বছর। সুতরাং এই বাজেটে তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অধিকতর গুরুত্ব পাবে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, এবারের বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্ছ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে মোট বরাদ্দ ৪১ হাজার ২৭ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। করোনা মোকাবেলায় বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বপালনকারী কর্মকর্তাদের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং চিকিৎসায় নিয়োজিত ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীসহ সম্মুখযোদ্ধাদের সম্মানীবাবদ ৮৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাজেটে কোভিড-১৯ মোকাবেলায় যে কোন জরুরী চাহিদা মেটানোর জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাজেটে কৃষিকে দ্বিতীয় সর্বোচ্ছ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। অধিক খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, সেচ ও বীজে প্রণোদনা, কৃষি পুনর্বাসনে জোর প্রদান, সারের উপর ভর্তুকি প্রদান অব্যাহত রাখাসহ বিভিন্ন কর্মদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। আগামী অর্থবছরে কৃষি খামার যান্ত্রিকীকরণে ৩ হাজার ১৯৮ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। কৃষিতে ভর্তুকির জন্য ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামী অর্থবছরে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য নিরাপত্তা খাতে গত অর্থবছরে বরাদ্দকৃত ২১ হাজার ৪৮৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২২ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা করা হয়েছে। দীর্ঘ সাধারণ ছুটি ও লকডাউন জনিত কারণে সৃষ্ট দরিদ্র্য কর্মজীবী মানুষের কষ্ট লাঘবে সামাজিক নিরাপত্তার আওতা সম্প্রসারণ করে এই খাতকে তৃতীয় অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণের এই সময়ে কর্ম ঝুঁকিতে পড়া দরিদ্র কর্মজীবী মানুষের কষ্ট লাঘবে ৫০ লক্ষ মানুষকে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন শেখ হাসিনা। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা ভাতা এবং অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতার আওতা সম্প্রসারণসহ নতুন করে উপকারভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির পরিকল্পনা এই বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে ১১ লক্ষ ৫ হাজার জন নতুন উপকার ভোগী সংযুক্ত হবে এবং এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭৩৯ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা।
ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনা সংকটের মধ্যেও সরকার তার নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। বাজেটে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ‘আমার গ্রামÑ আমার শহর’ বাস্তবায়ন এবং ‘সুনিল অর্থনীতির সম্ভাবনা’ কাজে লাগানোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। মেগাপ্রকল্পসহ এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের অর্থনীতির গতিশীলতা ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাবে।
তিনি বলেন, করোনায় সৃষ্ট সংকট বিবেচনায় ব্যক্তিশ্রেণী ও কর্পোরেট লেভেলে করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে এ বাজেটে। লোয়ার কর্পোরেট ট্যাক্সের হার ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩২.৫ শতাংশে এবং ব্যক্তিশ্রেণীর ট্যাক্সের হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭.৫ শতাংশ করা হয়েছে। শিল্প ও ব্যবসাখাতকে প্রতিযোগিতা সক্ষম করার লক্ষ্যে ব্যাংক ঋণের উপর সুদের হার ১ অংকের মধ্যে নামিয়ে আনা হয়েছে।
সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, সরকার পুঁজিবাজারকে গতিশীল ও উজ্জ্বীবিত করার লক্ষ্যে ৬টি স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এছাড়াও বিদ্যুৎখাতে গত এক দশকে নিরবচ্ছিন্নভাবে ব্যাপক বিনিয়োগের কারণে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশের শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা ভোগ করবে। যা কল-কারখানা, শিল্প-প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে এবং জীবনের সকল পর্যায়ে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সকল সঙ্কট ও সমস্যা মোকাবিকলা করে এগিয়ে যাবেই আশা প্রকাশ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, জয় আমাদের হবেইÑ বাঙালির স্বপ্নজয়ের সংগ্রামে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গৌরবোজ্জ্বল অভিযাত্রা অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাবে ইনশাল্লাহ্। পরম করুণাময় আমাদের সহায় হোন।
বাজেট ঘোষণার সাথে সাথে কোনো ধরনের বিচার-বিশ্লেষণ না করেই বিএনপিসহ কতিপয় মহল আগে-ভাগে প্রস্তুত করা ও মনগড়া, পুরনো ও গতানুগতিক গল্পের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছে দাবী করে আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক বলেন, বিএনপি নেতারা গত ১১টি বাজেট ঘোষণার পর বাজেট নিয়ে নানা ধরনের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করেছেন এবং বরাবরই বলেছেন বাজেট বাস্তবায়ন হবে না।অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়বে এ ধরনের বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করতে দেখা গেছে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, এবারও বিএনপি সংকট জয়ের সুপরিকল্পিত কর্মোদ্যোগ এই বাজেটের বিরুদ্ধে চিরায়ত ভঙ্গিতে মিথ্যাচার করছে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় মাত্র ৫০ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রণয়ন করেছিল আর বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজকের বাংলাদেশে করোনা মোকাবেলায় শুধুমাত্র স্বাস্থ্যখাতেই ৪১ হাজার ২৭ কোটি টাকা এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ৯৫ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে। তাদের পক্ষে এই বাজেটের ব্যাপকতা ও সম্ভাবনা অনুধাবন করা সম্ভব নয়। এটাই স্বাভাবিক।
অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শুরু
ঢাকা অফিস
দেশের অর্থনীতিতে কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাবকে সামনে রেখে সরকার অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়ন কাজ শুরু করেছে। চলতি বছর ৩০ জুনে সপ্তম পঞ্চমবার্ষিকী পরিকল্পনার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। এরই প্রেক্ষিতে ‘কাউকে পিছনে ফেলে নয়’ শ্লোগানকে সামনে রেখে অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়ন কাজ শুরু হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম মোস্তফা কামাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ২০২০-২১ হতে ২০২২-২৩ মধ্যমেয়াদী সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতিতে এ কথা জানান।
নীতি বিবৃতিতে বলা হয়, কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাব মূল্যায়নে বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন একটি স্টাডি সম্পন্ন করেছে। এই স্টাডির ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি দারিদ্র হ্রাস কার্যক্রম এবং প্রবৃদ্ধির ওপর কি ধরনের প্রভাব ফেলবে উক্ত স্টাডিতে এই দিকটিও বিশেষভাবে ওঠে এসেছে।
অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় যেসব বিষয় সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে তা হচ্ছে ত্বরান্বিত সমৃদ্ধি ও অন্তর্ভূক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি। তাই, বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন সূচকে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলকে গুরুত্ব দিয়ে আগামী অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে।
আগামী ২০২৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশ যাতে এলএসডি হতে উত্তরণে এসডিজি বাস্তবায়নে সফল হয় সেই বিষয়টি অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কোন দরিদ্র জনগোষ্ঠী বা অঞ্চলকে পিছনে ফেলে রেখে উন্নয়ন অভীষ্ঠ লক্ষ্য এসডিজি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই, ৮ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় যাতে প্রবৃদ্ধির সুবিধা সকলের কাছে সমান ভাবে পৌঁছানো যায় তা বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে নীতি বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-২০৪১ এবং সরকারের ২০১৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহার অনুসরণ করা হবে। বাংলাদেশ ইতেমধ্যে নি¤œ মধ্যম আয়ের মর্যাদা অর্জন করেছে এবং স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে প্রাথমিক উত্তরণের ভিত্তি স্থাপন করেছে।
আগামী পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় প্রস্তুতকৃত মূল সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামোতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে নীতি বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন।
জমি বিক্রির টাকা লুট করতে খুন করা হয় সুন্দরিকে
মেহেরপুর প্রতিনিধি
জমি বিক্রির টাকা লুট করতে খুন করা হয় মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার বামুন্দী এলাকার সুন্দরি বেগমকে। সুন্দরি বেগম একটি জমি বিক্রি করতে ক্রেতার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা বায়না নিয়েছিলেন। সেই টাকা ছিনতাই করতে একজন সহযোগীকে নিয়ে সুন্দরিকে হত্যা করেন ভাসুরের ছেলে জামিরুল ইসলাম। শুক্রবার সকালে মেহেরপুর পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য তুলে ধরেন পুলিশ সুপার এসএম মুরাদ আলী। পুলিশ সুপার বলেন, মামলাটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা হিসেবে আমলে নিয়ে রহস্য উদঘাটন করার জন্য জেলা গোয়েন্দা শাখাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত ওসি জুলফিকার আলীর তদন্তে জামিরুল ইসলামকে (৩৩) আটক করা হয়। জামিরুল ইসলাম কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর থানার শিতলাইপাড়ার আবু আফফানের ছেলে। তবে তার সহযোগী পলাতক রয়েছেন।
তিনি আরও জানান, আসামি আটকের পর ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় হত্যা ও জমি বিক্রির টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। সুন্দরী বেগমকে গলায় শাড়ি জড়িয়ে হত্যা করা হয়। এসময় স্বামী রুস্তুম আলী বাঁধা দিলে কুড়াল দিয়ে তার ওপরও হামলা চালায় আসামিরা। দুজনই মারা গেছে ভেবে আসামিরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। তবে এ হত্যাকান্ডের সাথে আরো কেউ জড়িত আছে কিনা সে বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার পদ মর্যাদা) শেখ জাহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম, ওসি ডিবি জুলফিকার আলীসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা। উল্লেখ্য, গত ২৮ মে গাংনীর বামুন্দীতে একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে সুন্দরি বেগম নামের এক নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। একই ঘরের চৌকির ওপর থেকে সুন্দরির স্বামী রুস্তম আলীকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
সংক্রমণ রোধ করতে না পারলে বিপর্যয়!
জাকিয়া আহমেদ
দেশে করোনা পজিটিভের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। এরইমধ্যে মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। করোনা উপসর্গ নিয়ে যাদের মৃত্যু হচ্ছে বা যারা উপসর্গ থাকার পরও পরীক্ষা করাচ্ছেন না, তাদের অনেকের হিসাবই এর বাইরে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে যদি রোগী সংখ্যা বাড়তে থাকে আর সংক্রমণ রোধ না করা যায়, তাহলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে। দেশে করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার ৯৫তম দিনে শুক্রবার (১২ জুন) আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ হাজার ছাড়িয়েছে। এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত হয়েছে ৮১ হাজার ৫২৩ জন। আর মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে এক হাজার ৯৫ জনে। জুনের শুরু থেকে প্রতিদিন দুই হাজারের ওপরে কোভিড-১৯ পজিটিভ রোগী শনাক্ত হচ্ছে। এরমধ্যে তিন হাজার ছাড়িয়েছে তিন দিন। বিগত দিনগুলোর তুলনায় শুক্রবার সর্বোচ্চ মৃত্যুর কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এদিন ৪৬ জনের মৃত্যুর কথা জানান অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) অধিদফতর থেকে জানানো হয়, তার আগের ২৪ ঘণ্টায় করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন তিন হাজার ১৮৭ জন। শনাক্তের হার ছিল ২০ দশমিক ২১ শতাংশ, মারা গেছেন ৩৭ জন। গত ১০ জুনের তথ্য অনুযায়ী, আগের ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হন তিন হাজার ১৯০ জন, শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ, মারা গেছেন ৩৭ জন। ৮ জুনের হিসাব অনুযায়ী, আগের ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয় ৪২ জনের আর শনাক্ত হন দুই হাজার ৭৩৫ জন। ৭ জুনের তথ্যানুযায়ী, আগের ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয় ৪২ জনের আর শনাক্ত হন দুই হাজার ৮৪৩ জন। ৬ জুনের তথ্যানুযায়ী, আগের ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয় ৩৫ জনের আর শনাক্ত হন দুই হাজার ৬৩৫ জন। ৫ জুনের তথ্যানুযায়ী, আগের ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয় ৩০ জনের আর শনাক্ত হন দুই হাজার ৮২৮ জন। রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকসহ বিশেষজ্ঞরা। করোনার বিস্তার বন্ধ করতে বড় এলাকাজুড়ে পূর্ণ ও কঠোর লকডাউন প্রয়োজন বলে মনে করে কোভিড-১৯ জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। আর তাই সারা দেশে আক্রান্ত ও ঝুঁকির মাত্রার ভিত্তিতে যতটা বড় এলাকায় সম্ভব জরুরি লকডাউনের সুপারিশ করেছেন কমিটির সদস্যরা। একইসঙ্গে রোগী বাড়তে থাকলে হাসপাতালগুলোতে সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত কঠিন অবস্থার মুখোমুখি হতে হবে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এভাবে যদি রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে তাহলে ভয়াবহ বিপর্যয় হবে মন্তব্য করে কোভিড-১৯ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক জাতীয় সমন্বয় কমিটির উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এভাবে রোগী সংখ্যা বাড়লে তো হাসপাতালে জায়গা পাওয়াই কঠিন হয়ে যাবে। অলরেডি যেসব হাসপাতালে কোভিডের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে সেগুলো ভর্তি হয়ে গেছে। জায়গাই তো খালি নাই। সরকারকে চেষ্টা করতে হবে। তারচেয়েও জরুরি, রোগের সংক্রমণ যাতে কমে সে ব্যবস্থা নেওয়া। যেকোনোভাবেই রোগী সংখ্যা কম হোক এই প্রার্থনা করি। যেন হাসপাতালে যাওয়া না লাগে, যেন আইসিইউ না লাগে। এজন্য প্রতিকার, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার প্রতি জোর দিতে হবে বেশি, যাতে সংক্রমণের হার কমে যায়।