সাবজাল হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি ॥
২ মাস আগে মা ফেলে চলে গেছে। এরপর শিশু দুটির বাবা আব্দুল মজিদ তাদেরকে আগলিয়ে রাখতেন। কিন্ত ভাগ্যের নির্মম পরিহাস দুই মাস পরেই ষ্ট্রোকে বন্ধুর মত সেই বাবাও তাদের ছেড়ে পরোপারে চলে গেলেন। একমাত্র অভিভাবক বাবা হারানোর দিনে শিশু দুটির বাবা বাবা চিৎকারে মরদেহের কাছে বার বার ছুটে যাওয়ার দৃশ্য আহাজারী আর্তনাদে সেদিন কেউ চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি। দাফনের পর ক্রমেই বেড়েছে এতিম দু ভাই বোনের করুন আকুতি। ভাই সাবিদের বয়স ৫ আর বোন সাকিমার ৯ বছর। এখন তারা কোথায় যাবে কার কাছেই বা থাকবে। এ ভেবে শুধু সকলের মুখের দিকে ফ্যালফেলিয়ে চেয়ে থেকেছে তারা। এক সময়ে রক্তের টানে এতিম শিশু দুটিকে কোলে তুলে নিয়েছেন তাদের চাচা। কিন্ত উনি তো অভাবী মানুষ। টানাটানির সংসারে কিভাবেই চলবেন। তাদের এমন হৃদয় বিদারক কাহিনী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে নজরে আসে কালীগঞ্জের নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া জেরিনের। মন কেঁদেছে তারও। তিনি ছুটে গেছেন তাদের আশ্রয়স্থলে। সঙ্গে নিয়ে গেছেন ঈদের নতুন পোশাক। যা তিনি নিজে তাদের গায়ে পরিয়ে কোলে তুলে আদর করেছেন। ক্ষনেকের জন্য হলেও তারা ভুলে গেছে মা হারানোর কথা। এরপর তাদের জন্য নেয়া ঈদ সামগ্রী তুলে দিয়েছেন তার আশ্রয়দাতা চাচা চাচির হাতে। মমতাময়ী মায়ের মত করে নির্বাহী কর্মকর্তা এ পোশাক পরিয়ে কোলে তুলে নেয়ার পর শিশু দুটি যে হাসি হেসেছে তা ছিল তাদের অন্তরের খুশির হাসি।
চাচা আব্দুল আজিজ জানান, তিনি নিজে অল্প রোজগারের মানুষ। এদিকে মা বাবা হারা অসহায় ভাইপো ভাইঝিকে নিজের সংসারেই জায়গা দিয়েছেন। আমার কষ্ট হবে তবে অনাথ শিশু দুটি কোথায় যাবে। সাকিমা স্থানীয় বড় ঘিঘাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ছে। তার ভাই সাবিদ হোসাইন চলতি বছর একই স্কুলের প্রাক প্রাথমিকে ভর্তি হয়েছে মাত্র। তাদের লেখাপড়াও চালাতে হবে। কয়েক দিন পরেই ঈদ তাদের জন্য ঈদেন নতুন পোশাক উপহার দিয়েছেন এতে শিশু দুটি বেজায় খুশি হয়েছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কৌশিক খান জানান, সাবিদ সাকিমা অসহায় এতিম। তাদের বাবা মারা গেছে এবং মা চলে গেছে। এতাটুকু বয়সে বাবা মা হারানোর কষ্ট বেশ কঠিন। তারপরও তাদের চাচা জায়গা দিয়ে মহৎ কাজ করেছেন। তিনি বলেন, আমরা তাদের চাচার সঙ্গে কথা বলেছি যেন শিশুদুটিকে সরকারি খরচে পড়াশোনা ও তাদের ভবিষ্যতের জন্য কিছু করার জন্য।
এ বিষয়ে ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সেই তয় লিঙ্গের নজরুল ইসলাম ঋতু জানান, এই দুই শিশুর জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয় বিদারক। এত অল্প বয়সে অভিভাবকহীন হয়ে পড়ায় তাদের জীবন অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে গেছে। সাধ্যমতো ইউনিয়ন পরিষদ ও ব্যক্তিগত তহবিল থেকে তাদেরকে সাহায্য করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন তিনি।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া জেরিন জানান, ওই দুই শিশুর জীবনের গল্প খুবই কষ্টের। আমি নিজে তাদের বাড়িতে গিয়ে শিশুদের সাথে কথা বলেছি। তাদের চাচার সাথে কথা বলেছি। ফুটফুটে চেহারার মাসুম দুই ভাই বোন সাবিদ ও সাকিমার ঈদের উপহার পোশাক নিজে পরিয়ে দিয়ে আদর করেছি। তাদের জন্য ও খাদ্য ঈদ সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তিনি যেটা করেছেন ব্যক্তিগত তহবিল থেকে। আমার দায়িত্ববোধ থেকে করেছি। বাবা মা হারানোর গল্প শিশু দুটির মুখ থেকে শুনে নিজেরও কষ্ট লেগেছে। সামর্থবানেরা এগিয়ে আসবেন আশা করি বলে যোগ করেন তিনি।











































