Home জাতীয় বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচিতে পুলিশ ও সরকার দলীয়দের হামলা-বাধা

বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচিতে পুলিশ ও সরকার দলীয়দের হামলা-বাধা

27
যশোরে বিএনপি নেতা অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ

স্টাফ রিপোর্টার||
গ্যাস, বিদ্যুৎ, চাল, ডাল, তেল, আটাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও সার, ডিজেলসহ কৃষি উপকরণের লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, সরকারের পদত্যাগ, বেগম খালেদা জিয়া ও নেতাকর্মীদের মুক্তিসহ দশ দফা দাবিতে গতকাল শনিবার সারাদেশের ইউনিয়নে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। পূর্বঘোষিত এ কর্মসূচিতে সরকার দলীয়দের হামলার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিচার্জে কয়েকশত নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এছাড়া গ্রেফতার করা হয়েছে শতাধিক নেতাকর্মীকে। এমন অভিযোগ বিএনপির। তাদের অভিযোগ, অনেকস্থানে বিএনপির স্টেজ দখলে নিয়ে পাল্টা কর্মসূচি করেছে আওয়ামী লীগ।
খুলনা: খুলনার বিভিন্ন ইউনিয়নে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। তবে পাইকগাছা ও রূপসায় বাধা ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। ডুমুরিয়ায় বাধার মুখে কর্মসূচি পন্ড হয়ে যায় বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক আবু হোসেন বাবু অভিযোগ করে বলেন, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ডুমুরিয়া উপজেলা সদরে পদযাত্রা শুরু করে ইউনিয়ন বিএনপি। এর পরপরই পুলিশ তাদের পদযাত্রায় বাধা দেয়। এছাড়া রূপসা উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের দেয়াড়া এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীরা পদযাত্রা শুরু করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এসময় নেতাকর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ করার পাশাপাশি ধাওয়া দেওয়া হয় ও ব্যানার কেড়ে নেয় পুলিশ। এসময় পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে অন্যান্য স্থানে কর্মসূচি পালন করেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। যদিও বিএনপির কর্মসূচিতে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি বলে জানান রূপসা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সরদার মোশাররফ হোসেন। এসব কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমীর এজাজ খান, যুগ্ম-আহ্বায়ক আবু হোসেন বাবুসহ আরও অনেকে। এদিকে শনিবার বিকেল ৩ টায় যোগীপোল ইউনিয়নের শিরোমনি বাজার থেকে পদযাত্রা শুরু হয়। খুলনা-যশোর মহাসড়ক ধরে ফুলবাড়ীগেট হয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মিছিলটি কুয়েট গেটে পৌঁছায়। যোগীপোল ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক আবু সাঈদ হাওলাদার আব্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহানগর বিএনপির আহবায়ক এডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা বলেন, সরকার পতনের এক দফার আন্দোলন আসছে। কঠোর ও চূড়ান্ত সেই আন্দোলনে বিজয়ী হতে দলীয় নেতা-কর্মীদের সর্বো”চ ত্যাগ স্বীকারে প্র¯‘ত থাকার আহবান জানান।
মনা বলেন, সরকারের লুটপাটের কারণে বাজারে প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়েছে। জনজীবনে নাভিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ মুক্তির জন্য ছটফট করছে। সরকার প্রতিহিংসার শিকার হয়ে দেশনেত্রীকে কারাগারে পাঠিয়েছে। খুব শিগগিরই দু:শাসনের অবসান ঘটবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।
পদযাত্রা কর্মসূচিতে বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কদের মধ্যে এস এ রহমান বাবুল, বদরুল আনাম খান, চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, একরামুল হক হেলাল, শেখ সাদীসহ মহানগর ও জেলা বিএনপির সদস্যবৃন্দ, ইউনিয়ন, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, সেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল ও মহিলা দলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী মিছিল সহ অংশ নেন। এদিকে বিকেল ৫টায় আড়ংঘাটা ইউনিয়নে পদযাত্রা হয় অনুষ্ঠিত হয়। তবে পাইকগাছা ও রূপসায় বাধা ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। ডুমুরিয়ায় বাধার মুখে কর্মসূচি পন্ড হয়ে যায় বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