‘ মানুষ কোনও নির্দেশনা মানছে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘তারা প্রতিকার, প্রতিরোধ কিছুই নিচ্ছে না। এজন্য বিপর্যয় রোধে সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে, সচেতন হতে হবে।’ কোভিড-১৯ জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা বলেন, ‘হাসপাতালগুলোতে সেবার পরিধি বাড়ানো দরকার। এখনি রোগী ভর্তি হতে পারছে না। এ সমস্যার সমাধান হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন।’ তিনি বলেন, দ্রুত হাসপাতালগুলোতে শয্যা বাড়ানোর কাজ বাস্তবায়ন করতে হবে। একইসঙ্গে অন্যান্য উপকরণও বাড়াতে হবে, বিশেষ করে অক্সিজেন সরবরাহ। প্রথম কথা হচ্ছে রোগী বাড়তে দেওয়া যাবে না- এই মন্তব্য করে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ বলেন, ‘রোগী যদি বাড়ে তাহলে যতই চেষ্টা করা হোক, সীমিত সম্পদ, সীমিত স্বাস্থ্য অবকাঠামো, সীমিত লোকবল দিয়ে সেটা ম্যানেজ করা যাবে না। তাই প্রথম কাজ রোগী যেন না বাড়ে সে ব্যবস্থা নেওয়া। পাশাপাশি ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন আনতে হবে।‘
রোগ নিয়ন্ত্রণে প্রাথমিক পর্যায়ের চিকিৎসার ওপর জোর দিতে বলেন অধ্যাপক বেনজির আহমেদ। তিনি বলেন, ‘রোগী যখন প্রাথমিক পর্যায়ে থাকবে তখনই ব্যবস্থা নিতে হবে তিনি যেন মারাত্মক পর্যায়ে না যান। এজন্য গুরুত্বপূর্ণ অক্সিজেনের ব্যবস্থা থাকা, পাশাপাশি দরকার চিকিৎসক, নার্সসহ সবার ভালো মানের প্রশিক্ষণ।’ এখনই হাসপাতালে ভর্তি হতে পারছেন না স্বীকার করে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত সচিব মো. হাবিবুর রহমান খান বলেন, ‘বাস্তবতা সবারই স্বীকার করা উচিত। রোগী এভাবে বাড়লে বর্তমানে থাকা হাসপাতালগুলোর বেডে সংকুলান হবে না।’ এক্ষেত্রে সরকারের পরিকল্পনা কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটি বিষয়ের একটি ক্যাপাসিটি, একটা লিমিট থাকে। যদি দিনের পর দিন রোগী বাড়তে থাকে, তাহলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ডরমেটরি যেসব আছে সেসবকে অস্থায়ী হাসপাতাল বানাতে হবে। মানুষকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে হবে আগে।’ তিনি আরও বলেন, রেড-ইয়োলো গ্রিন জোন করা হচ্ছে, এটা যদি ঠিকভাবে পালন করা যায় তাহলে সংক্রমণের যে অব্যাহত ধারা এটা হয়তো কমে আসতে পারে।
বাজেট প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি:‘কল্পনাপ্রসূত কথার ফুলঝুরির বাজেট’
ঢাকা অফিস
প্রস্তাবিত ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটকে ‘অন্তঃসারশূন্য কল্পনাপ্রসূত কথার ফুলঝুরি’ বলেছে বিএনপি। প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতিক্রিয়ায় দলটি জানিয়েছেন, ‘বাজেট জনবান্ধন হয়নি। বর্তমান সরকারের কাছ থেকে এর বেশি কিছু আশা করে লাভও নেই। কারণ জনগণের কাছে তাদের কোনও জবাবদিহিতা নেই।’ শুক্রবার (১২ জুন) বিকালে উত্তরার নিজ বাসায় অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি পক্ষে বাজেট প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বর্তমান সরকারের কাছে এর বেশি কিছু আশা না করার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। ফলে তাদের জনগণের প্রত্যাশিত খাতগুলো উপেক্ষা করা হয়েছে। তাদের দলীয় এবং ব্যক্তি বিশেষের পকেট ভারি করতেই এই বাজেট।’ অর্থমন্ত্রী আ ফ ম মোস্তফা কামালের ‘অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পথ পরিক্রমা’ শিরোনামের এই বাজেট প্রকৃত অর্থে কথার ফুলঝুরি বলে উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এই বাজেট শীর্ষ অর্থনীতিবিদদের অভিমতকে উপেক্ষা করা হয়েছে। আশা ছিল, করোনা কাটিয়ে টেকসই অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলতে তিনি অসাধারণ বাজেটের ঘোষণা দিবেন। কিন্তু নিতান্তই একটি সাধারণ বাজেট ঘোষণা দিলেন।’ বাজেট জাতিকে হতাশ করেছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, ‘বাজেটে স্বাস্থ্যখাত সর্বোচ্চ প্রাধান্য পাবে, এটাই সমগ্র জাতির প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু সরকার সবাইকে হতাশ করে স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের জন্য চলতি অর্থবছরের তুলনায় তিন হাজার ৫১৫ কোটি টাকা বাড়িয়ে ২৯ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেন। এছাড়া করোনা মোকাবেলায় ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হলেও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দেওয়া হলো জিডিপির মাত্র ১.৩ শতাংশ। অথচ স্বাস্থ্যখাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের প্রস্তাব করেছিলাম।’
২০২০-২১ অর্থবছরের ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট একটি গতানুগতিক অবাস্তবায়নযোগ্য বাজেট উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাজেটে পোশাকখাতের অস্থিরতা কাটানোর জন্য কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে যাতে গার্মেন্টসগুলো ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সেই সময়টুকু টিকে থাকার মতো সাপোর্ট তাদের দিতেই হবে। তা না হলে পোশাকখাত মুখ থুবড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে হলে কেবলমাত্র গার্মেন্টস খাতের ওপর ভরসা করলে চলবে না। আমাদের অর্থনীতিকে ডাইভার্সিফাই করতে হবে। কিন্তু সেই ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনও দিকনির্দেশনা প্রস্তাবিত বাজেটে নেই।’ বাজেট কৃষকদের উৎপাদনের উপকরণ যেমন বীজ, সার ইত্যাদির মূল্য হ্রাসের বিষয়ে তেমন কিছুই উল্লেখ নেই দাবি করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘রাসায়নিক সারের গত বছরের দামই বহাল রাখা হয়েছে। কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে যথাযথ মূল্যায়ণ করা হয়নি। ক্ষুদ্র মাঝারি ও কুটির শিল্পে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ সম্পৃক্ত এই খাতও যথাযথ গুরুত্ব পায়নি বাজেট।’ বাজেটে কর্মসংস্থান কারিগরি শিক্ষাখাতে আরও গুরুত্ব দেওয়া দরকার ছিল বলে দাবি করে মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘শস্য বীমার কথা দীর্ঘদিন থেকে বলা হলেও বাজেটে এই বিষয়ে কিছুই বলা নেই।’ এনজিও ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহীতাদের ৩০ জুনের মধ্যে কিস্তি পরিশোধের সময়সীমা বেধে দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এতে করোনার সময় গরীব ঋণ গ্রহীতারা আরও বিপদগ্রস্ত হবে। তাদের কিস্তি পরিশোধের সময়সীমা বৃদ্ধির আহ্বান জানাচ্ছি।’ রূপপুর বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন কিছু সময় পিছিয়ে দিয়েন এই প্রকল্পের ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও খাদ্য নিরাপত্তা খাতে ব্যয় করারও পরামর্শ দেন মির্জা ফখরুল। গত এক দশকের বেশি সময় ব্যাপী সরকারদলীয় যে সব ব্যক্তি নজিরবিহীন দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছে তাদের টাকা সাদা করার জন্য সরকার এবার কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বৃদ্ধি করেছে বলেও দাবি করে বিএনপি। উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ দুই লাখ পাঁচ হাজার কোটি টাকা থেকে এক লাখ কোটি টাকা করোনা সংকট মোকাবিলায় দেওয়ার দাবি তুলেন মির্জা ফখরুল। তার দাবি এই খাতে লুটপাট বেশি হয়।
বাজেটে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা খাতে বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়ার সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘অথচ এখনও আম্পানের ধকল চলছে। উপকূলীয় বাঁধগুলো মেরামত হয়নি। লাখ লাখ মানুষ জলাবদ্ধ রয়েছে। সামনে আরও সংকটময় পরিস্থিতি আসতে পারে। বিশেষ করে করোনার সেকেন্ড শক, যা অনেক দেশেই হচ্ছে। এমন অবস্থায় এই দুই মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ হ্রাস করা উচিত হয়নি।’ ব্যাংকের আমানত কমে যাচ্ছে বলে দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, অর্থমন্ত্রী প্রস্তাব করেছেন ব্যাংকে ১০ লাখ টাকার ওপরে রাখলেই ৩ হাজার টাকা করে কর দিতে হবে। এক কোটি টাকার ওপরে থাকলে ১৫ হাজার ট্যাক্স দিতে হবে। এতে আমানত ক্ষতিগ্রস্ত হবে, কারণ আমানতকারীরা নিরুৎসাহিত হবে। এর আগে, করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরুতেই গত ৪ এপ্রিল ৮৬ হাজার কোটি টাকার একটি আর্থিক প্যাকেজ প্রস্তাব তুলে ধরে বিএনপি। তার ওপর ভিত্তি করে গত ৯ মে বাজেট ভাবনাও দেয় দলটি। তারই প্রেক্ষিতেই ২০২০-২১ প্রস্তাবিত বাজেটে পর্যালোচনা কতগুলো সমস্যা চিহ্নিত করা হয়। সেই অনুযায়ী বাজেট প্রতিক্রিয়া এসব সুপারিশ তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
অসঙ্গতি থাকলেও প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য: অর্থমন্ত্রী
ঢাকা অফিস
২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অসঙ্গতি থাকলেও তা বাস্তবায়নযোগ্য বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে অনলাইনে বাজেট পরবর্তী এক বিফ্রিংয়ে মন্ত্রী এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। মহামারি করোনাভাইরাস সংকটময় পরিস্থিতি এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে মানুষের জীবন-জীবিকার কথা চিন্তায় রেখে এবারের বাজেটের শিরোনাম রাখা হয়েছে ‘অর্থনৈতিক উত্তরণ: ভবিষ্যৎ পথ পরিক্রমা’। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের মূল বাজেটের আকার ছিল ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা।
কালো টাকা সাদার সুযোগ সরকার প্রধানের অঙ্গীকারবিরোধী: টিআইবি
ঢাকা অফিস
২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে কালো টাকা সাদা করার দুর্নীতি-সহায়ক প্রস্তাবের প্রত্যাহার চায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে বাজেট পরবর্তী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি এই দাবি জানায়। টিআইবি বলেছে, ‘করোনা পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের নামে সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকার ও দেশের সব প্রচলিত আইনকে উপেক্ষা করে বাজেটে আয়কর অধ্যাদেশে নতুন দুটি ধারা সংযোজনের মাধ্যমে জমি, ভবন, ফ্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট কেনা, নগদ অর্থ, ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার ও বন্ডে অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালোটাকা সাদা করার অবারিত সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। একইসঙ্গে অর্থের বা সম্পদের উৎস নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন বা অন্যকোনো কর্তৃপক্ষের প্রশ্ন তোলার বিধানটিও রহিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ’ বাজেটের এমন প্রস্তাবে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এটি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত দুর্নীতির প্রতি শূন্য সহনশীলতার সম্পূর্ণ বিপরীত ও অমর্যাদাকর পদক্ষেপ, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বছরের পর বছর এ ধরনের সুবিধা দিয়ে দেশের অর্থনীতির কোনো উপকার হয়নি, উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আদায় হয়নি, কোনো বিনিয়োগতো নয়-ই। বরং অনৈতিকতা প্রশ্রয় পেয়েছে আর সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। ’
শেষ পর্যন্ত সরকার প্রস্তাবিত ধারাগুলো প্রত্যাহার করে নেওয়ার মাধ্যমে এই আত্মঘাতী অবস্থান থেকে সরে আসবে এই আশাবাদ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর শূন্য সহনশীলতার ঘোষণা আর অপ্রদর্শিত আয় এর পোশাকে কালোটাকা ও তার দ্বারা অর্জিত সম্পদ আর অর্থপাচার বৈধতা দেওয়া শুধু পরস্পর বিরোধী নয় বরং সরাসরি দুর্নীতি সহায়ক এবং সরকার প্রধানের অঙ্গীকারের অবমাননাকর।’
মহিলা আ’লীগ নেত্রীর স্বামীর মৃত্যুতে আ’লীগ, মন্ত্রী, মেয়র, সংসদ সদস্যের শোক
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের ফেলো জেসমিন সুলতানা শম্পার স্বামী শারাফাত হোসেন বাবলু (৫০) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহে ………. রাজেউন)। তিনি শ্বাসকষ্ট জনিত কারনে অসুস্থ হয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল শুক্রবার রাত ১টায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃতকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ভাইবোন সহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন ও গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। বাবলুর মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানাতে পাশে যান। বাবলুর নামাজে জানাযা শুক্রবার বাদ আসর সবুজ সংঘ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। জানাযা শেষে মরহুমকে গোয়ালখালী কবর স্থানে দাফন করা হয়।
