মেহেরপুর প্রতিনিধি।।
হিন্দা-তেঁতুলবাড়িয়া সড়ক। এ সড়কের দুই পাশে এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছে সারিবদ্ধ তালগাছ। এ যেনো কবির সেই কবিতা ‘ঐ দেখা যায় তাল গাছ ওই আমাদের গাঁ।’ সেই তাল সারির মনোমুগ্ধকর এ সড়কের দৃশ্য টানছে পর্যটক।
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়নের হিন্দা-তেঁতুলবাড়িয়া রাস্তার প্রায় ১ কিলোমিটার পিচঢালা মসৃণ সড়কের দুই পাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে তালগাছ। এই তালগাছের সারি নজর কাড়ছে মানুষের।
জানা যায়, গাংনীর তালসড়ক গড়ে ওঠার পেছনে অবদান তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল হকের। তার এ কাজে সহযোগিতা করেন এলাকাবাসীও। বর্ষায় এ সড়কটির ভাঙন এবং পরিবেশ রক্ষার কথা চিন্তা করে সড়কের দুই পাশে তালগাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন চেয়ারম্যান রেজাউল হক।
রেজাউল হক তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান থাকাকালীন ২০০৩-২০০৭ সালে হিন্দা-তেঁতুলবাড়িয়া রাস্তার ১ কিলোমিটার রাস্তার দুইপাশে ১০ ফুট পর পর প্রায় এক হাজার তালগাছ রোপণ করেন। শুধু এই রাস্তাটিতেই নয়, তিনি ইউনিয়নের সীমানার বিভিন্ন স্থানে তালগাছ রোপণ করেন। ইউনিয়নের হাটে বাজারে চৌকিদার দিয়ে ঢোল সহরত করে মানুষকে উজ্জীবিত করেছেন। স্কুলের ছেলেমেয়েরাও এ কাজে এগিয়ে আসে বলে জানা যায়। সেই তালগাছের বয়স এখন ১৭ বছর পেরিয়ে গেছে। রাস্তার দুই পাশে মাথা উঁচু করে এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছে তাল গাছগুলো। এ যেনো এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।
তালগাছের বয়স ৩-৪ বছর হলেই পাতা দিয়ে তালপাটি,পাখা, হাতব্যাগ, ঝুড়িব্যাগসহ নানা উপকরণ তৈরি করা হয়। তালগাছ থেকে পাওয়া যায় রসালো ফল। তাল গাছের রয়েছে ওষুধি গুণ। সুস্বাদু অনেক খাবার তৈরি করা যায় তালের রস থেকে। গ্রীষ্মকালে কচি তালের শাস সকলের কাছে প্রিয়।
পথচারী সাহাবুল ইসলাম বলেন, তালগাছগুলো এ পথটিকে ভাঙনের হাত থেকে বাঁচায়। এছাড়া মনোরম দৃশ্য দেখতে খুবই ভালো লাগে।
কৃষক জহুরুল ইসলাম ও হাসমত আলী জানান, মাঠে কাজ করার পর তপ্ত রোদে ক্লান্ত কৃষক একটু জিরিয়ে নিতে তাল গাছের নিচে বসেন। এছাড়া বজ্রপাতের সময়ও মাঠ থেকে দৌড়ে তালগাছের নিচে আশ্রয় নেয়া হয়।
হিন্দা গ্রামের সমসের আলী বলেন, এ রাস্তায় চলাচল করতে খুবই ভালো লাগে শুধু তালগাছগুলোর জন্য। তালগাছগুলো ছবির মত মনে হয়।
তালগাছ রোপণকারী সাবেক চেয়ারম্যন রেজাউল হক বলেন, এই সড়কের তালগাছগুলো আর আগের মতো নেই। অনেক তালগাছ মরে গেছে। ২০০৭ সালে তালগাছ লাগানো সড়ক জেলা পরিষদ অধিগ্রহণ করে। কিন্তু গাছগুলো দেখভাল করার ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।









































