Home Lead বরগুনায় ডাকবাংলোর কক্ষে মা ও দুই শিশুকন্যার নিথর দেহ, নেপথ্যে কি ঋণের...

বরগুনায় ডাকবাংলোর কক্ষে মা ও দুই শিশুকন্যার নিথর দেহ, নেপথ্যে কি ঋণের টানাপোড়েন?

13

খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।

বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলো থেকে মা ও তাঁর দুই অবুঝ শিশুকন্যার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, তীব্র পারিবারিক অশান্তি কিংবা মানসিক দুশ্চিন্তার জেরে দুই মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মা নিজে আত্মহত্যা করেছেন। গতকাল বুধবার (৩ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জেলা পরিষদের কেয়ারটেকার কক্ষের ভেতর অচেতন দেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে এই লোমহর্ষক ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।

নিহতরা হলেন— বরগুনা পৌর শহরের কালিবাড়ি এলাকার দুলাল চন্দ্র বিশ্বাসের স্ত্রী ইতি রানি (৩৪), তাঁর বড় মেয়ে আরাধা বিশ্বাস (১২) এবং ছোট মেয়ে অনুরাধা বিশ্বাস (৩)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইতি রানি প্রতিদিনের মতোই জেলা পরিষদের ডাকবাংলোয় তাঁর কর্মস্থলে কাজে এসেছিলেন। তবে অন্য দিনগুলোতে সন্তানদের বাসায় রেখে আসলেও, বুধবার তিনি তাঁর দুই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে আসেন এবং স্বাভাবিকভাবেই কাজ করছিলেন।

বিকেলের দিকে দীর্ঘক্ষণ ইতি রানির কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ডাকবাংলোর কেয়ারটেকার লিটন ভবনটির বিভিন্ন কক্ষে খোঁজ নিতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি তৃতীয় তলার একটি কক্ষে বড় মেয়ে আরাধা বিশ্বাসকে খাটের ওপর অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় পাশের কক্ষটির দরজা ভেতর থেকে শক্ত করে বন্ধ থাকায় তাঁর মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। তিনি দরজায় ধাক্কাধাক্কি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ভেতরের কক্ষ থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

ডাকবাংলোর কেয়ারটেকার লিটন ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, “আমি দুপুর ২টার দিকে ডাকবাংলোয় আসি। দুপুরের খাবার খেয়ে ওপরে উঠে দেখি একটি কক্ষের দরজা খোলা। একটু সামনে এগিয়ে গিয়ে দেখি বড় মেয়েটি খাটের ওপর অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে। পাশের রুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় আমি আর দেরি না করে পুলিশকে খবর দেই।”

এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় নিহত ইতি রানির বড় বোন রিতা রানি জানান, পরিবারে দৃশ্যত বড় কোনো ঝামেলা বা কলহ ছিল না। তবে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ এবং এনজিও-র কিস্তির তীব্র চাপ নিয়ে ইতি রানি সবসময় চরম দুশ্চিন্তা ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিন কাটাতেন। ধারণা করা হচ্ছে, ঋণের সেই বোঝা সইতে না পেরেই তিনি এমন চরম পথ বেছে নিয়েছেন।

বরগুনার পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে ইতিমধ্যেই পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে এবং কাজ শুরু করেছে। তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ডাকবাংলোর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে বিষয়টিকে আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্ত শেষেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে জানা যাবে।