Home খেলাধুলা কাদের সেরা বোলিং প্রশ্নে অজি অধিনায়ক, ‘সিরিজ শেষ হলে বোঝা যাবে

কাদের সেরা বোলিং প্রশ্নে অজি অধিনায়ক, ‘সিরিজ শেষ হলে বোঝা যাবে

3

বাংলাদেশ ক্রিকেটের পরিচয় দীর্ঘদিন ধরেই স্পিননির্ভর ছিল। প্রতিপক্ষকে আটকে রাখার দায়িত্ব ছিল মূলত স্পিনারদের কাঁধে।

কিন্তু সময় বদলেছে, বদলেছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের চেহারাও। গত কয়েক বছরে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে পেস আক্রমণে।

যেখানে ম্যাচ জেতানোর প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠেছেন পেসাররাই। মূল স্কোয়াডের পেসারদের বেশিরভাগই বাংলাদেশ সফরে আসেনি।
স্বাভাবিক ভাবেই অস্ট্রেলিয়ার ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক।
পেস আক্রমণের নেতৃত্বে আছেন তাসকিন আহমেদ।

নতুন বলে সুইং, মাঝের ওভারে নিয়ন্ত্রণ আর ডেথ ওভারে পরিকল্পিত বোলিং এই সব মিলিয়ে তাসকিন এখন বাংলাদেশের পেস আক্রমণের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাসকিনের পাশে আছেন মুস্তাফিজুর রহমান, তার কাটার ও স্লোয়ার ডেলিভারি এখনও ব্যাটারদের জন্য বড় ধাঁধা। সময়ের সঙ্গে গতি কিছুটা কমলেও অভিজ্ঞতা ও বৈচিত্র্য দিয়ে তিনি নিজের কার্যকারিতা ধরে রেখেছেন। বিশেষ করে সাদা বলের ক্রিকেটে বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলাদের একজন তিনি।
পেস আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন শরিফুল ইসলাম। নতুন বলে সুইং করানোর পাশাপাশি আক্রমণাত্মক মানসিকতা তাকে আলাদা করে তুলেছে। শুধু উইকেট নেওয়ার জন্য নয়, বরং ব্যাটারকে মানসিক চাপে রাখার জন্যও বল করেন। যা আধুনিক পেস বোলিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক। সবচেয়ে আলোচিত সংযোজন অবশ্য নাহিদ রানা। তার গতিময় বোলিং বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ধারাবাহিকভাবে গতিতে বল করার সক্ষমতা তাঁকে নিয়ে আলাদা ভাবে ভাবতে বাধ্য করছে প্রতিপক্ষকে।

এই চারজনকে ঘিরেই এখন বাংলাদেশের পেস আক্রমণ দাঁড়িয়ে আছে। সেই জায়গায় অস্ট্রেলিয়া দলে যারা আছেন, সেই অর্থে প্রমাণিত নন। তবে ইনজুরির কারনে বাংলাদেশে না আসতে পারা মিশেল মার্শের বদলে দায়িত্ব পাওয়া জশ ইংলিশ সিরিজ শেষেই হিসাবটা মেলাতে চান। কাদের পেস আক্রমণ সেরা এমন প্রশ্নে এই অস্ট্রেলিয়ান বলেন, ‘সিরিজ শেষ হলে বোঝা যাবে কারা এগিয়ে ছিল। আমাদের কয়েকজন অভিজ্ঞ বোলার নেই ঠিকই, কিন্তু নাথান এলিস, জেভিয়ার বার্টলেট কিংবা বেন ডয়ারশুইসের মতো ক্রিকেটাররা গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বেশ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। তারা খুবই রোমাঞ্চকর ক্রিকেটার এবং এই সিরিজে তাদের পারফরম্যান্স দেখার অপেক্ষায় আছি।’

নাহিদকে নিয়ে ইংলিস বলেন, ‘সত্যি বলতে আমি ওকে খুব বেশি দেখিনি। তবে যতটুকু দেখেছি, তাতে মনে হয়েছে সে খুব ভালো একজন বোলার এবং দারুণ সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার। সে লম্বা এবং খুব গতিতে বল করে—একজন বোলারের জন্য এটি অসাধারণ সমন্বয়। আমাদের জন্য সে অবশ্যই কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে।’

