Home আঞ্চলিক সারা খুলনা অঞ্চলের খবর

সারা খুলনা অঞ্চলের খবর

54

করোনা সংক্রমণ রোধে বাংলাদেশ নৌবাহিনী কর্তৃক বিভিন্ন কার্যক্রম

স্টাফ রিপোর্টার

দেশের ভয়াবহ করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি রোধকল্পে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লকডাউন মান্য করতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কার্যক্রম করছে নৌবাহিনী। সংক্রমিত এলাকাসমূহ পর্যায়ক্রমে রেড জোন, ইয়োলা জেন এবং গ্রীন জোনে বিভক্ত করণসহ নানাবিধ সচেতনতামূলক কার্য পরিচালনা করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। সাধারণ জনগণকে কাঁচা বাজার, ঔষধের দোকান ও মসজিদ ব্যবহারে সরকারী নীতিমালা অনুসরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে আসছে নৌ সদস্যরা। সাধারণ জনগণকে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চতকরণ, একান্ত প্রয়োজনে বাড়ির বাহিরে অবস্থানের ক্ষেত্রে মুখে মাস্ক পরিধানের জন্য নির্দেশনা প্রদানসহ বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। বর্তমান পরিস্থিতিতে অসহায় ও দুস্থ পরিবারের দরজায় দরজায় গিয়ে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণসহ বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে নৌবাহিনী। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে ও বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানের অংশ হিসেবে মোতায়েনকৃত নৌবাহিনী কন্টিনজেন্ট বরগুনা জেলা সদর, বামনা, বেতাগী ও পাথরঘাটা এলাকায় নিয়মিত টহলের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমসহ উপজেলাসমূহের বিভিন্ন স্থানে ২০০টি সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। এ সময় সাধারণ জনগণকে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চতকরণ, একান্ত প্রয়োজনে বাড়ির বাহিরে অবস্থানের ক্ষেত্রে মুখে মাস্ক পরিধানের জন্য নির্দেশনা প্রদান করে। নৌ কন্টিনজেন্ট মংলা সামাজিক জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দিগরাজ বাজার, বুড়িরডাঙ্গা, বৈদ্যমারী, চটেরহাট, চরকানাই, চাদপাই, আপাবাড়ি, মংলা বাজার, হাসপাতাল চত্ত্বর ও ফেরিঘাট এলাকায় টহল অব্যাহত রেখেছে। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ সর্ম্পকিত বিভিন্ন লিফলেট বিতরণ, এছাড়া রাস্তা ও যানবাহনে ১০% কোরিনযুক্ত জীবাণুনাশক পানি ছিটিয়ে জীবাণুমুক্ত করা হয়। নৌ কন্টিনজেন্ট জেলা প্রশাসনের ৫৭৫টি অসহায় পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণে সহায়তা প্রদানসহ নিয়মিত টহল ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে ।

সংকটময় করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সকলকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে:সিটি মেয়র

খবর বিজ্ঞপ্তি

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, সংকটময় করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সকলকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে। বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক ব্যবহার ও সামাজিক বা শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে জীবন যাপনে অভ্যস্ত হতে হবে। তিনি বলেন, কিছু মানুষের উদাসীনতার কারণে খুলনায় করোনা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে। ফলে নগরীর মার্কেট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসমূহ প্রাথমিকভাবে পনের দিনের জন্য বন্ধসহ যান চলাচলের ক্ষেত্রে সীমিত আকারে বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তবে ঔষধসহ নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রীর দোকানসমূহ বিধি নিষেধের আওতামুক্ত থাকবে। বর্তমান সরকার করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে সিটি মেয়র সরকারের পাশাপাশি জনগণকেও দায়িত্বশীল হওয়ার আহবান জানান।

সিটি মেয়র বৃহস্পতিবার সকালে নগর ভবনের জিআইজেড মিলনায়তনে পিছিয়ে পড়া শিশুদের জন্য শিক্ষা উপকরণ বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন। দাতা সংস্থা ইউনিসেফ এর সহযোগিতায় খুলনা সিটি কর্পোরেশন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে ইউনিসেফ এর সাহায্যপুষ্ট ১০টি শিশু বিকাশ কেন্দ্র এবং ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দের কাছে ৫’শ শিশুর জন্য শিক্ষা উপকরণ প্রদান করা হয়। শিক্ষা উপকরণের মধ্যে রয়েছে স্কুল ব্যাগ, স্কুল ড্রেস, পেনসিল, খাতা, সাবান ইত্যাদি। শিক্ষা উপকরণ পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের লেখপড়ায় উৎসাহ যোগাবে বলে সিটি মেয়র অভিমত ব্যক্ত করেন।

কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্ম সচিব) পলাশ কান্তি বালা’র সভাপতিত্ব অনুষ্ঠিত সভা পরিচালনা করেন কেসিসি’র সচিব (উপসচিব) মোঃ আজমুল হক। শিশু বিকাশ কেন্দ্র প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অভিনন্দন: মহান জাতীয় সংসদে মানুষের জীবন রক্ষা আর জীবিকার নিশ্চয়তা দিতে ‘‘অর্থনৈতিক উত্তরণ : ভবিষ্যৎ পথ পরিক্রমা’’ শিরোনামে ২০২০-২০২১ অর্থবছরের গণমুখী বাজেট পেশ হওয়ায় খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল’কে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

এক বিবৃতিতে সিটি মেয়র বলেন, করোনা ভাইরাসের সংকট মোকাবেলায় ঘোষিত বাজেটে বাস্তবভিত্তিক দিক নির্দেশনা থাকার পাশাপাশি দেশের পিছিয়ে পড়া কর্মহীন মানুষের জীবন জীবিকার পথ সুগম করতে এ বাজেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্পখাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে যা দারিদ্র বিমোচনসহ কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনি গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। সর্বোপরি কাঙ্খিত উন্নয়ন ও অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে সক্ষম হবে এবং অর্থনৈতিক গতি সঞ্চারিত হবে বলে সিটি মেয়র বিবৃতিতে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

২০২০-২০২১ অর্থ বছরের জাতীয় বাজেটের প্রতি খুলনা চেম্বারের প্রতিক্রিয়া

খবর বিজ্ঞপ্তি

বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল কর্তৃক ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের জন্য ঘোষিত জাতীয় বাজেটকে জনহিতকর, বাস্তবসম্মত, উন্নয়নমুখী, গণমুখী ও ব্যবসাবান্ধব বলে মনে করে খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এ বাজেটকে সাধুবাদ জানান। এ বাজেট ঘোষণার জন্য খুলনা চেম্বারের সভাপতি কাজি আমিনুল হক সহ পরিচালনা পরিষদ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও মাননীয় অর্থমন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

এ বাজেট করোনা ভাইরাস দূর্যোগ মোকাবেলা করে ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। প্রস্তাবিত ৫ লক্ষ ৬৮ হাজার কোটি টাকার এ বাজেট দেশের সুষম উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। এ বাজেটে স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি খাত, প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন খাত, কৃষি খাত, যোগাযোগ খাত, সামাজিক নিরাপত্তা খাত, উন্নয়ন খাতে অধিক বরাদ্দ রাখায় এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধের দাম কমানোয় এ বাজেট সাধারণ মানুষের জীবন যাত্রা সহজীকরণ, দারিদ্র বিমোচন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পের উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে খুলনা চেম্বারের সভাপতিসহ পরিচালনা পরিষদ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ঘোষিত একগুচ্ছ প্রণোদনা এ বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে। খানজাহান আলী বিমানবন্দর প্রকল্পের কাজে আরও অধিক পরিমাণ অর্থ বরাদ্দপূর্বক প্রকল্পের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে বিমান বন্দরটি যথাশীঘ্রই চালু করার জোর দাবি জানানো হয়। খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা অঞ্চলে সুপার সাইকোন আম্ফান এর কারণে ভেড়ীবাধ ভেঙ্গে মাছ, ফসল ও রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উক্ত ক্ষতিগ্রস্থ ভেড়ীবাধ ও রাস্তাঘাটসমূহ মেরামতের জন্য এ বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের জন্য খুলনা চেম্বারের পরিচালনা পরিষদ জোর দাবি জানান।

এতদাঞ্চলের মাছ, পাট, আমদানীকারক-রপ্তানীকারক সহ মাঝারী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চরমভাবে ক্ষতির সম্মূখীন হয়েছেন এবং হচ্ছেন। এ বাজেটে এতদাঞ্চলের ব্যবসায়ীদের যথাযথ সহায়তা প্রদান করার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখা হলে ব্যবসায়ীরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বলে খুলনা চেম্বারের পরিচালনা পরিষদ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এখানে উল্লেখ্য যে, করমুক্ত আয়ের সীমা ৩,০০,০০০/= (তিন লক্ষ) টাকা করায় খুলনা চেম্বারের পরিচালনা পরিষদ ধন্যবাদ জানান।

তালায় জমি দখলের চেষ্টা: প্রবীন আ,লীগ কর্মীকে কুপিয়ে জখম

ইলিয়াস হোসেন,তালা

তালায় পূর্ব শত্রুতার জেরে জোর পূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করে দেশীও অস্ত্র দিয়ে প্রবীন আওয়ামীলীগের কর্মী ইছাক আলী মোড়ল (৭০)গংকে কুপিয়ে জখম করেছে প্রতিপক্ষরা। ইছাক গংরা বর্তমানে তালা হাসপাতালে ভর্তি আছে। থানায় অভিযোগ দিয়েও কোন সমাধান না পেয়ে প্রতিকারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ভুক্তভোগীরা।

ঘটনার বিবরনে, থানায় লিখিত অভিযোগ ও ইছাক মোড়লের পুত্র আব্দুল্লাহআল-মামুন বলেন, আমার পিতার দখলীয় পৈত্রিক সম্পর্তিতে প্রতিবেশী লতিফ মোড়ল(৬১),আতিয়ার মোড়ল(৪৫) রহিম মোড়ল(৪৬) উভয় পিতাঃ মৃত শওকত মোড়ল, নয়ন মোড়ল(৩০)পিতা লতিফ মোড়ল,সোহেল মোড়ল(২৭) পিতাঃ শওকত মোড়ল, সোলাইমান মোড়ল(২৫) পিতাঃ ,মতিয়ার মোড়ল উভয় সাং তেতুলিয়া, থানা তালা-জেলা সাতক্ষীরা। উভয়ে গত ০৭ জুন জোর পূর্বক আমার পিতার পৈত্রিক সম্পতি দখল করার চেষ্টা করে। বাধা দিলে আমার পিতা ইছাক মোড়লকে লতিফ মোড়ল ও তার ছেলেরা বেধকড় মারপিট করে এবং দেশীয় অস্ত্র দা দিয়ে কোপ মারে এতে পিতার আংগুল মারাত্তক জখম হয়। এছাড়া আমার মা জোহরা বেগম(৬৫)সহ ছোট বোনকে বেধকড় মারপিট করে ২জনের গলার লক্ষার্ধিক টাকার চেইন ছিড়ে নিয়ে স্লীতাহানির চেষ্টা করে। এ বিষয়ে আমরা লিখিতভাবে থানায় অভিযোগ দিলেও কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেনা কর্তৃপক্ষ। বিচারের আশায় দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছি। আব্দুল্লাহআল-মামুন আরও বলেন, তারা প্রতি নিয়ত আমাদের বাড়ীতে ঢুকে গায়ের জোরে বাড়ী হতে বের করে দেয়ার চেষ্টা করে। এর আগেও তালা থানায় অভিযোগ দিলেও কোন সুরাহা হয়নি। স্থানীয়ভাবে মিমাংসা করার চেষ্টা করলেও তারা সে শালিস মানেনী। সেই জন্য তাদের হাত হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসকসহ প্রধান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ বিষয়ে তালা থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদী রাসেল সত্যতা স্বীকার করে বলেন,বিষয়টি তদন্তকরে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

ঝিনাইদহে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২০

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহ শহরের খাজুরা গ্রামে বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগদানকে কেন্দ্র করে দু’দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ফারুক হোসেন (৩৫) নামের একজন নিহত হয়েছেন। সেসময় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। নিহত ফারুক হোসেন ওই গ্রামের গোলাম বারীর ছেলে। বুধবার সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ শহরের পৌর এলাকার খাজুরা গ্রামে এ সংঘষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় খাজুরা এলাকার জাহিদ হোসেনের নেতৃত্বে ৩৫/৪০ জন বিএনপি নেতাকর্মীরা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা লিটনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগে যোগদান করে। রাতে আনুষ্ঠানিক ভাবে তারা যোগদান করেন। এ ঘটনায় বুধবার সকাল থেকে আওয়ামী লীগের অপর পক্ষের নেতা আবুল হোসেনের লোকজন নব্যযোগদান কৃত নেতাকর্মীদের উপর চড়াও হয়। সন্ধ্যায় আবুলের সমর্থকরা জাহিদের লোকজনের উপর হামলা চালালে তাদের মাঝে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। আহতদের উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে ২ জনের শারিরীক অবস্থা গুরুতর হলে তাদেরকে রাতেই ঢাকা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকালে ফারুক হোসেন মারা যায়।

ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান খান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খাজুরা গ্রমে এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

শরণখোলায় ডাক্তার নিয়োগে বৈষম্য: দেড় লক্ষাধিক মানুষের ৫ ডাক্তার: সংকটের মধ্যেও একজনকে বদলি

