স্টাফ রিপোর্টার:
খুলনা মহানগরী এলাকায় ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, এডিস মশা নির্মূল এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার সকালে নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, “ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই আলোর আমরা কাজ শুরু করেছি।” তিনি এডিস মশা নির্মূলে নগরবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করে বলেন, আগামীতে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করতে অ্যাপ তৈরি ও হটলাইন চালু করা হবে। এছাড়া সচেতনতা বৃদ্ধিতে লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং করা হবে।
সভায় কেসিসির কঞ্জারভেন্সী বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইতোমধ্যে বড় ড্রেন ও খালের পানি প্রবাহ সচল করা হয়েছে এবং গুণগত মান পরীক্ষা করে মশক নিধনের ওষুধ কেনা হয়েছে। বর্তমানে ২০ শতাংশ ছোট ড্রেন পরিষ্কারের কাজ বাকি আছে, যা বর্ষার আগেই শেষ করা হবে। সভায় বাজারসমূহের বর্জ্য দ্রুত অপসারণ, পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক পৃথক কমিটি গঠন এবং ইজিবাইকের ব্যাটারি দূষণ প্রতিরোধের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালের পরিচালক ডা. শেখ আবু শাহীন, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো: আখতারুজ্জামান, জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো: রফিকুল ইসলাম, নৌবাহিনী হাসপাতালের সিইও লে. কমান্ডার মোসাদ্দেকুল, খুলনা শিশু হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. প্রদীপ দেবনাথ এবং গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোস্তফা আল মামুন।
অন্যান্যের মধ্যে কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো: আনিসুর রহমান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মীউল ইসলাম, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রোগ্রাম অফিসার আসিফ আহমেদ, নাগরিক ফোরামের মহাসচিব এস এম ইকবাল হাসান তুহিন এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
১৩নং ওয়ার্ডে বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন
মতবিনিময় সভার আগে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু নগরীর ১৩নং ওয়ার্ডে ‘মিলন মহিলা কল্যাণ সংস্থা’ আয়োজিত বাড়ি বাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার গতি বাড়াতে সম্প্রতি এ সংস্থাটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ সময় কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রণব কুমার ঘোষ এবং স্থানীয় সমাজসেবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
গল্লামারী ব্রিজের নির্মাণ কাজ পরিদর্শন
এদিকে সকাল সাড়ে ৯টায় কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু নগরীর গল্লামারী এলাকা ও নির্মাণাধীন ব্রিজের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন। তিনি জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে কাজের গুণগত মান বজায় রেখে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্রিজ সম্পন্ন করার তাগিদ দেন। পরিদর্শনকালে সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ৪০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে গল্লামারী ব্রিজের কাজ সম্পূর্ণ শেষ হবে।
পরিদর্শনকালে সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সৈয়দ আসলাম আলী, নির্বাহী প্রকৌশলী মো: তানিমুল হক, কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মো: মাসুদ করিমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।









































