খুলনায় সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
খবর বিজ্ঞপ্তি
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনসহ দক্ষিণ এশিয়ার সার্কভুক্ত বিভিন্ন দেশ এবং সংস্থা কর্তৃক অনুমোদিত সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার খুলনা মহানগর শাখার উদ্যোগে নগরীর হোটেল ক্যান্টনে সভাপতি আলহাজ¦ গাজী আলাউদ্দিন আহমদ এর সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অনাড়ম্বর পরিবেশে কেক কাটা হয়।
ফাউন্ডেশনের গৌরবোজ্জ্বল এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বক্তাগণ সর্বস্তরে ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং করোনা সংক্রমণ রোধে সরকারের পাশাপাশি অধিকতর জনসচেতনতা সৃষ্টিতে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণের জন্য মানবাধিকার সদস্যদের প্রতি উদাত্ত আহবান জানান।
সংগঠনের মহানগর সাধারণ সম্পাদক এম. এ. মান্নান বাবলু’র সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন উপদেষ্টা রোটাঃ এস এম শাহনওয়াজ আলী ও আলহাজ¦ রোটাঃ ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমিন হাওলাদার, সহ-সভাপতি আলহাজ¦ রোটাঃ সরদার আবু তাহের এবং মোঃ হেলাল উদ্দিন, রোটাঃ খান ইমরান আহমেদ, বিমল মল্লিক, মোঃ হুমায়ুন কবির বালী, মোঃ মনির হোসেন, মোঃ ইউনুস সানা, আব্দুর রাজ্জাক জোদ্দার, মোঃ লিটন হোসেন, ফটো সাংবাদিক আর জি উজ্জ্বল ও মামুন রেজা হাওলাদার প্রমুখ।
সভায় সদ্য সমাপ্ত ফাউন্ডেশনের খুলনা মহানগর শাখার পারিবারিক শিক্ষা সফরের পর্যালোচনা এবং মূল্যায়ন করা হয়। সবশেষে মহান ভাষা আন্দোলনের মাসে সকল শহীদদের আত্মার মাগফিরাত, করোনা আক্রান্তদের সুস্থতা ও এই মহামারী থেকে পরিত্রাণে মহান সৃষ্টিকর্তার রহমত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে দোয়া মুনাজাত পরিচালনা করেন মহানগর সহ-সভাপতি শেখ মোঃ নাসির উদ্দিন।
রূপসায় এমপি সালাম মূর্শেদী ও তার সহধর্মিণী মিসেস সারমিন সালামের নিজস্ব অর্থায়নে শীতবস্ত্র বিতরণ
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম মূর্শেদী ও তার সহধর্মিণী ও এনভয় গ্রুপের চেয়ারম্যান মিসেস সারমিন সালামের নিজস্ব অর্থায়নে মঙ্গলবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কাজদিয়া উচ্চ মাধ্যমিক বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে রূপসা উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।
শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন রূপসা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা আফরোজ মনা, খুলনা জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবিনা ইয়াসমিন, সাংগঠনিক সম্পাদক রিনা পারভিন, মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী মমতা হেনা জোসনা, সালাম মূর্শেদী সেবা সংঘের টিম লিডার শামসুল আলম বাবু, কৃষকলীগ নেতা মঈন উদ্দীন, মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী তানজিলা বেগম, সাবিনা বেগম, আশুরা বেগম, ফিরোজা বেগম, আসমানী বেগম প্রমূখ।
এছাড়াও রূপসা উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণের অংশ হিসেবে নৈহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের মধ্যে বেলা ১১টায় নৈহাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় চত্বরে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক সাবিনা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য অধ্যক্ষ ফ ম আব্দুস সালাম, সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব মিস্টার বাংলাদেশ আজাদ আবুল কালাম, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফরহানা আফরোজ মনা, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সাবিনা ইয়াসমিন, এমপির প্রধান সমন্বয়কারী যুবলীগ নেতা নোমান ওসমানী রিচি, উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আকতার ফারুক, সালাম মূর্শেদী সেবা সংঘের টিম লিডার সামসুল আলম বাবু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মো: মঈনঊদ্দীন, রিক্তা আকতার, নৈহাটি ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক বাদশা মিয়া, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নাজির শেখ, ছাত্রলীগ নেতা সাফিরুল ইসলাম হিমেল, জিকু প্রমূখ।
লুৎফর রহমানের মতো আদর্শিক ত্যাগী নেতাদের কারনেই আওয়ামী লীগ শক্তিশালী: স্মরণ সভায় সিটি মেয়র
খবর বিজ্ঞপ্তি
মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সিটি মেয়র আলহাজ্জ তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমান বঙ্গবন্ধুর তর্জনী নির্দেশে পাকহানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ’৭৫ পরবর্তী দু:সময়ে তিনি নিজের অর্জিত অর্থ ব্যয় করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের শক্তি যুগিয়েছিলেন। অসম সাহসী ও ত্যাগী এ নেতা দলকে সংগঠিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। লুৎফর রহমান সফল ব্যবসায়ী হওয়া সত্ত্বেও তিনি অর্জিত অর্থ দলের পেছনে ব্যয় করেছেন। তিনি দলের জন্য যে কোন ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত ছিলেন। লুৎফর রহমানের মতো বঙ্গবন্ধু আদর্শের ত্যাগী নেতাদের কারনেই আওয়ামী লীগ আজ শক্তিশালী।
তিনি আরো বলেন, লুৎফর রহমানের মত নেতারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে সেটি জীবনে বাস্তবায়ন করেছেন। সেই কারণে দেশ ও দলের জন্য নিজের অর্জিত সম্পদ বিলিয়ে দিয়েছেন। রাজনীতিতে নিবেদিত প্রাণ লুৎফর রহমান বিত্তশালী হয়েও নিঃস্ব হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁর মত আদর্শিক নেতাদের ত্যাগকে সামনে নিয়ে বঙ্গবন্ধু’র স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে হবে।
মঙ্গলবার বাদ মাগরিব দলীয় কার্যালয়ে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমানের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্মরণ সভায় সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। এসময়ে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানা, সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন মিন্টু, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক প্যানেল মেয়র আলী আকবর টিপু, খালিশপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম সানাউল্লাহ নান্নু, মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক রনজিত কুমার ঘোষ, মহানগর যুব লীগের আহ্বায়ক মো. সফিকুর রহমান পলাশ। মহানগর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মো. মুন্সি মাহবুব আলম সোহাগের পরিচালনায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা নুর ইসলাম বন্দ, অধ্যক্ষ শহিদুল হক মিন্টু, আবুল কালাম আজাদ কামাল, অধ্যা. আলমগীর কবির, এ্যাড. অলোকা নন্দা দাস, শেখ ফারুক হাসান হিটলু, মো. মফিদুল ইসলাম টুটুল, আজগর আলী মিন্টু, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেন, মনিরুজ্জমান খান খোকন, মীর বরকত আলী, চ. ম মুজিবর রহমান, বাদল সরদার বাবুল, আব্দুল হাই পলাশ, শেখ আব্দুল আজিজ, হালিম হাওলাদার, আতাউর রহমান শিকদার রাজু, মীর মো. লিটন, মো. সিহাব উদ্দিন, সৈয়দ তরিকুল ইসলাম, নওশের মল্লিক, শরীফ মোত্তুজা, মামুন আরেফিন, সাবিহা ইসলাম আঙ্গুর, আজিম উদ্দিন, মোস্তফা কামাল, নজরুল ইসলাম খোকন, কবীর পাঠান, আলমগীর মল্লিক, মো. শহিদুল হাসান, জহির আব্বাস, মাহমুদুর রহমান রাজেস, এম এ হাসান সবুজ, রাহুল শাহরিয়ার সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
স্মরণ সভা শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমানের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন হাফেজ মো. আব্দুর রহীম ও মুফতি রফিকুল ইসলাম।
আশাশুনিতে করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভা
আশাশুনি প্রতিনিধি
আশাশুনি উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০.৩০ টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হুসেইন খাঁনের সভাপতিত্বে সভায় নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইয়ানুর রহমান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন সুলতানা, ওসি মমিনুল ইসলাম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অসীম বরণ চক্রবর্ত্তী, উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আঃ হান্নান, নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান হোসেনুজ্জামান হোসেন, প্রভাষক মাহবুবুল হক ডাবলু, রুহুল কুদ্দুছ, ওমর সাকি পলাশ, জগদীশ চন্দ্র সানা, মাওঃ আবু বক্কর ছিদ্দিক, পুনঃনির্বাচিত চেয়ারম্যান দীপঙ্কর কুমার বাছাড় দিপ, সাবেক চেয়ারম্যান প্রভাষক ম মোনায়েম হোসেন, আব্দুল বাছেত আল হারুন চৌধুরী, আ’লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম মোল্যা, স ম সেলিম রেজা সেলিম, ঢালী মোঃ সামছুল আলম, অধ্যাপক সুবোধ কুমার চক্রবর্তী, সেলিনা আক্তার, প্রেসক্লাব সভাপতি এস এম আহসান হাবিব, রিপোর্টার্স ক্লাব সেক্রেটারী আব্দুস সামাদ বাচ্চু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম বাস্তবায়ন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
আশাশুনিতে বিদায়ী ও নবাগত ইউএনওকে প্রেসক্লাবের শুভেচ্ছা
আশাশুনি প্রতিনিধি
আশাশুনিতে সদ্য যোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইয়ানুর রহমানকে ফুল দিয়ে বরণ ও বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হুসেইন খাঁনকে ফুল দিয়ে বিদায়ী সম্ভাষণ প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনে এ আশাশুনি প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে এ কার্যক্রম করা হয়।
প্রেসক্লাব সভাপতি এস এম আহসান হাবিব, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জি এম মুজিবুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ এম এম নূর আলমসহ অন্য কর্মকর্তা ও সদস্য ফুল দিয়ে নবাগত ইউএনওকে বরণ ও বিদায়ী ইউএনওকে বিদায় শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। এসময় বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, ইউপি চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ডুমুরিয়ার মাগুরাঘোনায় লিজ ঘেরের পানি সেচে রোপিত বোরোধানের ক্ষতি
ডুমুরিয়া প্রতিনিধি
ডুমুরিয়ায় মাগুরাঘোনায় শুষ্ক মৌসুমে সদ্য রোপনকৃত বোরো ধানের ক্ষেত নষ্ট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, উপজেলার হোগলাডাঙ্গা গ্রামের কৃষক মোঃ জুলফিকার আলী শেখ, এরশাদ আলী শেখ ও আব্দুল জলিলসহ শতাধিক কৃষক আরশনগর মৌজার বিলে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ইরি বোরো ধান রোপন করেন। গত ২৪ জানুয়ারী উপজেলার বেতাগ্রামের আব্দুর রহিম শেখের পুত্র রফিকুল ইসলাম শেখ ওই কৃষকদের রোপনকৃত ধানের জমিতে তার লিজ ঘেরের পানি সেচ দিয়ে তাদের ধান ক্ষেত তলিয়ে দিয়ে ধান নষ্ট করে দেয়। এতে প্রায় ৫লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা অভিযোগে উল্লেখ করেন। বর্তমানে ধান ক্ষেতের পানি নিষ্কাশনের কোন পথ না থাকায় কৃষকরা রয়েছে দুশ্চিন্তায়। উপায়ন্ত না পেয়ে প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার নিকট একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। এবিষয়ে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলামের নিকট জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করেন। এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবদুল ওয়াদুদ বলেন, কৃষকের ধান ক্ষেতে পানি তুলে ধান গাছ নষ্ট করার ব্যাপারে একটি অভিযোগ হয়েছে। আমি কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মোসাদ্দেক হোসেনকে বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যব¯’া গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যব¯’া গ্রহন করা হবে।
রূপসায় প্রবীণ দলিল লেখক মশিউরের মোহরীর ইন্তেকালঃ দাফন সম্পন্ন
রূপসা প্রতিনিধিঃ
রূপসা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের প্রবীণ দলিল লেখক শ্রীরামপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. মশিউর রহমান ওরফে মুশু মোহরী (৬৫) ইন্তেকাল করেছেন ( ইন্না লিল্লাহে———- রাজিউন)। গত ৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে হঠাৎ অসুস্থ হলে প্রথমে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে নগরীর একটি বে-সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ৭ ফেব্রুয়ারী রাত আনুমানিক পৌনে ১২টায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
৮ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার বেলা ১১টায় শ্রীরামপুর-নেহালপুর অগ্রগামী মাঠে নামাজে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
নামাজে জানাযা পরিচালনা করেন মোমিনবাগ জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মনজুরুল ইসলাম।