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার দেড় লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসা সেবায় এখন মাত্র ৫ জন ডাক্তার। এর মধ্যে থেকে গত বুধবার একজনকে খুলনায় বদলী করা হয়েছে। অথচ জেলার ৯ উপজেলার মধ্যে আটটিতেই ১১ জনের অধিক সংখ্যক ডাক্তার নিয়োগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক নিয়োগে এমন বৈষম্যের কারণে চরম ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, বর্তমানে বাগেরহাট জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে ফকিরহাটে ১৭ জন, মোল্লাহাটে ১১ জন, চিতলমারিতে ১২ জন, রামপালে ১২ জন, মোংলায় ১২ জন, বাগেরহাট সদরে ২২ জন, কচুয়ায় ১৩ জন, মোরেলগঞ্জে ১২ জন এবং শরনখোলায় মাত্র ৫ জন ডাক্তার কর্মরত আছেন।

শরণখোলায় কর্মরত ৫ জনের মধ্য থেকে আবার করোনার কারণে দুইজনকে রির্জাভ রাখতে হয়। গত তিন দিন ধরে একজন শাররিকভাবে অসুস্থ। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রোগী না দেখে প্রশাসনিক কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। বর্তমানে করোনা ভাইরাস আক্রান্তের দিক থেকে জেলার মধ্যে শরণখোলা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এ অবস্থায় এলাকাবাসী চিকিৎসা সেবা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন।

এদিকে গত ছয় মাস আগে সিরাজুল ইসলাম নামের একজন ডাক্তার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করে আন্তরিকভাবে রোগী দেখায় সাধারণ মানুষ তার প্রতি আস্থা ফিরে পান। কিন্তু ৩ জুন খুলনার উপ-পরিচালকের দপ্তর থেকে ডাঃ সিরাজুলকে র‌্যাব-৬ এর করোনা আইসোলেশন সেন্টারে বদলী করা হয়। এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আজমল হোসেন মুক্তা ও রায়েন্দা ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিলন বলেন, চিকিৎসক সংকটের মধ্যে ডাঃ সিরাজুল ইসলাম সাধারন মানুষের কাছে একজন ভাল ডাক্তার হিসাবে পরিচিত হয়ে উঠেছিল। তার কাছে মানুষ বেশী চিকিৎসা সেবা নিতে আসার কারণে ডাক্তার সংকট কিছুটা হলেও সমাধান হতো। এ মুহুর্তে তাকে বদলি করায় এলাকাবাসীর আরো ক্ষতি হয়ে গেছে।

উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাহিমা আক্তার হাসি বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দিনের পর দিন ডাক্তার সংকট থাকার কারণে সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বৈষম্য দুর করে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিয়োগের দাবী জানান তিনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, আমি গত আট মাস আগে যোগদান করে এখানে মাত্র দুইজন ডাক্তার পাই। এখন পাঁচ জনের মধ্যে থেকে করোনা পরিস্থিতিতে দুইজন ডাক্তারকে পালাক্রমে রির্জাভ রাখতে হয়। একজনকে জরুরী বিভাগ ও ইনডোরের ভর্তি রোগী দেখা আবার অপর একজনকে আউটডোরের রোগী দেখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডাঃ হুমায়ুন কবির বলেন, প্রতিটি উপজেলায় একজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, একজন আবাসিক মেডিলে অফিসার, একজন ডেন্টিস্ট ও পাঁচজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার থাকার নিয়ম। এরপরে ইউনিয়ন ভিত্তিক ডাক্তার নিয়োগ দেয়া হয়ে থাকে। শরণখোলায় ৪টি ইউনিয়ন থাকার কারনে ডাক্তার নিয়োগ কম পায়।

মোরেলগঞ্জে অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার

মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ পানগুছি নদী থেকে অজ্ঞাত এক যুবকের(৩০) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় পুলিশ পানগুছি নদীর গাবতলা এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।এ সম্পর্কে থানার ওসি কেএম আজিজুল ইসলাম বলেন, মরদেহটি ২৫/৩০ বছর বয়সি কোন যুবকের। তার নাম পরিচয় জানা যায়নি। চেহারা বিকৃত হয়েছে। পরনে কাছা দেওয়া লুঙ্গি আছে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১০টার দিকে জোয়ারের পানিতে ভেসে মৃতদেহটি গাবতলা এলাকায় নদীর তীরে আটকে থাকে। স্থানীয়রা দেখে পুলিশে খবর দেয়। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করেছে পুলিশ।

পল্লী বিদ্যুতের এজিএম করোনা আক্রান্ত

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি :

যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ (মণিরামপুর) সদর দপ্তরের রাজগঞ্জ উপকেন্দ্রের এজিএম রফিকুল ইসলাম করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। একই সাথে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন জিয়াউর রহমান নামে এক এনজিও কর্মী।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে যশোর সিভিল সার্জন অফিস থেকে এমন তথ্য আসে।

এরআগে মণিরামপুরে সর্বশেষ করোনা রোগী ধরা পড়ে গত ২৫ মে। আক্রান্ত দুই জনের মধ্যে রফিকুল ইসলাম ছয় মাস ধরে রাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে কর্মরত আছেন। আর জিয়াউর রহমান চাঁদপুর জেলায় একটি এনজিওতে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি উপজেলার কাশিপুর গ্রামে। কর্মস্থলে থাকতেই তিনি জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সেখানে নমুনা দেন। ফলাফল না পেয়ে তিনি মণিরামপুর হাসপাতালে এসে আবারো নমুনা দেন।

মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. শুভ্রা রানী দেবনাথ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ডা. শুভ্রা বলেন, গত ৭ জুন জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসেন রাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের এজিএম রফিকুল ইসলাম। একই দিন কাশিপুর গ্রামের জিয়াউর রহমান নামে এক এনজিও কর্মী হাসপাতালে আসেন। ওই দিন তাদেরসহ ছয় জনের নমুনা সংগ্রহ করে সিভিল সার্জন অফিসের মাধ্যমে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনোম সেন্টারে পাঠানো হয়। আজ (বৃহস্পতিবার) দুই জনের করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসে। ডা. শুভ্রা বলেন, আক্রান্ত এজিএম রফিকুল ইসলাম ও এনজিও কর্মী জিয়াউর রহমান দুই জনই এখন সুস্থ আছেন। তারা নিজ নিজ বাসায় আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নেবেন।

পল্লী বিদ্যুতের আক্রান্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম মোবাইল ফোনে বলেন, হাসপাতালে নমুনা দেওয়ার পর থেকে আমি বাসায় আলাদা কক্ষে থাকছি। জ্বরের পর ৮ জুন কিছুটা কাঁশি ছিল। এখন সুস্থ আছি। যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ (মণিরামপুর)  সদর দপ্তরের পরিচালক অরুন কুমার কু-ু বলেন, হাসপাতালে নমুনা দেওয়ার দিন থেকে এজিএম রফিকুল ইসলাম বাসায় কোয়ারেন্টাইে আছেন। তার স্থানে অন্য লোক দেওয়া হয়েছে। এই মূহুর্তে রাজগঞ্জ উপ-কেন্দ্র লকডাউনের কোন সিদ্ধান্ত নেই।

এই পর্যন্ত মণিরামপুরে ১৯০ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তারমধ্য ১৩ জনের করোনা পজেটিভ রিপোর্ট এসেছে। যাদের অনেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছন।

কপিলমুনিতে সেই এসআই অভিজিতের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জের: মাঠ প্রশাসন কর্মকর্তা পরিচয়ে হুমকি

স্টাফ রিপোর্টার, কপিলমুনি

কপিলমুনিতে নির্দোষ দুই সহোদর অপু দিপুকে ধরে মাদক মামলা দিয়ে জেলে পাঠানোর ঘটনায় খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি ফাঁড়ির এস আই অভিজিৎ এর  বিরুদ্ধে  একাধিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়।

১ জুন অপু-দিপুর মা হোসনেয়ারা বেগম কপিলমুনি প্রেসকাবে তার পঙ্গু স্বামীকে নিয়ে এক জনাকীর্ন সংবাদ সম্মেলনে তার দুই সন্তানকে সম্পূর্ন নির্দোষ দাবি করে এস আই অভিজিৎর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন। সড়যন্ত্র করে অপু দিপুকে ফাঁসানো হয়েছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে পত্রিকা গুলোতে সংবাদ প্রকাশিত হলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মাঠ প্রশাসন কর্মকর্তা দাবি করে মেহেদী হাসান নামের এক ব্যক্তি অপু-দিপুর মাকে বিভিন্ন সময়ে ০১৯৩২৪৩৩৫৪৯,০১৭১৪৩০০১১৬ ও ০১৯৬৬৬২৪০৩৬ নম্বর থেকে ফোন দিয়ে  হোসনেয়ারা বেগমকে জানানো হয় আপনার নির্দোষ ছেলেদের জামিনের ব্যবস্থাসহ মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে এবং দারোগা অভিজিৎকে শাস্তি দেয়া হবে। এর জন্য তিনি ১২ হাজার টাকার দাবি করেন হোসনেয়ারা বেগমের কাছে। পরিচয় জানতে চাইলে মেহেদী হাসান নামের ওই ব্যক্তি জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মাঠ প্রশাসনের আমি একজন কর্মকর্তা। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তদন্ত করে সেই পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহন করি। তবে টাকা লাগবে কেন এমন প্রশ্নের জবাবে কথিত ওই কর্মকর্তা জানান, মাঠ পর্যায়ে তদন্তে অনেক খরচা হয় তাই কিছু খরজের টাকা আমরা নিয়ে থাকি। এ ঘটনায় স্থানীয় এক সাংবাদিক কথিত ওই কর্মকর্তার সাথে ফোনে কথা বললে টাকা চাওয়ার ঘটনা স্বীকার করেন। তবে ¯পষ্টভাবে ওই সাংবাদিককে কিছু বলেননি তিনি। এদিকে দ্বিতীয় দফায় ফোন করে মেহেদী হাসান নামের ওই কর্মকর্তা হোসনেয়ারা বেগেমকে বলেন পুলিশের বিরুদ্ধে যাওয়াটা ঠিক হচ্ছে না, কারণ আপনার দুই ছেলে জামিন পাওয়ার পর আবারও বিপদ হতে পতে পারে।

এদিকে এ ঘটনায় হোসনেয়ারা বেগম কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না নির্দোষ সন্তানের জেলের ঘানি টানার চরম মর্মবেদনা আর পক্ষাঘাত স্বামীর দেখভাল করতে তিনি শারিরীক ও মানষিক ভাবে বিপযস্থ হয়ে পড়েছেন। এসব ঘটনা তদন্ত করলে নির্দোষ সন্তানদের আটকের পিছনে যে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে সেটা স্পষ্ট হয়ে যাবে বলে মা হোসনেয়ারা বেগম জানান।

উল্লেখ্য, গত ২৩ মে তার দুই পুত্র অপু ও দিপুকে কপিলমুনি বাজার থেকে স্থনীয় পুলিশ ফাঁড়ির এস আই অভিজিৎ রায় আটক করেন। এবং তিনি তাদের কাছ থেকে ইয়াবা,ফেন্সিডিল,ও গাঁজা উদ্ধার দেখিয়ে মাদক মামলা দিেেয় চালান দেন।

মোংলা বন্দরে বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজের চীফ ইঞ্জিনিয়ার চীনা ক্রু ফ্যান হংজি’র মৃত্যু

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

মোংলা বন্দরে আগত একটি বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজের চীফ ইঞ্জিনিয়ার (প্রধান প্রকৌশলী) হৃদযন্ত্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন। তার নাম ফ্যান হংজি (৪৩)। চীনা নাগরিক এই প্রকৌশলী বুধবার (১০ জুন) সন্ধ্যায় জাহাজেই কর্মরত অবস্থায় স্ট্রোক করে মারা যান। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাষ্টার কমান্ডার শেখ ফখর উদ্দিন জাহাজে চীনা এ নাগরিক মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে মারা যাওয়া চীনা এ নাগরিকের শরীরে করোনাভাইরাস উপসর্গ ছিলনা বলে দাবী করেন তিনি। দীর্ঘ সাত মাস ফ্যান হংজি (৪৩) জাহাজে কর্মরত ছিলেন বলেও জানান হারবার মাষ্টার। 

সিঙ্গাপুর পতাকাবাহী ‘এপিক সেন্ট কিটস’ জ্বালানী গ্যাসের কাঁচামাল নিয়ে বুধবার (১০ জুন) বিকেলে মোংলা বন্দরের বেসক্রিকের ২ নম্বর বয়ায় অবস্থান নেয়। জাহাজটি মোংলা বন্দরের শিল্প এলাকায় অবস্থিত এনার্জি প্যাকের গ্যাস কারখানার কাঁচামাল নিয়ে আসে বলে বন্দরের হারবার বিভাগ জানায়।

এ বন্দরে আসা বিদেশী ওই জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট মের্সাস ইউনি গ্লোবালের এজিএম (সহকারী ব্যবস্থাপক) সৈয়দ মামুনুল ইসলাম বলেন, মারা যাওয়া চীনা ওই নাগরিকের মরাদেহ ডাক্তারী পরীক্ষা শেষে মোংলা থানায় ইউডি মামলা করা হবে। এরপর খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিম ঘরে রাখা হবে। সেখানে অফিসিয়াল কার্যক্রম শেষে লাশ তার দেশে পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।

