Home Lead ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন, জ্বালানি নিরসনে সংকট নানা উদ্যোগ

ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন, জ্বালানি নিরসনে সংকট নানা উদ্যোগ

9


ঢাকা অফিস ও স্টাফ রিপোর্টার
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট বা দাম বাড়তে পারে এমন আশঙ্কায় রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে ভিড় করছেন ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের চালকরা। বৃহস্পতিবারের মতো শুক্রবারও (৬ মার্চ) খুলনাসহ আশপাশের বিভিন্ন পাম্পে তেল নিতে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।


সরেজমিন দেখা যায়, অনেক জায়গায় তেল নিতে অপেক্ষমাণ গাড়ির সারি পাম্পের সীমানা ছাড়িয়ে মূল সড়ক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল নেওয়ায় স্বাভাবিকের তুলনায় পাম্পগুলোতে চাপ বেড়েছে।
পাম্প সংশ্লিষ্টরা জানান, গুজব বা আশঙ্কার কারণে অনেকেই অতিরিক্ত তেল নিচ্ছেন। ফলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বিক্রি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখন পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো বা সরবরাহ কমানোর বিষয়ে কোনও নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।


এদিকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মাঠে নামছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। জ্বালানি তেল নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতির মধ্যে শুক্রবার বিকাল ৫টায় কারওয়ান বাজারে পেট্রোবাংলা কার্যালয়ের সামনে থেকে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে পেট্রোল পাম্প পরিদর্শনে বের হবেন।
জ্বালানির পর্যাপ্ততা নিশ্চিতে সরকার সজাগ আছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। শুক্রবার রাজধানীতে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করেছেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত মজুদ আছে। দেশে জ্বালানি সংকটের কোনো শঙ্কা নেই। আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। যতটুকু জ্বালানি লাগে, এর বেশি না নেবেন না।
তিনি আরো বলেন, ‘বৈশ্বিকভাবে দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। আমাদের চেষ্টা থাকবে, দেশে তেলের দাম না বাড়ানোর। একেবারেই না পারলে তখন জনগণের সঙ্গে সেটা শেয়ার করব।’
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, দীর্ঘমেয়াদে যাতে দেশে জ্বালানির সংকট না হয়, সেজন্য আগামী রবিবার থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রি করা হবে। এ বিষয়ে লিখিত নির্দেশনা পেট্রল পাম্পগুলোকে দেওয়া হবে।
এদিকে এদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নির্দেশনায় বলা হয়, একটি মোটরসাইকেলে দিনে ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন নিতে পারবে। ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে নেওয়া যাবে ১০ লিটার তেল।
স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিক্যাল বা এসইউভি (যা জিপ নামে পরিচিত) ও মাইক্রোবাস দিনে পাবে ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল। পিকআপ বা লোকাল বাস দিনে ডিজেল নিতে পারবে ৭০ থেকে ৮০ লিটার। আর দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান বা কনটেইনার ট্রাক দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার তেল নিতে পারবে।
বিপিসির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশের ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। বৈশ্বিক সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি তেলের আমদানি ব্যবস্থাপনা মাঝেমধ্যে বাধাগ্রস্ত/বিলম্বিত হয়। চলমান বৈশ্বিক সংকট পরিস্থিতিতে বিভিন্ন গণমাধ্যম/সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জ্বালানি তেলের মজুদ পরিস্থিতি নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ প্রচার হওয়ায় ভোক্তা/গ্রাহকদের মধ্যে অতিরিক্ত চাহিদার প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। অতিরিক্ত চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ডিলাররা বিগত সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত পরিমাণ জ্বালানি তেল ডিপো থেকে সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।
এদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরো বলেছেন, রোববার (৮ মার্চ) থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রি করা হবে।
জ্বালানি নিয়ে কোনো সংকট হবে না জানিয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, যে সংশয়টি জনগণের তৈরি হয়েছে, আমরা সেটাকে অস্বাভাবিকভাবে দেখছি না। কারণ একটি যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। ফলে একটা দুশ্চিন্তা বিরাজ করছে। কিন্তু আমি আশ্বস্ত করতে চাই, জ্বালানি তেল নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। আমাদের কাছে যথেষ্ট মজুদ রয়েছে।
তিনি বলেন, গত কয়েকদিনে আমরা কয়েক গুণ বেশি তেল সাপ্লাই দিয়েছি। ক্রেতারা স্বীকার করেছেন, তারা বেশি করে তেল নিচ্ছেন। এই আতঙ্ক দূর করতে হবে। সবাইকে বলতে চাই, জনগণের দুর্ভোগ কমানোর জন্য সরকার যথেষ্ট সচেষ্ট আছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি একটা চাপ তৈরি করছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাভাবিকভাবেই আমাদের সমন্বয়ে যেতে হবে। আমরা চেষ্টা করবো দাম না বাড়াতে। তবে একান্তই না পারলে তখন জনগণের সঙ্গে আমরা তা শেয়ার করবো। পাশাপাশি আমরা দেশবাসীর সমর্থন কামনা করছি।