Home Blog Page 3

চলন্ত বাসে নারীকে ধর্ষণচেষ্টা, বাস থামিয়ে পুলিশের তাৎক্ষণিক অভিযানে গ্রেফতার ৩


ঢাকা অফিস
ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় চলন্ত বাসে এক নারী যাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে সাভার পরিবহনের বাসচালক, তার সহকারী ও চালকের এক পরিচিত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে।


সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। গ্রেফতাররা হলেন-বাসচালক মো. ইমরান (৩৫), তার সহকারী মো. মুসফেকুর রহমান জনি (২০) এবং মো. সুমন প্রামাণিক (৩০)। পুলিশ জানায়, শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঢাকার গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে নবীনগর যাওয়ার উদ্দেশ্যে সাভার পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন ওই নারী। নবীনগরের কাছাকাছি পৌঁছালে চালক ইমরান বাস চালানোর দায়িত্ব সহকারী জনির কাছে দিয়ে দেন। এরপর তিনি ওই নারীর সঙ্গে থাকা রুবেল নামে এক ব্যক্তিকে মারধর ও হত্যার হুমকি দিয়ে শ্রীপুর এলাকায় বাস থেকে নামিয়ে দেন। কিছুক্ষণ পর চালকও বাস থেকে নেমে যান। তখন বাসে সহকারী জনি ও সুমন প্রামাণিক অবস্থান করছিলেন।


অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর সুমনের সহায়তায় সহকারী জনি চলন্ত বাসে ওই নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া রুবেল জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন করে বিষয়টি পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশের একাধিক দল রাড়ইপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আরেকটি বাস দিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে অভিযুক্ত বাসটি থামায়। পরে পুলিশ বাস থেকে ভুক্তভোগী নারীকে নিরাপদে উদ্ধার করে এবং জনি ও সুমনকে আটক করে। এ সময় বাসটিও জব্দ করা হয়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর রবিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আশুলিয়ার বাড়ইপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাসচালক ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হয়।


আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ৯৯৯ এ কল পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে নারীকে উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করা হয়। পরে পৃথক অভিযানে বাসচালককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

শিগগিরই আসছে ছাত্রদলের কমিটি, আলোচনায় যারা


ঢাকা অফিস
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার কাউন্টডাউন শুরু হয়েছে। বিএনপির হাইকমান্ড ইতোমধ্যে নতুন নেতৃত্ব চূড়ান্ত করার কাজ শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে যেকোনো সময় নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায় ও ছাত্রদলের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র।


সূত্রগুলো বলছে, নতুন কমিটি গঠনে সাংগঠনিক দক্ষতা, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সুপার ফাইভ পদে একাধিক নেতার নাম আলোচনায় থাকলেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চূড়ান্ত তালিকায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে সংগঠনের ভেতরে-বাইরে জোর আলোচনা চলছে। নতুন কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে ছাত্রদলকে আগামী রাজনৈতিক কর্মসূচি ও জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আরও সক্রিয় করার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও নাসির উদ্দীন নাসিরের নেতৃত্বাধীন ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ১ মার্চ। নতুন নেতৃত্বে আসতে ছাত্রদলের সম্ভাব্য নেতারা এখন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও লবিং-তদবিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ইতোমধ্যে সংগঠনের এই শীর্ষ দুই পদে ডজনখানেক নেতার নাম আলোচনায় এসেছে। নেতৃত্বের দৌড়ে থাকা পদপ্রত্যাশীরা ক্যাম্পাসে শোডাউন এবং দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন।


আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া। বর্তমানে তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অর্থনীতির ছাত্র আফসান এর আগে কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মীদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে আসছেন আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ২০২২ সালের ২৪ মে ছাত্রলীগের হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হন। মাথা ফেটে যাওয়ায় ১৭টি সেলাই লাগে এবং পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়। ২০২৩ সালে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন প্রবেশমুখে বিএনপি ঘোষিত অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে গাবতলী থেকে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাবরণ করেন। এছাড়াও ২৮ অক্টোবর-পরবর্তী বিএনপি ঘোষিত হরতাল-অবরোধ কর্মসূচিতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও পশ্চিমে তিনি ছাত্রদলের মূল সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে মহানগর উত্তর ছাত্রদল ও পশ্চিম ছাত্রদল অবরোধ কর্মসূচিগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন করে।


জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া নেতা-কর্মীদের নিয়ে শাহবাগ, বাংলামোটর, সায়েন্সল্যাব, ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুরে আন্দোলন সফল করতে নিরলসভাবে কাজ করে যান। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে তিনি রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতি নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন এবং তা শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়।


আমান উল্লাহ আমান: বর্তমানে ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক। সংগীত বিভাগের ছাত্র আমান এর আগে কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। ২৮ অক্টোবর-পরবর্তী আন্দোলনে গ্রেপ্তার হয়ে তিনি দুই মাস কারাগারে ছিলেন। ৫ আগস্টের পর সংগঠনকে সুশৃঙ্খল করা এবং ইতিবাচক রাজনীতি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিলেন আমান।


