কালিগঞ্জে র্যাবের অভিযানে শ্যামনগরের হত্যা মামলার দু’আসামি গ্রেফতার
স্টাফ রিপোর্টার
সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ থানার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার দু’আসামি গ্রেফতার করেছে র্যাব-৬। ২৫ মার্চ বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার দু’আসামি হলেন সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার শ্রীফলকাটি গ্রামের আব্দুল গফ্ফার মোল্যার ছেলে র¤œহুল আমিন (৩৮) ও ছবেদ আলী মোল্যার ছেলে আব্দুল গফুর মোল্যা (৬৫)।
র্যাব-৬ জানায়, ২৫ মার্চ বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ থানার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে অভিযান পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মোতাহার হোসেন এর নেতৃত্বে একটি অভিযানিক দল। এসময় শ্যামনগর থানার মামলা নং-২৭ এর এজাহারভুক্ত পলাতক দু’আসামি র¤œহুল আমিন ও গফুর মোল্যাকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের শ্যামনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
সাতÍগীরায় বিভিন্ন এলাকায় মাস্ক, সাবান ও সতর্কীকরণ লিফলেট বিতরণ
ঝাউডাঙ্গা প্রতিনিধি
সাতÍগীরায় বিভিন্ন এলাকায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ ও সচেতন রাখতে মাস্ক, সাবান ও সতর্কীকরণ লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সাতÍগীরা জেলা সমিতি, ঢাকা’র সভাপতি এম খলিলুল¯œাহ ঝড়ু’র উদ্যোগে ঝাউডাঙ্গা সমাজ কল্যাণ যুব সংঘ’র সেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা, আগরদাঁড়ী, কামারবায়সা ও কলারোয়া উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে মাস্ক ও সাবানসহ নিরাপদ থাকার বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক সাতÍগীরা জেলা সমিতি ঢাকা’র সভাপতি এম খলিলুল¯œাহ ঝড়ু, ঝাউডাঙ্গা সমাজ কল্যাণ যুব সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ শেখ, বর্তমান সভাপতি আবিদ হাসান, সহ-সভাপতি নাছিম হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলীরাজ হোসেন, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরাফাত হোসেন, অর্থ সম্পাদক কামাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক মো¯ত্মাকিম হোসেন, রাসেল হোসেন, আকবর হোসেন, মিলন হোসেন প্রমুখ।
বিশিষ্ট সমাজসেবক সাতÍগীরা সমিতি ঢাকা’র সভাপতি এম খলিলুল¯œাহ ঝড়ু করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জনস্বার্থে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বলে তাকে ধন্যবাদ জানান এবং সকলকে সচেতনতার সাথে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের আহবান জানান।
ফুলতলায় মুক্তিযোদ্ধা আবু কাজীর ইন্তেকাল রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন
ফুলতলা প্রতিনিধি
বীরমুক্তিযোদ্ধা কাজী আবুল হোসেন ওরফে আবু কাজী (৭৫) বৃহস্পতিবার দুপুরে ফুলতলার পায়গ্রামকসবাগ্রামস্থ নিজ বাড়ীতে ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহে —–রাজেউন)। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৩পুত্র, ২কন্যাসহ বহু আত্মীয় স্বজন ও সহকর্মী রেখে যান। বাদ আছর তার বাসভবন চত্বরে গার্ড অফ অনার প্রদান শেষে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় ইউএনও পারভীন সুলতানা, ওসি মোঃ মনিরুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কাজী জাফর উদ্দিন, ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আবুল বাশার, ড. মাহাবুব উল ইসলাম, শেখ রবিউল ইসলাম মন্টু, হাজী আশরাফ হোসেন, আলী আজম মোহন, শেখ মতলেব হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা শেখ আফছার আলী, ভোলানাথ ঘোষ, কাজী সোবহান, আঃ জব্বার, সাংবাদিক শামসুল আলম খোকন, ইমরানুর রহমান রুমন, ছাত্রলীগ নেতা এস কে সাদ্দাম হোসেন, কাজী ইমরান হোসেন রাজীব, প্রিন্স মাহমুদ রুবেল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
কুয়েটের প্রফেসর ড. রাফিজুল ইসলামের শাশুড়ীর ইন্তেকাল
ফুলবাড়ীগেট(খুলনা) প্রতিনিধি
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের(কুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ও শিক্ষা সহায়ক স্বপ্ন পুরণ একটি সেবামূলক সামাজিক সংগঠনের আহবায়ক ড. রাফিজুল ইসলামের শাশুড়ী আফরোজা খাতুন(৬১) দুরারোগ্যব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় ইন্তেকাল করেছেন(ইন্নানিল্লাহি … রাজিউন)। তিনি স্বামী, এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তান সহ অসংখ্য গুনোগ্রাহী রেখেেেগছেন। আছরবাদ সাতক্ষীরা সদর থানার লাবসা ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাযায় এলাকার বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক-জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সহ সর্বস্থরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য প্রফেসর ড. রাফিজুল ইসলামের বোন জামাই মো. খোরশেদ আলম গত ২৫ মার্চ রাত সাড়ে ৩টায় একই রোগে আক্রান্ত হয়ে সাতক্ষীরার কৈ-খালি গ্রামে ইন্তেকাল করেন। শিক্ষা সহায়ক স্বপ্ন পুরণ সেবামূলক সামাজিক সংগঠনের আহবায়ক ড. রাফিজুল ইসলামের শাশুড়ী আফরোজা খাতুন এবং বোন জামাই খোরশেদ আলমের মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন সংগঠনের যুগ্ন আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার মো. আসলাম পারভেজ, এফ এম .সাইফুল্লাহ , দেবাশীষ মন্ডল উজ্জল, সদস্য সচিব সোনালী বিনতে শরীফ, কুয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক. মো. শফিউদ্দিন শফি, শেখ আমিনুল ইসলাম, মীর রফিকুল ইসলাম সহ সংগঠনের সর্বস্থরের সদস্যগন।
