Home জাতীয় আজ শ্যামাপূজা, দীপাবলি উৎসব

আজ শ্যামাপূজা, দীপাবলি উৎসব

16

বিশেষ প্রতিনিধি

আজ শনিবার হিন্দু সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শ্যামাপূজা। এ ধর্মীয় উৎসবটি কালীপূজা নামেও পরিচিত। একই সঙ্গে আজ উদযাপিত হবে শুভ দীপাবলি উৎসব। ধর্মীয় বিশ্বাস মতে, শ্যামা দেবী হলো শান্তি, সংহতি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় সংগ্রামের প্রতীক। দুষ্টের দমন আর শিষ্টের লালনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ভক্তের জীবনে অবারিত কল্যাণের অঙ্গীকার নিয়ে ধরাপৃষ্ঠে আগমন ঘটে দেবী শ্যামার। আজ জননীরূপে বাঙালীর জীবনে আবির্ভাব ঘটবে মহাশক্তি ত্রিনয়নী মা শ্যামার।

হিন্দু পুরাণ মতে, কালী দেবী দুর্গারই একটি শক্তি। সংস্কৃত ভাষার ‘কাল’ শব্দটি থেকে কালী নামের উৎপত্তি। কালীপূজা হচ্ছে শক্তির পূজা। জগতের সকল অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে শুভশক্তির বিজয় মধ্যেই রয়েছে কালীপূজার মাহাত্ম্য। কালীর অন্য নাম শ্যামা বা আদ্যাশক্তি। শাক্ত ধর্মাবলম্বীদের তন্ত্রশাস্ত্র মতে, তিনি দশমহাবিদ্যা। তন্ত্রমতে পূজিত প্রধান দশজন দেবীর মধ্যে প্রথম। শাক্তরা কালীকে বিশ্বব্রহ্মা- সৃষ্টির আদি কারণ মনে করে। বাঙালী হিন্দু সমাজে কালীর মাতৃরূপের পূজা বিশেষ জনপ্রিয়। কালীর বিভিন্ন রূপভেদ আছে। যেমন-দক্ষিণাকালী, শ্মশানকালী, ভদ্রকালী, রক্ষাকালী, মহাকালী, চামুন্ডা ইত্যাদি। আবার বিভিন্ন মন্দিরে ব্রহ্মময়ী, ভবতারিণী, আনন্দময়ী, করুণাময়ী ইত্যাদি নামে কালী প্রতিমা প্রতিষ্ঠিত ও পূজিত হয়।

কালী পূজার দিন হিন্দু সম্প্রদায় আজ সন্ধ্যায় তাদের বাড়িতে ও শ্মশানে প্রদীপ প্রজ্বালন করে স্বর্গীয় পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের স্মরণ করবেন। এটিকে বলা হয় দীপাবলী। দীপাবলী ভারতে ‘দিওয়ালী’ নামেও পরিচিত। অমাবস্যা রাতের সমস্ত অন্ধকার দূর করতে এই রাতে প্রদীপ জ্বালানো হয়। যাতে পৃথিবীতে প্রতিনিয়ত অশুভ শক্তির হাত থেকে রক্ষা পায়।

দুর্গাপূজার মতো কালীপূজাতেও গৃহে বা মন্ডপে মৃন্মময়ী প্রতিমা নির্মাণ করে পূজা করা হয়। মন্দিরে বা গৃহে প্রতিষ্ঠিত প্রস্তরময়ী বা ধাতুপ্রতিমাতেও কালীপূজা করা হয়, মধ্যরাতে তান্ত্রিক পদ্ধতিতে মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে পূজা অনুষ্ঠিত হয়। দেবীকে ছিন্নমস্তকসহ বলির পশুর রক্ত, মিষ্টান্ন, অন্ন বা লুচি, মাছ ও মাংস উৎসর্গ করা হয়। তবে গৃহস্ত বাড়িতে সাধারণত অতান্ত্রিক ব্রাহ্মণ্যমতে আদ্যাশক্তি কালীর রূপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়।

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে শক্তি ও শান্তির দেবী শ্যামা মায়ের আগমনে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে এখন আনন্দ-উচ্ছ্বাস। তবে করোনা মহামারীর কারণে আজ সীমিত পরিসরে অমাবস্যা তিথিতে দিবাগত রাতে দেশব্যাপী উদযাপিত হবে শ্যামাপূজা ও দীপাবলী। সন্ধ্যায় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিটি ঘরে, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে জ্বালানো হবে মঙ্গল প্রদীপ (দেওয়ালী)।

কোথাও শ্যামাপূজার আনন্দ-উৎসব চলবে আজ থেকে টানা তিন দিন। আবার কোথাও পূজা শেষে কাল রবিবার রাতে প্রতিমা বিসর্জন দেবে। রাজধানীর পুরান ঢাকায় প্রতিবছরের ন্যায় এবারও সবচেয়ে বেশি শ্যামা মায়ের পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সরকার থেকেও নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা। তবে করোনার কারণে পূজামন্ডপে বিগত বছরের মতো এবার নানা বৈচিত্র্য থাকছে না।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত, সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জী, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি শৈলেন্দ্র নাথ মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট কিশোর রঞ্জন মন্ডল হিন্দু সম্প্রদায়সহ দেশবাসীকে শ্যামা পূজার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। শুক্রবার এক বিবৃতিতে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে সারাদেশে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে শ্যামা পূজা আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

রাজধানী ঢাকায় কেন্দ্রীয় শ্যামা পূজা উদযাপিত হবে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় সহস্র প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে দীপাবলি উৎসব ও রাতে শ্যামাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। দীপাবলী উৎসবের উদ্বোধন করবেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী।

পোস্তগোলা জাতীয় মহাশ্মশান, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, তাঁতিবাজার, শাঁখারীবাজার, লক্ষ্মীবাজার, পাঁচ শ’ বছরের ঐতিহ্যবাহী বনগ্রাম রাধা গোবিন্দ জিও মন্দির, জয়কালী মন্দির, রামসীতা মন্দির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল, রমনা কালী মন্দির, রাজারবাগের বরদেশ্বরী কালীমন্দিরসহ বিভিন্ন পূজামন্ডপে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে ফানুস ওড়ানো, প্রদীপ প্রজ্বালন, ভক্তিমূলক গানের অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, আরতি, প্রসাদ বিতরণ প্রভৃতি।