সালেহ মো. আদনান। তৃণমূল নেতৃত্ব থেকে উঠে আসা আদনান বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগের কমিটিরও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বরগুনা জেলা ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পর ২০১০ সাল থেকে ঢাবি ছাত্রদলের সঙ্গে ঢাকার রাজনীতির যাত্রা শুরু আদনানের। বরগুনা সরকারি কলেজে থাকাকালে ১/১১-এর অবৈধ সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ২০১৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হন। ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত থাকার অপরাধে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় হল থেকে বের করে দেয় ছাত্রলীগ।


২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের বিরুদ্ধে, কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে দলের সিদ্ধান্তে হরতাল, অবরোধসহ সব কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে দেশব্যাপী বিভাগীয় সমাবেশ, তারুণ্যের সমাবেশ, রোডমার্চ, ঢাকার প্রবেশমুখে অবস্থান কর্মসূচিসহ বিএনপির ডাকা সব হরতাল-অবরোধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ছাত্রদলের ৬ষ্ঠ কাউন্সিলকে ঘিরে সৃষ্ট সংকটে দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য পল্টন পার্টি অফিসে দলের পক্ষে অবস্থান করেন। এসব ঘটনায় একাধিক মামলা ও হামলার শিকার হন আদনান।


এবিএম ইজাজুল কবির রুয়েল, ছাত্রদলের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার দুইবারের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে আটটি মামলার আসামি এবং তিনবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ করেছেন ইজাজুল কবির রুয়েল। তিনি রাজপথের সক্রিয়, ত্যাগী এবং নির্যাতিত ছাত্রনেতা হিসেবে বিভিন্ন মহলে পরিচিত।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাইরের কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীও আলোচনায় রয়েছেন। তাঁরা হলেন, ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, কাজী জিয়াউদ্দিন বাসেত, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার হক মজুমদার শিমুল এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এম. রাজীবুল ইসলাম তালুকদার বিন্দু।


ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি। এর আগে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ১ নম্বর সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, সহ-স্বাস্থ্য সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ফ্যাসিবাদের সময় তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি মামলা হয় এবং একবার গ্রেপ্তার হন। সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের আউয়াল বর্তমানে এফসিপিএস অধ্যয়নরত আছেন।

কাজী জিয়া উদ্দিন বাসেত ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে ৯টি মামলা রয়েছে এবং রিমান্ডে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এছাড়া দুটি মামলায় সাজাভোগ করেন। কয়েকটি মামলা এখনো বিচারাধীন রয়েছে। ২০১৫ সালে অবরোধের সময় একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে পুলিশ তাঁকে ফেলে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় তিনি ১০ মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।


এছাড়াও সহ-সভাপতি মো. মনজুরুল আলম রিয়াদ, খোরসেদ আলম সোহেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম খলিল, মোমিনুল ইসলাম জিসান, মোস্তাফিজুর রহমান ও ফারুক হোসেন আলোচনায় আছেন।

জরুরি সতর্কবার্তা দিলো বাংলাদেশ পুলিশ


ঢাকা অফিস
পুলিশসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তার নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অর্থ দাবি এবং বিভিন্ন ধরনের তদবিরের নামে প্রতারণার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সতর্কবার্তায় এ আহ্বান জানানো হয়।


বার্তায় বলা হয়, সম্প্রতি প্রতারক চক্র পুলিশসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ও ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা পাঠিয়ে অর্থ দাবি করছে এবং বিভিন্ন ধরনের তদবিরের চেষ্টা করছে; এমন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা একদিকে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে, অন্যদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করছে।


পুলিশ সদর দপ্তর আরও জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোনো আইডিতে সরকারি কর্মকর্তার ছবি বা পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে মানেই সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বর বা অ্যাকাউন্টটি ওই কর্মকর্তার; এমনটি নিশ্চিতভাবে ধরে নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাই এ ধরনের বার্তায় কোনোভাবেই সাড়া না দেয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে। কেউ যদি এ ধরনের প্রতারণামূলক বার্তা পান, তাহলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে অথবা সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) কার্যালয়ে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, এ ধরনের প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিতে পুলিশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

জাতীয় সংসদ ভবন চত্বরে আগুন: তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ


ঢাকা অফিস
জাতীয় সংসদ ভবনের মূল ভবনে অবস্থিত গণপূর্ত বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেল আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।


জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনেন। অগ্নিকাণ্ডের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ সময় তারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জানেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আগুন লাগার প্রকৃত কারণ উদঘাটন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।

গুমে মৃত্যু হলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, বিচার বিশেষ আদালতে