গিলাতলা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড এলাকায় পথচারীদের মধ্যে মাস্ক বিতরণ
ফুলবাড়ীগেট(খুলনা) প্রতিনিধি
ভয়াবহ করোনা ভাইরাসের জিবানুর হাত থেকে গিলাতলা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড এলাকা বাসীকে মুক্ত রাখতে গতকাল বিকাল ৫টায় গিলাতলা ইউনিয়নের সহায়তায় ৮নং ওয়ার্ড মেম্বর শেখ আব্দুস সালামের নেতৃত্বে পথচারীদের মধ্যে মাস্ক বিতরণ করেন। এসময় তার সাথে ছিলেন কাজী বদরুল আলম, আব্দুর রউফ খান খোকন, ভেমর সরদার, হাফিজুর রহমান সরদার, মোঃ লুৎফর রহমার লিটন, মোঃ মহসিন হোসেন, মিয়া খালিদ হোসেন, মিয়া সোহানুর রহমান, আব্দুস সামাদ, মোঃ সোহেল, তৌহিদুল ইসলাম, নাসিম, রাকিব প্রমুখ।
সামাজিক সংগঠন গণসেবার উদ্যোগে শিরোমনি বাজারে পথচারীদের মধ্যে মাস্ক বিতরণ
ফুলবাড়ীগেট(খুলনা) প্রতিনিধি
করোনা ভাইরাসের জিবানুর হাত থেকে মুক্ত রাখতে শিরোমণি বাজারে সামাজিক সংগঠন গণসেবার উদ্যোগে পথচারীদের মধ্যে গতকাল বিকাল সাড়ে ৫টায় শিরোমণি গণসেবা সংস্থার সভাপতি খান শফিউল আজম ফিরোজের নেতৃত্বে শিরোমণি বাজারে পথচারীদের মধ্যে মাস্ক বিতরণ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন শেখ আব্দুস সালাম, মোঃ লুৎফর রহমার লিটন, শেখ মাসুম বিল্লাহ , মোঃ শরিফুল ইসলাম, মোঃ আবুল কালাম প্রমুখ।
আফিলগেটে ডোর ফ্যাক্টরীর কর্মচারীর আঙ্গুল কর্তণ
ফুলবাড়ীগেট(খুলনা) প্রতিনিধি
নগরীর আফিলগেট এলাকায় মনিরের ডোর ফ্যাক্টরীতে ম্যাশিনে কাজ করার সময় কর্মচারী রিপণ(২৯) এর বাম হাতের ১টি আঙ্গুল কেটে পড়ে যায় এবং অপর ১টি আঙ্গুলের অর্ধেক কেটে গুরুতর আহত হলে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি কিনিকে ভর্তি করে। রিপন খুলনার নৈহাটি সিরাজ মীরের পুত্র বলে জানা গেছে।
রূপসায় করোনা প্রতিরোধে সচেতনতা মূলক আলোচনা
রূপসা প্রতিনিধি
রূপসায় করোনা প্রতিরোধে উপজেলা টিএসবি ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আ. জব্বার সরদারের উদ্যোগে ২৭ মার্চ দিন ব্যাপি ওর্য়াডের বিভিন্ন স্থানে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন অভিযান ও সচেতনতা মূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামীলীগ নেতা আমির হোসেন বাবু, ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক আ. মজিদ শেখ, ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক আইয়ুব আলী, ইউনিয়ন কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক মিথুন চৌধুরী ডাবলু,কাজী মো. ছাবের, সাবেক মেম্বর আসমানী বেগম, ফাতেমা ইয়াসমিন বুলু, জাকির হোসেন, লালন শিকদার, মুনসুর কাজী, সুমন খান,তৌহিদ কাজী, রমজান, সোহেল, মনিরুল শেখ প্রমূখ। এ সময় পাচানী কলোনী ঘনবসতি এলাকায় পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখতে স্পে করেন। এছাড়া ওয়ার্ডের সকল দোকানপাট ও জনসমাগম বন্ধ করেন।
করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জনসচেতনতায়
শরণখোলায় জুমার দিনে মসজিদে মসজিদে আলোচনা
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ঃ
করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয় এবং জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে শুক্রবার জুমার দিনে মসজিদে মসজিদে আলোচনা করেছেন বাগেরহাটের শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসকে আব্দুল্লাহ আল সাইদ। তিনি উপজেলার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদসহ পার্শ্ববর্তী বেশ কয়েকটি মসজিদে গিয়ে নামাজ শুরুর আগে করোনা প্রতিরোধে সরকারের নির্দেশনার পাশাপাশি ধর্মীয় বিধিনিষেধ মেনে চলার জন্য মুসল্লিদের পরামর্শ দেন।
একই সাথে জুমার খুতবাতেও করোনা ভাইরাস নিয়ে মসজিদের খতিব ও ইমামগণ আলোচনা করেন। নামাজ শেষে এ মহামারী থেকে বাংলাদেশসহ বিশ্ববাসীর মুক্তির জন্য মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে অন্যান্য জুমার দিনের তুলনায় মুসল্লিদের উপস্থিতি ছিলো খুবই কম। অনেকেই মাস্ক পরে মসজিদে প্রবেশ করেন, এমন দৃশ্য যা আগে কখনওই দেখা যায়নি। সবার চোখে একটা আতঙ্কের ছাপ লক্ষিত হয়েছে।
রায়েন্দা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মুফতি হাফেজ মাওলানা মুনিরুজ্জামান বলেন, শুধু করোনা নয়, যে কোনো ধরণের মহামারী বা দুর্যোগ থেকে বাঁচতে মহান রবের কাছে বেশি বেশি ক্ষমা চাইতে হবে। বিচলিত ও আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে ধৈর্য এবং সতর্কতা অবলম্বন করলে আল্লাহ সকল মুসিবত থেকে মুক্তি দিবেন ইনশাহআল্লাহ।
