স্পোর্টস ডেস্ক।।
শুরুটা ছিল একেবারেই ছন্নছাড়া। টানা তৃতীয় শিরোপার মিশনে নামা দলের এমন বিবর্ণ পারফরম্যান্স ভাবিয়ে তুলেছিল ডাগআউটকে।
একের পর এক আক্রমণে লাল-সবুজের রক্ষণভাগকে রীতিমতো কোণঠাসা করে ফেলেছিল নেপাল। গোল হজম করে পিছিয়েও পড়েছিল দল।
তবে প্রথমার্ধের ৪৫ মিনিটে দৃশ্যপট বদলে দিলেন ‘বাংলার মেসি’ খ্যাত ঋতুপর্ণা চাকমা। তার দর্শনীয় এক ‘অলিম্পিক গোলে’ সেমিফাইনালের মহারণে ১-১ সমতা নিয়ে স্বস্তির বিরতিতে গেছে বাংলাদেশ।
ভারতের গোয়ায় চলমান সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের এই হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে আজ শুরু থেকেই মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিতে লড়াই করতে থাকে দু’দল। তবে বলের দখল ও আক্রমণের ধারে স্পষ্ট এগিয়ে ছিল নেপাল।
আগের দুই ম্যাচের মতো এদিনও নিজেদের ছায়া হয়ে ছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মারিয়া মান্দা। মাঝমাঠে তার নিষ্প্রভতার সুযোগ নিয়ে বারবার বাংলাদেশের বিপদসীমায় হানা দিচ্ছিল নেপালি ফরোয়ার্ডরা, ব্যস্ত সময় পার করতে হচ্ছিল লাল-সবুজের ডিফেন্ডারদের।
রক্ষণভাগ বেশ কিছুক্ষণ চাপ সামাল দিলেও শেষ রক্ষা হয়নি। ম্যাচের ২৩তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত লিড পেয়ে যায় নেপাল। বাংলাদেশের ডি-বক্সের ভেতর তৈরি হওয়া জটলা থেকে বল ক্লিয়ার করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হন ডিফেন্ডাররা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বক্সের ডান প্রান্ত থেকে নেওয়া দারুণ এক কোনাকুনি শটে বল জালে জড়ান নেপালের গিতা রানা।
১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। মাঝমাঠের বদলে দুই উইং ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের রক্ষণে চিড় ধরানোর চেষ্টা করতে থাকে তারা। তবে নেপালের সুসংগঠিত রক্ষণভাগ ভাঙতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল ফরোয়ার্ডদের।
অবশেষে প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মিনিটে আসে সেই জাদুকরী মুহূর্ত। দুর্দান্ত এক ‘অলিম্পিক গোলে’ (সরাসরি কর্নার থেকে গোল) নেপালের জালে বল জড়িয়ে দলকে উচ্ছ্বাসে ভাসান ঋতুপর্ণা চাকমা। তার এই অবিশ্বাস্য গোলে সমতায় ফিরে নতুন আত্মবিশ্বাস নিয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরে বাংলাদেশ।
ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে দ্বিতীয়ার্ধে এক কঠিন স্নায়ুচাপের পরীক্ষা দিতে হবে বাংলাদেশকে। অন্যদিকে, প্রতিশোধের নেশায় মরিয়া নেপালও যে ছেড়ে কথা বলবে না, তা প্রথমার্ধের দাপুটে ফুটবল দিয়েই পরিষ্কার বুঝিয়ে দিয়েছে তারা।











