শারাফাত হোসেন বাবলু’র অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক, শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা ও মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিবৃতি দিয়েছেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপি, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সিটি মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক, খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, কেন্দ্রিয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, খুলনা জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ হারুনুর রশীদ, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানা, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. সুজিত কুমার অধিকারী, দৌলতপুর থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ সৈয়দ আলী, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বন্দ, মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অধ্যা. হোসনে আরা রুনু, সাধারণ সম্পাদক লুৎফুন নেছা লুৎফা।
খুলনা বিভাগে শনাক্ত ১১৪৬, বাড়ছে উৎকণ্ঠা
স্টাফ রিপোর্টার
রেড জোনে থাকা করোনার নতুন ‘হটস্পট’ খুলনা বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ১১৪৬ জনে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিনই ৩৫-৪০জন করে বাড়ছে করোনা পজিটিভের সংখ্যা। এছাড়া খুলনা জেলায় চার জনসহ বিভাগের দশ জেলায় মোট মারা গেছেন ১৫ জন। এতে এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে। এদিকে, খুলনায় একজন চিকিৎসকসহ নতুন করে আরও ৩৯ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। যার মধ্যে খুলনা মহানগরীসহ জেলায় ৩৫ জন রয়েছেন। এছাড়া ঝিনাইদহের দুই জন, সাতক্ষীরা ও মাগুরার একজন করে রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে খুলনা মেডিক্যাল কলেজের (খুমেক) পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। শুক্রবার (১২ জুন) খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. রাশিদা সুলতানা জানান, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় এ পর্যন্ত মোট করোনা রোগী পাওয়া গেছে এক হাজার ১৪৬ জন। এদের মধ্েয সুস্থ হয়েছে ৩৭৮ জন। এছাড়া খুলনা বিভাগে এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছে ১৫ জন। এ বিভাগে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত ১৯ মার্চ চুয়াডাঙ্গায়। ডা. রাশিদা সুলতানা আরও জানান, খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় করোনা আক্রান্তদের মধ্যে খুলনা জেলায় সর্বোচ্চ ৩০৪ জন, বাগেরহাটে ৪৯ জন, সাতক্ষীরায় ৬৩ জন, যশোরে ১৮৩ জন, ঝিনাইদহে ৭২ জন, মাগুরায় ৫২ জন, নড়াইলে ৫২ জন, কুষ্টিয়ায় ২০১ জন, চুয়াডাঙ্গা ১৩৭ জন ও মেহেরপুর জেলায় ৩৩ জন।
এদিকে খুমেক সূত্র জানায়, খুলনা মহানগরীসহ জেলায় বৃহস্পতিবার (১১ জুন) একদিনে সর্বোচ্চ ৩৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর আগে বুধবার (১০ জুন) খুলনায় ৩১ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়। ওইদিন খুলনা জেলার নমুনা ছিলো ১৬৩টি। এছাড়া বৃহস্পতিবার নমুনা ছিলো ১৬৮টি। এভাবে খুলনায় প্রতিদিনই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। খুলনা মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. মেহেদী নেওয়াজ জানান, বৃহস্পতিবার খুমেকের পিসিআর মেশিনে ২৮০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। যার মধ্যে খুলনা জেলার নমুনা ছিলো ১৬৮টি। এদের মধ্যে ৩৯ জনের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। যার ৩৫ জনই খুলনার। খুলনায় শনাক্ত ৩৫ জনের মধ্যে ২৫ জনই মহানগরীর বাসিন্দা। এছাড়া দিঘলিয়া উপজেলার সাত জন, ডুমুরিয়া উপজেলার এক জন ও দাকোপ উপজেলার দুজন রয়েছেন। অপরদিকে, আক্রান্তদের মধ্যে সাতক্ষীরা জেলার এক জন, মাগুরা জেলার এক জন ও ঝিনাইদহ জেলার দুজন রয়েছেন। তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার খুমেকের ল্যাবে শনাক্ত হওয়া ৩৯ জনের মধ্যে রয়েছেন খুলনা গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ২৬ বছরের একজন তরুণ চিকিৎসক, খুলনা জেলা কারাগারের তিনজন কারারক্ষী ও খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) ছয়জন সদস্য। এদিকে করোনার হার বাড়ার কারণে খুলনা বিভাগের ১০ জেলাতেই সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের চাপা উৎকণ্ঠা কাজ করছে। অনেকেই সচেতন হয়েছেন। মাস্ক, গ্লাভস ব্যবহার করছেন। স্বাস্থ্যবিধিও মেনে চলছেন। তবে বেশিরভাগ মানুষের মধ্েয স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে উদাসীনতা দেখা যাচ্ছে। থ্রি হুইলার বা ইজিবাইকে দুই জন চড়ার কথা থাকলেও তাতে ৫/৬ জন করে চড়ছেন। পাড়ার মোড়ে মোড়ে চায়ের দোকানে আড্ডাও চলছে। এতে সামাজিক দূরত্ব লঙ্ঘিত হচ্ছে। মানুষের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।
এদিকে, খুলনায় করোনা আক্রান্তের হারকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে জেলা সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ বলেন, ‘‘এর অন্যতম কারণ হচ্ছে অনেকেই উপসর্গ গোপন করে বাইরে ঘোরাঘুরি করছেন। ফলে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। আমরা খুঁজে খুঁজে স্যাম্পল সংগ্রহ করছি। এছাড়া আক্রান্ত এলাকাগুলো লকডাউন করে দিচ্ছি। তবে মানুষ সচেতন হয়ে বিধি নিষেধ মেনে চললে আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে বলে আশা করি।”
গ্রীন সোসাইটির উদ্যোগে নগর সবুজায়ন কর্মসূচির উদ্বোধন
খবর বিজ্ঞপ্তি
গ্রীন সোসাইটির উদ্যোগে গতকাল বিকেলে নগরীর গল্লামারী-সোনাডাঙ্গা বাইপাস এলাকায় সংস্থাটির সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলাম এর উপস্থিতিতে আম, জাম ও কাঠাল গাছ রোপন এর মাধ্যমে ‘নগর সবুজায়ন কর্মসূচী’ এর সূচনা করে সংস্থাটির স্বেচ্ছাসেবকরা । ইতোপূর্বে গত ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে ‘মুজিব শত বৃক্ষরোপন কর্মসূচী’ পালন করে সংস্থাটি। ‘নগর সবুজায়ন’ – এ কর্মসূচীর আওত্তায় এ বছর খুলনা শহরের নানা প্রান্তে ফলজ, বনজ ও ঔষধী গাছ রোপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে সংস্থাটির পক্ষ হতে। বস্তুত, বৈশ্বিক উষ্ণতা, জলবায়ু পরিবর্তন ও সা¤্রতিক বছরগুলোর প্রাকৃতিক দূর্যোগকে মাথায় রেখে প্রতিবছরের ন্যায় এ বছর আরো ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপন কর্মসূচী হাতে নেয়া হয়েছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে। এ সময়ে অন্যান্যদের মধ্যে সংস্থাটির নির্বাহী সদস্য বাবলা গোলদার, দেব নারায়ন মন্ডল, মোঃ তানজীর মোল্লা , মোঃ আনোয়ার হোসেন, মোঃ সোলায়মান গাজী, মোঃ ধীরাজ গাজী, মোঃ সজীব, রিয়াজুল মুন্সি, সবুজ সিকদার, রাইম ঢালী, মোঃ এনামুল হক, ওবায়দুল্লাহ হাবিব, জি এম রাকিবুল ইসলাম, মোঃ জাহাঙ্গীর খান, কাজী মাসুদ রানা, মোস্তাফিজ প্রিন্স উপস্থিত ছিলেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের স্ত্রী করোনায় আক্রান্ত
খুলনাঞ্চল ডেস্ক
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলিনস্কির স্ত্রী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। শুক্রবার তার কোভিড-১৯ রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে বলে ফেসবুকে পোস্টে জানিয়েছেন ওলেনা জেলিনস্কা।
ওলেনা জেলিনস্কা তার পোস্টে লিখেছেন, ‘আজ আমি করোনাভাইরাস শনাক্ত পরীক্ষার পজিটিভ রিপোর্ট পেয়েছি। অপ্রত্যাশিত সংবাদ। আমি ও আমার পরিবার মাস্ক, গ্লাভস ও সর্বনিম্ম যোগাযোগ বজায় রাখার নিয়ম বিশেষ বিবেচনা করছি।’ ফার্স্টলেডি জানান, তিনি ভালো অনুভব করছেন এবং হাসপাতালে ভর্তি হননি। তবে স্বামী ও সন্তানদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকছেন। ইউক্রেনে এ পর্যন্ত ২৯ হাজার ৭৫৩ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে মারা গেছেন ৮৭০ জন।
মেদ ঝরাবে যেসব ফল
মিলি রহমান
পুষ্টিকর ফল নিয়মিত খেলে সুস্থ থাকার পাশাপাশি ঝরবে বাড়তি মেদ। ফ্যাট বার্ন করে এমন কিছু ফলের ব্যাপারে জেনে নিন।
আপেল: ডায়াটারি ফাইবার ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ পেয়ারা খেতে পারেন নিয়মিত। এটি রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখে ও বাড়তি মেদ জমতে দেয় না শরীরে। এটি খেলে বাড়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও। নারকেলে মিডিয়াম চেন ট্রাইগ্লিসারাইড থাকে, যা লিভারের মেটাবলিক রেট বাড়াতে সাহায্য করে। নারকেল দুধ, নারকেল তেল বা ডাবের পানি খাওয়াও উপকারী। মেদ ঝরাতে চাইলে স্ট্রবেরি খেতে পারেন। ১০০ গ্রাম স্ট্রবেরিতে মাত্র ৩৩ ক্যালোরি থাকে। ফলে এটি জমে না বাড়তি মেদ হয়ে। ওজন কমাতে আপেলের জুড়ি নেই। ফাইবার কনটেন্ট বেশি এবং ক্যালোরি কম থাকায় আপেল ফ্যাট-বার্নিং ফলের তালিকায় রয়েছে উপরের দিকে। এ ফল থেকে ভিটামিন বি, সি খনিজ পদার্থ এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টও পাওয়া যায় প্রচুর পরিমাণে। আপেল খেলে পেট অনেকক্ষণ ভরে থাকে, ফলে বাড়তি খাবার খাওয়ার ইচ্ছে কমে। কলায় ক্যালোরি একটু বেশি থাকলেও প্রচুর পরিমাণে থাকে ফাইবারও। ফলে কলা খেলে পেট ভরা থাকে অনেকক্ষণ। এই ফাইবার শরীরকে কার্বোহাইড্রেট শুষে নেওয়া থেকে আটকায়। ফলে কার্বোহাইড্রেটের বদলে ফ্যাটটাকেই এনার্জি হিসেবে পোড়ায় শরীর। লিভার ডিটক্সিফাই করে লেবু। ফলে লিভারের পাচনক্ষমতা এবং ক্যালোরি পোড়ানোর ক্ষমতা, দুই-ই বজায় থাকে। শরীরে ফ্যাট জমতে দেয় না লেবু। সকালে একগ্লাস কুসুম গরম পানিতে লেবু চিপে খেলে পেটে জমে না মেদ। তরমুজের প্রায় পুরোটাই পানি। ফলে গ্রীষ্মকালে প্রতিদিন খাবার তালিকায় তরমুজ রাখুন। বাড়তি মেদ ভিড়বে না কাছে। কম ক্যালোরি কিন্তু বেশি ফাইবার ও ভিটামিন সমৃদ্ধ আরেক ফল হচ্ছে কমলা। কমলা খান সরাসরি। জুস বানিয়ে বাড়তি চিনি মিশিয়ে খাবেন না।
লিভ-ইন সম্পর্কের খবরে ক্ষুব্ধ মোনালিসা
বিনোদন ডেস্ক
অন্তরা বিশ্বাস রুপালি পর্দায় মোনালিসা নামেই পরিচিত। বাঙালি অভিনেত্রী হলেও তিনি মূলত ভোজপুরি সিনেমায় বেশি অভিনয় করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিক্রান্ত সিং রাজপুতের সঙ্গে সংসার বেঁধেছেন তিনি। এদিকে কিছুদিন ধরে খবর চাউর হয়েছে বিয়ের আগে লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন মোনালিসা। তাও বয়স্ক এক ব্যক্তির সঙ্গে দীর্ঘ ৬ বছর লিভ-ইন করেছেন এই নায়িকা। এ নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম খবর প্রকাশ করায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তিনি। মোনালিসা বলেন, আমার সঙ্গে কোনো কথা না বলেই এমন খবর প্রকাশ করেছে। কথা না বলে কোনো সংবাদমাধ্যম এভাবে খবর ছাপাতে পারে? আমি আমার স্বামী বিক্রান্তকে নিয়ে খুবই সুখী। আর বিক্রান্ত এই সমস্ত খবর একেবারেই বিশ্বাস করে না। ২০০৮ সালে ‘দুলহা আলবেলা’-এর শুটিং সেটে বিক্রান্ত সিং রাজপুতের সঙ্গে মোনালিসার প্রথম পরিচয়। তারপর সম্পর্কে জড়ান এই যুগল। ২০১৭ সালে বিগ বস-১০ এর সেটে ক্যামেরার সামনে বিক্রান্তকে বিয়ে করেন মোনালিসা। ১৯৯৭ সালে হিন্দি সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে পা রাখেন মোনালিসা। এরপর ওড়িয়্যা, বাংলা, কন্নড়, তামিল ও তেলেগু ভাষার শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন এই অভিনেত্রী।
করোনায় আক্রান্ত ৯ মন্ত্রী-এমপি, সুস্থ ২
ঢাকা অফিস
করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) ভয়াল ছোবল কাউকেই রেহাই দিচ্ছে না। এতে আক্রান্ত হচ্ছেন সব বয়সী, সব শ্রেণির মানুষ। এ ভাইরাস বিশ্বের অনেক দেশের শীর্ষ পর্যায়কে যেমন কাঁবু করেছে, তেমনি হানা দিয়েছে বাংলাদেশের দুই মন্ত্রী এবং সাত সংসদ সদস্যের (এমপি) শরীরেও। এদের মধ্যে অবশ্য দুই এমপি সুস্থ হয়ে গেছেন। লড়ছেন বাকি সাতজন। এছাড়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর সম্প্রতি নমুনা পরীক্ষায় তার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। সরকার পরিচালনার নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এ নয়জনের সবাই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের। এদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের করোনাভাইরাস পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে শুক্রবার (১২ জুন)। মন্ত্রীর স্ত্রী লায়লা আরজুমান্দ বানু এবং মন্ত্রীর একান্ত সচিব (পিএস) হাবিবুর রহমানেরও করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা সুফি আব্দুল্লাহিল মারুফ জানান, তাদের করোনার নমুনা নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুন) পরীক্ষা করা হয়। আজ ফলাফল পজিটিভ এসেছে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তারা বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিংয়ের দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয় গত ৬ জুন। অবস্থার অবনতি হলে ৭ জুন বান্দরবান থেকে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারযোগে তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) আনা হয়। এখন সেখানেই চিকিৎসা চলছে তার।