যশোর : যশোরে সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়ন ও ফতেপুর ইউনিয়নে বিএনপির পদযাত্রায় পুলিশের লাঠিপেটায় কর্মসূচি পন্ড হয়ে গেছে। শনিবার দুপুরে এসব ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পদযাত্রা থেকে বিএনপির দুই কর্মীকে পুলিশ আটক করেছে বলে দাবি করছেন বিএনপির স্থানীয় নেতারা। বিএনপির নেতা-কর্মীদের ভাষ্য, আজ বেলা তিনটার দিকে নওয়াপাড়া ইউনিয়নের বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে বিএনপির নেতা-কর্মীরা ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে জড়ো হন। কিছুক্ষণের মধ্যে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য তরিকুল ইসলামের স্ত্রী যশোর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নার্গিস বেগম সেখানে পৌঁছান। পরে বাহাদুরপুর এলাকা থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা পদযাত্রা বের করেন। পদযাত্রা নিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরা নওয়াপাড়া মেহগনি মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় পুলিশ নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে ব্যানার কেড়ে নেয়। পরে ব্যানার ছাড়াই পদযাত্রা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন নেতা-কর্মীরা। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সামনে পৌঁছালে পুলিশ লাঠিপেটা করে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় নেতা-কর্মীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। এ সময় সেখান থেকে এক কর্মীকে আটক করে পুলিশ।
পদযাত্রাটি শহরের শেখহাটি হাইকোর্ট মোড়ে গিয়ে সংক্ষিপ্ত পথসভার মধ্য দিয়ে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে পুলিশি বাধার মুখে পদযাত্রা পন্ড হয়ে যায়। যশোর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নার্গিস বেগম বলেন, শান্তিপূর্ণ পদযাত্রাও সরকার সহ্য করতে পারছে না। আমরা পদযাত্রা থেকে স্লোগানও দিইনি। শুধু ১০ দফা দাবিসংবলিত প্রচারপত্র পথচারী ও দোকানে দোকানে বিলি করা হয়েছে। এতেই পুলিশ পেছন থেকে অতর্কিত আমাদের লাঠিপেটা করে পদযাত্রা পন্ড করে দেয়। এ সময় একজন কর্মীকে আটক করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আটক ওই কর্মীর পরিচয় জানাতে পারেনি বিএনপি।
এদিকে একই সময়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মরহুম তরিকুল ইসলামের ছেলে খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলামের নেতৃত্বে ফতেপুর ইউনিয়নে পদযাত্রা বের হয়। পদযাত্রাটি যশোর-নড়াইল সড়কের দায়তলা এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ প্রথমে তাঁদের বাধা দেয়। এ সময় পুলিশ ও নেতা-কর্মীদের মধ্যে বাগ্বিত-া হয়। এর একপর্যায়ে পুলিশ বিএনপির নেতা-কর্মীদের লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় নেতা-কর্মীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে পাল্টা ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। এ সময় যুবদলের এক নেতাকে পুলিশ আটক করে বলে দাবি করছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। আটকের বিষয়ে জানতে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) জুয়েল ইমরান ও কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। তবে তারা কেউ সাড়া দেননি। এদিকে কর্মসূচির আগে গতকাল শুক্রবার রাতে সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বিএনপির ১২ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিএনপি নেতাদের দাবি, বিএনপির কর্মসূচি প- করার জন্য পুলিশ নেতা-কর্মীদের ধরপাকড় করেছে।
বাগেরহাট : সকাল ১০ টায় বাগেরহাট সদর উপজেলার ষাটগম্বুজ ইউনিয়নের শ্রীঘাট বাজার থেকে এ পদযাত্রা শুরু হয়। বাগেরহাট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালাম এর নেতৃত্বে শ্রীঘাট বাজার থেকে শুরু হওয়া এ পদযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য শাহেদ আলী রবি, হাদিউজ্জামান হিরো, কৃষক দলের আহবায়ক আওসাফুদ্দৌলা জুয়েল, ছাত্র দলের সাধারন সম্পাদক আলী সাদ্দাম দীপ, বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ বুলু, জেলা শ্রমিক দলের সাধারন সম্পাদক আবু হানিফ, পৌর যুবদরের আহবায়ক জসিম ইদ্দিন, সদস্য সচিব ওমর আরী মুন্না, ছাত্রদলের সদর উপজেলা সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান হাবিব, ছাত্র নেতা মোঃ সাদ্দাম হোসেন, শ্রমিক নেতা মোঃ মোজাম, মোঃ মিলন, মোঃ মিঠু, বিএনপি নেতা মোঃ নাসির উদ্দিন, প্রমুখ। বাগেরহাট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালাম জানান, বাগেরহাট ও কচুয়া উপজেলার ১৭ টি ইউনিয়নে অনুরুপ পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কাপাসিয়া (গাজীপুর): কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ্ রিয়াজুল হান্নান রিয়াজ এবং সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা’র দিকনির্দেশনায় উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করেছেন। ইউনিয়ন পর্যায়ে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, কৃষকদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, ওলামা দল, মহিলা দল সহ সকল অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতা-কর্মীরা জড়ো হয়ে ব্যানার সম্বলিত বিভিন্ন শ্লোগান সহকারে মিছিল করেন।