ফুলতলায় ১৯ বোতল বিয়ারসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

ফুলতলা প্রতিনিধি

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি কনি মিয়ার নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার বিকালে ফুলতলার সুপার জুট মিলের সামনে থেকে ১৯ বোতল বিদেশী বিয়ার (মদ)সহ আলমগীর হোসেন (৪২) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে। সে খুলনার দৌলতপুর এলাকার ফজলুল হকের পুত্র। এ ব্যাপারে এসআই রাজীউল আমিন বাদি হয়ে ফুলতলা থানায় মামলা করেন।

যশোর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক সপরিবারে করোনা আক্রান্ত

যশোর অফিস

যশোরে নতুন করে দশজনের শরীরে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় খুলনা থেকে যশোরের সাতজনের নমুনা পজেটিভ আসে। এ নিয়ে জেলায় মোট ১৭১ জন করোনায় আক্রান্ত হলেন। আক্রান্তদের মধ্যে যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও তার ষোড়শী কন্যাও রয়েছেন। এর আগের দিন তত্ত্বাবধায়কের ডাক্তার স্ত্রীও আক্রান্ত বলে শনাক্ত হন।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) জেনোম সেন্টারে বুধবার দক্ষিণ-পশ্চিমের পাঁচ জেলার মোট ১৫১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১৩টি নমুনা পজেটিভ রেজাল্ট দিয়েছে। যবিপ্রবি জেনোম সেন্টারের পরীক্ষণ দলের সদস্য ও এনএফটি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শিরিন নিগার জানান, এদিন যশোরের ৯২টি নমুনা পরীক্ষা করে দশটির ফল পজেটিভ পাওয়া যায়।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পজেটিভ হওয়া দশটি নমুনাই নতুন। এদিন তিনটি ফলোআপ নমুনা ছিল। এগুলোর ফল নেগেটিভ আসে। তবে এর মধ্যে একজনের নমুনা খুলনা জেলার ফুলতলা থেকে সংগ্রহ করা হয়। ফলে তাকে খুলনার রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হচ্ছে।

এছাড়া এদিন নড়াইলের ১২টি নমুনা পরীক্ষা করে দুটির ফল পজেটিভ পাওয়া যায়।

মাগুরার ৩৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে একজনের  পজেটিভ ফল মিলেছে। আর সাতক্ষীরার পাঁচ ও বাগেরহাটের আটটি নমুনা পরীক্ষা করে সবগুলোর ফলাফল নেগেটিভ এসেছে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. আবু শাহীন সকালে গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, যবিপ্রবির ফলাফল পাওয়া গেছে। যশোরের আক্রান্ত দশজনের বাড়ি কোন কোন এলাকায় এবং তারা বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। এদিকে, দুপুরে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, যশোরের নতুন দশ করোনা রোগীর মধ্যে জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপকুমার রায়ও রয়েছেন। আরো আছেন তার ১৬ বছর বয়সী মেয়ে দেবযান রায় ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালক রানাপ্রসাদ সানি (৪৮)।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আরিফ আহমেদ নিশ্চিত করেছেন যে, জেলার এই প্রধান স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্তা সপরিবারে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর আগের দিন তত্ত্বাবধায়কের স্ত্রী ডা. অঞ্জনা রায়ের ফলও পজেটিভ আসে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কসহ তার পরিবারের সদস্যরা কয়েকদিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। তত্ত্বাবধায়কের স্ত্রী ডা. অঞ্জনা যশোর মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ও বিশিষ্ট অ্যানেসথেসিস্ট। তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত। সিরাজগঞ্জের একটি ক্যানসার হাসপাতালে রেডিও থেরাপি দিয়ে গত রোববার ডা. অঞ্জনা যশোরে ফেরেন। যবিপ্রবির ফলাফলে আরো যেসব ব্যক্তি নতুন করে আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যে মণিরামপুরের দুইজন, অভয়নগরের চারজন এবং শার্শার একজন রয়েছেন। স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, মণিরামপুরে আক্রান্ত দুই পুরুষের বয়স ৩৫ ও ৩৮, অভয়নগরের চারজনের মধ্যে এক নারীর বয়স ৪১। অন্য তিনজন পুরুষ; তাদের বয়স ৩৮, ৫৫ ও ৫২। শার্শায় শনাক্ত হওয়া ব্যক্তির বয়স ৫০।

যশোর-ঢাকা রুটে তিন মাস পর চললো উড়োজাহাজ

যশোর অফিস

প্রায় তিন মাস বন্ধ (৭৯ দিন) থাকার পর আজ বৃহস্পতিবার যশোর-ঢাকা রুটে উড়োজাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে বেসরকারি এয়ারলাইন্স নভোএয়ার ও ইউএস-বাংলার দুটি ফাইট অবতরণের মধ্য দিয়ে এই আকাশযোগাযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রীদের গ্রহণ ও উড়োজাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় খুশি যাত্রীরা।

প্রথম দিন সাতটি ফাইট পরিচালনার কথা রয়েছে যশোর এয়ারপোর্ট ব্যবহার করে। এর জন্য সবধরনের উদ্যোগ আগেই নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষ।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার গত ২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটের ফাইট বন্ধ করে দেয়। প্রায় তিন মাস বন্ধ থাকার পর গত ১ জুন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট এবং সৈয়দপুর রুটে উড়োজাহাজ চলাচলের অনুমতি দেয়। মেডিকেল টিম না থাকায় চালু হচ্ছিল না যশোর, রাজশাহী, কক্সবাজার এবং বরিশাল রুটের আকাশ যোগাযোগ। যশোরের স্বাস্থ্য বিভাগ এয়ারপোর্টে মেডিকেল টিমের ব্যবস্থা করলে যশোর-ঢাকা রুটে বিমান চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর আজ সকালে নভোএয়ার ও ইউএস-বাংলার দুটি ফাইট ঢাকা থেকে যাত্রীদের নিয়ে যশোরে আসে এবং যাত্রী নিয়ে ফিরে যায়।

যাত্রীরা জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদের এয়ারপোর্টে ঢুকতে হয়েছে। এছাড়া এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ তাদের মাস্ক, গ্লাভসও সরবরাহ করেছে। শারীরিক দুরত্বও মানা হয়েছে। সবকিছু মেনে উড়োজাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় খুশি তারা।

নভোএয়ারের যশোর বিমানবন্দরের কর্মকর্তা ফজলুর রহমান জানান, যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা দেখে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদের বোর্ডিং করানো হয়েছে। সেইসাথে সরকারের নির্দেশনা মতে ৭০ শতাংশ লোড নিয়ে উড়োজাহাজ ছাড়া হয়েছে।

যশোর এয়ারপোর্ট ম্যানেজার মো. মাসুদুল হক জানান, আজ যশোর-ঢাকা রুটে সাতটি ফাইট যাত্রী পরিবহন করার জন্য শিডিউল জমা দেয়। এরমধ্যে ইউএস বাংলার চারটি এবং নভো এয়ারের তিনটি ফাইট রয়েছে। সকালে দুটি ফাইট নির্বিঘেœ পরিচালিত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, প্রতিটি ফাইট আসা ও যাওয়ার পর এয়ারপোর্ট জীবাণুমুক্ত করা হচ্ছে; যাতে যাত্রীদের কোনো সমস্যায় পড়তে না হয়।

যশোর অপহরণ ও ধর্ষনের অভিযোগে দুটি মামলা: আটক ২

যশোর অফিস

ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে একদল চিহ্নিত দূবৃর্ত্তরা এক যুবক ও যুবতীকে জোরপূর্বক ধরে অবৈধভাবে আটক করে তাদের  আত্মীয়র কাছে বিকাশের মাধ্যমে ১ লাখ টাকা দাবি করে। এসময় যুবতীকে  জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষন করার অভিযোগে কোতয়ালি মডেল থানায় দু’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুই দূবৃর্ত্তকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে, নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া সৈয়দ পাড়ার বর্তমানে যশোর শহরের বকচর চৌধুরী পাড়া ডাক্তার মাহবুব এর বাড়ির ভাড়াটিয়া মৃত সৈয়দ আসাদুজ্জামানের ছেলে  ও বকচর চৌধুরী পাড়ার সৈয়দ আকরাম হোসেনের বড় জামায় সৈয়দ করিমুজ্জামান ওরফে করিম ও শহরের বকচর মসজিদ পাড়ার আশরাফ হোসেনের ছেলে জাকির হোসেন জুম্মান। গ্রেফতারকৃতদের বৃহস্পতিবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অপহৃত সবুজ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বাক্ষ্য দিয়েছে।

যশোরের শার্শা উপজেলার পন্ডিতপুর গ্রামের বাসিন্দা বর্তমানে যশোর শহরের পুরাতন কসবা বিবি রোড এলাকার ভাড়াটিয়া (২০) বছরের এক যুবতী বুধবার দিবাগত গভীর রাতে কোতয়ালি মডেল থানায় ৯ দূর্বত্তের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেছেন। তিনি এজাহারে বলেছেন, যশোরের শার্শা উপজেলার গোড়পাড়া উত্তরপাড়ার আব্দুল খালেকের ছেলে সবুজ (২০) তার পূর্ব পরিচিত। ৯ জুন মঙ্গলবার বিকেল ৫ টায় সবুজ যশোর এসে তার নাম্বারে ফোন দেয়। ফোন দিয়ে বলে তার যশোরে থাকার কোন ব্যবস্থা আপাতত নাই। তাই তাকে এক বাসায় রাখতে হবে। উক্ত যুবতী তার এক বান্ধবীর নানী বকচর চৌধুরী পাড়ার ডাক্তার মাহবুব এর বাড়ির ভাড়াটিয়া সাইফুল ইসলামের স্ত্রী সালমার বাড়িতে নিয়ে আসে। সেখােেন সন্ধ্যার দিকে সবুজকে রেখে উক্ত যুবতী তার বাড়িতে যাওয়ার জন্য বাইরে বের হলে সৈয়দ করিমুজ্জামান ওরফে করিমসহ সহযোগী জাকির হোসেন ওরফে জুম্মান, বকচরের শুকুর আলীর ছেলে জুলহাস, বকচর মসজিদ পাড়ার মৃত আকরামের ছেলে রুবেল, আবু বক্কার সিদ্দিকীর ছেলে তাজুল, জাবেদ আলীর ছেলে আব্দুল্লাহ, তোফাজ্জেলের ছেলে রাজিব, মৃত রবির ছেলে বকুল ও রেজাউল ইসলামের ছেলে জাকির  ঘিরে ধরে। উক্ত সালমার ঘরে জোর পূর্বক ঢুকিয়ে সবুজ ও উক্ত যুবতীকে একটি ঘরে আটকে রাখে। তাদেরকে জোরপূর্বক খারাপ অপবাদ দিয়ে যুবতীর কাছে ১লাখ টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে সবুজকে মারপিট করে। এর মধ্যে যুবতীর শরীরে করিম ও জুম্মান হাত দেয়। পরবর্তীতে রাত ১০ টার পর সৈয়দ করিমুজ্জামান ওরফে করিম বলে সবুজকে বাঁচাতে হলে তার সাথে সেক্স করতে হবে। এর পর জোর পূর্বক দু’জনকে উলঙ্গ করে মোবাইলের মাধ্যমে ভিডিও ধারন করে ইন্টার নেট, ফেইসবুকে ছেড়ে দেওয়ার হুমকী দেয়।  করিম উক্ত যুবতীকে সালমার ঘরে ও উপরে কক্ষে নিয়ে জোরপূর্বক দু’দফা ধর্ষন করে। উক্ত যুবতী বুধবার বিকেলে কৌশলে পালিয়ে গিয়ে ফোনের মাধ্যমে সবুজের ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করে। পরে পুলিশের সহায়তায় সবুজকে উদ্ধার ও সৈয়দ করিমুজ্জামান করিম এবং জুম্মানকে গ্রেফতার করে। সবুজের ভাই তার দায়েরকৃত এজাহারে বলেছেন, তার ভাই খড়কী বৃত্ত ছাত্রাবাসের থেকে যশোর সিটি কলেজে লেখাপড়া করতো। যশোরের এক যুবতীর সাথে তার প্রেমজ সম্পর্ক থাকায় ৯ জুন সবুজ শার্শা থেকে যশোর আসে। খড়কী বৃত্ত ছাত্রাবাস ছেড়ে দেওয়ার কারণে সেখানে না গিয়ে শহরে অবস্থান করলে উক্ত দূবৃর্ত্তরা তাকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে অপহরণ করে। পরে তার কাছে মুক্তিপণ হিসেবে ১লাখ টাকা দাবি করে নির্যাতন করে। বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর জন্য সবুজের ভাইয়ের সাথে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দূবৃর্ত্তরা যোগাযোগ করে। সবুজের ভাই পুলিশের সহায়তায় সৈয়দ করিমুজ্জামান ওরফে করিম ও সহযোগী জাকির হোসেন ওরফে জুম্মানকে গ্রেফতার করে।