ঢাকা অফিস
গুমের শিকার ব্যক্তির মৃত্যু হলে, লাশ পাওয়া গেলে কিংবা ঘটনার পাঁচ বছর পরও তাকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হলে দায়ী ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড। বিকল্প হিসেবে যাবজ্জীবন অথবা কমপক্ষে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া যাবে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
এছাড়া সাধারণভাবে গুমের অপরাধে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন অথবা কমপক্ষে তিন বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত এবং অভিযোগ গঠনের পর ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার শেষ করতে হবে। ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’ নামে প্রস্তাবিত বিলে এসব বিধান রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা ১৩ পৃষ্ঠার বিলটিতে গুমের সংজ্ঞা, অভিযোগ দায়ের, তদন্ত ও বিচার, শাস্তি, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায়, গোপন আটককেন্দ্র, ভুক্তভোগী ও সাক্ষীর সুরক্ষা, ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন এবং নিখোঁজ ব্যক্তির সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত বিধান রয়েছে। বিলে বলা হয়েছে, মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা, ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা রাষ্ট্রের অন্যতম অঙ্গীকার। গুম এসব অধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন। ব্যাপক বা পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত গুমকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের অধীনে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিচারের সুযোগও রাখা হয়েছে।
কোন ঘটনা গুম হিসেবে গণ্য হবে: প্রস্তাবিত আইনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা রাষ্ট্রের অনুমোদন, সমর্থন কিংবা সম্মতিতে কাজ করা কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মাধ্যমে কাউকে গ্রেফতার, আটক, অপহরণ বা অন্যভাবে স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করার ঘটনাকে গুমের আওতায় আনা হয়েছে।

তবে শুধু আটকের ঘটনাই যথেষ্ট হবে না। আটকের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির স্বাধীনতা হরণের বিষয়টি অস্বীকার করা, তার অবস্থান বা পরিণতি গোপন রাখা এবং এর ফলে তাকে আইনের সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত করা হলে সেটি গুমের অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

আইনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রমও রাখা হয়েছে। কোনও ব্যক্তিকে গ্রেফতারের পর সংবিধানের ৩৩(২) অনুচ্ছেদে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হলে, হাজির করার আগ পর্যন্ত তার অবস্থান গোপন রাখা হলেও সেটিকে গুম হিসেবে বিবেচনা করা হবে না। তবে আটককালে অন্য কোনও অপরাধ সংঘটিত হলে প্রচলিত আইনে তার বিচার করা যাবে।

বিলে গুমকে ‘চলমান অপরাধ’ বলা হয়েছে। গুম হওয়া ব্যক্তির অবস্থান, অবস্থা বা পরিণতি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অপরাধটি চলমান থাকবে। ব্যক্তি মারা গেছেন বলে নিশ্চিত হলে তার মরদেহ বা দেহাবশেষ শনাক্ত করে আইনগত উত্তরাধিকারীর কাছে হস্তান্তর না করা পর্যন্তও অপরাধটির সমাপ্তি হয়েছে বলে গণ্য হবে না।

মৃত্যু বা পাঁচ বছরেও সন্ধান না মিললে কঠোর শাস্তি: বিলের সাধারণ শাস্তির ধারায় বলা হয়েছে, গুমের জন্য দায়ী ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন অথবা কমপক্ষে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া যাবে। এর সঙ্গে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা যাবে।

গুমের কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যু হলে বা তার লাশ পাওয়া গেলে শাস্তি আরও কঠোর হবে। একই বিধান প্রযোজ্য হবে ঘটনার পাঁচ বছর পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হলে। এসব ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কিংবা কমপক্ষে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া যাবে। সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডও আরোপ করা যাবে।

অন্য কোনও অপরাধে অভিযুক্তের বিচার হয়ে থাকলেও গুমের অভিযোগে নতুন করে মামলা ও বিচার করতে বাধা থাকবে না।

গুমের আলামত, সাক্ষ্য-প্রমাণ বা নথি নষ্ট, গোপন, বিকৃত কিংবা পরিবর্তন করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড হবে। গোপন আটককেন্দ্র নির্মাণ, স্থাপন বা ব্যবহার করলেও একই শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

গুমের চেষ্টা, আদেশ, নির্দেশ, সহায়তা, প্ররোচনা বা অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ক্ষেত্রে মূল অপরাধের জন্য নির্ধারিত শাস্তিই প্রযোজ্য হবে।

‘রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা’ অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়: রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, জরুরি অবস্থা কিংবা অন্য কোনও বিশেষ পরিস্থিতিকে গুমের পক্ষে যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। সরকারি বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ বা নির্দেশ পালন করার যুক্তিও গ্রহণযোগ্য হবে না।

অর্থাৎ কোনও কর্মকর্তা শুধু ঊর্ধ্বতনের নির্দেশ পালন করেছেনÑ এমন দাবি করে দায় এড়াতে পারবেন না। প্রত্যেক ব্যক্তির নিজস্ব ফৌজদারি দায় নির্ধারণ করা হবে।

সামরিক ঊর্ধ্বতনের ‘কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’: সশস্ত্র বাহিনীর কোনও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কমান্ডার বা দলনেতার অধীন ব্যক্তিরা গুমে জড়িত হলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায় নির্ধারণের বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে।

ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিজে অপরাধে অংশ নিলে, আদেশ বা অনুমোদন দিলে কিংবা গুম-সংক্রান্ত পরিকল্পনায় যুক্ত থাকলে মূল অপরাধের শাস্তি পাবেন। অধীনদের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও গুম প্রতিরোধে ব্যবস্থা না নিলে বা অপরাধের তথ্য জেনেও ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করলে তিনিও দায়ী হবেন।

