Home Lead বেসরকারি খাতে যাচ্ছে খুলনার দুটিসহ ৩বন্ধ পাটকল: প্লাটিনাম পাচ্ছে হ্যামকো, স্টার-জাতীয় জুটমিল...

বেসরকারি খাতে যাচ্ছে খুলনার দুটিসহ ৩বন্ধ পাটকল: প্লাটিনাম পাচ্ছে হ্যামকো, স্টার-জাতীয় জুটমিল প্রাণ গ্রুপ

27

ঢাকা অফিস
লোকসানের ভার বইতে না পেরে বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি পাটকলগুলো বেশ কয়েক বছর ধরে বেসরকারি খাতে ইজারা দিয়ে চাকা সচল করার চেষ্টা চলছে। বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব কারখানা দ্রুত হস্তান্তরের প্রচেষ্টা আরও জোরদার করেছে। তারা নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অন্যান্য বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি পাট ও বস্ত্র কারখানা পুনরায় চালু করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে জোরেশোরে।


এরই ধারাবাহিকতায় আগামী মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বন্ধ তিনটি পাটকল বেসরকারি খাতে ইজারা দেওয়া হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) আওতাধীন এসব কারখানার মধ্যে দুটি প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ এবং একটি হ্যামকো গ্রুপ ইজারা পাবে। ওইদিন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইজারা-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হবে বলে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।


এর মধ্যে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ পাচ্ছে সিরাজগঞ্জের রায়পুরে অবস্থিত জাতীয় জুট মিলস লিমিটেড ও খুলনার দিঘলিয়ার স্টার জুট মিলস লিমিটেডের ইজারা। এছাড়া হ্যামকো গ্রুপ ইজারা পাচ্ছে খুলনার খালিশপুরের প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস লিমিটেড।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পাটকল করপোরেশনের আওতায় মোট কল রয়েছে ২৫টি। এর মধ্যে ইজারার জন্য নির্বাচন করা হয়েছিল বন্ধ ২০টি কল। সেখানে এখন পর্যন্ত ১৪টি বেসরকারি খাতে ইজারায় গেছে। নতুন করে যাচ্ছে আরও তিনটি। তবে এ পর্যন্ত চালু হয়েছে অর্ধেক, অর্থাৎ সাতটি। অন্য সাতটি চালুর প্রক্রিয়ায় রয়েছে।


অন্যদিকে, করপোরেশনের ইজারা কার্যক্রমবহির্ভূত পাঁচটি পাটকলের মধ্যে খুলনা সিটি করপোরেশনের এলাকাভুক্ত দুটি কল বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) মাধ্যমে অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে একটি কল ইজারার তালিকাভুক্ত করার প্রস্তাব বিবেচনাধীন এবং দুটি মামলাজনিত কারণে ইজারা দেওয়া যাচ্ছে না।


আগে ইজারা দেওয়া কলগুলোর অবস্থা: বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, আগে ১৪টি ইজারা হওয়া কারখানার মধ্যে এ পর্যন্ত চালু করা সাতটি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করছে। এর মধ্যে চারটিতে পাটজাত পণ্য উৎপাদন হচ্ছে। অন্য তিনটিতে হচ্ছে সোয়েটার, জুতা, ছাতা, তাঁবু ও স্পেয়ার পার্টস। এসব কারখানায় এখন কাজ করছেন ৯ হাজার ৫২০ জন শ্রমিক-কর্মচারী।


পাটকল করপোরেশনের আওতায় মোট কল রয়েছে ২৫টি। এর মধ্যে ইজারার জন্য নির্বাচন করা হয়েছিল বন্ধ ২০টি কল। সেখানে এখন পর্যন্ত ১৪টি বেসরকারি খাতে ইজারায় গেছে। নতুন করে যাচ্ছে আরও তিনটি। তবে এ পর্যন্ত চালু হয়েছে অর্ধেক, অর্থাৎ সাতটি।


যে চারটি পাটকলে এখন শুধু পাটজাত পণ্য উৎপাদন হচ্ছে সেগুলোতে দৈনিক ১৬০ টন পণ্য তৈরি হয়। এ থেকে বর্তমানে বছরে ৭০ থেকে ৭৫ মিলিয়ন ডলার আয় হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পাটপণ্য উৎপাদনে রয়েছে এমন কলগুলো হলো- বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জুট অ্যালায়েন্স লিমিটেড পরিচালিত বাংলাদেশ জুট মিলস, আকিজ জুটের যশোর জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, রিগাল জুট লিমিটেডের কার্পেটং জুট মিলস ও আটলান্টিক জুট লিমিটেডের ইস্টার্ন জুট মিলস।


রাজশাহী জুট মিলস ইজারা নিয়ে সেখানে জুতাসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রতিষ্ঠান বঙ্গ বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস লিমিটেড
ভিন্ন পণ্য উৎপাদনে যারা: নরসিংদীর ইউএমসি জুট মিলস ইজারা নিয়ে এখন সেটি পোশাক কারখানায় রূপান্তর করেছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বেস্ট সোয়েটার লিমিটেড। তারা সেখানে পরীক্ষামূলকভাবে সোয়েটার উৎপাদন করছে। এতে কাজ শুরু করেছেন প্রায় ৩০০ শ্রমিক।


এছাড়া রাজশাহী জুট মিলস ইজারা নিয়েছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রতিষ্ঠান বঙ্গ বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস লিমিটেড। তাদের প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন এক হাজার ৩০০ জন। সেখানে দৈনিক প্রায় পাঁচ হাজার জোড়া জুতা, এক হাজার ৩০০ পিস ছাতা এবং প্রায় ৪০০ পিস তাঁবু উৎপাদন হচ্ছে।


সেই সঙ্গে চট্টগ্রামের গালফ্রা হাবিব লিমিটেডের ইজারা নিয়ে সেখানে শফি মোটরস লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান পরীক্ষামূলকভাবে প্রতিদিন ১৪০ কেজি স্পেয়ার পার্টস উৎপাদন করছে।


এ বছরের মধ্যে বাকি পাটকলগুলো ইজারা: নতুন তিনটি কলের ইজারার বিষয়ে পাটকল করপোরেশনের মুখ্য পরিচালন কর্মকর্তা মামনুর রশিদ জানান, এরই মধ্যে ইজারার সব কার্যক্রম সম্পূর্ণ হয়েছে। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে চুক্তি স্বাক্ষর হবে।
বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর ইজারার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাকি তিনটি ইজারাযোগ্য মিল দ্রুত ইজারা দেওয়ার কাজ চলছে। আশা করা হচ্ছে, এ বছরের মধ্যে সবগুলো মিলের ইজারা সম্পূর্ণ হবে। যেসব মিল ইজারা হয়েছে, তারাও বেসরকারি উদ্যোগে কার্যক্রম দ্রুত চালুর প্রক্রিয়ায় রয়েছে।’