স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনা মহানগরীর দক্ষিণ টুটপাড়া থেকে বিরল প্রজাতির একটি প্রাণী উদ্ধার করেছে বনবিভাগ। এটিকে সুন্দরবন বিভাগের বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।
টুটপাড়ার বাসিন্দা ফটো সাংবাদিক এমএম মিন্টুর বাড়ির নারকেল গাছ থেকে পড়া এ প্রাণীটি বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে বন বিভাগের হস্তান্তর করা হয়।
প্রাণীটি সম্পর্কে কেউ বলছেন, এটি বিদেশি বিরল প্রাণী সুগার গ্লাইডার। আবার বন বিভাগ বলছে, এটি দেশীয় প্রাণী গন্ধগোকুল।
ফটো সাংবাদিক এমএম মিন্টু বলেন, বুধবার দুপুরে দক্ষিণ টুটপাড়ার ২ নম্বর ক্রস রোড এলাকার তার বাড়ির পাশের একটি উঁচু নারকেল গাছ থেকে ছোট আকৃতির অদ্ভুত দেখতে প্রাণীটি নিচে পড়ে যায়।
পরে প্রাণী প্রেমীদের কয়েকজন দাবি করেন, এটি আসলে বিরল প্রজাতির সুগার গ্লাইডার।
আহত প্রাণীটিকে উদ্ধার করেন মিন্টুর স্ত্রী লাভলী বেগম। তিনি জানান, প্রাণীটিকে ঘরে এনে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
খাবার ও পানি দেওয়ার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেটি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। পরে প্রাণীটিকে নিরাপত্তার জন্য একটি খাঁচায় রাখা হয়। এটিকে আম, কাঁঠাল ও পেঁপে খেতে দেওয়া হয়।
বিরল এ প্রাণী উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়। এলাকাবাসীর অনেকে প্রাণীটিকে দেখতে ভিড় করেন।
কেউ ছবি তোলেন, কেউ ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। বিষয়টি বনবিভাগকে জানানোর পর বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি উদ্ধারকারী দল গিয়ে প্রাণীটি উদ্ধার করে।
খুলনার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল বলেন, এটি গন্ধগোকুল। প্রাণীটিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে বয়রাস্থ বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো জানান, প্রাণীটিকে নিরাপদে সংরক্ষণ ও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। যেহেতু এটি সুন্দরবনের প্রাণী নয়, সেহেতু যে কোন লোকালয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গন্ধগোকুল সাধারণত বিড়ালের মতো বড় আকৃতির নিশাচর প্রাণী। তবে উদ্ধার হওয়া প্রাণীটির আকার ছোট হওয়ায় এবং কিছু বৈশিষ্ট্য সুগার গ্লাইডারের মতো হওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।










































