Home আঞ্চলিক একসময়ের জনপ্রিয় দেশি খেজুর এখন গাছেই নষ্ট

একসময়ের জনপ্রিয় দেশি খেজুর এখন গাছেই নষ্ট

8


মেহেরপুর প্রতিনিধি।।

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বিভিন্ন রাস্তার পাশে, বাড়ির আঙিনা ও পতিত জমিতে সারি সারি দেশি খেজুরগাছ দেখা যায়। এসব গাছে থোকায় থোকায় খেজুর ধরলেও বর্তমানে মানুষের আগ্রহ কমে যাওয়ায় অধিকাংশ খেজুর গাছেই পেকে নষ্ট হচ্ছে। অনেক সময় পাখিদেরই এসব খেজুর খেতে দেখা যায়।

স্থানীয়দের মতে, প্রায় এক দশক আগেও দেশি খেজুরের আলাদা কদর ছিল। বাজারে এসব খেজুর বিক্রি হতো এবং অনেকেই লবণ মিশিয়ে কয়েক দিন রেখে পাকিয়ে খেতেন। সুস্বাদু এই ফলটি তখন গ্রামাঞ্চলের মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয় ছিল। তবে সময়ের পরিবর্তনে সেই চিত্র এখন অনেকটাই অতীত।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খেজুরগাছে থোকায় থোকায় ফল ঝুলতে দেখতে খুবই সুন্দর লাগে। অথচ বর্তমানে অধিকাংশ খেজুর গাছেই নষ্ট হচ্ছে। একসময় মানুষ আগ্রহ নিয়ে এসব খেজুর সংগ্রহ করে খেতেন। এ ছাড়া এসব গাছে কোনো কীটনাশক প্রয়োগের প্রয়োজন হয় না এবং বিশেষ যত্ন ছাড়াই ভালো ফলন পাওয়া যায়।

মাঠে কাজ করতে আসা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে দেশি খেজুর মূলত পশুপাখির খাবারে পরিণত হয়েছে। মানুষ খুব একটা খায় না। অথচ এতে প্রচুর ভিটামিন ও পুষ্টিগুণ রয়েছে বলে শুনেছি। তাই এ ফল খাওয়ার অভ্যাস বাড়ানো উচিত।’

রামদেবপুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ছোটবেলায় গাছ থেকে পেড়ে অনেক খেজুর খেয়েছি। তখন লবণ মিশ্রিত পানিতে দুই-তিন দিন রেখে খেজুর পাকিয়ে খাওয়ার প্রচলন ছিল। কিন্তু এখনকার প্রজন্মের মধ্যে সেই আগ্রহ আর দেখা যায় না।’

মো. ইসরাফিল হোসেন বলেন, ‘আগে ছোট-বড় সবাই দেশি খেজুর খেত। এখন আর তেমন কাউকে খেতে দেখা যায় না। খেজুরের আঁটি বড় হওয়ায় শাঁস তুলনামূলক কম হলেও এর স্বাদ ও পুষ্টিগুণের কারণে একসময় এর বেশ কদর ছিল।’


করমদী গ্রামের হেকমত আলী বলেন, ‘তেরাইল, করমদী, কল্যাণপুর, রামদেবপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখি রাস্তার ধারে অসংখ্য খেজুরগাছ রয়েছে। বেশির ভাগ গাছেই প্রচুর খেজুর ধরেছে। কিন্তু সেগুলো ঝরে পড়ে বা গাছেই পেকে নষ্ট হচ্ছে। মাঝেমধ্যে দু-একজন সংগ্রহ করে বাড়িতে নিয়ে পাকিয়ে খায়।’

গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মতিয়র রহমান বলেন, ‘খেজুরসহ দেশি মৌসুমি ফলগুলো খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এসব ফলে প্রচুর পুষ্টিগুণ রয়েছে এবং ক্ষতিকর কোনো দিক নেই। তাই দেশি ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।’