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসকে আব্দুল্লাহ আল সাইদ বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী করোনা ভাইরাস সম্পর্কে মসজিদে মসজিদে আলোচনা করা হয়েছে। তাছাড়া ভাইরাস প্রতিরোধে আপাতত মসজিদগুলোতে সীমিত আকারে জামায়াতে নামাজ আদায়ের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চিতলমারীতে শ্বশুর বাড়িপালাতে আসা জামাইকে২০ হাজার টাকা জরিমানা
চিতলমারী প্রতিনিধি
সরকারি নির্দেশ অমান্য করে লকডাউনে থাকা মাদারীপুরের শিবচর থেকে বাগেরহাটের চিতলমারীতে শ্বশুর বাড়ি পালাতে আসা এক জামাইকে ভ্রাম্যমান আদালত ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মারুফুল আলম এ অথর্ দন্ডাদেশ দেন। সেই সাথে তাকেসহ তার শ্বশুর বাড়ির সবাইকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাংবাদিকদের জানান, কয়েকদিন আগে আশিকুর রহমান (৪৫) নামের এক ব্যাক্তি মাদারীপুরের শিবচর থেকে পালাতে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার কুরমনি গ্রামে তার শ্বশুর শাহাদাৎ হোসেনের বাড়ি আসেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ খবর পেয়ে ওই এলাকায় গিয়ে তাকে সরকারী নির্দেশ অমান্য করায় দায়ে ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ডাদেশ দেয়া হয়েছে। সেই সাথে তাকেসহ তার শ্বশুর বাড়ির সবাইকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার কড়া নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ সময় সহকারি কমিশনার (ভূমি) জান্নাত আফরোজ স্বর্ণা, আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তালায় ছাত্রলীগের উদ্যোগে হতদরিদ্রদের মাঝে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য বিতারন
ইলিয়াস হোসেন, তালা
শুক্রবার বিকালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ তালা উপজেলা শাখার সভাপতি শেখ সাদীর উদ্যোগে তালায় হতদরিদ্রদের মাঝে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য বিতরণ করা হয়েছে। ৮ নং মাগুরা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহযোগীতায় মাগুরা ইউনিয়ন এ বিভিন্ন ওয়ার্ড অসহায় দুস্থ ৪৫ টি পরিবার এর মাঝে বাড়ী বাড়ী যেয়ে চাল, ডাল,আলু,সাবান,ইত্যাদি নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।একই সাথে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে আতংকিত না হয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এসময় উপজেলা ছাত্রলীগ এর সভাপতি শেখ সাদী দুস্থদের সঠিক ভাবে হাত ধোয়ার নিয়ম শেখায়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন মাগুরা ইউনিয়ন ছাত্রলীগ এর সাবেক যুগ্ন আহবায়ক শেখ প্রান্ত ছাত্রলীগ নেতা তানভীর বিশ্বাস, সৈকত, পারভেজ রানা, মাসুম গোল্দার, খালিদ হাসান প্রমূখ।
তালায় সমাজিক দুরাত্ব বজায় না রাখায় দু জনকে জরিমানা
ইলিয়াস হোসেন, তালা
করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) ঝুঁকি রোধ ও ভাইরাসের বিস্তার রোধে সরকারি নিষেধ অমান্য করে সাতক্ষীরায় তালায় সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখায় দুই জনকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। শুক্রবার (২৭ মার্চ) এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইকবাল হোসেন।
জানা গেছে, সরকারি নিষেধ অমান্য করে সামাজিক দূরত্ব না মানায় দুইজনকে ১ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এদিকে মানুষকে ঘরে রাখতে বিভিন্ন সড়কে সেনা টহল দেখা গেছে। তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইকবাল হোসেন নেতৃত্বে বাজার দর স্থিতিশীল রাখতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। উপজেলায় নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দোকানগুলোর সামনে সাদা দাগ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া যাতে কেউ ঘরের বাহিরে বের হয়ে ঘোরাঘুরি না করেন সে জন্য তাদের সতর্ক করাসহ সচেতনতামূলক মাইকিং অব্যাহত আছে। একই সাথে তালা থানার ওসি মেহেদী রাসেলের নেতৃত্বে সচেতনতা মূলক নানা প্রচারিভাযান চালানো হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের জনশূন্য হয়ে পড়েছে ব্যাস্ততম উপজেলা বাজারগুলো । নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দোকান ও ঔষধের দোকান ছাড়া অধিকাংশ দোকান পাট বন্ধ রাখা হয়েছে।
একইসাথে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দোকান ও ঔষধের দোকান ছাড়া বাকী অন্যান্য দোকানদের তাদের দোকান বন্ধ রাখার আহবান। এছাড়া সকল ধরনের সভা সমাবেশ, সেমিনার, সামাজিক অনুষ্ঠানসহ সকল প্রকার গণজমায়েত নিষিদ্ধ করার জন্য ঘোষনা দেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইকবাল হোসেন জানান, করোনা একটি ছোঁয়াচে ভাইরাস। তাই এই ভাইরাস থেকে আমাদেরমুক্ত হতে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।
ঘুমন্ত স্ত্রীর ওপর এসিড নিক্ষেপ
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
