স্পোর্টস ডেস্ক ।।
দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যতের কাণ্ডারিদের খুঁজে বের করার মিশন নিয়ে আবারও মাঠে গড়াচ্ছে ‘প্রাইম ব্যাংক ন্যাশনাল স্কুল ক্রিকেট ২০২৫-২৬’।
আগামী শুক্রবার (১০ এপ্রিল) থেকে দেশজুড়ে একযোগে শুরু হচ্ছে ক্ষুদে ক্রিকেটারদের এই মেগা টুর্নামেন্ট। এবারের একাদশ আসরে দেশের ৬৪ জেলার ৩৫০টি স্কুল অংশ নিচ্ছে। সাড়ে আট হাজারের বেশি ক্ষুদে ক্রিকেটারের পদচারণায় মুখরিত হবে মাঠ। যেখানে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে অনুষ্ঠিত হবে মোট ৬৫১টি ম্যাচ। ক্রিকেটারদের স্বপ্ন পূরণের প্রথম সিঁড়ি হিসেবে পরিচিত এই টুর্নামেন্ট।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে নিজেদের স্কুল ক্রিকেটের দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শান্ত ও হৃদয়। ক্ষুদে ক্রিকেটারদের স্বপ্নের কথা বিবেচনা করে হৃদয়ের অনুরোধ, বৃষ্টির কারণে যেন কোনো ম্যাচ পণ্ড না হয়।
তিনি বলেন, ‘আমি চাই টুর্নামেন্টটি বৃষ্টির মৌসুমের আগেই শেষ করা হোক। টসে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার চেয়ে মাঠে খেলে জয়ী হওয়ার আনন্দই আলাদা।’
হৃদয়ের এমন অনুরোধের জবাবে প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন জানান, রোজা ও স্কুলের পরীক্ষার কথা মাথায় রাখতে গিয়ে টুর্নামেন্টটি প্রতিবারই কিছুটা পিছিয়ে যায়। তবে বৃষ্টির বাধা এড়াতে ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতাটি আরও এগিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে বিসিবি।
দীর্ঘ ১০ বছর ধরে এই টুর্নামেন্টের পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছে প্রাইম ব্যাংক পিএলসি। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির এএমডি নাজিম এ চৌধুরী বলেন, ‘স্কুল ক্রিকেট থেকে এক ডজন ক্রিকেটার জাতীয় দলে খেলছে, এটি আমাদের জন্য গর্বের। তৃণমূলের এই লড়াইয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকা আমাদের জন্য শুধু স্পন্সরশীপ নয়, একটি আবেগের জায়গা।’
এবারের আসরের সবচেয়ে বড় সুখবর হলো ক্ষুদে ক্রিকেটারদের শিক্ষাবৃত্তির পরিধি বৃদ্ধি। আগে টুর্নামেন্ট শেষে সেরা ১৫ জন ক্রিকেটারকে বৃত্তি দেওয়া হলেও, এবার বিসিবির অনুরোধে সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ২৫ জন করা হয়েছে। পাশাপাশি বৃত্তির অর্থের পরিমাণও বছরে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
২০১৫ সাল থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ পথচলায় স্কুল ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত ৩,৫০৭টি স্কুল অংশ নিয়েছে। মোট ৬,১৯৫টি ম্যাচে মাঠে নেমেছে ৭৬,২৩৫ জন স্কুল ক্রিকেটার। যা বাংলাদেশের যেকোনো স্তরের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ অংশগ্রহণের এক অনন্য রেকর্ড। আয়োজকদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতের সাকিব-তামিমদের তুলে আনার এই মঞ্চ এবারও নতুন প্রতিভার জন্ম দেবে।









































