ঢাকা অফিস।।
দেশে করোনা সংক্রমণ বেড়েই চলছে। সবশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় ছয় হাজার ৬৭৬ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। শনাক্তের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ৮৮ শতাংশে।
সোমবার (১৭ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। তাদের মধ্যে পুরুষ চার ও ছয়জন নারী রয়েছেন। ঢাকা বিভাগে মারা গেছেন সাত, চট্টগ্রামে দুই ও বরিশালে একজন। এদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে সাত ও তিনজন বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান। করোনায় এ পর্যন্ত দেশে ২৮ হাজার ১৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ২৪ হাজার ৩৮৭ জনে।
এদিকে নতুন করে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৪২৭ জন। এ নিয়ে মোট ১৫ লাখ ৫৩ হাজার ৩২০ জন সুস্থ হলেন।
অপরদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ৩২ হাজার ৪৩১ জনের। আর পরীক্ষা করা হয়েছে ৩১ হাজার ৯৮০টি। এখন পর্যন্ত এক কোটি ১৮ লাখ ৯৩ হাজার ৪০৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।
দেশে ২০২০ সালের ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হন। করোনায় দেশে প্রথম মৃত্যু হয় ওই বছরের ১৮ মার্চ।
করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণে ‘অশুভ ইঙ্গিত’ দেখছেন স্বাস্থ্যের ডিজি
ঢাকা অফিস
দেশে ওমিক্রনসহ করোনাভাইরাস সংক্রমণের অব্যাহত ঊর্ধ্বমুখী ধারাকে ‘অশুভ ইঙ্গিত’ বলে উল্লেখ করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম।
তিনি বলেন, দেশে ওমিক্রনের সংক্রমণ আগের তুলনায় বাড়লেও এখনো ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাই বেশি। আইইডিসিআর (সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান) এবং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে করোনা আক্রান্ত রোগীদের নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং পরীক্ষায় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত রোগীই ৮০ শতাংশ।
স্বাস্থ্যের ডিজি বলেন, রাজধানী ঢাকায় ওমিক্রন আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। সে তুলনায় অন্যান্য বিভাগে কম। ফলে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাসহ সরকারি ১১ দফা নির্দেশনা মেনে না চললে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
সোমবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে কোভিড-১৯ এর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আায়োজিত এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যের মহাপরিচালক বলেন, এখন যারা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের অধিকাংশই টিকা নেননি। এছাড়া কো-মরবিডিটির (ক্যানসার, হৃদরোগ ও উচ্চরক্তচাপজনিত) কারণেও মারা যাচ্ছে। দেশে এ পর্যন্ত ওমিক্রনে মোট কতজন মারা গেছে, এ সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, শুধু পরীক্ষা ও শনাক্ত করলেই চলবে না। রাজধানীসহ সারাদেশে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে বহু মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করছে। এতে করোনার সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে না চললে সংক্রমণ ও মৃত্যুঝুঁকি আরও বাড়বে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
কোভিড থেকে সুরক্ষা দেওয়া বিশেষ জিন শনাক্ত
খুলনাঞ্চল ডেস্ক
