ঢাকা অফিস।।
দেশের ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) মেয়াদ আগামী ১১ জুলাই শেষ হচ্ছে। এখন পর্যন্ত নির্বাচন আয়োজনের তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনপ্রতিনিধিত্বমূলক প্রতিষ্ঠানে জনপ্রতিনিধির বিকল্প নেই। যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন আয়োজন করা জরুরি।
সর্বশেষ ২০২১ ও ২০২২ সালে সাত ধাপে দেশের ৪ হাজার ১৩০টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম ধাপে ২০২১ সালের ১১ এপ্রিল ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হয়। আগামী ১১ জুলাই সেসব ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে সারাদেশে ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা ৪ হাজার ৫৮০। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে পট পরিবর্তনের পর অনেক ইউপি চেয়ারম্যান আড়ালে চলে যান। ওই বছরের অক্টোবরের হিসাব অনুযায়ী এমন চেয়ারম্যানের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৪১৬। অবশ্য পরে কিছু চেয়ারম্যান কর্মস্থলে ফেরেন। কতজন ফিরেছেন তার হিসাব বর্তমানে স্থানীয় সরকার বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় নেই। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার বিভাগকে ইউনিয়ন পরিষদগুলোর তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেন। এ জন্য গত ২৩ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দেশের সকল জেলা প্রশাসককে (ডিসি) চিঠি দেওয়া হয়। ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তথ্যগুলো দিতে চিঠিতে বলা হয়।
স্থানীয় সরকার বিভাগের তৎকালীন উপসচিব (ইউনিয়ন অধিশাখা) সামিউল মাসুদ স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে ইউনিয়ন পরিষদের নাম, সর্বশেষ নির্বাচনের তারিখ, মেয়াদ উত্তীর্ণের সময়, বর্তমানে কে দায়িত্ব পালন করছেন, আদালতের স্থগিতাদেশ আছে কিনা, মামলাসংক্রান্ত কোনো জটিলতা আছে কিনা এবং বর্তমানে নির্বাচন উপযোগী কিনা–এসব তথ্য চাওয়া হয়। তিন দিনের মধ্যে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানালেও সেটি মন্ত্রণালয়ে পৌঁছতে ১০ দিনের মতো লেগে যায়। এরপর সামিউল মাসুদ বদলি হয়ে বিআরটিএতে চলে যান। যোগাযোগ করা হলে সামিউল মাসুদ বলেন, ‘সব জেলা থেকে তথ্য আসার পরপরই আমাকে বদলি করা হয়। এর পরে কী হয়েছে তা আমি জানি না।’
বর্তমানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (ইউনিয়ন অধিশাখা) মো. আনোয়ার ইমামের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, এ ধরনের তথ্য তাঁর জানা নেই। তিনি নতুন এসেছেন। কেউ এ বিষয়ে তাঁকে কিছু জানাননি। ডিসিদের পাঠানো তথ্যের বিষয়েও তিনি জানেন না। তিনি বলেন, নির্বাচন আয়োজন করা সরকারের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। যখন সিদ্ধান্ত আসবে তখন নির্বাচন হবে। এটি করবে নির্বাচন কমিশন। এখানে মন্ত্রণালয়ের তো কিছু করার নেই।
অতীতে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন না হলে মেয়াদ শেষে ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের সুযোগ থাকলেও ২০২৩ সালে আইন সংশোধন করা হয়। সংশোধিত আইন অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কোনো ইউপি চেয়ারম্যান দায়িত্বে থাকতে পারবেন না। এই আইনে ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মেয়াদ শেষের ৬ মাসের পরিবর্তে তিন মাস আগে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের বিধান করা হয়। কাজেই ২০২১ সালের প্রথম ধাপের নির্বাচনের পর যারা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন তাদের মেয়াদ আগামী ১১ জুলাই শেষ হবে।
এদিকে ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপে ৮৪৮টি, তৃতীয় ধাপে ২৮ নভেম্বর ১ হাজার ৭টি, ২৬ ডিসেম্বর ৮৪০টি, ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি ৭০৭টি, ৩১ জানুয়ারি ২১৯টি এবং ৭ ফেব্রুয়ারি ১৩৮টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হয়।
স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের বিষয়ে সরকারের তেমন কোনো প্রস্তুতি চোখে পড়ছে না। এখন মেয়াদ শেষ হলে তো প্রশাসক বসানো ছাড়া কোনো উপায় নেই।
গণঅভ্যুত্থানের পর সরকার একযোগে দেশের সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়র-কাউন্সিলরদের বরখাস্ত করে। ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদেরও বরখাস্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। অবশ্য শেষ পর্যন্ত তা করা হয়নি। অনেক ইউপির জনপ্রতিনিধি পলাতক হওয়ায় সেখানে প্রশাসক নিয়োগ দেয় সরকার।
নতুন করে প্রশাসক নিয়োগ দিলে নাগরিক ভোগান্তি বাড়বে বলে মনে করেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর পলিসি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক ড. আদিল মুহাম্মদ খান। তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধিত্বমূলক প্রতিষ্ঠানে জনপ্রতিনিধির বিকল্প নেই। যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন আয়োজন করাটা এখন জরুরি। তা না হলে জনগণের ভোগান্তি বাড়বে।










































