মিলি রহমান।।
জেঁকে বসছে গরম। প্রতি মুহূর্তে বাড়ছে দাবদাহের পারদ। হাঁসফাঁস অবস্থা। কয়েক দিনের মধ্যে গরমের তীব্রতা যে আরও বাড়বে তা এর মধ্যেই আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে— জুনে ভ্যাপসা গরমের প্রভাব পড়বে। সে জন্য বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৩টার মধ্যে সূর্যের তাপ সবচেয়ে বেশি থাকবে। সে কারণে এই সময় বাইরে বের হলে ছাতা, সানগ্লাস কিংবা টুপি ব্যবহার করুন।
বাড়িতে থাকলেও সকাল ১০টা থেকে ৫টা পর্যন্ত দরজা-জানালা বন্ধ রাখুন। আর যদি বাড়ির বাইরে বের হন, তবে কমপক্ষে ২০ মিনিট আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করে বের হন।
তবে ত্বক স্বাভাবিক হলে যে কোনো ধরনের সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে পারেন। আর তৈলাক্ত ও স্পর্শকাতর ত্বকের জন্য জেল, স্প্রে ও স্টিক সানস্ক্রিন ভালো। গরমে ত্বক ঠান্ডা রাখার জন্য বরফের টুকরো ঘষতে পারেন। এ ছাড়া শসার স্লাইস চোখের পাতায় লাগিয়েও বিশ্রাম নিতে পারেন।
কিন্তু কাঠফাটা রোদে ফ্যানের তলায় থেকেও স্বস্তি নেই, যা এর মধ্যেই লক্ষণ দেখা দিয়েছে। এসির হাওয়া সাময়িক আরাম দিলেও কতক্ষণই বা থাকতে পারবেন! কাজের প্রয়োজনে বাইরে তো বের হতেই হবে। আবার গলদঘর্ম হয়ে বাড়ি ফিরেই ঢক ঢক করে ফ্রিজের ঠান্ডা পানি পান কিংবা সঙ্গে সঙ্গে স্নান করলেও শরীরের বারোটা বাজতে সময় লাগে না।
বরং আপনার শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখুন। গরমকালে বেশ কিছু বিষয় মেনে চললেই সুস্থ থাকবেন।
তাই কাঠফাটা গরমে সুস্থ থাকতে প্রচুর পরিমাণে পানি ও তরলজাতীয় পান করুন। হালকা ও সুতির পোশাক পরুন এবং সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলুন। এ ছাড়া হিটস্ট্রোকসহ অন্যান্য রোগবালাই থেকে মুক্ত থাকুন।
খুব গরম থেকে এসে এসিতে ঢুকলে কিংবা বরফ ঠান্ডা পানি খেলে সর্দি-কাশির সমস্যা হতে পারে। তাই এ অভ্যাস ত্যাগ করুন। গরমে ঘন ঘন স্নান করলে ঠান্ডা লাগার আশঙ্কাও থাকে, সেটিও বদলে ফেলুন। এর বদলে কখনো কখনো কোল্ড ফুট বাথ নিন। যার জন্য একটি বড় গামলায় ঠান্ডা পানি নিয়ে তার মধ্যে বরফের টুকরো দিন। এবার খানিক সময় পা ডুবিয়ে বসে থাকুন। চাইলে এই পানির মধ্যে কয়েক ফোঁটা পিপারমিন্ট অ্যাসেন্সিয়াল অয়েল যোগ করতে পারেন।
আর গরমে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বাড়তে পারে। সে কারণে বাইরে থেকে এসে হাত ধোয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার অভ্যাস করুন। গরম পড়তে শুরু করলেই শরীরে পানিশূন্যতার সমস্যা দেখা দেয়। তাই দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন। শরীর হাইড্রেটেড থাকলে ক্লান্তি কম অনুভূত হয় এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো থাকে।
গরমের সময় হালকা ও সুতি আর আরামদায়ক পোশাক পরুন। এ সময়ে খুব আঁটসাঁট পোশাক না পরাই ভালো। কারণ গাঢ় রঙের বদলে হালকা রঙের পোশাক শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। আর গরমের সময়ে ঝাল, তেল, মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। খাদ্যতালিকায় এমন ফল বা সবজি রাখুন যা শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে। তরমুজ, শসা, জামরুল, পটোল, ঝিঙের মতো যেসব ফল অথবা সবজিতে পানির পরিমাণ বেশি থাকে, সেগুলো বেশি করে খাওয়ার চেষ্টা করুন।
টকদই ঘরে পাতা হলে তো কথাই নেই। নয়তো দোকান থেকে কিনে এই সময়ে প্রতিদিন পাতে রাখুন টকদই। দারুণ স্বাস্থ্যকর এ টকদই শরীরও ঠান্ডা রাখে। দইয়ের শরবত থেকে শুরু করে দইভাত, দইয়ের রায়তা যেভাবে হোক দই খাওয়া চাই-ই চাই। আবার খেতে পারেন দই চিঁড়ে, খইদইয়ের মতো খাবার।
তবে শরীর সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত ঘুমের বিকল্প নেই। দিনে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো উচিত। গরমের কারণে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে, তাই ঘরকে যতটা সম্ভব ঠান্ডা ও আরামদায়ক রাখার চেষ্টা করুন।
এ ছাড়া গরমের কারণে অনেকেই নিয়মিত ব্যায়াম করেন না, যা আপনার শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সকালে বা সন্ধ্যায় হালকা ব্যায়াম, হাঁটা বা যোগব্যায়াম করুন। এতে শরীর চাঙা থাকবে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।











































