স্টাফ রিপোর্টার।।
টাকা ধার নিয়ে না দেওয়া এবং অনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় ব্যাংক কর্মকর্তা ওয়াহিদা রহমান পলির বিরুদ্ধে আগেই থানায় জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করেছিলেন সরকারি কলেজের শিক্ষক মোঃ শামীম হোসেন। সেই জিডিতে প্রকাশ করা ব্লেকমেইলিং ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর আশঙ্কাই এবার সত্যি হলো। ওই জিডির পরই অভিযুক্ত ব্যাংক কর্মকর্তা উল্টো আদালতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, ধর্ষণ ও অর্থ আত্মসাতের সাজানো গল্প ফাঁদে মামলা দায়ের করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
নথিসূত্রে জানা গেছে, ‘ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, খুলনা’-এর সভাপতি ও সরকারি কলেজের শিক্ষক অধ্যাপক মোঃ শামীম হোসেনের কাছে ব্যক্তিগত প্রয়োজনের কথা বলে গত ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ধার নেন সোনালী ব্যাংকের সাময়িক বরখাস্তকৃত প্রিন্সিপাল অফিসার ওয়াহিদা রহমান পলি।

পরবর্তীতে উক্ত ধারের পাওনা টাকা ফেরত চাইলে এবং তাঁর বিরুদ্ধে সোনালী ব্যাংকের আর্থিক কেলেঙ্কারির মামলা ও ‘হানি ট্র্যাপে’ ফেলে অর্থ আদায়ের নানান প্রতারণার তথ্য প্রকাশ্যে এলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন পলি। তিনি শিক্ষক শামীমকে খুলনায় চাকরি করতে না দেওয়ার হুমকি এবং কাল্পনিক গল্প সাজিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার ধমক দিতে থাকেন।
পলির এই ব্ল্যাকমেইল ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে নিজের ও পরিবারের আইনি সুরক্ষার জন্য অধ্যাপক শামীম গত ১৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে নগরীর দৌলতপুর থানায় একটি জিডি (জিডি নং- ৭৪৮) দায়ের করেন।
অভিযোগ উঠেছে, জিডিতে শামীম হোসেন যে চক্রান্তের আশঙ্কা ব্যক্ত করেছিলেন, তা শতভাগ বাস্তবে রূপ দিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তা পলি খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-০৩-এ একটি কাল্পনিক মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ২০০ টাকার স্ট্যাম্পে ভুয়া বিয়ে, শারীরিক সম্পর্ক ও গর্ভপাতের মতো অবিশ্বাস্য সব অভিযোগ এনে শিক্ষক শামীমকে সামাজিকভাবে ধ্বংস করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিক্ষক শামীম হোসেন দীর্ঘদিন সততার সাথে শিক্ষকতায় যুক্ত। অন্যদিকে, ব্যাংক কর্মকর্তা ওয়াহিদা রহমান পলির বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেই সোনালী ব্যাংকে দুর্নীতির কারণে আদালত মামলা ও বরখাস্তের নির্দেশ দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, আওয়ামী শাসনআমলে ‘বঙ্গমাতা পরিষদ’ সোনালী ব্যাংক শাখার পরিচয় ভাঙিয়ে এবং বিভিন্ন সংবেদনশীল ফাঁদ (হানি ট্র্যাপ) পেতে প্রভাবশালী ও পরিচিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অগণিত অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
শিক্ষক শামীম হোসেনের শুভানুধ্যায়ী ও আইনজীবীরা জানিয়েছেন, জিডিতে আগেই পলির এই জালিয়াতি ও মিথ্যা মামলার চক্রান্তের কথা থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছিল।










