জানাযা নামাজে উপস্থিত ছিলেন নৈহাটী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. কামাল হোসেন বুলবুল, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোল্লা সাইফুর রহমান, এড. এসএম মোস্তাফিজুর রহমান, নৈহাটীর ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ইউপি সদস্য আশাবুর রহমান, নৈহাটী ইউনিয়ন বিএনপি’র সদস্য সচিব দিদারুল ইসলাম দিদার, অধ্যক্ষ মাওলানা এইচএম মিজানুর রহমান, ইট-ভাটা শ্রমিক ইউনিয়নের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. ইসরাইল শেখ, ছাত্রলীগ নেতা এএইচএম কামাল, ইসলামিক ফাউণ্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার কাজী এনামুল হক, আওয়ামী লীগ নেতা সোহেল জুনায়েদ, সাংবাদিক আল মাহমুদ প্রিন্স, বিসিডিএস রূপসা উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, মোল্লা আবু বক্কর, নৈহাটী ইউনিয়ন কৃষকলীগের সভাপতি মো. জিয়াউদ্দীন জিয়া, মো. নাজির শেখ, মো. ইলিয়াস শেখ, মো. আবু তাহের, সাবেক ইউপি সদস্য আরজান আলী, মো. সেলিম শেখ, বিএনপি নেতা রয়েল আজম, রবিউল ইসলাম রবি, জাহাঙ্গীর হোসেন বাবু, মিকাইল হোসাইন, অন্তর হোসেন মাসুম, জাহাঙ্গীর হোসেন ঝনো, ইমরান শেখ, মাস্টার ফজলুল হক, মাওলানা জামাল উদ্দিন, হাফেজ মাওলানা মুফতি দিদারুল ইসলাম, মাওলানা জামশেদ হুসাইন, বিজিবি সদস্য মো. ওমর ফারুক, মো. সাব্বির শেখ, হাফেজ শাহজাহান, মো. দাউদ আলী, মাওলানা হামিদুল ইসলাম, মাওলানা তৌহিদুল ইসলাম, মাওলানা আমিরুল ইসলাম, মাওলানা ওলিউল্লাহ, আকতার খান, মো. সিদ্দিকুর রহমান, মো. জাহাঙ্গীর শেখ, মো. কবিরুজ্জামান, শাহজামান প্রিন্স ও মো. ইমন শেখ, হাফেজ মহিবুল্লাহ, সার্ভেয়ার তরিকুল ইসলাম, নেওয়াজ শরীফ, মো. জাকির মীর প্রমুখ। শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন রূপসা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি তরুণ চক্রবর্তী বিষ্ণু, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত দে।
ফকিরহাটের নওয়াপাড়ায় এসডিজি বাস্তবায়ন সংক্রান্ত ওয়ার্ডসভা
ফকিরহাট প্রতিনিধি।
বাগেরহাটের ফকিরহাটের পিলজংগ ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে জনঅংশিদারিত্বে স্বচ্ছতা জবাবদিহিতার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ট (এসডিজি) অর্জনের লক্ষে ১নং টাউন নওয়াপাড়া ওয়ার্ডের উন্মুক্ত ওয়ার্ড সভা মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টায় শহীদ স্মৃতি ডিগ্রী কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউপি সদস্য শেখ ফজলুর রহমান এর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উন্মুক্ত ওয়ার্ড সভার প্রবক্তা স্বপন দাশ। উদ্ভোধক ছিলেন, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোড়ল জাহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমা›ন্ডার সুবীর কুমার মিত্র। উপদেষ্টা ছিলেন সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মহিলা সদস্যা মর্জিনা বেগম। সহকারী শিক্ষক রিংকু কুমার চক্রবর্তীর পরিচালনা অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্ততা করেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষনা বিষয়ক সম্পাদক জীবন কৃষ্ণ ঘোষ, ইউনিয়ন আ,লীগের সভাপতি প্রভাষক অঞ্জন কুমার দে, যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক সুমন কুমার ধর, অমল দত্ত মনি, সাবেক মেম্বর শেখ মোশারেফ হোসেন, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ আছাবুর রহমান, শ্রমিকলীগের সভাপতি শেখ অপিরুদ্দিন অপি, মহিলা সদস্যা স্বপ্না বেগম ও শামীমা ইয়াসমিন পলি। সভায় দু’শতাধিক নারী ও পুরুষ বিভিন্ন চাহিদার কথা তুলে ধরেন। যা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম্য আদালত সমন্বয়কারী অলোক কুমার দে খসড়া আকারে একটি রেজুলেশন করেন। এসময় ১৫০০শতাধিক নারী ও পুরুষ সহ সর্বস্থরের জনগন উপস্থিত ছিলেন।
ফকিরহাটে দুইটি রাস্তার উন্মুক্ত লটারী ড্র-অনুষ্ঠিত
ফকিরহাট প্রতিনিধি।
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কার্যালয়ে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় মৌভোগ ও খাজুরা পৃথক দুইটি রাস্তার একটি প্যাকেজের উন্মুক্ত লটারী ড্র-অনুষ্ঠিত হয়েছে। উন্মুক্ত লটারী ড্র পরিচালনা করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান স্বপন দাশ। এসময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাঈদা দিলরুবা সুলতানা, মূলঘর ইউপি চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট হিটলার গোলদার, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী বিভাগের উপ-সহকারি কর্মকর্তা আল-আমিন, পিআইও অফিসের আবু সাঈদ সহ বিভিন্ন ঠিকাদার উপস্থিত ছিলেন।
খুলনা-মোংলা রেলওয়ে প্রকল্পটি বর্তমান সরকারের একটি যুগান্তকারী উন্নয়ন প্রকল্প: সিটি মেয়র
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা-চুকনগর-সাতক্ষীরা আঞ্চলিক মহাসড়কের নিজ খামার এবং গল্লামারী-বটিয়াঘাটা-দাকোপ-নলিয়ান ফরেস্ট জেলা মহাসড়কের দারোগার ভিটা নামক স্থানে রেলওয়ে ক্রসিং-এর পরিবর্তে রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ সংক্রান্ত বিষয়ে এক সভা মঙ্গলবার সকালে নগর ভবনের জিআইজেড মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা প্রশাসন, রেলওয়ে, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, ওজোপাডিকো, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও কেডিএ’র প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, খুলনা-মোংলা রেলওয়ে প্রকল্পের আওতায় মহাসড়ক দু’টিতে দুটি রেলওয়ে ক্রসিং নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক দু’টিতে রেলওয়ে ক্রসিং নির্মাণ করা হলে ভবিষ্যতে উক্ত অংশে যানজটসহ দুর্ঘটনা ঘটার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। উদ্ভুত সমস্যা নিরসনকল্পে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মাসিক উন্নয়ন ও সমন্বয় সভায় রেলওয়েসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে উক্ত স্থানসমূহে রেলওয়ে ক্রসিং-এর পরিবর্তে রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণের অনুরোধ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় কেসিসি’র পক্ষ থেকে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সিটি মেয়র বলেন, খুলনা-মোংলা রেলওয়ে প্রকল্পটি বর্তমান সরকারের একটি যুগান্তকারী উন্নয়ন প্রকল্প। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর করতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছেন। প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে জনমানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। সরকারের এ মহতী কর্মপ্রচেষ্টা সফল করতে সরকারি-বেসরকারি সকল মহলের আন্তরিক প্রচেষ্টা দরকার। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তিনি রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণসহ উত্থাপিত সুপারিশসমূহ বিবেচনায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
খুলনা-চুকনগর-সাতক্ষীরা আঞ্চলিক মহাসড়কের জিরো পয়েন্টে ফ্লাইওভার নির্মাণের জন্য কেডিএ’র পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাবনা রয়েছে বলে সভায় জানানো হয়। এছাড়া সড়কসমূহে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্রসিংসহ ব্যস্ততম স্থানে পথচারীদের যেন দুর্ভোগ পোহাতে না হয় তার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণেরও প্রস্তাব করা হয়। খুলনা-মোংলা রেলওয়ে প্রকল্পের আওতায় রেলক্রসিং-এর পরিবর্তে রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হবে বলে খুলনা-মোংলা রেলওয়ে প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক সভায় অবহিত করেন।
কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্মসচিব) লস্কার তাজুল ইসলাম, সচিব মোঃ আজমুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মোঃ মারুফুল আলম, সড়ক ও জনপথ বিভাগ-খুলনার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ আসলাম আলী, নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আনিসুজ্জামান মাসুদ, খুলনা-মোংলা পোর্ট রেলপথ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোঃ আরিফুজ্জামান, উপ-প্রকল্প পরিচালক আহম্মদ হোসেন মাসুম, নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আরিফুল ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ড-খুলনার উপবিভাগীয় প্রকৌশলী কৃষ্ণ পদ দাস, কেডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী কাজী সাবিরুল আলম, কেসিসি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, আর্কিটেক্ট রেজবিনা খানম, ওজোপাডিকো’র সহকারী প্রকৌশলী তারেক আহমদ প্রমুখ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
ঝিনাইদহে কৃষকলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি-
ঝিনাইদহে কৃষকলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে আগামী ৭ মে সদর উপজেলা কৃষক লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে এ বর্ধিত সভার আয়োজন করে সদর উপজেলা কৃষকলীগ। সে সময় সদর উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি শফি উদ্দিন আহমেদ মিন্টুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান তোতা’র সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষকলীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাড. আব্দুর রশিদ।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষকলীগের সভাপতি সাজেদুর রহমান সোম, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এম এস উজ্জল, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম রাজীব হাসান রাজু।
এসময় সদর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন সহ সকল ওয়ার্ড সম্মেলন সম্পন্ন করবার জন্য এ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বর্তমান মানবিক সরকারের আমলে একটি লোকও অসুস্থ, অভুক্ত ও গৃহহীন থাকবে না: এমপি বাবু
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবু বলেছেন, বর্তমান এ মানবিক সরকারের আমলে একটি লোকও অসুস্থ, অভুক্ত ও গৃহহীন থাকবেনা। পাইকগাছায় অসুস্থদের মাঝে প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত চিকিৎসা সহায়তার চেক বিতরণ কালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে দরিদ্র মানুষের চিকিৎসার জন্য যেভাবে অনুদান দেওয়া হচ্ছে, আওয়ামী লীগ ব্যতিত কোন সরকার তা দিতে পারেনি। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে এ ধারা অব্যাহত রাখার আহবান জানান। মঙ্গলবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগম। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শিয়াবুদ্দীন ফিরোজ বুলুর পরিচালনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শিক্ষা অফিসার বিদ্যুৎ কুমার সাহা, ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, কওছার আলী জোয়ার্দার, আব্দুল মান্নান গাজী,শংকর দেবনাথ, স্নেহেন্দু বিকাশ ও নির্মল চন্দ্র অধিকারী। বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত ১৯ জনকে মানবিক সহায়তার ১৫ লাখ ২০ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়।
ডুমুরিয়ায় তিন সন্তানের জননীর আত্মহত্যা
ডুমুরিয়া প্রতিনিধি
ডুমুরিয়ায় মস্তিষ্ক বিকৃত রোজিনা বেগম (৪০) নামের এক গৃহবধূ গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে উপজেলার খলশি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সে ওই এলাকার মোজাফফর খানের স্ত্রী। পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত তিন সন্তানের জননী রোজিনা বেগম মস্তিষ্ক জনিত রোগে দীর্ঘ দিন অসু¯’ হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে ঘটনার দিন সকালে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনা¯’ল আঠথেকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে এবং থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সাতক্ষীরায় করোনা উপসর্গ নিয়ে এক নারীসহ ৫ জনের মৃত্যু
খান নাজমুল হুসাইন, সাতক্ষীরা
সীমান্ত জেলা সাতক্ষীরায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার উপসর্গ নিয়ে এক নারীসহ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। করোনা ডেডিকেটেড সামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাতে তারা মারা যান। এ নিয়ে জেলায় আজ পর্যন্ত করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন মোট ৮১৯ জন। আর ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আরো মোট ৯১ জন। এদিকে, গত ২৪ ঘন্টায় ১৪৬ জনের নমুনা পরীক্ষা শেষে নতুন করে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ২৪ জন। যা শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
ভাইরাসটির উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘন্টায় যারা মারা গেছেন তারা হলেন, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দহাখোলা গ্রামের নবাব আলীর স্ত্রী সফুরা খাতুন (৩০), খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার হাউলিয়া গ্রামের মাকফিতুর রহমানের পুত্র মশিয়ার রহমান (৬০), সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়া এলাকার মৃত গোলাম মোস্তফার পুত্র মজিবর রহমান (৭৮), শ্যামনগর উপজেলার কাশিমারী গ্রামের মৃত তছির উদ্দীন গাজীর পুত্র নুরমোহাম্মদ (৬৫) ও আশাশুনি উপজেলার বসুখালী গ্রামের আবুল কালামের পুত্র ইয়াসিন (১৫)।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টসহ করোনার নানা উপসর্গ নিয়ে গত এক সপ্তাহে তারা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তারা মারা যান।
সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. হুসেইন শাফায়েত জানান, জেলায় বর্তমানে ৫৭১ জন করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এরমধ্যে ৫৫৮ জন বাড়িতে ও বাকী ১৩ জন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনি করোনা সংক্রমন থেকে রক্ষা পেতে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি সকলকে মাস্ক পরার আহবান জানান।
কেসিসি ২ নং ওয়ার্ড ডিজিটাল সেন্টারের উদ্ভোধন
ফুলবাড়ীগেট প্রতিনিধি