বটিয়াঘাটায় আরও একজন করোনায় আক্রান্ত

ইন্দ্রজিৎ টিকাদার, বটিয়াঘাটা

বটিয়াঘাটায় সদর ইউনিয়নের হাটবাটি গ্রামে নতুন করে ফখরুল খা (৪৫) নামের এক ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। ইতিপূর্বে ওর অন্তসত্ত্বা স্ত্রী তাহেরা বেগম করোনায় আক্রান্ত হয়ে লকডাউনে থেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিল। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় ফকরুলের বাড়ি সহ আশেপাশের পরিবার গুলোকে লকডাউন করেছে উপজেলা প্রসাশনের পক্ষে সহকারী কমিশনার ভূমি ও নিবার্হী ম্যাজিষ্টেট মোঃ রাশেদুজ্জামান। এ নিয়ে উপজেলায় মোট আক্রান্ত হয়েছে ৮ জন। এর মধ্যে জলমা ইউনিয়নে ৫ জন, সদর ইউনিয়নে ২ জন এবং বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নে ১ জন। এ দিকে জলমা ইউনিয়নটি শহরের সাথে সম্পৃক্ত থাকায় বেশি করোনা ঝুঁকিতে রয়েছে। যে কোন মুহুর্তে মহামারী আকার ধারন করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। বিশেষ করে জলমা ইউনিয়নের ভূমি ব্যবসা, সাব রেজিস্ট্রি অফিস, ইউনিয়ন ভূমি অফিস সহ নানা কারণে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে জমি ব্যবসার সাথে সম্পর্কিত বহিরাগতদের জলমা ইউনিয়ন ও উপজেলার সর্বত্র কম বেশি যাতায়াত পরিলক্ষিত হচ্ছে। অপরদিকে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে উপজেলা প্রসাশন ও থানা পুলিশ নতুন করে কঠোর ভাবে তৎপর হয়ে উঠেছে। এ ব্যাপারে উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার বিজয় কৃষ্ণ বসুর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, সরকারি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে নিয়ম মেনে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে দলিল রেজিস্ট্রি করছি। সব মিলিয়ে এ উপজেলা করোনায় কেউ মৃত্যু বরণ না করলেও আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নিবার্হী ম্যাজিষ্টেট মোঃ নজরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতন করার পাশাপাশি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা করে যাচ্ছি। বাইরে থেকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বা উপসর্গ নিয়ে এই উপজেলায় আসছে। সকলে মিলে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তিনি এ ব্যাপারে সর্বস্তরের সকল মানুষের সহযোগীতা কামনা করেন।

নগরীতে মাদক ব্যবসায়ীদের দৌরত্ম বৃদ্ধিতে আ’লীগের উদ্বেগ

খবর বিজ্ঞপ্তি

নগরীতে পুনরায় মাদক ব্যবসায়ীদের দৌরত্ম ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ, তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং এ সকল সমাজ বিরোধীদের দমন করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহবান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ এবং সংসদ সদস্য বৃন্দ। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা চতুর্থবারের মত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরে সারা দেশের মত খুলনাতেও মাদক ব্যবসায়ী, ভূমিদস্যু এবং সন্ত্রাসীরা নিয়ন্ত্রনে ছিলো। কিন্তু অত্যন্ত দু:খের সাথে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, গত কয়েক মাস যাবৎ কতিপয় পুলিশের ছত্রছায়ায় নগরীতে ধীরে ধীরে মাদক ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম পূর্বের মত ছড়িয়ে পড়ছে। যা অত্যন্ত উদ্বেকজনক। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, একটি দেশের পুলিশসহ আইন-শৃংখলা বাহিনীর সক্রিয় থাকলে সেদেশে কোন ধরনের অপরাধ সংগঠিত হতে পারে না। বাংলাদেশের পুলিশ সহ আইন শৃংখলা বাহিনী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ইতিপূর্বে হলিআর্টিজনের মত দুর্ঘটনাকেও অত্যন্ত সফলতার সাথে মোকাবেলা করেছে। আজও সেই পুলিশসহ আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরাই বাংলাদেশের আইন শৃংখলা রক্ষা করে চলেছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, কেএমপিতে অসাধু পুলিশ সদস্যদের অপরাধের শাস্তি দেয়া হলে আজ এ ধরনের চিত্র দেখতে হতো না। ওই সকল কতিপয় অসাধু পুলিশ সদস্যের সহযোগিতায় নগরীর ৮ থানায় মাদক ও ভূমিদস্যুতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশ যখন মহামারী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত, প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা সহ জাতীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ করোনা মোকাবেলায় ব্যস্ত, ঠিক সেই সুযোগে পুলিশ প্রশাসনের নিস্ক্রিয়তায় মাদক ব্যবসায়ীরা নগরীতে মাদক ব্যবসায় মেতে উঠেছে। নগরীর ২১, ২২, ২৪, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯, ৩০ ও ৩১ নং ওয়ার্ড সহ কেএমপি’র সকল থানায় মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের নাকের ডগায় থেকে রমরমা ব্যবসা করে যাচ্ছে। কেএমপি’র পুলিশ সবোর্চ্চ নিস্ক্রিয় থাকায় সমাজের এই সকল দুর্বৃত্তরা অবাধে মাদক ব্যবসা করে যাচ্ছে। নেতৃবৃন্দ পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বলেন, অনতিবিলম্বে নগরীতে সাড়াশি অভিযান চালিয়ে ওই সকল মাদক ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করে নগরীকে মাদক মুক্ত করতে হবে। অন্যথায় জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ মোতাবেক মহানগর আওয়ামী লীগ দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে কঠিন পদক্ষেপের মাধ্যমে মাদক মুক্ত সমাজ গঠনে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করবে। বিবৃতিদাতা নেতৃবৃন্দ হলেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপি, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সিটি মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক, খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা।

২০২০-২০২১ অর্থ বছরের বাজেট সফল বাজেট: আ’লীগ

খবর বিজ্ঞপ্তি

প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের বাজেটকে দেশ ও জাতি গঠনের একটি সফল বাজেট আখ্যায়িত করে বিবৃতি দিয়েছেন আওয়ামী লীগ, সংসদ সদস্যবৃন্দ। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশ যখন মহামারী করোনায় আক্রান্ত ঠিক সেই সময়ে বাঙালির ভাগ্যোন্নয়নে দেশ গঠনে করোনা মোকাবেলা করে একটি সাহসি বাজেট উপহার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই বাজেটে করোনায় ভেঙ্গে পড়া অর্থনীতিকে ফিরিয়ে আনতে বিশেষ বরাদ্দ রেখেছেন তিনি। বাজেটে ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্য, শিল্প, কৃষি, শিক্ষা, বানিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সহ সকল সেক্টরের উপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এ বাজেটে তৃণমূল জনগোষ্ঠিকে পুন:বাসনে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ বাজেটে বিদেশী রেমিট্যান্সের উপর অধিকগুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এ বাজেট দরিদ্র জনগোষ্ঠির ভাগ্যোন্নয়নের বাজেট। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের বাজেট বাস্তবায়নের মধ্যদিয়েই প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত উন্নত বাংলাদেশ গঠনে আরো একধাপ এগিয়ে যাবে। নেতৃবৃন্দ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের বাজেট বাস্তবায়নে সকলকে এগিয়ে এসে উন্নত দেশ গঠন করতে হবে। বিবৃতিদাতারা হলেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপি, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সিটি মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক, খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, খুলনা জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ হারুনুর রশীদ, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. সুজিত অধিকারী, খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য পঞ্চানন বিশ্বাস, খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য নারায়ন চন্দ্র চন্দ, খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. আকতারুজ্জামান বাবু।

ভারত থেকে রেল ওয়াগনে এসেছে দেড় হাজার মে. টন পেঁয়াজ

বেনাপোল প্রতিনিধি

করোনার মধ্যেও দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে ভারত থেকে মালবাহী ট্রেনের ৪২টি ওয়াগনে ১ হাজার ৫শ’ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। স্থলপথের পাশাপাশি রেলপথে পেঁয়াজের এ আমদানি একদিনের হিসেবে সর্বোচ্চ।

মঙ্গলবার (৯ জুন) রাতে মালবাহী ট্রেনে পেঁয়াজ ভর্তি ওয়াগানগুলো বেনাপোল স্টেশনে এসে পৌঁছায়। বুধবার ও বৃহস্পতিবার (১০ ও ১১ জুন) কাগজপত্রের কাজ সম্পন্ন করে নওয়াপাড়ায় ট্রেন থেকে ট্রাকে পেঁয়াজগুলো খালাস করা হয়।

পেঁয়াজের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সাতক্ষীরার রিয়াজ এন্টারপ্রাইজ, সাতক্ষীরার বাবা ভোলানাথ এন্টারপ্রাইজ ও বগুড়ার বিকে ট্রেডার্স। পৃথক তিনটি এলসিতে এই পণ্য আমদানি করা হয়। পণ্যের রফতানিকারক ভারতের বসিরহাটের শ্রীগুরু ইন্টারন্যাশনাল। ইনভয়েস অনুযায়ী প্রতি মেট্রিক টন পেঁয়াজের আমদানি খরচ পড়েছে ১৫৫ মার্কিন ডলার।

বেনাপোল কাস্টমস হাউজের রাজস্ব কর্মকর্তা নাইম মিরণ জানান, বর্তমানে রেলপথে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, স্থলপথের পাশাপাশি রেলপথেও এভাবে বাণিজ্য চালু থাকবে। ব্যবসায়ীরা যাতে দ্রুত পণ্য খালাস নিতে পারেন এ জন্য সবাই আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

বেনাপোল স্টেশন ম্যানেজার সাইদুজ্জামান জানান, পণ্য চালানটি ছাড়করণের জন্য কাস্টমস ও রেলের আনুষ্ঠানিকতা বুধবার বিকালে শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) চালানের সব মাল খালাস হয়ে যাবে।

দু’বছরের ব্যবধানে কুষ্টিয়ায় এবার চালের দাম বেশি

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ায় চালের দাম বেড়েই চলেছে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগরে সব ধরনের চালের দাম কেজি প্রতি সর্বনিম্ন ৮ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ঈদুল ফিতরের আগে দাম কিছুটা কমলেও ঈদের পর থেকে কয়েক দফায় বেড়েছে চালের দাম। দাম বাড়ার এ প্রবণতা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছর জুনে যে চালের কেজি ছিল ৩২ থেকে ৩৩ টাকা সেই চাল এ বছরে একই সময়ে ৪৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত দুই বছরের মধ্যে এবারই চালের দাম সব থেকে বেশি চিকন থেকে মোটা ও মাঝারি সব ধরনের চালের দাম বেড়ে গেছে। ধানের বাজারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চালের দাম। মিল মালিকরা বলছেন, ধানের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে চালের দাম বাড়ছে। চাল ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, আমন মৌসুমের আগ পর্যন্ত চালের বাজারে দাম বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। করোনা পরিস্থিতির কারণে বাইরে থেকে সহজেই চাল আমদানি করা যাবে না মনে করে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী, ফড়িয়া ও আড়তদাররা ধান-চাল মজুত করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

মিল মালিক, কৃষক ও খাদ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রমজানের মধ্যে সারা দেশে পুরোদমে বোরো ধান কাটা শুরু হয়। নতুন ধান মিলগুলোতে আসায় চালের দাম ধীরে ধীরে কমতে থাকে। ঈদের আগ পর্যন্ত মিনিকেট, কাজললতা, বাসমতি, আঠাস ও মোটা জাতের চাল কেজিতে মিল গেটে ৩ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত কমে যায়। তবে ঈদের পরের চিত্র একেবারেই ভিন্ন।

চালকল মালিক সমিতির নেতা দাদা রাইস মিলের অন্যতম স্বত্বাধিকারী জয়নাল আবেদিন প্রধান বলেন, ঈদের আগে কুষ্টিয়ার মিলগুলো পুরোপুরি চালু হলেও নওগাঁ, দিনাজপুরসহ অন্যান্য জেলার মিলগুলো পুরো দমে উৎপাদনে ছিল না। ঈদের পর সব জেলার মিলগুলো পুরোদমে উৎপাদনে গেছে। প্রচুর ধান কিনছে মিল মালিকরা। ছাঁটাই ও বিপণন কার্যক্রম চলছে জোর গতিতে। ঈদের আগে ধানের যে দাম ছিল তার তুলনায় এখন দাম অনেক বেশি।

তিনি জানান, সব জাতের ধান মণ প্রতি ২৫০ টাকা বেড়ে গেছে। বিশেষ করে আঠাশ, কাজললতা ও মিনিকেট (সরু) জাতের ধানের বাজার এখন অনেক বেশি। যে ধান গত বছর এই সময়ে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা মণ ছিল এখন তা হাজারে ঠেকেছে। পাশাপাশি সরু ধান গত বছর এই সময়ে ৮০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হলেও এখন ১ হাজার ১০০ টাকার বেশি বিক্রি হচ্ছে। ধানের দাম আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পৌর বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান জানান, ঈদের আগের তুলনায় এখন বাজার চড়া। এবার প্রচুর ধান ও চাল কিনে মজুত করেছেন ব্যবসায়ীরা। যাতে সময় বুঝে তা বাজারে ছেড়ে অধিক মুনাফা অর্জন করা যায়। মিনিকেট চাল ঈদের আগে প্রতি কেজি ৪৫ টাকা ছিল তা এখন ৫০ টাকা, আঠাস ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৪৬ টাকা, কাজললতাও একই দামে বিক্রি হচ্ছে।

খাজানগর মোকামের মিলারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবার চালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবণতা অনেক বেশি। যার প্রভাব ইতোমধ্যে বাজারে পড়েছে। চালের বাজার শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকবে সর্বত্রই এ নিয়ে আলোচনা চলছে।

গত বছর জুনে খাজানগর চালের মোকামে সরু চালের দাম মিলগেটে ছিল ৪০ থেকে ৪২ টাকা। আঠাশ ও কাজললতা চালের কেজি ছিল ৩২ থেকে ৩৩ টাকা তা এখন ৪৪ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর মোটা পারিজা জাতের চালের দাম ছিল ২০ থেকে ২২ টাকার মধ্যে তা এখন ৩৭ থেকে ৩৮ টাকা মিলগেটেই বিক্রি হচ্ছে।

