স্টাফ রিপোর্টার।।
“আমি সার্জেন্ট ফিরোজ, আমার যে বা……. (প্রকাশের অযোগ্য) ছিঁড়তে পারলে ছিঁড়বেন। হ্যাডাম দেখাবেন না। আমি রিকসা চালককে গালি দিয়েছি-তাতে কী হয়েছে?” -জনসম্মুখে একজন সাধারণ নাগরিক ও রিকশাযাত্রীর উদ্দেশ্যে ঠিক এভাবেই চরম অহংকার ও উদ্ধত ভাষায় ধৃষ্টতা দেখালেন ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তা।
আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে খুলনা মহানগরীর ব্যস্ততম ফুলমার্কেট এলাকায় এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। কর্তব্যরত একজন পুলিশ সার্জেন্টের মুখে এমন অশালীন ও কদর্য ভাষা শুনে উপস্থিত সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, রাতে ফুলমার্কেট এলাকায় কর্তব্যরত থাকা অবস্থায় সার্জেন্ট ফিরোজ এক বৃদ্ধ রিকশাচালককে উদ্দেশ্য করে হঠাৎ করেই অকথ্য ও অশালীন ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। একজন বয়োবৃদ্ধ শ্রমজীবী মানুষকে এভাবে প্রকাশ্য রাস্তায় অপমান করতে দেখে রিকশায় থাকা যাত্রী এর তীব্র প্রতিবাদ জানান। কিন্তু রিকশাযাত্রীর এই প্রতিবাদী মনোভাব দেখে আরও বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সার্জেন্ট ফিরোজ।
তিনি শান্ত হওয়ার পরিবর্তে উল্টো ওই যাত্রীর ওপর চড়াও হন এবং তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা করেন। এ সময় আশেপাশের মানুষ জড়ো হলে তিনি উপস্থিত জনসম্মুখে বুক ফুলিয়ে অহংকার প্রদর্শন করে নিজের ক্ষমতার দাপট দেখান এবং অযোগ্য ভাষায় গালিগালাজ অব্যাহত রাখেন।
পরবর্তীতে ফুলমার্কেটের ব্যবসায়ী ও উপস্থিত সাধারণ জনতা একজোট হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং সার্জেন্ট ফিরোজকে উগ্র আচরণ থেকে নিবৃত্ত করেন। “পুলিশ জনগণের বন্ধু”-প্রশাসনের এই বহুল প্রচারিত স্লোগানটির বাস্তব রূপ যদি এমন হয়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জায়গা কোথায়?
-ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতার মনে এখন এই একটাই বড় প্রশ্ন। একজন সরকারি চাকরিজীবী হয়ে প্রকাশ্য রাস্তায় বৃদ্ধ রিকশাচালক ও যাত্রীদের সাথে এমন মাস্তানসুলভ আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।










































