স্টাফ রিপোর্টার
রেড জোনে থাকা করোনার নতুন ‘হটস্পট’ খুলনা বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ১১৪৬ জনে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিনই ৩৫-৪০জন করে বাড়ছে করোনা পজিটিভের সংখ্যা। এছাড়া খুলনা জেলায় চার জনসহ বিভাগের দশ জেলায় মোট মারা গেছেন ১৫ জন। এতে এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে। এদিকে, খুলনায় একজন চিকিৎসকসহ নতুন করে আরও ৩৯ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। যার মধ্যে খুলনা মহানগরীসহ জেলায় ৩৫ জন রয়েছেন। এছাড়া ঝিনাইদহের দুই জন, সাতক্ষীরা ও মাগুরার একজন করে রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে খুলনা মেডিক্যাল কলেজের (খুমেক) পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। শুক্রবার (১২ জুন) খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. রাশিদা সুলতানা জানান, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় এ পর্যন্ত মোট করোনা রোগী পাওয়া গেছে এক হাজার ১৪৬ জন। এদের মধ্েয সুস্থ হয়েছে ৩৭৮ জন। এছাড়া খুলনা বিভাগে এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছে ১৫ জন। এ বিভাগে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত ১৯ মার্চ চুয়াডাঙ্গায়। ডা. রাশিদা সুলতানা আরও জানান, খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় করোনা আক্রান্তদের মধ্যে খুলনা জেলায় সর্বোচ্চ ৩০৪ জন, বাগেরহাটে ৪৯ জন, সাতক্ষীরায় ৬৩ জন, যশোরে ১৮৩ জন, ঝিনাইদহে ৭২ জন, মাগুরায় ৫২ জন, নড়াইলে ৫২ জন, কুষ্টিয়ায় ২০১ জন, চুয়াডাঙ্গা ১৩৭ জন ও মেহেরপুর জেলায় ৩৩ জন।
এদিকে খুমেক সূত্র জানায়, খুলনা মহানগরীসহ জেলায় বৃহস্পতিবার (১১ জুন) একদিনে সর্বোচ্চ ৩৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর আগে বুধবার (১০ জুন) খুলনায় ৩১ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়। ওইদিন খুলনা জেলার নমুনা ছিলো ১৬৩টি। এছাড়া বৃহস্পতিবার নমুনা ছিলো ১৬৮টি। এভাবে খুলনায় প্রতিদিনই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। খুলনা মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. মেহেদী নেওয়াজ জানান, বৃহস্পতিবার খুমেকের পিসিআর মেশিনে ২৮০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। যার মধ্যে খুলনা জেলার নমুনা ছিলো ১৬৮টি। এদের মধ্যে ৩৯ জনের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। যার ৩৫ জনই খুলনার। খুলনায় শনাক্ত ৩৫ জনের মধ্যে ২৫ জনই মহানগরীর বাসিন্দা। এছাড়া দিঘলিয়া উপজেলার সাত জন, ডুমুরিয়া উপজেলার এক জন ও দাকোপ উপজেলার দুজন রয়েছেন। অপরদিকে, আক্রান্তদের মধ্যে সাতক্ষীরা জেলার এক জন, মাগুরা জেলার এক জন ও ঝিনাইদহ জেলার দুজন রয়েছেন। তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার খুমেকের ল্যাবে শনাক্ত হওয়া ৩৯ জনের মধ্যে রয়েছেন খুলনা গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ২৬ বছরের একজন তরুণ চিকিৎসক, খুলনা জেলা কারাগারের তিনজন কারারক্ষী ও খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) ছয়জন সদস্য। এদিকে করোনার হার বাড়ার কারণে খুলনা বিভাগের ১০ জেলাতেই সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের চাপা উৎকণ্ঠা কাজ করছে। অনেকেই সচেতন হয়েছেন। মাস্ক, গ্লাভস ব্যবহার করছেন। স্বাস্থ্যবিধিও মেনে চলছেন। তবে বেশিরভাগ মানুষের মধ্েয স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে উদাসীনতা দেখা যাচ্ছে। থ্রি হুইলার বা ইজিবাইকে দুই জন চড়ার কথা থাকলেও তাতে ৫/৬ জন করে চড়ছেন। পাড়ার মোড়ে মোড়ে চায়ের দোকানে আড্ডাও চলছে। এতে সামাজিক দূরত্ব লঙ্ঘিত হচ্ছে। মানুষের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।
এদিকে, খুলনায় করোনা আক্রান্তের হারকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে জেলা সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ বলেন, ‘‘এর অন্যতম কারণ হচ্ছে অনেকেই উপসর্গ গোপন করে বাইরে ঘোরাঘুরি করছেন। ফলে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। আমরা খুঁজে খুঁজে স্যাম্পল সংগ্রহ করছি। এছাড়া আক্রান্ত এলাকাগুলো লকডাউন করে দিচ্ছি। তবে মানুষ সচেতন হয়ে বিধি নিষেধ মেনে চললে আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে বলে আশা করি।”








