মিলাররা জানান, খোলা বাজারে ধান ও চালের বাজার বেশি হওয়ায় এ বছর বোরো ধান সংগ্রহ অভিযান অনেকটা থমকে গেছে। সরকারি গোডাউনে কৃষক ও মিলররা ধান-চাল দিতে পারছেন না। মোটা চালের দাম সরকার ৩৬ টাকা নির্ধারণ করলেও তা এখন বাইরে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৪ টাকা লোকসানে কোনো মিলার চাল দিতে চাইছে না। বাইরে বেশি দাম পাওয়ায় নানা ঝামেলার কারণে কৃষকরা গোডাউনে ধান দিতে চাচ্ছেন না। জেলায় এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ধান সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। ৩৪ হাজার টনের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এ পর্যন্ত মাত্র ১ হাজার টন চাল সংগ্রহ হয়েছে।

চালের দাম বাড়ার বিষয়ে বাংলাদেশ অটো রাইস মিলস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি দেশের শীর্ষ চাল ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদ বলেন, সিন্ডিকেট করে কোনো মিলার চাইলেও দাম বাড়াতে পারে না। এখন প্রতিযোগিতার সময়। ধানের বাজারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে চালের বাজার বাড়ছে। দেশে ঘূর্ণিঝড় আমফানে ১৫ ভাগ ধান নষ্ট হলেও বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে অভ্যন্তরীণ বাজারে ধান ও চালের সংকট হবে না। তবে দামের হেরফের হবে। কৃষকরা ধানের ভালো দাম পাচ্ছেন। দাম আরও বাড়তে পারে। ধানের দাম বাড়লে সামনে চালের দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

করোনা-আমফানের ধাক্কা: উপকূলের বিপর্যস্ত চিংড়ি চাষ সচলে ছয় দফা প্রস্তাব

খুলনাঞ্চল রিপোর্ট

করোনা মহামারি আর ঘূর্ণিঝড় আমফানের ধাক্কায় উপকূলীয় এলাকার বিপর্যস্ত চিংড়ি খাতকে সচল করতে সহায়তার প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট শিল্প মালিকরা। এ খাতের উৎপাদন বৃদ্ধি আর রপ্তানি পুনরায় সচল করতে ছয় দফা সুপারিশ প্রস্তাবনা আকারে তুলে ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশ শ্রিম্প এন্ড ফিশ ফাউন্ডেশনের (বিএসএফএফ) কার্যনির্বাহী বোর্ডের জরুরি সভায় আলোচনায় এসব বিষয় উঠে আসে। পাশাপাশি শ্রিম্প হ্যাচারি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ( সেব) ও বাংলাদেশ অ্যাকুয়া প্রোডাক্টস কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশন (বাপকা) থেকে চিংড়িখাতের সমস্যা সমাধানে সুপারিশের বিষয়েও আলোচনা করা হয়। গত ২ জুন ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচকরা বলেন, বাংলদেশে চিংড়ি খাত বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকার ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮১ হেক্টর পুকুর ও ঘেরে চিংড়ি চাষ দেশজ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং রপ্তানি আয়যোগ্য পণ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। চিংড়ি উৎপাদনে বাংলাদেশে হ্যাচারিগুলি এবং মাঠ পর্যায়ে চিংড়ি চাষীরা তাদের স্ব স্ব ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে চলমান করোনা মহামারী এবং সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় আমফানের ফলে চিংড়িখাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সভায় উল্লেখ করা হয়, করোনার কারণে ঢাকার বাইরে ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকায় চিংড়িখাতে ঋণ প্রবাহ কমে যায়। দীর্ঘদিনের সাধারণ ছুটির প্রেক্ষাপটে চিংড়িখাতে- হ্যাচারি ও মাঠ পর্যায়ের চিংড়ি খামারে প্রকট শ্রমিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় হ্যাচারি ও খামারিরা শ্রমিকদের বেতন দিতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় উপকরণ আমদানি ও বিপনন মারাত্মকভাব ব্যাহত হয়েছে। হ্যাচারি মালিক ও মাঠ পর্যায়ের চিংড়ি চাষিরা বিশেষ করে ক্ষুদ্র চিংড়ি চাষিরা অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় চিংড়ি উৎপাদনে ব্যবহৃত উপকরণ কিনতে পারছেন না। আমদানি কম হওয়ার কারণেই উপকরণের দামও বেড়ে গেছে অস্বাভাবিক হারে।

সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় আমফানের ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চিংড়ি ঘেরগুলি অপূরণীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্লাবিত হওয়া ছাড়াও ঘেরগুলির এক বিরাট অংশের পানি সরবরাহের পয়ঃপ্রণালী এবং সুরক্ষা বাঁধ ও খামারের প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো ও ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। খামারিদের নিজেদের পক্ষে এই ক্ষতি পূরণ করা সম্ভরপর নয়। ক্ষুদ্র চিংড়ি চাষিদের পক্ষে ব্যাংকিং খাত থেকে প্রচলিত ঋণ প্রাপ্তি সম্ভবপর নয় বিধায় তারা চিংড়ি চাষের প্রয়োজনীয় উপকরণ কেনার সামর্থ হারিয়েছেন। চিংড়ি উৎপাদন ও রপ্তানি পুনরায় সচল করার সভায় ছয়টি সুপারিশ প্রস্তাবনা আকারে তুলে ধরা হয়।

১. ক্ষুদ্র চিংড়ি চাষিদের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তা প্রদান্য।

২. বিনা শুল্কে মাছ ও চিড়ি চাষের খাদ্য এবং উপকরণ আমদানির সুযোগ।

৩. বিনা শুল্কে আমদানি করা হ্যাচারি ও চিংড়ি চাষের উপকরণের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ।

৪. সুলভ মূল্যে মাছ ও চিংড়িচাষ উপকরণ বিপণন ও সরবরাহ ব্যবস্থা পরীবিক্ষণ।

৫. হ্যাচারি ও চিংড়ি চাষের উপকরণসমূহআমদানির জন্য মৎস্য অধিদপ্তরের দেয়া অনাপত্তি পত্রে উল্লেখিত শর্তাদির অতিরিক্ত শর্তাদি আরোপ ও তা ছাড়করণে বন্দরে সৃষ্ট জটিলতা নিরসন।

৬. সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় আমফানের কারণে চিংড়ি খামারগুলি প্লাবিত হওয়ার ফলে সৃষ্ট ক্ষতি কাটিয়ে উঠার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত সুরক্ষা বেড়িবাঁধ, পয়ঃপ্রণালি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পুকুর/ ঘেরেগুলির পুনর্বাসনের জন্য জরুরি ও সমন্বিত উদ্যোগ।

সভাশেষে বাপকা-এর সভাপতি মোহাম্মদ তারেক সরকার, সেব-এর সভাপতি আশেক উল্লাহ রফিক এমপি ও ওবিএসএফএফ-এর চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহমুদুল হকের স্বাক্ষর করা সুপরিশগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ অর্থ, বাণিজ্য, পানিসম্পদ, মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে পাঠানো হয়।

মোস্তফা সভাপতি রিপন সম্পাদক: পাইকগাছা চিংডি চাষী সমিতি কমিটি গঠন

পাইকগাছা প্রতিনিধি :

পাইকগাছায় চিংড়ি চাষী সমিতির ত্রি-বার্ষিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীরকে সভাপতি, গোলাম কিবরিয়া রিপনকে সম্পাদক করে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। সমিতির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ দাউদ শরীফ, সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম ইকরামুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ ইসতিয়ার রহমান শুভ। উপদেষ্টা মন্ডলীরা হলেন, প্রধান উপদেষ্টা পাইকগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য শেখ কামরুল হাসান টিপু, উপদেষ্টা পৌর মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর, জেলা পরিষদ সদস্য আ’লীগ নেতা আব্দুল মান্নান গাজী, চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ গোলদার, কওসার আলী জোয়াদ্দার, এস, এম এনামুল হক, কে এম আরিফুজ্জামান তুহিন, এস এম আবু জাফর সিদ্দিকী রাজু। নব-নির্বাচিত কমিটির সভাপতি মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর জানান, শুধু মাত্র চিংড়ী চাষীদের নিয়ে কার্যকরী কমিটি ও উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

পাইকগাছায় ইট ভাটা মালিকের বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে ইট না দেয়ার অভিযোগ : থানায় জিডি

পাইকগাছা প্রতিনিধি:

পাইকগাছায় ইটভাটা মালিক ভাউচার দিয়ে টাকা গ্রহণ করলেও ইট চাইতে গেলে খুন-জখমের হুমকি। ঘটনাটি উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের হাচিমপুর গ্রামে। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরী হয়েছে।

অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার গড়ইখালীর আবেদ আলী সরদারের ছেলে মোঃ শরিফুল ইসলাম বলেন, সাহাপাড়ার হাচিমপুরের এ.কে.বি ব্রিক্সের বর্তমানে খান ভাটা মালিক আব্দুর রাজ্জাক, তোরাব খান, সালাম খান আমার নিকট থেকে ২০১৭ সালে ভাউচার মুলে নগদ ২৭ হাজার ৫শ টাকা গ্রহণ করে। কিন্তু বিভিন্ন সময় তাদের কাছে ইট ভাটার টাকা চাইতে গেলে তালবাহানা শুরু করে। সর্বশেষ ৪ জুন সকাল ১০টায় ভাটায় তাদেরকে পেয়ে টাকা ফেরত চাই। তখন ভাটা মালিক আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। আমি গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে তারা আমাকে মারপিট করতে উদ্যত হয় এবং আশপাশের লোকজন জড়ো হলে ভাটা মালিকরা খুন-জখমের হুমকি দিয়ে চলে যায়। এ ব্যাপারে পাইকগাছা থানায় জিডি হয়েছে। যার নং- ৫৮৬, তাং- ১১/০৬/২০২০ইং।

নওয়াপাড়া পৌরসভা ওয়ার্ড কাউন্সিলর সহ করোনা শনাক্ত ৪ জনের

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি-

অভয়নগরে গত ২৪ ঘন্টায় নওয়াপাড়া পৌরসভা প্যানেল মেয়র ও  ৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আলহাজ্ব মিজানুর রহমান সহ করোনা শনাক্ত হয়েছে ৪ জনের । এ পর্যন্ত অভয়নগরে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪১ জন। ১১জুন বহস্পতিবার অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের করোনা বিষয়ক মেডিকেল অফিসার ডা: পাভেল তথ্যটি নিশ্চিত করেন। এছাড়া অন্যান্য আক্রান্ত ব্যাক্তি হলেন, নওয়াপাড়া বেতার ও মশোরহাটি সংলগ্ন ফেরদৌসী (৩৮), একই এলাকার শাহীন (৪৩), নওয়াপাড়ার আনোয়ারুল ইসলাম। জানাগেছে আনোয়ারুল ইসলাম করোনা ভাইরাস এর পাশাপাশি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত। এ পর্যন্ত অভয়নগরে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪১। এরমধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৯ জন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন ৩২ জন। ভাইরাস টিতে মারা গেছেন ১ জন। ১১জুন বৃহস্পতিবার সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছে বাগদাহ গ্রামের মামুন, চলিশিয়া গ্রামের মাসুদ করিম রাজন সহ পায়রা গ্রামের সোহাগ তথ্যটি নিশ্চিত করেন অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের করোনা বিষয়ক মেডিকেল অফিসার ডা: পাভেল ।

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

গত ০৯ই জুন মঙ্গলবার ২০২০  সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত “দৈনিক দৃষ্টিপাত পত্রিকার ৩য় পাতা সহ স্থানীয় কয়েকটি পত্রিকায় “(ইউপি মেম্বরের অনিয়ম, দুনীতির প্রতিবাদে আ’লীগ নেতার সংবাদ সম্মেলন) ” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। উক্ত প্রকাশিত সংবাদটি সঠিক নয়,মূল বক্তব্য হল এই যে, কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ইউপির ৪নং ওয়ার্ড  দিগং এর করোনা ভাইরাস ও ঘুর্ণিঝড় আম্পানের সরকারি ত্রান, প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া  ঈদ উপহার অত্র এলাকার অস্বচ্ছল মানুষের মাঝে বিতরন করেছি। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনকারীরা আগামী ইউপি নিবার্চন করার উদ্দেশ্যে আমার নামে মিথ্যা অপবাদ লটাচ্ছে। যারা আমার বিরুদ্ধে সাংবাদিক ভাইদের ভুলতথ্য দিয়ে এলাকায় কর্মকান্ডকে প্রশ্নবিদ্ব করার চেষ্টা করছে। আমি প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।

 -মোঃ আসাদুজ্জামান/ ৪ নং ওয়ার্ড মেম্বর /৯নং হেলাতলা ইউনিয়ন পরিষদ।             

সাতক্ষীরার আশাশুনির প্রতাপনগরে স্বামী হত্যায় স্ত্রী আটক

খান নাজমুল হুসাইন,সাতক্ষীরা

পারিবারিক কলহের জের ধরে সাতক্ষীরার আশাশুনির প্রতাপনগরে স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ঘাতক স্ত্রী শাহেদা খাতুনকে (৪৫) আটক করেছে পুলিশ। বুধবার গভীর রাতে উপজেলার প্রতাপনগরে এ ঘটনাটি ঘটে।