সামরিক বাহিনীর সদস্য ননÑ এমন বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও কাছাকাছি বিধান রাখা হয়েছে। তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যক্তি গুম করতে যাচ্ছেন বা করেছেন, এমন তথ্য জানার পরও প্রতিরোধ, দমন, তদন্ত বা বিচারের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি পাঠাতে ব্যর্থ হলে মূল অপরাধের শাস্তি হতে পারে।

এর মাধ্যমে শুধু মাঠপর্যায়ের সদস্য নয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ও নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তাদেরও বিচারের আওতায় আনার পথ রাখা হয়েছে।

থানায় অভিযোগ না নিলে সরাসরি আদালতে: ভুক্তভোগী নিজে, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, সাক্ষী অথবা ঘটনা সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য জানা যে কোনও ব্যক্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিতে পারবেন।

থানা অভিযোগ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে অভিযোগকারী সরাসরি এখতিয়ারসম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নালিশি মামলা করতে পারবেন।

অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশকে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অভিযোগ গেলে তিনিও প্রচলিত বিধান অনুসারে তদন্ত বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারবেন।

সরকারি কর্মকর্তা বা বাহিনীর সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া কিংবা বিচার শুরু করতে সরকারের পূর্বানুমোদন লাগবে না। সরকারি দায়িত্ব পালনের সঙ্গে অভিযোগের সম্পর্ক রয়েছেÑ এমন যুক্তিতেও অনুমতির বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি হবে না।

তদন্তে ৯০ দিন, সর্বোচ্চ আরও ৩০ দিন: তদন্তকারী কর্মকর্তাকে দায়িত্ব পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে সাক্ষ্য-প্রমাণসহ প্রতিবেদন দিতে হবে। যুক্তিসংগত কারণে ম্যাজিস্ট্রেট তদন্তের সময় সর্বোচ্চ ৩০ দিন বাড়াতে পারবেন। বর্ধিত সময়েও তদন্ত শেষ না হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

তদন্ত শেষে প্রতিবেদন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে উপস্থাপন করতে হবে। ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিবেদন ও তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে অভিযোগ আমলে নেওয়ার মতো উপাদান পেলে মামলাটি বিচারের জন্য এখতিয়ারসম্পন্ন দায়রা আদালতে পাঠাবেন।

অভিযোগ যদি কোনও সামরিক বা বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হয়, ম্যাজিস্ট্রেট তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ‘অন্তর্বর্তীকালীন তদন্ত প্রতিবেদন’ দিতে বলতে পারবেন। তখন সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা বাহিনীর কমান্ড কাঠামো, নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা, নিয়ন্ত্রণের পরিধি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।

প্রাথমিক প্রতিবেদনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরাসরি প্রমাণ না মিললেও তদন্তের স্বার্থে তাকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া যেতে পারে। পরে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া গেলে তার নাম আবারও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে।

গোপন আটককেন্দ্রে তল্লাশি: গুমের শিকার ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে আদালত আটককেন্দ্র, সরকারি বা বেসরকারি স্থাপনা এবং সন্দেহভাজন অন্য কোনও জায়গায় তল্লাশি পরোয়ানা জারি করতে পারবেন।

আদালতের নির্দেশে পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী বা অন্য কোনও উপযুক্ত ব্যক্তি তল্লাশি চালাতে পারবেন। গোপন আটককেন্দ্র নির্মাণ, স্থাপন বা ব্যবহার করাকে স্বতন্ত্র অপরাধ হিসেবে রাখা হয়েছে।

৯০ কার্যদিবসে বিচার: গুমের মামলার বিচার কেবল এখতিয়ারসম্পন্ন দায়রা জজ আদালতে হবে। অভিযোগ গঠনের পর ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার শেষ করতে হবে।
নির্ধারিত সময়ে বিচার শেষ না হলে আদালত কারণ উল্লেখ করে আরও ৩০ কার্যদিবস সময় নিতে পারবেন। বিলম্বের কারণ লিখিতভাবে সুপ্রিম কোর্টে প্রতিবেদন আকারে পাঠাতে হবে।

অভিযুক্ত পলাতক থাকলে অভিযোগপত্র গ্রহণের পরবর্তী ২০ দিনের মধ্যে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া যাবে। নোটিশ তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে, জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে, বিদেশে অবস্থান করলে দূতাবাস বা ইন্টারপোলসহ অন্য উপায়ে পাঠানো যাবে।

নির্ধারিত সময়ে হাজির না হলে আদালত অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার করতে পারবেন। তবে আদালতে হাজির হওয়ার পর বা জামিন পাওয়ার পর কেউ পলাতক হলে নতুন করে বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।

বাংলাদেশের বাইরের ঘটনাও বিচারের আওতায়: বাংলাদেশের স্থল, সমুদ্র বা আকাশসীমায় সংঘটিত গুমের বিচার এই আইনে হবে। বাংলাদেশের নিবন্ধিত জাহাজ, বিমান বা অন্য কোনও যানে অপরাধ সংঘটিত হলেও আইনটি প্রযোজ্য হবে।

অভিযুক্ত অথবা গুম হওয়া ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হলে বিদেশে সংঘটিত অপরাধেরও বিচার করা যাবে।