উপজেলার কাপাসিয়া সদর ইউনিয়ন বিএনপি ও সকল অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীরা সকালে ঢাকা সড়কের সূর্য্য নারায়নপুর নতুন বাজারে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করেছে। এসময় সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সেলিম হোসেন আরজুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আজগর হোসেন খানের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আফজল হোসেন বেপারী। এসময় অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এফ এম কামাল হোসেন, জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ফকির ইস্কান্দার আলম জানু, বিএনপি নেতা অ্যাড. আজিজুল হক বাবুল, নুর উদ্দিন, জহিরুল ইসলাম ফকির, আমিনুর রহমান, মেহেদী হাসান বা”চু, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক ফরিদুল আলম বুলু, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন শিশির, যুবদল নেতা মহিবুর রহমান, আশরাফুল আলম সোহেল, নুরুজ্জামান, মীর মাসুম প্রমূখ। এছাড়া তরগাঁও, টোক, সিংহশ্রী, রায়েদ, বারিষাব, ঘাগটিয়া, সনমানিয়া, কড়িহাতা, দূর্গাপুর, চাঁদপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে দলীয় নেতা-কর্মীরা পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করেছেন।
সৈয়দপুর : সারাদেশের মত নীলফামারীর সৈয়দপুরেও বিএনপির পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বিকালে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচির আলোকে উপজেলার বোতলাগাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে পদযাত্রা বের হয়ে পোড়ারহাট বাজারে সমাপ্ত হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন রংপুর বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক, বিশেষ অতিথি সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সদস্য সচিব শাহীন আকতার শাহীন। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল খালেক, জেলা যুবদলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন প্রামানিক, সৈয়দপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ বাবলু, উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম কার্জন, সহ সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেদুজ্জামান সরকার দিনার প্রমুখ।
সিলেট: সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, আওয়ামী লীগ অগণতান্ত্রিক ও গণবিরোধী কার্যকলাপ, ভয়াবহ দুর্নীতি ও লুটপাট, প্রশাসন সহ সর্বক্ষেত্রে দলীয়করণ, ভোটাধিকার, মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতা হরণ এবং দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাট করা হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের ফলে গোটা দেশ আজ বিপর্যস্ত। চাল, ডাল, তেল, আটা, ময়দা, লবন, চিনি সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য আজ আকাশচুম্বী। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও এলপিজি গ্যাসের দাম বার বার বাড়ানো হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের মানুষ আজ ঠিক মত তিনবেলা খেতে পারছে না, নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছে না। ডলারের অভাবে পণ্য আমদানি করা যাচ্ছে না। এমতাবস্থায় দেশের সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে বিএনপি ১০ দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন করছে। এই দাবি বিএনপির একার নয়, এই দাবি দেশের সাধারণ মানুষের। তাই এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে অভিলম্বে পদত্যাগ করে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে সংসদ নির্বাচন দিতে হবে। ১০ দফা দাবি বাস্তবায়ন না করে বিএনপির কর্মীরা ঘরে ফিরে যাবে না।
