Home আঞ্চলিক মণিরামপুরে খাবারের দাবিতে রাস্তায় কর্মহীন মানুষ, ফিরলেন খালি হাতে

মণিরামপুরে খাবারের দাবিতে রাস্তায় কর্মহীন মানুষ, ফিরলেন খালি হাতে

15

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি:

করোনার কারণে গৃহবন্দি কর্মহীন মানুষ খাবারের দাবিতে রাস্তায় নামতে শুরু করেছেন। ঘরে খাবার না থাকায় রোববার (৫ এপ্রিল) বেলা ১০টা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত উপজেলার সুন্দলপুর,  আগরহাটি,  পাড়দিয়া,  গাংড়া, মহাদেবপুর, দোলখোলা, মোহনপুর ও জয়পুর গ্রাম থেকে প্রায় দুইশতাধিক মানুষ মণিরামপুর উপজেলা পরিষদের সামনে অবস্থান নিয়েছেন। ত্রাণ পাওয়ার আশায় দীর্ঘক্ষণ রোদে দাঁড়িয়ে থাকলেও অবশেষে খালি হাতে ফিরেছেন তারা। ত্রাণ দেওয়ার কথা বলে তাদের সাথে নানা নাটকীয়তার অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার শ্যামকুড় ইউপির আগরহাটি গ্রামের আখিরা বেগম বলেন, সংসারে ৭-৮ জন লোক। ভিক্ষা করে সংসার চলত। এখন বাড়ি বাড়ি গেলে কেউ ভিক্ষা দেয় না। না খেয়ে আছি। খবর পেয়ে এখানে আইছি। কিছুই পাইনি।

সুন্দলপুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম বলেন, আমি পরিবহন শ্রমিক। একমাস ধরে আমাদের বলছে, গাড়ি বন্ধ রাখতে, খাবার বাড়ি পৌঁছে যাবে। আজ পর্যন্ত কিছুই পাইনি।

ওই গ্রামের আরেক শ্রমিক হারুন বলেন, সকালে আমরা সেনাবাহিনীর গাড়ি দাঁড় করিয়েছি। তারা আমাদের বলেছেন উপজেলায় আসতে। এখানে আসার পর আমাদের খেলার মাঠে নিয়ে একঘন্টা রোদে দাঁড় করিয়ে নাম লিখিয়েছে। পরে ইউএনও অফিসে তালা দিয়ে বেরিয়ে গেছেন। আমাদের কিছু দেননি।

গাংড়া গ্রামের শাহিদা বলেন, বাড়িতে সাতজন খাওয়ার লোক। এই পর্যন্ত কিছুই পাইনি। ঘরে এক কেজি চালও নেই। এখানে আশার পর দেবে বলে আশা দিয়েছে। পরে না দিয়ে সবাই চলে গেছে।

একই অভিযোগ ইউএনও অফিসের সামনে অবস্থান নেওয়া বাকিদের। ত্রাণ নিতে আসাদের অভিযোগ, তারা আসার পর এক পিকআপ ভর্তি খাদ্যদ্রব্য ইউএনও অফিসের সামনে আসে। সেই খাদ্যদ্রব্য তাদের না দিয়ে খালি হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই খাদ্যদ্রব্য যশোর সিটি প্লাজার মালিক এয়াকুব আলীর। তিনি পূর্বের তালিকা ধরে সেগুলো বিতরণ করতে এসেছিলেন।

তবে, ফিরে যাওয়া মানুষদের বাড়ি বাড়ি খাদ্যদ্রব্য পৌঁছে দেওয়ার আশ^াস দিয়েছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমা খানম।

জানতে চাইলে শ্যামকুড় ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনি বলেন, ওদের আন্দোলন সঠিক। আমার ইউনিয়নে পাঁচ হাজার ৭০০ লোক ভিজিডি পান। তাছাড়া আরো অনেকে এখন কাজ হারিয়ে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন। আমি সরকারিভাবে ইতিমধ্যে প্রতি ওয়ার্ডে ২-৩টি করে মোট ৪০টি খাবারের প্যাকেট বিতরণ করেছি। সোমবার সকালের মধ্যে আরও ১৪৫ টা বিতরণ করব। এটা তো চাহিদার তুলনায় খুবই সামান্য।

মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ শরিফী বলেন, ইতিমধ্যে ১৫ মেট্রিকটন চাল বিতরণ করা হয়েছে। আরও ১৯ মেট্রিকটন বিতরণ করা হবে। তাছাড়া আমরা হেল্প লাইন খুলেছি। যারা খাবার চেয়ে ফোন করছেন, তাদের বাড়িতে খাবার পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। রোববার যারা উপজেলায় এসেছেন তাদের তালিকা করা হয়েছে। ধীরেধীরে তাদের প্রত্যেককে খাদ্যদ্রব্য পৌঁছে দেওয়া হবে।

মণিরামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমা খানম বলেন, যারা খাবারের দাবিতে উপজেলায় এসেছেন তাদের ১২৭ জনের তালিকা আমি পেয়েছি। রোববার সন্ধ্যার পর থেকে তালিকা ধরে বাড়িবাড়ি খাবার পৌঁছে দেব।