স্টাফ রিপোর্টার।।
৫ আগস্টের ঐতিহাসিক পটপরিবর্তনের পর যখন খুলনা এক চরম অস্থির ও আইন-শৃঙ্খলাহীন নগরীতে পরিণত হয়েছিল, তখন নিজের জীবন বাজি রেখে ফ্রন্টলাইনে দাঁড়িয়েছিলেন খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অন্যতম আলোচিত ও চৌকস কর্মকর্তা পরিদর্শক তৈমুর ইসলাম। ৫ আগস্ট-পরবর্তী ক্রান্তিকালে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দোসরদের দমনে এবং নগরীর আইনশৃঙ্খলা পুনর্গঠনে যিনি সবচেয়ে সাহসী ও আপসহীন ভূমিকা পালন করেছেন, সেই পরিদর্শক তৈমুর ইসলামকে রংপুর রেঞ্জে বদলি করা হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) রাতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জারি করা এক আদেশে তাকে এই আকস্মিক বদলি করা হয়, যা পুরো খুলনা নগরী এবং খোদ পুলিশ প্রশাসনের ভেতরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। সচেতন মহলের মতে, ৫ আগস্টের পর তৈমুরের সেই চরম সাহসিকতাই আজ স্বার্থান্বেষী মহলের কারণে তাঁর জন্য ‘কাল’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
৫ আগস্ট-পরবর্তী সেই কড়া ও আপসহীন ভূমিকা: বদলি প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে গিয়ে ৫ আগস্ট-পরবর্তী সেই অগ্নিপরীক্ষার দিনগুলোর কথা স্মরণ করেন ডিবি পরিদর্শক তৈমুর ইসলাম। তিনি বলেন, “৫ আগস্টের পর দেশের এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতিতে আমি অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে খুলনা সহ সারাদেশে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দোসরদের ধরতে কঠোর ও আপসহীন ভূমিকা পালন করি। যখন চারদিকে এক ধরনের অস্থিরতা, তখন আমি আমার চৌকস টিম নিয়ে দিন-রাত মাঠে থেকেছি। মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংমুক্ত খুলনা শহর গড়তে বুক চিতিয়ে লড়েছি।”
তিনি অত্যন্ত আক্ষেপের সাথে আরও বলেন, “একজন মানুষ কখনোই সবার কাছে প্রিয় হতে পারে না। কারো কাছে ভালো, আবার কারো কাছে খারাপ থাকবে-এটাই স্বাভাবিক। তবে যারা অন্যায় করত এবং যারা ফ্যাসিস্টদের দোসর ছিল, তাদের কাছে তৈমুর ছিল স্রেফ এক আতঙ্কের নাম। আর বর্তমানে অনেকের স্বার্থে আঘাত লাগায় আমার সেই সততা ও সাহসিকতাই আজ আমার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
বদলির আদেশে দমে না গিয়ে এই সাহসী পুলিশ কর্মকর্তা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “আমি অন্যায়ের সাথে কখনো আপোষ করিনি এবং ভবিষ্যতেও করবো না। একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আমি দুনিয়ায় কাউকে ভয় করি না। খুলনা কেন, দেশের যে কোনো রেঞ্জেই আমাকে বদলি করা হোক, আমি আমার সততা ও সাহসের ধারা বজায় রেখে দেশের সেবা করে যাব।”
সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া: এদিকে ৫ আগস্টের পর খুলনার আইন-শৃঙ্খলা টিকিয়ে রাখার মূল কারিগর পরিদর্শক তৈমুর ইসলামকে সরিয়ে দেওয়ার খবর জানাজানি হতেই নগরীর সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, ৫ আগস্টের পর খুলনা যখন অনেক ক্ষেত্রে একটি ‘নীরব ও অভিভাবকহীন অস্থির নগরীতে পরিণত হয়েছিল এবং পুলিশ প্রশাসনের একাংশ যখন চরম সাধারণ দায় এড়ানো ও গা-ছাড়া মনোভাব দেখাচ্ছিল, ঠিক তখন শহরকে রক্ষা করতে ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন ডিবি পরিদর্শক তৈমুর ইসলাম। হত্যা, খুন, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের হাত থেকে নগরবাসীকে রক্ষা করতে তিনি ও তাঁর টিম জীবন বাজি রেখে কাজ করেছেন। অপরাধীদের কোণঠাসা করে নগরীতে দ্রুত শান্তি ও স্বস্তি ফেরাতে যিনি ফ্রন্টলাইন যোদ্ধা হিসেবে লড়েছেন, তাকে এভাবে হুট করে সরিয়ে দেওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহল গভীর দুঃখ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।










