রায়গঞ্জে পারিবারিক কলহের জের ধরে এক গৃহবধূকে এসিড নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। শুক্রবার ভোরে উপজেলার সোনাখাড়া ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা স্বামীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। আহত গৃহবধূকে (২১) সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্বামী মোতালেবকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, দুই বছর আগে এই দম্পতির বিয়ে হয়। বৃহস্পতিবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। এর জের ধরে শুক্রবার ভোরে ঘুমন্ত স্ত্রীর শরীরে এসিড নিক্ষেপ করে স্বামী মোতালেব। এ সময় ওই নারীর চিৎকারে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। রায়গঞ্জ থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, ওই নারীর স্বামী মোতালেবকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
চৌগাছায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ইট চুরির অভিযোগ
যশোর অফিস
যশোরের চৌগাছার মাকাপুর-বল্লভপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুলের ইট চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে স্কুলের শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবকসহ এলাকার জনসাধারণের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম মাকাপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তবে প্রধান শিক্ষক ইট চুরির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষকের অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, বর্তমানে মাকাপুর-বল্লভপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে স্কুল মাঠে ঠিকাদার ইট নিয়ে এসে রেখেছেন। সেখান দেখতে পান স্কুলের ভবন তৈরির যে ইট নিয়ে আসা হয়েছে, সেই ইটের ১শ’ ৭৫ পিস তার বাড়িতে রয়েছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার ইমান আলী জানান, একজন প্রধান শিক্ষক কিভাবে ইট চুরি করে তা বুঝতে পারছি না। আমরা এর বিচার চাই। বল্লভপুর গ্রামের ইসাকুল, বিল্লাল, কামারুলসহ কয়েকজন জানান, গত সপ্তাহে আমরা দেখে ছিলাম স্কুলের জন্য নিয়ে আসা ইটের ট্রাক প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলামের বাড়ির সামনে। তখন ট্রাক চালককে জিজ্ঞাসা করেছিলাম এখানে ইট নামাচ্ছেন কেন ? ওই চালক তখন বলেছিলেন, স্যারের কিছু ইট লাগবে তাই নামাচ্ছি। স্কুল নির্মাণ কাজের শ্রমিকরা জানান, স্যার বাড়িতে ছাগলের জন্য ঘর নির্মাণ করছে। তিনি স্কুলের জন্য নিয়ে আসা কিছু ইট বাড়িতে নিয়ে গেছেন। ওই স্কুলের সভাপতি ও চৌগাছা উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান দেবাশীষ মিশ্র জয় বলেন, স্কুলের ইট যদি অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বাড়িতে পাওয়া যায়, তবে আমি তদন্তপূর্বক ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের কাজে যে বা যারা বাধা প্রদান করবে তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। এ বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি ইট চুরির বিষয় অস্বীকার করেন।
যশোরে প্রতিদিন মারা যাচ্ছে ২ লাখ মুরগির বাচ্চা
যশোর অফিস
করোনার ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে পোল্ট্রি শিল্পে। যশোর অঞ্চলে প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ পোল্ট্রি মুরগির বাচ্চা মারা পড়ছে। এসব বাচ্চা দ্রুততম সময়ে হ্যাচারি থেকে খামারে স্থানান্তর না হওয়ায় মারা পড়ছে বলে জানিয়েছেন হ্যাচারি মালিকরা। তারা বলছেন, ৩২ টাকা খরচে উৎপাদিত প্রতিটি বাচ্চা ফ্রি দিলেও খামারিরা নিতে চাচ্ছেন না। আবার স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন প্রক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ রাখা যাচ্ছে না। ফলে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা লোকসান গুনছেন হ্যাচারি মালিকরা। একই সঙ্গে পোল্ট্রি শিল্পের সঙ্গে জড়িত খামারি ও ফিড উৎপাদনকারীরাও লোকসানের বোঝা বইছেন। সম্ভাবনাময় এ শিল্প বন্ধের আশঙ্কায় দিন গুনছেন জড়িত এক হাজার খামারের পাঁচ হাজার শ্রমিক ও তাদের পরিবার।
যশোরাঞ্চলে আফিল হ্যাচারি, কাজী হ্যাচারিসহ ছোটবড় পাঁচটি হ্যাচারিতে প্রতিদিন ৪ লাখ বাচ্চা উৎপাদিত হচ্ছে। প্রতিটি বাচ্চা উৎপাদনে হ্যাচারি মালিকদের খরচ হয় ৩২ টাকা। করোনার প্রভাবে পোল্ট্রি মুরগির বিকিকিনিতে এক প্রকার ধস নেমেছে। হ্যাচারি থেকে খামারিরা এক প্রকার বাচ্চা কেনা বন্ধ করে দিয়েছেন। যশোরের সবচেয়ে বেশি বাচ্চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আফিল এগ্রো লিমিটেড প্রতিদিন এক লাখের বেশি বাচ্চা উৎপাদন করে। এ ফার্মের টেকনিক্যাল ম্যানেজার তোফায়েল আহমেদ জানান, ডিম পাড়ানোর চার মাস পূর্বে একটি মুরগি প্রস্তুত করা হয়। এ মুরগি টানা দেড় বছর ডিম দেয়। প্রতিদিন বাচ্চা উৎপাদনের জন্য ২১ দিনের ডিম ইনকিউবেটর মেশিনে চাপাতে হয়। একদিন বয়সী বাচ্চা বিক্রি করা হয়। বাচ্চা উৎপাদন বন্ধ করতে হলে কমপক্ষে ২১ দিন অপেক্ষা করতে হয়। আবার উৎপাদন প্রক্রিয়া একবার বন্ধ করলে পুনরায় চালু করা অনেক ব্যয়সাপেক্ষ। সে ক্ষেত্রে হ্যাচারি