নিহতের নাম আরশাদ আলী গাজী (৫০)। তিনি প্রতাপনগর গ্রামের মৃত ফকির গাজীর ছেলে। নিহতের স্বজনরা জানান, বুধবার রাতে আরশাদ গাজী তার স্ত্রী শাহেদা খাতুনকে একটি তুচ্ছ ঘটনায় বকাবকি করলে তার স্ত্রী পাশে থাকা ইট দিয়ে তার স্বামীর মাথা ও চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার স্বামী আরশাদ গাজী মারা যান। আশাশুনি থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কবির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে পারিবারিক কলহের জের ধরে নিহতের স্ত্রী শাহেদা খাতুন তার স্বামীকে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করায় তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে নিহতের স্ত্রী শাহেদা খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই জলিল গাজী বাদী হয়ে ঘাতক শাহেদা খাতুনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

‘নিরাপদ সড়ক চাই’ সাতক্ষীরা জেলা শাখার  বিশেষ  সভা অনুষ্ঠিত

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সাতক্ষীরায় ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ সাতক্ষীরা জেলা শাখার আয়োজনে বিশেষ  সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় সাতক্ষীরা শহরের সাপ্তাহিক মুক্তসাধীন পত্রিকার সম্মেলন কক্ষে উক্ত সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। আলহাজ্ব মোহাম্মদ দিদারুল ইসলামের সভাপতিত্বে  অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ সাতক্ষীরা  জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এস এম মহিদার রহমান, সহ সভাপতি সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ আবুল কালাম ও আবিদুল হক মুন্না। এ সময় বক্তারা বলেন, মহামারি করোনা ভাইরাস এর আঘাতে সমগ্র্র পৃথিবী আজ শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় আমাদের যার যার অবস্থান থেকে আরো বেশি মানবিক হতে হবে। পাশাপাশি সরকারী স্বাস্থ্যবিধি মেনে কিভাবে এই মহামারীর মধ্যেও  নিরাপদ সড়ক চাই’ এর কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করা যায় সে বিষয়ে আলোকপাত করেন। এ সময় আরো  উপস্থিত ছিলেন সোহরাব হোসেন, মোতাহার নেওয়াজ মিনাল, হাসান গফুর, শহিদুল ইসলাম শহিদ, মোঃ শাহ, কামাল ইমরান প্রমূখ।

দেবহাটায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে তিন সসন্তানের জননীর মৃত্যু

দেবহাটা প্রতিনিধি

দেবহাটায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে তিন সন্তানের জননী খাদিজা খাতুন (৩৫) মৃত্যুবরন করেছেন। নিহত খাদিজা উপজেলার মোহাম্মাদালীপুর গ্রামের ফজর আলীর স্ত্রী। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে খাদিজা তার বসত ঘরের ভিতরে সুইচ বোর্ডে ফ্যানের জ্যাক লাগাতে যেয়ে ছকেটের ভিতরে আঙ্গুল চলে গেলে এই দূর্ঘটনা ঘটে। পরে ঘরের ভিতরে থাকা তার স্বামী ও পরিবারের লোকজন তাকে দ্রুত সখিপুরস্থ দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। তার দুই পুত্র ও এক কন্যা সন্তান আছে। তবে তার এ অকাল মুত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দেবহাটা থানার ওসি বিপ্লব কুমার সাহা বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে খাদিজা খাতুনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দেবহাটায় বসতভিটা জবর দখলের সুবিচার পেতে সাংবাদিক সম্মেলন

দেবহাটা প্রতিনিধি

দেবহাটায় বসতভিটা জবর দখলের সুবিচার পেতে এক অসহায় পরিবার সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় দেবহাটা প্রেসকাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেন দেবহাটা সদরের মৃত বিলাত আলীর পুত্র রমজান আলী। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দেবহাটা মৌজার ৬৪০/১ খতিয়ানের ১০৮৬ দাগের ১১ শতক জমি পৈত্রিক সুত্রে এবং ১১ শতক জমি দুই বোনের নিকট থেকে ক্রয় করে প্রায় ২৫ বছর ধরে বসাবস করে আসছি। রাতের আধারে বেড়া দিয়ে বসত ভিটার কিছু অংশ জবর দখলে নিতে রান্নাঘর ও গোয়ালঘর ভাংচুর, সবজি বাগান এবং গাছ-গাছালী কেটে উচ্ছেদ করে আমার ভাই মোহাম্মাদ আলী। এ ব্যাপারে আমি দেবহাটা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। তিনি বলেন, কিন্তু আমার বড় ভাই মোহাম্মদ আলী পুর্বে পৈত্রিক ১০ শতক বিলান জমি আমাদের কাছ থেকে নিয়ে পরে টাকা দেওয়ার কথা বলে কৌশলে লিখে নিয়ে বিক্রয় করে দেয়। আর মেঝ ভাই আহম্মদ আলী ১৩ বছর আগে তার মেয়ের চাকরির জন্য ২৯ শতক জমি আমাকে লিখে দেওয়ার নাম করে ২লাখ ৮১ হাজার টাকা গ্রহন করে। কিন্তু পরে সে ঐ জমি না দিয়ে উল্টো আমার উপর হুমকি দিতে থাকে। কিছু বলতে গেলে মারতে তেড়ে আসে। এসব বিষয় সমাধানের জন্য উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান, সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় গন্যমান্য বাক্তির হস্তক্ষেপে মিমাংসার চেষ্টা করা হলেও মানতে নারাজ আমার ভাইয়েরা। লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো জানান, দীর্ঘদিনের ভোগ দখলীয় বসত ভিটার কিছু অংশ জোর পুর্বক দখল করতে কয়েক দিন পুর্বে রাতের আধারে বেড়া দিয়ে ঘিরে দেয় আমার ভাই ও তার সহযোগীরা। পরে সবজি এবং গাছ-গাছালী কেটে দেয়। গত ২৮/০৫/২০ তারিখে বড় ভাই মোহাম্মদ আলী ও তার দুই পুত্র ভাড়াটিয়া বাহিনী নিয়ে ঐ জমির ২টি আমগাছ কাটলে আমরা দেবহাটা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করি। দেবহাটা থানা বিষয়টি সমাধানের জন্য পারিবারিকভাবে মিমাংসার প্রস্তাব দেয়। গত ৫জুন শুক্রবার মিমাংসার কথা থাকলে ঐ দিন সকালে আমি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে সখিপুর হাসপাতালে ভর্তি হয়। এ সুযোগে বড় ভাই মোহাম্মদ আলী ও তার দুই পুত্র কবীর হোসেন এবং সালাউদ্দীন সোমবার ৮জুন সকাল ৭ টার দিকে আবার হামলা চালায় আমার বসতবাড়ির উপর। এরপর তারা আমাদের গোয়াল ঘরের মধ্যে থাকা মুরগীর টব এবং জ্বালানী কাঠ বাহিরে ফেলে দেয়। বাধা দিলে বিভিন্ন হুমকি ধামকি দেয় বড় ভাই মোহাম্মদ আলী ও তার দুই পুত্র কবীর হোসেন এবং সালাউদ্দীন। বর্তমানে তার উক্ত জমি উদ্ধার এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

দেবহাটা সদর ইউপির ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের বাজেট প্রকাশ্যে ঘোষনা

দেবহাটা প্রতিনিধি

দেবহাটা সদর ইউপির ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের বাজেট প্রকাশ্যে ঘোষনা করা হয়েছে। এ অর্থবছরে বাজেটের পরিমান নির্ধারন করা হয়েছে ২ কোটি ২২ লক্ষ ৫০ হাজার ৪শত নিরানব্বই টাকা। ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে সকাল ১০ টার দিকে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই বাজেট প্রকাশ্যে ঘোষনা করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন দেবহাটা সদর ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর গাজী। ইউপি সচিব মহাসিন আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আবুল কাশেম, ইউপি সদস্যদের মধ্যে আজগার আলী, মাহবুবুল আলম বাবলু, আব্দুল জলিল, কামরুল ইসলাম, এবাদুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান মাসুম, মোক্তার আলী, আরমান হোসেন, মহিলা সদস্যাদের মধ্যে সাবিনা ইয়াসমিন, বেগম রোকেয়া ও শাহনাজ পারভিন, ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আফজাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এসসময় স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তি, সুধীজন, সাংবাদিক, বিভিন্ন পেশাজীবি প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে গ্রাম পুলিশগন সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবারের বাজেট পেশ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

সাতক্ষীরার আলিপুরে জমিজমা সংক্রান্ত পূর্বশত্রুতার জেরধরে জখম সদর থানায় মামলা

খান নাজমুল হুসাইন, সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরা আলিপুর জমিজমা সংক্রান্ত পূর্বশত্রুতার জের ধরে  প্রতিপক্ষের হামলায় মারাত্মক জখম হয়েছে আলিপুর উচুপোতা গ্রামের আব্দুল মান্নানের স্ত্রী রেহেনা খাতুন(৩৫) । এতে জখমী রেহেনার নুনদায় একই এলাকার মৃত মফিজউদ্দিনের পুত্র নুর ইসলাম বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলা করে, যার নং ৩৪ তারিখ  ০৯-০৬-২০। মামলা সূত্রে জানাযায়, উচুপোতা গ্রামের মৃত সোনা গাইনের পুত্র আঃ মান্নানের বাড়িতে একই এলাকার মৃত আসমাতুল্লাহ গাইনের পুত্র সাহেব আলী, কবির হোসেন ও কবির হোসেনের পুত্র ইসমাইল হোসেন,আকবরের পুত্র ফারুক হোসেন, আসমাতুল্লার পুত্র আক্তার হোসেনসহ দলবদ্ধভাবে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে দা,লোহাররড, বাশের লাঠিসহ দেশিয় অস্ত্র শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আঃ মান্নানের  স্ত্রী রেহানা খাতুন, আব্দুল্লাহর স্ত্রী  আনজুয়ারা খাতুন,  গোলাম রসুলের স্ত্রী  মাহমুদা খাতুনের  উপর হামলা করে  কুপিয়  জখম করে। হামলাকারীরা আহত রেহানার গলায় থাকা ১ ভরি ওজনের সোনার চেইন, আট আনা ওজনের সোনার দুল জোর করে খুলে নেয় । রেহানা খাতুন মুমূর্ষু অবস্থায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসারত আছেন।  এ ঘটনায় সাতক্ষীরা সদর থানায় ওসি আসাদুজ্জামান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা মামলা নিয়েছি যত দ্রুত সম্ভব আসামী প্রেপ্তার করা হবে।

তালায় গরু হৃষ্টপুষ্টকরণ শীর্ষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

তালা প্রতিনিধি 

সাতক্ষীরার তালায় “আধুনিক প্রযুক্তিতে গরু হৃষ্টপুষ্টকরণ” শীর্ষক তিন দিনের প্রশিক্ষণ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সম্পন্ন হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের প্রশিক্ষণ কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণের সমাপনী দিনে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ শহীদুল ইসলাম, তালা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইকবাল হোসেন ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সন্জয় বিশ^াস প্রমুখ। এ পর্যন্ত প্রতি ব্যাচে ২৫ জন করে মোট ৭৫ জন খামারী উক্ত প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন।

এদিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের পক্ষ থেকে “ক্ষুরারোগ নিয়ন্ত্রণ ও পিপিআর রোগমুক্ত” প্রকল্পের আওতায় ৩ দিনব্যাপী ভলেন্টিয়ার ভ্যাকসিনেটর প্রশিক্ষণ বৃহস্পতিবার সম্পন্ন হয় বলে সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্র জানাগেছে।

তালায় সংবাদ সন্মেলন

তালা প্রতিনিধি 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বেলা সাড়ে ১১ টায় সাতক্ষীরার তালা ডাকবাংলোয় মানব পাচার সংক্রান্ত মামলার বিচার ও আইনী সহায়তা কার্যক্রম শক্তিশালী ও সম্প্রসারণের আহবানের দাবীতে এক সংবাদ সন্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। শিশু পাচার প্রতিরোধ ও সুরক্ষায় উপজেলা সিটিসি, চাইল্ড টাস্ক ফোর্স, শিশু প্রতিনিধি ও বেসরকারী সংগঠন ইনসিডিন বাংলাদেশের পরিচালনাধীন কনসোডিয়াম পিসিটিএসসিএন এর যৌথ সংবাদ সন্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইনসিডিন বাংলাদেশ এর সাতক্ষীরা প্রতিনিধি মোঃ সাকিবুর রহমান সাকিব।

সংবাদ সন্মেলনে শিশু পাচার প্রতিরোধ ও সুরক্ষায় এবং কোভিড-১৯ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। একইসাথে পাচার সংক্রান্ত মামলার বিচার ও আইনী সহায়তা কার্যক্রম শক্তিশালী ও সম্প্রসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আহবান জানানো হয়। এছাড়া বাংলাদেশের মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন নিশ্চিত করতে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন-২০১২ এর আইনের বিধিমালা বাস্তবায়ন, ২০১৭ সালের নির্দেশনা অনুযায়ী “মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার কাজ ত্বরান্বিত করা, “মানব পাচার প্রতিরোধ তহবিল” ও “জাতীয় মানব পাচার দমন সংস্থা” পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করা এবং “মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন জাতীয় কর্মপরিকল্পনা-২০২৮-২০২২” এর নির্দেশনা অনুযায়ী মানব পাচার প্রতিরোধ, সচেতনতা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রম দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেয়ার পাশাপশি জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন ভিত্তিক মানব পাচার কমিটি (সিটিসি) গুলোকে পাচার প্রতিরোধে সচল ও শক্তিশালী করার আহবান জানানো হয়।

সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ সদস্য মাহফুজা সুলতানা রুবি, উপজেলা পাচার প্রতিরোধ কমিটি (সিটিসি) এর সদস্য সচিব এবং তালা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাজমুন নাহার, তালা উপজেলা সমাজসেবা অফিসার শেখ আব্দুল আওয়াল, পিসিটিএসসিএন এর সাতক্ষীরার লিয়াজো অফিসার মোঃ রুহুল আমিন, শিশু প্রতিনিধি মরিয়ম জাহান সাবাহ এবং আশিকুজ্জামান বাপ্পীসহ তালা উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন জাতীয় ও আ লিক প্রত্রিকার সাংবাদিকরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

কেশবপুরে সাপের কামড়ে ৪র্থ শ্রেণীর শিশু কন্যার মৃত্যু

কেশবপুর প্রতিনিধি :

যশোরের কেশবপুরে গ্রাম পল্লীতে সাপের কামড়ে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

জানা যায়, উপজেলার ১১নং হাসানপুর ইউনিয়নের টিটাবাজিতপুর গ্রামের আব্দুল আজিজের ৪র্থ শ্রেণীতে পড়ুয়া শিশু কন্যা কুলসুম খাতুন (১১) তাদের নিজ ঘরের বারান্দায় ঘুমিয়ে ছিল। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে আনুমানিক ৩টার দিকে অজ্ঞাত বিষধর সাপ তার শরীরে কামড় দেয়। প্রাথমিক অবস্থায় পরিবারের লোকজন ওঝার মাধ্যমে বিষ নামাতে চেষ্টা করে। পরে ব্যর্থ হলে মুমূর্ষ অবস্থায় খুলনায় নেওয়ার পূর্বেই পথিমধ্যে মৃত্যুবরণ করে।

পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার সকালে সাপের কামড়ে মৃত্যুবরণ করা কুলসুম খাতুনের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। ওই এলাকার সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য লাকিয়া রহমান জানান, সাপের কামড়ে মারা যাওয়া কুলসুম খাতুনের বাড়ি বিলের ধারে। আমি তাদের বাড়িতে গিয়ে জানতে পারি, বিল থেকে একটা বিষাক্ত সাপ এসে রাতের বেলায় ঘুমিয়ে থাকা মেয়েটির ঘাড়ে কামড় দেয়। পরে ওঝার কাছে নিয়ে গেলে অবস্থা খারাপ হওয়ায় সে ডাক্তারের কাছে নিতে বলে। বাড়ি থেকে চুকনগর পর্যন্ত নিয়ে গেলে মেয়েটি মারা যায়।

খুলনা চেম্বারের শোক বার্তা

খবর বিজ্ঞপ্তি

খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সম্মানীত সদস্য, মেসার্স নিউ মক্কা ট্রেডিং ২, রেলওয়ে এপ্রোচ রোড, খুলনা এর স্বত্বাধিকারী মোঃ আবু সাঈদ (৪২) গত ০৯ জুন, ২০২০ তারিখ মঙ্গলবার ব্যবসায়ীক কাজে বগুড়ায় অবস্থানকালে আনুমানিক সন্ধ্যা ০৭:০০ ঘটিকায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন)। তিনি অত্যন্ত সদালাপী, মিষ্টভাষী ও দানশীল ছিলেন। তাঁর এ মৃত্যুতে খুলনার সর্বস্তরের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে খুলনা চেম্বারের সভাপতি কাজি আমিনুল হক, উর্দ্ধতন সহ-সভাপতি শেখ আসাদুর রহমান, সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বিশ্বাস বুলু, সহ-সভাপতি মোঃ মোস্তফা জেসান ভূট্টো, পরিচালকবৃন্দ গোপী কিষণ মুন্ধড়া, এম এ মতিন পান্না, জেড এ মাহামুদ ডন, এস এম ওবায়দুল্লাহ, আলহাজ্ব মোঃ মফিদুল ইসলাম টুটুল, ঠাকুর মোঃ শাহ্ আলম, জোবায়ের আহমেদ খান (জবা), মোঃ সিরাজুল হক, কাজী মাসুদুল ইসলাম, আলহাজ্ব মোঃ মোশাররফ হোসেন, শেখ আল্লামা ইকবাল তুহিন, মোঃ আবুল হাসান, দীপক কুমার দাস, মোঃ ইসলাম খান, উজ্জল কুমার গাঙ্গুলী, শেখ মোঃ গাউসুল আজম, খান সাইফুল ইসলাম, মোঃ মনিরুল ইসলাম মাসুম, মোঃ মাহবুব আলম ও চৌধুরী মিনহাজ¦ উজ জামান এবং খুলনা চেম্বারের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করে মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।

শরণখোলায় জমিজমার বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত-৩

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

বাগেরহাটের শরণখোলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় একই পরিবারের তিনজন আহত হয়েছে। গত বুধবার বিকাল পাঁচটার দিকে উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের পশ্চিম বানিয়াখালী গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত একই পরিবারের আমিনুর ফকির (৭০), ছেলে মাসুম ফকির (৪০) ও মেয়ে রেহেনা পারভীন (৪৩) কে স্থানীয়রা উদ্ধার করে শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। আহত আমিনুর ফকির জানান, বুধবার বিকেলে ছেলে মাসুম ফকির বাড়ির সামনের গাছ লাগাবে বলে মাটি তৈরী করতে ছিল। এমন সময় শাহজাহান ফকির (৬০) জমি নিজের দাবী করে গাছ লাগাতে বাঁধা দেয়। এনিয়ে চাচা ভাতিজার মধ্যে বাক-বিতন্ডার এক পর্যায়ে শাহজাহান ফকির তার স্ত্রী নাজমা বেগম, মেয়ে সুখী আকতার, মিষ্টি আকতার, ওমি আকতার ও মতিয়ার রহমান ফকিরের দুই ছেলে হেলাল ফকির ও উজ্জ্বল ফকির মারপিট শুরু করে। এসময় মাসুম ফকিরের চিৎকারে তার বাবা ও বোন ছুটে এলে তাদেরও মারপিট করে আহত করে।

মাসুম ফকির জানান, আমি আমার বাবার একমাত্র ছেলে। আমাদের জনবল কম বলে চাচারা আমার বাবার জমি দখলসহ বিভিন্ন সময় আমার উপর হামলা চালিয়ে আসছে। তাদের নির্যাতনে আমরা অতিষ্ঠ। ঘটনায় হামলাকারী শাহজাহান ফকিরের কাছে জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে কিছুই বলা যাবেনা বলে সটকে পড়েন। শরণখোলা থানার ওসি এসকে আব্দুল্লাহ আল সাইদ বলেন, অভিযোগ পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে ।  

করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত জেলা কমিটি’র সভা: যশোরের দোকানপাট খোলা থাকছে সীমিত পরিসরে

খবর বিজ্ঞপ্তি

যশোর শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত দোকানপাট ক্যাটাগরিভিত্তিতে সীমিত পরিসরে খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের পণ্যের দোকান সপ্তাহে দুইদিন করে খোলা রাখার ব্যবস্থা হতে পারে। বৃহস্পতিবার দুপুরে যশোর সার্কিট হাউজে ‘করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত জেলা কমিটি’র সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। সভায় অংশগ্রহণকারী একাধিক কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া আজকের সভায় আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়। তার মধ্যে রয়েছে, শহরে ইজিবাইকের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনা। ছোট এই গণপরিবহনে যাত্রী সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্তও হয়েছে। অন্যদিকে, অভয়নগরের নওয়াপাড়া শহরসহ যেসব এলাকায় করোনা রোগী দ্রুত বাড়ছে, সেসব স্থান লকডাউন করা হবে। জেলাজুড়ে বাইরে বেরুনো লোকজনকে মাস্ক ব্যবহারে বাধ্য করতে প্রশাসনিক তৎপরতা ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ জোরদার করা হবে। ব্যাংক, পোস্ট অফিসসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে যেন স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়, দরকারি উদ্যোগ নেওয়া হবে সেবিষয়েও। সভায় সভাপতিত্ব করেন ‘করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত জেলা কমিটি’র সভাপতি ও যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ। বেলা সাড়ে ১২টায় শুরু হয়ে সভা শেষ হয় দুইটায়। সভা শেষে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘যশোর শহরের বাজার এলাকায় কোনোভাবেই মানুষের ভিড় কমানো যাচ্ছে না। সেই কারণে রোটেশনভিত্তিতে দোকানপাট খোলা রাখার কথা হয়েছে। ট্রায়াল বেসিসে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে। এক্ষেত্রে পৌরসভার মেয়র ও প্রেসকাব সভাপতি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে সুনির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতি দাঁড় করাবেন।’

তিনি জানান, রাস্তায় ইজিবাইকের সংখ্যা ও যাত্রী কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই বিষয়টি বাস্তবায়ন করবেন পৌরসভার মেয়র। এছাড়া অভয়নগরের নওয়াপাড়া পৌরসভাসহ উপজেলার কয়েকটি এলাকায় করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। নওয়াপাড়া পৌরসভার কয়েকটি ওয়ার্ডসহ যেসব এলাকায় রোগীর সংখ্যা বেশি, সেখানে লকডাউন করা হবে। জেলা প্রশাসক জানান, জনসাধারণকে মাস্ক ব্যবহারে বাধ্য করতে অভিযান জোরদার করা হবে। এছাড়া লকডাউনসহ স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অন্যান্য কার্যক্রম সুচারুরূপে বাস্তবায়নের জন্য পৌরসভার স্বাস্থ্যকর্মীরা জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন। কিন্তু যশোর শহরের ঠিক কোন এলাকায় রোটেশনভিত্তিতে কীভাবে দোকানপাট খোলা হবে তা খানিকটা অস্পষ্ট।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে প্রেসকাব সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন বলেন, দোকানপাট খোলা থাকবে সপ্তাহের ছয়দিন। কিন্তু কোনো দোকান ছয়দিনই খোলা থাকবে না। এক্ষেত্রে পণ্যভিত্তিক রোটেশন তৈরি করা হবে। ব্যবসায়ীদের সংগঠনগুলো এই প্রস্তাব তৈরি করবে। ইতিমধ্যে ব্যবসায়ীদের সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। যোগাযোগ করা হলে যশোর পৌরসভার মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু এই বিষয়ে বলেন, ‘ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা থাকে সপ্তাহের ছয়দিন। বাজারে নানা ধরনের দোকানপাট আছে। এক্ষেত্রে পণ্যের ভিত্তিতে ক্যাটাগরি তৈরি করা হবে। এক ধরনের দোকান হয়তো সপ্তাহে দুইদিন করে খোলা থাকবে।’ উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, কম্পিউটার বা ইলেট্রনিক্সের দোকান যদি শনি ও রোববার খোলা থাকে, পোশাকের দোকান হয়তো সোম ও মঙ্গলবার খোলা থাকবে। এভাবে সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে। সভার এই সংক্রান্ত বিষয়াদি ইতিমধ্যে বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। দুই-একদিনের মধ্যে এটি কার্যকর করা হবে।

ইজিবাইক চলাচল কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে জানতে চাইলে মেয়র বলেন, ‘যশোর পৌরসভার তালিকাভুক্ত ইজিবাইক আছে প্রায় তিন হাজার। রেজিস্ট্রেশন নাম্বার অনুযায়ী প্রথম দেড় হাজার হয়তো আজ চললো। তাহলে দ্বিতীয় দেড় হাজার চলবে আগামীকাল।’

ইজিবাইকে এখন যেভাবে যাত্রী পরিবহন করা হয়, সেক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হবে বলে জানিয়েছেন মেয়র। তিনি বলেন, পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সহায়তায় পৌরসভার কর্মীরা এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবেন। বিষয়টি জনসাধারণকে জানানোর জন্য শহরে মাইকিং করা হবে।

মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে কীভাবে বাধ্য করা হবে জানতে চাইলে যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন বলেন, শহরের মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট বসানো হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন করবেন। মানুষকে মাস্ক ব্যবহারে সচেতন করতে তারা কাজ করবেন। দরকার হলে আইনের প্রয়োগও করা হবে।

ইজিবাইকে যাত্রী সংখ্যা কমিয়ে অর্ধেকে নামানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই যানবাহনে একসঙ্গে তিনজনের বেশি যাত্রী বহন করা যাবে না।

যশোর শহরের ঠিক কোন এলাকায় দোকানপাট রোস্টারের ভিত্তিতে খোলা হবে, তা অবশ্য স্পষ্ট নয় সিভিল সার্জনের কাছেও। তিনি বলেন, ‘বেশি ভিড় দেখা যাচ্ছে বড়বাজার থেকে মাইকপট্টি এলাকা পর্যন্ত। মাঝে জেস টাওয়ার, সিটি প্লাজা, চৌরাস্তা, চিত্রা মোড়, দড়াটানা ব্রিজ পর্যন্ত। এই এলাকায় জনসমাগম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেই মনে হয়। পৌরসভার মেয়র ও প্রেসকাব সভাপতি বিষয়টি দেখবেন।’

এদিকে, ব্যাংক, পোস্ট অফিসসহ অর্থ লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা হচ্ছে না বলে আজকের সভার আলোচনায় উঠে আসে। এই বিষয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের সঙ্গে বসে জেলা প্রশাসক কর্মপরিকল্পনা ঠিক করবেন বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়।

অভয়নগরে উদ্বেগজনক হারে করোনাভাইরাস রোগী বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে সেখানকার সুনির্দিষ্ট এলাকায় কঠোরভাবে লকডাউন কার্যকর করা হবে বলে জানিয়ে সিভিল সার্জন বলেন, স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি দেখভাল করবেন।

