খবর বিজ্ঞপ্তি।।
বাংলাদশে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীতে বিশ্বাস করি। আওয়ামী লীগ প্রতিদিন মিছিল করে মিটিং করে তাদের অনুমতির দরকার হয় না। অথচ আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ কর্মসূচীর জন্য বারবার অনুমতি চাওয়া হলেও পুলিশ অনুমতি দেয় না।’ সরকারকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর এই নেতা বলেন, ‘সংসদ ভেঙে দিন, অবলিম্বে পদত্যাগ করুন। দ্রব্যমূল্য কমান, জনদুর্ভোগ কমান, লুটপাট বন্ধ করুন। জনগণকে স্বস্তি দিন, মুক্তি দিন। অন্যথায় জনগণের মুক্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গোটা বাংলাদেশে গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে। জনগণ ফুঁসে উঠেছে। জনগণ কেয়ারটেকার সরকারের দাবি আদায় করেই ছাড়বে ইনশাআল্লাহ। নির্বাচন নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের নির্বাচন থেকে আলাদা করার জন্য পরিকল্পিতভাবে রায় দেওয়া হচ্ছে। বিরোধী দলের নেতাদের জেলে পুরে রেখে নির্বাচন করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। জনগণ সেই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দেবে ইনশাআল্লাহ। ৪ আগস্ট ঢাকায় ঘোষিত সমাবেশে প্রশাসন র্কতৃক সহযোগিতা না করার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় ঘোষিত র্কমসূচির অংশ হিসেবে খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল শেষে সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলালের পরিচালনায় বক্তব্য দেন ও উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট মুহাম্মদ শাহ আলম, ছাত্র শিবির খুলনা মহানগরী সভাপতি মো. তৌহিদুর রহমান, খুলনা সদর থানা আমীর মো. আবু তারিন, খালিশপুর থানা আমীর মো. ইকবাল হোসেন, হরণিটানা থানা আমীর আব্দুল গফুর, লবণচরা থানা আমীর মাস্টার হানিফ বালী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন খুলনা মহানগরীর সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান প্রমুখ।
মহানগরী আমীর আরো বলেন, জামায়াতকে রাজনৈতিক র্কমসূচি বাস্তবায়ন করতে না দিয়ে সরকার বারবার সাংবিধানিক অধিকার হরণ করছে। তিনি বলনে, ৪ আগস্ট সোহরাওয়াদী উদ্যোনে আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ছিল। সভা সমাবেশ করা সংবিধান স্বীকৃতি অধিকার। অথচ সরকার জামায়াতকে তার রাজনৈতিক র্কমসূচি বাস্তবায়ন করতে না দিয়ে বারবার আমাদের সাংবিধানিক অধকিার হরণ করছে। বিগত ১৫ বছর যাবত জামায়াতকে নির্মূল করার জন্য সরকার সব ধরনরে অপচেষ্টা চালিয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা বলে আসছি, আমরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে চাই। বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী কোনো ধরনের সংঘাত, সংঘর্ষে বিশ্বাসী নয়। তারপরেও পুলিশ প্রশাসন সমাবেশে সহযোগিতার পরিবর্তে সংঘাতমুখর পরিবেশের অবতারনা করেছে। এ ধরনের আচরণ অগণতান্ত্রিক, অন্যায় ও অনৈতিক। আমরা তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, আমাদের সঙ্গে বার বার অন্যায় করা হচ্ছে। দেশের সংবিধান বলেছে আইনের দৃিষ্টতে সবাই সমান। সরকারি দল যখন তখন অনুমতি ছাড়া সভা সমাবেশ করবে, আর আমাদের বেলায় অনুমতি লাগবে? এই দ্বৈত নীতি কেন? প্রশাসনের এই অগণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার বিরোধী র্কমকান্ড বন্ধ করতে হবে। একইসাথে রাষ্ট্রের আইন শৃংখলা বাহিনীকে কোন দল বিশেষে নয়, দেশের পক্ষে, জনগনের পক্ষে এবং নিরপেক্ষভাবে তাদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।
মহানগরী আমীর আরও বলেন, বর্তমান সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে দোষী সাব্যস্ত করে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার ষড়যন্ত্রে বিভোর। সরকার জামায়াতকে আগামী নির্বাচনে বাইরে রাখার অপকৌশলের অংশ হিসেবে আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান, নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরষিদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর সেলিম উদ্দীন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরীকে র্দীঘ দিন যাবত কারাগারে আটক রেখেছে। উচ্চ আদালত থেকে বারবার জামিন পাওয়া সত্ত্বেও সরকার তাদেরকে মুক্তি দিচ্ছে না। তিনি বলেন, সরকার তাদেরকে মুক্তি না দিয়ে মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। আমরা অবিলম্বে শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ আলেম-উলামাদের নিঃর্শত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি। তিনি বলেন, আমরা জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধার এবং কেয়ারটেকার সরকার প্রতিষ্ঠার দাবি আদায়ে রাজপথে ছিলাম, আছি এবং থাকবো ইনশাআল্লাহ। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই গণআন্দোলনে শরিক হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।









