জনগনের দৌর গোড়ায় তথ্যপ্রযুক্তি ও সেবা পৌছে দেওয়ার লক্ষে কেসিসি ২ নং ওয়ার্ড ডিজিটাল সেন্টারের উদ্ভোধন অনুষ্ঠান ৮ জানুয়ারী মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় ফুলবাড়ীগেট পুলিশ ফাঁড়ী সংলগ্ন তিনরাস্তা মোড়ে অনুষ্ঠিত হয় । অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কেসিসি ২ নং ওয়ার্ড কমিশনার মোঃ সাইফুল ইসলাম। ২ নং ওয়ার্ড নাগরিক ফোরামের সভাপতি মাষ্টার শাহাজান হাওলাদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন , মহেশ^রপাশা খাদ্যগুদাম ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক আঃ জলিল । ২ নং ওয়ার্ড ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যেক্তা মোঃ মিরাজুল ইসলাম ও শেখ হাসিবুর রহমান এর যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মোঃ মাসুদ পারভেজ সোহেল, কামাল মুন্সি, আরিদ হোসেন, নুর ইসলাম আকন, মোঃ আলামিন । উদ্ভোধন অনুষ্ঠান শেষে ডিজিটাল সেন্টারের সাফল্য কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয় । দোয়া পরিচালনা করেন হাফেজ মোঃ জাহিদুল ইসলাম ।
দিঘলিয়ায় নিজ জমিতে বসবাসে বাঁধা বসতঘর ভাংচুর প্রাননাশের হুমকি থানায় অভিযোগ
ফুলবাড়ীগেট প্রতিনিধি
দিঘলিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড এর পানিগাতী বিশ্বাসপাড়া এলাকায় নিজের ক্রয়কৃত জমিতে প্রভাবশালী মহল বসবাসে বাঁধা , সীমানা খুটি ভেঙে ফেলা ও প্রাননাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে । এ ঘটনায় ভুক্তভোগি মোঃ আজিজুল গাজীর পুএ জয়নাল গাজী (সুজন) দিঘলিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ ও এলাকাবাসির সুত্রে জানা যায় জয়নাল গাজী (সুজন) একই গ্রামের মোজাফফর বিশ্বাস এর কাছ থেকে ৬ শতক জমি ক্রয় করে। যার এস এ খতিয়ান নং-২২৩৭ এবং দাগ নং-২৬৪৮/২৬৪৯/২৭২৯ এবং সুজন উক্ত জমিতে বসত বাড়ি নির্মান করে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করতে থাকে, গত ১৫ ই জানুয়ারী সকাল ১০টার দিকে সুজনের বসত বাড়িতে একই এলাকার ইকতার বিশ্বাস(৬০), ও তার পুএ খালেক বিশ্বাস (৫০),বাবুল বিশ্বাস (২৯),আল-আমীন বিশ্বাস (৩২) চড়াও হয় এবং সুজন এর বাড়ি ভাংচুর এর চেষ্টা চালায় এসময় সুজন গাজী বাঁধা দিলে তাকে অকাথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে পরবর্তিতে গত ৩০ শে জানুয়ারী একই ব্যক্তিরা পুনরায় জয়নাল গাজী (সুজন) এর বাড়িতে প্রবেশ করে ও আবারও তার বাড়ি ভাংচুর এর চেষ্টা চালায় একপর্যায়ে সুজনকে ১ সপ্তাহের মধ্যে জমি খালি করে দেওয়ার হুমকি দেয়। ঘটনার সুবিচার চেয়ে ভুক্তভোগি সুজন গাজী দিঘলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ তদন্ত কারী কর্মকর্তা দিঘলিয়া থানার এস আই ইয়াসিন আরাফাত জানান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন সুজন গাজী নামে এক ব্যক্তি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন । এবং উক্ত অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছে । ঘটনার তদন্ত চলছে সত্যতা প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
বেনাপোলে বিপুল পরিমান ফেনসিডিল সহ পাঁচজন আটক
বেনাপোল প্রতিনিধি
যশোরে পৃথক অভিযানে শার্শা ও বেনাপোল থানা পুলিশ ২১৫ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধারসহ পাঁচজনকে আটক করেছে। মঙ্গলবার বিকেলে শার্শা বাস স্ট্যান্ড যাত্রী ছাউনির সামনে ও একই উপজেলার গড়িডাঙ্গা গ্রাম থেকে ফেনসিডিলসহ তাদের আটক করেন।
আটককৃতরা হলো- একই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মনিরুজ্জামান ওরফে মনিরুল (৫০)ও গোলাম হোসেনের ছেলে আ. সালাম (৪৫). বেনাপোল তালশারি গ্রামের জামসেদের ছেলে রাশেদ, রাশেদ রহমান এবং ভবের বেড় গ্রামের বাবর আলীর ছেলে তৈয়েমুর(৫০)।
জেলা পুলিশের মুখপাত্র ডিবির ওসি রুপন কুমার সরকার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, বেনাপোল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৫০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধারসহ মনিরুল সালামকে আটক করেছ।
পৃথক শার্শা থানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে ১৬৫ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধারসহ রাসেল, তৈয়েমুর ও রাশেদ রহমানকে আটক করেছে।
নড়াইলে আঞ্জুমান মফিদুলের উদ্যোগে কম্বল বিতরণ
মোঃ তাহের আলী মোল্যা, নড়াইল
নড়াইলে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের উদ্যোগে দুস্থ এতিম, গরীব, অসহায় শীতার্তদের মাঝে ১০০ পিস কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় শহরের রুপগঞ্জ পুলিশ লাইন এলাকায় অবস্তিত আঞ্জুমান মফিদুল কার্যালয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে কম্বল বিতরণ করেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক মোঃ মঈনুল ইসলাম। আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক এম এম
মোসলেম উদ্দিন নান্নুর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্তিত ছিলেন আঞ্জুমান মফিদুলের উপ-পরিচালক মোঃ আমজাদ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ মোঃ আনোয়ার হোসেন, নড়াইল প্রেসক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি সুলতান মাহমুদ, আর্জিনা খান। আঞ্জুমান মফিদুল নড়াইল শাখা সূত্রে জানা যায়, এর আগে এ সংস্তার পক্ষ থেকে আরো ১০০টি কম্বল দুস্থ এতিম,গরীব শীতার্ত মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ও ভারতের ইন্দোর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়
তরিকুল ইসলাম লাভলু
কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সর্বোত্তম অনুশীলনগুলি ভাগ করে নেওয়ার জন্য ভারতের ইন্দোরের ও ঢাকা উত্তরের সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে একটি ভার্চুয়াল সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ ফেব্রুয়ারী) এই ওয়েবিনার আয়োজনে সহায়তা করেছে ভারতীয় হাই কমিশন এবং ভারত সরকারের আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ২০২১ সালে ভারত সরকার কর্তৃক পরিচালিত বার্ষিক পরিচ্ছন্নতা সমীক্ষায় (স্বচ্ছ সর্বেক্ষণ) ইন্দোর শহরকে ভারতের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে স্থান দেওয়া হয়েছিল৷ মধ্যপ্রদেশ রাজ্যে অবস্থিত এই শহরটি ২০১৭ সাল থেকে টানা ৫ বার এই স্থান জিতেছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য এর প্রশংসনীয় পদ্ধতির কারণে, যার মধ্যে রয়েছে বর্জ্য পৃথকীকরণ, ঘরে ঘরে গিয়ে বর্জ্য সংগ্রহ, বাসিন্দাদের দ্বারা বাড়িতে কম্পোস্টিং, দিনের বর্জ্য পুনর্ব্যবহার, কেন্দ্রীয় কম্পোস্টিং সুবিধা ইত্যাদি।
ভারতের পক্ষে ওয়েবিনারে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মিশন পরিচালক ও স্বচ্ছ ভারত মিশনের যুগ্ম সচিব শ্রীমতী রূপা মিশ্র, ইন্দোর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের অতিরিক্ত কমিশনার শ্রী সন্দীপ সোনি, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনাকারী ইন্দোর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের কর্মকর্তাগণ এবং সেন্ট্রাল পাবলিক হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং অর্গানাইজেশনের প্রতিনিধিগণ। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অতিরিক্ত সচিব ও প্রধান নির্বাহী মো. সেলিম রেজা বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন, যার মধ্যে রয়েছেন ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আমিরুল ইসলাম, পিএসসি, ডিএনসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর এস এম শরীফ-উল ইসলাম এবং ডিএনসিসির অন্যান্য সদস্য।
ওয়েবিনারে ইন্দোর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা তাদের বর্জ্য সংগ্রহের পদ্ধতি, উদ্ভাবনী অনুশীলন এবং দক্ষ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য তাদের দ্বারা গৃহীত প্রযুক্তি নিয়ে কথা বলেছেন। ইন্দোরের মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন শতভাগ ঘরে ঘরে গিয়ে বিচ্ছিন্ন বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা, মিউনিসিপ্যাল ক্লিনারদের জন্য বায়োমেট্রিক উপস্থিতি ব্যবস্থা, জিপিএস-ট্র্যাক করা যায় এমন বর্জ্য সংগ্রহের যানবাহন ইত্যাদির বিশদ বিবরণ দিয়েছে। অন্যদিকে, ডিএনসিসি কর্মকর্তারা তাদের সর্বোত্তম অনুশীলনগুলি বিষয়ে এবং কীভাবে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ অন্যান্য পৌর পরিষেবার ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়া যায় সে সম্পর্কে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে শ্রীমতী রূপা মিশ্র বলেন যে, পারস্পরিক শিক্ষার অনেক সুযোগ রয়েছে এমন একটি বিষয়ে বাংলাদেশের সাথে যুক্ত হতে পেরে ভারত আনন্দিত। তিনি সহযোগিতাকে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানান। ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী মো. সেলিম রেজাও দুই নগর সভার মধ্যে অনুষ্ঠিত এই ধরনের প্রথম ওয়েবিনারকে স্বাগত জানান।
খুবি অফিসার্স কল্যাণ পরিষদের শোক
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলে কর্মরত সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান খান মুকুলের মাতা আনোয়ারা খানম এর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার্স কল্যাণ পরিষদের নেতৃবৃন্দ। এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। বিবৃতিদাতারা হলেন পরিষদের সভাপতি এস এম মনিরুজ্জামান (পলাশ) ও সাধারণ সম্পাদক দীপক চন্দ্র মণ্ডলসহ নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ।
শরণখোলায় খালে বাঁধ দিয়ে মাছের চাষ করায় দু’শ বোরো চাষী বিপাকে
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি।।
বাগেরহাটের শরণখোলায় একটি খালের একাংশ ব্যক্তি মালিকানা দাবী করে বাঁধ দিয়ে মাছের চাষ করেছেন স্থানীয় এক মৎস্যজীবী। ফলে সিডর ও আইলা বিধ্বস্ত এ জনপদের দু’ শতাধিক চাষী খাল থেকে নিয়মিত পানি ওঠা-নামা করতে না পারা এবং পানি সংরক্ষন করতে না পারায় তাদের বোরো চাষ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে স্থানীয় পানি ব্যাবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মনিরুজ্জামান খান সহ অর্ধশত চাষী স্বাক্ষরিত অভিযোগে জানাযায়, উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের ৪নং রায়েন্দা ওয়ার্ডের মৃত আঃ মজিদ হাওলাদারের পুত্র ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের ভাই মোঃ কামরুল ইসলাম শরণখোলা ৩৫/১ পোল্ডারের সøুইসগেট (এফ.এস-৭) সংলগ্ন এলাকায় সরকারী রেকর্ডীয় খালের একাংশ নিজের দাবী করে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে মাছের ঘের করেন। ফলে খাল দিয়ে ঠিকমত পানি ওঠানামা করতে না পারায় অসংখ্য চাষীদের বোরো চাষ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। ভুক্তভুগী চাষীরা অনতি বিলম্বে অবৈধভাবে দেয়া বাঁধ কেটে দিয়ে খালটি পুনঃখননের দাবী জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ গিয়াস উদ্দিন জানান, মাঠের জলাবদ্ধতা নিরসনে এবং বোরো ও আমন চাষীদের জন্য এ খালটি অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রাখে। ব্যক্তি স্বার্থে এটিতে বাঁধ দিয়ে মাছের ঘের করা হয়েছে যা সর্ম্পুন খামখেয়ালী মুলক। স্থাণীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মোজাম্মেল হোসেন জানান, খালে বাঁধ দিয়ে জনদূর্ভোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। এটি একটি স্বেচ্ছাচারীতা। এ খাল চাষীদের সুবিধার্থে পরিষদের মাধ্যমে বহুবার কাটা হয়েছে। এ ব্যাপারে মোঃ কামরুল ইসলাম জানান, অবৈধভাবে কিছু করা হয়নি। পৈত্রিক জমিতে তিনি মাছের চাষ করেছেন শুধু।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ওয়াসীম উদ্দিন জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আজগর আলী স্যারকে নিয়ে বিবাদমান খাল এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। বিবাদীর মালিকানাধীন কিছু জমি খালের মধ্যে রয়েছে তাই তিনি বাঁধ দিয়ে মাছের চাষ করেছেন। তবে চাষীদের স্বার্থে তাঁর খাল কেটে দিয়ে পানি চলাচলের ব্যাবস্থা করা উচিৎ। আমরা জনস্বার্থে খাল কেটে দেয়ার জন্য মোঃ কামরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি ।
মহেশপুরে ইউনিয়ন ভূমি সহকারীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ
মহেশপুর(ঝিনাইদহ)প্রতিনিধি,
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার এসবিকে ইউনিয়ন ভূমি সহকারীর বিরুদ্ধে ব্যাপক ঘুষ ও দূর্ণীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত সূত্রে প্রকাশ, উপজেলার বজরাপুর গ্রামের ইঞ্জিনিয়ার মোমিনুর রহমান সহ একাধিক ব্যক্তি ইউনিয়ন(ভূমি) সহাকারী আরিফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। উক্ত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আরিফ উদ্দিন উৎকোচ ছাড়া কোন কাজ করে না। গত ৭ ফেব্রুয়ারী ইঞ্জিনিয়ার মোমিনুর রহমান তার অফিসে খাজনা দিতে গেলে অতিরিক্ত ঘুষ দাবি করেন। তিনি দিতে অস্বীকার করলে তাকে অপমান করে অফিস থেকে বের করে দেয়। এছাড়া বজরাপুর মৌজার ১১৯৫ খতিয়ানের ৭৯ নম্বর দাগের ৩৫ শতক জমির ১৪২৭ সাল পর্যন্ত খাজনা পরিশোধ করা থাকলেও তিনি বিগত ১৩ বছরের খাজনা দাবি করেন। ইঞ্জিনিয়ার মোমিন জানান, তার খাজনার পরিশোধের দাখিলা থাকলেও অফিস ভলিয়মে উক্ত নায়েব এন্ট্রি করেননি।
খোজ নিয়ে জানা গেছে,নায়েব আরিফ উদ্দিন সাধারন মানুষের সাথে অশালীন আচরণ সহ দূর্ব্যাবহার করে। মানুষ খাজনা দিতে গেলে রশিদ বই নেই এ ধরণের অজুহাতে ঘুরাতে থাকে এবং হয়রানি করে। নাম খারিজের জন্য সাধারন মানুষের কাছ থেকে সরকারি ফি ছাড়াও তিনগুন বেশী টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সাধারন মানুষ সরকারি সেবা পাওয়ার জন্য তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে নায়েব আরিফ উদ্দিন জানায়, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য নয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) আনিসুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তালা-পাটকেলঘাটা সড়কের শুকনো গাছ এখন মরণ ফাঁদ!