শনিবার সদর উপজেলার টুকেরবাজার, দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বরইকান্দি ও সিলাম এবং বালাগঞ্জ উপজেলার দেওয়ানবাজার ইউনিয়নে ১০ দফা দাবিতে পৃথক পৃথক পদযাত্রা কর্মসূচিতে যোগদানকালে সমবেত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, দেশের মানুষ আজ জেগে উঠেছে। ১০ দফাদাবি মেনে নিয়ে দেশের গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, বাকস্বাধীনতা ও দেশের মালিকানা জনগণকে ফিরিয়ে না দিলে চূড়ান্ত আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে। তখন আর পালাবার রাস্তাও খোঁজে পাবে না। দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির পদযাত্রায় জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী সাথে অংশগ্রহণ করেন- জেলা বিএনপি নেতা ইকবাল বাহার চৌধুরী, বিএনপি নেতা তাজরুল ইসলাম তাজুল, জেলা বিএনপি নেতা এডভোকেট হাসান আহমদ পাটোয়ারী রিপন, সিলেট জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমদ, কামরুল হাসান শাহীন, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কোহিনূর আহমেদ, জেলা বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন মানিক এডভোকেট আবু তাহের, এডভোকেট আল আছলাম মুমিন, লোকমান আহমদ, কামরুজ্জামান দিপু প্রমুখ।
বালাগঞ্জ উপজেলার দেওয়ানবাজার ইউনিয়ন বিএনপির পদযাত্রায় জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী সাথে অংশগ্রহণ করেন- গোলাম রব্বানী, ব্যারিস্টার রিয়াসাদ আজিম হক আদনান, নজমুলম আলম নজম চেয়ারম্যান, তোফায়েল আহমদ সোহেল, অর্জুন ঘোষ, মাহবুব আলম, জি.এম বাপ্পি, শাহিন আলম জয়, সাইফুল ইসলাম সেফুল, চুনু মিয়া, দেওয়ান বাজার ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাদি, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলম পিন্টু, আবুল কাশেম, রাসেল আহমদ, সালমান আহমদ, ইজলাল আহমদ প্রমুখ।
দক্ষিণ সুরমার সিলাম ইউনিয়ন বিএনপির পদযাত্রায় জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী সাথে অতিথি হিসেবে যোগদান করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী। পদযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন বিএনপি নেতা তাজরুল ইসলাম তাজুল, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কোহিনূর আহমেদ, আসাদ উদ্দিন, মাহবুব আলম, মনিরুল ইসলাম তুরন, আব্দুল মালিক মল্লিক, বাবর আহমদ রনি,শাহিন আলম জয়,আবুল কাশেম,পাবেল রহমান, আল মামুন, জুবায়ের আহমদ লিলু, শাহ টিপু সুলতান, আজহার আলী অনিক, আল আমিন, সাহেদ আহমদ, নামর আলী, সালেহ আহমেদ, জুয়েল আহমেদ প্রমূখ।
সিলেট সদর উপজেলার টুকের বাজার ইউনিয়ন বিএনপির পদযাত্রায় জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী সাথে অংশগ্রহন করেন জেলা বিএনপি নেতা তারেক কালাম, শহীদ চেয়ারম্যান, আব্দুল আহাদ খান জামাল, শাকিল মার্শেদ, আব্দুর রহমান, আলতাফ হোসেন সুমন, দেলোয়ার হোসেন দিনার প্রমূখ। উল্লেখ্য, অনুরুপভাবে সিলেট জেলার ১৩ উপজেলার ১০৮ টি ইউনিয়নে ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে দিনব্যাপী পদযাত্রা কর্মসূচি পালিত হয়। প্রতিটি কর্মসূচিতে সিলেট জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এসব পদযাত্রায় বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ছাড়াও শত শত সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
জামালপুর : জামালপুরের সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগ-বিএনপির সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশসহ উভয়পক্ষের অন্তত ৪৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এসময় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। দুপুরে সদর উপজেলার তিতপল্লা ইউনিয়নের কামালখান বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, দুপুরে উপজেলার তিতপল্লা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ এবং ইউনিয়ন বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচি চলছিল। এসময় উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। এসময় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শটগানের গুলী ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির প্রস্তুতিকালে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করেন। পরে পুলিশ গিয়ে গুলী ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় বিএনপির ৩৫ জন নেতাকর্মী আহত হন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী শাহনেওয়াজ বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৩৪ রাউন্ড রাবার বুলেট ও চার রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়। এ ঘটনায় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হযরত আলীসহ ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