সাত এমপির মধ্যে যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনের রণজিত কুমার রায়ের দেহে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত হয় ৮ জুন। পরে তাকে যশোর সিএমএইচে নেয়া হয়, এখন সেখানেই চিকিৎসা চলছে তার। চট্টগ্রাম-৮ আসনের এমপি মোসলেম উদ্দিনের করোনার পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়া যায় ১০ জুন। তার সঙ্গে পজেটিভ রিপোর্ট আসে স্ত্রী, ছেলে, নাতিসহ পরিবারের আরও ১০ সদস্যের। তাদের সবারই চিকিৎসা চলছে। চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের এমপি মো. মোস্তাফিজুর রহমানও সপরিবারে করোনায় আক্রান্ত। ২ জুন ওই এমপিসহ তার পরিবারের মোট ১১ জনের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তারা চট্টগ্রাম শহরের নাসিরাবাদ রহমান নগর এলাকার বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া ৩ জুন জামালপুর-২ আসনের এমপি ফরিদুল হক খান দুলাল, তার আগে চট্টগ্রাম-৬ আসনের এমপি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, ১৯ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের এমপি মোহাম্মদ এবাদুল করিম বুলবুল ও ১ মে নওগাঁ-২ আসনের এমপি শহীদুজ্জামান সরকারের করোনা সংক্রমণের তথ্য জানা যায়। এর মধ্যে শহীদুজ্জামান সরকার ও এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী করোনাকে জয় করেছেন। এদিকে বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ সারহান নাসের তন্ময় (শেখ তন্ময়) আইসোলেশনে রয়েছেন। তার ব্যক্তিগত সহকারীর করোনা রিপোর্ট পজেটিভ আসার পর চিকিৎসকের পরামর্শে আইসোলেশনে গেছেন তিনি। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুসারে, এই নয়জনসহ দেশে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৮১ হাজার ৫২৩ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায়ই শনাক্ত হয়েছেন তিন হাজার ৪৭১ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন এক হাজার ৯৫ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায়ই মারা গেছেন ৪৬ জন। তবে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১৭ হাজার ২৫০ জন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়ম অনুযায়ী, আরটি-পিসিআর পরীক্ষায় কারও করোনাভাইরাস শনাক্ত হলে তাকে হাসপাতাল বা বাসায় পুরোপুরি আইসোলেশনে রাখা হয়। উপসর্গ কমে গেলে আবার তার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরপর দুটি পরীক্ষার ফল নেগেটিভ হলে তাকে ‘সুস্থ’ বলা হয়।
করোনায় ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৬ মৃত্যুর রেকর্ড
ঢাকা অফিস
মহামারি করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এটি একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মোট এক হাজার ৯৫ জনের মৃত্যু হলো। একই সময়ে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও তিন হাজার ৪৭১ জন। এটিও একদিনে সর্বোচ্চ রোগী শনাক্তের রেকর্ড। ফলে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৮১ হাজার ৫২৩ জনে। শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানান অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। নতুন সংযুক্ত তিনটিসহ মোট ৫৯টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার তথ্য তুলে ধরে বুলেটিনে ডা. নাসিমা জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৬ হাজার ৯৫০টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ১৫ হাজার ৯৯০টি নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো চার লাখ ৭৩ হাজার ৩২২টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে আরও তিন হাজার ৪৭১ জনের মধ্যে। ফলে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৮১ হাজার ৫২৩ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ৪৬ জন। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হলো এক হাজার ৯৫ জনের। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৫০২ জন। ফলে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন মোট ১৭ হাজার ২৫০ জন। নতুন করে যারা মারা গেছেন তাদের ৩৭ জন পুরুষ এবং নয়জন নারী। ১৯ জন ঢাকা বিভাগের, ১১ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, দুজন রাজশাহী বিভাগের, তিনজন সিলেট বিভাগের, তিনজন বরিশাল বিভাগের, পাঁচজন রংপুর বিভাগের, একজন খুলনা বিভাগের এবং দুজন ময়মনসিংহ বিভাগের। এদের ৩২ জন মারা গেছেন হাসপাতালে এবং ১৪ জন মারা গেছেন বাসায়। এদের মধ্যে ২১ থেকে ৩০ বছরের একজন, ত্রিশোর্ধ্ব ছয়জন, চল্লিশোর্ধ্ব তিনজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব ১২ জন, ষাটোর্ধ্ব ১৫ জন, সত্তরোর্ধ্ব সাতজন, ৮১ থেকে ৯০ বছর বয়সী একজন, ৯০ থেকে ১০০ বছর বয়সী একজন এবং শতবর্ষী একজন মারা গেছেন। গত বৃহস্পতিবারের (১১ জুন) বুলেটিনে জানানো হয়, করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৭ জন মারা গেছেন। ১৫ হাজার ৭৭২টি নমুনা পরীক্ষায় করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে আরও তিন হাজার ১৮৭ জনের মধ্যে। সে হিসাবে আগের ২৪ ঘণ্টার তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু ও সংক্রমিতের সংখ্যা শুধু বাড়েইনি, হয়েছে রেকর্ডও। এর আগে দেশে একদিনে সর্বোচ্চ ৪৫ জনের মৃত্যুর রেকর্ড ছিল, যা গত ৯ জুনের বুলেটিনে জানানো হয়। আর সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড ছিল ৩১৯০ জনের, যা গত ১০ জুনের বুলেটিনে জানানো হয়। শুক্রবারের বুলেটিনে বলা হয়, এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার তুলনা রোগী শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৭১ শতাংশ। আর শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ২১ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং মৃত্যুহার ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে আরও ৪৩৬ জনকে এবং এ পর্যন্ত আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে ১৪ হাজার ৭৩ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ১৮৮ জন এবং এ পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন পাঁচ হাজার ৬১ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন নয় হাজার ১২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে দুই হাজার ৮৮৮ জনকে। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে তিন লাখ ১৫ হাজার ২৩২ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড় পেয়েছেন দুই হাজার ৩৪ জন। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইন থেকে মোট ছাড় পেয়েছেন দুই লাখ ৫৫ হাজার ৩৭৯ জন। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৫৯ হাজার ৮৫৩ জন। বুলেটিনে বরাবরের মতো করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে সবাইকে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, মুখে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়। করোনাভাইরাসের ছোবলে এখন গোটা বিশ্ব মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহর থেকে ছড়ানোর পর এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৭৬ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। মৃতের সংখ্যা সোয়া চার লাখ ছুঁই ছুঁই। তবে সাড়ে ৩৮ লাখ রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ।
ইকোনমিস্টের চোখে যেভাবে বদলে যাচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতির গতিধারা
খুলনাঞ্চল ডেস্ক
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই বিশ্ব অর্থব্যবস্থার গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে আসা বিপর্যয়ে বদলে যেতে পারে এ ব্যবস্থা; অর্থনীতির ইতিহাসে শুরু হতে পারে এক নতুন অধ্যায়ের। করোনা মহামারি দেখিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের দেশের ভেতরের সমস্যাই ঠিকমতো সমাধান করতে পারছে না। ফলে প্রশ্ন উঠেছে তাদের বৈশ্বিক নেতৃত্ব নিয়ে। আর যুক্তরাষ্ট্রের এমন দুর্বলতম অবস্থার সুযোগ নিতে যাচ্ছে চীন। বেইজিং হয়তো রাতারাতি ওয়াল স্ট্রিটের সমকক্ষ হতে পারবে না। তবে এশিয়ার এ পরাশক্তি বিশ্বকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে তারা কী করতে সক্ষম। চীনের এ দাপট চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে বদলে যেতে পারে বিশ্বের অর্থনৈতিক গতিধারা।
দীর্ঘদিন ধরেই বৈশ্বিক অর্থনীতির নিয়ন্ত্রক যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ তারা। বৈশ্বিক অর্থনীতির চারভাগের একভাগই তাদের দখলে। বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের হিসাব হয় মার্কিন ডলারে। বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ৮০ শতাংশেই ডলার ব্যবহৃত হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষমতার বিশাল এক অংশ ধরা রয়েছে ওয়াশিংটনের হাতে। অর্থের প্রবাহ যাদের নিয়ন্ত্রণে, দিন শেষে তারাই রাজা হবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে করোনা মহামারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার সিংহাসনে ভাগ বসাতে চলছে চীন। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ভারসাম্য আনা, অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী তৈরির দাবি দীর্ঘদিনের। ধীরে ধীরে সেই জায়গাটাই দখল করতে যাচ্ছে চীন। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি তাদের। ১০ বছর ধরেই চীনের ব্যাংক খাত এগিয়ে চলেছে স্থিরভাবে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকগুলোর অবস্থা স্থিতিশীল, ইউরোপের ব্যাংকগুলোর সম্পদ কমছে, সেখানে বিপরীত গতিতে চীনা ব্যাংকগুলো। তাদের সম্পদ এখন ইউরোপ-আমেরিকার ব্যাংকগুলোর চেয়েও বেশি। তবে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য এখনও অনেকটাই চীনকেন্দ্রিক। আন্তর্জাতিক লেনদেনের মাত্র ৭ শতাংশ রয়েছে চীনা ব্যাংকের হাতে। ফলে বিপুল সম্পদ সত্ত্বেও বিশ্ব অর্থনীতির গতিধারায় তাদের ততটা প্রভাব নেই। তবে এ দৃশ্য পাল্টাতে শুরু করেছে। চীনের ব্যাংকগুলো বাইরের দেশেও কার্যক্রম বাড়াতে শুরু করেছে। বিশ্ববাজারে নিজেদের মুদ্রার গুরুত্বও বাড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছে চীন। বড় বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ইউয়ানে লেনদেনে উদ্বুদ্ধ করছে তারা। বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম মাইনিং কোম্পানি রিও টিন্টো গত বছর প্রথমবারের মতো তাদের চুক্তি ইস্যু করেছে ইউয়ানে। করোনা মহামারির কারণে চীনের অর্থনৈতিক প্রভাব আরও বাড়ছে। বিশ্বের সঙ্গে মহামারি নিয়ন্ত্রণে নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করছে, বিভিন্ন দেশে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য উপকরণ পাঠাচ্ছে তারা। ইতালিকে ৩০ টন স্বাস্থ্য সরঞ্জাম, স্পেনকে পাঁচ লাখ সার্জিক্যাল মাস্ক পাঠিয়েছে চীন। উহানে সংক্রমণ শুরুর পর থেকেই করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে অন্যতম নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে চীন। বেশকিছু দেশকে ঋণের কিস্তি পরিশোধে বাড়তি সময় দিয়েছে তারা। করোনার ভ্যাকসিন তৈরির গবেষণায়ও বহুদূর এগিয়েছে দেশটি।
মহামারি নিয়ন্ত্রণে চীনের দারুণ সক্ষমতা এবং তাদের অর্থনীতির আকার বৃদ্ধির গতি দেশটিকে নিরাপদক্ষেত্র হিসেবে বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করছে। মহামারির কারণে বিশ্বের অন্যান্য শেয়ারবাজারে ধস নেমেছে, বন্ডের দরপতন হয়েছে ব্যাপকহারে, সেখানে অনেকটাই স্থিতিশীল চীনের বাজার। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বন্ড বাজার চীনের। করোনা প্রমাণ করে দিয়েছে, বড় ধাক্কা সামলানোর ক্ষমতা রয়েছে এর, যা উদীয়মান বাজারগুলোতে সম্ভব নয়। ফলে বিনিয়োগকারীরা বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন, চীনা অর্থনীতির এত সহজে পতন হচ্ছে না। শুধু বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণই নয়, চীন বদলে দিতে শুরু করেছে বৈশ্বিক লেনদেন ব্যবস্থাও। বর্তমান ব্যবস্থায় একচ্ছত্র আধিপত্য যুক্তরাষ্ট্রের। এর পেছনে বড় অবদান সুইফটের। বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থ ট্রান্সফারিং নেটওয়ার্ক হিসেবে এটি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। তবে যেহেতু সুইফটের বেশিরভাগ লেনদেনই হয় ডলারে, তাই সেগুলো নিউইয়র্কের ব্যাংক ঘুরে তারপর যায় মূল গন্তেব্যে। বিশ্ব অর্থনীতিতে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে এ পদ্ধতির ফায়দা নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ক্রিমিয়া আক্রমণের পর থেকেই সুইফট সিস্টেম থেকে বাদ পড়ার শঙ্কায় রয়েছে রাশিয়া। ২০১৮ সালে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বাদ পড়েছে ইরানি ব্যাংকগুলো।
বেলজিয়ামভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুইফট নিরপেক্ষ কাজ করার কথা থাকলেও তাতে বাধ সেধেছে যুক্তরাষ্ট্র। কথামতো না চললে সুইফটের ওপরই নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়ে রেখেছে ওয়াশিংটন। এটি মিত্র দেশগুলোর জন্য আপত্তিকর হলেও তাতে থোড়াই কেয়ার যুক্তরাষ্ট্রের। চীন সুইফটের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ জানাতে না পারলেও বিকল্প লেনদেন পদ্ধতি বের করে নিয়েছে তারা। বেশিরভাগ গ্রাহকই লেনদেনের ক্ষেত্রে মার্কিন জায়ান্ট ভিসা ও মাস্টারকার্ডের ওপর নির্ভরশীল। তবে চীনা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো বেশ কয়েকটি অ্যাপ তৈরি করেছে; যা গোটা লেনদেন ব্যবস্থাকেই বদলে দেবে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের বদলে গ্রাহকরা ‘ডিজিটাল ওয়ালেট’-এ লেনদেন করতে পারবেন। পার্কিংয়ের জরিমানা থেকে শুরু করে ট্যাক্সির বিল পর্যন্ত যেকোনও কিছুই পরিশোধ করা সম্ভব এর মাধ্যমে। ফলে ব্যাংকিংয়ের বদলে এক বিকল্প অর্থনৈতিক ব্যবস্থা দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল ওয়ালেটের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের বৈশ্বিক গতিবিধি বদলে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে কিছু কোম্পানির হাতে এত বেশি ক্ষমতা চলে যাচ্ছে যে চীন সরকারও তাদের ভয় করছে। গত বছর চীনা ভোক্তারা মোবাইলের মাধ্যমে ৪৯ ট্রিলিয়ন ডলার বিল পরিশোধ করেছে। আর প্রধান দু’টি চীনা কোম্পানি- টেনসেন্ট ও অ্যান্ট ফিন্যান্সিয়াল তাদের এ সুবিধা পৌঁছে দিয়েছে। দু’টি কোম্পানিরই গ্রাহক সংখ্যা শত কোটির বেশি। করোনা মহামারিতে তাদের চাহিদা আরও বেড়েছে। মানুষজন এখন ভিড় এড়িয়ে চলছে। তারা আরও বেশি বেশি অনলঅইনে কেনাকাটা সারছেন। আর এটি সম্ভব হচ্ছে ইলেক্ট্রনিক পেমেন্টে সিস্টেমের কারণেই। টেনসেন্ট ও অ্যান্ট ফিন্যান্সিয়াল ইতোমধ্যে চীনের বাইরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বাড়াতে শুরু করেছে। অ্যান্টের অ্যাপ ‘আলিপে’ অন্তত ৫৬টি দেশ ও অঞ্চল সাদরে গ্রহণ করেছে। অন্যান্য ডিজিটাল ওয়ালেট কোম্পানিগুলোও তাদের প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে। ইতোমধ্যে ছয়টি ইউরোপীয় মোবাইল ওয়ালেট কোম্পানি আলিপে’র কিউআর ফ্যরম্যাট ব্যবহার করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর এমন প্রভাববৃদ্ধিতে যুক্তরাষ্ট্রের যথেষ্ট চিন্তার কারণ রয়েছে। তারা দিনে দিনে আরও বড় হচ্ছে। এছাড়া চীন এমন এক আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তুলছে; যা মার্কিন কোম্পানি, মুদ্রা বা ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল নয়। দিনশেষে দেখা যাচ্ছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ধীরে ধীরে দু’টি পরিম-ল গড়ে উঠেছে; যুক্তরাষ্ট্র-শাসিত ও চীন-শাসিত। এ দুই ব্যবস্থাকে সবসময় একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে হবে এমনটা নয়। বরং তারা একে অপরের পরিপূরকও হতে পারে। আর এমনটি হলে তো ভালো, নাহলে বিশ্বে অর্থনৈতিক লেনদেন আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু’র স্ত্রীর সুস্থতা কামনা