ইলিয়াস হোসেন, তালা(সাতক্ষীরা)।।
সাতক্ষীরার তালা –পাটকেলঘাটা সড়কের কয়েকটি স্থানের শতাধিক শুকনো গাছ এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। যে গাছগুলো পথচারীদের যাতায়াতের সময় ছায়া প্রদান করতো সেই গাছগুলোর জন্য এখন পথচারীরা আতঙ্কের মধ্য দিয়ে চলাচল করছে সড়কটিতে। কর্তৃপক্ষের অবহেলা আর গাফিলতির কারণে প্রতিনিয়ত ছোট-খাটো সড়ক দুঘর্টনা ঘটে চলছে।
সূত্রে প্রকাশ, তালা উপজেলার শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মহাবিদ্যালয়ের মোড়ে থেকে ইসলামকাটি হয়ে পাটকেলঘাটা কুমিরা পোড়াবাড়ি পর্যন্ত মোট ৯ কিঃমিঃ রাস্তার দুই পাশে সিরিস ও মেহগনিসহ নানা রকম গাছ রোপন করে একটি সংস্থা। সেই গাছগুলো ধীর ধীরে বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিতে শুরু করে। কিন্তু সেই ছায়া দেওয়া আর হলো না সড়কের গাছগুলোর। অম্পান ঝড়ের তান্ডবে গাছগুলো দুমড়ে মুচড়ে যায় এবং বিশেষ করে ইসলামকাটী ও কুমিরা এলাকার প্রায় কয়েক শতাধিক গাছ পানিতে নিমজ্জিত হয়ে যায়। পানিতে নিমজ্জিত থাকায় উক্ত সড়কের গাছগুলোর ছোট-বড় ডাল শুকিয়ে এখন পথচারীদের উপর পড়ছে। এছাড়া অধিকাংশ গাছের মূল শিকড় নষ্ট হয়ে গেছে। যখন-তখন বড় গাছগুলো উপড়ে পড়তে পারে পথচারীদের মাথার উপর। তাই পথচারীদের জীবন-প্রাণ হাতে নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
আক্ষেপ করে শামীমুল ইসলাম নামের এক পথচারী বলেন, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যস্ততম এই সড়কে প্রতিদিন তালা উপজেলা থেকে হাজার হাজার কর্মজীবী নারী পুরুষ আদালতে, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চিকিৎসা সেবা নিতে যাওয়াসহ পাটকেঘাটা বাজারে যাতায়াত করেন। এমনকি স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে এই রাস্তা দিয়ে। তাদেরকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। অতিদ্রুত রাস্তার দুপাশের নষ্ট গাছ গুলো অপসারণ করা হোক। তা না হলে যেকোন সময় ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
মহেন্দ্র সমিতির সভাপতি মোঃ মিন্টু সরদার ও মোটরসাইকেল শ্রমিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম খোকন জানান, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীবাহী গাড়ি নিয়ে যাতয়াত করেন তারা। মাঝে মাঝে হঠাৎ গাছের বড় বড় ডাল ভেঙে পড়ে। যে কোন সময়ে মাথার উপর গাছ ভেঙে পড়তে পারে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই গাছ গুলো রাস্তার পাশ থেকে সরিয়ে ফেলার দাবী জানাচ্ছি।
ইসলামকাটী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল আজিজ বলেন, কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। কয়েক দিন আগে ইসলামকাটি কালভার্টের পাশে একটি যাত্রীবাহী ভ্যানের উপর বড় একটি গাছ ভেঙে পড়ে। তবে এ দুর্ঘটনায় কেউ নিহত হয়নি। যত দ্রুত সম্ভব মরা গাছগুলো অপসারণ করতে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস জানান, তালা-ইসলামকাটি-পাটকেলঘাটা সড়কের শুকিয়ে যাওয়া গাছগুলো জেলা পরিষদের। গাছগুলো মরে যাওয়ার ফলে মানুষের চলাচলের বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে বিষয়টি জেলা পরিষদকে অবহিত করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, তালা থেকে পাটকেলঘাটার সড়কের গাছগুলো সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের। অধিকাংশ গাছ শুকিয়ে যাওয়ায় রাস্তার উপর ভেঙে পড়ছে। গাছগুলো কাটার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে।
বঙ্গোপসাগরে চতুর্থ দিনের অভিযানে আরো ২ জেলের লাশ উদ্ধার, এখনও নিখোঁজ ৮
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ।।
বঙ্গোপসাগরে মঙ্গলবার চতুর্থ দিনের অভিযানে নিখোঁজ আরো দুই জেলের লাশ উদ্ধার হয়েছে। এর আগে শনি দুইজন ও সোমবার দুইজনের মরদেহ উদ্ধার হয়। এনিয়ে ৬ জনের লাশ উদ্ধার হলেও এখনও নিঁখোজ রয়েছে ৮ জন। গত শুক্রবার রাতে আকস্মিক ঝড়ের কবলে পড়ে দুবলার চর সংলগ্ন গভীর বঙ্গোপসাগরের ১৯টি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে ১৪ জেলে নিখোঁজ হন।
পূর্ব সুন্দরবনের দুবলা জেলে পল্লী টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রহ্লাদ চন্দ্র রায় বলেন, শুক্রবারের ঝড়ে সাগরে ট্রলার ডুবে নিখোঁজদের মধ্যে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ বাকী ৮ জেলে ও ৭টি ট্রলারের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বনবিভাগ, কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী ও দুবলা ফিসারম্যান গ্রুপের সমন্বয়ে এ উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।
বটিয়াঘাটায় অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন – শেখ হারুন
খবর বিজ্ঞপ্তিঃ
জাতির জনকের সুযোগ্য কণ্যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে এদেশের কোন লোক তাদের মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত হবে না। দেশ আজ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশ্বদরবারে মাথা উচু করে দাড়িয়েছে। এদেশের কোন অসহায় মানুষ যাতে শীতবস্ত্রের অভাবে কষ্ট না পায় তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল বেলা ১.০০ টায় বটিয়াঘাটার জলমা ইউনিয়ন পরিষদ অডিটরিয়ামে শীতবস্ত্র বিতরণ কালে একথা বলেন খুলনা জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ হারুনুর রশীদ। জলমা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বাবু বিধান রায় এর সভাপতিত্বে এবং খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামরুজ্জামান জামাল এর সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সরফুদ্দিন বিশ্বাস বাচ্চু, জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য বুলু রায় গাঙ্গুলী, পাপিয়া সরোয়ার শিউলি, মোঃ জামিল খান, বটিয়াঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য দিলিপ হালদার, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ এর সাধারন সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য মিজানুর রহমান বাবু, যুবনেতা সরদার জাকির হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইমরান হোসেন, জেলা যুবনেতা মাহাফুজুর রহমান সোহাগ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বিধান চন্দ্র রায়, উপজেলা যুবলীগ নেতা অনুপম বিশ্বাস, বিপ্লব মল্লিক, বিকাশ হালদার, ছাত্রলীগ নেতা আমির মোমেনীন রানা, তানভীর রহমান আকাশ, চিশতি নাজমুল বাসার সম্রাট, কবিরুল ইসলাম, মফিজুর রহমান মুন্না, সম্পদ, শেখ রেজওয়ান ইমন, ইসমাইল মৃধা ইমন, সজল আকন, হৃদয়, মিলু প্রমুখ।
বেগম খালেদা জিয়ার সম্মাননা প্রাপ্তি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামকে তরান্বিত করবে: খুলনা বিএনপি
খবর বিজ্ঞপ্তি
গণতন্ত্রের প্রতি অসামান্য অবদানের জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ এবং ‘ডেমোক্রেসি হিরো’ সম্মাননা দিয়েছে কানাডিয়ান হিউম্যান রাইটস ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (সিএইচআরআইও)।
খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ আজ এক যৌথ বিবৃতিতে সিএইচআরআইও’কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, বর্তমান বিশে^ গণতন্ত্রের জন্য এতোটা ত্যাগ স্বীকার করা কোন নেতা এই মুহুর্তে আছে বলে আমাদের জানা নেই। আজ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও তার সেই ত্যাগ স্বীকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার এই স্বীকৃতি দেশ থেকে হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামকে আরো বেগবান করবে এবং আন্দোলনের সাথীদের সাহসী করবে বলে নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে বিএনপি নেতারা বলেন, বাংলাদেশ থেকে গণতন্ত্র আজ অপহৃত, মানুষের মত প্রকাশ এবং ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। গণতন্ত্রের খোলসে একদলীয় ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থা কায়েম হয়েছে, যার বিরুদ্ধে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এ দেশের মানুষ সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেলেন বলে অবৈধ অনির্বাচিত শাসক গোষ্ঠী একটি সাজানো পাতানো মামলায় আজ্ঞাবহ আদালতের রায়ে তাকে কারাবন্দী করেছে। পরিত্যক্ত নির্জন কারাগারে বন্দী রেখে স্লো-পয়জনিংয়ের মাধ্যমে দেশের সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রীকে তিল তিল করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। আর তাদের এই অপকর্ম ফাঁস হয়ে যাবে বলেই এই সরকার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিতসার জন্য বিদেশে যেতে দিতে চায়না।
খুলনা বিএনপি নেতারা বিবৃতিতে বিএনপির চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন এবং তার যথাযথ চিকিতসা গ্রহণের ব্যবস্থা নিতে জোর দাবি জানান। বিবৃতিদাতারা হলেন মহানগর বিএনপির আহবায়ক শফিকুল আলম মনা, জেলা আহবায়ক আমির এজাজ খান, মহানগর সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন, জেলা সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পী, মহানগর সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক তরিকুল ইসলাম জহির, জেলা সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আবু হোসেন বাবু।
রূপসায় ইউসিসিএ লি: এর অফিস সহকারীর বিদায় সংবর্ধনা
রূপসা প্রতিনিধি:
রূপসা উপজেলার পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (ইউসিসিএ লি:) অফিস সহকারী অনন্ত কুমার পালের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান গত ৭ জানুয়ারী পল্লী ভবন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। ইউসিসিএ লি: এর চেয়ারম্যান এ্যাড. সুশীল কুমার পালের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তৃতা করেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা তারেক ইকবাল আজিজ। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি ছিলেন অফিস সহকারী অনন্ত কুমার পাল। বক্তৃতা করেন সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা কাজী সাইদুজ্জামান, অমিত কুমার সরকার, সহকারী হিসাব রক্ষক রবিউল ইসলাম ফকির, পরিদর্শক গোপাল চন্দ্র কুশারী, আবুল হাসান, গীতা রানী মহলী, ফিল্ড অফিসার কৃষ্ণ গোপাল সেন, অনিমেশ আশ, নাজমা বেগম প্রমুখ।
দেবহাটার সখিপুরে ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত
দেবহাটা প্রতিনিধি
মানুষ মানুষের জন্য জীবন জীবনের জন্য এই মানবধর্মী বাণী লালন করে লায়ন্স ক্লাব অব ঢাকা ওয়েসিসের আয়োজনে এবং ফিরোজা মজিদ ট্রাস্ট সখিপুর ও সরকারি খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা কলেজ রোভার স্কাউটস গ্রুপ এর সহযোগিতায় মঙ্গলবার ৮ ফেব্রুয়ারি, ২২ ইং তারিখ দিনব্যাপী দ্বাদশ ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্প সখিপুর সাহেব বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয়। নলতা চক্ষু ও জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক প্রাক্তন ইউএইচও ডাঃ শেখ আকছেদুর রহমানের নেতৃত্বে উক্ত ক্যাম্পে রোগী দেখেন কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডাঃ গোলাম মোস্তফা, ডাঃ দেবীপ্রসাদ নয়ন, ডাঃ আবু হাসান, ডাঃ অমরেশ হালদার এবং তাদেরকে সহযোগিতা করেন নলতা ম্যাটসের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীবৃন্দ ও রোভার স্কাউটস গ্রুপ সরকারি খানবাহাদুর আহছানউল্লা কলেজ। ক্যাম্পের শুরুতে উপস্থিত ছিলেন সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি আবু রাহান তিতু, আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান ও ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের ওয়াস ও স্বাস্থ্য সেক্টর প্রধান ইকবাল মাসুদ, জেলা রোভার স্কাউটসের কোষাধ্যক্ষ আবু তালেব, প্রভাষক হাফিজুর রহমান, সেরাজুজ্জামান, মিজানুর রহমান, কামরুজ্জামান, মোজাফফর হোসেন ও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ। উক্ত ক্যাম্পে ৮০০ জন্য রোগীকে ফ্রী চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ প্রদান করা হয়েছে।
ক্ষমতা হারানোর ভয়ে সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা বেসামাল হয়ে ওঠেছে: মঞ্জু
খবর বিজ্ঞপ্তি।।