একেবারেই বন্ধ হয়ে যাবে। এতে প্রতিষ্ঠানটি শত শত কোটি টাকার লোকসানের মুখে পড়বে। পোল্ট্রি শিল্পের সবচেয়ে বড় বিপণন কোম্পানি তামিম মার্কেটিং এ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশনের ব্যবস্থাপক (মার্কেটিং) খন্দকার ইদ্রিস হাসান জানান, একদিন বয়সী প্রতিটি বাচ্চা উৎপাদন খরচ ৩২ টাকা হলেও বাজারে বিক্রি হচ্ছে এক টাকারও কম। তাও আবার ক্রেতা খুঁজে আনতে হচ্ছে। শুধু বাচ্চা নয়, লেয়ার মুরগির ডিম ও পোল্ট্রি ফিডেও এর প্রভাব পড়েছে। তার দেয়া তথ্যমতে, যশোরাঞ্চলে আফিল, কাজী, চীফ, প্রভিটা ও প্যারাগনের ফিড মিল রয়েছে। এসব মিলে প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৮০০ টন ফিড উৎপাদিত হয়। চাহিদা কমে যাওয়ায় ফিডের বিকিকিনিও কমে গেছে। তামিম মার্কেটিং এ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশনের উপ ব্যবস্থাপক (ব্রয়লার) আব্দুল মুকিত জানান, যশোরাঞ্চলের এক হাজার খামার থেকে প্রতিদিন গড়ে ১১ লাখ কেজি ব্রয়লার মুরগির মাংস উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে শুধু আফিল ফার্ম খেকে উৎপাদিত হয় দিনে ২৫ হাজার কেজি। এক কেজি ব্রয়লার মুরগির মাংস উৎপাদনে খরচ হয় ১১০ টাকা। বর্তমানে বাজার পড়ে যাওয়ায় প্রতি কেজি ৪০-৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের বাজারও পড়তির দিকে বলে জানান তিনি। যশোরাঞ্চলে প্রতিদিন ৫ লাখ ডিম উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে আফিল ফার্ম উৎপাদন করে ৪ লাখ। প্রতিটি ডিম উৎপাদনে খরচ সাড়ে সাত টাকা। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ছয় টাকা।
বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনা প্রভাবে পোল্ট্রি মুরগির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সাধারণ ক্রেতারা পোল্ট্রি কেনা থেকে বিরত থাকছে। যার কারণে খামারিরা উৎপাদিত মুরগির দাম পাচ্ছেন না। ছোট ছোট খামারি ইতোমধ্যে উৎপাদন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। বড় ব্যবসায়ীরা উৎপাদন প্রক্রিয়া সচল রাখতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন। লোকসানে লোকসানে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা বন্ধের অন্তিম পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন আফিল এগ্রো লিমিটেডের পরিচালক মাহাবুব আলম লাবলু। তিনি এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারের আশু সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। খুলনা বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম মোল্লা জানান, করোনার প্রভাবে যশোরাঞ্চলে পোল্ট্রি শিল্পে আঘাত পড়েছে বলে জানতে পেরেছি। তিনি বলেন, পোল্ট্রির মাংস ও ডিম খেলে কোন ক্ষতি নেই। বরং উপকার। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু লোক পোল্ট্রির মাংস নিয়ে যে অপপ্রচার চালাচ্ছে তার কোন ভিত্তি নেই। তিনি সবাইকে দুধ ডিম মাছ মাংস খাওয়ার পরামর্শ দেন।
ধর্ষণের পর খুন করে মসজিদে আজান ও ইমামতি করে খুনী
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
গফরগাঁওয়ে পাড়াভরট গ্রামের আব্দুল মতিনের কিশোরী কন্যা তাকমীন হত্যার তিনদিনের মধ্যে মোবাইল কল লিস্টের সূত্র ধরে এ খুনের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে গফরগাঁও থানা পুলিশ। মুঠোফোনের কলের সূত্র ধরে উপজেলার রাওনা ইউনিয়নের ধোপাঘাট গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে মাহফুজকে (১৮) গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে আলোচিত এ লোমহর্ষক হত্যাকা-ের রহস্য উন্মোচিত হয়। মাহফুজ উপজেলার পাড়াভরট গ্রামের জামিয়া আরাবিয়া কাসেমুল উলুম কওমি মাদ্রাসার কিতাব বিভাগের ছাত্র। গ্রেফতারকৃত মাহফুজ শুক্রবার বিকেলে ময়মনসিংহ জেলা আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ইমাম হোসেনের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গফরগাঁও থানার এসআই হাবিব এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, আঠারদানা জামে মসজিদের মোয়াজ্জিন ও পাড়াভরট গ্রামের জামিয়া আরাবিয়া কাসেমুল উলুম কওমি মাদ্রাসার কিতাব বিভাগের ছাত্র মোঃ আশিকুল হকের সঙ্গে পাড়াভরট গ্রামের আব্দুল মতিনের কিশোরী কন্যা তাকমীনের (১৬) প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আশিকুল হক নান্দাইল উপজেলার তারাপাশা গ্রামের আইনাল হকের ছেলে। তাকমীন বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিল। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সোমবার রাত তিনটার দিকে আশিকুল মোবাইল করে পালিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ গজ আঠারদানা জামে মসজিদের কাছে তাকমীনকে ডেকে নেয়। এ সময় সেখানে আগে থেকেই ওঁৎ পেতে ছিল আশিকুল বন্ধু পুলিশের হাতে গ্রেফতারকৃত মাহফুজ ও একই মাদ্রাসার ছাত্র নান্দাইল উপজেলার তারাপাশা গ্রামের সাইদুলের ছেলে আরিফ। সেখানে যাওয়ার পর আশিকুল তাকমীনকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে মাহফুজ তাকমীনের পা ও আরিফ তাকমীনের হাত-মুখ চেপে ধরে এবং আশিকুল তাকমীনের বুকের ওপর উঠে পা দিয়ে চেপে ধরে তার মাথার পাগড়ী দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে শ^াসরোধ করে তাকমীনকে খুন করে। আশিকুল, মাহফুজ ও আরিফ তাকমীনের লাশ টেনেহিঁচড়ে লাশ মসজিদের পাশে একটি জামগাছের ডালের তাকমীনের ওড়না দিয়ে বেঁধে রাখে। কিছুক্ষণ পর ফজরের আজান দেয়ার সময় হলে মসজিদের মোয়াজ্জিন আশিকুল আজান দেয়। মুসল্লিরা মসজিদে এলে ফজরের ফরজ নামাজের জামাতে আশিকুল ইমামতি করে। এ সময় মুসল্লিদের সঙ্গে মাহফুজ, আরিফও নামাজ আদায় করে। নামাজ শেষে মুসল্লিরা মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর তাকমীনের লাশ একটি জামগাছের ডালের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পায়।
