Home আঞ্চলিক কালের সাক্ষী: তাসুকুজ্জামানের সংগ্রহশালা

কালের সাক্ষী: তাসুকুজ্জামানের সংগ্রহশালা

8

 

মাগুরা প্রতিনিধি।।

যে কোনো পুরোনো তথ্য বা প্রকাশনার প্রয়োজন হলেই মাগুরার লোকে খোঁজ করে কাজী তাসুকুজ্জামানের। আর তাঁর সন্ধান করবেই-বা-না কেন? ১৯২০ সালে প্রকাশিত মাগুরার প্রথম নিবন্ধিত সংবাদপত্র সাপ্তাহিক ‘আনন্দ’ রয়েছে তাসুকুজ্জামানের সংগ্রহশালায়। এ ছাড়া স্থানীয় ও জাতীয়ভাবে প্রকাশিত নানা সংবাদপত্র, বই, সাময়িকী, ডাকটিকিট ও মুদ্রার বিপুল সংগ্রহ রয়েছে তাঁর। শহরের হাসপাতালপাড়ার বাসিন্দা কাজী তাসুকুজ্জামানের বাড়ির বিভিন্ন কক্ষ যেন কালের সাক্ষী।
স্কুলে পড়ার সময়ই ১৯৭০ সালে সংবাদপত্র, পুরোনো বই, ডাকটিকিট ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রা জমাতে শুরু করেন তাসুকুজ্জামান। ছবি তোলায়ও রয়েছে আগ্রহ। ১০ হাজার ছবি আছে সংগ্রহে।

তার রয়েছে দৈনিক আজাদ, দৈনিক ইত্তেহাদ, দৈনিক পাকিস্তানসহ বিভিন্ন সময়ের ইতিহাসের সাক্ষী নানা পত্রপত্রিকা। এর মোট সংখ্যা কত, তা জানেন না তাসুক নিজেই। তবে বললেন, ওজন হিসেবে পত্রিকাগুলো দুই শতাধিক মণের বেশি হবে। তাঁর সংগ্রহশালায় রয়েছে পাঁচ সহস্রাধিক বই। সমপরিমাণ বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ও ডাকটিকিটও রয়েছে।

তাসুকুজ্জামান বলেন, ১৯২০ সালে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ‘আনন্দ’-এর একটি সংখ্যা সংগ্রহ করতে তাঁকে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হয়। এটি প্রকাশিত হতো ভগনানন্দ চক্রবর্তী নামের এক ব্যক্তির প্রেস থেকে। ওই প্রেসের এক কর্মচারীর কাছ থেকে সংখ্যাটি সংগ্রহ করতে হয়েছে দিনাজপুর থেকে। তারকব্রহ্ম শিকদার সম্পাদিত পত্রিকার সংখ্যাটি ১৯৮৬ সালে হাতে আসে তাঁর।

এ ছাড়া মাগুরা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি দীপক রায় চৌধুরী সম্পাদিত ‘বাংলার ডাক’-এর মুক্তিযুদ্ধকালীন সংখ্যা সংগ্রহ করতেও খরচ হয়েছে সমপরিমাণ টাকা। মাগুরার ভূষণা রাজ্যের রাজা সীতারাম রায়কে নিয়ে লেখা বইয়ের একটি সংখ্যা সংগ্রহ করতে ১৯৮৭ সালে ভারতের কলকাতা সাহিত্য পরিষদে যান তাসুকুজ্জামান। সৈয়দ আলী আহসান সম্পাদিত ‘বাংলাদেশ’ নামের স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম স্মারকগ্রন্থ সংগ্রহ করতে তাঁকে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ঘুরতে হয়েছে। অবশেষে ১৯৭২ সালে প্রকাশিত গ্রন্থটির সংখ্যা মোটা টাকা ব্যয় করে ময়মনসিংহ থেকে সংগ্রহ করেন।

এসব সংগ্রহের কাজে শুরু থেকেই পারিবারিক সহায়তা পেয়েছেন তাসুকুজ্জামান। জানান, দাদা কাজী আব্দুল হকের পাশাপাশি বড় চাচা কাজী জনাব আলী ও কাজী আকবর হোসেন, মা আকলিমা খাতুন, অপর চাচা কাজী মোশারফ হোসেনসহ পরিবারের অন্যদের সহযোগিতা পেয়েছেন। বর্তমানে তাঁর সহযোগী স্ত্রী কাজী হিনুকা পারভীন, ছেলে কাজী সাব্বির ও মেয়ে সামিয়া সিদ্দিকা। এই ‘পাগলামি’র জন্য বিক্রি করতে হয়েছে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া অন্তত আট বিঘা জমি, যার বাজারমূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা।

কাজী আব্দুল হক মেমোরিয়াল কল্যাণ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পদে থাকা কাজী তাসুকুজ্জামান বর্তমানে ইতিহাস নিয়ে একাধিক গবেষণামূলক বই প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছেন। যার কাজ প্রায় শেষের দিকে বলেও জানান তিনি।