খুলনা সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, ক্ষমতা হারানোর ভয়ে সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা বেসামাল ও হিংস্র হয়ে ওঠেছে। গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার পর আওয়ামী সন্ত্রাসীরা মাঠে নেমে বাংলাদেশকে বধ্যভূমি বানাতে চায়। তারা বুঝে গেছে তাদের সময় শেষ। তাই তারা এখন মরিয়া হয়ে উঠেছে। সন্ত্রাসী কায়দা অবলম্বন করে ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে চায়। মঙ্গলবার (৮ ফেব্রুয়ারি) খুলনা বিএনপির উদ্যোগে ২৭নং ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে সদর থানা বিএনপির নেতৃবৃন্দের নিকট কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। মঞ্জু বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। এদেশে তার চিকিৎসা সম্ভব নয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত বিদেশে নেওয়া প্রয়োজন। চিকিৎসকরা বার বার বলেছেন করোনা পরিস্থিতি বেড়ে যাওয়ায় তাকে বাসায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তারপরও আওয়ামী নেতারা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে মিথ্যাচার করছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আব্দুল জলিল খান কালাম, শাহজালাল বাবলু, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, মো. মাহবুব কায়সার, নজরুল ইসলাম বাবু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, মেহেদী হাসান দিপু, ইকবাল হোসেন খোকন, এড গোলাম মওলা, নিজামুর রহমান লালু, গিয়াস উদ্দিন বনি, হাসান মেহেদী রিজভী, শমসের আলী মিন্টু, নিয়াজ আহমেদ তুহিন, মজিবর রহমান ফয়েজ, শামসুজ্জামান চঞ্চল, আবু সাঈদ শেখ, রবিউল ইসলাম রবি, এড. মশিউর রহমান নান্নু, তরিকুল্লাহ খান, ইশহাক তালুকদার, মেজবাহ উদ্দিন মিজু, মহিউদ্দিন টারজান, আব্দুল জব্বার, তৌহিদুল ইসলাম খোকন, আব্দুল মতিন, এড. এমদাদুল হক হাসিব, ওমর ফারুক, আল বেলাল, রিয়াজুর রহমান, ইকবাল হোসেন, জাকারিয়া লিটন, ডা. আব্দুস সালাম, হুমায়ুন কবির, খান মঈনুল হাসান মিঠু, ডা. ফারুক হোসেন, হেদায়েত হোসেন হেদু. আব্দুল হালিম, সাইমুন ইসলাম রাজ্জাক, হাবিবুর রহমান, মোহাম্মদ আলী, নুরুল ইসলাম লিটন, শাকিল আহমেদ, হাসান আল মামুন, শামসুল আলম বাদল, আব্দুস সাত্তার খান পিলু, আকবর হোসেন, মাজেদা খাতুন, ডা. হালিম মোড়ল, ওহেদুজ্জামান বাবু, শাহাবুদ্দিন আহমেদ, সাখাওয়াত হোসেন, কামরুল আলম খোকন, ওলিয়ার রহমান ওলি, মোজাম্মেল হোসেন, শাহারুজ্জামান মুকুল, গোলাম নবী ডালু, ওহাব শরীফ, মেজবাউল আলম পিন্টু, গৌতাম দে হারু, মোস্তাফিজুর রহমান বাচ্চু, আমিন হোসেন মিঠু, এড. নজরুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান কাজল, তৌয়ব ফরাজী, সিরাজুল ইসলাম বাবুল, শামীম আশরাফ, সেলিম বড় মিয়া, শফিকুল ইসলাম শাহিন, আল আমিন তালুকদার প্রিন্স, আবু তালেব, বাবুল গাজী, মাসুদ রেজা, আব্দুল জলিল, আফজাল হোসেন, খান রাজিব হোসেন, জিএম সিরাজ, জাহাঙ্গীর হোসেন, আসাদুল ইসলাম সানা, এম এ হাসান, রবিউল ইসলাম, কামাল হোসেন, টিপু হাওলাদার, মোস্তফা সানা, ফারুক হোসেন, কামরুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর হোসেন দুলাল, আজমল হোসেন পিন্টু, শহিদ হাসান, ফজলুর রহমান, নজরুল ইসলাম নান্না, এসএম আলমগীর হোসেন, মো. দুলাল, লায়লা পারভীন, ঈসা শেখ, আক্তারুজ্জামান, এহিয়া, আশিকুর রহমান সেলিম, মাসুদ রুমী, মোস্তাহিদুল হক দিহান, কবির বিশ্বাস, রাসেল শেখ, মো. আলমগীর, কাকলী আক্তার, ফরিদা বেগম, মারুফ হোসেন প্রমুখ।
শোক: এদিকে খুলনা মহানগর যুবদলের সাবেক সহ সভাপতি মাসুদ খান বাদল এর মাতা আনোয়ারা বেগম ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না……..রাজিউন)। তার মৃত্যুতে গভীর শোক, শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা এবং মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিবৃতি দিয়েছেন খুলনা মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ। বিবৃতিদাতারা হলেন খুলনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মনি।
ভারতীয় নাগরিকের হাতের বিচ্ছিন্ন কব্জি পুনঃসংযোজন
স্টাফ রিপোর্টার।।
বাগেরহাটের রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কর্মরত ভারতীয় নাগরিক মুন্না মাহোতের (৩৬) বাম হাতের বিচ্ছিন্ন কব্জি দীর্ঘ ৮ ঘণ্টা অপারেশনের পর সফলভাবে পুনঃসংযোজন করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি কার্ডিয়াক আইসিইউতে ভর্তি রয়েছেন এবং অবস্থা উন্নতির দিকে বলে চিকিৎসকরা মঙ্গলবার দুপুরে নিশ্চিত করেছেন। জানা যায়, মুন্না বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্রেন অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত রোববার তিনি ক্রেনে মাল পরিবহণ করার সময় ক্রেনের গ্লাস ডোর তার বাম হাতের কব্জি বরাবর পড়ে। এতে তার হাতের কব্জিটি শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ঘটনার পর তার সহযোগীরা বিচ্ছিন্ন কব্জিটি একটি পলিব্যাগে করে ওই দিনই খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালের চিফ কার্ডিয়াক ও ভাস্কুলার সার্জন ডা. এওয়াইএম শহীদুল্লাহের নেতৃত্বে নয় সদস্যের সার্জন টিম এবং অর্থোপেডিক্স সার্জন ডা. মো. গোলাম মোস্তফা রোববার দুপুর ২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অপারেশন করেন। ফলে কব্জিটি সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হয়েছে।
ফেনসিডিল চোরাচালান মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
যশোর প্রতিনিধি
ফেনসিডিল চোরাচালান মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড ও জরিমানার আদেশ দিয়েছেন যশোরের একটি আদালত। মঙ্গলবার অতিরিক্তি জেলা ও দায়ারা জজ ১ম আদালত এবং স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মোস্তফা কামাল এ আদেশ দেন। অতিরিক্তি পিপি অ্যাডভোকেট আবু সেলিম রানা ও অ্যাডভোকেট বিমল কুমার রায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- যশোরের বেনাপোলের বুজতলা গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে আবুল কালাম, নোয়াখালীর সেনবাগ থানার আহাম্মদপুর (পণ্ডিতবাড়ি) গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে ড্রাইভার আব্দুল কুদ্দুস ও মৃত এরশাদ উল্লা মাস্টারের ছেলে গোলাম মাওলা।
জানা যায়, ২০০৯ সালের ১০ অক্টোবর সকালে যশোরে র্যাব-৬ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে বেনাপোল থেকে ফিরোজা কার্গো গাড়িতে ফেনসিডিল নিয়ে যশোরের দিকে আসছে। সংবাদের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ডিএডি আফজাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল বেনাপোল সড়কের গলফ ফিলিং স্টেশনের সামনে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন তল্লাশি শুরু করেন। সকাল ৮টার দিকে ফিরোজা কার্গো গাড়িটি চেকপোস্টে আসলে তল্লাশি করে ১২টি চটের বস্তায় দুই হাজার ২৪৬ বোতল ভারতীয় আমদানি নিষিদ্ধ ফেনসিডিল উদ্ধার করে ওই তিনজনকে আটক করা হয়।
এ ব্যাপারে ডিএডি আফজাল হোসেন চোরাচালান দমন আইনে তিনজনকে আসামি করে কোতয়ালি থানায় একটি মামলা করেন। এ মামলার তদন্ত শেষে ওই বছরের ৩০ জুন এসআই মাহফুজুল হক এজাহারনামীয় তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদলতে চার্জশিট জমা দেন। এ মামলার দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক প্রত্যেকের মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দিয়েছেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ড্রাইভার আব্দুল কুদ্দুস ও গোলাম মাওলা পলাতক রয়েছে। তবে আবুল কালাম আটক রয়েছে।
সুপেয় পানির সংকট নিরসনে ৩৫ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি
খুলনার উপকূলীয় অঞ্চল পাইকগাছা-কয়রায় সুপেয় পানির সংকট নিরসনে ৩৪৭৯ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এ সমস্যা সমাধানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা বিভিন্ন সময় নানা প্রকল্প হাতে নিলেও লবণাক্ততার কারণে তা সফল হয়নি।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে খুলনার পাইকগাছা-কয়রার নদ-নদীর সংযোগ। ফলে সাগরের নোনাপানি সরাসরি উপজেলার নদ-নদীতে সহজে পৌঁছে যায়। ফলে কোনো প্রকল্পই সফলতা পায়নি। বিশেষ করে আইলা, সিডর, আম্ফান, ফনির আঘাতের পর এ দুর্ভোগ আরও বেশি দেখা যায়। অবশেষে এ সমস্যা সমাধানে খুলনা-৬ সংসদ সদস্য মো. আক্তারুজ্জামান বাবু পাইকগাছা-কয়রা সুপেয় পানির ৩৪৭৯ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদন করিয়েছেন।
যা পরিকল্পনা কমিটির সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে এমপি বাবু নিশ্চিত করেছেন। অনুমোদিত এ প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে রেইন ওয়াটার হারভেষ্ট (ট্যাংকি), গভীর নলকূপ, ওয়াস ব্লকসহ নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থাপনা। উপকূলীয় অঞ্চলে দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট নিরসনের স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য, মো. আক্তারুজ্জামান বাবুকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
পাইকগাছায় ৩ ব্যবসায়ীকে জরিমানা
পাইকগাছা প্রতিনিধি
খুলনার পাইকগাছায় পশুখাদ্য ও ভোক্তা অধিকার আইনে তিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিককে ১২ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া নষ্ট করা হয়েছে বেকারিতে তৈরি করা কেক। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ জরিমানা করেন।
উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়নের নতুনবাজারে মা বেকারিতে নোংরা পরিবেশে খাবার তৈরি ও বিক্রির অভিযোগে ১০ হাজার টাকা, রোকেয়া পোল্ট্রি ফিডের লাইসেন্স না থাকায় ১ হাজার ও জামান পোল্ট্রি ফিডে লাইসেন্স নবায়ন না করায় ১ হাজারসহ মোট ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বিষ্ণুপদ বিশ্বাস ও ইউপি চেয়ারম্যান শেখ জিয়াদুল ইসলাম।
সিরিজ বোমা হামলা: জেএমবি নেতার যাবজ্জীবন
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি ।।
২০০৫ সালে দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার মামলায় চুয়াডাঙ্গায় জেএমবি নেতা শায়খুল ইসলাম ওরফে রাকিবকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে আসামির উপস্থিতিতে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক মো. লুৎফর রহমান শিশির এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত শায়খুল ইসলাম ওরফে রাকিব বাগেরহাট জেলার মোড়লগঞ্জ উপজেলার পঞ্চকরন গ্রামের মৃত আলতাফ হোসেনের ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দুপুরে চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের কোর্টমোড়ে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে তৎকালীন এসআই আবদুল মোতালেব বাদী হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই কামরুজ্জামান ২০০৭ সালের ৮ মার্চ দুজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ১৭ সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে দীর্ঘ ১৭ বছর পর চুয়াডাঙ্গা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক আসামির উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন। এতে শায়খুল ইসলাম ওরফে রাকিবকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের এপিপি গিয়াস উদ্দিন বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণ করতে সমর্থ হয়। বিজ্ঞ বিচারক জেএমবি নেতাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। এ রায়ে আমরা খুশি।
৫০ বছরেও পারল না আওয়ামী লীগ
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের কেশবপুরে দীর্ঘ প্রায় অর্ধ শতাব্দী পরও কেশবপুর সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হতে পারলেন না। সোমবার নতুন মুলগ্রাম স্থগিত কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী গৌতম রায় ২০২ ভোটে পরাজিত হয়েছেন।
বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আলাউদ্দীন আলা চতুর্থবারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ইতোপূর্বে ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে ইউনিয়ন পরিষদের ৯টি কেন্দ্রে গৌতম রায় ৫৪৮ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। গোলযোগের কারণে ওই ইউপির ২নং ওয়ার্ডের (নতুন মূলগ্রাম) কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়ে যায়।
সুনির্দিষ্টভাবে একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৩ সালে কেশবপুর সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রয়াত সুবোধ কুমার মিত্র একবারই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর সদর ইউনিয়ন বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থীরা জয়ী হয়ে আসছেন। সর্বশেষ সোমবার ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে বিএনপির সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী আলাউদ্দীন আলা ৬ হাজার ১০২ ভোট পান। গৌতম রায়ের প্রাপ্ত ভোট ৫ হাজার ৯০১।
আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী গৌতম রায় জানান, আমি প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভানেত্রীর প্রার্থী ছিলাম। তার পরাজয়ের কারণ দলের অনেকে তার বিরোধিতা করেছেন। এই জন্য তিনি নৌকাকে জয়ী করে বিগত ৪৯ বছরের রেকর্ড ভাংতে পারলেন না।