এমনিতেই মিরপুরের কিছুটা স্লো উইকেট হয়ে থাকে। যদিও গত কয়েক সিরিজ ধরে স্পোটিং উইকেটই বানানো হচ্ছে। অজি অধিনায়কের ধারনা পেস নির্ভর উইকেটই হবে এখানে, ‘আমরা আজ পরে উইকেটটা ভালোভাবে দেখব। এখানে সাম্প্রতিক সময়ে হওয়া ম্যাচগুলোও বিশ্লেষণ করেছি। নিউজিল্যান্ড সিরিজের ম্যাচগুলো দেখে মনে হয়েছে উইকেটে কিছুটা ঘাস ছিল। নতুন বলে কিছুটা মুভমেন্ট পাওয়া গেছে এবং উইকেট স্পিনের চেয়ে পেসারদের বেশি সহায়তা করেছে। তবে আমরা যেকোনো ধরনের কন্ডিশনের জন্য প্রস্তুত।’

ট্রাভিস হেড ও মিচেল মার্শ আসেননি বাংলাদেশে। বাংলাদেশ সফরে হেডের না আসার কারন ব্যক্তিগত। কেবল ওয়ানডে সিরিজ নয়, টি-টোয়েন্টি সিরিজেও আসছন না অসি এই তারকা ব্যাটার। হেড ছাড়াও চোটের কারণে ওয়ানডেতে থাকছেন না নিয়মিত অধিনায়ক মিচেল মার্শ। টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে বাংলাদেশে আসবেন মার্শ।

তাদের নিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়কের মন্তব্য, ‘মিচেল মার্শ ও ট্রাভিস হেডের মতো ক্রিকেটারদের বাইরে রাখলে অবশ্যই কিছুটা ঘাটতি তৈরি হয়। তারা দুজনই অসাধারণ ক্রিকেটার। তবে একই সঙ্গে এটা নতুন কয়েকজন ক্রিকেটারকে সুযোগ দেওয়ার ভালো সময়। সামনে বিশ্বকাপ আছে, তাই বিভিন্ন কম্বিনেশন ও নতুন ক্রিকেটারদের দেখে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।’

পাকিস্তানে স্পিন নির্ভর উইকেটে খেলে এসেছে অস্ট্রেলিয়া। তাদের কঠিন পরিস্থিরি মুখেই পড়তে হয়েছিল বাংলাদেশের। সেই শিক্ষা অবশ্য এখানে কাজে লাগছে না, ‘আমরা সবচেয়ে বেশি শিখেছি কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টি। বাংলাদেশে হয়তো ভিন্ন ধরনের উইকেট পাব, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের পরিকল্পনা সম্পর্কে পরিষ্কার থাকা এবং সেটি দীর্ঘ সময় ধরে বাস্তবায়ন করতে পারা। যারা পাকিস্তানে ভালো করেছে, তারা সেটি করতে পেরেছিল। এবার আমরা আরও বড় ইনিংস খেলতে চাই।’

বাংলাদেশকে নিয়ে ইতিবাচক মূল্যায়নই করলেন ইংলিস, ‘বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলা সব সময়ই চ্যালেঞ্জিং। তারা খুবই ভারসাম্যপূর্ণ একটি দল। নিজেদের কন্ডিশনে খেলছে, আর আমাদের অনেকেই এখানে আগে খেলেনি। তবে নিজেদের সামর্থ্যের ওপর আমাদের পূর্ণ বিশ্বাস আছে। আমার মনে হয়, এটি খুব ভালো একটি সিরিজ হবে।’

অস্ট্রেলিয়ার জন্য থ্রেট হয়ে উঠতে পারেন গে স্পিনার রিশাদ হোসেন। এমনিতে বিগব্যাশে খেলতে গিয়ে অজিদের বিরুদ্ধে ভালো অভিজ্ঞতা হয়েছে রিশাদের। সেই তাকে নিয়ে সতর্ক অজি অধিনায়ক, ‘অবশ্যই, সে আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। সে খুব ভালো বোলার। বিগ ব্যাশে খেলার কারণে আমাদের কয়েকজন ক্রিকেটার তাকে কাছ থেকে দেখেছে। ম্যাথু ওয়েড, নাথান এলিস—হোবার্টের ছেলেরা তাকে ভালোভাবেই চেনে। তাকে নিয়ে আমরা অবশ্যই আলোচনা করব।’