গুরুতর কোভিড সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয় এমন বিশেষ ধরনের জিন শনাক্ত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। সুইডেনের ক্যারোলিনস্কা ইন্সটিটিউটের বিশেষজ্ঞদের একটি আন্তর্জাতিক টিম ওই জিন শনাক্ত করেছেন। বিভিন্ন ধরনের লোকজনের ওপর গবেষণা করে এই জিন চিহ্নিত করতে সক্ষম হন তারা।
ন্যাচার জেনেটিকস নামের একটি জার্নালে ওই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। করোনার কারণে আমরা গুরুতর আক্রান্ত হবো নাকি শুধুমাত্র মৃদু অসুস্থতা দেখা দেবে তা এসব জিনের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়।
প্রধানত ইউরোপীয়দের ওপর চালানো আগের কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে, ডিএনএর একটি নির্দিষ্ট অংশ বহনকারী ব্যক্তিদের গুরুতর কোভিড সংক্রমণের ঝুঁকি ২০ শতাংশ কম।
গবেষকদের মতে, জিনের এই ধরনটি শনাক্ত করা একটি বড় সফলতা। করোনার কারণে সম্ভাব্য গুরুতর সংক্রমণের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় এটি সহায়তা করবে।
এই নির্দিষ্ট জিনের ধরন শনাক্ত করতে এই ডিএনএ অংশ বহনকারী ব্যক্তিদের সন্ধান করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। এই ডিএনএ অঞ্চলের একটি ছোট অংশ অবশ্য আফ্রিকান এবং ইউরোপীয় উভয় অংশের মানুষদের মধ্যে একই রকম।
গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন যে, প্রধানত আফ্রিকানদের ইউরোপীয়দের মতো একই সুরক্ষা ছিল। এর পেছনে বিশেষ ওই জিনের প্রভাব রয়েছে।
আফ্রিকায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ২ হাজার ৭৮৭ জন রোগীর ওপর গবেষণা চালানো হয়। আফ্রিকানদের মধ্যে ৮০ শতাংশ ব্যক্তি সুরক্ষা প্রদানকারী ওই জিন বহন করছেন বলে চিহ্নিত করেন গবেষকরা।
২২ বিচারক করোনায় আক্রান্ত, প্রশিক্ষণ স্থগিত
ঢাকা অফিস
রাজধানীর জাতীয় বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণ নিতে আসা দেশের বিভিন্ন আদালতের সহকারী জজ ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পদমর্যাদার ২২ জন বিচারক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তারা সবাই ৪৩ ও ৪৪তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে অংশ নিতে এসেছিলেন।
বিচারকদের করোনা পজিটিভ হওয়ায় অসামাপ্ত রেখেই দুই মাসের প্রশিক্ষণ কর্মশালা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে এই ২২ বিচারককে বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আইসোলশনে রাখা হয়েছে।
সোমবার (১৭ জানুয়ারি) ইনস্টিটিউটের নির্ভরযোগ্য সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, গত ৯ জানুয়ারি দেশের বিভিন্ন আদালতে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্বপালনকারী ৭০ জন সহকারী জজের দুই মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু হয়। প্রশিক্ষণ চলাকালে পাঁচজন সহকারী জজের করোনা উপসর্গ দেখা দেয়। পরে তাদের করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার রিপোর্টে সবারই করোনা পজিটিভ আসে।
এরপর প্রশিক্ষণে অংশ নিতে আসা সব বিচারকদের করোনা টেস্ট করা হলে সেখানে আরও ১৭ জনের রিপোর্ট পজিটিভ আসে।
এ পরিস্থিতিতে দুই মাসের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অসামাপ্ত রেখেই গত ১৫ জানুয়ারি স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
পর্যবেক্ষণের পর স্বাস্থ্যবিধি মানাতে ‘অ্যাকশনে’ যাবে সরকার
ঢাকা অফিস
করোনাভাইরাস সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতি দু-তিনদিন পর্যবেক্ষণের পর স্বাস্থ্যবিধি মানাতে সরকার ‘অ্যাকশনে’ যাবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