তবে কোনও স্বীকৃত আন্তর্জাতিক আদালত বা ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্তকে সমর্পণ করা হলে অথবা আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী অন্য রাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হলে বাংলাদেশের আদালতের কার্যক্রম সে অনুযায়ী নিষ্পত্তি হবে।

মিথ্যা অভিযোগেও শাস্তি: বিচার শেষে আদালতের কাছে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলে যে অভিযোগটি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক ছিল, অভিযোগকারীকে শাস্তি দেওয়া যাবে।

ক্ষতিগ্রস্ত অভিযুক্ত বা ব্যক্তিকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। প্রয়োজন হলে মিথ্যা অভিযোগকারীকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডও দেওয়া যাবে।

তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ামাত্রই সেটিকে মিথ্যা অভিযোগ হিসেবে বিবেচনা করা হবেÑবিলে এমন কথা বলা হয়নি। অভিযোগটি ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক ছিল বলে আদালতের কাছে প্রমাণিত হতে হবে।

ক্ষতিপূরণ আদায়, না পারলে দেবে রাষ্ট্র: আদালত অর্থদণ্ডকে ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য করতে পারবেন। অর্থদণ্ড বা ক্ষতিপূরণের টাকা দণ্ডিত ব্যক্তির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ থেকে আদায় করা যাবে। অন্য দাবির তুলনায় ক্ষতিপূরণের দাবি অগ্রাধিকার পাবে।

সম্পদ থেকে টাকা আদায় করা সম্ভব না হলে রাষ্ট্রকে ভুক্তভোগী বা তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি শনাক্ত করে নিলাম বা প্রকাশ্য বিক্রির মাধ্যমে ক্ষতিপূরণের অর্থ সংগ্রহের নির্দেশও আদালত দিতে পারবেন।

ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযুক্তের সম্পত্তি ব্যবহার করতে পারবে: গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী বা তার ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং যৌক্তিক ব্যয় মেটাতে তার সম্পত্তি ব্যবহার বা হস্তান্তরের অনুমতি দেওয়ার বিধান রয়েছে।

পরিবারের আবেদনের পর আদালত প্রয়োজনীয় পরিমাণ সম্পত্তি ব্যবহারের জন্য ‘প্রত্যয়ন’ বা ‘গুম সনদ’ দিতে পারবেন।

কোনও ব্যক্তি টানা পাঁচ বছর গুম থাকা এবং জীবিত ফিরে না এলে আদালত তার বৈধ উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের অনুমতি দিতে পারবেন। তবে এজন্য উত্তরাধিকারীদের আবেদন করতে হবে এবং আদালতকে গুমের বিষয়টি নিশ্চিত হতে হবে।

চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও আলাদা তহবিল: গুমের শিকার ব্যক্তি ফিরে এলে তার চিকিৎসা, মানসিক ও সামাজিক পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ এবং আইনি সহায়তার জন্য সরকারকে একটি তহবিল গঠন করতে হবে।

তহবিলে অর্থ সংগ্রহ ও ব্যয়ের বিধান পরবর্তী সময়ে বিধিমালায় নির্ধারণ করা হবে। বিধি না হওয়া পর্যন্ত সরকার আদেশ দিয়ে তহবিল পরিচালনা করতে পারবে।

ভুক্তভোগীর বিস্তারিত ঘটনা, তদন্তের অগ্রগতি ও ফলাফল এবং গুম হওয়া ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি সম্পর্কে জানার অধিকার থাকবে। তারা সংগঠন গঠন, অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমে স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণ এবং সরকারি আইনি সহায়তা পাওয়ার অধিকারও পাবেন।

সাক্ষী ও তথ্যদাতার পরিচয় গোপন থাকবে: গুমের তথ্য প্রকাশকারী ব্যক্তি জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রদান) আইন, ২০১১-এর অধীনে সুরক্ষা পাবেন।

আদালত অভিযোগকারী, তথ্যদাতা, ভুক্তভোগী ও সাক্ষীর পরিচয় গোপন রাখা এবং প্রতিশোধ, ভয়ভীতি, হুমকি বা অন্য ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় আদেশ দিতে পারবেন।

অনলাইন যোগাযোগ, ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পাদিত কথোপকথন, স্থিরচিত্র, ভিডিও এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্যও প্রচলিত সাক্ষ্য আইন অনুসারে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা যাবে।

অপরাধ আপসযোগ্য নয়: প্রস্তাবিত আইনের অপরাধগুলো আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য এবং আপস-অযোগ্য হবে। অভিযোগকারীকে শুনানির সুযোগ না দিয়ে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য হওয়ার যৌক্তিক কারণ নেইÑ এ বিষয়ে আদালত সন্তুষ্ট না হলে জামিন দেওয়া যাবে না।

তবে অভিযুক্ত নারী, শিশু অথবা গুরুতর অসুস্থ হলে এবং জামিন দিলে ন্যায়বিচার ব্যাহত হবে না বলে আদালত মনে করলে জামিন দেওয়া যেতে পারে।

গুমের জাতীয় তথ্যভাণ্ডার: সরকারের তত্ত্বাবধানে গুম-সংক্রান্ত একটি তথ্যভান্ডার তৈরির প্রস্তাব রয়েছে। এতে গুম হওয়া ব্যক্তি, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি এবং গুমের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সন্তানের পরিচয় ও তথ্য থাকবে।