নাটোর : নাটোরে মিছিল বের করার ফাঁকেই বিএনপির পদযাত্রা মঞ্চ দখল করে শান্তি সমাবেশ করেছেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। শনিবার সকালে নাটোর সদর উপজেলার ছাতনী ইউনিয়নের দিয়াড় মাদরাসাঘাট বটতলা মোড়ে এ ঘটনা ঘটেছে। সকাল আটটার দিকে ছাতনী ইউনিয়নের দিয়াড় মাদ্রাসাঘাট বটতলা মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা দল দলে বটতলা মোড়ে সমবেত হচ্ছে। সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় নেতারা পদযাত্রা শুরু আগে বক্তব্য দিতে শুরু করেন। এ সময় জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম ও পৌর বিএনপির সদস্যসচিব জিল্লুর রহমান খান চৌধুরী সেখানে বক্তব্য দেন। বক্তব্য শেষে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জালাল উদ্দিন মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বিএনপির নেতাকর্মীদের ছাতনী উচ্চবিদ্যালয় পর্যন্ত পদযাত্রা করে আবার বটতলা মঞ্চে ফিরে আসার আহ্বান জানান। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ছয় শতাধিক নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে বিএনপি ব্যানার নিয়ে পদযাত্রা শুরু করে। তবে বিএনপির নেতা–কর্মীরা ছাতনী উচ্চবিদ্যালয়ে পৌঁছানোর আগেই পেছনের রাস্তা দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা শ্লোগান দিতে দিতে বিএনপির পদযাত্রা মঞ্চ দখল করে নেন। এর পর সেখানে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সমাবেশ শুরু করেন। ওই সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও ছাতনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন সরকার, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি দুলাল সরকার ও সাধারণ সম্পাদক দুলাল মন্ডল, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি এমরান সরকার প্রমুখ।
দিয়াড় মাদরাসাঘাট বটতলা মোড়ের অন্তত সাতজন দোকানদার বলেন, আওয়ামী লীগ মঞ্চ দখল করে নেওয়ার খবর পেয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরা পদযাত্রা শেষ না করেই মঞ্চের দিকে ফিরে আসতে শুরু করেন। এ সময় সংঘর্ষের আশঙ্কায় আশপাশের লোকজন বটতলা এলাকা থেকে সরে যান। তবে বিএনপি নেতা-কর্মীরা ছাতনী-নাটোর সড়কে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নেন। পরে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা সমাবেশ শেষ করে মোটরসাইকেল নিয়ে মির্জাপুরের দিকে চলে যান। তবে পুরো ঘটনার সময় সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাউকে দেখা যায়নি।
ছাতনী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসানুজ্জামান বলেন, সকালে আওয়ামী লীগ ছাতনী ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের সামনে শান্তি সমাবেশ শুরু করেছিল। তাই সেখান থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে বটতলা মোড়ে বিএনপি কর্মসূচি দিয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা নির্ধারিত স্থান থেকে উঠে এসে তাঁদের মঞ্চ দখল করে সমাবেশ করে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে বিএনপির নেতা-কর্মীরা কাউকে বাধা দেননি। তবে বিএনপির পদযাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে হাবুর মোড়, প-িতগ্রাম ও বারঘরিয়া মোড়ে অবস্থান নিয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বিএনপির লোকজনকে সড়কে উঠতে দেননি। পরে তারা বিকল্প রাস্তা দিয়ে পদযাত্রায় অংশ নিয়েছেন।
নাটোর : নাটোরের গুরুদাসপুরে পদযাত্রা কর্মসূচি থেকে বাড়িতে ফেরার পথে বিএনপির স্থানীয় দুই নেতার ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। শনিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের ভাঙামসজিদ এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে। বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবি, গুরুদাসপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিনের নেতৃত্বে এ হামলা হয়েছে। আহত দুই নেতা হলেন গুরুদাসপুর পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ শহিদুল ইসলাম (৫৫) ও উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহিন কাওছার (৪৫)। গুরুদাসপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল আজিজ অভিযোগ করে বলেন, ধারাবারিষা ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষে বিন্নাবাড়িবাজারে বিএনপির পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। দলীয় কর্মসূচি শেষে নেতা-কর্মীরা বাড়ি ফেরার পথে ভাঙামসজিদ এলাকায় পৌঁছালে আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মতিনের নেতৃত্বে ১৫-২০টি মোটরসাইকেলে ৩০-৪০ জনের একটি দল তাঁদের ওপর হামলা চালায়। ওই সময় অন্যরা পালিয়ে গেলেও শহিদুল ইসলাম ও শাহিন কাওছারকে আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা বেধড়ক মারধর করেন। একপর্যায়ে শহিদুল ইসলাম ও শাহিন কাওছার অচেতন হয়ে সড়কের ওপর পড়ে থাকলে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তবে তাদের নিরাপত্তার কারণে হাসপাতালে না রেখে বাড়িতেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন আবদুল আজিজ। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আবদুল মতিন বলেন, হামলার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তবে বিএনপির আহত কর্মীরা আওয়ামী লীগের শান্তি মিছিলের রোষানলে পড়তে পারেন।

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মতিন বলেন, এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোলা : ভোলার পাঁচটি উপজেলায় বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতারা। তাদের দাবি, হামলায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তবে গ্রেপ্তার বা আবার হামলা এড়াতে আহত ব্যক্তিরা কেউ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে যাননি। আওয়ামী লীগের নেতারা দাবি করেছেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ সত্য নয়। তবে শান্তি সমাবেশের জন্য মাঠে আছেন তারা। পুলিশও জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।
ভোলার মনপুরা উপজেলার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিলন মাতব্বর বলেন, আজ সকাল সাড়ে নয়টার দিকে মনপুরা উপজেলার হাজিরহাট বাজারের উত্তর মাথা থেকে হাজিরহাট ইউনিয়ন বিএনপি পদযাত্রা বের করে দক্ষিণে যায়। এতে ২০০ নেতা-কর্মী অংশ নেন। পদযাত্রা শেষে বাড়ি যাওয়ার পথে আওয়ামী লীগের কর্মীরা হাজিরহাট ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইউনুসকে হাজিরহাট বাজারে ও যুবদল নেতা মাকসুদুর রহমানকে বান্দেরহাট এলাকায় পিটিয়ে জখম করেন। তারা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। তজুমদ্দিন উপজেলার যুবদলের সভাপতি নাসির উদ্দিন দুলাল অভিযোগ করেন, উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের আড়ালিয়া থেকে সকাল পৌনে ১০টার দিকে বিএনপি একটি পদযাত্রা বের করে। পদযাত্রাটি সম্ভুপুর ইউনিয়নের ভুবনঠাকুর বাজার পর্যন্ত গিয়ে ফেরার পথে হামলার শিকার হয়। আওয়ামী লীগের কর্মীরা শান্তি সমাবেশে যোগ দেওয়ার নাম করে মিছিল বের করে তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ৪৫ জনকে আহত করা হয়েছে। আটক হওয়ার আতঙ্কে কেউ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেননি। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা বিএনপির সহসাধারণ সম্পাদক মো. সরোয়ার আলম অভিযোগ করেন, সকাল সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলার পক্ষিয়া ও সাচড়া ইউনিয়নে পদযাত্রা বের করে বিএনপি। এ সময় আওয়ামী লীগের লোকজন হামলা করে সাচড়া ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সহসভাপতি মিরাজ শরীফ, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আল আমিন এবং পক্ষিয়া যুবদলের সহসভাপতি মো. ফরিদকে পিটিয়ে আহত করেছেন। তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ ছাড়া ভোলা সদর উপজেলা এবং দৌলতখান উপজেলা বিএনপির নেতারাও তাদের এলাকায় পদযাত্রা কর্মসূচিতে হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলে বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচিতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের কর্মীরা হামলার সঙ্গে জড়িত। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের ছোট বাসালিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এদিকে সদর উপজেলার করটিয়া মসজিদ রোড এলাকায় বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচি থেকে সরকারি সা’দত কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাদিদুল ইসলাম ও যুবদল কর্মী মাকসুদকে আটক করেছে পুলিশ। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল বলেন, দুপুরে মগড়া ইউনিয়নের ছোট বাসালিয়া এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীরা পদযাত্রা কর্মসূচি শুরু করেন। এ সময় আওয়ামী লীগের কর্মীরা তাদের ওপর হামলার করেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের হামলায় যুবদল কর্মী জীবন ও ছাত্রদল কর্মী সিদ্দিক হোসেন আহত হন। তাদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির দুই কর্মী আটক প্রসঙ্গে ফরহাদ ইকবাল বলেন, সদর উপজেলার করটিয়া মসজিদ রোড থেকে বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচি উপলক্ষে মিছিল বের করার চেষ্টা করেন। পাশেই শহীদ মিনারে আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ চলছিল। বিএনপির মিছিলটি বের হওয়ার পরই পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে ওই মিছিল থেকে সরকারি সা’দত কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাদিদুল ইসলাম এবং যুবদল কর্মী মাকসুদকে পুলিশকে আটক করে। এর আগে শুক্রবার রাতে সরকারি সা’দত কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদুল মান্নানকে পুলিশ আটক করে।

নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচির সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। শনিবার দুপুরে উপজেলার পাঁচরুখি বাজার এলাকায় নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচির সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। শনিবার বেলা একটার দিকে উপজেলার সাতগ্রাম ইউনিয়নের পাঁচরুখী বাজার এলাকার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দলটির ইউনিয়ন পর্যায়ের কর্মসূচি চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। বিএনপির নেতাদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ পদযাত্রায় পুলিশ বিনা উসকানিতে শটগান ও রাইফেল থেকে গুলী চালিয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, মহাসড়কে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি না করার অনুরোধ জানালে বিএনপির নেতা–কর্মীরা পুলিশের ওপর চড়াও হন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়েছে। সংঘর্ষে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ১২ জন নেতাকর্মী ও পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে বিএনপির আটজন নেতাকর্মীর নাম জানা গেছে। তারা হলেন সাতগ্রাম ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো. নাহিদ মোল্লা, কর্মী মো. ফারুক, বাবু, সোহাগ, ফাহিম, মাসুম, যুবদলের হাবিবুর রহমান ও স্বেচ্ছাসেবক দলের তানভীর আহমেদ। এ ছাড়া আড়াইহাজার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নূর আলম, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সৈয়দ আলী ও কনস্টেবল মো. আলমগীর আহত হয়েছেন। আহত পুলিশ সদস্যদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিএনপি নেতা–কর্মীদের স্থানীয় বিভিন্ন বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল হক বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা পদযাত্রার নামে সড়ক অবরোধ করে রেখেছিলেন। এ সময় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। আমরা তাদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করি। তারা অনুরোধ না শুনে পুলিশের ওপর চড়াও হন। তখন অ্যাকশনে যায় পুলিশ। বিএনপি নেতা-কর্মীরা পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল ছুড়লে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে ৪০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এতে তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা না হলেও পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করবে। শটগান ও রাইফেল থেকে গুলী ছোড়ার অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি আজিজুল হক বলেন, শটগান বা রাইফেল থেকে কোনো গুলী ছোড়া হয়নি।
জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক লুৎফর রহমান বলেন, শান্তিপূর্ণ পদযাত্রায় পুলিশ অতর্কিত হামলার পর গুলী চালিয়েছে। তারা রাবার বুলেটের পাশাপাশি শটগান ও রাইফেল দিয়ে গুলী ছুড়েছে। তবে কারও গায়ে গুলী লাগেনি। ছাত্রদল নেতা নাহিদ মোল্লাসহ কয়েক জনের শরীরে রাবার বুলেট লেগেছে। কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুপুরে পাঁচরুখি বাজার থেকে সাতগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপি পদযাত্রা শুরু করে। এ সময় কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ–আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলামসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কয়েক শ নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