আজকের সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যশোরের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে যশোরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল নিয়ামুল, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) উপপরিচালক কবির আহম্মেদ, পৌরসভার মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু, সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন, প্রেসকাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) প্রতিনিধি ডা. গোলাম মোর্তজা, ডা. মীর আবু মাউদ প্রমুখ। এর আগে যশোর জেলাকে একদফা লকডাউন করা হয়েছিল। পরে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রমজান মাসে দোকানপাট বিকেল চারটা পর্যন্ত খোলা রাখার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু বাজারে মানুষের ব্যাপক সমাগম হওয়ায় ঈদের আগে নিত্যপণ্যের দোকান ছাড়া বন্ধ করে দেওয়া হয় অন্য সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

যশোরে কিশোরী অপহরণের অভিযোগে মামলা

যশোর অফিস

প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় স্কুল পড়–য়া শিক্ষার্থী ফরিদা আক্তার মিম (১৩) কে জোরপূর্বক অপহরণের অভিযোগে কোতয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি যশোর শহরের বারান্দীমোল্যাপাড়া বাঁশতলার জনৈক জাহাঙ্গীরের বাড়ির সামনে। আসামীরা হচ্ছে, সদর উপজেলার হামিদপুর সাইফুলের বাড়ির ভাড়াটিয়া দুখু মিয়ার ছেলে তাহিন ইসলাম, স্ত্রী তাজিয়া বেগম ও দুখু মিয়া।

যশোর শহরের বারান্দীমোল্যা পাড়ার শওকত আলীর ছেলে শেখ মনির হোসেন রনি বুধবার বিকেলে কোতয়ালি মডেল থানায় দায়েরকৃত এজাহারে বলেছেন, তার মেয়ে ফরিদা আক্তার মিম মোল্যাপাড়া বাঁশতলা আইডিয়াল স্কুলে অষ্টম শ্রেনীতে লেখাপড়া করে। স্কুলে আসা যাওয়ার সময় তাহিন ইসলাম তাকে উত্যক্তসহ প্রেমের প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় তাহিন ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে কিশোরীকে অপহরনের সুযোগ খুঁজতে থাকে। মিমের কাছ থেকে জানার পর পিতা শেখ মনির হোসেন রনি তাহিনের পিতা মাতাকে জানালে তারা বিষয়টি উল্টো উশকানি দেয়। গত ৯ জুন মঙ্গলবার সকালে মিম বাড়ির সামনে দোকানে কেনাকাটার জন্য যায়। সেখানে ওৎপেতে থাকা তাহিন ইসলামসহ সহযোগীরা প্রাইভেট কারযোগে কিশোরীকে ফুসলিয়ে তুলে মনিহারের দিকে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় কোতয়ালি মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ কিশোরীকে উদ্ধার করতে পারেনি।

যশোরে পুলিশ পরিচয়ে অটো রিকশা থেকে চাঁদাদাবির ঘটনায় গ্রেফতার

যশোর অফিস

লক ডাউনের সুযোগে এক প্রতারক নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তির ব্যাটারী চালিত রিকশা আটক পূর্বক ৫শ’ টাকা দাবি করে ১শ’ টাকা নেওয়ার পর স্থানীয় লোকজন জানতে পেরে ধরে ফেলেছে। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করেছে। প্রতারক হচ্ছে যশোর শহরের নাজির শংকরপুর এলাকার মৃত সাত্তার ব্যাপারীর ছেলে আব্দুল্লাহ আল মাসুম। এ ঘটনায় রিকশা চালক বাদি হয়ে উক্ত প্রতারকের বিরুদ্ধে কোতয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

যশোর সদর উপজেলার ছিলিমপুর গ্রামের মৃত লিয়াকত আলীর ছেলে  শুকুর আলী বাদি হয়ে বুধবার কোতয়ালি মডেল থানায় দায়েরকৃত এজাহারে বলেছেন,তিনি ব্যাটারী চালিত অটো রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। বুধবার সকাল সাড়ে ১১ টায় নাজির শংকরপুর বাস টার্মিনালের সামনে অবস্থান কালে হঠাৎ আব্দুল্লা আল-মাসুম এসে নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে লক ডাউনের মধ্যে রিকশা চালানোর অভিযোগ তুলে রিকশাটি ধরে ফেলে। পরে তার কাছে ৫শ’ টাকা দাবি করে। রিকশা চালক ১শ’ টাকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার প্রাক্কালে স্থানীয় লোকজন দেখে ফেলে আব্দুল্লাহ আল মাসুমকে ধরে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

যশোরের শার্শায় করোনা উপসর্গ নিয়ে ব্যক্তির মৃত্যু

যশোর অফিস

যশোরের শার্শা উপজেলায় করোনা উপসর্গ নিয়ে এক জনের মৃত্যু হয়েছে, আরো তিন জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার ইউসুফ আলী বলেন, করোনা উপসর্গ নিয়ে ইয়াকুব আলী (৫৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি শার্শার গোগা ইউনিয়নের হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামে। গত বুধবার  রাতে তিনি মারা যান। ইয়াকুব হৃদরোগের চিকিৎসা নিতে ঢাকায় গিয়েছিলেন । সেখানে তার করোনা পজেটিভ ধরা পড়ে। গতকালই তিনি ঢাকা থেকে গ্রামে ফেরেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনোম সেন্টারের ল্যাবে পাঠানো নমুনা থেকে তিন জনের আক্রান্তের রিপোর্ট পেয়েছি বলে জানান ইউসুফ আলী।

তিনি বলেন, কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে যাদের তাদের তিন জনের বাড়ি উপজেলার নাভারনে (৪৫), উত্তর বুরুজবাগান (৪৫) ও রেলবাজারে (৬০)। এর আগে শার্শা উপজেলার সদর ইউনিয়নের নাভারন কাজিরবেড় গ্রামে তিন জনের শরীরে কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছিল। মৃত ব্যক্তির সৎকারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগের সিদ্ধান্ত মোতাবেক এদেরকে বাড়িতে রেখে হোম কোয়ারেন্টাইনে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং আক্রান্তদের বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।

দেশবান্ধব বাজেটের পরিবর্তে দলবান্ধব বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে- নগর ইসলামী আন্দোলন

খবর বিজ্ঞপ্তি

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা মহানগর নেতৃবৃন্দ ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে  দেশবান্ধব বাজেটের পরিবর্তে দলবান্ধব বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, বর্তমান সরকারের এমপি-মন্ত্রীরা কত বেশি দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। আর এ দুর্নীতিবাজ এমপি-মন্ত্রীদের রক্ষার কথা মাথায় রেখেই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ বাজেটে গণমানুষের প্রত্যাশা পুরণ হয়নি। ধনী ও সুবিধাভোগী শ্রেণির কথা চিন্তা করেই এই বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের কোনও উপকার হবে না। নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত এই বাজেটের কারণে অর্থনীতি পুরোপুরি ঋণনির্ভর হয়ে পড়বে। প্রস্তাবিত বাজেটকে দুর্নীতির আইনি অনুমোদন পত্র উল্লেখ করে তারা বলেন, বাজেট বাস্তবতা বর্জিত সংখ্যার ফুলঝুড়িতে পরিণত হয়েছে। করোনার এই ভয়াবহ সময়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৮.২ শতাংশ প্রস্তাব করার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় সরকার জনবিচ্ছিন্ন হয়ে ঘোরের মধ্যে বাস করছে। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রাকে অবাস্তব বলে আখ্যায়িত করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বাজেট প্রতিক্রিয়ায় নেতৃবৃন্দ বলেন, বিশাল অংকের বাজেট দিয়ে অর্থমন্ত্রী গৌরববোধ করলেও সাধারণ জনগণ এর কতভাগ সুফল পাবে তা নিয়ে জনমনে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। বাজেট প্রস্তাবনায় কথার ফুলঝুরি ও মিথ্যা আশ্বাসে ভরা লোক দেখানে মনতুষ্টির নিষ্ফল প্রয়াস চালানো হলেও একথা স্পষ্ট যে, বিগত সরকারগুলোর ধারাবাহিকতায় এবারের বাজেটেও সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের লুটপাটের সুবিধার দিকে লক্ষ্য রেখে দুর্নীতিবাজ ও কালো টাকার মালিকেদের অবৈধ টাকা সাদা করার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া জনগণের ট্যাক্সের টাকায় দেশ-বিদেশী লুটপাটকারীদের পকেট ভারী করার বাজেট। বাজেটের বিশাল অংশ সরকারদলীয় এমপি ও নেতাকর্মীদের পকেটে যাবে বলেও আশংকা প্রকাশ করেন। বাজেটে বরাবরের মত কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখায় দুর্নীতিকে আরো উৎসাহিত করা হবে বলেও তারা মত প্রকাশ করেন।

বিবৃতিদাতারা হলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা মহানগর সভাপতি মুফতী আমানুল্লাহ, সহ সভাপতি মাওঃ মোজাফ্ফার হোসাইন, মুফতী মাহবুবুর রহমান, সেক্রেটারী শেখ মোঃ নাসির উদ্দিন, জয়েন্ট সেক্রেটারী মাওঃ দ্বীন ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম সজীব মোল্লা, সহ সাংগঠনিক মোল্লা রবিউল ইসলাম তুষার, প্রচার সম্পাদক মোঃ তরিকুল ইসলাম কাবির, সহ প্রচার আব্দুর রশীদ, দপ্তর সম্পাদক মোঃ শরিফুল ইসলাম, সহ দপ্তর মুফতী আমিরুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক মুক্তিযুদ্ধা জিএম কিবরিয়া, সহ অর্থ আলহাজ্ব মোমিনুল ইসলাম, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুফতী ইসহাক ফরীদি, সহ প্রশিক্ষণ মাওঃ হাফিজুর রহমান, ছাত্র ও যুব বিষয়ক মাওঃ ইমরান হোসাইন, শিক্ষা ও সংস্কৃতি ইঞ্জিনিয়ার এজাজ মানসুর, আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট কামাল হোসেন, কৃষি ও শ্রম বিষয়ক আলহাজ্ব আমজাদ হোসেন, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুস ছালাম, মহিলা ও পরিবার বিষয়ক ডাঃ মাওঃ নাসির উদ্দিন, সংখ্যালঘু বিষয়ক আলহাজ্ব আবু তাহের, নির্বাহী সদস্য মাওঃ শায়খুল ইসলাম বিন হাসান, মাওঃ সিরাজুল ইসলাম, আলহাজ্ব জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

মণিরামপুরে মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি :

যশোরের মণিরামপুরে শামছুদ্দিন গাজী নামে এক মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল চারটায় উপজেলার ডুমুরখালীতে নিজ বাড়িতে মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। দীর্ঘদিন ধরে জাতির এই বীর সন্তান বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন বলে জানিয়েছেন মণিরামপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার আলাউদ্দিন। শামছুদ্দিন গাজী ডুমুরখালী গ্রামের মৃত আজগার আলী গাজীর ছেলে। এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পারিবারিক করবস্থানে দাফন করা হয় মুক্তিযোদ্ধা শামছুদ্দিনকে। এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ শরিফীর উপস্থিতিতে পুলিশের একটি দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদর্শন করেন। জানাজায় কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাসহ স্থানীয়রা অংশ নেন।

মোড়েলগঞ্জ পৌরসভার খাসজমিতে অবৈধভাবে স্থায়ী ইমারত নির্মাণ

মোড়েলগঞ্জ প্রতিনিধি

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে ১১৬ নং মোড়েলগঞ্জ মৌজার এসএ খতিয়ান নং-৯৮২,৯৮৫ এস এ দাগনং ৩৬৬,৩৬৭ যার মালিক ১/১ খাস খতিয়ানের বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসক। উক্ত জমিতে মৃত: সিরাজ উদ্দিন তালুকদারের পুত্র আ: খালেক তালুকদার সম্পুর্ন অবৈধভাবে স্থায়ী পাকা ও সেমিপাকা ভবন নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা রয়েছে এ ধরনের খাস জমিতে কোন স্থায়ী ইমারত নির্মাণ করা যাবেনা। আ: খালেক তালুকদারের নামে মোড়েলগঞ্জ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী কর্তৃক দু’বার নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। যার স্বরণ নং-মোপৌ/২০২০/১০৬-০১, তারিখ-১৮.৫.২০২০, স্মারণ নং-২০২০/১১৩-০১, তারিখ-২৭.৫.২০২০। এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান মোড়েলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র এস,এম মনিরুল হক তালুকদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, একাধিকবার নোটিশ করা সত্ত্বেও তিনি কোন রকম ভ্রুক্ষেপ না করে অবৈধভাবে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় জনসাধারণ এ অবৈধ কার্যকলাপের আশু প্রতিকার চেয়েছেন। এ বিষয়ে পৌরসভা থেকে পৌর বিধি অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

নগর আ’লীগের শোক

খবর বিজ্ঞপ্তি

২৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি আনিছুর রহমান অনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনা করে বিবৃতি দিয়েছেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপি, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সিটি মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক, খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, খুলনা জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ হারুনুর রশীদ, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. সুজিত অধিকারী, সদর থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি এ্যাড. সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক কাউন্সিলর ফকির মো. সাইফুল ইসলাম, ২৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি চৌধুরী মিনহাজ উজ জামান সজল, সাধারণ সম্পাদক ফয়েজুল ইসলাম টিটো।