স্টাফ রিপোর্টের।।
নগরীর আড়ংঘাটা গ্রাহকের প্রায় ২ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট একটি শাখা প্রধান সোহেল শেখ আত্মগোপন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে বিপাকে পড়েছেন ডাচ বাংলা এজেন্ট ব্যাংক কয়েক হাজার গ্রাহক। প্রতারণার ফাঁদে পড়ে কয়েক কোটি টাকা হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ গ্রাহকেরা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নগরীর আড়ংঘাটা থানাধীন তেলিগাতী বুচিতলা গ্রামের শুকুর আলী ছেলে সোহেল শেখ, ২০১৮ সালে আড়ংঘাটা বাজারে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করেন। প্রতিষ্ঠানে অফিস কর্মচারীসহ বিভিন্ন অঞ্চলভিত্তিক মাঠকর্মী নিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আদলে ৬ বছরে দ্বিগুণ ও দশ বছরে তিনগুণ মুনাফা দেয়ার ঘোষণা দিয়ে মেয়াদি আমানত (এফডিআর), মাসিক আমানত (এমএসএস) এবং ক্ষুদ্র পরিসরে ঋণ বিতরণ কর্মসূচির কাজ শুরু করেন সোহেল।
বর্তমানে সোহেল শেখ এজেন্ট ব্যাংক কয়েক হাজার গ্রাহক সংখ্যা রয়েছে। এছাড়া এ পর্যন্ত কয়েকশত ব্যক্তি বিভিন্ন মেয়াদে স্থায়ী আমানত হিসাবে লাখ টাকা জমা করেছেন।
প্রতিষ্ঠানের প্রধান সোহেল শেখ, ম্যানেজার মোঃ হান্নান , টেইলার পলি বেগম আত্মগোপনে থাকায় আড়ংঘাটা ডাচ বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার এফডিআর কয়েক হাজার গ্রাহক তাদের আমানত ও সঞ্চয়ের প্রায় ২ কোটিরও বেশি টাকা নিয়ে শংকিত হয়ে পড়েছেন।
মুক্তি বেগম নামে এক (গৃহিণী) ভুক্তভোগী গ্রাহক জানান, লাভের আশায় তার সঞ্চিত অর্থ গচ্ছিত রেখেছিল ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখায়। মাসিক ১০০০ টাকা লাভ দেওয়ার কথা বলে সোহেল তার থেকে ২ লাখ টাকা গ্রহণ করে। টাকার গ্যারান্টি স্বরূপ সোহেলের স্বাক্ষরিত দুইশত টাকার স্ট্যাম্পে লেখাপড়া করে দেওয়া হয়। অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত তিনি। কামাল হোসেন জানান, দীর্ঘ সময় ধরে সোহেল শেখ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ার মধ্য দিয়ে কার্যক্রম ও স্থানীয় কর্মী নিয়োগ এবং ডাচ্ বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা পরিচালনা করে এলাকার মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে সক্ষম হয় প্রতারক সোহেল। বাজারের ব্যবসায়ীরা ব্যবসায় মূলধনের বিনিয়োগের পাশাপাশি তার প্রতিষ্ঠানগুলোতে লাখ লাখ টাকা গচ্ছিত রাখে। এলাকার ছোট ছোট দোকানদার, ব্যবসায়ী, ভ্যান-চালক, কুলি-মজুরীসহ নিম্ন আয়ের লোকজন তাদের সকল গচ্ছিত ও সঞ্চয়কৃত টাকার নিরাপদ স্থান হিসাবে এখানে বিনিয়োগ করে। এখন সোহেল শেখ প্রতারণার ফাদে পড়ে নিঃস্ব হতে চলেছে গ্রাহকরা।
খুলনা ডাচ-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকের এরিয়া ম্যানেজার মোঃ সোহেল রানা গত ৭ ফেব্রুয়ারি ডাচ বাংলা এজেন্ট ব্যাংকে আড়ংঘাটা এসেছিলেন এবং তিনি এফডিআর বাবদ নগদ টাকা নিয়ে গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে জমা না করা জন্য প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার সোহেল শেখ কে কারণ দর্শনের জন্য ৭ দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে সতর্কীকরণ নোটিশ দিয়ে যান। তবে সোহেল’র অনুপস্থিতে নোটিশটি প্রতিষ্ঠান সামনে টানিয়ে দিয়ে যান। সোহেল শেখ পলাতক থাকায় ব্যাংক বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য আড়ংঘাটা এজেন্ট ব্যাংকিং এর কর্ণধর সোহেল শেখ ব্যবহৃত ফোনে (০১৭৬৪২১১৭০৩) একাধিকবার ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে এজেন্ট ব্যাংকের তদারকিতে থাকা ব্যাংকটির এরিয়া ম্যানেজার মোঃ সোহেল রানা জানান, আমি ব্যাংক টি ভিজিট করে সকল ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন করেছি। উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ অনেকের সাথে কথা বলেছি। অনিয়ম ধরা পড়ার পরে সোহেল শেখ কে নোটিশ পাঠিয়েছিলাম এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি । তবে সোহেল শেখ পলাতক। পরবর্তীতে কী হয়েছে সেটা সম্পর্ক অজ্ঞাত জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ব্যাংক ব্যতিত অন্য প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতিতে সোহেল শেখ ব্যাংককে ব্যবহার করার চেষ্টা করে অনৈতিক কিছু করে থাকলে তার দায় তাকেই নিতে হবে। এজন্য ব্যাংকের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই।
এ বিষয়ে আড়ংঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, এ ব্যাপারে আমি কিছু দিন আগে জেনেছি। তবে এখনও কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত পূর্বক অভিযুক্ত সোহেল শেখ বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।








