বরগুনা : বরগুনার পাথরঘাটায় বিএনপির ১০ দফা দাবি ও ২৭ দফা প্রস্তাবের লিফলেট বিতরণের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে এ হামলায় বিএনপির সাত নেতা আহত হয়েছেন। এ সময় কার্যালয়ের কয়েকটি চেয়ার ভাঙচুর করা হয়। আহত নেতারা হলেন পাথরঘাটা পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুম বিল্লাহ, পৌর বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক এরফান আহমেদ, উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান আকন, পাথরঘাটা পৌর বিএনপির ৯ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সভাপতি আলমগীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেন, পাথরঘাটা পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব খায়রুল শরীফ ও উপজেলা যুবদলের সদস্য সাঈদ বেল্লাল। তাদের মধ্যে মাসুম বিল্লাহকে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অপর ছয়জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে অবস্থান করছেন।

উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত নেতা–কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত পদযাত্রা ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য দলীয় কার্যালয় জড়ো হচ্ছিলেন নেতাকর্মীরা। এ সময় উপজেলা ও পৌর ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা লিফলেট বিতরণে নামতে বাধা দেন। একপর্যায়ে পৌর বিএনপি নেতা–কর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়লে ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা তাঁদের ওপর হামলা করেন। এতে পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুম বিল্লাহসহ সাত নেতা আহত হন। এ সময় বিএনপি কার্যালয়ের চারটি চেয়ারও ভাঙচুর করা হয়। পৌর বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক এরফান আহমেদ বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয় জড়ো হচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অফিসে ঢুকে চেয়ার ভাঙচুর করে। এরপর দফায় দফায় তাদের ওপর হামলা চালায়।
সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় ইউনিয়ন পর্যায়ে পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৯ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় ১২টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও তিনটিতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: হুমায়ুন কবির জানান, শনিবার সকাল ১০টার দিকে পাইকপাড়িয়া বাজারে বিকেলে আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি সভা চলাকালে বিএনপির মিছিল থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। একপর্যায়ে উভয় গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করে। ওসি আরো বলেন, মোট ১২টি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অন্য তিনটিতে আগুন দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলা দায়ের করা হবে বলেও জানান তিনি। ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো: মনিরুল ইসলাম মনির দাবি করেন, আওয়ামী লীগের সভা থেকে তাদের মিছিলে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়েছে।
রাজশাহী: গতকাল শনিবার কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজশাহী জেলার অধীন ৭২টি ইউনিয়নে বিএনপির উদ্যোগে বিকেল ৩টা থেকে ‘ইউনিয়ন পদযাত্রা’ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বাঘায় পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং মোহনপুরে আ’লীগ নেতাকর্মীরা বিএনপির অফিস ভাংচুর করে বলে দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পৌরসভা ও ইউনিয়ন বিএনপির পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। গড়গড়ি ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে পদযাত্রা শেষে পথসভায় বক্তব্য রাখেন রাজশাহী জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য গোলাম মোস্তফা মামুন, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন মাস্টার, বিএনপি নেতা কামাল হোসেন, মাসুদ করিম টিপু, শাহিন মন্ডল, রবিউল ইসলাম প্রমুখ। জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য গোলাম মোস্তফা মামুন বলেন, বিকেলে আড়ানী ইউনিয়নের রাজার মোড়ে ১০ দফা দাবিতে পদযাত্রা শেষে বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর পুলিশ লাঠি চার্জ করে। এতে সজল হোসেন, মাসুদ পারভেজ, মিলন হোসেন, পলাশ সরকার, বাধন রহমান, জাহাঙ্গীর হোসেন, আবদুল আওয়াল আহত হয়েছে বলে জানান। তবে বাঘা থানার পুলিশ জানায়, লাঠি চার্জের মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ দেখে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে গেছে। এদিকে মোহনপুরে বিএনপি’র পদযাত্রা চলাকালে স্থানীয় সরকারি দলের লোকেরা বিএনপি অফিসে ভাংচুর করে বলে অভিযোগ করা হয়। তবে এবিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।