খুলনাঞ্চল রিপোরট্ট।।
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় সাপের কামড়ে মাহাতাব আলী (৫৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সাপে কামড়ানোর পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে না নিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে ওঝার ঝাড়ফুঁক ও কুসংস্কারনির্ভর চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মাহাতাব আলী গাংনী উপজেলার হিজলবাড়িয়া দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত শামসুল হকের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৮ জুন) সকালে গ্রামের মাঠে ভাতিজা মাসুদসহ কয়েকজনের সঙ্গে ধান রোপণের জন্য জমি প্রস্তুতের কাজ করছিলেন মাহাতাব। এ সময় জমিতে পানি দেওয়ার সময় একটি ইঁদুরের গর্ত থেকে বের হওয়া সাপ তাকে কামড় দেয়।
নিহতের ভাতিজা মাসুদ জানান, সাপে কামড়ানোর পর স্থানীয়রা মাহাতাবের পায়ে কাপড় বেঁধে তাকে গাংনীর চৌগাছা গ্রামের ফোরকান আলী নামে এক ওঝার কাছে নিয়ে যান। সেখানে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে ঝাড়ফুঁক করা হয়। পাশাপাশি বাটি চালান, শরীরের বিভিন্ন স্থানে কেটে রক্ত বের করা এবং আগুনের তাপ দেওয়ার মতো বিভিন্ন কুসংস্কারাচ্ছন্ন পদ্ধতিও প্রয়োগ করা হয়।
একপর্যায়ে মাহাতাব আলীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. নাহিদ হাসান বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই মাহাতাব আলীর মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সাপের বিষক্রিয়ার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘সাপে কামড়ানোর পর দ্রুত হাসপাতালে এনে এন্টিভেনম চিকিৎসা দেওয়া হলে অনেক ক্ষেত্রেই রোগীকে সুস্থ করা সম্ভব হয়। তাই এ ধরনের ঘটনায় ঝাড়ফুঁক বা কুসংস্কারে সময় নষ্ট না করে দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া উচিত।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাপে কামড়ানোর পর সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া হলে মাহাতাব আলীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হতে পারত। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।









