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের উদ্যোগে শহরে বিভিন্ন সড়কে জীবানু নাশক পানি স্প্রেসহ সচেতনতা মূলক প্রচারিভাযান
খান নাজমুল হুসাইন, সাতক্ষীরা
করোনা ভাইরাস সংক্রমন প্রতিরোধে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের বিভিন্ন সড়কে জীবানু নাশক পানি স্প্রে করা হয়েছে। শহরের পুলিশ লাইন থেকে বের হয়ে বিভিন্ন সড়কে এই স্প্রে করা হয়। একই সাথে সচেতনতা মূলক নানা প্রচারিভাযান চালানো হয়। এদিকে, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দোকান ও ঔষধের দোকান ছাড়া শহরের অধিকাংশ দোকান পাট সকাল থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে। আজ থেকে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কেউ শহরের বাহিরে বের হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে ঘোষনা দেয়ায় সকাল থেকে শহর তেমন কোন লোকজন চলাচল করতে দেখা যায়নি। এছাড়া প্রশসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে সকল ধরনের সভা সমাবেশ, সেমিনার, সামাজিক অনুষ্ঠানসহ সকল প্রকার গণজমায়েত নিষিদ্ধ করার জন্য ঘোষনা দেন। সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, করোনা একটি ছোঁয়াচে ভাইরাস। তাই এই ভাইরাস থেকে মুক্ত হতে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি আরো বলেন, বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া যদি কেউ ঘরের বাহিরে বের হন তাহলে তাহলে পুলিশ আজ থেকে তাদের উপর মৃদু এ্যাকশনে যেতে বাধ্য হবেন।
এ সময় তার সাথে আরো উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পদোন্নতি প্রাপ্ত পুলিশ সুপার) ইলতুৎ মিশ, বিশেষ শাখার সহকারী পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম, সদর সার্কেল মীর্জা সালাউদ্দীন, বিশেষ শাখার পরিদর্শক মিজানুর রহমান, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান প্রমুখ।
শরণখোলায় উপজেলা প্রশাসন সরবরাহ করলেন পিপিই
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘ব্যক্তিগত নিরাপত্তা উপকরণ’ (পিপিই) সরবরাহ করা হয়েছে। ২৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে চিকিৎসক, পুলিশ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যম কর্মীদের মাঝে ১৩৫ সেট পিপিই বিতরণ করা হয়।
শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে এ পিপিই সরবরাহ করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে এসব উপকরণ কেনা হয়েছে। করোনা প্রতিরোধে প্রয়োজনে আরো সুরক্ষা উপকরণের ব্যবস্থা করা হবে।
রামপালে লকডউন, উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে মূহুর্তেই জনশূণ্য হাটবাজার
রামপাল (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
রামপালে প্রশাসনের অভিযানে মূহূর্তেই জনশূন্য হয়ে পড়ে হাটবাজার। বৃহস্পতিবার দুপুর ১ টা নাগাদ রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তুষার কুমার পাল উপজেলার ফয়লাহাট সহ বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখেন এবং জনসমাগম না করতে নির্দেশনা দিয়েছেন।
দেখাগেছে সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অনেক অসচেতন মানুষজন বিভিন্ন নিত্যপন্যের দোকানে জড়ো হয়। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রামপাল সদর, শ্রীফলতলা, গিলাতলা, ঝনঝনিয়া, ফয়লাহাট সহ বিভিন্ন বাজারে গিয়ে জনসমাগম না করতে নির্দেশনা দিলে মূহূর্তেই সেসব এলাকা জনশূণ্য হয়ে পড়ে। তাছাড়া যেসব বাজারে সাপ্তাহিক হাট বসে অন্য সময় সেখানে শতশত লোকের সমাগম ঘটে থাকে। এই দিনে সেইসব হাটবাজারের চিত্র ছিলো একদম ভিন্ন। সামান্য কিছু নিত্যপন্যের দোকান ও ঔষধের দোকান ছাড়া অন্য কোনো দোকান চোখে পড়েনি।
বিশ^ব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের নির্দেশনার আলোকে বাগেরহাট জেলা প্রশাসন থেকে জেলাবাসীর জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী রামপালে সকল ধরনের সভা-সমাবেশ, সেমিনার, সামাজিক অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড, হোটেল, রেস্টুরেন্ট, গনজমায়েত, বাজারে লোকসমাগম ও আড্ডা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্দেশনা সফল করতে রামপাল উপজেলা প্রশাসন এবং রামপাল থানার উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে পুলিশের তৎপরতা দেখাগেছে।
