Home Lead খুলনার আযম খান কমার্স কলেজে আসন খালি ৫৭৮টি: ব্যবসায় শিক্ষায় কেন এই...

খুলনার আযম খান কমার্স কলেজে আসন খালি ৫৭৮টি: ব্যবসায় শিক্ষায় কেন এই চরম ধস?

29

স্টাফ রিপোর্টার।।

একসময় খুলনা অঞ্চলের শিক্ষা ও ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীর মুখর পদচারণায় সরগরম ছিল আযম খান সরকারি কমার্স কলেজ। তবে কালের পরিক্রমায় ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে শিক্ষার্থীদের চরম অনিচ্ছার কারণে আসন পূরণে দেখা দিয়েছে মারাত্মক মন্দা। প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা নেমে এসেছে প্রায় ছয় হাজারে। শুধু তা-ই নয়, স্নাতক (সম্মান), স্নাতকোত্তর ও উচ্চমাধ্যমিক—সব স্তরেই প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক আসন খালি থাকছে।

সর্বশেষ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে কলেজটির স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ের ৪টি বিভাগে ১ হাজার ১৩০টি আসনের বিপরীতে ভর্তি হয়েছেন মাত্র ৫৫২ জন শিক্ষার্থী। ফলে অর্ধেকেরও বেশি অর্থাৎ ৫৭৮টি (৫১ শতাংশের বেশি) আসনই ফাঁকা পড়ে রয়েছে। এর আগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে খালি ছিল ১৯২টি (১৭ শতাংশ) আসন। এমনকি স্নাতক (পাস) কোর্সেও ৩০০ আসনের বিপরীতে ভর্তি হয়েছেন মাত্র ৩১ জন শিক্ষার্থী।

১৯৫৩ সালে যাত্রা শুরু করা এবং ১৯৭৯ সালে জাতীয়করণ হওয়া খুলনা অঞ্চলের এই শীর্ষ বাণিজ্য বিদ্যাপীঠটির এমন ধস নামার পেছনে করোনাত্তর প্রেক্ষাপট ও চাকরির বাজারে ব্যবসায় শিক্ষার প্রতি অনীহাকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতকে হিসাববিজ্ঞান বিভাগে ৩৭৫টি আসনের বিপরীতে ১৩৬ জন, ব্যবস্থাপনায় ৩৭৫টির বিপরীতে ২২৬ জন, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিংয়ে ১৯০টির বিপরীতে ৭০ জন এবং মার্কেটিং বিভাগে ১৯০টি আসনের বিপরীতে ১২০ জন ভর্তি হয়েছেন।

স্নাতকোত্তর পর্যায় ও উচ্চমাধ্যমিকেও একই চিত্র ধরা পড়েছে। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে স্নাতকোত্তরের ১ হাজার ৪৩০টি আসনের মধ্যে ফাঁকা ছিল ৫৮১টি আসন। প্রিলিমিনারি কোর্সে ২৫০টি আসনের বিপরীতে ভর্তি হন মাত্র ৪৮ জন (খালি ২০২টি)। এছাড়া উচ্চমাধ্যমিকে ৪৭০টি আসনের বিপরীতে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়েছেন মাত্র ৩২১ জন শিক্ষার্থী।

যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরিসংখ্যানেও দেখা গেছে, এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীর হার ধারাবাহিকভাবে কমছে। ২০২৩ সালে পরীক্ষার্থীদের ১৩.১৮ শতাংশ বাণিজ্য বিভাগের থাকলেও ২০২৬ সালে তা নেমে এসেছে ১০.৬৬ শতাংশে।

কলেজটির ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক তারক চাঁদ ঢালী জানান, বিদেশে আর্থিক খাতগুলোতে ব্যবসায় শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও দেশে এর ব্যতিক্রম ঘটছে। মানবিক বা অন্যান্য বিভাগে পড়ালেখা করে তুলনামূলক কম শ্রমে চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া যায় বলেই শিক্ষার্থীরা বাণিজ্য বিভাগ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

শিক্ষার্থী সংকটের পাশাপাশি কলেজটিতে অবকাঠামোগত ও আবাসন সংকটও প্রকট। প্রায় ছয় হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে রয়েছে মাত্র ৯৮ আসনের একটিমাত্র ছাত্রাবাস, তাও অনুদানহীন। দূর-দূরান্ত থেকে আসা নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নেই কোনো ছাত্রীনিবাস। শ্রেণিকক্ষ সংকট, ক্যানটিন বা পরিবহন সুবিধা না থাকায় মেসের অতিরিক্ত খরচ বহন করে পড়াশোনা চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

আযম খান সরকারি কমার্স কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “করোনার পর থেকেই শিক্ষার্থী সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। সারা দেশেই বাণিজ্য বিভাগের প্রতি ঝোঁক কমলেও যেসব বিশেষায়িত কলেজে শুধু বাণিজ্য পড়ানো হয়, সেখানে প্রভাবটা বেশি দৃশ্যমান। তবে অবকাঠামোগত সংকট নিরসনে একটি ১০ তলা মাল্টিপারপাস ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে।”