বৃহস্পতিবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ এবং প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের বই বিতরণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন, আমাদের অনলাইন শিক্ষা চালু রাখতেই হবে। কারণ, করোনা কখনও বাড়ছে, কখনও কমছে। আমরা সব সময় যেটা লক্ষ্য করছি, শীতের পরপর এর প্রাদুর্ভাবটা বেড়ে যায় অনেক। তাই সবাইকে কোভিড-১৯-এর টিকা নিতে হবে।
নতুন বছর মানেই শিক্ষার্থীদের কাছে নতুন শ্রেণীর নতুন বই হাতে পাওয়া ও পড়ার আনন্দ লাভের সুযোগ। বর্তমান জনকল্যাণমুখী সরকার শিক্ষাকে সবিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বলেই বছরের প্রথম দিনই বই উৎসবের মাধ্যমে সারাদেশের প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেয়ার সংস্কৃতি গড়ে তুলেছে। এবারে ৪ কোটি ১৭ লাখ ২৬ হাজার ৮৫৬ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ৩৪ কোটি ৭০ লাখ ২২ হাজার ১৩০ কপি বই বিনামূল্যে প্রদান করা হচ্ছে।
দেশে লাখ লাখ শিশুর হৃদয়ে নতুন বই হাতে পাওয়ার আনন্দ ছড়িয়ে দেয়ার জন্য সরকার অবশ্যই সাধুবাদ পাবে। বই বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য থেকে সমাজ ও দেশ উপকৃত হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান টানা বন্ধ ছিল দীর্ঘকাল। অবশ্যই সরকারের দূরদর্শিতায় অনলাইন শিক্ষাদান প্রক্রিয়া চলেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশে এখন শিক্ষার্থীরা যে ঘরে বসে অনলাইনে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে, সেটি খুব গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অবশ্যই।
করোনকালে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জন যেন কোনভাবেই বন্ধ না থাকে। শতভাগ শিক্ষার্থীরই যে ডিজিটাল সুবিধা প্রাপ্তির সার্মথ্য রয়েছে, এমন নয়। তাই সুবিধাবঞ্চিতদের শিক্ষার্জনের জন্য অভিভাবকদের বিশেষ দায়িত্ব পালন যেমন জরুরী, তেমনি স্থানীয় সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনেরও দায়িত্ব রয়েছে। একটি জাতির মেধা ও মনন গঠনে প্রধান ভূমিকা থাকে শিক্ষার। তাই শিক্ষা ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মনোযোগ না দিলে পিছিয়ে পড়বে সমগ্র জাতি।
এ বছর বই বিতরণ উদ্বোধনীতে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি বিষয়ক সচেতনতার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য, সরকার এক লাখ শিক্ষক এবং কর্মকর্তাকে পুষ্টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে এবং দুই লাখ শিক্ষককে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়টি আমাদের দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর জন্য অনেক শিক্ষার্থীর লেখাপড়ায় সমস্যায় পড়তে হয়, যা অনেক সময় সকলের অগোচরেই থেকে যায়। শুধু পাঠ্যপুস্তকের শিক্ষা নয়, ‘আউট বই’ তথা সিলেবাসের বাইরের বইও পড়তে হবে। একইসঙ্গে পারিবারিক-সামাজিকভাবেও দেশ কাল ও পরিবেশ সম্পর্কে নানা উপায়ে শিক্ষাদানের অপরিহার্যতা আমরা এড়িয়ে যেতে পারি না। সময় এসেছে সেদিকেও দৃষ্টি দেয়ার।











