স্টাফ রিপোর্টার
বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু’র সহধর্মিনী, মানবাধিকার নেতা অ্যাড. সৈয়দা সাবিহা খাতুন করোনা রোগে আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে আইসোলেশনে রয়েছে। গতকাল শুক্রবার বাদ জুম্মা তার সুস্থতা কামনা করে খুলনা সদর থানার অন্তর্গত বিভিন্ন মসজিদে দোয়ার আয়োজন করা হয়। দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, ইউসুফ হারুন মজনু, শমসের আলী মিন্টু, হাসান মেহেী রিজভী, বদরুল আনাম খান, তারিকুল্লাহ খান, আফসার মাষ্টার, ইসহাক তালুকদার, ওয়াহেদুজ্জামান দীপু, মেজবাহ উদ্দিন মিজু, আব্দুল জব্বার, নাসির খান, জাহিদ কামাল টিটো, এইচ এম আসলাম, মোল্লা ফরিদ আহমেদ, তৌহিদুল ইসলাম খোকন, সিরাজুল ইসলাম লিটন, রবিউল ইসলাম রবি, নুরুল ইসলাম দিপু, আবু সাইদ সেখ, খান মঈনুল হাসান মিঠু, জাহাঙ্গীর হোসেন, ডা: ফারুক হোসেন, বাবুল রানা, জাকারিয়া লিটন, আলম হাওলাদার, হুমায়ুন কবির, তারিকুল ইসলাম তারেক প্রমুখ। অপরদিকে বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, মহানগর বিএনপির সভাপতি, সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু’র সহধর্মিনী এ্যাড. সাবিহা ইসলামের কোভিড-১৯ সনাক্ত। সেই সাথে পরিবারের সকলেই ১৪ দিনের হোম কোয়ারিন্টাইনে আছেন। নজরুল ইসলাম মঞ্জু’র স্ত্রীর আশু সুস্থতা কামনা করে খানজাহান আলী থানা যুবদলের বিভিন্ন মসজিদে দোয়ার অনুষ্ঠান। খুলনা মহানগর যুবদলের সহ সভাপতি মোল্লা সোলায়মান হোসেনের ব্যাবস্থাপনায় খানজাহান আলী থানা এলাকার ১ নং আটরা গিলাতলা ইউনিয়নে ৯ টি ওয়ার্ড ও যোগিপোল ইউনিয়নের ৯ টি ওয়ার্ড এবং কেসিসি ২ নং ওয়ার্ডের ৫ টি ইউনিট এলাকার মসজিদে বাদ জুম্মা শেষে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় । দোয়ার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জিএম কামরুজ্জামান, শাহাদাত হোসেন সাজু, শেখ রবিউল ইসলাম, মোঃ এনামুল, রফিকুল ইসলাম সুজা, মোঃ ইসমাইল হোসেন বাবু, মোঃ আলম,আহসান আলী রনি, মোঃ রানা , মোঃ শামিম আহম্মেদ , মোঃ সলেমান, মোঃ রফিকুল ইসলাম, শেখ জিয়া, মোঃ মারুফ, জুয়েল হাওলাদার, মোঃ জসিম, মোঃ কামাল হোসেন, মোঃ রমজান, মোঃ হাসান, ইমরান হোসেন, মোঃ পলাশ , মোঃ বিল্লাল হোসেন, মোঃ কামরুল , মোঃ মহাসিন, বাদশা, মনিরুল, ধলু, রশিদ, মিঠুন , আজিজুল,রহমান, রাজু, সোহেল প্রমুখ। খুলনা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব শেখ আল আমিন হোসেন, পলাশ, মামুন, লিমন মোল্যা, বিল্লাল কাজী, কামরুল ইসলাম, ইমদাদ মোড়ল, টগর মোড়ল, আল আমিন, মোঃ ফারুক, সাহেব আলী, শরিফুল ইসলাম, আবিদ খান, মিরাজ, ওবায়দুল শেখ প্রমুখ। এদিকে বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক,খুলনা মহানগর সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য জনাব নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সহধর্মিণী এ্যাড সাবিহা খাতুনের কোভিড-১৯(করোনা) থেকে আরোগ্য লাভের জন্য আজ জুম্মার নামাজের পর ১৩নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন মসজিদে দোয়া করা হয়।এই মহামারী থেকে মন্জু ভাইর পরিবার সহ সমগ্র দেশবাসীর জন্য মহান রাব্বুল আলামিনের নিকট দোয়ায় প্রার্থনা করা হয়।
কালীগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনায় এক কৃষককে কুপিয়ে হত্যা
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বিক্রি করা ছাগলের টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে আমিরুল ইসলাম (৪৫) নামের এক কৃষককে প্রকাশ্যে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে ওই গ্রামের শাহিন নামের এক ব্যক্তি। আমিরুল ইসলাম কোলা ইউনিয়নের দৌলৎপুর গ্রামের মৃত জবেদ আলীর ছেলে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার রাত ৮ টার দিকে।
গ্রামবাসী জানায়, দৌলতপুর গ্রামের ছামছুল মন্ডলের ছেলে শাহিন হোসেন আমিরুলের দুলাভাইয়ের নিকট একটি ছাগল বিক্রি করে। বেশ কিছুদিন পরে ওই ছাগলের টাকা আরও ৩’শ পাবে বলে দাবি করে শাহিন। এ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরবর্তীতে তা থেমেও যায়। এরপর শুক্রবার সন্ধ্যার পর আমিরুল ইসলাম যখন গ্রামের মধ্যদিয়ে হেটে বাড়ি ফিরছিলেন। রাস্তায় আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা শাহিন ধারালো গাছি দা দিয়ে আমিরুলকে কুপিয়ে জখম করে। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে আমিরুল মারা যায়।
এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ থানার ওসি মুহা মাহাফুজুর রহমান মিয়া জানান, ছাগল বিক্রির মাত্র ৩ ’শ টাকা পাওনা নিয়ে তর্কের জের ধরে আমিরুলকে কুপিয়ে হত্যা করেছে শাহিন। পুলিশ শাহিনকে আটকের অভিযানে নেমেছে।
বাঘারপাড়ায় গণজমায়েত করে বিয়ে, কনের ভাইকে জরিমানা
যশোর অফিস
যশোরের বাঘারপাড়ায় গণজমায়েত করে বিয়ের আয়োজনের অপরাধে টুটুল হোসেন (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার ভাঙ্গুড়া এলাকার চকেরডাঙ্গা গ্রামে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়। টুটুল কনের ভাই। তাদের বাবার নাম তাহাজ্জত হোসেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা জান্নাত। করোনা সংকটের এই সময়ে কোনো ধরনের জনসমাগম না করার নির্দেশনা থাকলেও তা উপেক্ষা করে টুটুলের বোনের বিয়ের আয়োজন চলছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিয়ে বাড়িতে গণজমায়েত করার অপরাধে কনের ভাইকে আট হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা জান্নাত বলেন, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল আইনে কনের ভাইকে আট হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একইসঙ্গে শারীরিক দূরত্ব মেনে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিয়ে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জালিয়াতির অভিযোগে যশোরের আইনজীবী সাসপেন্ড
যশোর অফিস
যশোরে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে বিচারকের হাতে ধরা পড়ার ঘটনায় জেলা আইনজীবী সমিতি থেকে সৈয়দ কবীর হোসেন জনিকে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সমিতির নির্বাহী কমিটির জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এছাড়া আদালত থেকে মুক্তির পর সমিতি ভবনে আসা এক আসামিকে অবরুদ্ধ করে টাকা আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে তাকে শোকজও করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম ইদ্রিস আলী।
এর আগে অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আকরাম হোসেন অভিযুক্ত জনির বিরুদ্ধে জেলা আইনজীবী সমিতিতে অভিযোগ দেন। তিনি দশ দিনের মধ্যে ওই আইনজীবীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে তা আদালতকে জানানোর জন্যও নির্দেশ দেন জেলা আইনজীবী সমিতিকে।
জনির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বাদী পক্ষের আইনজীবী হিসেবে আদালতে একটি পিটিশন দাখিল করেন। আদালত কোতোয়ালী থানাকে নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। পরে থানা নিয়মিত মামলা রুজু করে। মামলা নম্বর জিআর ২৪৪/২০। এ মামলায় তিন আসামিকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আসামিরা হলেন, ফয়েজ ইসলাম ইভান, মুক্তা ইসলাম ও উম্মে আসমা তন্দ্রা। এরপর জনি বাদী পক্ষের আইনজীবী হওয়া সত্ত্বেও ভোল পাল্টে আসামি পক্ষে কাজ শুরু করেন; যা আইনজীবী হিসেবে তিনি করতে পারেন না। গত ৩ জুন ভার্চুয়াল কোর্টে ওই তিন আসামির জামিন শুনানি হয়। আইনজীবী জনি আসামিদের মুক্তির জন্য ‘বাদী ও আসামি পক্ষের সাথে মীমাংসা হয়েছে’ মর্মে একটি জাল এফিডেভিট আদালতে উপস্থাপন করেন। এফিডেভিটে মামলার এজাহারকারী হিসেবে ইয়াসিন আরাফাত নামে একজনের নাম উল্লেখ করা হয়। পরে আদালত প্রমাণ পান, ওই মামলার বাদী ইয়াসিন নন, উম্মে সালমা শিখা। শুধুই তা-ই নয়, আদালতের আদেশ অমান্য করে ভার্চুয়াল আদালত না মেনে নিজে ও একজন ভুয়া বাদী এনে বিচারকের খাস কামরায় এসে মামলা নিষ্পত্তির জন্য পীড়াপীড়ি করেন। এই পর্যায়ে বিচারক তার জালিয়াতি ধরে ফেলে জেলা আইনজীবী সমিতিকে ব্যবস্থা নিতে বলেন।
অন্যদিকে, মামলাটির আসামি উম্মে আসমা তন্দ্রা জামিনে বেরিয়ে জেলা আইনজীবী সমিতিতে পৃথক একটি অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি বলেন, তাদের তিনজনকে ‘আত্মসমর্পণ করিয়ে জামিনে বের করে দেবেন’ মর্মে সাত হাজার টাকা দাবি করেন আইনজীবী জনি। কিন্তু তারা প্রতারণার শিকার হন। পরে আইনজীবী জনি ওই নারীর কাছে ৬০ হাজার টাকা দাবি করেন। এরমধ্যে ৪৫ হাজার টাকা হাতিয়েও নেন। বাকি ১৫ হাজার টাকার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে জীবননাশের হুমকি দিতে থাকেন জনি।
এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সমিতির পক্ষ থেকে ৭ জুন আইনজীবী জনিকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়। কিন্তু সন্তোষজনক জবাব না পেয়ে বৃহস্পতিবার তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
তেরখাদার বারাসাতে আবার ও ৪০ জনের নামে মামলা দায়ের
তেরখাদা প্রতিনিধি
বারাসাত গ্রামের দাঙ্গা হাঙ্গামায় বেআইনিভাবে জনগনের বসতবাড়ী হানা দেওয়ায় আবারও গত ১১ জুন মোঃ রেজাউল কাজী বাদী তেরখাদায় থানায় ৪০ জন এজাহার নামীয় এবং ১০/১৫ অজ্ঞাত ব্যক্তির নামে মামলা দায়ের করেছে যাহার নং- ০৩/২০ তারিখ- ১১/০৬/২০২০ইং। থানা সুত্রে জানা যায় বাদী স্বশরীরে থানায় হাজির হয়ে ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার ক্ষতিপুরন দাবী করে অত্র মামলা দায়ের করেন। এরিপোট লেখা পর্যন্ত এমামলায় কোন আসামী গ্রেফতার হয়নি। এ মামলার তদন্ত ভার গ্রহন করেন এস আই নাজমুল হুদা।
সারাদেশে করোনার মহাসংকটে আবার ও তেরখাদায় লগ ডাউন
তেরখাদা প্রতিনিধি
সারাদেশের ন্যায় তেরখাদা উপজেলায় গত ১১ জুন সকাল ১১ টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষ্ণু পালের নিজ কার্যালয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাজার ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে করোনা প্রতিরোধের এক জরুরী সভার আয়োজন করা হয়। সভার সিন্ধান্ত মোতাবেক ঔষদের দোকান, ফলের দোকান, কৃষি পন্য, মনোহারী, পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ব্যাংক ও বীমা গত ১১ জুন থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত সকাল ৭ টা থেকে ৪ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে, ছাড়া অন্য সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্দ থাকবে এবং মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে প্রতি সপ্তাহে শনিবার, সোমবার ও বুধবারে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে কাচা বাজার বসবে এছাড়া গ্রামগঞ্জে সপ্তাহে ২ দিন কাচা বাজার বসবে। এরিপোট লেখা পর্যন্ত তেরখাদা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ৭ জন করোনা রোগী সনাত্মক হয়েছে। তাই করোনা প্রতিরোধে সকলের সর্তকতা অবলম্বনের স্বার্থে, হ্যাড গ্লোভস, মাক্স ব্যবহার বাধ্যতা মূলক এবং বিনা প্রয়োজনে ঘর থেকে বের না হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এ আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
দেবহাটায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমিতির অসহায়দেরকে খাদ্য সামগ্রী ও অর্থ বিতরন
দেবহাটা প্রতিনিধি
দেবহাটায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির উদ্যোগে করোনায় কর্মহীন অসহায় মানুষদেরকে খাদ্য সামগ্রী ও ঘূর্নিঝড় আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্থদের গৃহ নির্মান বাবদ নগদ অর্থ সহায়তা বিতরন করা হয়েছে। সমগ্র বিশ্ব করোনা ভাইরাসের প্রভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে। দেবহাটা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি নামের এই সংগঠনটির সহযোগিতায় এ উপজেলায় প্রথম ত্রাণ সামগ্রী বিতরন করে দেবহাটা প্রেসকাব। এবার দেবহাটা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি সম্পূর্ন নিজস্ব আয়োজনে করোনায় কর্মবঞ্চিত ৪ শত পরিবারের হাতে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে তুলে দিয়েছে মাথাপিছু ৫ কেজি চাল, ৩ কেজি আলু, ১ কেজি পেয়াজ, ১ কেজি ডাল, ১ লিটার সোয়াবিন তেল ও ১ কেজি লবন। এছাড়া বাংলাদেশের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রলয়ংকারী ঘূর্ণী ঝড় আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্থ ১ শত পরিবারকে মাথাপিছু তুলে দিয়েছে নগদ ১৫ শত করে টাকা। শুক্রবার সকাল ৮ টায় দেবহাটা ফুটবল মাঠে উক্ত সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির পরিচালক দেবহাটা প্রেসকাবের কার্য্যনির্বাহী সদস্য সহকারী অধ্যাপক ইয়াছিন আলী। দেবহাটা প্রেসকাবের সাধারন সম্পাদক শিক্ষানবীশ আইনজীবি আর.কে.বাপ্পার সার্বিক সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন যথাক্রমে দেবহাটা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান সবুজ, দেবহাটা সদর ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর গাজী, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা অধীর কুমার গাইন ও দেবহাটা প্রেসকাবের সভাপতি আব্দুর রব লিটু। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা রাকিব হোসেন, উপজেলা আ’লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক শেখ আব্দুর রউফ, দেবহাটা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমিতির পরিচালক প্রশান্ত কুমার রায় বাপ্পী, দেবহাটা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি আকরাম হোসেন, ফিল্ড অফিসার রেজাউল করিম, সৈয়দ লিয়াকত আলী, বাবলুর রহমান, আজহারুল ইসলাম প্রমুখ।
