Home Lead মঞ্জুর নেতৃত্বে নতুন ছন্দে কেসিসি

মঞ্জুর নেতৃত্বে নতুন ছন্দে কেসিসি

315


মিলি রহমান।।


স্বাধীনতার মাস মার্চের প্রথম দিনেই খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। দায়িত্ব গ্রহণের পর অল্প সময়ের মধ্যেই নগর পরিচালনায় যে কর্মচাঞ্চল্য ও গতিশীলতা দেখা যাচ্ছে, তা খুলনা নগরবাসীর মধ্যে নতুন আশার আলো জাগিয়েছে। দীর্ঘদিনের নানা সমস্যায় জর্জরিত এই নগরী যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে—এমন অনুভূতি প্রকাশ করছেন অনেক নাগরিক।


দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রশাসক মঞ্জু মাঠমুখী কার্যক্রম শুরু করেন। নগর ভবনে বসে শুধু নির্দেশনা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে তিনি সরাসরি নগরীর বিভিন্ন এলাকা, বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শন করছেন। নগরীর নিউমার্কেট কাঁচা বাজার ও বয়রা বাজারে গিয়ে তিনি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম যাচাই করেন এবং ব্যবসায়ীদের ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সাধারণ মানুষ যেন কোনোভাবেই ভোগান্তির শিকার না হন, সে বিষয়ে সিটি করপোরেশন সতর্ক দৃষ্টি রাখবে।


শুধু বাজার ব্যবস্থাপনা নয়, নগরীর অন্যতম বড় সমস্যা যানজট নিরসনেও তিনি উদ্যোগী হয়েছেন। কেএমপি ট্রাফিক বিভাগ, রিকশা ও ইজিবাইক মালিক-চালক সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে নানা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে যানজট কমানো, অবৈধ যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড নির্মাণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রশাসক মঞ্জু মনে করেন, একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য শহর গড়ে তুলতে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি।


দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি নগরীর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পও সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। ড্রেন নির্মাণ কাজ, কালভার্ট নির্মাণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন সংস্কার, পাম্প হাউজ নির্মাণ এবং বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে ধারণা নেন। জলাবদ্ধতা নিরসনকে তিনি খুলনার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে বিদ্যমান ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


একই সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষা ও আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। ইলেকট্রনিক বর্জ্য বা ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সভা করে নগরীতে সচেতনতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নগরীর পরিবেশকে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণের কথাও জানিয়েছেন তিনি।


শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, সামাজিক উন্নয়নেও তিনি সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন। শিশু ও যুব সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি তরুণদের দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্র রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাউন্সেলিং সেবার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।


নজরুল ইসলাম মঞ্জু দায়িত্ব গ্রহণের সময় ঘোষণা করেছিলেন, খুলনা সিটি করপোরেশনকে তিনি একটি শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চান। তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঠে নেমে জনগণের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান এবং নাগরিক সেবাকে আরও সহজ ও দ্রুত করার নির্দেশ দেন। ওয়ার্ড পর্যায়ের কর্মকর্তাদেরও নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


নগরবাসীর অনেকে মনে করছেন, দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই প্রশাসকের এমন সক্রিয় উপস্থিতি খুলনার প্রশাসনিক পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নগরীর রাস্তাঘাট, বাজার, প্রশাসনিক কার্যক্রম—সব ক্ষেত্রেই নতুন এক কর্মউদ্যম লক্ষ্য করা যাচ্ছে।


সব মিলিয়ে বলা যায়, স্বাধীনতার মাসে দায়িত্ব গ্রহণ করে নজরুল ইসলাম মঞ্জু যেন খুলনা নগরীর সামনে এক নতুন প্রত্যাশার দুয়ার খুলে দিয়েছেন। তার নেতৃত্বে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, সুশৃঙ্খল ও মানবিক একটি নগরী গড়ে উঠবে—এমন আশাই এখন খুলনাবাসীর হৃদয়ে জাগ্রত হয়েছে।