রামপাল থানার ওসি মোঃ দেলোয়ার হোসেন খান জানান, রামপাল থানার পুলিশ নির্দেশনা অনুযায়ী জনসমাগম স্থলের ওপর বিধিনিষেধ কার্যকর করতে তৎপর রয়েছে। পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। আইন মেনে নিজেকে ও পরিবারকে বাঁচাতে তিনি সবাইকে বিনা প্রয়োজনে বাইরে ঘোরাঘুরি না করার নির্দেশনা দিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরসূত্রে জানাগেছে, এই অভিযানে স্থানীয় নিত্যপন্য ও ঔষধের দোকানদারদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে যাতে ক্রেতারা দোকানে একসাথে ভীড় না জমায়। তবে এই অভিযানে কাউকে আটক বা জরিমানা করা হয়নি।
করোনায় সচেতনতায় মোড়েলগঞ্জের ইউএনও রাত পোহালেই মাঠে
মোড়েলগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস সচেতনতায় মোড়েলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজ্জামান রাত পোহালেই মাঠে সচেতন করছেন স্থানীয়দের। ছুটে বেড়াচ্ছে গ্রাম থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে। বাজার দর নিয়ন্ত্রন রাখতে প্রতিনিয়ত হচ্ছে মোবাইলকোর্ট। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় পৌর শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রয়োজনীয় কাজে আসা লোকজনদের খোঁজ খবর নেওয়া, একত্রে একাধিক লোক না আশার জন্য সকলকে ঘরে থাকার পরামর্শ প্রদান করেন। একই সাথে বাজারের চাল ব্যবসায়ী মো. হালিম শেখকে ভ্রাম্যমান আদালতে ৫ হাজার টাকা ও শোয়েব শেখকে ২ হাজার টাকা ভোক্তা অধিকার আইন মোটরসাইকেলের কাগজপত্র না থাকায় এ দু’ ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে।
অপরদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে করোনা ভাইরাস নিয়ে আতংকিত না হয়ে সর্তক হোন, এ প্রচারণায় লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। পৌর ছাত্রলীগের মোস্তাক বিল্লাহ রুপমের উদ্যোগে সাধারণ মানুষের মাঝে মাক্স বিতরণ করা হয়েছে।
খুলনায় আরও একজন আইসোলেশনে ভর্তি
স্টাফ রিপোর্টার
খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনা আইসোলেশন ইউনিটখুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে আরও একজন পুরুষকে ভর্তি করা হয়েছে। এ নিয়ে এ হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে পাঁচ জন ভর্তি হলেন। এ ইউনিটের প্রধান ডা. শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সকালে মেহেরপুর জেলার গাঙনী থেকে ৩৫ বছরের একজন পুরুষকে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে এখানে আসেন। খুলনা সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ বলেন, ‘খুলনায় নতুন ১১৫ জন হোম কোয়ারেন্টিনে যুক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে মোট ১৭২৬ জন হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন।’ এর আগে ঢাকায় এক করোনা আক্রান্ত রোগীর সঙ্গে একই হাসপাতালে থাকা এক ব্যক্তি খুলনায় এসে মারা গেছেন। তার করোনা ছিল কিনা জানতে নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
তিন দিনের মধ্যে খুলনায় আসবে করোনা শনাক্তের মেশিন
স্টাফ রিপোর্টার
খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকরোনা শনাক্ত করার সুবিধার্থে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে আসছে পিসিআর মেশিন। এ মেশিন স্থাপনের জন্য কক্ষ নির্ধারণ করা হচ্ছে। পিসিআর মেশিনটি আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে খুলনা পৌঁছাতে পারে। খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এ টি এম মঞ্জুর মোর্শেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ‘পিসিআর মেশিনটি স্থাপনের জন্য কক্ষটি দেবে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। সে লক্ষ্যে কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে।’ সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ জানান, খুলনায় নতুন ১১৫ জন হোম কোয়ারেন্টিনে যুক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে মোট ১৭২৬ জন হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন। আর হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি আছেন পাঁচ জন।
‘বন্দুকযুদ্ধে’ ছয় মামলার আসামি নিহত
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে হত্যাসহ ছয়টি মামলার আসামি ওয়াহেদ আলী (৪৮) নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সাতক্ষীরা-আশাশুনি সড়কের পাশে ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের চেলারডাঙ্গা ডাকেরবটতলায় তারক ঘোষের আমবাগান থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে একটি শুটারগান ও তিন জোড়া স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত ওয়াহেদ আলী সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের তমালতলা গ্রামের নবাব আলীর ছেলে। সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, স্থানীয় গ্রামপুলিশ সদস্যদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ওয়াহেদ আলীর গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ ছয়টি মামলা রয়েছে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। তবে কী কারণে বা কাদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে তার বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি বলে পুলিশ দাবি করছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানান ওসি আসাদুজ্জামান।