সোমবার (১৭ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে সচিবালয়ে প্রেস বিফ্রিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান।
করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে ১১ জানুয়ারি থেকে বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মানুষ তা মানছে না। প্রশাসনের অবস্থানও কঠোর নয়। সংক্রমণ প্রতিদিনই বাড়ছে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে বলে দিয়েছি, দু-তিনদিন একটু পর্যবেক্ষণ করবো, তারপর কিছু কিছু অ্যাকশনে যাবো। আমরা প্রথম থেকেই অ্যাকশনে যেতে চাই না। আগে একটু দেখতে চাচ্ছি, মানুষ মানে কি না।’
‘এরই মধ্যে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ওয়াচ করতে বলছি। তারপর আমরা কাল-পরশুর মধ্যে ইনশাআল্লাহ, আমরা কিছু একটা…। সংক্রমণ যেভাবে বাড়তেছে।’ বলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
তিনি বলেন, ‘(বর্তমান সংক্রমণকে) আমরা কিন্তু ওমিক্রন মনে করতেছি। তবে আমাদের কিন্তু ৮০ ভাগের বেশি ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। আমরা সবাইকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানাবো, তারা যেন একটু সচেষ্ট হন। লাস্ট যেটা স্টাডি করেছে আইইডিসিআর, সেটাতে ৮৭ শতাংশ ছিল ডেল্টা আর ১৩ শতাংশ ছিল ওমিক্রন। এখন হয়তো ওমিক্রন একটু বেড়ে ১৮ থেকে ২০ শতাংশে এসেছে। একটা মেজর কোয়েশ্চন কিন্তু ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট।’
আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। কেয়ারফুল যদি না থাকি তাহলে কিন্তু একটা ডিজাস্টার সামনে। ইতোমধ্যে সংক্রমণ ১৭ শতাংশের বেশি হয়ে গেছে। আগেরবার কিন্তু এক মাসে গিয়ে ৩০ শতাংশ হয়েছে। এখন ১৫ দিনে ১৮ শতাংশ হয়ে গেছে।’
‘এটা কোনোভাবেই…যদি কমিউনিটি অ্যাওয়ারনেস, সেফটি মেজর যদি আমরা না পালন করি, মাস্ক না পরলে কোনোভাবেই এটা ঠেকানো সম্ভব না। এটা মানুষকে বুঝতে হবে। কারণ এগুলো ফোর্স করে করা যাবে না।’
নতুন কোনো বিধিনিষেধ দেওয়া হবে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দেখি। আমরা আগে একটু ফোর্স করার চেষ্টা করি। ফোর্স করার পর যদি…।’
ঢাকায় করোনা সংক্রমণের ৬৯ শতাংশই ওমিক্রন
ঢাকা অফিস
রাজধানীতে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে ৬৯ শতাংশ ওমিক্রনে আক্রান্ত বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি জানান, জিনোম সিকোয়েন্সিং করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
সোমবার (১৭ জানুয়ারি) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
জাহিদ মালেক বলেন, ঢাকায় কিছু জরিপ করেছি, তার মধ্যে দেখা গেছে ওমিক্রন এখন ৬৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। যেটা আগে ১৩ শতাংশ ছিল। সবশেষ ১০-১৫ দিনের মধ্যে আমরা জরিপে এটি পেয়েছি। এই জরিপ ঢাকায় করা হয়েছে। ঢাকার বাইরেও আমরা মনে করি একই হার হবে।
৫০ বছর বয়সীরাও এখন থেকে করোনার টিকার বুস্টার ডোজ পাবেন জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের টিকা কার্যক্রম চলমান আছে। আমরা টিকার বুস্টার ডোজ দিয়ে যাচ্ছি। বুস্টার ডোজে খুব বেশি অগ্রগতি লাভ করেনি। কারণ ৬ মাস সবার পূরণ হয়নি। এ পর্যন্ত প্রায় ৭ লাখের মতো বুস্টার ডোজ দিতে পেরেছি। আমি প্রথমেই জানাচ্ছি, যে বুস্টার ডোজের বয়স ছিল ৬০ বছর। এখন থেকে ৫০ বছর বয়সীদের বুস্টার ডোজ দেয়া হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন রয়েছে।