নিখোঁজ হওয়ার তারিখ, স্থান, সম্ভাব্য কারণ, পরিবারের অভিযোগ, প্রাথমিক সাক্ষ্য, অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম, বাহিনী, ইউনিট, পদবি, দায়িত্বকাল, তদন্ত ও আপিলের অবস্থা এবং ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের তথ্য সংরক্ষণ করা হবে।

সম্ভাব্য কারণ হিসেবে রাজনৈতিক মতাদর্শ, পেশাগত দ্বন্দ্ব, ফৌজদারি মামলা, পারিবারিক বিরোধ বা সামাজিক প্রেক্ষাপটের মতো তথ্যও অন্তর্ভুক্ত করা যাবে।

তথ্যভাণ্ডার বিশ্লেষণ করে গুমের ধরন নির্ধারণ, অনুসন্ধানে সমতা এবং শিশু-সংবেদনশীল পদ্ধতি প্রবর্তনের কথা বলা হয়েছে। ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও তদন্তের স্বার্থে কিছু তথ্য গোপন রাখা হলেও জনস্বার্থে সংক্ষিপ্ত তথ্য প্রকাশ করা যাবে।

ব্যাপক বা পরিকল্পিত গুমের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে: গুম যদি ব্যাপক বা পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত হয় এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের উপাদান তৈরি করে, তাহলে এর বিচার ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩’-এর অধীনে হবে। একই ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনে কার্যক্রম চললে সাধারণ গুম আইনে সমান্তরাল বিচার চালানো যাবে না।

তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনায় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অভিযোগটি মানবতাবিরোধী অপরাধ বলে প্রতীয়মান হলে প্রতিবেদন ও সাক্ষ্য-প্রমাণ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে পাঠাতে হবে।

বিচারের আগেও দায়রা আদালত মনে করলে মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের আওতাভুক্ত, সেটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠাতে পারবেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রয়োজনীয় তদন্ত ও পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

এই বিধানের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন গুমের ঘটনা এবং রাষ্ট্রীয় নীতি বা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ব্যাপকভাবে সংঘটিত গুমের মধ্যে আইনি পার্থক্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আইনটি কার্যকর হলে এর বাস্তব প্রয়োগ নির্ভর করবে স্বাধীন তদন্ত, প্রমাণ সংরক্ষণ, কমান্ড কাঠামোর তথ্যপ্রাপ্তি এবং সাক্ষী-ভুক্তভোগীদের কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর।

দাকোপে জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল উদ্ধার অভিযান শুরু: অবৈধ জাল-বাঁধ অপসারণ


দাকোপ প্রতিনিধি
দাকোপ উপজেলার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং চলতি বর্ষা মৌসুমে দ্রুত পানি নিষ্কাশন নিশ্চিত করতে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। জনদুর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ খালগুলো থেকে অবৈধ জাল, বাঁধ ও পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা অপসারণের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।


মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে দাকোপ ইউনিয়নের দাকোপী খাল, কাটা কাটা খাল, পশ্চিম বাজুয়া খাল, সিটিবুনিয়া খাল ও কাঁকড়াবুনিয়া খালে যৌথ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ৪টি চায়না দুয়ারী জাল, ১০টি রিং জাল, ৮৫টি পাটা, ১৫টি নেটজাল, ২৩টি মশারি জাল, ৫০টি চাই এবং বিপুল পরিমাণ বাঁশের খুঁটি অপসারণ করে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন দাকোপ উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু বকর সিদ্দিক। এ সময় দাকোপ থানার এসআই প্রসেনজিৎ কুমারের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি পুলিশ দল উপস্থিত থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা করে।


এর আগে গত ২১ জুলাই পানখালী মমতাজ স্কুল সড়ক সংলগ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ খালে উচ্ছেদ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বোরহান উদ্দিন মিঠু এবং সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু বকর সিদ্দিক। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে অবৈধ জাল, বাঁধ ও পাটা স্থাপন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। চিংড়ি চাষের নামে কিছু অসাধু ঘের মালিকের কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে হাজারো মানুষ দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগে পড়ছেন। এ ধরনের কার্যক্রম জনস্বার্থবিরোধী এবং প্রচলিত আইনের পরিপন্থী।


তারা স্থানীয় ঘের মালিক ও দখলদারদের প্রতি স্বেচ্ছায় খালের মধ্যকার সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা, জাল ও পাটা অপসারণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের যৌথ এই উচ্ছেদ অভিযান ধারাবাহিকভাবে চলবে। ভবিষ্যতে কেউ পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বাধাগ্রস্ত করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কর্মকর্তারা আরও বলেন, খাল উদ্ধার ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম কোনো একদিনের উদ্যোগ নয়; এটি নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে। জনস্বার্থে খালগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। প্রশাসনের এ সময়োপযোগী ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা আশা প্রকাশ করেন, কোনো প্রভাবশালী মহলের চাপ উপেক্ষা করে নিয়মিত তদারকি ও ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকলে দাকোপের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।

ঝিনাইদহে চাঞ্চল্যকর শিশু সাবা হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু


ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহ শহরের পবহাটি গ্রামের বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর সাড়ে তিন বছরের শিশু সাইমা আক্তার সাবা হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে ঝিনাইদহ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক মোঃ হেলাল উদ্দীনের আদালতে এ সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।


বিচারিক প্রক্রিয়ার মামলার প্রথম দিনে মোট ২৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আকিদুল ইসলাম এবং রাষ্ট্র কর্তৃক নিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে ছিলেন অ্যাডভোকেট আশরাফ জোয়ার্দ্দার। আদালত মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন আগামী ৩ আগস্ট নির্ধারণ করেছেন।


মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর (বুধবার) সকাল ৮টার দিকে পবহাটি গ্রামের সাইদুল ইসলামের মেয়ে শিশু সাইমা আক্তার সাবা খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় শিশুটির পিতা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে পুলিশ ও স্থানীয়রা আশপাশের বিভিন্ন পুকুরসহ নানা স্থানে অনুসন্ধান চালিয়েও দিনভর শিশুটির কোনো সন্ধান পায়নি। অবশেষে ঘটনার দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে একই গ্রামের প্রতিবেশী আক্তারুজ্জামান মাসুমের ঘরের ভেতর থেকে ফুটফুটে শিশু সাবার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর অনুসন্ধানে নেমে পুলিশ প্রতিবেশী আক্তারুজ্জামান মাসুমের স্ত্রী শান্তনা খাতুনকে (৩০) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক ও হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পরবর্তীতে গ্রেফতার করে। ঘটনার তদন্ত শেষে ঝিনাইদহ সদর থানার তৎকালীন এসআই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) মনোজ কুমার ঘোষ মাত্র ২৭ দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে শান্তনা খাতুন শিশু সাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার কথা স্বীকার করেন।

জবানবন্দিতে শান্তনা খাতুন উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন তার ছেলে আবু জুবায়ের সঙ্গে খেলতে গিয়ে দুজনা মারামারি করে। এ সময় সাবার মাথায় আঘাত করে শান্তনা। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় সাবা। সারাদিন ঘরের মধ্যে লাশ লুকিয়ে রেখে রাতে বাইরে ফেলতে গিয়ে শান্তনার গতিবিধি সন্দেহ হলে প্রতিবেশিরা তারা বাড়ি তল্লাসী করে সাবার মৃতদেহ উদ্ধার করে।

মাটির নিচে চাপা ইতিহাস, নীরবে দাঁড়িয়ে কয়রার ‘বুরুজপোতা ঢিবি’


কয়রা প্রতিনিধি
বিশাল গাব, কাঁঠাল আর বাঁশঝাড়ের ঘন ছায়ায় ঢাকা কয়রার বড়বাড়ি গ্রাম। চারদিকে এক শান্ত-নীরব পরিবেশ, আর তার আড়ালেই লুকিয়ে আছে কয়েকশত বছরের প্রাচীন ইতিহাস। খুলনার কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের এই ঐতিহ্যবাহী ‘বুরুজপোতা ঢিবি’ স্থানীয়ভাবে রাজা প্রতাপাদিত্যের দুর্গের অংশ বলেই পরিচিত। যা মাটির নিচে চেপে রাখা ইতিহাস নিয়ে আজও নীরবে দাঁড়িয়ে আছে।


রাস্তার সমতল থেকে এখনও প্রায় ১০-১২ ফুট উঁচু এই ঢিবি। ঢিবির প্রাচীন গাছের শিকড়ের ফাঁকে ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে পুরোনো ইটের অংশ। শুধু ঢিবিই নয়, আশপাশের বসতবাড়ির আঙিনা, পুকুরপাড় বা ফসলি জমিতে এখনও মিলছে প্রাচীন ছোট ইট, নকশা করা পাথর ও প্রাচীন স্থাপনার ভগ্নাংশ। গবেষকদের মতে, আনুমানিক ১৫৮৭ থেকে ১৫৯৫ সালের মধ্যে বারভূঁইয়াদের অন্যতম শাসক রাজা প্রতাপাদিত্য এখানে দুর্গ নির্মাণ করেছিলেন। এই ‘বুরুজপোতা ঢিবি’ ছিল সেই দুর্গেরই অন্যতম প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, যেখান থেকে সৈন্যরা নজরদারি করতেন এবং সংকেত পাঠাতেন। এমনকি ২০০৯ সালের ভয়াল ঘূর্ণিঝড় আইলার সময় চারপাশ প্লাবিত হলেও উঁচু এই ঢিবিটি পানির নিচে তলিয়ে যায়নি; যা তৎকালীন সময়ে বহু মানুষের আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছিল।


তবে কালের বিবর্তনে মাটির ক্ষয় ও মানুষের মাটি কাটার কারণে ঐতিহ্যের এই অংশটি নিচু হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সম্প্রতি ঢিবিটিকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণার উদ্যোগ নিলেও দেখা দিয়েছে নতুন জটিলতা। খুলনার আঞ্চলিক প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ঢিবিটি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে অবস্থিত এবং জমির মালিকেরা সম্মতি না দেওয়ায় সংরক্ষণ প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তায় পড়েছে।