খুবির নগ্রাপ ডিসিপ্লিনের শিক্ষক প্রফেসর শামীম মাহবুবুল হকের ইন্তেকালে স্বাশিপের শোক
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা (নগ্রাপ) ডিসিপ্লিনের শিক্ষক প্রফেসর ড. শামীম মাহবুবুল হক গতকাল বৃহস্পতিবার আনুমানিক রাত সাড়ে নয়টায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ঢাকায় ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহে …রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলা ৫৪ বছর। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীনতা শিক্ষক সমিতি তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। সংগঠনের সকল সদস্যের পক্ষ থেকে সভাপতি প্রফেসর ড. মোসাম্মাৎ হোসনে আরা এবং সাধারন সম্পাদক প্রফেসর ড. আশীষ কুমার দাস এক শোক বিবৃতিতে মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।
ঝিনাইদহে করোনা উপসর্গ নিয়ে আরও একব্যাক্তির মৃত্যু, মৃত্যুর ৫ দিন পর রিপোর্ট এলো পজেটিভ
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় করোনা উপসর্গ নিয়ে আরও একব্যাক্তির মৃত্যু হয়েছে। তার মৃত্যুর ৫ দিন পর নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে। এটিই ঝিনাইদহ জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যু। জেলায় এ পর্যন্ত ৭২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে।
ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডাঃ সেলিনা বেগম জানান, শৈলকুপা উপজেলার কবিরপুর গ্রামের কৃষ্ণ গোপাল সাহা জ¦র, সর্দি, কাশিসহ করোনার উপসর্গে আক্রান্ত হন। তিনি বাড়িতেই ছিলেন। খবর পেয়ে ৩ জুন স্বাস্থ্য কর্মীরা তার নমুনা সংগ্রহ করে। পরীক্ষার জন্য নমুনা খুলনা ল্যাবে পাঠানো হয়। ৭ জুন ওই ব্যক্তি মারা যান। শুক্রবার সকালে তার রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে।
এছাড়াও জেলায় শুক্রবার খুলনা ল্যাব থেকে ঝিনাইদহে মোট ৩০ টি রিপোর্ট এসেছে। যার মধ্যে শৈলকুপায় করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত ব্যক্তিসহ সদর উপজেলায় ১ জন এবং কালীগঞ্জ উপজেলায় ১ জন পজেটিভ এসেছে। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাড়ালো ৭২ জন এবং সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪২ জন।
ঝিনাইদহে নতুন করে আরও ৩ জন করোনায় আক্রান্ত
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহে নতুন করে আরও ৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে এ জেলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাড়ালো ৭২ জন। শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য বিভাগ।
সিভিল সার্জন ডাঃ সেলিনা বেগম জানান, খুলনা ল্যাব থেকে ঝিনাইদহে মোট ৩০ টি রিপোর্ট এসেছে। এর মধ্যে থেকে ৩ টি পজেটিভ এসেছে। আক্রান্ত ব্যাক্তিদের বাড়ী সদর উপজেলায় ১ জন, কালীগঞ্জ উপজেলায় ১ জন এবং শৈলকুপা উপজেলায় ১ জন । আক্রান্ত ৬৯ জনের মধ্যে সুস্থ্য হয়ে বাড়ী ফিরেছেন ৪১ জন।
খুবির নগ্রাপ ডিসিপ্লিনের শিক্ষক প্রফেসর শামীম মাহবুবুল হকের ইন্তেকাল, উপাচার্যের শোক
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা (নগ্রাপ) ডিসিপ্লিনের শিক্ষক প্রফেসর ড. শামীম মাহবুবুল হক বৃহস্পতিবার আনুমানিক রাত সাড়ে নয় টায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ঢাকায় ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহে …রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলা ৫৪ বছর। তাঁর স্ত্রী খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফএমআরটি ডিসিপ্লিনের শিক্ষক প্রফেসর ড. গাউসিয়াতুর রেজা বানু। এছাড়া তাৎক্ষনিক ভাবে বিস্তারিত তথ্য জানা সম্ভব হয়নি।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা (নগ্রাপ) ডিসিপ্লিনের শিক্ষক প্রফেসর ড. শামীম মাহবুবুল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক শোক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বেশ কিছু দিন ধরে অসুস্থ থাকা সত্ত্বে ও তিনি ছিলেন একজন গবেষণা মনস্ক শিক্ষক। তিনি মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। অনুরূপভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর সাধন রঞ্জন ঘোষ, সাইটে স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. উত্তম কুমার মজুমদার, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুস, নগ্রাপ ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর ড. কাজী সাইফুল ইসলামসহ ডিসিপ্লিনের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারি শোক প্রকাশ করেছেন। এছাড়া গভীর শোক প্রকাশ করেছেন খুবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. আশিষ কুমার দাস।
কেশবপুরে ১৭ জন সাংবাদিক প্রেসক্লাবের সদস্য হলেন
কেশবপুর প্রতিনিধি :
কেশবপুর প্রেসকাবে নতুন ১৭ জন সাংবাদিককে সদস্য পদ প্রদান করা হয়েছে। দু’দফায় তাদের আবেদনের ভিত্তিতে নির্বাহী কমিটির সিদ্ধ্যান্ত মোতাবেক সদস্য পদ দেয়া হয়। প্রথম দফায় ৫ জন এবং দ্বিতীয় দফায় ১২ জনকে সদস্য করা হয়েছে।
কেশবপুর প্রেসকাবের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসাইন বলেন, গত ১ মার্চ কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ (গ্রামের কাগজ), তাইফুর রহমান (দৈনিক যশোর), সোহেল পারভেজ (দৈনিক নওয়াপাড়া), আয়ুব খান (দৈনিক দৃষ্টিপাত), আব্দুল করিম (দৈনিক তৃতীয়মাত্রা), এবং শুক্রবার (১২ জুন) কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় দ্বিতীয় দফায় রমেশ চন্দ্র দত্ত (দৈনিক দেশ সংযোগ), কামরুজ্জামান রাজু (দৈনিক আলোকিত সকাল), মিলন কুমার দে (দৈনিক স্পন্দন), পরেশ চন্দ্র দেবনাথ (দৈনিক গ্রামের কাগজ ), শহিদুল ইসলাম (দৈনিক দেশের কন্ঠ), উদয় শংকর সিংহ (দৈনিক যশোর), মেহেদী হাসান জাহিদ (দৈনিক সময়ের খবর),সুশান্ত কুমার মল্লিক (দৈনিক বাংলার দূত), আলমগীর হোসেন (দৈনিক খুলনাঞ্চল), মাহবুবুর রহমান (দৈনিক দিনকাল), অলিয়ার রহমান (দৈনিক প্রতিবাদী কন্ঠ), আব্দুল্লাহ আল মামুন (দৈনিক আলোকিত সকাল) কে নতুন সদস্য পদ প্রদান করা হয়েছে।
কেশবপুর প্রেসকাবের সভাপতি আশরাফ উজ জামান খান বলেন, কেশবপুরে কর্মরত বিভিন্ন পত্রিকার ১৭ জন সাংবাদিককে কেশবপুর প্রেসকাবে সদস্য পদ প্রদান করা হয়েছে। সকল সাংবাদিককে কেশবপুর প্রেসকাবে একত্রিত করার জন্য আগামীতে নতুন সদস্য পদ প্রদান অব্যহত থাকবে।
খুলনা সোসাইটির কো-চেয়ারম্যানের পিতার ইন্তেকাল : নেতৃবৃন্দের শোক
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা সোসাইটির কো-চেয়ারম্যান, বিশ্বাস প্রোপার্টিজ এর সিইও আলহাজ্ব আজগর বিশ্বাস তারা’র পিতা আলহাজ্ব হারেজ বিশ্বাস (৬৭) শুক্রবার সকাল ৭টায় রায়েরমহলস্থ নিজ বাসভবনে তিনি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি … রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, পুত্র, কন্যাসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। বাদ জুম্মা রায়েরমহলস্থ হামিদনগর ঈদগাহ ময়দানে মরহুমের নামাজে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়েছে।
এদিকে তার মৃত্যুতে গভীর শোব প্রকাশ ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বিবৃতি প্রদান করেছেন খুলনা সোসাইটির নেতৃবৃন্দ। বিবৃতিদাতারা হলেন- খুলনা সোসাইটির উপদেষ্টা ড. সৈয়দ হাফিজুর রহমান, এ্যাড. শাহনেওয়াজ বাবুল, মো: আবু তৈয়ব মুন্সী ও আজিজুল হাসান দুলু, চীফ ট্রেইনার মো: মাহাবুব আলম, চেয়ারম্যান এস এম সোহেল ইসহাক, ভাইস-চেয়ারম্যান এ্যাড. সেলিনা আক্তার পিয়া, মো: আব্দুস সালাম শিমুল, আতাউর রহমান শিকদার রাজু, মহাসচিব ফারহানা চৌধুরী কনিকা, যুগ্ম মহাসচিব এস এম ময়েজ উদ্দিন চুন্নু, সাইফুর রহমান সুজন, ওয়াহিদ জামান ও ইঞ্জি. মিজানুর রহমান, সম্পাদকম-লীর সদস্য সারিকা জামান রুনা, জি এম শহিদুল ইসলাম, ইঞ্জি. সাব্বির হোসেন ও শেখ সাদিকুর রশিদ অভি, কাজী আইনুল মুন, ইসরাত আমিন শাবানা, প্রফেসর তাসরিনা বেগম, ডা: প্রদীপ দেবনাথ, ডা: দেবাশিষ সরকার, ডা. মেহেদী হাসান, আব্দুল জলিল সাগর, মো: জয়নাল ফরাজী, শেখ সুমনা আহমেদ, এ্যাড. জামিলা আকতার, গোপাল কর্মকার, কাজী মাহফুজুর রহমান, এস এম মিশকাতুল ইসলাম, মো: মাসুদ রানা, ইঞ্জি: আরিফুল ইসলাম, ইঞ্জি: হাসিবুর রহমান ইমন, ডা: মো: নজরুল ইসলাম, সদস্য বেগ রফিকুল ইসলাম, তৈয়বা খাতুন চেমি, প্রফেসর আহমেদুল কবির চাইনিজ, রফিকুল ইসলাম পিটু, মো: নুর ইসলাম, সাজিনা ইসলাম, ডা: বিষ্ণুপদ সাহা, ডা: চয়ন বিশ্বাস, কাজী আসমা আজমেরী, ইমরুল কায়েস জুয়েল, মো: তারেক হাসান, ডা. কামাল উদ্দিন।
মোড়েলগঞ্জে আওয়ামী লীগে যোগদানের পর একজনের পদত্যাগ
মোড়েলগঞ্জ প্রতিনিধি:
বাগেরহাট-৪, মোড়েলগঞ্জ-শরণখোলা উপ-নির্বাচনে বারইখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নির্বাচনী পথসভায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য এ্যাড. আমিরুল আলম মিলন ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাড. মনিরুল হক তালুকদারের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে বিএনপি থেকে ৭ নেতাকর্মী আওয়ামী লীগের যোগদান করেন।
এরা হলেন পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মো. জাকির হোসেন কাজী ওরফে (বাচ্চু), ইসাহাক হোসেন মন্টু, নাহিদুল ইসলাম মুন্সী, মো. বিপ্লব কাজী, রিফাত হোসেন রিপন, মো. রিপন কাজী আওয়ামীলীগে যোগদান করেন। উল্লেখ্য, বারইখালী ১নং ওয়ার্ড পৌরসভার এ ৭ জন আওয়ামী লীগে যোগদানের মধ্যে ৬ নম্বর তালিকা রয়েছেন মো. রিপন কাজী। কাজী রিপন জানান, (মার্চ মাস২০২০) এ আওয়ামী লীগে যোগদানের বিষয়টি আমি অবহিত নয়। শুধুমাত্র উপ নির্বাচনে স্থানীয় সংসদ সদস্য এ্যাড. আমিরুল আলম মিলন এর হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছি। আমি আওয়ামী লীগে যোগদানের বিষয়টি পত্রিকার মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য প্রত্যাহার করলাম।
খানজাহান আলী থানায় করোনা প্রতিরোধে ওসির প্রচারনা
ফুলবাড়ীগেট(খুলনা)প্রতিনিধি
করোনা ভাইরাস সংক্রামণ প্রতিরোধে খুলনা জেলার সকল উপজেলা ও মহানগরীতে দোকানপাট, শপিংমল,যানবাহন ও জনসাধারণের চলাচলের উপর খুলনা জেলা প্রসাশন মোঃ হেলাল হোসেন ১১ জুন থেকে ২৫ জুন পর্যৗল্প ১৫ দিনের জন্য দোকানপাট, জানবাহন ও চলাচলের উপর বিধি নিষেধ জারি করেন। বিধিনিষেধ অনুযায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্য কাঁচা বাজার মৌসুমী ফলের দোকান ও ফার্মেসী ব্যতীত অন্যান্য দোকান পাট, শপিংমল ও ফুটপাতের দোকান বন্ধ থাকবে। শারীরীক দুরত্ব বজায় রাখা, হ্যান্ড সেনিটাইজার ও জিবানু নাশক ব্যবহার করে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান ও কাঁচা বাজার প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকার নির্দেশ প্রদান করেন। এসকল নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে খানজাহান আলী থানা (কেএমপি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম ১২ জুন সকাল সাড়ে ১০টায় ফুলবাড়ীগেট ও শিরোমণি বাজার প্রচার মাইকে সচেতনতামুলক বক্তৃতা দেন। এসময় তিনি আরোও বলেন, সরকারী এ সকল নির্দেশনা মানা না হলে পুলিশ প্রসাশন কঠোর হস্তে দমন করতে বাধ্য থাকবে। তিনি জন সাধারণের প্রতি সরকারী নির্দেশনা মেনে চলার জন্য জোর আহ্বান জানান।
ঝিনাইদহের হরিশংকরপুর গ্রামে জোড়া খুনের পর বিভিন্ন সময় খোয়া যাওয়া গরু-ছাগল উদ্ধার করেছে পুলিশ
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের হরিশংকরপুর গ্রামে জোড়া খুনের পর বিভিন্ন সময় খোয়া যাওয়া গরু-ছাগল উদ্ধার করেছে সদর থানা পুলিশ। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সদর উপজেলার হরিশংকরপুর গ্রামে বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মাসুম ও সাবেক চেয়ারম্যান খন্দকার ফারুকুজ্জামান ফরিদের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে সম্প্রতি অতর্কিত হামলায় ফরিদের দুই সমর্থক আলাপ শেখ ও নুর ইসলাম নিহত হয়। এ ঘটনার পর ওই গ্রাম থেকে বেশ কিছু গরু ছাগল নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মোঃ হাসনুজ্জামান (পিপিএম) এর নির্দেশনা মোতাবেক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল বাসারের নেতৃত্বে সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান ও ইন্সপেক্টর (তদন্ত) এমদাদুল হক পুলিশি অভিযান চালিয়ে ১২ টি গরু ও ৭টি ছাগল উদ্ধার করে। পরে খোয়া যাওয়া গরু ও ছাগলের মালিকের কাছে তা ফিরিয়ে দেয়। এ সময় তারা খোয়া যাওয়া গরু-ছাগল ফিরে পেয়ে পুলিশকে ধন্যবাদ জানায়।
মোড়েলগঞ্জে খাউলিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র পরিদর্শন
এম.পলাশ শরীফ,মোড়েলগঞ্জ
বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে উপজেলার খাউলিয়ায় একটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র পরিদর্শন করা হয়েছে।শুক্রবার বিকেলে সহকারি প্রকৌশলী, স্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তর বাগেরহাট এনামুল কবির, মোড়েলগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার মো. দিলদার হোসেন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিদিন প্রত্যন্ত অঞ্চলের বহু দরিদ্র মায়েরা পরিবার পরিকল্পনা সেবা, গর্ভকালিন, ডেলিভারি, প্রসূতি এবং কিশোর-কিশোরীরা প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা গ্রহন করেন। এছাড়া শিশু ও নবজাতকদের স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা হয়। এ এলাকার সাধারণ মানুষ এই স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রের উপর নির্ভরশীল। এ জরাজীর্ণ স্বাস্থ্য কল্যাণ কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় কর্মকর্তারা বলেন, কিনিক ভবনটি একেবারেই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ ভবনটি পুর্নঃনির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে।
এদিকে স্থানীয়রা জানান, উপজেলার খাউলিয়া ইউনিয়নের চিপা বারইখালী গ্রামের চেয়ারম্যান বাজার এলাকায় এ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটিতে গর্ভবর্তী মা ও শিশু রোগীসহ বিভিন্ন রোগী সেবা নিয়ে থাকেন। এ ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের অর্ধশত রোগী সেবা নিচ্ছেন এ কেন্দ্রটি থেকে। ভবনটি জরার্জীণ হওয়ায় রোগীরা আতংকে থাকতে হয়। ভবনটি পুর্নঃনির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আর্কষন করছি।
এদিকে বিশ্বজুড়ে প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের মধ্যেও প্রতিটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে পরিদর্শন করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো.দিলদার হোসেন। মাঠ পর্যায়ে জনগনের স্বাস্থ্য সেবা পৌছে দিতে প্রতিনিয়ত তদারকি করছেন এ কর্মকর্তা।
রাতে যশোর কালেক্টরেট চত্বরে আড্ডা, ৪২ তরুণ আটক
যশোর অফিস
করোনাকালে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যশোর কালেক্টরেট পার্কে সন্ধ্যা সাটা থেকে সাড়ে আটটা পর্যন্ত আড্ডা দেওয়ায় উঠতি বয়সী মোট ৪২ তরুণকে আটক করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে এদের সবাইকে কালেক্টরেট চত্বরে জড়ো করা হয়। আটকদের মধ্যে ২৭ জনকে শপথ বাক্য পাঠ করান আদালত। তারা শপথ করেন, দেশে এই করোনা পরিস্থিতির মধ্যে বাইরে বের হয়ে এই সংক্রামক ব্যাধিতে জড়াবেন না। বিনা প্রয়োজনে আর ঘর থেকে বের হবেন না। একইসঙ্গে কালেক্টরেট পার্কে আর আড্ডা দিতে আসবেন না। তারা শপথ পাঠ করার শর্তে মুক্তি পান। অন্যরা জরিমানা দিয়ে মুক্তি পান।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাফিজুল হক বলেন, এই দুর্যোগের মধ্যে কালেক্টরেট চত্বরে দল বেঁধে আড্ডা দেওয়ায় তাদের আটক করা হয়। এর মধ্যে ২৭ জনকে শপথ পাঠ এবং কালেক্টটরেট পার্কে আর আড্ডা দিতে আসবেন না শর্তে ছেড়ে দেওয়া হয়। অন্যদের মধ্যে আটজনকে ‘১৮৬০ সালের অবহেলা ও অসচেতনতার কারণে ছড়িয়ে পড়া সংক্রমণ আইন’-এর ২৬৯ ধারায় প্রত্যেককে ৫০০ টাকা করে মোট চার হাজার ও সাতজনকে ২০১৮ সালের বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন আইনে ২০০ টাকা করে মোট এক হাজার ৪০০ টাকা জরিমানা করে তা আদায় করা হয়।
আদালত চলাকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুজ্জামান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী আতিকুর রহমান, নির্বাহী ম্যাজস্ট্রেট রাসনা শারমিন মিথি, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানজিলা আখতারসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
যশোরে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১৮৪
যশোর অফিস
যশোরে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ, একদিনে আরো ১১ জনের শরীরে কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে।
এ নিয়ে জেলায় ১৮৪ জনের শরীরে করোনার অস্তিত্ব মিললো। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনোম সেন্টারে গত ২৪ ঘণ্টায় এ জেলার ৬৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এরমধ্যে ১১টি নমুনার রেজাল্ট পজেটিভ আসে।
শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এনএফটি বিভাগের চেয়ারম্যান ও পরীক্ষণ দলের সদস্য ড. শিরিন নিগার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জোয়ার এলেই প্লাবিত হয় গ্রামের পর গ্রাম
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
ঘূণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত সাতক্ষীরা উপকূলের অনেক এলাকার বেড়িবাঁধ মেরামত করতে না পারায় এখন পর্যন্ত প্লাবিত লোকালয়ের মধ্যেও জোয়ার-ভাটা চলছে। ঢেউয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জীবনযাপন করতে হচ্ছে আপামর জনতাকে। স্থানীয় মানুষের স্বেচ্ছাশ্রমে রিং বাঁধ নির্মাণের কাজও চলছে। তবে বড় ঢল নামলে স্রোতে তা ভেসে যাবে বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা। তারা মনে করছেন, দ্রুত স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা না হলে নদীগর্ভে বিলীন হবে উপকূলের অনেক গ্রাম।
জানা গেছে, ঘূণিঝড় আম্পানে শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী, গাবুরা, পদ্মপুকুর, কাশিমাড়ি ও আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ও প্রতাপনগর ইউনিয়নের অধিকাংশ বেড়িবাঁধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত হয়। বাঁধগুলো স্থানীয় মানুষের স্বেচ্ছাশ্রমে মেরামত করার উদ্যোগ গ্রহণের ২৩ দিন অতিবাহিত হলেও অনেকে এলাকায় এখনও বাঁধ দেওয়া সম্ভব হয়নি। আবার অনেক এলাকায় এলাকাবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ নির্মাণ করা হলেও নদীর প্রবল জোয়ারের চাপে ভেঙে গেছে। এতে করে এখনও সাতক্ষীরার শ্যামনগরের কাশিমাড়ি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা ও পদ্মপুকুরের বন্যতলা ও আশাশুনির প্রতাপনগর ও শ্রীউলার লোকালয়ে জোয়ার-ভাটা হচ্ছে। এদিকে দেবহাটার সীমান্ত নদী ইছামতির বাঁধ ভেঙে অন্তত পাঁচটি গ্রাম প্লাবিত হয়। এছাড়া তালার পাখিমারা বিলের টিআরএম বাঁধে ভেঙে কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
আশাশুনির প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্পানে সাতক্ষীরার মধ্যে বাঁধ ভেঙে তার ইউনিয়ন বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৪০ কিলোমিটার বাঁধের সব নষ্ট হয়ে গেছে। আম্পানে খোলপেটুয়া নদীর চাকলা, দিঘলারআইট, সুভদ্রাকাটি, রুইয়ারবিল, কুড়িকাহুনিয়া, হিজলিয়া কোলাসহ বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। স্থানীয় মানুষকে সঙ্গে নিয়ে রিং বাঁধ দেওয়া হলেও প্রবল জোয়ারে অধিকাংশ বাঁধ বেঙে এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এখনও নদীতে জোয়ার হলে পুরো ইউনিয়নের লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে, ভাটায় সেই পানি নেমে যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁশ ও বস্তা দেওয়া ছাড়া কোনও সহযোগিতা করেনি। চাকলা, কুড়িকাহুনিয়া, হরিষখালি পয়েন্টে বড় বড় ভাঙন দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। দ্রুত স্থায়ী টেকসই বাঁধ নির্মাণ না করলে বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে এই হারিয়ে যাবে প্রতাপনগর ইউনিয়নসহ উপকূলের অনেক এলাকা।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিবছর জরাজীর্ণ বেড়িবাঁধ ভেঙে আশাশুনি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। ১৯৯৫ সালে আশাশুনির বলাবাড়িয়ায় বাঁধ ভাঙার পর থেকে প্রতিবছর ভাঙনের কবলে পড়ে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হলেও কাজ হয় না। পানিতে হাবুডুবু খেতে খেতে নাকাল হয়ে পড়ে এই জনপদের মানুষ। ঝড়ে ক্ষয়-ক্ষতি না হলেও বেড়িবাঁধ ভেঙে জীবন ও সম্পদ হারায় তারা। অনেক মানুষ বাঁধের ওপর ছাপড়া তুলে মানবেতর জীবনযাপন করছে।’
শ্যামনগরের কাশিমাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ বলেন, ‘আম্পানে খোলপেটুয়া নদীর ৬টি পয়েন্টে ২ কিলোমিটার বাঁধ ভেঙে পুরো ইউনিয়ন প্লাবিত হয়। কিন্তু ছোট ছোট দুটি স্থান ছাড়া ভেঙে যাওয়া অধিকাংশ স্থানের বাঁধ মেরামত করা যায়নি। পরে স্থানীয় মানুষের স্বেচ্ছাশ্রমে রিং বাঁধ দেওয়া হলেও জোয়ারের পানিতে চিংড়িখালি খালের চার ফিট বাঁধ ভেঙে পুরা ইউনিয়ন আবারও প্লাবিত হয়েছে। এখনও এলাকায় জোয়ার-ভাটা হচ্ছে। কাশিমাড়ি ইউনিয়নের ঝাঁপালির চিংড়িখাল ও খোলপেটুয়া নদীর ওয়াপদা বাঁধের ১০টি গ্রামের এবং কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের তিন গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ফলে নদীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে রীতিমতো জোয়ার-ভাটার মধ্যে বসবাস করছে উপকূলীয় দুর্গত জনপদের হাজারও পরিবার।
গাবুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম জানান, আম্পানের পর লেবুবুনিয়া, নাপিতখালি ও জেলেখালি এলাকায়র বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। এই ইউনিয়নের মোট ২৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ২০ কিলোমিটার ভেঙে যায়। এলাকারবাসীকে সঙ্গে নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে রিং বাঁধা হয়েছে। তারপরও সেগুলো টিকছে না। মাঝে মধ্যে ভেঙে বাঁধ ও জোয়ারের পানি উঠে এলাকা প্লাবিত হচ্ছে এবং জোয়ার-ভাটায় পানি ওঠানামা করছে। পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম আতাউর রহমান জানান, আম্পানে তার ইউনিয়নের বন্যতলা, কামালকাটি, ঝাপা, ছোট চন্ডীপুর, পূর্ব পাতাখালি, পশ্চিম পাতাখালি, খুঁটিকাটা ও চাউলখোলা পয়েন্টগুলোর বাঁধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত হয়। মোট ২৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ২৪ কিলোমিটার ভেঙে যায়। এসব এলাকার বাঁধগুলো স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে পানি ঠেকাতে রিং বাঁধ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে বন্যা তলার বাঁধ ভেঙে কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তাই সবার আগে উপকূলীয় বেড়িবাঁধ সংস্কার জরুরি। নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলেই যে কোনও মুহূর্তে রিং বাঁধ ভেঙে আবারও এলাকা প্লাবিত হবে।
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনম আবুজার গিফারী বলেন, ‘আম্পানের ক্ষতিগ্রস্ত শ্যামনগরের বাঁধগুলোয় এলাকাবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে রিং বাঁধ দেওয়া হয়েছে। এখন শুধু পদ্মপুকুর ইউনিয়নের একটি পয়েন্টে ও কাশিমাড়ি ইউনিয়নের দুটি পয়েন্টে রিং বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। তবে সব জায়গায় কাজ চলছে। গাবুরার লেববুনিয়া বাঁধ ছাপিয়ে মাঝে মধ্যে পানি চলে আসে। এই পয়েন্টে খুব দ্রুত সেনাবাহিনী কাজ শুরু করবে। এছাড়া যারা স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করেছেন, তাদের সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’
আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর আলিফ রেজা বলেন, ‘আম্পানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে প্রতাপনগর ও শ্রীউলা ইউনিয়নে। প্রতাপনগরের পুরো ইউনিয়নের মানুষ এখনও পানিবন্দি। প্রতাপনগরের চাকলা, শুভদ্রাকাটি, কুড়িকাহুনিয়া, কোলা, হরিষখালি, হিজলাসহ ৬টি পয়েন্টে ভেঙে এলাকা প্লাবিত হয়। পরে স্থানীয়দের সহয়তা রিং বাঁধ দেওয়া হলেও সেগুলো আবারও ভেঙে এখন পর্যন্ত ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে। তাদের ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শ্রীউলা ইউনিয়নের হাজরাখালিতে অনেক গভীর হওয়ার কারণে রিং বাঁধ সম্ভব হচ্ছে না। হাজরাখালি বাঁধ ভাঙার কারণে মাড়িয়ালা, লাঙ্গল, দাড়িয়া, কলিমাখালিসহ ১০টি গ্রামে এখনও জোয়ার-ভাটা হচ্ছে। আশাশুনি সদর ইউনিয়নের জেলেখালি, দয়ারঘাট, বলাবাড়িয়াসহ বিভিন্ন স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত হয়। অধিকাংশ স্থানে রিং বাঁধের কাজ চলছে। মূল বাঁধের কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে আশাশুনি সদরের দয়ারঘাট ও বলাবাড়িযায় কাজ চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ এখনও শুরু হয়নি। তারা বস্তা ও বাঁশ দিচ্ছে। যেসব মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করছেন, তাদের টিআর বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।’ সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল জানান, জেলায় সড়ক ও জনপদের ৮১ কিলোমিটার রাস্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৫৭.৫০ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্থদের পুনর্বাসনের কাজ শুরু হয়েছে। ভেঙে যাওয়া বাঁধ সংস্কারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
করোনায় একদিনে ৩ চিকিৎসকের মৃত্যু
ঢাকা অফিস
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর জেড. এইচ. সিকদার উইমেনস মেডিক্যাল কলেজের এক চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। ডা. একেএম ফজলুল হক ওই হাসপাতালের অপথালমোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ছিলেন। শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যা ৭টায় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই নিয়ে রাজধানীতে একদিনেই করোনায় তিন চিকিৎসকের মৃত্যু হলো। এর আগে একইদিন করোনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. গাজী জহির হাসান এবং জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহমুদ মনোয়ারের মৃত্যু হয়। ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি রাইটস অ্যান্ড রেসপনসিবিলিটির (এফডিএসআর) যুগ্ম সম্পাদক ডা. রাহাত আনোয়ার চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ডা. রাহাত আনোয়ার চৌধুরী বলেন, ‘ডা. একেএম ফজলুল হকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গতকাল তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘ডা. একেএম ফজলুল হক মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করেছেন। পরে অবসর নিয়ে তিনি জেড. এইচ. সিকদার উইমেনস মেডিক্যাল কলেজে যোগদান করেন।’ প্রসঙ্গত, দেশে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২৯ জন চিকিৎসক। এছাড়া, করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরও পাঁচ জন চিকিৎসক।