দলের নিবেদিতপ্রাণ আওয়ামী লীগ নেতা মহব্বত আলী বলেন, এবার প্রার্থী বাছাই সঠিক ছিল। কিন্তু তীরে এসে তরী ডুবল আমাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে।
ইউপি নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার রিজিবুল ইসলাম জানান, সর্বশেষ সোমবার ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে বিএনপির সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী আলাউদ্দীন আলা ৬ হাজার ১০২ ভোট পান। গৌতম রায়ের প্রাপ্ত ভোট ৫ হাজার ৯০১। চশমা প্রতীকের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম ৪ ভোট পেয়েছেন। আনারস প্রতীকের আয়ুব আলী ও হাতপাখা প্রতীকের আনিসুর রহমান ৩টা করে ভোট পেয়েছেন। আলাউদ্দিন আলা ২০১ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ৫ জানুয়ারি পঞ্চম ধাপের নির্বাচনে এ ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট ৫ হাজার ৩৮৭। স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা আলাউদ্দীন আলা পেয়েছিলেন ৪ হাজার ৯২৯ ভোট। কেশবপুর ইউপির স্থগিত ২ নম্বর নতুন মুলগ্রাম ওয়ার্ডের মোট ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ১১৯ জন।
খুলনা অঞ্চলে করোনায় মৃত্যু ১২
স্টাফ রিপোর্টার
খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা পজিটিভ ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে খুলনায় ৫ জন, নড়াইলে ২ জন এবং সাতক্ষীরা, যশোর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া ও মেহেরপুরে একজন করে রয়েছেন।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. মনজুরুল মুরশিদ এ তথ্য জানিয়েছেন। গত ২৪ ঘন্টায় বিভাগের ১০ জেলায় ১ হাজার ৬৬৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৩২০ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার প্রায় ১৯ শতাংশ।
মেহেরপুরে জেলা প্রশাসকের মোবাইল সিম ক্লোন করে চাঁদা দাবি
মেহেরপুর প্রতিনিধি
মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের মোবাইল ফোনের সিম ক্লোন (হ্যাক) করে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে বিকাশ নম্বরে চাঁদা দাবি করেছে একটি হ্যাকার গ্রুপ। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কর্মকর্তা নাজির জহির উদ্দীন বাদী হয়ে মেহেরপুর সদর থানায় সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
মেহেরপুর সদর থানার তদন্ত অফিসার মো. সাজেদুর রহমান মঙ্গলবার সকালে সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সাধারণ ডাইরিতে জহির উদ্দীন উল্লেখ করেছেন, ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬.৪৫ মিনিটের সময় জেলা প্রশাসকের ব্যবহৃত সরকারি মোবাইল নম্বর থেকে কল করে জেলা প্রশাসকের গাড়িচালক মোমিন হোসেনের কাছে দুই হাজার টাকা বিকাশ করতে বলেন। গাড়িচালক কোনো কিছু না বুঝেই জেলা প্রশাসক ভেবে দুই হাজার টাকা বিকাশ করে দেন। এরপর তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মরত আরও কয়েকজনের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে দুই হাজার টাকা করে দেওয়ার জন্য বলে। পরে জেলা প্রশাসক ড. মুনসুর আলম খান তার ফোন নম্বর ক্লোন হওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন।
সদর থানার তদন্ত অফিসার মো. সাজেদুর রহমান জানান, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে হ্যাকারকে খোঁজার চেষ্টা করা হচ্ছে।
খুলনায় করোনায় চারজনের মৃত্যু
স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনা জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা পজিটিভ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। খুলনা ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, এই হাসপাতালের আইসিইউতে তিনজন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন, নগরীর দোলখোলা এলাকার অজিত সাহা (৭২), বাগেরহাটের কচুয়ায় মনসুর গাজী (৭০) এবং নগরীর টুটপাড়া এলাকার হেনারা বেগম (৬২)। তিনি আরও জানান, হাসপাতালে বর্তমানে ৪৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ৬ জন আইসিইউতে, ২৩ জন রেড জোনে ও ১৮ জন ইয়েলো জোনে ভর্তি রয়েছে।
নগরীর বেসরকারি সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপক আব্দুল হামিদ জানান, এই হাসপাতালে করোনা রোগী যশোরের কেশবপুর উপজেলার আলতাপোল গ্রামের আসাদুজ্জামানের (৫০) মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে ১৯ জন রোগী সেখানে চিকিৎসাধীন।
দখল, দূষণ আর নাব্য সংকটে ধুঁকছে কুমার নদ ও নবগঙ্গা নদী
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি।।
দখল, দূষণ আর নাব্য সংকটে ধুঁকছে হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় বয়ে যাওয়া কুমার নদ ও নবগঙ্গা নদী। নদী দুটিকে দখলমুক্ত করতে মাঝেমধ্যে অভিযান চালানো হলেও তাতে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। অভিযানের পর ফের শুরু হয় দখল উৎসব।
কুমার নদ বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলার মাঝ বরাবর বয়ে গেছে। চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় প্রবাহিত মাথাভাঙ্গা নদী থেকে উৎপত্তি হওয়া ১২৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই নদ এখন মৃতপ্রায়। অন্যদিকে চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে হরিণাকুণ্ডুর রিশখালি, সোনাতনপুর, ভুঁইয়াপাড়া ও ভেড়াখালি গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে নবগঙ্গা। এটি মিশেছে মাগুরায় গড়াই নদীতে গিয়ে। নদী দুটির দুই ধারে পড়ে থাকা চর পরিণত হয়েছে আবাদি জমিতে। কোথাও কোথাও গড়ে তোলা হয়েছে পাকা স্থাপনা। কিছু অংশে নদীর বুকে বাঁধ দিয়ে করা হচ্ছে মাছ চাষ। ফলে প্রবাহ বন্ধ হয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে এই দুটি নদী।
নদী দুটির বিভিন্ন অংশে ঘুরে দেখা গেছে, এর দুই ধারে পড়ে থাকা চরের হাজার হাজার একর জায়গা দখল করে চলছে ফসলের আবাদ। কোথাও কোথাও পাকা স্থাপনাও গড়ে তুলেছে প্রভাবশালীরা। আশ্চর্যের বিষয় হলো- নদীর জায়গা দখলে নিয়ে গড়ে উঠেছে সরকারি প্রতিষ্ঠানও। কুমার নদের ভবানীপুর অংশে গড়ে তোলা হয়েছে পুলিশ ফাঁড়ি। মাঝখানে ফাঁড়ির সীমানাপ্রাচীর দিয়ে কুমারকে এক প্রকার মেরে ফেলা হয়েছে। প্রায় এক একর ৬০ শতক জমির ওপর ফাঁড়িটি স্থাপন করা হয়েছে। তৈলটুপি এলাকায় নদের অংশে পড়ে থাকা চরের মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়। সেখানে মাটিখেকো চক্র পুকুর কেটে মাছ চাষ করছে। এ ছাড়া কুমারের পুরো অংশের দুই ধারের দখল নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীরা গড়ে তুলেছে শতাধিক স্থাপনা।
কুমার নদ সংরক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক আবদুল্লাহ মারুফ জানান, নদকে দখলমুক্ত করতে সভা-সমাবেশ, নদী রক্ষা কমিটি বরাবর প্রতিবেদন পাঠালেও কোনো ফল হয়নি।
কুমার নদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে জরিপ করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও রিভারাইন পিপলের পরিচালক আলতাব হোসেন রাসেল। তিনি বলেন, কুমার নদের উৎসমুখ থেকে শুরু করে পুরোটাই দখলের কবলে। সরকার দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। প্রতিনিয়ত অভিযান চালানো হচ্ছে। তবুও ফল হচ্ছে না।
নবগঙ্গার ভেড়াখালি, ভুঁইয়াপাড়া ও সোনাতনপুর এলাকার প্রায় তিন কিলোমিটার অংশ দখলে অন্তত চারটি স্থানে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছে একটি প্রভাবশালী মহল। বাঁধ দেওয়ার ফলে প্রবাহ বন্ধ হয়ে ওই অঞ্চলে নদীটি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে নদীর ওই অংশের দুই পাড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শত শত একর ফসলি জমি। আর বাঁধ দেওয়ার ফলে সেচ কার্যক্রম থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন কয়েক হাজার কৃষক। বাঁধ দিয়ে পানি আটকে রাখায় অতিরিক্ত পানির প্রবাহে বর্ষা মৌসুমে ওই এলাকার নদীপাড়ের অন্তত ৫০টি ঘরবাড়ি ভাঙনের কবলে পড়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, জনতা মৎস্যজীবী সমিতির নামে প্রভাবশালীরা ১২ বছর ধরে নদীতে বাঁধ দিয়ে অবৈধভাবে মাছ চাষ করছে। তবে ওই সমিতির নেতারা বলছেন, তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে লিজ নিয়ে বৈধভাবে মাছ চাষ করছেন।
মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি অবু বকর সিদ্দিক বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তারা নবগঙ্গার একটি অংশ ইজারা নিয়েছেন। প্রতি বছর ছয় লাখ টাকা খাজনা দিয়ে মাছ চাষ করছেন।
জেলা নবগঙ্গা রক্ষা পরিষদের আহ্বায়ক সাইফুজ্জামান শিমুল বলেন, বছরের পর বছর ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নদী দখলের সঙ্গে জড়িত রয়েছে প্রভাবশালী মহল। অনেক আন্দোলন-সংগ্রামও করেছেন তবুও কোনো ফল হচ্ছে না।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রাজিবুল ইসলাম খান বলেন, ইতোমধ্যে এসব নদী থেকে দখলদারদের উচ্ছেদ করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোথাও ইজারা দেওয়া থাকলে সেটি বাতিল করা হবে। খুব শিগগিরই নদী দখলমুক্ত করা হবে।
না মরা পর্যন্ত ভাইকে পিটিয়ে মারলেন নবনির্বাচিত ইউপি মেম্বার
স্টাফ রিপোর্টার ও রুপসা প্রতিনিধি
অপর প্রার্থীর হয়ে নির্বাচন করায় খুলনার রূপসা উপজেলায় নিজ ভাইকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে নবনির্বাচিত এক ইউপি মেম্বারের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে ওই ইউপি মেম্বারসহ পরিবারের সদস্যরা পলাতক। মঙ্গলবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার টিএসবি ইউনিয়নের পাচানী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি হলেন-ওই গ্রামের মৃত ইকলাস মোল্লার ছেলে ইসরাইল মোল্লা (৫০)। তার দুই সন্তান রয়েছে। অভিযুক্ত ইন্তাজ মোল্লা (৪৮) টিএসবি ইউনিয়নের মেম্বার।
পুলিশ এবং নিহত ব্যক্তির পরিবার সূত্র জানায়, বিকেলে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন ইসরাইল মোল্লা। আকস্মিকভাবে তার বাড়িতে হামলা চালান ভাই ইন্তাজ মোল্লা, তার ছেলে সোহাগ (২৫) ও আরেক ভাই মারুফ মোল্লা। মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা বেধড়ক বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করতে থাকেন। এক পর্যায়ে ইট দিয়ে মাথার অর্ধেক থেঁতলে দেন।
পরে স্ত্রী খাদিজা পারভীনের চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে ঘাতকরা পালিয়ে যান। দ্রুত ইসরাইল মোল্লাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ইসরাইল মোল্লার স্ত্রী খাদিজা পারভীন জানান, জমিজমা এবং কিছুদিন আগে সংঘটিত নির্বাচনকে ঘিরে দুই ভাইয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। তার অভিযোগ, ইসরাইল মোল্লা ইউপি মেম্বার প্রার্থী জব্বারের নির্বাচন করায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে হত্যা করেছেন ইন্তাজ মোল্লা।
ভাষার দাবির মিছিলে প্রথম গুলি চলে যশোরে
যশোর অফিস
দেশ বিভাগের আগে ১৯৪৭ সালে যশোরে ভাষা আন্দোলনের বীজ রোপিত হওয়ার পর ঢাকা তথা সারাদেশের সঙ্গে ৫২ অবধি চলেছে ভাষা সংগ্রাম। ভাষার দাবিতে যশোরেই প্রথম চলেছে গুলি; ঝরেছে রক্ত। ১৯৪৮ সালের ১৩ মার্চ ভাষার জন্য করা মিছিলে গুলি চালায় পুলিশ। মার্চের সেই অগ্নিঝরা দিনগুলো উঠে এসেছে ভাষা নিয়ে গবেষণাকারীদের তথ্য ও প্রকাশনায়।
‘যশোরের ভাষা আন্দোলন’ গ্রন্থে প্রয়াত কবি ও খ্যাতিমান সাংবাদিক ফখরে আলম লিখেছেন, ‘১৯৪৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যশোর মাইকেল মধুসূদন কলেজের (এমএম কলেজের পুরাতন হোস্টেল) এলভি মিত্র হলে সভা করে ঢাকার ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর মতো যশোরে একটি সংগঠন গড়ে তোলা হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২ মার্চ এম.এম. কলেজে ছাত্র ধর্মঘট পালিত হয়। ৭ মার্চ পুনরায় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ১১ মার্চের কেন্দ্রীয় ছাত্র ধর্মঘটের সমর্থনে যশোরে ৮ ও ৯ মার্চ মিছিল মিটিং অনুষ্ঠিত হয়।
১০ মার্চ জেলা প্রশাসক শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে। ছাত্র নেতারা কলেজে জরুরি বৈঠক করে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ ও মিছিল মিটিং করার আহ্বান জানান। ১১ মার্চ শহরে মিছিল ও ধর্মঘট পালিত হয়। সেই দিনই পুলিশ ৩৪ জন নেতাকে গ্রেফতার করে। আর ১৩ মার্চের মিছিলে পুলিশ গুলি চালায়।’
