Home খেলাধুলা বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ কে-মেসি, রোনালদো নাকি এমবাপ্পে?

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ কে-মেসি, রোনালদো নাকি এমবাপ্পে?

5

স্পোর্টস ডেস্ক:

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হতে আর বেশি বাকি নেই। ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই আসরকে ঘিরে উত্তেজনার পারদ যেমন বাড়ছে, তেমনি আলোচনায় উঠে আসছে আরেকটি প্রশ্ন—বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এখনো কি লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, নাকি নতুন প্রজন্মের সুপারস্টার কিলিয়ান এমবাপ্পে তাদের ছাড়িয়ে গেছেন?

বয়স, জনপ্রিয়তা, মাঠের পারফরম্যান্স, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রভাব, আয় এবং বিশ্বকাপের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিন তারকার মধ্যে লড়াই এখনো বেশ জমজমাট। তবে প্রতিটি সূচকে এগিয়ে আছেন ভিন্ন ভিন্ন ফুটবলার।

টিকিট বিক্রিতে এখনো মেসির জাদু

ফিফার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপ ২০২৬-এর প্রথম ধাপেই সবচেয়ে দ্রুত বিক্রি শেষ হয়েছে আর্জেন্টিনার গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর টিকিট। বিশ্লেষকদের মতে, ৩৮ বছর বয়সী লিওনেল মেসির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ হওয়ায় সমর্থকদের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। যুক্তরাষ্ট্রে তার বিপুল জনপ্রিয়তাও টিকিট বিক্রিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

অন্যদিকে ফ্রান্স ও পর্তুগালের ম্যাচগুলোর টিকিটও দ্রুত শেষ হলেও আর্জেন্টিনার ম্যাচের চাহিদা ছিল সবচেয়ে বেশি।

বিশ্বকাপের পরিসংখ্যানে এগিয়ে এমবাপ্পে

বিশ্বকাপে গোল করার দক্ষতায় বর্তমানে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে।

কিলিয়ান এমবাপ্পে: ১৪ ম্যাচে ১২ গোল ও ৫ অ্যাসিস্ট
লিওনেল মেসি: ২৬ ম্যাচে ১৩ গোল ও ৮ অ্যাসিস্ট
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো: ২২ ম্যাচে ৮ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট

মাত্র দুটি বিশ্বকাপ খেলেই এমবাপ্পে রোনালদোর মোট গোলসংখ্যা ছাড়িয়ে গেছেন এবং মেসির চেয়ে মাত্র এক গোল পিছিয়ে রয়েছেন। ফলে চলতি বিশ্বকাপেই তিনি নতুন রেকর্ড গড়তে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অনলাইন জনপ্রিয়তায় রোনালদোর আধিপত্য

গুগলের বৈশ্বিক অনুসন্ধান তথ্য বলছে, গত ২৫ বছরে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সার্চ করা ক্রীড়াবিদ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

২০২৬ সালের গড় মাসিক অনুসন্ধানেও তার নাম খোঁজা হয়েছে ১ কোটির বেশি বার। একই সময়ে মেসিকে খোঁজা হয়েছে গড়ে প্রায় ৩২ লাখ ৭৬ হাজার এবং এমবাপ্পেকে প্রায় ৩১ লাখ ৩২ হাজার বার।

এ থেকে স্পষ্ট, ডিজিটাল জনপ্রিয়তার দিক থেকে এখনো রোনালদোর অবস্থান শীর্ষে।

আয়ের দিক থেকেও সবার ওপরে রোনালদো

ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বের সর্বোচ্চ আয়কারী ক্রীড়াবিদ ছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তার মোট আয় ছিল প্রায় ২৮ কোটি মার্কিন ডলার, যার বড় অংশ এসেছে সৌদি ক্লাব আল-নাসরের সঙ্গে চুক্তি থেকে।

অন্যদিকে লিওনেল মেসির মোট আয় ছিল প্রায় ১২ কোটি ডলার। এর মধ্যে ৫ কোটি ডলার এসেছে বেতন থেকে এবং বাকি ৭ কোটি ডলার বিভিন্ন বাণিজ্যিক চুক্তির মাধ্যমে।

রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলা কিলিয়ান এমবাপ্পের মোট আয় ছিল প্রায় ৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও রাজত্ব রোনালদোর

ইনস্টাগ্রামে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি অনুসারী থাকা ক্রীড়াবিদও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। বর্তমানে তার অনুসারীর সংখ্যা ৬৬ কোটি ৪০ লাখের বেশি।

লিওনেল মেসির অনুসারী প্রায় ৫০ কোটি ৬০ লাখ এবং কিলিয়ান এমবাপ্পের অনুসারী প্রায় ১৩ কোটি।

২০২৪ সালে রোনালদো বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিলিয়নের বেশি অনুসারীর মাইলফলক স্পর্শ করেন।

বর্তমান পারফরম্যান্সে সেরা এমবাপ্পে

ক্লাব ফুটবলের বর্তমান ফর্ম বিবেচনায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন এমবাপ্পে। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ২০২৫-২৬ মৌসুমে লা লিগায় ৩২ ম্যাচে ২৫ গোল করে পিচিচি ট্রফি জিতেছেন তিনি।

এর আগের মৌসুমে ৩৪ ম্যাচে ৩১ গোল করে ইউরোপিয়ান গোল্ডেন বুটও নিজের করে নেন।

অন্যদিকে মেসি যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে ২৯ গোল এবং রোনালদো সৌদি প্রো লিগে ৩০ ম্যাচে ২৮ গোল করলেও প্রতিযোগিতার মানের বিচারে এমবাপ্পের পারফরম্যান্সকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।

বাণিজ্যিক বাজারেও বাড়ছে এমবাপ্পের প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম ধনী ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলার কারণে স্পন্সর ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর কাছে দ্রুত আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছেন এমবাপ্পে।

তার ম্যাচ ও পারফরম্যান্স ইউরোপের সর্বোচ্চ দর্শকপ্রিয় লিগের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ায় ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক মূল্য আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শেষ কথা

জনপ্রিয়তা, বৈশ্বিক পরিচিতি, আয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবের দিক থেকে এখনো ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসির অবস্থান অটুট। তবে মাঠের পারফরম্যান্স, বয়স এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার বিচারে কিলিয়ান এমবাপ্পে দ্রুতই তাদের উত্তরসূরি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছেন।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপ ২০২৬-এ এমবাপ্পের পারফরম্যান্সই হয়তো নির্ধারণ করে দেবে—ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় তারকার মুকুট কিংবদন্তি দুই মহাতারকার কাছেই থাকবে, নাকি আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন যুগের সূচনা হবে।