পাওনা টাকা চাওয়ায় সংঘর্ষ, মুক্তিযোদ্ধা নিহত
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে সাহেব আলী খন্দকার (৭৫) নামে একজন মুক্তিযোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এসময় উভয় পক্ষের ৫০ জন আহত ও বেশ কয়েকটি বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১২ জুন) সকালে উপজেলার পশারগাতী ইউনিয়নের কাওয়ালদিয়া গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানায়, সাহেব আলী খন্দকারের সঙ্গে একই গ্রামের তৈয়ব আলী মুন্সীর পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ চলছিল। তারই জের ধরে সকাল ৭টার দিকে উভয় পক্ষে মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় উভয় পক্ষের লোকজন ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ফলে মুক্তিযোদ্ধা সাহেব আলীসহ উভয় পক্ষের ৫০ জন ইটের আঘাতে আহত হন। আহতদের মুকসুদপুর হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাহেব আলী খন্দকারকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মুকসুদপুর-কাশিয়ানী সার্কেল) আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া সংঘর্ষের বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’ তিনি জানান, মুক্তিযোদ্ধা সাহেব আলী খন্দকারের শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন নাই বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। লাশের ময়নাতদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
এ মাসের শেষে বন্যার শঙ্কা
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
এবার আগেই বাড়ছে বন্যার ঝুঁকি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই বৃষ্টিপাত অনেক বেড়ে গেছে। শুরু থেকেই মৌসুমি বায়ু বেশ সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। ফলে জুনেই সারাদেশে ভারি বৃষ্টির আভাস রয়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে জুনের শেষ নাগাদ বন্যা দেখা দিতে পারে। সারাদেশই এবার বন্যার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে এবার আগেই দেশের প্রধান নদীগুলোর পানি অনেক বেড়ে গেছে। বিশেষ করে সিরাজগঞ্জের কাছে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। তারা জানিয়েছে, মে মাসের শেষে এবং জুনের শুরুতেই যমুনায় যে পরিমাণ পানি বেড়েছে তা গত ১৯৮৮ সালের পর আর দেখা যায়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, এবার মৌসুমের শুরুতেই বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বেশি। আবহাওয়া অফিস বলছে জুন-জুলাইয়ে বৃষ্টিপাত বেশি হবে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে জুনের শেষ নাগাদ দেশে বন্যা দেখা দিতে পারে। তিনি বলেন, মৌসুমি বায়ু প্রথম থেকেই সক্রিয়। যে হারে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হচ্ছে তাতে দেশের উপকূলীয় এলাকা বাদে সারাদেশেই এবার বন্যার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। জুনের শেষ নাগাদ দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে পাহাড়ী ঢলের কারণে এই সময়ে উত্তর পূর্বাঞ্চলেও বন্যা দেখা দিতে পারে। তিনি জানান, এবার আগেই নদীগুলোতে পানি এসে গেছে। যমুনা নদীর পানিও এবার আগেই অনেক বেড়ে গেছে। অন্য নদীগুলোর পানিও বাড়ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, নদীর সমতলে ৯০টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ৪৯টি স্টেশনে সমতলে নদীগুলোর পানি বাড়ছে। এর মধ্যে যমুনা নদীর পানি বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে। তারা জানায়, যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নদীর পানি ৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেলেও বিপদসীমার ১ দশমিক ৫১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বাড়ার এই ধারা অব্যাহত থাকলে ১৫ জুনের পর যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা অতিক্রম করে বন্যা হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে আবহাওয়া অফিস জানায়, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় সুস্পষ্ট লঘুচাপ অবস্থান করছে। এটি আরও ঘনীভূত হতে পারে। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট ও ঢাকা বিভাগের পূর্বাংশ পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছে। এটি আরও অগ্রসর হয়ে সারাদেশে বিস্তার লাভ করবে। তারা জানায়, লঘুচাপের প্রভাবে সাগর ও উপকূল এলাকায় গভীর সঞ্চারশীল মেঘমালা তৈরি হচ্ছে ও বায়ু চাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। এর ফলে উত্তর বঙ্গোপসাগর, উপকূল এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরগুলোকে ৩ নম্বর সতর্ক সঙ্কেত দেখাতে বলা হয়েছে। এছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী আদেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। সেইসঙ্গে তাদের গভীর সাগরে বিচরণ করতে না করা হয়েছে। সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে প্রায় সারাদেশের ওপর দিয়েই বিশেষ করে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জায়গায় ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে।
এমপি শেখ তন্ময় করোনা আক্রান্ত, আইসোলেশনে
মাসুম হাওলাদার, বাগেরহাট
বাগেরহাট সদর আসনের সংসদ সদস্য শেখ সারহান নাসের তন্ময় আইসোলেশনে রয়েছেন। তার ব্যক্তিগত সহকারীর করোনা রিপোর্ট পজিটিভ রিপোর্ট আসায় চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি আইসোলেশনে যান। বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে শেখ তন্ময় জানান, আমার ব্যক্তিগত সহকারীর করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসার পর থেকে ডাক্তারের পরামর্শে আইসোলেশনে আসি। যেহেতেু আমার বাবা হার্টের রোগী এবং আমার দাদি বয়সোর্ধ সেজন্যই আমি বাসার বাইরে মামাতো ভাইয়ের বাসায় বর্তমানে আইসোলেশনে আছি। চলতি বাজেট অধিবেশনে যোগদান বিষয়ে তিনি বলেন, এবারের বাজেটে যেহেতেু সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই আসন বণ্টন করা হয়েছে। রিপোর্টের ফলাফল নেগেটিভ আসলে ২৩ জুন বাজেট অধিবেশনে যোগ দেয়ার আশা করেন তিনি। আইসোলশনে থাকলেও মুঠোফোনের মাধ্যমে এলাকার সার্বিক কর্মকা- মনিটরিং করছেন এবং দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন শেখ তন্ময়।
করোনা দুর্যোগ শুরু হওয়ার পর হটলাইনের মাধ্যমে ‘ডাক্তারের কাছে রোগী নয় রোগীর কাছে ডাক্তার’ ‘গর্ভবতী মায়েদের ঘরে পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেয়া, ডাক্তারদের জন্য সেফটি চেম্বারও স্থাপন-সহ নানা ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় আসেন।
দেখা নেই ইলিশের, অভাবে দিন কাটছে জেলেদের
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীতে দেখা নেই জাতীয় মাছ ইলিশের। দেশে মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে ৬ সপ্তাহ আগেই। এরপরেও কাঙ্খিত ইলিশের দেখা মিলছে না। এমতাবস্থায় হতাশায় দিন কাটছে জেলেদের। এ বিষয়ে জেলেরা তারা জানান, সারাদিন নদীতে জাল ফেলছেন তারা। কিন্তু ইলিশসহ কোনো মাছেরই দেখা পাচ্ছেন না। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অর্থ সংকটে ভুগছেন এসব জেলেরা।
নদীতে পানির স্রোত বাড়লে এই সমস্যার সমাধান হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্যবিজ্ঞানীরা। তারা জানান, ভারী বৃষ্টিপাত ও নদীতে পানির স্রোত বাড়লে সাগর ও নদীর মোহনায় ছুটে আসবে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। প্রসঙ্গত, সরকারি তালিকায় চাঁদপুরে প্রায় ৫২ হাজার জেলে রয়েছেন। এখন মাছ না ধরা পড়ায় অভাব-অনটনে দিন কাটাচ্ছেন এই পরিবারগুলো।
করোনার দৈনিক ও সাপ্তাহিক বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ বিশ্বে দশম
ঢাকা অফিস
করোনাভাইরাস আক্রান্তের ক্ষেত্রে দৈনিক এবং সাপ্তাহিক বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে দশম বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৩২ হাজার ৯১৩টি নতুন সংক্রমণ নিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ২০ হাজার ৩১৫টি আক্রান্ত নিয়ে দ্বিতীয়, নয় হাজার ৯৯৬টি নিয়ে ভারত তৃতীয় ও আট হাজার ৭৭৯ নিয়ে রাশিয়া চতুর্থ স্থানে রয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইটে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাঁচ হাজার ৮৩৪টি নতুন আক্রান্ত নিয়ে পাকিস্তানকে পঞ্চম স্থানে দেখানো হয়েছে। আর চিলি ষষ্ঠ, পেরু সপ্তম, মেক্সিকো অষ্টম, সৌদি আরব নবম এবং তিন হাজার ১৯০টি আক্রান্ত নিয়ে বাংলাদেশ দশম অবস্থানে রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাপ্তাহিক রিপোর্টে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত গত সাত দিনে ১৯ হাজার ৭২৫ সংক্রমণ নিয়েও বাংলাদেশ দশম অবস্থানে রয়েছে। সাপ্তাহিক সংক্রমণের রিপোর্টে ব্রাজিল প্রথম, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারত গত সাত দিনে ৬৯ হাজার ৬৬০ সংক্রমণ নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে, শুক্রবার দেশে মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এক দিনে সর্বোচ্চ তিন হাজার ৪৭১ জন। সেই সাথে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ মৃত্যুবরণ করেছেন ৪৬ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, এখন পর্যন্ত দেশে করোনার শিকার হয়েছেন ৮১ হাজার ৫২৩ জন। আর মোট মারা গেছেন এক হাজার ৯৫ জন।
কুয়েতে এমপি পাপুলের জামিন নাকচ, কারাগারে রাখার আদেশ
খুলনাঞ্চল ডেস্ক
মানব ও অর্থ পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কুয়েতে গ্রেপ্তার বাংলাদেশের সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল জামিনের আবেদন নাকচ করে দিয়েছে দেশটির আদালত। তার বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে কুয়েতের অপরাধ তদন্ত বিভাগ- সিআইডি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পাপুলকে কারাগারে রাখার আদেশ দিয়েছেন কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউশন। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন পাপুল। শুধু তাই নয়, স্ত্রী সেলিনা ইসলামকেও সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য করে আনেন তিনি। কুয়েতে আদম ব্যবসায় অনিয়ম এবং হাজার কোটি টাকার কারবারে অভিযুক্ত পাপুল গ্রেপ্তার হন। তাকে রিমান্ডেও নিয়েছে সে দেশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ। গত ৭ জুন তাকে গ্রেপ্তার করে করেছে কুয়েত ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট সিআইডি। কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এসএম আবুল কালাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। একজন সাধারণ শ্রমিক হিসেবে কুয়েতে যাওয়া পাপুল বর্তমানে কুয়েতের একটি কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তার মালিকানাধীন মারাফি কুয়েতিয়া গ্রুপে ১৫ থেকে ২০ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি কাজ করেন বলে ধারণা করা হয়। গালফ নিউজের খবরে বলা হচ্ছে, পাঁচ বাংলাদেশির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পাপুলের বিরুদ্ধে মানবপাচার, অর্থপাচার ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের শোষণের অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন। জানা যাচ্ছে, কুয়েতেই বিচার হবে এই বাংলাদেশি আইনপ্রণেতার। প্রশ্ন উঠেছে, এই ঘটনায় পাপুলের সংসদ সদস্য পদ থাকবে কী না? বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী বেশ কিছু কারণে সংসদ সদস্য পদ বাতিল হতে পারে, যেমন: কোনো উপযুক্ত আদালত যদি তাকে অপ্রকৃতিস্থ বলে ঘোষণা করেন; তিনি দেউলিয়া ঘোষিত হওয়ার পর যদি দায় থেকে অব্যাহতি লাভ না করেন; তিনি কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেন কিংবা কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করেন; তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কমপক্ষে দুই বছরের কারাদ-ে দ-িত হন; তিনি যদি প্রজাতন্ত্রের কোনো লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকেন; সংসদের অনুমতি ছাড়া তিনি যদি একটানা নব্বই বৈঠকে অনুপস্থিত থাকেন এবং সংবিধানের বহুল আলোচিত ৭০ অনুচ্ছেদের আলোকে তিনি যদি তার দল থেকে পদত্যাগ করেন অথবা সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোট দেন। দেখা যাচ্ছে, উপরোক্ত একটি কারণও কুয়েতে গ্রেপ্তার এমপি পাপুলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তার ক্ষেত্রে দুটি সম্ভাবনা রয়েছে; প্রথমত যদি তিনি কুয়েতে দ-প্রাপ্ত হন এবং সেটি যদি ফৌজদারি দ-বিধিতে দুই বছরের বেশি সাজা হয়, তাহলে তার সংসদ সদস্য পদ যাবে। এখন মুশকিল হলো কুয়েতের আইনে সাজাপ্রাপ্ত হলে বাংলাদেশের সংসদ সদস্যের সদস্য পদ যাবে কী না- সেটি তর্কের বিষয়। আবার যদি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমাণিত হয় এবং তাকে যদি শাস্তি দেওয়া হয় আর সেই শাস্তি যদি বাংলাদেশে প্রচলিত দ-বিধির আলোকে দুই বছরের বেশি পরিমাণ সাজা হয়, তাহলে সেই যুক্তিতে পাপুল সংসদ সদস্য পদ হারাবেন। কিন্তু বিদেশে সাজাপ্রাপ্ত হলে কারো সংসদ সদস্য পদ যাবে কী না, সেটি বাংলাদেশের সংবিধানে উল্লেখ নেই। এমপি পাপুলের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ ১৫ বছর জেল হতে পারে। কেননা কুয়েতের আইন অনুযায়ী অর্থ ও মানবপাচার বড় ধরনের অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।








