তিনি বলেন, টিকা নিলে মৃত্যুঝুঁকি কমে। কিন্তু সংক্রমণের ঝুঁকি কমে না। এ বিষয়টি মনে রাখতে হবে। এ পর্যন্ত সাড়ে ১৪ কোটি টিকা দিয়েছি। আমাদের টিকা যা হাতে আছে এবং যা পাবো তাতে আমাদের জনগণের যতো টিকা প্রয়োজন তার চেয়ে বেশিই আছে। মাস্ক পরবেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন এবং ভ্যাকসিনটা সময়মতো নিয়ে নেবেন। সরকারের যে ১১ দফা বিধিনিষেধ আছে তা মেনে চলার অনুরোধ জানান মন্ত্রী।
জাহিদ মালেক আরও বলেন, ৫০ বছরে নামিয়ে এনে বুস্টার ডোজ দিলে প্রায় ৭০ লাখ মানুষকে বুস্টার ডোজ দিতে হবে। সেটা আমাদের জন্য কোনো অসুবিধা নয়। আমরা শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রীদের প্রায় এক কোটি সাত লাখ টিকা দিয়ে ফেলেছি। আমাদের কাছে টিকা আছে নয় কোটি ৩০ লাখ ডোজ। টিকার জন্য রেজিস্ট্রেশন যারা করেছেন তাদের অধিকাংশের টিকা দেওয়া হয়ে গেছে, খুব একটা বাকি নেই।
তিনি বলেন, হাসপাতালে করোনা রোগী ইতোমধ্যে ১২০০ হয়ে গেছে। প্রতিদিন ৫ হাজার করে বাড়লে, একসময় তো ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার, ১০ হাজারে যেতে সময় লাগবে না। ১০ শতাংশ হলেও তো প্রতিদিন এক হাজার রোগী হাসপাতালে ভর্তি হবেন। আমাদের বেড আছে সবমিলিয়ে ২০ হাজার। তাহলে এটা ফিলাপ হতে খুব বেশি সময় লাগবে না। এক মাস বা তারও কম সময়ের মধ্যে এটা ফিলাপ হয়ে যাবে। যেটা আতঙ্কের বিষয়, সবাইকে মনে রাখতে হবে। আমরা যদি বেপরোয়াভাবে চলি, সরকারের বিধিনিষেধ না মানি তাহলে সামনের দিনগুলো ভালো কাটবে না।
মন্ত্রী বলেন, আমাদের বিভিন্ন রকমের মেলা হয়, রাজনৈতিক প্রোগ্রাম হয়। এখানেও লক্ষ্য করেছি কোনো রকমের মাস্কের ব্যবহার নাই। খুব স্বল্প সংখ্যক মানুষ মাস্ক পরেন। সেটা কিন্তু তারা নিজেদের নিজেরা ঝুঁকিতে ফেলছে। মাস্ক পরলে সংক্রমিত হয় না এটা প্রমাণিত।
লকডাউনের সিদ্ধান্ত হয়নি, পর্যবেক্ষণ হচ্ছে পরিস্থিতি
ঢাকা অফিস
দেশে করোনা সংক্রমণ দ্রুতগতিতে বাড়ছে। ফলে ১১টি বিধিনিষেধ জারি করেছে সরকার। তবে এখনো লকডাউনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে পরিস্থিতি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এ কথা জানান।
সোমবার (১৭ জানুয়ারি) অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে কোভিড-১৯ এর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এক ভার্চুয়াল প্রেস ব্রিফিংয়ে কথা বলেন তিনি।
ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, এখন পর্যন্ত লকডাউন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়নি। করোনার অব্যাহত সংক্রমণ ও হাসপাতালে রোগী ভর্তিসহ সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। লকডাউন দেওয়া না দেওয়ার সিদ্ধান্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নয়। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা সরকারের শীর্ষ নীতিনির্ধারকরা এ সিদ্ধান্ত নেন।
লকডাউন দেওয়া হলে দেশের অর্থনীতির ক্ষতি ও স্বাভাবিক জীবন বাধাগ্রস্ত হয় উল্লেখ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, এর আগে আমরা লকডাউনের ক্ষতি দেখেছি। তাই আমরা নিজেরা যেন লকডাউন দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি না করি সেদিকে সচেতন থাকতে হবে।
এসময় তিনি প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্বরোপ করেন। বলেন, বর্তমানে করোনা সংক্রমণ বেড়েই চলছে। এক জেলার মানুষ নির্বিঘ্নে আরেক জেলায় যাচ্ছে। ফলে সংক্রমণ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।









































