Home Lead নড়াইলে ভাড়া বাসায় ২৭ সরকারি দপ্তর, ভোগান্তিতে সেবাপ্রার্থীরা

নড়াইলে ভাড়া বাসায় ২৭ সরকারি দপ্তর, ভোগান্তিতে সেবাপ্রার্থীরা

1


নড়াইল প্রতিনিধি ||


নড়াইলে নিজস্ব ভবন না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া বাসায় কার্যক্রম চলছে ২৭টি সরকারি দপ্তরের। প্রতিবছর বিপুল অংকের টাকা ভাড়া গুনতে হচ্ছে এসব দপ্তরকে। বারবার কার্যালয় স্থানান্তর ও বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকার কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সেবাপ্রার্থীদের। স্বাধীনতার পরে নড়াইলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরের নিজস্ব ভবন নির্মাণ করা হয়নি। ফলে, বছরের পর বছর ভাড়া ভবনে পরিচালিত হচ্ছে এসব কার্যালয়।

গণপূর্ত বিভাগের নড়াইল দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এ জেলায় ৮০টি সরকারি দপ্তর আছে। এর মধ্যে ভাড়া বাসায় চলছে ২৭টি সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম।

ভাড়া বাসায় পরিচালিত সরকারি দপ্তরগুলো হলো—নড়াইল মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর, জেলা তথ্য অফিস, কাস্টম এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়, জেলা শিশুবিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়, জেলা মৎস্য অফিস, জেলা পাট উন্নয়ন কার্যালয়, জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যালয়, জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়, কর কমিশনারের কার্যালয়, জেলা সঞ্চয় অফিস, শহর সমাজসেবা কার্যালয়, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) জেলা কার্যালয়, প্রতিবন্ধীবিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ও মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম কার্যালয়, জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তার কার্যালয়, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের জেলা কার্যালয়, জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তার কার্যালয়, জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়, জেলা সমবায় কার্যালয়, জেলা পল্লী উন্নয়ন (বিআরডিবি) কার্যালয়, জেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়, জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয় এবং জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) নড়াইল জেলা কার্যালয়ের উপ-ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মোহাম্মদ সোলায়মান হোসেন বলেছেন, “প্রতি মাসে এ দপ্তরকে ভাড়া দিতে হচ্ছে ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা। সে হিসাব অনুযায়ী, বছরে ভাড়া গুনতে হচ্ছে ৪ লাখ ১৪ হাজার টাকা। ভাড়া বাসায় কাজ করতে আমাদের অনেক সমস্যা হয়। সরকারিভাবে জেলায় একটি সমন্বিত অফিস ভবন থাকলে সেবাগ্রহীতারাও সুফল পাবেন।”

স্থানীয় জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “জনগুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অনেক দপ্তর ভাড়া বাসায় চলছে। কোনো কার্যালয় স্থান পরিবর্তন করলে অনেক সময় ওই কার্যালয় খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অফিসগুলো একটি ভবনে আনার দাবি জানাই। এতে জনগণের সময় ও ভোগান্তি কমবে।”

জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল মালেক মিয়া বলেন, “ভাড়া অফিসে থেকে সরকারি কর্মসূচি সরকার যেভাবে চায়, সেভাবে করা সম্ভব হয় না। ভাড়া ভবনে সরকারের ভাড়াও যাচ্ছে অনেক বেশি। সরকারি অফিস নেওয়ার মতো সেই মানের তেমন ভবন নেই। বারবার ঠিকানা পরিবর্তন করলে প্রতিষ্ঠান খুঁজে পেতে সেবাগ্রহীতাদের সমস্যা হয়।”

একই ধরনের সমস্যার কথা জানান জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, “জেলা পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয় হওয়া সত্ত্বেও পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে কার্যক্রম পরিচালনায় নানা অসুবিধার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। প্রতি মাসে ২৮ হাজার টাকা ভাড়া গুনতে হয়। জেলা অফিসের জন্য আমাদের যে জায়গা দরকার, তা এই ঘরে নেই। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।”

নড়াইল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সারোয়ার হোসাইন বলেন, “জেলায় অনেক সরকারি দপ্তরের কাজ ভাড়া বসায় পরিচালিত হচ্ছে। এতে সরকারের প্রতি বছর কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। সরকার ইতোমধ্যে সব অফিসকে এক ভবনে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সমাধান হবে।”