Home স্বাস্থ্য অল্প বয়সে বুড়ো হয়ে যায় যে ৫ খাবার খেলে

অল্প বয়সে বুড়ো হয়ে যায় যে ৫ খাবার খেলে

0

মিলি রহমান।।

ত্বক শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়, এটি আমাদের সামগ্রিক স্বাস্থ্যেরও প্রতিচ্ছবি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে স্বাভাবিকভাবেই কিছু পরিবর্তন আসে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসও ত্বকের বার্ধক্যকে দ্রুততর করতে পারে।

কিছু খাবার রয়েছে, যা কোলাজেন ক্ষয়, প্রদাহ এবং ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা কমিয়ে অল্প বয়সেই বলিরেখা ও নিস্তেজ ভাবের কারণ হতে পারে।
হেলথ- এর প্রতিবেদন থেকে জেনে নেওয়া যাক, কোন পাঁচ ধরনের খাবার ও পানীয় ত্বকের বয়স দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে।

অতিরিক্ত চিনি ও পরিশোধিত শর্করা

মিষ্টি খাবার, কেক, পেস্ট্রি, সাদা পাউরুটি বা পরিশোধিত আটা দিয়ে তৈরি খাবার বেশি খেলে শরীরে ‘গ্লাইকেশন’ নামে একটি রাসায়নিক প্রক্রিয়া ঘটে। এতে চিনি শরীরের প্রোটিনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ক্ষতিকর যৌগ তৈরি করে, যাকে বলা হয় অ্যাডভান্সড গ্লাইকেশন এন্ড প্রোডাক্টস। এই যৌগগুলো ত্বকের কোলাজেন ও ইলাস্টিনের ক্ষতি করে। ফলে ত্বক ধীরে ধীরে তার নমনীয়তা হারায়, ঝুলে পড়তে শুরু করে এবং বলিরেখা দেখা দেয়।

পুষ্টিবিদ সামান্থা ক্যাসেটি বিশেষভাবে কোমল পানীয়, অতিরিক্ত চিনি মেশানো চা, লেমোনেড এবং সিরাপযুক্ত কফি পানীয় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, এসব পানীয় শরীরে প্রায় কোনো পুষ্টিগুণই যোগ করে না, বরং ত্বক ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

প্রক্রিয়াজাত ও ভাজাপোড়া খাবার

চিপস, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, সসেজ, হটডগ, প্রক্রিয়াজাত মাংস এবং অন্যান্য ভাজাপোড়া খাবার ত্বকের অন্যতম শত্রু হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব খাবার শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং ক্ষতিকর উৎপাদন বাড়ায়। পাশাপাশি এসব খাবারে সাধারণত ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণ কম থাকে, যা ত্বক মেরামত, কোলাজেন উৎপাদন এবং ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ফলে নিয়মিত এসব খাবার খেলে ত্বক দ্রুত শুষ্ক, নিস্তেজ ও বয়সী দেখাতে পারে।

অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন

অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবনের সঙ্গে মুখমণ্ডলের দ্রুত বার্ধক্যের সম্পর্ক রয়েছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে।

একটি বড় জরিপে দেখা গেছে, সপ্তাহে আট বা তার বেশি পানীয় গ্রহণকারীদের মধ্যে চোখের নিচে ফোলা ভাব, মুখের চামড়া ঢিলে হয়ে যাওয়া, মুখের আয়তন কমে যাওয়া এবং গালে রক্তনালির দৃশ্যমানতা বাড়ার প্রবণতা বেশি।

যদিও এ বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে, তবুও বিশেষজ্ঞরা ত্বকের সুস্থতা ও সার্বিক স্বাস্থ্যের জন্য অ্যালকোহল সীমিত রাখার পরামর্শ দেন।

লবণযুক্ত খাবার খেলে

অতিরিক্ত লবণ শুধু উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায় না, এটি ত্বকের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত লবণ শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়াতে পারে। এটি এমন একটি অবস্থা, যেখানে ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিক্যাল ও প্রতিরোধকারী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে কোষের ক্ষতি হয় এবং ত্বকে বয়সের ছাপ দ্রুত ফুটে উঠতে পারে।

পাউরুটি, চিজ, প্রক্রিয়াজাত মাংস, পিজ্জা ও বার্গারের মতো খাবারে সাধারণত লবণের পরিমাণ বেশি থাকে। তাই এসব খাবার পরিমিত খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

ট্রান্স ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবার

বর্তমানে অনেক দেশে ট্রান্স ফ্যাট ব্যবহারে কড়াকড়ি থাকলেও কিছু খাবারে এখনও এর উপস্থিতি পাওয়া যায়। খাদ্যের উপাদান তালিকায় ‘পার্শিয়ালি হাইড্রোজেনেটেড অয়েল’ লেখা থাকলে সেটি ট্রান্স ফ্যাটের ইঙ্গিত হতে পারে।

ট্রান্স ফ্যাট হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ানোর পাশাপাশি ত্বকের বার্ধক্যও ত্বরান্বিত করে। এটি কোলাজেন ক্ষয় করে এবং ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা কমিয়ে দেয়।

কুকিজ, কেক, ডোনাট, আলুর চিপস, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিকেন নাগেটস, ফ্রোজেন পিজ্জা এবং কিছু প্রক্রিয়াজাত মাংসে ট্রান্স ফ্যাট থাকতে পারে।

তারুণ্য ধরে রাখতে কী খাবেন?

সুখবর হলো, কিছু স্বাস্থ্যকর খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে ত্বক দীর্ঘদিন সতেজ ও প্রাণবন্ত রাখা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী——————–

চিনি ছাড়া গ্রিন টি: এতে থাকা পলিফেনল ত্বকের আর্দ্রতা, স্থিতিস্থাপকতা ও গঠন উন্নত করতে সাহায্য করে।
স্বাস্থ্যকর চর্বি: অলিভ অয়েল, সামুদ্রিক মাছ এবং উদ্ভিজ্জ উৎসের ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বককে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং কোলাজেন সংরক্ষণে সহায়তা করে।
বাদাম: অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী উপাদানে সমৃদ্ধ বাদাম ত্বকের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।
বেরিজাতীয় ফল: স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি কিংবা অন্যান্য বেরিজাতীয় ফলে প্রচুর ভিটামিন সি ও পলিফেনল থাকে, যা কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায় এবং ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

তারুণ্য ধরে রাখার কোনো জাদুকরী উপায় নেই। তবে প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে ছোট ছোট পরিবর্তন ত্বকের সুস্থতা রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে। অতিরিক্ত চিনি, ভাজাপোড়া খাবার, লবণ ও ট্রান্স ফ্যাটসমৃদ্ধ খাদ্য কমিয়ে ফলমূল, বাদাম, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও গ্রিন টির মতো পুষ্টিকর খাবার বেছে নিলে ত্বক দীর্ঘদিন উজ্জ্বল ও সতেজ রাখা সম্ভব।