স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানা এলাকায় বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে কাজী রাশিদুল ইসলাম (৩০) নামের এক যুবককে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। আজ মঙ্গলবার (২রা জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাচিবুনিয়া স্কুলভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহত রাশিদুল ইসলাম ওই এলাকার কাজী আনিসুর রহমানের ছেলে। এর আগে গত ১৯শে মার্চ তাঁর বাড়িতে ঢুকে সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছিল, যা ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজ সকালে রাশেদ বাড়িতেই ছিলেন। বেলা সোয়া ১১টার দিকে তাঁর পূর্বপরিচিত দুই বন্ধু এসে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পরই সাচিবুনিয়া স্কুলভিটা এলাকার রাস্তার ওপর তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে সন্ত্রাসীরা। স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
খুমেক হাসপাতালের মর্গের সামনে নিহত রাশেদের প্রবীণ পিতা কাজী আনিসুর রহমান কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গত মার্চ মাসে সন্ত্রাসী ইমরান আমার রাশেদকে মারতে বাড়িতে এসেছিল। ওকে না পেয়ে আমাদের পুরো পরিবারকে গুলি করে। ওই ঘটনার যদি সঠিক বিচার হতো, তবে আজ আমার ছেলেকে লাশ হতে হতো না।”
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৯শে মার্চ সকালে রাশেদের বাড়িতে ঢুকে সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে রাশেদের মা রঞ্জুয়ারা বেগম, বাবা কাজী আনিসুর রহমান, বড় ভাই রাইসুল ইসলাম ও স্ত্রী ফাহিমা গুলিবিদ্ধ হন। সে যাত্রায় রাশেদ বাড়িতে না থাকায় প্রাণে বেঁচে গেলেও আজ আর শেষ রক্ষা হলো না।
লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশাররফ হোসেন জানান, হত্যাকাণ্ডের শিকার রাশেদ এবং ঘাতকরা একে অপরের পূর্বপরিচিত। একটি মাদক মামলায় দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার সময় সন্ত্রাসী গ্রুপ ‘বি কোম্পানি’র সদস্য ইমরানের সঙ্গে রাশেদের পরিচয় হয়। পরবর্তীতে ইমরানের সাবেক স্ত্রীকে রাশেদ বিয়ে করায় তাদের মধ্যে চরম শত্রুতার সৃষ্টি হয়। এই ক্ষোভ থেকেই গত মার্চে ইমরান রাশেদের বাড়িতে ঢুকে সপরিবারে গুলি চালায়।
ওসি আরও জানান, পূর্বশত্রুতা ও আগের হামলার ঘটনার যোগসূত্র ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম ইতিমধ্যে অভিযান শুরু করেছে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, চলতি ২০২৬ সালের প্রথম ৫ মাসেই খুলনায় অন্তত ১৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দিনদুপুরে একের পর এক এমন খুনের ঘটনায় খুলনাবাসীর মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।










