করোনা থেকে শিশু সুরক্ষায় ৭ দফা সুপারিশ খুলনা জোটের
স্টাফ রিপোর্টার
করোনা ভাইরাস সংক্রমণ থেকে শিশুদের সুরক্ষার আহ্বান জানিয়েছে শিশু সুরক্ষা জোট, খুলনা। জোটের পক্ষ থেকে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে একটি স্মারক লিপি দেওয়া হয়েছে; যাতে সাত দফা সুপারিশ করা হয়েছে। সম্প্রতি দেওয়া এ স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, খবর অনুসারে দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মারা গেছে ৫ জন, আক্রান্তের সংখ্যা ৪৪ জন। প্রশাসন ইতোমধ্যে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোও করোনা নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে। ৬০ মিলিয়নেরও বেশি শিশু বাংলাদেশে বাস করছে। এর মধ্যে ১০ ভাগ বাস করে খুলনাতে। এতে বলা হয়, যেকোনও ধরনের দুর্যোগ বা মহামারিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে শিশুরা। বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করেছে। শিশুরা এর ভয়বহতা থেকে রেহাই পাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিশুরা যেহেতু দীর্ঘ সময় বাড়িতে থাকবে, এতে তাদের ওপর শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতন বেড়ে যেতে পারে। সব বিধি-নিষেধ মেনে চলার পাশাপশি শিশুদের যাতে সব ধরনের সহিংসতা থেকে মুক্ত রাখা যায়, সেজন্য শিশু সুরক্ষা জোট, খুলনা আহ্বান জানিয়েছে। এ লক্ষে জোটের উদ্যোগে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কাছে ৭ দফা সুপারিশ করা হয়েছে।
সুপারিশগুলো হচ্ছেÍকরোনা নিয়ন্ত্রণে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে সেগুলোতে শিশুদের সর্বোচ্চ স্বার্থ ও সুরক্ষা বিবেচনা এবং শিশুবান্ধব করতে নজর রাখা। করোনা থেকে বাঁচার জন্য এলাকায় সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে মাইকের মাধ্যমে সচেতনতামূলক বার্ত প্রচার করা। সব ধরনের পরিকল্পনার ক্ষেত্রে জেন্ডার বিবেচনায় আনা। ছেলে ও মেয়ে শিশুর জন্য হাসপাতালগুলোতে আলাদাভাবে স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করা। শিশুদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে শিক্ষকদের নজরদারিতে রাখা। এই সংকটে খাদ্যাভাবে থাকা পরিবার বাছাই এবং তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা। খুলনা বেতারের মাধ্যমে সচেতনতামূলক বার্তা বা তথ্য প্রচার করা। একইসঙ্গে পথশিশু, এতিম শিশু, প্রতিবন্ধী শিশু ও শ্রমজীবী শিশুদের কথা বিবেচনায় রাখা। জোটের সদস্য সংস্থারগুলো হলোÍইউনিসেফ, উইনরক ইন্টারন্যাশনাল, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, পরিবর্তন-খুলনা, মাসাস, সি এস এস, প্রোসেস, কারিতাস, রূপসা, জে জে এস, ধ্রুব, নাগরিক ফোরাম, লাইট বাংলাদেশ, শেয়ার বাংলাদেশ, মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা, ইউসেপ বাংলাদেশ, সুশীলন, ব্লাস্ট খুলনা ইউনিট, ফেয়ার ও লোকোজ।
করোনা মোকাবেলায় উপকূলীয় এলাকায় টহল জোরদার, জীবাণুনাশক স্প্রে ও দুঃস্থদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছে নৌবাহিনী
খবর বিজ্ঞপ্তি
করোনা সংক্রমন রোধে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে টহল জোরদারের পাশাপাশি বিভিন্ন সেবামূলক কাজ শুরু করেছে নৌবাহিনী। জনসাধারণের মাঝে সামাজিক দুরত্ব বজায় নিশ্চিত করা, ভাইরাস সংক্রমিত রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, বিদেশ ফেরত নাগরিকদের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করার পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও খুলনা নৌ অঞ্চলের বিভিন্ন রাস্তাঘাট এবং যানবাহন সমূহে বিশুদ্ধকরণ জীবানুনাশক স্প্রে করা হয়। শুক্রবার খুলনা নৌ অঞ্চলের অধীনে দায়িত্বপূর্ণ উপকূলীয় জেলার বরগুনা সদর, আমতলী, বেতাগী, বামনা, পাথরঘাঁটা এবং তালতলী উপজেলা সমূহে নৌবাহিনী সদস্যরা দিনব্যাপি স্থানীয় বাজার, বাস টার্মিনালসহ আশেপাশের এলাকা গুলোতে মাইকিং করে জনগণকে ঘরে থাকাসহ করোনা প্রতিরোধে নানা পরামর্শ প্রদান করে। একই সাথে জনসমাগম বন্ধসহ সামাজিক দুরত্ব বাজায় রাখতে বিভিন্ন প্রচারণা চালায়। অন্যদিকে চট্টগ্রামে নৌ বাহিনী দায়িত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সকাল থেকেই নৌ সদস্যরা জীবাণুনাশক স্প্রে ছিটিয়ে রাস্তাঘাট জীবানু মুক্ত রাখতে নিয়োজিত ছিল। এছাড়া নৌবাহিনী ঘাঁটি বানৌজা ঈশাখানের উদ্যোগে পতেঙ্গায় স্থানীয় দুঃস্থ ও অসহায় মানুষদের চাল, ডাল, তেলসহ বিভিন্ন ত্রান সামগ্রী বিতরণ করে নৌসদস্যরা। উলেখ্য, দেশের সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত নৌবাহিনীর এই কার্যক্রম চলমান থাকবে।










