যশোরের ভাষা আন্দোলনের গবেষক কবি সাইদ হাফিজ লিখেছেন, তেভাগা আন্দোলনে নেতৃত্বের কারণে কমিউনিস্ট পার্টির ওপর সরকার তখনো নির্যাতন চালাচ্ছিল। ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসের ভাষা আন্দোলনের কিছু আগে সম্ভবত জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে এক সরকারি আদেশ বলে যশোরের তৎকালীন ডিসট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট ইএ নোমানী কমিউনিস্ট পার্টির অফিস, ছাত্র ফেডারেশনের দপ্তর ও অন্য কয়েকটি সংগঠনের কার্যালয় রিকিউজিশান করে নেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিভিন্ন প্রগতিশীল রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমানের বাসায় একটি যৌথ প্রতিবাদ সভা করেন। ভবিষ্যতে সরকারের এ ধরনের অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপ রুখতে সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘বামপন্থী সমন্বয় কমিটি’ গঠন করা হয়। একইসঙ্গে বাংলা ভাষাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়। এ ঘটনাকে যশোরের রাজনৈতিক দলগুলোর ভাষার প্রশ্নে প্রথম সম্মিলিত প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারে।
সভা শেষে শহরে মিছিল বের হয়। ওই মিছিল শেষে পুলিশ বিশেষ ক্ষমতা বলে বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে জেলে আটকে রাখে এবং আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
১৯৮৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি যশোর শহরের চুড়িপট্টি এলাকায় ছাত্রনেতা আলমগীর সিদ্দিকীর বাসায় এক জরুরি সভা বসে। সেখানে ঢাকার গঠিত ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ এর মতো যশোরে একটি সংগঠন গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়। ওই সভায় বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ১৫-২০ জন ছাত্রনেতা উপস্থিত ছিলেন। আলমগীর সিদ্দিকী, সৈয়দ আফজাল হোসেন, সুধীর রায়, হামিদা রহমান, রণজিৎ মিত্র তাদের মধ্যে অন্যতম। ২৮ ফেব্রুয়ারি যশোর সরকারি এমএম কলেজের (পুরাতন কসবায়, এখন পুরাতন হোস্টেল) এলভি মিত্র লেকচার হলে এক ছাত্রসভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার জন্য আন্দোলন সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে। সরকারি নীতির প্রতিবাদে এল ভি মিত্র হলের সভায় ২ মার্চ এমএম কলেজে ছাত্র ধর্মঘট ও ওইদিন আরও বৃহত্তর পরিসরে ছাত্রসভা অনুষ্ঠানের আহ্বান জানানো হয়। আন্দোলনকে সফলভাবে এগিয়ে নেওয়ার জন্য শতাধিক ছাত্রের উপস্থিতিতে এদিনই ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়। সর্বসম্মতিক্রমে সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নির্বাচিত হন আলমগীর সিদ্দিকী ও রঞ্জিত মিত্র।
সংগ্রাম পরিষদের সদস্য মনোনীত হন হামিদা রহমান, আফসার আহমদ সিদ্দিকী, সুধীর কুমার রায়, দেবীপদ চট্টোপাধ্যায় (মানিক), সৈয়দ আফজাল হোসেন, অশোক ঘোষ, সুনীল রায়, হায়বাতুল্লা জোয়ার্দ্দার, কাজী আব্দুর রাকীব, আব্দুল হক, শেখ আমানুল্লাহ প্রমুখ। এই কমিটিতে সভাপতির কোনো পদ ছিল না। ছাত্ররা তাদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানানোর জন্য মুসলিম লীগ, কংগ্রেস, কমিউনিস্ট পার্টি, ফরওয়ার্ড ব্লক ও সোশ্যালিস্ট রিপাবলিকান পার্টির কাছে ধরণা দেন। কিন্তু একমাত্র কমিউনিস্ট পার্টি ও মুসলিম লীগের সোহরাওয়ার্দী উপদলের নেতা হাবিবুর রহমান ছাড়া আর কারও সমর্থন আদায় করতে ব্যর্থ হন। আন্দোলনের ব্যাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে সবার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরে স্থানীয় বেশ কজন রাজনৈতিক নেতাকে পরিষদের সদস্য হিসেবে ‘কোঅপ্ট’ করে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদকে প্রসারিত করা হয়। তাদের মধ্যে তৎকালীন যশোর পৌরসভার চেয়ারম্যান কংগ্রেস নেতা ডা. ক্যাপ্টেন জীবন রতন ধর, তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা আইনজীবী মশিয়ূর রহমান, মুসলিম লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুল খালেক, ফরওয়ার্ড ব্লকের হীরেন সেন, কমিউনিস্ট পার্টির নেতা অনন্ত মিত্র এবং লুৎফর রহমান প্রমুখ।
১৯৪৮ সালের ২ মার্চ সরকারি নীতির প্রতিবাদে পূর্বসিদ্ধান্ত অনুযায়ী যশোরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভাষা আন্দোলনের প্রথম ধর্মঘট পালিত হয়। ধর্মঘটের সমর্থনে কলেজে এবং শহরে মিছিল মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলকারীরা জিলা স্কুল থেকে ছাত্রদের বের করে আনেন। ৭ মার্চ পুনরায় যশোরে ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’র সভা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ৮ ও ৯ মার্চ প্রতিদিনই ১১ মার্চের ধর্মঘটের সমর্থনে যশোরে মিছিল মিটিং অনুষ্ঠিত হয়।
১০ মার্চ যশোরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইএ নোমানী শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে সকল শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ মিছিল নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। এই ঘোষণা শুনে ওইদিন বিকেল ৪টায় ছাত্রনেতারা নতুন পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’র জরুরি বৈঠক আহ্বান করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ডা. ক্যাপ্টেন জীবন রতন ধর।
রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সভায় ছাত্ররা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সিদ্ধান্ত নেন ১১ মার্চ ১৪৪ ধারা ভেঙে সকাল ১০টায় সরকারি এমএম কলেজ থেকে প্রথম মিছিল বের হবে, সমর্থনকারীরা সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মিছিলে সামিল করে সারা শহর প্রদক্ষিণ করবেন এবং মিছিল শেষে ট্রেডিং ব্যাংক ময়দানে বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।
বেলা ১১টার দিকে সেখান থেকে বিরাট একটি যৌথ মিছিল বের হয়। তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস বর্জনের আহ্বান জানান। এ সময় মিছিলকারীদের কাছে সংবাদ আসে সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে (বর্তমান মোমিন গার্লস স্কুল) ও যশোর পিটিআই স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের ধর্মঘট ও মিছিলে যোগ দিতে বাধা সৃষ্টি করছে।
খবর শুনে পুরো মিছিলটি সেখানে পৌঁছায় এবং সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দের বক্তৃতা শুনে ছাত্র-ছাত্রীরা মিছিলে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। ওই সময় মোমিন গার্লস স্কুলে পড়তেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইএ নোমানী সাহেবের মেয়ে। মেয়েদের মিছিলে অংশগ্রহণ করতে তিনি প্রচণ্ড বাধা দেন। মেয়েদের স্কুল থেকে বের করতে হামিদা রহমান সেদিন ‘জঙ্গি’ ভূমিকা পালন করেছিলেন। হামিদা রহমান তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং সম্ভবত তার একটি দাঁত ভেঙে যায়। এ সময় ভাষাসৈনিক হামিদা রহমান স্কুলে ঢুকে ছাত্রীদের ক্লাস থেকে বের করে আনেন।
পিটিআই’র তদানীন্তন প্রধান শিক্ষক বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও ছাত্র-ছাত্রীরা ক্লাস বর্জন করে মিছিলে যোগ দেন। এরপর যশোরের সর্বস্তরের মানুষ মিছিলে অংশ নেন। প্রায় এক মাইল দীর্ঘ ওই মিছিলটি তৎকালীন সময়ের একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। পুলিশের এক বিরাট বাহিনী মিছিলকে অনুসরণ করে চললো। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় তারা মিছিলে আক্রমণ করলো না। সুদীর্ঘ মিছিলটি হৃদয়ের সব আবেগ ঢেলে দিয়ে রাষ্ট্রভাষা বাংলার পক্ষে আকাশ ফাটা স্লোগান দিতে দিতে এগিয়ে চললো। পিটিআই সড়ক দিয়ে রেল রোড ও ভোলা ট্যাঙ্ক থেকে বামে ঘুরে জেলা স্কুলের দিক থেকে বার লাইব্রেরির সামনে দিয়ে ট্রেডিং ব্যাংকের দিকে এগোতেই জেলা কাউন্সিলের তরুণতম চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মশিয়ূর রহমান ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ স্লোগান দিয়ে মিছিলের পুরোভাগে এসে ভিড়লেন। তার সঙ্গে যোগ দেন আরও কয়েকজন আইনজীবী। মিছিলে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতা অ্যাডভোকেট মশিয়ূর রহমানকে করতালি দিয়ে বরণ করে নেন। মিছিল শেষে দুপুর ১টার দিকে শহরের ট্রেডিং ব্যাংক মাঠে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মিটিং শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। বর্তমান পাবলিক হেলথ ইঞ্জিনিয়ারিং অফিসের সামনে থেকে মশিয়ূর রহমান, রণজিৎ মিত্র, এসএমএইচ জিন্নাহ, আবদুর রাকীব, অনন্ত মিত্র, পবিত্র ধর, রবি কুমার, হাবিবুর রহমান, আবদুর রাজ্জাক, গোলাম মোর্তজা, লুৎফর রহমান, সৈয়দ আফজাল হোসেন, আমিনুল ইসলাম, ইমান আলীসহ মোট ১৪ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করে। ছাত্র-কর্মীরা গ্রেফতার নেতাদের মুক্তির দাবিতে কোর্টের সামনে জড়ো হয়ে মিছিল করেন। পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে বন্দিদের দ্রুত জেলখানায় নিয়ে যান।
শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে ওইদিনই পুলিশ আরও ২০-৩০ জনকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে রাতে এমএম কলেজর পুরনো হোস্টেল ভবনের ছাদে ছাত্রনেতারা সংগ্রাম পরিষদের পরবর্তী করণীয় বিষয়ে জরুরি সভা আহ্বান করেন। একমাত্র ডা. ক্যাপ্টেন জীবন রতন ধর ছাড়া রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দদের মধ্যে আর কেউ এই সভায় উপস্থিত হননি।
সভায় আলমগীর সিদ্দিকী, হামিদা রহমান, আফসার আহমেদ সিদ্দিকী ও সংগ্রাম পরিষদের আরও কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ গোপনে এই বৈঠকের খবর জানতে পারে এবং সেখানে অভিযান চালিয়ে কলেজ ভবন ঘিরে ফেলে। পুলিশ তাদের গ্রেফতারের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলো। কিন্তু কলেজের অবাঙালি দারোয়ান কেশব চন্দ্র বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সংগ্রাম পরিষদর সদস্যদের কলেজের পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেন। অবাঙালি হয়েও তিনি বারবার সংগ্রাম পরিষদের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করতেন। ফলে এ পর্যায়ে তাদের পুলিশের গ্রেফতার এড়ানো সম্ভব হয়।
যশোরের অন্যতম ভাষাসংগ্রামী হামিদা রহমান তাঁর ‘জীবনস্মৃতি’ গ্রন্থে লিখেছেন, ‘কলেজের বেয়ারা কেশবচন্দ্র মিটিং করার বিষয়ে বিপদের ঝুঁকি নিয়ে কলেজের সব দরজা জানালা বন্ধ করে কলেজকে একেবারে অন্ধকার করে দিয়েছিল। উপরের ঘরে একটিমাত্র মোমবাতি জ্বালিয়ে সেদিন আমরা খুব তাড়াতাড়ি মিটিংয়ের কাজ শেষ করি। হুলিয়া নিয়ে নেতারা যেন গা ঢাকা দেয় সেদিনের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হোস্টেল থেকে কেশব একটা পাজামা, একটা শার্ট ও একটি গামছা এনে দিয়েছিল আমাকে। আমি শাড়ি বদলে পাজামা ও শার্ট পরে মাথায় গামছা বেঁধে একটা বিড়ি ফুঁকতে ফুঁকতে কলেজের পেছনের দরজা দিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়লাম। ওই পোশাকে কেউ আমাকে সেদিন চিনতে পারেনি। এ রাস্তা ও রাস্তা অলিগলি হয়ে বাড়িতে রাত আটটায় গিয়ে পৌঁছালাম।
ইতোমধ্যে অন্য ছেলেরা বাড়িতে এসে মাকে খবর দিয়ে গিয়েছে আমি যেন বাড়িতে রাতে না ঘুমাই, কেননা আমার নামে হুলিয়া আছে। মায়ের আদেশক্রমে সেই রাতে আমি পাশের বাড়িতে ঘুমাই। রাতে পুলিশ এসে যখন বাড়ি ঘেরাও করে এবং আমাকে খুঁজে পাওয়ার জন্য বাড়ির জিনিসপত্র তছনছ করে তখন মা ও ছোট ভাই বোনেরা বেশ ভয় পেয়ে যায়। এদিন আমার দাদি নূরু বিবি ঝাটা দিয়ে পুলিশকে তাড়া করেছিলেন।’
যশোরের ভাষা আন্দোলনের গবেষক কবি সাইদ হাফিজ লিখেছেন, যশোরে ভাষা আন্দোলনের সবচেয়ে সংগ্রাম মুখর দিনটি হচ্ছে ১৯৪৮ সালের ১৩ মার্চ। ওইদিনের ঘটনা শুধু যশোরে নয় পূর্ববঙ্গ আইন পরিষদে পর্যন্ত আলোচিত হয়েছিল। সেসময়ের পত্র-পত্রিকাগুলোতেও ওইদিনের ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হয়েছিলো।
ছাত্র-নেতৃবৃন্দের গ্রেফতার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে উদ্দীপ্ত প্রতিবাদ হিসেবে ওইদিন সকাল ৮টার মধ্যেই যশোর সরকারি এমএম কলেজ থেকে মিছিল বের হয়। শহরের সর্বস্তরের মানুষ এমনকি সরকারি কর্মচারীরাও অফিস ছেড়ে মিছিলে যোগ দেন। ওই মিছিলে রিকশাচালক, দোকানি ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার প্রায় ৩ হাজার মানুষ অংশ নেন। ১১ মার্চ গ্রেফতারকৃতদের যে সময় আদালতে হাজির করা হয় ঠিক সেই সময় এই জঙ্গী মিছিল শহর প্রদক্ষিণ শেষে দুপুরে চৌরাস্তা হয়ে কালেক্টরেট ভবনের দিকে আসতে থাকলে দড়াটানার কাছে পুলিশ বাধা দেয়। কালেক্টরেট ভবনে ঢুকতে চাইলে কোতোয়ালি থানার ওসি ও কয়েকজন দারগার সঙ্গে ছাত্র জনতার সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ নির্মমভাবে লাঠি চার্জ শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। নিরস্ত্র ছাত্র-জনতা সাময়িকভাবে ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। নিয়াজ পার্কের অনুচ্চ প্রাচীর লাফিয়ে পার হওয়ার সময় পুলিশ ছাত্রদের পিঠে ৬ ফুট লাঠি দিয়ে প্রহার করেন। ছাত্ররা প্রাচীর পার হয়ে পুলিশের প্রতি বৃষ্টির মতো ইট-পাটকেল ও ডাবের খোসা ছুঁড়তে শুরু করে। এই সময় একটা আশ্চর্য ঘটনা লক্ষ্য করা গিয়েছিলো। শহরের শত শত রিকশাওয়ালা তাদের লুঙ্গির কোঁচড় ভরে রাশি রাশি ইটের গোটা সরবরাহ করছিলেন। আর ছাত্ররা পলায়নমান পুলিশ বাহিনীর প্রতি অবিশ্রাম বৃষ্টির মতো তা নিক্ষেপ করছিলেন। কয়েক মিনিটের এই খণ্ডযুদ্ধে রিকশাওয়ালাদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, ভাষার দাবি শুধু ভাষার জন্যই ছিলো না তা ছিল জাতিগত নিপীড়ন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী আন্দোলন।
অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই খণ্ড খণ্ডভাবে ছাত্র-জনতা আবারও একত্র হন। একপর্যায়ে ছাত্র-জনতার একাংশ আকস্মিকভাবে ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেটের কক্ষে ঢুকে পড়েন। ভাগ্যবশত তিনি তখন কক্ষে ছিলেন না। ছাত্র-জনতা ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট নোমানীর অফিস ভাঙচুর শুরু করেন। পুলিশ সেখানেও লাঠিচার্জ করে তাদের হটিয়ে দেন। তারা কালেক্টরেট ভবনেও হামলা চালান। এ সময় মেয়েরা কোচের (কাপড়ের) মধ্যে থাকা খোয়া পুলিশকে লক্ষ্য করে ছুড়তে থাকেন। ইটের আঘাতে কালেক্টরেট ভবনের দরজা-জানালার গ্লাস ভেঙে যায়। জনতা-পুলিশ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত জনতার ইটের আঘাতে যশোর কোতয়ালি থানার ওসি আবদুল জব্বারের কান ছিঁড়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে ধরাধরি করে কোর্ট দারোগার কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। আহত হন আরও বহু পুলিশ।
এ ঘটনায় পুলিশ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশকে গুলি করার নির্দেশ দেন। ব্রিটিশ সরকারের ফেলে যাওয়া অস্ত্র প্রথমবারের মতো তাদের এদেশীয় অনুসারীরা হাতে তুলে নেন এবং জনতার দিকে উঁচিয়ে ধরেন। এক পর্যায়ে কালেক্টরেট ভবনের সর্ব পূর্বের ট্রেজারি থেকে প্রচণ্ড শব্দে ছুটে আসে রাইফেলের গুলি। ট্রেজারির বারান্দা থেকে উত্তর ও পূর্বদিকে এক নাগাড়ে ফাঁকা গুলিবর্ষণ চলতে থাকে। জনতার দিকে তাক করেও কিছু গুলি ছোড়া হয়। এসময় ছাত্রনেতা আলমগীর সিদ্দিকী পায়ে গুলি লেগে আহত হন। ভাষার জন্য যশোরেই প্রথম গুলি চালায় পুলিশ। ছাত্র-জনতা তাকে ধরাধরি করে চিকিৎসার জন্য নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। ঘটনার আকস্মিকতায় মিছিলকারীরা হতভম্ব হয়ে যান। এরপর ছত্রভঙ্গ হয়ে যান ছাত্ররা।
পুলিশের তাড়া খেয়ে বিমল রায় চৌধুরীসহ কয়েকজন মিছিলকারী পালিয়ে একটি বাড়িতে ঢুকে পড়েন। পরে তারা জানতে পারেন সেটা কোতোয়ালী থানার টিএসআই ফাহমুদ্দিনের বাড়ি। এটা জানতে পেরে তারা সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান। পুরো যশোর শহরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সারা শহরে পুলিশ গ্রেফতার অভিযানে নামেন। শুরু হয় ছাত্র ধরা অভিযান। বাস থেকে, দোকান থেকেএমনকি হোটেলের খাটের তলা থেকেও লুকিয়ে থাকা ছাত্রদের ধরে এনে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছিল। পুলিশের অত্যাচারে সেদিন দুই শতাধিক ছাত্র আহত হয়েছিলো। এ সময় তারা শিশু এবং নারীদের ওপরও নির্যাতন চালায়।
ছাত্রদের খুঁজতে গিয়ে অনেক বাড়ির অভিভাবকদের ওপরও নির্যাতন চালায় পুলিশ। ওইদিন সমগ্র যশোর শহর থেকে পুলিশ প্রায় একশ ছাত্র ও সাধারণ মানুষকে গ্রেফতার করে এবং তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায়। শহরের চুরিপট্টি এলাকার অনেক বাড়িতে আত্মগোপন করেন নেতৃবৃন্দ। এ সময় এগিয়ে আসেন শহরের ঝালাই পট্টির পতিতা পল্লীর মেয়েরা। তারা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে অনেক ছাত্রকে সুকৌশলে পুলিশের নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করেন। যশোরের ঝালাই পট্টির পতিতারা কমপক্ষে ৪০ জন ছাত্রকে তাদের ঘরে লুকিয়ে রেখে বাইরে তালা ঝুলিয়ে পুলিশি নির্যাতনের হাত থেকে তাদের রক্ষা করেন। এমনকি পুলিশের আক্রমণে পালানোর সময় তাড়াহুড়ো ও ধস্তাধস্তিতে মিছিলে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন নারীনেত্রীর শাড়ি খুলে যায়। পতিতারা নিজেদের শাড়ি দিয়ে নারী সৈনিকদের সম্ভ্রম রক্ষা করেন।
‘যশোরের ভাষা আন্দোলন’ গ্রন্থে কবি ও সাংবাদিক ফখরে আলম লিখেছেন, ১২ মার্চ ছাত্র ধর্মঘট এবং ১৩ মার্চ শহরে আবারও মিছিল হয়। ওই মিছিলে প্রায় ৩ হাজার মানুষ অংশ নেন। ১৩ মার্চ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি যশোরের সব শ্রেণি পেশার মানুষ রাজপথে নেমে আসে। সকাল ১০টায় যশোর মাইকেল মধুসূদন কলেজ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। এই মিছিলে সব শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণের পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীরাও যোগ দেন। মিছিলটি শহর প্রদক্ষিণ করে চৌরাস্তা থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় যশোর কালেক্টরেট ভবনের দিকে এগোনোর চেষ্টা করলে দড়াটানায় পুলিশ বাঁধা দেয়। যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি আব্দুল জব্বারের নেতৃত্বে পুলিশ মিছিলের ওপর হামলা চালায়। বেধড়ক লাঠিচার্জ করে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়। কিন্তু সংগ্রামী ছাত্র-জনতা একত্রিত হয়ে পুলিশের হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। পুলিশের উপর ইট-পাটকেল ছোড়ে। ছাত্রদের সহযোগিতার জন্য রিকশাওয়ালা, শ্রমিক, দোকানদাররা এগিয়ে আসেন। তারাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়েন। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ডা. জীবন রতন ধর, আলমগীর সিদ্দিকী, আফসার আহম্মেদ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে কালেক্টরেট ভবনে ঢুকে জানালা, দরজা ভাঙচুর করে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইএ নোমানীর অফিসেও হামলা চালায়। ছাত্রদের ইটের আঘাতে আহত হন ওসি আব্দুল জব্বার। কোতোয়ালি থানার দারোগা ফামউদ্দিনের মাথা ফেটে যায়। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশকে গুলি চালানোর নির্দেশ দেন। পুলিশ ছাত্র-জনতার উপর গুলি চালানো শুরু করে। গুলিতে সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক আলমগীর সিদ্দিকী আহত হন। তার পায়ে গুলি লাগে। ১৩ মার্চ পুলিশের গুলি চালানোর এই ঘটনাটি ভাষা আন্দোলনকারীদের ওপর প্রথম গুলি বর্ষণের ঘটনা। এই গুলিবর্ষণের ঘটনায় পুরো যশোর শহর বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। অন্যদিকে পুলিশও বেপরোয়া হয়ে নির্যাতন চালানো শুরু করে। এসবের প্রতিবাদে ১৪ মার্চ শহরে আবার হরতাল পালিত হয়। এরপরও লাগাতার আন্দোলন চলতে থাকে।
উপজেলা পরিষদের স্মৃতিস্তম্ভে বসে মাদক সেবন!
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি।।
চলছে ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি। বাঙালির কাছে এই মাস দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হওয়ার মাস। অথচ এই মাসেই স্মৃতিস্তম্ভে প্রকাশ্যে মাদক সেবন করতে দেখা গেছে এক যুবককে। তাকে বাধা দেওয়ার কোনো উদ্যোগ নেই কারো। সোমবার দুপুরে এমনই একটি দৃশ্য চোখে পড়ে কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরের স্মৃতিস্তম্ভে।
দেখা যায়, কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরের প্রবেশ পথে শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে একটি চট পেতে বসে আছে এক যুবক। একটু লক্ষ্য করে দেখা গেলো মুখে পলিথিন নিয়ে কী একটা যেন টানছে। কাছে এগিয়ে গেলেই দেখা যায় পলিথিনের মধ্যে ডেন্ডি মাদক সেবন করছে সে। ক্যামেরা দেখে পলিথিন লুকিয়ে ফেললো। এ সময় কিছুটা উত্তেজিত হয়ে পড়ে সে। সে জানায় তার নাম খোকন আলী দাস। বাড়ি কোটচাঁদপুর উপজেলার ছলেমানপুর দাসপাড়ায়। খোকন একপর্যায়ে বিষণ্ন হয়ে বলেন, কী বলবো ভাই, আমার মনে অনেক কষ্ট। যান আপনারা যান, আমার কিছুই বলার নেই। আমি এখানে মাঝেমধ্যে এসে বসে থাকি। আমার মা মরে গেছে, বাবাও নেই। ৮ বছর পরিবারের সঙ্গে রাগারাগি। বাড়ি যাই না। প্রায় দুই বছর আগে নলকূপের কাজ করতাম খুলনার স্টেশন এলাকায়। সেখানে যাদের সঙ্গে কাজ করতাম তারা দুই বছরের বেতন দেয়নি। উল্টো আমাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করিয়েছে। এরপর থেকে এখানে চলে এসেছি। মনে অনেক কষ্ট ভাই। এগুলো খেলে কষ্ট কিছুটা হালকা লাগে।
তিনি আরো জানান, উপজেলা চত্বরে প্রায় সময়ই এসে মাদক সেবন করেন তিনি। তবে কখনো কেউ কিছু বলেনি তাকে। উপজেলা চত্বরের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন পথচারী সাইমুন নামের এক ব্যক্তি। তিনি জানান, উপজেলা চত্বরের স্মৃতিস্তম্ভে বসে মাঝে মধ্যেই মাদক সেবন করতে দেখা যায়। তবে এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের নজর নেই।
মোহাব্বত হোসেন নামের অপর এক ব্যক্তি জানান, স্মৃতিস্তম্ভে মাদক সেবন খুবই দুঃখজনক। এটা আমাদের অনেক কষ্ট দেয়। যেখানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় সেখানে এমন পরিবেশ মেনে নেওয়া যায় না। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো দরকার ছিল।
বিষয়টি নিয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া জেরিন জানান, এটি খুবই দুঃখজনক। আমি বিষয়টি দেখছি। মাঝে মধ্যে না, হয়তো আজ কোনো কারণে ওই ব্যক্তি স্মৃতিস্তম্ভে এসে মাদক সেবন করছে। ভবিষ্যতে যেন এমনটি আর না হয় সেটি আমরা কঠোর নজরদারিতে রাখছি।
বাগেরহাটে সমলয় পদ্ধতিতে বোরো আবাদ, কমবে খরচ
বাগেরহাট প্রতিনিধি।।
বাগেরহাটের ফকিরহাটে সমলয় পদ্ধতিতে সমলয় পদ্ধতিতে বোরো ধানের আবাদ শুরু হয়েছে। এই পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন থেকে শুরু করে ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত ব্যবহার করা হয় আধুনিক যন্ত্রপাতি। ফলে সময়, শ্রমিক ও উৎপাদন খরচ সাশ্রয়ী হবে।
জানা গেছে, সরকার যখন ফসলের মাঠে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে চেষ্টা করছে, তখন ধান চাষ পদ্ধতি পাল্টে দেওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে ‘সমলয়’। এতে বিশেষ পদ্ধতিতে মাটি প্রস্তুত করে ট্রেতে করে বীজতলা তৈরি এবং মাত্র ২২ দিনেই রোপণের উপযোগী চারা প্রস্তুত করা হয়। চারাগুলো রাইস ট্রান্সপ্লান্টারে লাইন লোগো পদ্ধতিতে রোপণ করা হয়। পোকামাকড়ের প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে ব্যবহার করা হয় পার্চিং পদ্ধতি ও সুষম সার। ধান কর্তন, মাড়াই ও প্যাকিংয়ে ব্যবহার করা হয় কম্বাইন হারভেস্টার। এটাকেই সমলয় পদ্ধতি।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর সমলয় পদ্ধতিতে বোরো ধান চাষাবাদ করছেন লখপুর ইউনিয়নের খাজুরা এলাকার ৪০ জন কৃষক। এ জন্য ৫০ একর জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে সমলয় চাষাবাদ স্কিম। কৃষি যান্ত্রিকীকরণ জোরদার করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকের জমি এবং সেচের খরচ বাদে ধানের বীজতলা তৈরি থেকে শুরু করে সমুদয় ব্যয় বহন করছে সরকার। এই পদ্ধতিতে যন্ত্রের সাহায্যে স্বল্প খরচে ধান রোপণ থেকে শুরু করে ঘরে তোলা যাবে। এতে লাভবান হবেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাছরুল মিল্লাত জানান, এই উদ্যোগকে সফলে কাজ করছেন তিনিসহ উপজেলা কৃষি অফিসের সকল কর্মকর্তা। সেই সঙ্গে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক নজরদারি করছেন।
খাজুরা এলাকার কৃষক এরশাদ আলী জানান, কৃষি খামার করতে সবচেয়ে বড় অসুবিধা শ্রমিক সংকট। জনপ্রতি প্রতিদিন ৭ থেকে ৮শ’ টাকা দিয়েও সময়মতো শ্রমিক পাওয়া যায় না। তাছাড়া শ্রমিকের মজুরি বেশি হওয়ায় ফসলের উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়।
কৃষক মাহবুব শেখ ও কামল হোসেন বলেন, এলাকায় যন্ত্রের সাহায্যে ধান রোপণ এই প্রথম। স্বল্প সময়ে কম খরচে মেশিন দিয়ে ধান রোপণ দেখে তাদের মতো অনেক কৃষক এটা ব্যবহারে আগ্রহী হয়েছেন।
রাইস ট্রান্সপ্লান্টার চালক আমিনুল ইসলাম জানান, মাত্র ১০০ টাকার পেট্রোল খরচ করে এক বিঘা জমিতে এক ঘণ্টায় ধান রোপণ করা যায়। একই জমি শ্রমিক দিয়ে হাতে রোপণ করতে গেলে খরচ হতো তিন হাজার টাকা। সরকার কৃষকদের মাঝে ভর্তুকিমূল্যে এই যন্ত্র বিতরণ করছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ফজলুল হক জানান, নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে কৃষকদের মেলবন্ধন তৈরি হবে। কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ফলে সময়, শ্রম ও অর্থের লাঘব হবে। বর্তমান সরকার এই ধরনের আরও অনেক প্রণোদনা দিচ্ছে। এটা তারই একটি অংশ। এই প্রযুক্তিতে চাষাবাদ হলে দেশে কম খরচে নিরাপদ ও বর্ধিত খাদ্য উৎপাদন সম্ভব।











