ঐতিহাসিক ও স্থানিয়দের মতে, সরকারি উদ্যোগ ও বৈজ্ঞানিক খনন কাজ চালানো হলে এই ঢিবির নিচ থেকেই হয়তো বেরিয়ে আসবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ইতিহাসের বহু অজানা ও উন্মোচিত অধ্যায়।

সুন্দরবনে বনরক্ষীদের টহল দলের সামনে সাঁতার কাটল বাঘ


বাগেরহাট প্রতিনিধি।।


পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের কচিখালী অভয়ারণ্য কেন্দ্রের টাইগার পয়েন্ট এলাকায় বন বিভাগের নিয়মিত টহল দলের সামনে ভেসে উঠল এক বিরল ও মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। জঙ্গল থেকে বেরিয়ে নিশ্চিন্ত মনে কচিখালী খালে নেমে সাঁতার কাটতে দেখা গেছে এক বেঙ্গল টাইগারকে। গত রোববার সকালে টহলে থাকার সময় স্মার্ট টিমের বোটচালক সাইফুর রহমান নিজের মুঠোফোনে বাঘটির খাল পার হওয়ার এই বিরল মুহূর্ত ধারণ করেন। তবে খালের মাঝামাঝি পৌঁছানোর পর টহল নৌকার ইঞ্জিনের শব্দ পেয়ে বাঘটি আবার ঘুরে বনের দিকে ফিরে যায়।


এর মাত্র দুই দিন আগে, গত শুক্রবার দুপুরে মোংলার চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রের বন কার্যালয়ের সামনে দেখা মেলে আরেকটি পূর্ণবয়স্ক বাঘিনীর। কার্যালয়ের সামনে প্রায় ১৫ মিনিট অবস্থান করে ধীরপায়ে জঙ্গল অভিমুখে চলে যায় সেটি।


বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সুন্দরবনে গত ১ জুন থেকে তিন মাসের জন্য সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকায় বনের সার্বিক পরিবেশ এখন শান্ত ও নিরাপদ। এছাড়া বনাঞ্চলে পর্যাপ্ত খাদ্য, নিয়মিত টহল এবং জনকোলাহল কমে যাওয়ার ফলে বাঘসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীরা এখন লোকালয়ের বা টহল ফাঁড়ির কাছাকাছি নির্ভয়ে স্বাভাবিক বিচরণ করছে।


সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বনে বাঘ ও হরিণের অবাধ বিচরণ বৃদ্ধি পাওয়া এবং নিয়মিত বেশি সংখ্যক বাঘের পায়ের ছাপ পাওয়া স্পষ্টতই বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির এক ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কয়রায় ৮৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই, ব্যাহত পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম


কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি।।
খুলনার কয়রা উপজেলার ১৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮৫টিতেই কোনো প্রধান শিক্ষক নেই। অর্থাৎ উপজেলার প্রায় ৬০ শতাংশ বিদ্যালয় চলছে ভারপ্রাপ্তদের ওপর ভর করে।

এতে ২২ হাজার ৮০৬ জন শিক্ষার্থীর নিয়মিত পাঠদান, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও একাডেমিক তদারকি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের পর থেকে এ উপজেলায় নতুন করে কোনো প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। শুধু প্রধান শিক্ষকই নয়, বর্তমানে সহকারী শিক্ষকেরও ৪২টি পদ শূন্য রয়েছে।


গোবরা ঘাটাখালী, উত্তর মদিনাবাদ, দক্ষিণ মদিনাবাদ মুসাফিয়া, স্বর্ণকলি, দক্ষিণ মহারাজপুর, ৩ নম্বর কয়রা, ২ নম্বর কয়রা মধ্যবিল, শ্যামখালী ও শ্রীরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বহু প্রতিষ্ঠানে এই সংকট চরম রূপ নিয়েছে। সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অফিসিয়াল ফাইলপত্র, সরকারি নির্দেশনার প্রতিবেদন তৈরি ও হিসাব-নিকাশ সামলাতে গিয়ে শ্রেণিকক্ষে সময় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।


কয়রার স্বর্ণকলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুরুল আমিন জানান, রেজিস্টার্ড থেকে সরকারি হওয়া ১০টি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পদমর্যাদা সংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন থাকায় পদোন্নতি ও পদায়নে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে শিক্ষা দপ্তরেরও কর্মকর্তা-কর্মচারীর ঘাটতি রয়েছে; পাঁচটি সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদের মধ্যে তিনটি এবং অফিস সহকারীর চারটি পদই খালি।


জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এই সংকট কেবল কয়রায় নয়, পুরো খুলনা জেলাজুড়েই বিদ্যমান। জেলার ১ হাজার ১৫৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৬০৫টিতেই প্রধান শিক্ষক নেই, যা মোট বিদ্যালয়ের অর্ধেকেরও বেশি। কয়রা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তপন কুমার কর্মকার জানান, মামলার জটিলতা ও জাতীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্তের কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। তবে খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ অহিদুল আলম বলেন, সহকারী শিক্ষক থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক পদে পদায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। পিসিসি ও অধিদপ্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ধাপে ধাপে শূন্য পদগুলো পূরণ করা হবে।