Home আন্তর্জাতিক আদিবাসী শ্রমিকের মুখে প্রস্রাব, পা ধুয়ে ক্ষমা চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী

আদিবাসী শ্রমিকের মুখে প্রস্রাব, পা ধুয়ে ক্ষমা চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী

13

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।

ভারতের মধ্যপ্রদেশে একজন আদিবাসী ব্যক্তির মুখে ও মাথায় মূত্রত্যাগ করার ঘটনায় দেশটিতে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। সেইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে চার্জ আনা হয়েছে। খবর বিবিসির।

এদিকে এ ঘটনায় দেশটির ক্ষমতাসীন সরকারের ভাবমূর্তিতে যাতে কোনো রকমের আঁচ না লাগে, তার জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ চৌহান পদক্ষেপ নিয়েছেন। ভুক্তভোগী আদিবাসী শ্রমিক দশমত রাওয়তের কাছে এই ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শিবরাজ চৌহান নিজেই দশমত রাওয়তকে তার বাসভবনে ডেকেছেন। এরপর তার হাত-পা ধুয়ে দেন। পরিয়ে দেন উত্তরীয়। সেইসঙ্গে দিয়েছেন কিছু উপহার। এ ছাড়া নিজের হাতে শিবরাজ দশমতকে খাইয়ে দেন।

ইতিমধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে

দশমতকে বাসভবনে ডেকে ‘অতিথি আপ্যায়নের’ পুরো ঘটনা নিজের টুইটারে শেয়ার করেছেন শিবরাজ। এ ঘটনায় কিছুটা হতচকিত হন দশমত। মুখ্যমন্ত্রী তার জুতা খুলতে যাওয়ায় দশমত ইতস্তত বোধ করেন। যদিও শিবরাজ অনেকটা জোর করেই জুতা খুলে নেন।

সেইসময় দশমতকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ওই ঘটনার ভিডিও দেখে অত্যন্ত ব্যথিত। আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। আপনাদের মতো মানুষই আমার কাছে ঈশ্বর।

ওই ঘটনার ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি সিগারেট খেতে খেতে মাটিতে বসে থাকা একজন আদিবাসী ব্যক্তির গায়ে ভাবলেশহীন ভঙ্গীতে প্রস্রাব করে যাচ্ছেন। ওই ব্যক্তিকে পরভেশ শুক্লা নামে চিহ্নিত করা হয়।

দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস দাবি করেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি শাসক দল বিজেপির একজন নেতার ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তবে বিজেপি এই দাবি অস্বীকার করে। তারা বলেছে, দলের সঙ্গে ওই ব্যক্তির কোনো সম্পর্কই নেই।

এই ঘটনা নিয়ে তুমুল রাজনৈতিক বিতর্কের পর মধ্যপ্রদেশের বিজেপি সরকার অবশেষে গতকাল বুধবার ভোররাতের একটু আগে ওই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।

মধ্যপ্রদেশ পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারি এড়াতে গত বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে পরভেশ শুক্লা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। কিন্তু এদিন রাত ২ টার দিকে তিনি পুলিশের জালে ধরা পড়ে যান।

অভিযুক্ত ব্যক্তিকে এখন পুলিশ জেরা করছে। তার বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইন ছাড়াও এসসি/এসটি অ্যাক্ট (তফসিলি আইন) ও ইন্ডিয়ান পিনাল কোডের অন্যান্য ধারাতেও চার্জ আনা হয়েছে।